ফন্ট সাইজ:
থিম:
আনাস্তাসিয়া

১০ম পর্ব

লেখক: Samiya

#আনাস্তাসিয়া
#লেখিকা_সামিয়া
#পর্ব :১০

(এলার্ট: সম্পুর্ন প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনাদের জন্য উন্মুক্ত)

পানির নিচে  নীল, সায়ান ও সাদা রঙের কম্বিনেশনে তৈরি বিশাল বহুতল বিলাসবহুল ভবন। ভবনের উপরের অংশে একাধিক স্বচ্ছ কাঁচের গম্বুজ (Glass Dome) রয়েছে। গ্লাস হাউজ এর নকশাটি আধুনিক ও ভবিষ্যতমুখী (Futuristic)।ভবনের বিভিন্ন তলা গোলাকার ও বাঁকানো আকৃতির।কাঁচের দেয়াল ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে ভেতরের অংশ বাইরে থেকে দেখা যায়। গ্লাস হাউজ এর পুরো স্থাপনাটি সমুদ্রের নিচে অবস্থিত হওয়ায় চারপাশে গভীর নীল জল দেখা যাচ্ছে।ভবনটি দুই পাশের পাথুরে খাড়া দেয়ালের মাঝখানে নির্মিত। গ্লাস হাউজ এর চারপাশে বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ সাঁতার কাটছে। দূরে বড় আকারের মাছ বা হাঙর সদৃশ প্রাণীও দেখা যায়।

সমুদ্রতলের প্রবাল ও জলজ উদ্ভিদের উপস্থিতি লক্ষণীয় গ্লাস হাউজ এর চারি পাশে।সূর্যের আলো পানির ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে গ্লাস হাউজ এর উপর সুন্দর আলোর রশ্মি তৈরি করেছে। বাহিরে থেকে গ্লাস হাউজ এর ভেতরে বিলাসবহুল বসার ঘর দেখা যায়। মাথার উপর ঝাড়বাতি (Chandelier) ঝুলতে দেখা যাচ্ছে।আরামদায়ক সোফা ও আসবাবপত্র দিয়ে সাজানো রয়েছে যা আলোসজ্জা অত্যন্ত আধুনিক ও উজ্জ্বল। গ্লাস হাউজ এর সামনের দিকে একটি ইনফিনিটি-স্টাইল সুইমিং পুল রয়েছে। নিচের অংশে কাঁচঘেরা পানির ট্যাংক বা অ্যাকোয়ারিয়াম সদৃশ এলাকা দেখা যায়। বিভিন্ন বারান্দা ও পর্যবেক্ষণ ডেক রয়েছে, যেখান থেকে সমুদ্র দেখা যায়।বাম পাশে একটি স্বচ্ছ গ্লাস এলিভেটর (Glass Elevator) দেখা যাচ্ছে।বিভিন্ন গম্বুজ ও তলাগুলো সংযুক্ত। গ্লাস হাউজ এর নকশা উন্নত প্রকৌশল প্রযুক্তির ধারণা প্রকাশ করে। আনাস্তাসিয়া আর আদ্রিয়ান গ্লাস হাউজ এর ভেতরে ঢুকে সামনে এগিয়ে গেল। সামনে রাস্তাটি একটি টানেলের মতো যার পুরো দৃশ্যটি পানির নিচের জগতের মতো সাজানো।চারপাশে গভীর নীল ও সায়ান (Cyan) রঙের আধিক্য রয়েছে।আলো-ছায়ার প্রতিফলন পানির ঢেউয়ের অনুভূতি তৈরি করেছে।

টানেলটি স্বচ্ছ কাঁচ বা অ্যাক্রিলিক দিয়ে তৈরি।
অর্ধবৃত্তাকার (Arch-shaped) নকশা, যা মাথার ওপর পর্যন্ত বিস্তৃত।একাধিক গোলাকার আর্চ ধারাবাহিকভাবে স্থাপন করা হয়েছে, ফলে গভীরতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে।টানেলের শেষ প্রান্তে অন্ধকার একটি প্রবেশপথ দেখা যাচ্ছে। টালেনের মেঝে চকচকে ও প্রতিফলনশীল।দুই পাশে নীল LED স্ট্রিপ লাইট লাগানো আছে।

আলো মেঝেতে প্রতিফলিত হয়ে ভবিষ্যৎধর্মী (Futuristic) আবহ সৃষ্টি করেছে। টানেলের ভেতর থেকে বিভিন্ন আকারের অসংখ্য মাছ দেখা যাচ্ছে।

মাছগুলোর অধিকাংশ রূপালি-নীল বর্ণের।কিছু বড় সামুদ্রিক প্রাণী, সম্ভবত হাঙর বা বড় পেলার্জিক মাছও রয়েছে।মাছগুলো টানেলের মাথার ওপর ও দুই পাশে সাঁতার কাটছে।টানেলের নিচের দুই পাশে রঙিন প্রবাল রয়েছে।গোলাপি, হলুদ, বেগুনি ও সবুজ রঙের প্রবাল চোখে পড়ে।এগুলো দৃশ্যটিকে আরও জীবন্ত ও আকর্ষণীয় করেছে।প্রাকৃতিক সমুদ্রের আলো এবং কৃত্রিম LED আলোর সমন্বয় দেখা যায়।উপর থেকে আসা আলো পানির ভেতরে ছড়িয়ে পড়েছে।আলো কাঁচে ও মেঝেতে প্রতিফলিত হয়ে নাটকীয় সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে। শীতল (Cool Tone) রঙের আধিক্য রয়েছে। চারি পাশে শান্ত, রহস্যময় ও স্বপ্নময় পরিবেশ।বিলাসবহুল এবং আধুনিক স্থাপত্যের অনুভূতি।সমুদ্রের নিচে হাঁটার এক অসাধারণ অভিজ্ঞতার আবহ ফুটে উঠেছে। আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়াকে কোলে তুলে নিয়ে টানেলের প্রবেশ পথ দিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখতে পেল বিলাসবহুল লাউঞ্জ বা ড্রয়িংরুম যা নীল সাদা আর সায়ান রঙের কম্বিনেশনে তৈরি। পুরো দৃশ্যে নীলাভ ও শীতল আলোর আধিক্য।শান্ত, স্বপ্নময় এবং আধুনিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।স্থাপত্য ও ডিজাইন বিশাল কাচের দেয়াল বা গম্বুজের মাধ্যমে বাইরের জলজ পরিবেশ দেখা যাচ্ছে।ছাদ ও দেয়ালের নকশা মসৃণ ও বক্রাকার।

মিনিমালিস্ট ও আধুনিক ডিজাইন অনুসরণ করা হয়েছে। ড্রয়িংরুমের সিঁড়ির পাশে সাদা রঙের বড় বড় সোফা যার মাঝখানে নিচু কফি টেবিল। ড্রয়িংরুমের চারপাশে আর মাথা উপরে বিভিন্ন আকারের জেলিফিশ ভাসছে ও ছোট মাছের ঝাঁক দেখা যাচ্ছে।পানির আলো কাচের মাধ্যমে ভেতরে প্রতিফলিত হচ্ছে। পুরো ড্রয়িংরুম জুড়ে নরম নীল আলো আর টেবিলের চারপাশে ছোট আলোকসজ্জা ছড়িয়ে আছে আর পানির প্রতিফলন মেঝেতে পড়েছে। ড্রয়িংরুমের বাম পাশ দি অত্যাধুনিক আন্ডারওয়াটার হোটেল বা রিসোর্টের লবি। উজ্জ্বল, খোলা এবং অত্যন্ত বিলাসবহুল পরিবেশ। বিশাল ওভাল আকৃতির কাচের ছাদ যা বাঁকানো সিলিং ডিজাইনে করা। ড্রয়িংরুমের মাঝখানে বড় সাদা স্তম্ভ বা অ্যাকোয়ারিয়াম। লবির প্রশস্ত ও খোলা ফ্লোর প্ল্যান।কোরাল রিফ, সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ বড় অ্যাকুরিয়াম বা সামুদ্রিক প্রদর্শনী।উপরের কাচের মাধ্যমে সমুদ্রের পানি ও জলজ প্রাণী দেখা যাচ্ছে।লবির ডান পাশের দেয়ালটি বিশাল কাঁচের তৈরি, যার বাইরে সমুদ্রের তলদেশ দেখা যাচ্ছে।বাম পাশের দেয়াল প্রাকৃতিক পাথর বা গুহার মতো নকশায় তৈরি। বাম পাশের দেওয়ালে সাথে ঘেষিয়ে রাখা বড় আকৃতির সাদা/হালকা ধূসর রঙের সোফা রয়েছে। যা একটি লম্বা ডে-বেড বা লাউঞ্জ সিট ও বলা যায়। মাঝখানে আধুনিক ডিজাইনের নিচু কফি টেবিল রয়েছে। সেখানে বসে বাইরে স্বচ্ছ নীল পানি দেখা যাচ্ছে।সমুদ্রতলের সাদা বালুকাময় অংশ দৃশ্যমান।

পানির মধ্য দিয়ে আসা সূর্যের আলো ঘরের ভেতরে নীলাভ প্রতিফলন তৈরি করেছে।বিশ্রাম ও সামাজিক আড্ডার জন্য উপযোগী। ড্রয়িংরুমের বাম পাশে বাঁকানো (Curved Spiral Style) সিঁড়ি।যার কাঁচের ধাপ স্বচ্ছ কাঁচের রেলিং ভাসমান (Floating Staircase) অনুভূতি দেয়। মাথার উপর বিশাল গোলাকার স্কাইলাইট (Skylight)।

স্কাইলাইট দিয়ে সূর্যের আলো সরাসরি নিচে প্রবেশ করছে।ছাদে পানির ঢেউয়ের মতো নীল আলোর প্রতিফলন (Water Caustics Effect)। সিঁড়ি দিয়ে উঠে দ্বিতীয় তলায় সম্পূর্ণ কাঁচের (Transparent Glass) সুইমিং পুল যার পানির রং উজ্জ্বল টারকোয়েজ বা আকাশি নীল। ড্রয়িংরুমের ডান পাশে বিশাল ড্রয়নিংরুম।যার চারপাশে বিশাল কাঁচের দেয়াল। দেয়াল ভেদ করে বাইরে পরিষ্কার নীল সমুদ্র দেখা যাচ্ছে। ড্রায়নিংরুমটি ডাবল-হাইট (দুই তলা সমান উচ্চতা) বিশিষ্ট হল যা বৃত্তাকার ও বাঁকানো (Curved) ডিজাইন করা। ড্রায়নিংরুমটি সাদা মার্বেল ফিনিশ,সোনালি/ব্রাস রঙের ট্রিম,বড় বড় কাচের প্যানেল,আধুনিক মিনিমালিস্ট স্থাপত্যশৈলী। ড্রায়নিংরুমে মাঝখানে লম্বা আয়তাকার মার্বেল টেবিল যাতে প্রায় ১২–১৬ জন বসার ব্যবস্থা।প্রতিটি আসনে ডিনার প্লেট সাইড, প্লেটন্যা,পকিন, ফর্ক,নাইফ,চামচ, একাধিক গ্লাস রাখা আছে।টেবিলটি মাঝখানে নীল আলোকিত ক্রিস্টালের মতো লম্বা সেন্টারপিস ছোট মোমবাতি,কাঁচের ফুলদানি, পরিপাটি টেবিল সাজসজ্জা। বাসার জন্য কালো রঙের আরামদায়ক আধুনিক চেয়ার,নরম কুশনযুক্ত সমান দূরত্বে সাজানো। আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়াকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে ডান দিকে সোজা হেঁটে বেডরুমের সামনে এসে দাঁড়ালো। আনাস্তাসিয়া দরজায় পাসওয়ার্ড দিতেই পিপি শব্দ করে দরজা খুলে গেল। আদ্রিয়ান তাকে নিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দেখতে পেল গাঢ় নীল,হালকা নীল,সায়ান, সাদা,ধূসর,কাঠের বাদামি রঙের কম্বিনেশনে তৈরি বিশাল বড় বেডরুম। যার তিন পাশেই বড় বাঁকানো (Curved) কাঁচের দেয়াল রয়েছে।কাঁচের মাধ্যমে সরাসরি সমুদ্রের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।ছাদেও বড় বড় গ্লাস প্যানেল রয়েছে, যার চারপাশে LED আলো লাগানো।ঘরের কোণগুলো গোলাকার (Rounded Edges), যা আধুনিক ডিজাইনের বৈশিষ্ট্য। দরজা থেকে সোজা সোজি বড় King-size Bed।সাদা ও হালকা নীল রঙের বিছানার চাদর ও একাধিক বালিশ ডান পাশে কাঠের বেডসাইড টেবিল।দেয়ালে বিল্ট-ইন শেলফ, যেখানে সাজানো রয়েছে ফুলদানি ও সাজসজ্জার সামগ্রী। বাম পাশে একটি লো ক্যাবিনেট। বেডরুম এর ডান পাশে বিশাল ওয়াশ রুম। ওয়াশ রুমে ভেতর বিশাল বাট্টাব যার পানি উজ্জ্বল নীল। ওয়াশরুমটি আধুনিক সব আসবাবপত্র দিয়ে সাজানো। চারিপাশে দেয়ালে সামুদ্রিক ডিজাইন। বেডরুমটি নীলাভ (Cyan Blue) LED Ambient Lighting।বেডসাইড ল্যাম্প থেকে উষ্ণ (Warm White) আলো।সমুদ্রের আলো কাঁচ ভেদ করে ঘরে প্রবেশ করছে।মেঝেতে পানির ঢেউয়ের প্রতিফলন (Caustic Reflection) দেখা যাচ্ছে। রুম থেকে দেখা যাচ্ছে পরিষ্কার নীল সমুদ্র,বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ,প্রবাল (Coral Reef),একটি বড় তিমি (Whale) আরও একটি ছোট সামুদ্রিক প্রাণী দূরে দেখা যাচ্ছে। পুরো রুমের পরিবেশ শান্ত,বিলাসবহুল,রোমান্টিক, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর,ব্যক্তিগত ও নিরিবিলি। আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়াকে নিয়ে ভেতরে ঢুকে বেডের উপর বসিয়ে দিতে দিতে বলে,

__" ফাস্টেড বক্স কোথায়"।

আনাস্তাসিয়া আদ্রিয়ান এর দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় দেখিয়ে দিতেই সে ওয়ার্ডব এর ড্রয়ার খুলে ফাস্টেড বক্স বের করে আর পাশে এসে বসে।

__" জ্যাকেট খুলো"।

আনাস্তাসিয়া কিছুটা ইতস্তত বোধ করে। শুকনো ঢোঁক গিলে বলে,

__" কেন"?

__" তোমার কাঁটা জায়গায় ঔষধ লাগাতে হবে তা না হলে ইনফেকশন হয়ে যাবে"।

__" আমাকে দাও আমারটা আমি করে নিতে পারবো আপনি গি.......

__"শাট আপ, আর একটা কথাও বলবে না তুমি"।

আনাস্তাসিয়ার কথার মাঝে ধমকে উঠে আদ্রিয়ান। আদ্রিয়ান এর ধমক শুনে সে চুপসে যায় আর একটা কথাও বলে না। আদ্রিয়ান হাত বাড়িয়ে আনাস্তাসিয়ার জ্যাকেট খোলার সময় হাতে টান পরতেই আনাস্তাসিয়া ব্যথায় চোখমুখ কুঁচকে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে। আদ্রিয়ান তার জ্যাকেট খুলতেই থমকে যায়। আনাস্তাসিয়া সাদা ফিডেন টপস্ পড়ায় তা পানিতে ভিজে শরীরের সাথে লেগে আছে। টপস পানিতে ভেজার ফলে আদ্রিয়ান এর সামনে আনাস্তাসিয়ার শরীরের প্রতিটি ভাঁজ উম্মুক্ত। তার চোখের সামনে আনাসতাসিয়ার শরীর উম্মুক্ত হওয়ায় সে শুকনো ঢোঁক গিলে নিজের চোখ সরিয়ে নিল। তার শরীর অস্থিরতায় ঘেমে যাচ্ছে। সে ফাস্টেড বক্স খুলে সেভলন আর তুলো নিয়ে তাতে সেভলন ঢেলে আলতো করে তার হাতে ঔষধ লাগিয়ে দিতে লাগলো। কিন্তু আনাস্তাসিয়া নির্বিকার তার কোন ভাব ভঙ্গি নেই। সে এক ভ্যানে ঘোর লাগা দৃষ্টিতে আদ্রিয়ান এর শরীরের দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোঁক গিলতে। শরীরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বললে ভুল হবে সে তাকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে। আদ্রিয়ান এর পরনের সাদা শার্ট ভিজে যাওয়ার কারনে তার পেশিবহুল বলিষ্ঠ শরীর উম্মুক্ত। তার জিম করা বডি দুই হাতের বাহু আর অ্যাডামস অ্যাপল ফুলে আছে। চুল গুলো পানিতে ভেজার কারণে ভ্রু পর্যন্ত এসে ঠেকেছে তা দিয়ে টুপটাপ করে পানি ঝরে পরছে। তার গভীর নীল চোখ আর বারবার উপর নিচ হওয়া অ্যাডামস অ্যাপল আনাস্তাসিয়াকে যেন টানছে। আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়ার ক্ষতে ঔষধ লাগিয়ে দিতে তাঁকে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল। অতঃপর তার শরীরে কম্বল টেনে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। নিচে নেমে কিচেনে গিয়ে খাবার খুঁজল কিন্তু একবাটি দই কোল্ড কফির প্যাকেট আর কাপ নুডুলস ছাড়া কিছু পেল না। তাই নিজের জন্য কোল্ড কফি আর আনাস্তাসিয়ার জন্য নুডুলস বানিয়ে সাথে নিজের জন্য এক বাটি দই নিয়ে উপরে চলে গেল। বেড়ের পাশের টেবিলে ট্রেটা রেখে আনাস্তাসিয়া ঢাকতে ঢাকতে বলে,

__" ব্লাড রোজ ওঠো খেয়ে নাও"।

কিন্তু আনাস্তাসিয়া উঠলো না সে কম্বল শক্ত করে টেনে ধরে অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে বলে,

__"উঁহু খাবো না"।

আদ্রিয়ান আদুরে কন্ঠে তাকে উঠাতে চেয়ে বলে,

__" জেদ করে না সোনা ওঠো খেয়ে নাও"।

কিন্তু আনাস্তাসিয়া শুনলো না সে জেদ ধরে শুয়ে রইল। আদ্রিয়ান বহু চেষ্টা করে যখন তাকে উঠাতে পারল না তখন সে হাল ছেড়ে দিল। অতঃপর সেও কম্বলের ভেতর ঢুকে তাকে জড়িয়ে ধরে বসে পরলো। আদ্রিয়ান এর জড়িয়ে ধরার কারণে তার শরীরে তীব্র পারফিউমের মাতাল করা ঘ্রাণ আনাস্তাসিয়ার নাকে এসে লাগল। পানিতে ভেজার কারণে তা যেন আরো তিব্র থেকে তিব্র নেশার মত হয়ে উঠেছে। আনাস্তাসিয়া দীর্ঘ এক নিঃশ্বাস টেনে নিজের ভেতর সব শুষে নিতে থাকে। আদ্রিয়ান এর শরীরের ঘ্রাণ তাকে যেন পাগল করে দিচ্ছে। তার নিজেকে কন্ট্রোল করা মুশকিল হয়ে পরছে। তার শ্বাস ধীরে ধীরে ভারী হতে লাগলো সে আর নিজেকে কন্ট্রোল না করতে পেরে হঠাৎ আদ্রিয়ান এর পায়ের ওপর কোলে বসে পড়ে এবং তার গলা জড়িয়ে ধরে।মনে এক অদ্ভুত অনুভূতি জাগ্রত হয়; সে কিছু বলতে গেলে তার কণ্ঠরোধ হয়ে আসে। আনাস্তাসিয়ার স্পর্শে সে যেন পুরোপুরি নিমজ্জিত হয়, অথচ ভেতরে এক অস্থিরতা কাজ করছিল।

__" ব্লাড রোজ, তুমি এমন করছো কেন? এটা ঠিক নয়।"

কিন্তু তার কথায় কোন কঠোরতা ছিল না; বরং, তার চোখে অস্পষ্ট একটি উদ্বেগ ছিল।হঠাৎ, আনাস্তাসিয়া আদ্রিয়ানের ঘাড়ের কাছে মুখ গুঁজে দিল। তার নিঃশ্বাসের ছোঁয়ায় আদ্রিয়ানের মধ্যে এক অদ্ভুত অস্বস্তিই তৈরি হচ্ছিল। হৃদস্পন্দন যেন বেড়ে যাচ্ছিল, তীব্র অনুভূতি সজাগ হচ্ছিল মনে। ঠিক তখনই আনাস্তাসিয়া হঠাৎ করে নিজের নাক ঘষতে লাগলো আদ্রিয়ানের ঘাড়ের সাথে। তার নিঃশ্বাস আর ঠোঁটের ছোঁয়ায় আদ্রিয়ান প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে কারণ আনাস্তাসিয়া অসুস্থ তার সাথে এখন ওসব করা ঠিক হবে না।এই অস্বস্তির পরিস্থিতিতে আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়ার বাহু চেপে ধরে বললো,

__"কি করছো তুমি, ব্লাড রোজ?"

তার কণ্ঠে এক ধরনের আশঙ্কা ছিল, মনে হচ্ছিল, একই সাথে বিরক্ত এবং আকৃষ্ট।আনাস্তাসিয়ার দিকে তাকিয়ে, আদ্রিয়ান বুঝতে পারছিল, এই মুহূর্তগুলো তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।আনাস্তাসিয়া তখন মিষ্টি হাসি নিয়ে বললো,

__""কোথায়? আমি কি করছি? আমি তো ক্লান্ত, তাই আপনার কাঁধে একটু বিশ্রাম নিচ্ছি।"

তার কথায় ছিল চাঁদনী রাতের কোমলতা, যেন প্রতিটি শব্দে এক ধরনের দুষ্টু খেলা চলছে।আদ্রিয়ান বুঝতে পারলো, আনাস্তাসিয়া আসলে কি চায়। কিন্তু সে নিজেকে সামলাতে লাগলো, কারণ তার মনে হচ্ছিল, যদি সে এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে সে আনাস্তাসিয়ার সাথে ফিজিক্যালভাবে যুক্ত হয়ে যাবে, আর আনাস্তাসিয়ার কোন ক্ষতি হয়ে যেতে পারে,যা সে কোনোভাবেই চাইছিল না।আদ্রিয়ান একপাশে গাঢ় শ্বাস নিয়ে বললো,

__" ব্লাড রোজ তুমি যান তুমি এই মুহূর্তে যা চাইছ তা সম্ভব না, ইউ আর সিক নাউ"।

__" বাট আই নিড ইউ"।

তার কণ্ঠস্বর ছিল শান্ত, কিন্তু মনে মনে সে অস্থির হয়ে উঠছিল। এই ঘনিষ্ঠতা তাকে দুর্বল করছিল, আর সে চেষ্টা করছিল নিজেকে দূরে রাখতে।আনাস্তাসিয়ার চোখে এক ধরনের চাহনি ছিল, যেন সে জেনেশুনে তার উপস্থিতি আদ্রিয়ানের মনে কেমন অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। আনাস্তাসিয়া হঠাৎ আদ্রিয়ান এর ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়। আদ্রিয়ান প্রথমে চমকে যায় তার শরীরে বিদ্যুৎ খেলে গেল তবুও সে কোন রেসপন্স করলো না। কিছুক্ষণ পর তাকে ছেড়ে দিয়ে তার শার্ট এর বোতাম এক এক করে খুলে ফেলল। অতঃপর তার ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে দেয়। আনাস্তাসিয়ার ঠোঁট আদ্রিয়ান এর ঘাড়ে স্পর্শ করতেই তার শরীর শিউরে উঠলো।

__"ব্লাড রোজ তুমি জানো না তুমি আমার সঙ্গে কি করছো"।

__"আমি জানি আমি তোমার সঙ্গে কি করছি"।

আনাস্তাসিয়া আদ্রিয়ান এর শার্টের বোতাম খুলতেই তার উম্মুক্ত বডি দেখা দিলো। সে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে গেছে, যেন সময় থেমে গেছে। তার শরীরে এক অদ্ভুত উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়তে লাগল। আনাস্তাসিয়া তখন হঠাৎ করেই আদ্রিয়ান এর দুপায়ের উপর হাঁটু গেড়ে বসল। আদ্রিয়ান একটু পেছনে হেলান দিল। তার চোখের দৃষ্টি এখন আনাস্তাসিয়ার দিকে নিবদ্ধ। আনাস্তাসিয়া আলতো করে আদ্রিয়ান এর গালে হাত রাখল, যেন একটি স্পর্শেই তার সমস্ত বেদনা ভুলে যেতে চাইছে। সে প্রথমে একটি কপালে চুমু দিল, আর আদ্রিয়ান চোখ বন্ধ করে নিল। আনাস্তাসিয়ার কোমল ঠোঁটের ছোঁয়া যেন তার হৃদয়ে এক নতুন অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। সে ধীরে ধীরে আদ্রিয়ানের চোখে এবং গালে চুমু দিতে লাগলো। আদ্রিয়ান প্রায় দিশেহারা হয়ে গেল, তার মনে হচ্ছিল যেন সারা পৃথিবী শুধুই এই মুহূর্তে সীমাবদ্ধ।

আনাস্তাসিয়া যখন তার সামনে এত কাছে আসছে, আদ্রিয়ান বুঝতে পারছে, এই মুহূর্তে তার সব কিছুই বিশৃঙ্খস্ত হয়ে যাচ্ছে। সে একসময় নিজের অনুভূতিগুলোকে গোপন রাখার চেষ্টা করেছে, কিন্তু আনাস্তাসিয়ার উপস্থিতি সবকিছু এলোমেলো করে দিচ্ছে। তার কাছে থাকার এই অনুভূতি, আনাস্তাসিয়ার ঠোঁটের ছোঁয়া, আর তাদের মধ্যকার বিদ্যুতের শূন্যতা সবকিছুকে যেন অতিক্রম করেছে। আদ্রিয়ান তখন বললো,

__""প্লিজ, সরে যাও। এমনটা করো না, ব্লাড রোজ। তোমার ক্ষতি হবে"।

কিন্তু আনাস্তাসিয়া কোনো উত্তর দিলো না। তার চোখে এখন এক অদ্ভুত নেশা, তা হলো প্রেমের নেশা। সে ধীরে ধীরে আদ্রিয়ানের গলায় চুমু দিতে লাগলো। তার ঠোঁটের কোমল স্পর্শে যেন দুনিয়া থেমে গেছে। আনাস্তাসিয়ার ছোঁয়া আদ্রিয়ানের প্রতিটি স্নায়ুতে শিহরণ জাগিয়ে তুললো। আদ্রিয়ান অবশ হয়ে গিয়েছিল। তার বুকের উন্মুক্ত ত্বকে যখন আনাস্তাসিয়া চুমু দিলো, তখন সে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে গেল। তার চোখ দুটো বন্ধ হয়ে গেল, আর মনে হলো যেন সে নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।এখন সে জানে, আনাস্তাসিয়ার এই ভালোবাসার স্পর্শ তাকে কতটা দুর্বল করে দিচ্ছে। তার সমস্ত শক্তি, তার সমস্ত প্রতিরোধ যেন একদম ভেঙে পড়ছে। সে জানে, আনাস্তাসিয়ার কাছে তাকে এমনভাবে হারানো সম্ভব যা সে কখনো কল্পনাও করেনি। সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না আনাস্তাসিয়াকে তার উপর থেকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে তার উপরে উঠে বসে। নিজের শরীরের শার্ট খুলে ছুড়ে ফেলে দেয় তার পর ধীরে ধীরে আনাস্তাসিয়ার কাপড় ও খুলে ছুড়ে ফেলে দেয়। আদ্রিয়ান তার শক্ত উষ্ণ শরীর দিয়ে আনাস্তাসিয়াকে জড়িয়ে ধরলো। আনাস্তাসিয়া শরীর ঠান্ডা হওয়ায় আদ্রিয়ানের উষ্ণতায় আরাম অনুভব করলো। আদ্রিয়ান তখন বুঝতে পারলো তার শরীরের উষ্ণতাই এখন একমাত্র ভরসা। আনাস্তাসিয়ার ফ্যাকাশে চেহারা উস্কো খুস্কো ঠোঁট দেখে আদ্রিয়ান প্রথমে চমকে উঠে থামাতে চাইল। তার মনের ভেতরে যেন একদিক থেকে যুদ্ধ চলছিল—প্রেম আর দায়িত্বের দ্বন্দ্ব। কিন্তু আনাস্তাসিয়ার এই নিভীক স্পর্শ, তার গভীর আবেগ, সবকিছু তার আত্মনিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিল।

এক সময় আদ্রিয়ান আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। তার হাত ধীরে ধীরে আনাস্তাসিয়ার কোমর জড়িয়ে ধরল, আর সে আনাস্তাসিয়ার চুম্বনে সাড়া দিল। গভীরতা বাড়তে থাকল, যেন এই মুহূর্তে বাইরের পৃথিবীর অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। আদ্রিয়ান এখন আর নিজের মধ্যে নেই। আনাস্তাসিয়া গভীর চুম্বন তার ভেতরের সমস্ত বাঁধভাঙা আবেগকে মুক্ত করে দিয়েছে। এতদিন ধরে নিজের মধ্যে লুকিয়ে রাখা আকাঙ্ক্ষা যেন ফুটে উঠেছে।তন্ময়ভাবে সে আনাস্তাসিয়ার নিচের ঠোঁট একবার, উপরের ঠোঁট একবার শুষে নিচ্ছে। তার চুম্বনের তীব্রতায় যেন আনাস্তাসিয়া শীতের সমস্ত শীতলতাকে ভুলে যাচ্ছে। আদ্রিয়ান মাঝে মাঝে ঠোঁট কামড়ে, মাঝে মাঝে আদর দিয়ে আনাস্তাসিয়ার ঠোঁটজোড়াকে ভরিয়ে তুলছে। আনাস্তাসিয়া হালকা শীৎকার করে তার গলা জড়িয়ে ধরল। আদ্রিয়ানের হাত ধীরে ধীরে আনাস্তাসিয়ার পিঠে উঠে গেল, তাকে আরো কাছে টেনে নিল। আদ্রিয়ান ধীরে ধীরে ঠোঁটজোড়া ছেড়ে দিয়ে হালকা উঠে বসল। শীতল তুষারপাতেও নীলাভ হয়ে থাকা আনাস্তাসিয়ার শরীর এখন তার উষ্ণতার ছোঁয়ায় ফিরে পেয়েছে একটি মোলায়েম আভা। সে আনাস্তাসিয়ার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।ডিম লাইটের হালকা আলো আনাস্তাসিয়ার ত্বকের উপর পড়ে যেন এক রহস্যময় ছটায় মেলে ধরেছে তাকে। আনাস্তাসিয়ার শরীরে পোশাকের আবরণ না থাকার ফলে তার পেট, না*ভি, আর বু*কের সৌন্দর্য এখন পুরোপুরি আদ্রিয়ানের সামনে উন্মুক্ত। তার মসৃণ ত্বক ডিম লাইটের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে, আর তা যেন আদ্রিয়ানের জন্য এক অদম্য আকর্ষণের সৃষ্টি করেছে। আনাস্তাসিয়ার শরীরের প্রতিটি বাঁক, তার কোমল ত্বকের প্রতিটি ছোঁয়া, সবকিছুই আদ্রিয়ানকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে। তার চোখ নেশার মতো গভীর হয়ে উঠেছে। সে যেন আর চোখ ফিরিয়ে নিতে পারছে না। আনাস্তাসিয়ার নরম হাত দুটো যখন আদ্রিয়ানের দিকে বাড়ানো হলো, আদ্রিয়ান এক মুহূর্ত দেরি না করে তার হাত দুটো শক্তভাবে ধরে টেনে তুলল। আনাস্তাসিয়ার কোমল ত্বকের উষ্ণতা আদ্রিয়ানের হাতের শক্ত মুঠিতে মিশে গেল। আদ্রিয়ান তখন দুই হাঁটু গেড়ে বসে ছিল, আনাস্তাসিয়ার মুখের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে। তার চোখে এক অদ্ভুত মায়া, অথচ ভেতরে যেন লুকিয়ে থাকা উত্তাল ঢেউ খুঁজে পাওয়া যায়। আনাস্তাসিয়ার কোমল, উষ্ণ ঠোঁট আদ্রিয়ানের শক্তপোক্ত গলার কাছে স্পর্শ করতেই তার সারা শরীরে যেন এক অদ্ভুত ঝড় বয়ে গেল। আনাস্তাসিয়া ধীরে ধীরে আদ্রিয়ানের গলা থেকে উন্মুক্ত বুকে চুমু দিতে লাগল। তার নরম ঠোঁটের উষ্ণতা আর নিঃশ্বাসের ছোঁয়া আদ্রিয়ানের স্নায়ুকে উত্তেজিত করছিল।

আদ্রিয়ান নিজের জায়গা থেকে নড়তে পারছিল না।তার দুই হাত শক্তভাবে আনাস্তাসিয়ার কোমরে গিয়ে থেমে গেল। সে আনাস্তাসিয়াকে নিজের শরীরের আরও কাছে টেনে আনলো, যেন তাদের মাঝে কোনো দূরত্ব না থাকে। তার নিঃশ্বাস দ্রুত হয়ে উঠলো, আর তার নীল চোখে এক ধরনের গভীর, আদিম আবেগ জ্বলতে লাগলো। আনাস্তাসিয়ার চোখে দেখা যাচ্ছিল
একধরনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, যা আদ্রিয়ানের ভেতরের পশু*ত্বকে আরও প্রজ্জ্বলিত করছিল।আদ্রিয়ান টেবিল থেকে দইয়ের বাটি তুলে নিল। বাটির দই প্রায় গলে যাওয়া। তার চোখে যেন দুষ্টুমির ঝিলিক ফুটে উঠল। সে ধীরে ধীরে আনাস্তাসিয়ার দিকে এগিয়ে গেল।

__"ইট নো ব্লাড রোজ, আমি কোনো খাবারকে কখনো শুধু খাবার হিসেবে দেখি না। আমার কাছে সবকিছুতেই একটু বেশি রোমাঞ্চ থাকা উচিত।"

আনাস্তাসিয়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই, আদ্রিয়ান সেই গলে যাওয়া দই আনাস্তাসিয়ার গলায় ঢেলে দিল। ঠান্ডা দই আনাস্তাসিয়ার ত্বক স্পর্শ করতেই সে চমকে উঠলো। আদ্রিয়ান ধীরে ধীরে আনাস্তাসিয়ার গলা থেকে সেই দই নিজের জিভ দিয়ে লেহন করতে শুরু করলো। তার ঠোঁট আর জিহ্বার ছোঁয়া আনাস্তাসিয়ার শরীর শিরশির করে তুললো। আনাস্তাসিয়া পুরো পুরি স্থির হয়ে পরে।আনাস্তাসিয়া অসহায় গলায় বলে,

__" তুমি কি পাগল, এভাবে কেউ দই খায়"।

__"তুমি শুধু খেতে জানো না, ব্লাড রোজ। আমি শিখিয়ে দিচ্ছি কিভাবে উপভোগ করতে হয়।"

আনাস্তাসিয়া লজ্জায় লাল হয়ে গেল, কিন্তু কিছুই বলতে পারল না। আনাস্তাসিয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল আদ্রিয়ানের দিকে। তার মন অস্থির, শরীর শিরশির করছে। আদ্রিয়ানের চোখে একধরনের গভীর খেলা, যেন সে জানে কীভাবে আনাস্তাসিয়ার প্রতিটি অনুভূতিকে তীব্র করে তুলতে হয়।

__"তোমার গায়ে এত মিষ্টি স্বাদ লেগে আছে যে, মনে হয় আমার দই এভাবেই খাওয়া উচিত"।

আদ্রিয়ান একধরনের মৃদু হাসি দিয়ে বলল। সে ধীরে ধীরে আরও কাছে এগিয়ে এল। তার আঙুলে একটু দই তুলে নিয়ে আনাস্তাসিয়ার গালে ছোঁয়াল। ঠান্ডা স্পর্শে আনাস্তাসিয়ার শরীর কেঁপে উঠল। তারপর আদ্রিয়ান মাথা নিচু করে আলতোভাবে তার ঠোঁট দিয়ে সেই দই খেয়ে নিল। আনাস্তাসিয়ার মুখ থেকে কোনো কথা বের হলো না। তার গাল তখন লালচে হয়ে উঠেছে। আদ্রিয়ান আবার তার আঙুলে দই তুলল, এবার আনাস্তাসিয়ার ঠোঁটে ছড়িয়ে দিল। আনাস্তাসিয়ার নিঃশ্বাস ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠছিল, আর আদ্রিয়ানের স্পর্শ তাকে যেন জাদুর মতো ঘিরে ধরছিল।

__"এত সুন্দর স্বাদ কোথায় ছিল লুকিয়ে?"

আদ্রিয়ান আলতোভাবে বলল, তার চোখ আনাস্তাসিয়ার চোখে স্থির। আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়ার ঠোঁটের দইটুকু খেয়ে নিল। আদ্রিয়ানের ঠোঁটের স্পর্শে শিহরিত হয়ে আনাস্তাসিয়া তার পিঠ খামচে ধরল। যেন তাকে ছেড়ে যেতে দেওয়া অসম্ভব। তার চোখে অজানা এক আকাঙ্ক্ষা, আর বুকের ধুকপুকানির শব্দ যেন গোটা ঘরে জুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। আদ্রিয়ান হালকা হাসল।

__"এতটা অধীর কেন, ব্লাড রোজ?"

তার কণ্ঠে ছিল একধরনের গভীর খেলা, যা আনাস্তাসিয়ার শরীরের প্রতিটি কোষকে যেন জাগিয়ে তুলল।সে টেবিল থেকে কোল্ড কফির গ্লাস টা তুলে নিল। সে কোল্ড কফির ঠাণ্ডা তরল আনাস্তাসিয়ার বুকের ওপরে আলতোভাবে ছড়িয়ে দিল। ঠাণ্ডা অনুভূতিতে আনাস্তাসিয়ার শরীর কেঁপে উঠল। আদ্রিয়ান ধীরে ধীরে ঝুঁকে কোল্ড কফির চিহ্নগুলো নিজের ঠোঁট দিয়ে লেহন করতে লাগল। তার উষ্ণ স্পর্শ ঠাণ্ডা কোল্ড কফির সঙ্গে মিশে এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করল। আনাস্তাসিয়ার শ্বাস ধীরে ধীরে দ্রুত হতে লাগল, আনাস্তাসিয়ার বুক ধড়ফড় করছিল। তার শ্বাস যেন আটকে আসছে।আদ্রিয়ান এতটাই কাছে ছিল যে তার শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় যেন তীব্র উত্তেজনার ঢেউ খেলে গেল। আনাস্তাসিয়া বুঝতে পারছিল যে আদ্রিয়ানের প্রতি তার অনুভূতি দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে।

__" তুমি.... তুমি আমাকে পাগল করে দিচ্ছ"।

আনাস্তাসিয়া মৃদু স্বরে বলল। তার কণ্ঠস্বর ভারী, যেন নিজের মনের আবেগকে সামলাতে পারছেনা।

আনাস্তাসিয়ার নিঃশ্বাস ভারী হতে শুরু করল। তার প্রতিটি শ্বাসের শব্দ রুমের ভেতর প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসছিল, যেন পুরো পরিবেশ তাদের আবেগের ভারে নীরব হয়ে গেছে। আদ্রিয়ান তার হাত অবাধ্যভাবে আনাস্তাসিয়ার শরীরজুড়ে চালিয়ে দিতে লাগল। প্রতিটি স্পর্শ যেন তাকে আরও গভীরে নিয়ে যাচ্ছিল, আনাস্তাসিয়াকে এক অচেনা আবেশে আচ্ছন্ন করে তুলছিল। আনাস্তাসিয়ার শরীর আদ্রিয়ানের প্রতিটি স্পর্শের কাছে সাড়া দিচ্ছিল। তার চোখ বন্ধ হয়ে এলো, আর তার ঠোঁট থেকে বেরিয়ে এলো অস্ফুট শব্দ, যা আদ্রিয়ানকে আরও বেশি পাগল করে তুলল।

আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়াকে আরো গভীরভাবে সুখ দিতে চাচ্ছিল।

সে ধীরে ধীরে আনাস্তাসিয়ার বক্ষের নরম জায়গায় মৃদু চাপ প্রয়োগ করল। আনাস্তাসিয়ার বক্ষের ছোট বৃত্তে নিজের জিভ দিয়ে লেহন করতে করতে, আদ্রিয়ান তা কামড়ে ধরল। আনাস্তাসিয়া যেন পাগল হয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় তার মুখ থেকে একপ্রকার মৃদু শীৎকার বেরিয়ে এলো।আদ্রিয়ান দ্রুত তার হাত আনাস্তাসিয়ার মুখের কাছে ধরল। আনাস্তাসিয়া অবচেতনভাবে সেই হাত কা*মড়ে ধরল, যেন তার আওয়াজ যেন বাইরে না যায়। আদ্রিয়ান হঠাৎ বলল,

__"তোমার এগুলো পুরাই ফ্ল্যাট।"

আনাস্তাসিয়া বুঝতে পারল, আদ্রিয়ান আসলে কী বোঝাতে চাইছে সে নিজের দিকে একবার তাকিয়ে দেখলো, আদ্রিয়ান বোঝাতে চায় যে আনাস্তাসিয়ার বক্ষ একদমই সমান কিন্তু সে তাকিয়ে দেখলো তার বক্ষ একদম পারফেক্ট আদ্রিয়ান তার সাথে মজা করছে।তাই আনাস্তাসিয়া হালকা রাগ দেখাতে চাইল, আদ্রিয়ান সাথে সাথে বলল,

__"বাট আই লাভ ইট।!"

আদ্রিয়ান ধীরে ধীরে আনাস্তাসিয়ার ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে দিলো। তার ঠোঁটের উষ্ণ স্পর্শে আনাস্তাসিয়ার বুকে যেন আগুন লেগে গেলো।প্রতিটি চুম্বনে আনাস্তাসিয়ার গলা, ঘাড়, আর বুকের উপরিভাগ লাল হয়ে উঠছিল। আদ্রিয়ান তুষপাতের মতো তার ঘাড় আর বুক শু* ষে নিশ্চল, যেন প্রতিটি মুহূর্তে আনাস্তাসিয়ার অস্তিত্বকে নিজের ভেতরে ধারণ করেছে। আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়াকে উল্টো করে ঘুরিয়ে তার সারা পিঠে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলে লাগলো। তার উত্তেজনা যেন আরো বেড়ে যাচ্ছে। এভাবে উত্তেজনা বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে আদ্রিয়ান উত্তেজনার বসে আনাস্তাসিয়ার পাছায় জোরে একটা থাপ্পড় মেরে দিল। আনাস্তাসিয়া ব্যথায় আর রাগে উল্টো ঘুরে আদ্রিয়ানের গালে সপাটে একটা চর মেরে রাগি কন্ঠে বলে,

__"ওয়াই ডিড ইউ স্ল্যাপ মি?

__"আই হিট ইউ ইন দ্য হিট অব দ্য মোমেন্ট।"

আনাস্তাসিয়া রাগ করে সরে যেতে চাইলে আদ্রিয়ান তার দুই হাত একসাথে চেপে ধরে বেল্ট দিয়ে শুরু করে বেঁধে ফেলে। তারপর আদ্রিয়ান ধীরে ধীরে কোল্ড কফির গ্লাস থেকে এক টুকরো বরফ উঠিয়ে নিল। আনাস্তাসিয়া তা দেখে আতঙ্কিত হলেও নিরুপায়, তার নাভি শীতল স্পর্শ পাওয়া জন্য প্রস্তুত নয়। আদ্রিয়ান বরফের প্রথম টুকরোটি আনাস্তাসিয়ার নাভির উপর রাখতেই শীতলতার প্রবল ধাক্কায় আনাস্তাসিয়ার শরীর কেঁপে উঠল। তার চোখ বন্ধ হয়ে গেল, ঠোঁট শক্ত করে চেপে ধরল যেন নিজেকে কোনোভাবে সামলাতে পারে। তবুও, তার মুখ থেকে অস্ফুট শব্দ বের হতে লাগল। সেই শব্দে ছিল ব্যথা, লজ্জা আর কিছুটা মৃদু আকর্ষণ।বরফ গলতে শুরু করল, আনাস্তাসিয়ার কোমল ত্বকের উপর ঠান্ডা জল বয়ে যেতে লাগল। তার প্রতিটি কাঁপন আদ্রিয়ানের মনোযোগ আরও তীব্র করে তুলল।

__"তোমার প্রতিক্রিয়া বড়ই অন্য, ব্লাড রোজ।"

আদ্রিয়ান মৃদু স্বরে বলল, তার কণ্ঠে শীতল রোমান্টিকতার ছোঁয়া।

__"তুমি জানো না, তোমার এই সংবেদনশীলতাই তোমাকে আমার কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।"

আনাস্তাসিয়া ঠাণ্ডায় কাঁপছিল, কিন্তু তার মনের ভেতর অন্য এক অনুভূতি তাকে আচ্ছন্ন করছিল। আদ্রিয়ান বরফের আরেকটি টুকরো নিজের ঠোঁটে ধরে আনাস্তাসিয়ার দিকে ঝুঁকে এলো। আনাস্তাসিয়া শীতল নিঃশ্বাসে একপ্রকার হতবিহ্বলতা স্পষ্ট হলেও, তার চোখে অদ্ভুত এক মুগ্ধতার ছাপ ফুটে উঠছিল। আদ্রিয়ান ধীরে ধীরে তার ঠোঁট, যার ভেতরে বরফ ছিল,আনাস্তাসিয়ার নাভির ওপরে নামিয়ে আনল। ঠান্ডা বরফের শীতলতা আর আদ্রিয়ানের গরম নিঃশ্বাস একসঙ্গে মিশে আনাস্তাসিয়ার ত্বকে বিদ্যুৎ ঝলকের মতো ছড়িয়ে পড়ল। আনাস্তাসিয়ার শরীর হালকা কেঁপে উঠল, কিন্তু তার হাত বাঁধা থাকায় সে নড়তে পারছিল না। আদ্রিয়ান তার ঠোঁট দিয়ে বরফের টুকরোটি ধীরে ধীরে আনাস্তাসিয়ার নাভির চারপাশে বোলাতে থাকল, যেন প্রতিটি স্পর্শে আরও গভীর কোনো অনুভূতির আমন্ত্রণ জানাচ্ছিল। তারপর, সে বরফটিকে ঠোঁট দিয়েই আনাস্তাসিয়ার নাভি থেকে পেটের মাঝখানে নামিয়ে আনল, যেখানে ঠান্ডার স্পর্শ আরও প্রখরভাবে ছড়িয়ে পড়ল।তারপর, একই ধীর স্থিরতায়, আদ্রিয়ান বরফের টুকরোটি তার পায়ের উঁচু দিকে, থাইয়ের ওপরে বোলাতে থাকল। তার প্রতিটি স্পর্শে আনাস্তাসিয়ার শরীর যেন শীতলতার মাঝে গলে যাচ্ছিল। আনাস্তাসিয়ার শ্বাস ভারী হয়ে উঠল, তার ভেতরে শীতলতা আর উত্তাপের এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব চলছিল। আনাস্তাসিয়ার নাভিতে জমে থাকা ঠান্ডা পানির বিন্দুগুলো ধীরে ধীরে গলে যাচ্ছিল, প্রতিটি বিন্দু তার ত্বকে এক নতুন শীতল অনুভূতি ছড়িয়ে দিচ্ছিল। আনাস্তাসিয়ার শরীর কাঁপছিল, আর তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠছিল, শীতলতা তাকে আরও গভীরভাবে আক্রমণ করছে। আদ্রিয়ান তার গভীর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে আনাস্তাসিয়ার দিকে ঝুঁকল। তার ঠোঁটে একটি রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল, আর সে আলতো করে আনাস্তাসিয়ার নাভিতে জমে থাকা ঠান্ডা পানির বিন্দুগুলো একে একে নিজের ঠোঁট দিয়ে শুষে নিতে শুরু করলো। প্রতিটি স্পর্শে আনাস্তাসিয়ার শরীরে এক অদ্ভুত উষ্ণতার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ছিল, যা তার স্নায়ুকে তাড়িত করছিল। আনাস্তাসিয়া মনে মনে চেষ্টা করছিল তার প্রতিক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে, কিন্তু তার দেহের প্রতিটি অংশ যেন তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছিল। সে কিছু বলতে চাইল, কিন্তু শব্দগুলো যেন তার কণ্ঠে আটকে যাচ্ছিল। আদ্রিয়ান তখন তার ঠোঁট সরিয়ে নিল।আদ্রিয়ান মৃদু স্বরে বলল,

__"তোমার নাজুক শরীর থেকে এমন স্বাদ আমি কখনো ভুলতে পারব না, ব্লাড রোজ।"

তার কণ্ঠে ছিল এক অদ্ভুত আকর্ষণ, যা আনাস্তাসিয়াকে আরও অসহায় করে তুলছিল। আদ্রিয়ান আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারল না। তার চোখে ছিল এক ধরনের নেশা, যা তাকে সম্পূর্ণরূপে আনাস্তাসিয়ার প্রতি আচ্ছন্ন করে রেখেছিল।তার শরীরের উপর আদ্রিয়ানের দৃষ্টির প্রভাব যেন আগুনের মতো পোড়াচ্ছিল, এক অদ্ভুত উন্মাদনায় তাকে যেন পাগল করে দিচ্ছিল। তার নেশালো চোখ দিয়ে আনাস্তাসিয়ার পুরো শরীর পর্যবেক্ষণ করল। তার দৃষ্টি ছিল গভীর আর তীক্ষ্ণ, আনাস্তাসিয়ার শরীরের প্রতিটি খুঁটিনাটি সে মনে ধারণ করতে চাইছিল। আনাস্তাসিয়ার নিখুঁত ত্বক, কোমল বক্রতা, আর সৌন্দর্যের প্রতিটি অংশ তাকে এক জাদুকরী অভিজ্ঞতা দিচ্ছিল, তার মনে হলো সে এক ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।মৃদু স্বরে, যেন নিজেকেই বলল,

__"কীভাবে সম্ভব এতটা নিখুঁত হওয়া?তোমার প্রতিটি অংশ যেন আমার জন্যই তৈরি হয়েছে।"

তার হাত ধীরে ধীরে আনাস্তাসিয়ার দিকে এগোল, কিন্তু সেই মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিল।তার ঠোঁটে এক ঝলক হাসি ফুটে উঠল, আর মনে মনে ভাবল,

__"এ শরীরের স্বাদ সারাজীবন নিলেও শেষ হবে না। তোমার সৌন্দর্য কেবল আমার জন্য, আর কারো জন্য নয়।"

আনাস্তাসিয়ার শরীর তখন উত্তেজনা ও অস্বস্তিতে কাঁপছিল, আনাস্তাসিয়ার নিঃশ্বাস জড়ো হচ্ছিল, তার হৃদয় বেগে ধুকপুক করছিল। আদ্রিয়ান তার দিকে এগিয়ে আসতে থাকল, সব কিছু ছাপিয়ে আনাস্তাসিয়াকে নিজের কাছে নিয়ে আসবে।সে মুহূর্তে, আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়ার ঠোঁটে অল্প একটু কোল্ড কফি ঢেলে দিল। তারপর, ধীরে ধীরে, নিজের জিভ দিয়ে লেহন করতে লাগলো, ঠোঁটের উপর জমে থাকা কফি খে*তে শুরু করলো। আনাস্তাসিয়ার অনুভূতি ছিল অবর্ণনীয়।কোল্ড কফির মিষ্টতা আর আদ্রিয়ানের ঠোঁটের কোমল স্পর্শে তার দেহে অমিশ্রুত জ্বলে উঠছিল। সে নড়াচড়া করতে পারছিল না, কিন্তু তার হৃদয়ে এক ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ জেগে উঠছিল। তার শরীরের প্রতিটি স্নায়ু যেন আদ্রিয়ানের স্পর্শে সাড়া দিচ্ছিল। আদ্রিয়ান তার কাজ আরও ধীরে করতে লাগলো।প্রতিটি লেখনের সময় সে আনাস্তাসিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে প্রতিটা প্রতিক্রিয়া উপলব্ধি করতে চাইছে। আনাস্তাসিয়ার চোখে এক ধরনের নৈবেদ্য প্রকাশ পেয়েছিল।সে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে আদ্রিয়ানের কাছে সমর্পণ করতে চাইছিল। আদ্রিয়ান আবার আনাস্তাসিয়ার ঠোঁটের ওপর আছড়ে পড়লো, তার ঠোঁটজোড়া একবারে নিজের ঠোঁটের ভাঁজে আবৃত করে ফেললো। আনাস্তাসিয়ার কোমল ঠোঁটের স্বাদ যেন আদ্রিয়ানের সমস্ত অনুভূতিকে উদ্দীপিত করে তুলেছিল, যা তার মধ্যে একটি অবর্ণনীয় আগুন জ্বলতে শুরু করে দিলো। আনাস্তাসিয়ার ঠোঁটের স্পর্শ আদ্রিয়ান পাগলের মতো তাকে শুষে নিতে লাগলো, এক এক করে আনাস্তাসিয়ার শরীরের প্রতিটি রক্তে একটি নতুন অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ছিল, যা তাকে পুরোপুরি অবশ করে দিচ্ছিল। আনাস্তাসিয়ার ঠোঁটের কোমলতা, সেই গাঢ়তা—সব কিছুই আদ্রিয়ানের এক নেশার মতো হয়ে গেল। আদ্রিয়ান উপলব্ধি করল, আনাস্তাসিয়াও তাকে ছুঁতে চাইছে। তার চোখে যে উন্মাদনা ছিল, আর শরীরের অঙ্গভঙ্গি, সবকিছুই সে কথা বলছিল। তাই সে একটি কাটার দিয়ে একটানে বেল্ট কেটে ফেললো আর সেটা খুলে গেল। আনাস্তাসিয়ার হাতের বাঁধন মুক্ত হতেই সে কিছুটা অবাক হয়ে গেল, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তার মনে একটি উষ্ণ অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল—এখন সে স্বাধীন, এখন তার নিজের ইচ্ছার ওপর তার অধিকার।সে দ্রুত আদ্রিয়ানের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। আনাস্তাসিয়ার হাত আদ্রিয়ানের ঘাড়ে গিয়ে থেমে গেল। আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়ার হাতের স্পর্শে আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে উঠল। তার হৃদয়ে রক্তের প্রবাহ দ্রুত হয়ে উঠল। আদ্রিয়ান ধীরে ধীরে আনাস্তাসিয়ার গলা থেকে শুরু করে কোমল চুমু দিতে দিতে নিচে নামছিল।
যখন আদ্রিয়ান তার ঠোঁটগুলো নাভির দিকে নিয়ে আসছিল, তখন আনাস্তাসিয়ার হৃদপিণ্ডের ধড়ফড় তীব্র হয়ে উঠছিল। প্রতিটি চুম্বন তার ভিতরকার উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দিচ্ছিল। আদ্রিয়ান যখন তার কোমল ত্বকের স্পর্শের সাথে সাথে কামড় দিতে শুরু করল তখন আনাস্তাসিয়ার শরীর যেন উষ্ণতার ঢেউয়ে ভেসে যাচ্ছিল। আদ্রিয়ানের অধর আর দন্ত আনাস্তাসিয়ার বুকে আলতোভাবে কামড় দিচ্ছিল, যাতে করে তার শরীরের প্রতিটি অংশে একটি স্মৃতি ফেলে রাখতে পারে। আনাস্তাসিয়া অনুভব করছিল, আদ্রিয়ানের প্রতিটি কামড় যেন তাকে আরও গভীরভাবে প্রভাবিত করছে, আর সে নিজের অজান্তেই তার দিকে আকৃষ্ট হচ্ছিল।তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল, কিন্তু এই অনুভূতিই এক অদ্ভুত সুখের আবেশ সৃষ্টি করছিল। আনাস্তাসিয়ার চোখে উন্মাদনা আর আকাঙ্ক্ষার এক গভীর প্রকাশ ছিল; সে পুরোপুরি আদ্রিয়ানের প্রেমে সমর্পিত হতে চাইছিল। আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়াকে এক ঝটকায় ধরে ঘুরিয়ে নিজের ওপর তুলে নিল, আনাস্তাসিয়া এখন তার শক্তপোক্ত শরীরের ওপর বসে আছে, আর এই অবস্থায় তার চোখে উন্মাদনার এক নতুন রূপ ফুটে উঠছিল। আদ্রিয়ান তার পিঠে মৃদু হাতের বিচরণ শুরু করল, তার স্পর্শের মাধ্যমে আনাস্তাসায়ার শরীরের প্রতিটি শিরায় শিরায় আগুন জ্বালাতে চাইছে। আনাস্তাসিয়ার শরীরের বাঁকগুলোতেও তার স্পর্শে সাড়া দিচ্ছিল, প্রতিটি ছোঁয়া এক নতুন শিহরণ সৃষ্টি করছিল। যখন আদ্রিয়ান তার ঠোঁট দিয়ে আনাস্তাসিয়ার গলায় চুম্বন করতে লাগল, তখন আনাস্তাসিয়া এক আনন্দময় শিহরণ অনুভব করল, যা তার মন ও দেহকে অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে ধরেছিল। আদ্রিয়ানের হাত ধীরে ধীরে আনাস্তাসিয়ার বুকে চলে গেল। সেই নরম জায়গায় তার হাতের স্পর্শ বিদ্যুতের মতো কাজ করছিল। আনাস্তাসিয়া এক লাফে শিহরণে কেঁপে উঠলো, তার হৃদপিণ্ডের ধড়ফড় বেড়ে গেল, মনে হলো প্রেমের এই আবেগের প্রলয় থেকে মুক্তি চাইছে। আদ্রিয়ান তার শরীরের প্রতিটি কোণায় আরও গভীরভাবে প্রবেশ করতে লাগলো। আদ্রিয়ান একটানা আনাস্তাসিয়ার সারা বুকে হাতের বিচরণ করতে লাগল। তার স্পর্শে আনাস্তাসিয়ার মুখ থেকে এক মৃদু শীৎকার বেরিয়ে এলো। আনাস্তাসিয়া পেছন দিকে হেলে গেলো, আর তার পেট চলে আসে আদ্রিয়ানের মুখের কাছে। আদ্রিয়ান তখন তার জিভ দিয়ে নাভীর চারপাশে এক লহরী স্পর্শ তৈরি করে, আনাস্তাসিয়ার হৃদয়ের গতি দ্রুত হয়ে উঠলো, আর সে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে ফেললো। আদ্রিয়ান নিটিংয়ের সুতো নিয়ে আনাস্তাসিয়ার মুখ শক্ত করে বেঁধে দিলো, আনাস্তাসিয়া অসহায়ভাবে তাকিয়ে থাকল, তার চোখে বিস্ময় আর একরকম অস্বস্তির ছাপ ফুটে উঠলো। সুতোটো এমনভাবে বাঁধা ছিল যে তার ঠোঁটের নড়াচড়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ল, আর শ্বাস নিতে গিয়ে তার বুক ধীরে ধীরে ওঠানামা করতে লাগল। আদ্রিয়ান আর অপেক্ষা না করে আনাস্তাসিয়ার ভেতরে ধীরে ধীরে আরও গভীরে নিজেকে প্রবেশ করালো। আনাস্তাসিয়া চিৎকার করতে পারলো না তবে মুখ দিয়ে হাল্কা গোঙানির আওয়াজ আসতে লাগলো আর চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগলো।অনেকক্ষণ পর ধীরে ধীরে আনাস্তাসিয়া শান্ত হয়ে এলো, তার ব্যথা যেন রূপান্তরিত হলো এক নতুন অনুভূতিতে। তার ঠোঁটের কোণ থেকে নিঃশব্দে বেরিয়ে আসতে লাগলো গভীর শ্বাসের মৃদু শব্দ, আর চোখে এক অপার্থিব আবেশ খেলা করছিল। আদ্রিয়ান তার চোখের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল, যা প্রতিটি মুহূর্তে আনাস্তাসিয়াকে অচেনা এক সুখের ভুবনে ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে। আনাস্তাসিয়ার মুখ থেকে বেরিয়ে এলো অস্পষ্ট সুখের গোঙানির শব্দ। টানা একঘণ্টা এভাবে পেরিয়ে গেলেও আদ্রিয়ানের থামার কোনো লক্ষণ ছিল না। এভাবে চলতে থাকলো সারা রাত, দুটি দেহ দুটি আত্মা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। দুজন ভালোবাসার মানুষ একে অপরের ভালোবাসার স্পর্শে তলিয়ে যেতে থাকলো।

 
_____________>>>>>>>>>>>_____________

সকালের সূর্যের আলো সমুদ্রের পানি ভেদ করে প্রবেশ করছে পানির নিচে গ্লাস হাউজে। ঘড়ির কাঁটায় তখন সবে মাত্র বারোটা বেজেছে।বেডরুমের বিছানায় এঁকে অপরকে আস্টেপিস্টে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে দুটি নগ্ন দেহ। তাদের শরীরে এক টুকরো সুত ও চিহ্ন নেয়। সূর্যের আলো চোখে পড়তেই আদ্রিয়ান পিটপিট করে চোখ খুলে। চোখ খুলে তাকিয়ে আনাস্তাসিয়াকে নিজের বুকের মধ্যে জড়িয়ে শুয়ে থাকতে দেখে মুচকি হাসে। কিছুক্ষণ আনাস্তাসিয়ার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে। ঘুমন্ত আনাস্তাসিয়াকে দেখতে কি নিষ্পাপ আর মায়াবী লাগছে এই মুহূর্তে। এসব ভেবে নিজের ডার্ক রেড চেরি ঠোঁট জোড়া আনাস্তাসিয়ার গোলাপি ঠোঁটে ডুবিয়ে দেয়। আনাস্তাসিয়া ঘুমিয়ে মধ্যে নড়েচড়ে ওঠে তার ঘুম হাল্কা হয়ে যায়। সে ঘুমের মধ্যে অনুভব করে হঠাৎ তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। আনাস্তাসিয়া ঘুমের মধ্যে ছটফট করে তার চোখ খুলে আদ্রিয়ানকে তার ঠোঁটে চুমু খেতে দেখে চোখ বড়বড় করে ফেলে। আদ্রিয়ান কিছুক্ষণ পর তার ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে শব্দ করে তার ঠোঁটে চুমু খেয়ে মুচকি হেসে বলে,

__" গুড মর্নিং মাই ডেয়ার সুইটহার্ট"।

আনাস্তাসিয়া ছাড়া পেতেই জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে থাকে। অতঃপর আদ্রিয়ানকে হাল্কা ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে ছাড়িয়ে উঠে বসে বলে,

__" তুমি কি আমাকে ঘুমের মধ্যে মেরে ফেলার প্লেন করেছো"।

আদ্রিয়ান ও উঠে বসে রাতের কথা মনে করে মাথা দুষ্টু বুদ্ধি আসতেই দুষ্টু হেসে ঠোঁট উল্টে কাঁদো কাঁদো ফেস করে বলে,

__" বউ রাতে যে তুমি আমার ইজ্জত এতো বছরের যত্ন করে আগলে রাখা ভার্জিনিটি সব শেষ করে দিলে এখন আমি এই মুখ কাকে দেখাবো, আমার তো এখুনি এই খাট থেকে লাফ দিয়ে মরে যেতে ইচ্ছে করছে"।

আনাস্তাসিয়া বিরক্তি নিয়ে বিছানা থেকে নেমে উঠে দাঁড়ালো। অতঃপর ডান দিকের সোজা গিয়ে দেওয়ালে হাত রাখতেই খুলে গেল। ভাসমান হলো বেশ বড় একটি কাভার্ড, সেখান থেকে কাপড় বের করে নিল। আদ্রিয়ান দেখেতো পুরো অবাক সে জানতো না এখানে কাভার্ড ও আছে। আনাস্তাসিয়া বেডে কাছে এসে আদ্রিয়ানকে তার কাপড় দিতে দিতে বলে,

__" বেশ করেছি তোমার ইজ্জত শেষ করেছি, দরকার হলে আবার করবো, এখন তাড়াতাড়ি গোসল করে চেঞ্জ করে নাও আমাদের যেতে হবে"।

আদ্রিয়ান তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,

__" এখানে ছেলেদের কাপড় আসলো কি করে"?

__" এখানে দুই বছর ছিলাম তাই এখানে ছেলে মেয়ে সবার প্রয়োজনিয় সব কিছুর ব্যবস্থা আছে"।

(চলবে.....)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন