#আনাস্তাসিয়া
#লেখিকা_সামিয়া
#পর্ব:১১
আদ্রিয়ান বিছানা থেকে নেমে আনাস্তাসিয়া কে কোলে তুলে নেয়। আদ্রিয়ানের এমন কান্ডে আনাস্তাসিয়া ভর্কে গিয়ে ছটফট করে বলে,
__" কি করছো কি নামাউ আমায়"।
আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়াকে কোলে করে ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে দুষ্টু হেসে বলে,
__" ফাস্ট নাইটের পর ফরজ গোসল একসাথে করতে হয় তুমি জানো না"।
আনাস্তাসিয়া কিছু না বলে মুখ ভেংচি কেটে অন্য দিকে ঘুরিয়ে নেয়। আদ্রিয়ানা তাকে কোলে করে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে শাওয়ারের নিচে দার করিয়ে দেয়।বর্ণা ছেড়ে দিয়ে আনাস্তাসিয়াকে সোজা করে দাঁড়া করালো সে। আদ্রিয়ান আস্তে আস্তে আনাস্তাসিয়ার ওষ্ঠ নিজের ওষ্ঠে পুরে নিলো। হাত আপনা আপনিই চলে গেলো সুধার মধ্যে। পরম যত্নে আদ্রিয়ানের পিঠে হাত বোলাতে থাকলো আনাস্তাসিয়া। আদ্রিয়ান আস্তেধীরে আনাস্তাসিয়াকে কোলে তুলে নিল। আনাস্তাসিয়া সামান্য ঝুঁকে গেলো আদ্রিয়ানের বুকে। আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়ার বেতলা ভাজে আস্তে করে ধরলো। আনাস্তাসিয়ার ফর্সা উদরে ঝর্ণার পানি চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে আদ্রিয়ান তা খেতে লাগলো। আনাস্তাসিয়া উদরের গভীরে যেন কোনো এক অস্থির ঢেউ উঠানামা করছিল। তার, অভ্যন্তরীণ অঙ্গে মুখ ডুবালো আদ্রিয়ান, আস্তে আস্তে রসনা দিয়ে লেহন করতে লাগলো। একপর্যায়ে আরো গভীর ভাবে মাদকতা মিশিয়ে লেহন করতে লাগলো আদ্রিয়ান। এক হাত দিয়ে উরোজযুগলে হাত চালাতে লাগলো। ওষ্ঠ পুড়ে নিল সে, হাত চালাতে লাগলো পুরো সর্বাঙ্গ জুড়ে। এরপর আনাস্তাসিয়া আদ্রিয়ানের সারা শরীর জুড়ে পরশ একে দিতে লাগলো, সে গোপন অস্তিত্ব রসনা দিয়ে লেহন করতে শুরু করলো। আদ্রিয়ান বেসামাল হয়ে গেলো, এর পর শুরু করলো এক প্রেম নিবেদন মতোয়ারা খেলা, সর্বাঙ্গ জুড়ে সুখের আবেশ ভাসতে শুরু করলো, আনাস্তাসিয়া জুড়ে জুড়ে ব্যথায় আর্তনাদ করতে লাগলো, আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়াকে দেয়ালে ঠেকিয়ে সামান্য চুলের মুঠি ধরে আত্মার আকাঙ্ক্ষিত সংযোগ শুরু করলো, সুধার মতো ঢেলেছিলো কামনার আঁধার। দেহ নয়, দুটি আত্মা যেন আবারও মিলিত হলো এই যাত্রে।
আনাস্তাসিয়া আর আদ্রিয়ান ফরজ গোসল শেষে বেরিয়ে এলো একসাথে। তার পর রেডি হয়ে নিচে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়াল।আনাস্তাসিয়ার পরনে সাদা ইন করা টিশার্ট এর সাথে কফি কালার ডিলাডালা হাঁফ প্যান্ট যা হাঁটু পর্যন্ত। কোমরে বাউল রঙের চিকন বেল্ট চুল গুলো স্টাইলিশ ভাবে ঝুটি করা আর পায়ে সাদা শু। আদ্রিয়ান এর পরনে সবুজ টিশার্ট এর সাথে নীল রঙের ডেনিম জিন্স আর পায়ে সাদা শু। নিচে যাওয়ার পথে আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়াকে জিজ্ঞেস করে,
__" তুমি কি বলবে এই গ্লাস হাউজটা কার আর কে এখানে এই গ্লাস হাউজ বানিয়েছে"।
__" এই গ্লাস হাউজের একমাত্র মার্কিন আমি, এই গ্লাস হাউজটা আমিই তৈরি করেছি, আর একা কোনো সাধারণ গ্লাস হাউজ নয়, এটা লেটেস্ট টেকনোলজি ব্যবহার করে বানানো হয়েছে, তুমি যদি প্রফেশনাল হ্যাকার দিয়ে ও এখানকার লোকেশন ট্র্যাক করতো চাও তাহলেও পারবে না। এইযে এই গ্লাস গুলো দেখছো এগুলো কোন সাধারণ গ্লাস নয়, তুমি চায়লেও পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র দিয়েও একটা দাগ ও ফেলতে পারবেনা এই গ্লাসে ভাঙ্গা তো দূরের কথা, এই পুরো গ্লাস হাউজটা বিশেষ ভাবে তৈরি করা হয়েছে। গ্লাস হাউজের অণুগুলোকে শক্তিশালী কোভ্যালেন্ট বন্ড আর কার্বন ন্যানোটিউবের মতো জাল দিয়ে এমনভাবে যুক্ত করা হয়েছে, যার মলিকিউলার স্ট্রাকচার অত্যন্ত সুদৃঢ়, তবে তা সহজে ভাঙা সম্ভব নয়। আর মেটেরিয়ালটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন যেকোনো অস্ত্রের আঘাতের গতিশক্তি (Kinetic Energy) সঙ্গে সঙ্গে পুরো অবকাঠামোতে ছড়িয়ে (Disperse) পড়ে। এর ফলে আঘাতের প্রভাব নির্দিষ্ট একটি বিন্দুতে জমা হতে পারে না এবং গ্লাসটি ভাঙে না। গ্লাস হাউজটি সম্পূর্ণ অফলাইনে এবং এর ভেতরে এমন ফ্যারাডে কেজ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যা সকল তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ (Electromagnetic Waves) ব্লক করে, তবে বাইরের কোনো সিগন্যাল ভেতরে প্রবেশ করতে বা ভেতর থেকে বাইরে যেতে পারবে না। কিন্তু এখানে একটি বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যার মধ্যে আমার চাইলে বাহিরে যোগাযোগ করতে পারি। আর হ্যাকারদের রুখতে কোয়ান্টাম কি ডিস্ট্রিবিউশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমের ডেটা পরিবর্তন বা ধ্বংস করে দেয়।আর কোনো বস্তুকে দেখতে হলে তার ওপর আলো (ফোটন কণা) প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে বা ক্যামেরায় আসতে হয়। মেটাম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করে আলোর গতিপথকে বস্তুর চারপাশে এমনভাবে বাঁকিয়ে (Bending Light) দেওয়া হয়েছে, যাতে আলো বস্তুটিকে স্পর্শ না করেই পার হয়ে যায়। এর ফলে বস্তুটি মানুষের চোখ বা কোনো বিশেষ যন্ত্রে অদৃশ্য হয়ে যায়। তাপীয় বিকিরণ (Thermal Radiation) লুকানোর জন্য থার্মাল ইনসুলেশন স্তর ব্যবহার করতে হয়, যাতে অবলোহিত রশ্মি (Infrared) নির্গত না হয়। এই গ্লাস হাউজে যে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে তা তুমি চাইলে ও পৃথিবীর কোথাও পাবেনা কারণ এগুলো আমি নিজের হাতে তৈরি করেছি"।
__"আর ইউ আ সায়েন্টিস্ট?
__"ইউ কুড সে ইয়েস অ্যান্ড নো। মাই গ্র্যান্ডফাদার ওয়াজ আ সায়েন্টিস্ট। হি উইশড দ্যাট আই উড ফলো ইন হিজ ফুটস্টেপস অ্যান্ড বিকাম আ সায়েন্টিস্ট লাইক হিম, বাট সার্কামস্ট্যান্সেস ডিডন্ট অ্যালাউ মি টু ফুলফিল দ্যাট ড্রিম। আর এইযে এই গ্লাস হাউজটা দেখছো এটাও আমার গ্ৰ্যান্ডফাদারের বহু বছরের রিসার্চ, তার ড্রিম ছিল এখানে এই গ্লাস হাউজটা আবিষ্কার করবে কিন্তু দূর ভাগ্য বসত করতে পারেনি, তাই তার একটা স্বপ্ন পুরন করতে না পারলেও এই স্বপ্নটা ঠিক পুরন করেছি আমি"।
অতঃপর কেউ আর কিছু না বলে দু'জন নাস্তা করে বেরিয়ে পরে। তাঁরা লিফটে উঠে গ্লাস হাউজ এর নিচে গাউন ফ্লোরে যায়। সেখানে একটি শক্তপোক্ত শক্তিশালী লোহার দরজা, আনাস্তাসিয়া দরজায় পাসওয়ার্ড দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই তাঁরা দেখতে পায় বিশাল বড় একটি সাবমেরিন। আনাস্তাসিয়া আর আদ্রিয়ান সাবমেরিন এর ভেতরে ঢুকে পড়ে। তার পর আনাস্তাসিয়া সাবমেরিন চালু করতেই আপনাআপনি উপরের ছাদ দুই দিকে খুলে গিয়ে তাদের যাওয়ার জন্য রাস্তা তৈরি করে দেয়। আর সমুদ্রের পানি গুলো যেন জেলির মতো হয়ে সেখানেই আটকে থাকে। আনাস্তাসিয়া সাবমেরিন চালিয়ে ধীরে ধীরে সমুদ্র থেকে বেরিয়ে আসে। অতঃপর নির্দিষ্ট গন্তব্যে এসে তাঁরা সাবমেরিন থেকে বেরিয়ে এসে আনাস্তাসিয়া প্যান্ট এর পকেট থেকে একটি রিমোট বের করে তাতে চাপ দিতেই পুনরায় সাবমেরিনটা ফিরে যায়। তাঁরা পেছন ঘুরে কিছু দূর যেতেই থমকে যায়, তাদের চারপাশ ঘিরে বেরিয়ে আসছে অস্ত্র হাতে অসংখ্য লোক। তাদের মধ্যে কিছু লোক কালকের সেই লোকগুলো। আনাস্তাসিয়া আর আদ্রিয়ান এর আর বুঝতে বাকি নেই লোক গুলো কাল এখান থেকে যায়নি তাদের জন্য এখানেই লুকিয়ে অপেক্ষা করছিল। আদ্রিয়ান একবার আনাস্তাসিয়ার দিকে তাকালো, মেয়েটার এখনো হাতে আর পায়ে সাদা ব্যান্ডেজ পেঁচানো।
__" তুমি এই অবস্থায় এদের সাথে লড়াই করতে পারবে তো"।
আনাস্তাসিয়া আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে এক চোখ টিপ মেরে বলে,
__" নো টেনশন, আই এ'ম ফাইন, আজ একটা কেউ বেঁচে ফিরতে দেবো না"।
অতঃপর সামনে তাকাতেই দেখল লোকগুলো তাদের কাছাকাছি চলে এসেছে। আনাস্তাসিয়া আর আদ্রিয়ান নিজেদের জামার পেছনে লুকানো রিভলবার বের করে প্রস্তুত হয়ে নিল। লোকগুলো তাদের সামনে আসতেই তাদের মধ্যে থেকে একজন লোক বলে উঠল,
__" কাল তো তোমরা পালিয়ে বেঁচে গিয়েছিলে আজ কি করে পালাবে সোনা মুনিরা"।
__" কাল পালিয়ে যেতে পারি বাট আজ তোদের সবকটাকে মেরে তার পর যাবো বাস্টার্ড"।
আনাস্তাসিয়া কথা শুনে লোকগুলো বিচ্ছিরি একটা হাঁসি দিয়ে বলে,
__"তরা দুই জন, আর আমরা অনেক। এখনও মনে হচ্ছে জিতবি?"
আদ্রিয়ান তাচ্ছিল্যের একটা হাসি দিয়ে বলে,
__"এত আত্মবিশ্বাস ভালো… কিন্তু বাস্তবটা একটু পরেই বুঝবি।"
আদ্রিয়ানের কথা শেষ হতেই আনাস্তাসিয়া গম্ভীর কণ্ঠে চেঁচিয়ে বলে,
__" আজ যদি তোদের সবকটাকে মেরে তোদের লাশের উপর দিয়ে এখান থেকে যদি আমি না যেতে পারি তাহলে আমি ব্লেক ড্রাগন গ্ৰুপের লিডার আনাস্তাসিয়া নই"।
__" আচ্ছা তাহলে আমরাও দেখবো কে কার লাশের উপর দিয়ে যায়"।
বলেই আর এক মুহূর্ত দেরি না করে আক্রমণ করে তাদের উপর। আনাস্তাসিয়া আর আদ্রিয়ান প্রতিরোধ করতে রিভলবার দিয়ে এক একটার মাথা বরাবর শুট করতে থাকে। তখনি কোথায় থেকে ছুটে আসে স্কারফেস তাকে দেখেয় শত্রুপক্ষের লোকগুলো ভয় পেয়ে যায়। ভয়ঙ্কর কালো সিংহের লাল চোখ গুলো হিংস্র ভাবে জ্বলছে। স্কারফেসকে দেখেই আনাস্তাসিয়ার মখে রহস্যময় এক ভয়ংকর হাঁসি ফুটে ওঠে। আদ্রিয়ান স্কারফেসকে দেখে থমকে যায় তখনি দূর থেকে আমান আর লেনিকে আসতে দেখা গেল। আমানের হাতে একটি কাঠের বাক্স, তা দেখে আনাস্তাসিয়া আর দিকে এগিয়ে যায়। ইতিমধ্যেই স্কারফেস শত্রুপক্ষের লোকদের উপর ঝাপিয়ে পরেছে। আনাস্তাসিয়া বাক্সটি আমানের হাত থেকে নিয়ে খুলে তার ভেতর থেকে ধারালো লোহার দাঁত আর বড় বড় ধারালো লোহার নখ ওয়ালা গ্লাফ বের করে পরে নেয়। তারপর সেও স্কারফেস এর সাথে যোগ দিল, এক এক জনের উপর ঝাপিয়ে পড়ে দুজন লোকগুলোর পেটে হাত ঢুকিয়ে মাঝখান থেকে চিঁড়ে দুই আলাদা করে ফেলছে। আদ্রিয়ান মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেছে সে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে, তখনি আমান তাঁকে ইশারায় সড়ে আসতে বলতেই সে সরে আসলো। কারণ এই মুহূর্তে আনাস্তাসিয়াকে একটা হিংস্র পশুর থেকে কম কিছু মনে হচ্ছে না। সে তার ধারালো দাঁত দিয়ে শত্রুপক্ষের লোকেদের ঘাড়ে কামড় দিয়ে সেখান থেকে মাংস উঠিয়ে ফেলছে, তাদের হাত টেনে তা দেহ থেকে আলাদা করে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে। অপর দিকে স্কারফেজ ও সেম সেও এক এক জনের উপর ঝাপিয়ে পড়ে তার ধারালো নখ আর দাঁত দিয়ে খুবলে খাচ্ছে। লোকগুলো বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছে কিন্তু তাদের আর্তনাদ যেন আনাস্তাসিয়ার কান পর্যন্ত পৌঁছাল না। সে এখন আরেকটা স্কারফেজ এ পরিনত হয়েছে। চোখের পলকের মধ্যেই জায়গাটা মৃত্যুপুরীতে পুরিনত হয়ে গেছে। আনাস্তাসিয়া আর স্কারফেজ এর লাল চোখ জোড়া জ্বলন্ত লাভার মতো জ্বলছে। তাদের দেখে মনে হচ্ছে তারা রক্তে গোসল করেছে, আনাস্তাসিয়ার মুখেও রক্ত লেগে আছে। সেই রক্ত মাখা মুখে ভয়ঙ্কর এক বিকৃতি হাসি ঝুলছে। তখনি একজন লোক রক্ত মাখা শরীর অনেক কষ্ট করে টেনে আনাস্তাসিয়ার পায়ের কাছে এসে কাঁপা কন্ঠে বলে,
__" দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমি আর তোমার বিরুদ্ধে যাবো না, প্লিজ দয়া করে আমার প্রাণ ভিক্ষা দিন"।
লোকটির কথা শুনে আনাস্তাসিয়া বিকৃতি একটা হাসি দিয়ে গর্জে উঠে বলে,
__" ক্ষমা তো দূরের কথা আমি কখনো কাউকে দয়া পর্যন্ত করি না"।
বলেই লোকটাকে টেনে তুলে তার ঘাড় থেকে মাথা আলাদা করে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এসব দেখে আমান আর লেনি স্বাভাবিক থাকলেও আদ্রিয়ান যেন স্বাভাবিক থাকতে পারছে না সে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আনাস্তাসিয়ার দিকে। সে এতো দিন যে আনাস্তাসিয়াকে দেখে এসেছে চিনেছে এখন সে আর সে রকম নে এ যেন পুরোই আলাদা একজন মানুষকে দেখছে। তার মনে একটা প্রশ্ন উঁকি দিল, এ এই মুহূর্তে আদেও একটা মানুষ না কি কোন নরপিশাচে পরিনত হয়েছে।সে কোন দিন কল্পনা ও করতে পারেনি আনাস্তাসিয়া এতটা হিংস্র আর এতোটা ভয়ংকর হতে পারে। আদ্রিয়ান এর ভাবনার মধ্যেই পুরো সমুদ্রের তীর মানব শূন্য হয়ে পড়লো। সমুদ্রের তীর দিয়ে বিছিয়ে পরছে অসংখ্য রক্ত মাখা ভয়ঙ্কর ভাবে খুবলে খাওয়া লাশ। সমুদ্রের তীরের বালু কণা গুলো রক্তে ভিজে লাল হয়ে গেছে। এক নিমেষের মধ্যে সবগুলো লোককে শেষ করে আনাস্তাসিয়া আর স্কারফেজ থামে। স্কারফেজ ধীরে ধীরে তার মনিবের কাছে ফিরে এসে আনাস্তাসিয়ার পায়ের সাথে মাথা ঘোষে পায়ের কাছ ঘেঁষে দাঁড়ায়। অতঃপর আনাস্তাসিয়া আর স্কারফেজ একসাথে গর্জে উঠে। আনাস্তাসিয়া হাঁটু গেড়ে স্কারফেজ এর কাছে বসে তাঁকে জড়িয়ে ধরে আদর করে দেয়।
__" গুড জব মাই বয়"।
কথাটি বলেই একটি ডেভিল স্মাইল দিল। আমান আদ্রিয়ান আর লেনি তাদের সামনে এসে দাঁড়ালো। আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়াকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করে,
__" তুমি ঠিক আছো, তোমার কোথাও লাগেনি তো"।
__" আই এ'ম ফাইন, আমার কোথাও লাগেনি"।
তার পর তাকে ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতেই লেনি পানির বোতল এগিয়ে দিয়ে বলে,
__" ম্যাম পানি দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে রক্ত গুলো পরিষ্কার করে নিন"।
আনাস্তাসিয়া পানির বোতল নিয়ে হাত মুখ ধুয়ে নেয়, তখনি আমান আনাস্তাসিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলে,
__" তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠো আমাদের হাসপাতালে যেতে হবে"।
আনাস্তাসিয়া ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,
__" হাসপাতালে কেন"?
__" তোমাকে ডাক্তার দেখাতে হবে তাই"।
আনাস্তাসিয়া সঙ্গে সঙ্গে নাকোচ করে বলে,
__" কোন দরকার নেই আমি যাবো না"।
আমান ধমকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিয়ান ধমকে উঠে বলে,
__" দরকার নেই মানেটা কি নিজের অবস্থা দেখেছ একবারও, কতটা আঘাত পেয়েছ তুমি, হাত পা কেটে গেছে ডাক্তার না দেখালে ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে এই ধারণা আছে তোমার, তুমি এখনি হাসপাতালে যাবে, আর যাবেনা মানে তুমি না গেলে তোমাকে ঘাড় ধরে নিয়ে যাওয়া হবে মাইন্ড ইট"।
আনাস্তাসিয়া কিছু বলতে যাবে তার আগে আদ্রিয়ান পুনরায় ধমক দিয়ে বলে,
__" চুপ একদম চুপ আর একটা কথাও বলবে না তুমি, নাহলে মাথায় উঠিয়ে এক আছাড় দিব মনে থাকে যেন"।
বলেই আনাস্তাসিয়ার হাত ধরে টানতে টানতে গাড়ির দিকে নিয়ে গেল। আনাস্তাসিয়া আদ্রিয়ানের ধমক খেয়ে চুপসে গেল আর কিছু বলতে পারলো না, তাই চুপ চাপ তার পিছুপিছু চলতে লাগলো।
আমান আর লেনি আদ্রিয়ানের এমন ধমক খেয়ে আনাস্তাসিয়াকে চুপ করে যেতে দেখে মিটি মিটি হাসছে। লেনি তাদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হেসে বলে,
__" আনাস্তাসিয়া ম্যামের জন্য আদ্রিয়ান স্যার একদম পারফেক্ট তাইনা বস"।
আমান লেনির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে,
__" ইউ আর রাইট, আমার বোনটার জন্য এই ছেলেটা একদম পারফেক্ট"।
অতঃপর কিছু একটা মনে করে এদিক ওদিক তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলে
,
__" কতবার বলেছি আমাকে এভাবে যে কোন জায়গায় বস বলে ডাকবে না"।
লেনির মুখটা মুহূর্তেই মূলিন হয়ে যায়, মাথা হাল্কা নিচু করে চোখ নামিয়ে বলে,
__" সরি বস আর হবেনা"।
__" আবার বস....
লেনি এবার মাথা উঁচু করে দুই দিকে হাত নাড়িয়ে বলে,
__" না না সরি সরি আ...আমান"।
লেনিকে এমন ঘাবড়ে যেতে দেখে মুচকি হেসে বলে,
__" হয়েছে হয়েছে এতো ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই আমি তোমায় খেয়ে ফেলবো না, এবার চলো"।
কথাটা বলে একবার স্কারফেজ এর দিকে তাকিয়ে স্কারফেজকে উদ্দেশ্য করে বলে,
__" চল স্কারফেজ আমার সাথে এখানে দাঁড়িয়ে থেকে লাভ নেই, তোর মাকে তোর বাবা নিয়ে চলে গেছে, তোকে এখন তোর এই মামার সাথেই যেতে হবে"।
শেষের কথাটা আফসোসের স্বরে বলে স্টারফেজকে নিয়ে গাড়ির দিকে এগোতে থাকে। তাদের পেছন পেছন লেনি ও যায়।
আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়াকে টানতে টানতে গাড়ির কাছে নিয়ে এসে গাড়ির পেছনের দরজা খুলে তাকে ভেতরে বসিয়ে দিতে দিতে বলে,
__" চুপ চাপ ভেতরে বসো আর একটা শব্দ যেন মুখ থেকে না বের হয়"।
আনাস্তাসিয়া ভেতরে বসে আদ্রিয়ান এর দিকে একবার তাকিয়ে মুখ ভেংচি কেটে অন্যা দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আদ্রিয়ান তা দেখে এক ভ্রু কুঁচকে ভেতরে ঢুকে তার পাশে বসে পরে। আদ্রিয়ান তার পাশে বসতেই সে একটু দূরে সরে যেতে চাইলে, আদ্রিয়ান এর হাত দিয়ে কোমর পেঁচিয়ে ধরে তাকে কাছে টেনে এনে শক্ত করে তার সাথে চেপে ধরে। আনাস্তাসিয়া ছোটার জন্য মচরামুচরি করতে করতে বলে,
__" ছাড়ো আমায় আমি তোমার সাথে বসবো না,ছাড়ো বলছি ছাড়ো"।
আদ্রিয়ান তাকে না ছেড়ে নিজের সাথে আরো শক্ত করে চেপে ধরে বলে,
__" একদম নরবে না চুপ চাপ বসে থাকো, নয়লে আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না বলে রাখলাম"।
আনাস্তাসিয়া আর কিছু না বলে চুপচাপ মুখ ফুলিয়ে বসে থাকে। আদ্রিয়ান তার দিকে একবার তাকিয়ে মুচকি হাসে। অতঃপর আমান আর লেনি এসে সামনের সিটে বসে পরে। আমার একবার আনাস্তাসিয়ার দিকে তাকিয়ে পুনরায় সামনে তাকিয়ে গাড়ি স্টার্ট দেয়। গাড়ি নিজ গন্তব্যে ছুটে চলে।
______________>>>>>>>>>>>____________
বটকিন হাসপাতালের এগারো তলার একটি কক্ষের বেডে শুয়ে আছে আনাস্তাসিয়া। কিছুক্ষণ আগেই তাকে হিপ্নোটাইজ করা হয়েছিল। তার মেন্টাল কন্ডিশন চেক করার সময় সে প্রবল উত্তেজিত হয়ে যায় যার ফলে তাকে সামলানো মুস্কিল হয়ে পরেছিল। তাই তাকে ঘুমের ঔষধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে। কেবিনের বাহিরেই বসে আছে আদ্রিয়ান আমান আর লেনি। কেউ কারোর সাথে কথা বলছে না সকলেই নিরবে বসে আছে। তাদের এই নিরবতার মাঝেই কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো আনাস্তাসিয়ার পার্সোনাল ডাক্তার সাদেক রহমান। ডাক্তার সাদেক কে দেখেই আমান গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে,
__" ডক্টর আনাস্তাসিয়া ঠিক আছে তো, ওর আজকে এমন ভয়ঙ্কর ব্যবহারের কারণ কি ডক্টর"।
__" চিন্তার কোন কারণ নেই,শিজ অ্যাবসোলিউটলি ফাইন, আপাতত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত সব খুলে বলতে পারছিনা, তবে আপনারা চাইলে পেইশেন্ট কে নিয়ে যেতে পারেন, আর হ্যাঁ আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওনার জ্ঞান ফিরে আসতে পারে আপাতত ওনাকে ঘুমাতে দিন"।
বলেই ডাক্তার চলে গেল, ডাক্তার চলে যেতেই তারা তিন জন একে একে কেবিনে ঢুকে পড়ে। আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়ার বেডের পাশে চেয়ার টেনে বসে তার ডান হাত নিজের দুই হাতের আঁজলায় নিয়ে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়। আমান একবার আনাস্তাসিয়ার দিকে তাকিয়ে আদ্রিয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলে,
__" আমরা নিচে যাচ্ছি, তুমি আনাস্তাসিয়াকে নিয়ে আসো, চলো লেনি"।
শেষের কথাটা লেনিকে উদ্দেশ্য করে বলে। তার পর আর কাওকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে লেনিকে নিয়ে চলে যায়। আদ্রিয়ান চুপচাপ একবার আনাস্তাসিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,
__" তোমার আর কোন ক্ষতি হতে দেব না আমি, এখন থেকে সবসময় তোমাকে আমার নজরে নজরে রাখবো, এক পলকের জন্য ও চোখের আড়াল হতে দেব না"।
তারপর আনাস্তাসিয়ার দিকে একটু ঝুঁকে তার কপালে গভীর ভালোবাসার পরস এঁকে দিয়ে তাকে কোলে তুলে নেয়। অতঃপর তাকে নিয়ে বেরিয়ে পরলো, গাড়ির কাছে গেলে লেনি পেছনের দরজা খুলে দিতেই আনাস্তাসিয়াকে কোলে নিয়েই বসে পড়ে গাড়ির ভেতরে। আনাস্তাসিয়ার মাথা তার বুকের সাথে চেপে ধরে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে থাকে। লেনি গাড়িতে উঠতেই আমান গাড়ি স্টার্ট দেয়। তারপর আহমেদ ভবনে যাওয়ার পথে গাড়ি চালায়। গাড়ির মধ্যে সকলেই নিস্তব্ধ কেউ কারোর সাথে কথা বলছে না। আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়াকে নিজের বুকের মাঝে আগলে রেখে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। কিছুক্ষণ এর মধ্যেই আনাস্তাসিয়ার জ্ঞান ফিরে আসে। সে হাল্কা নড়েচড়ে ওঠে আস্তে আস্তে নিজের চোখ খুলে। আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়াকে চোখ খুলতে দেখে মুচকি হেসে বলে,
__" আর ইউ ফিলিং বেটার নাউ?
__" হাল্কা মাথা ব্যথা করছে"।
__" বাড়ি গিয়ে রেস্ট নিলে সব ঠিক হয়ে যাবে"।
আনাস্তাসিযাকে তার কোল থেকে উঠতে দেখে আদ্রিয়ান তাকে উঠতে সাহায্য করে বলে,
__" সাবধানে উঠে বসো"।
আনাস্তাসিয়া তার কোল থেকে উঠে পাশের সিটে বসে পরে। কিছুক্ষণ এর মধ্যেই গাড়িটি এসে ঢুকলো আহমেদ ভবনে বিশাল বড় রাজকীয় গ্যাঁট দিয়ে। গেটের ভেতর ঢুকে গাড়ি থামতেই এক এক করে সকলে নেমে পরলো। আরেকটা গাড়ি থেকে একজন গার্ড স্কারফেজকে বের করে আনলো। স্কারফেজ সোজা আনাস্তাসিয়ার কাছে এসে তার পায়ের সাথে মাথা ঘেঁষতেই আনাস্তাসিয়া একটু ঝুঁকে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। অতঃপর সকলে সামনে হাঁটা ধরে, কয়েক কদম এগোতেই তাঁরা থমকে যায়। সকলে ভ্রু কুঁচকে সামনে তাকিয়ে থাকলেও আদ্রিয়ান এর মুখে মুচকি হাঁসি। তাদের সামনে এরিক একটি বড় ট্রাক এর পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আদ্রিয়ানকে দেখে এরিক বলে উঠে,
__" বস লিওনিডা কে নিয়ে এসেছি"।
কথাটি সোনার সাথে সাথে আনাস্তাসিয়া ভ্রু কুঁচকে আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
__" এই লিওনিডা কে হুম"।
আনাস্তাসিয়ার কথা শুনে আদ্রিয়ান তার দিকে তাকাতেই দেখল আনাস্তাসিয়া তার দিকে ঘাড় বাঁকিয়ে চোখ ছোট ছোট করে সন্দেহ জনক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আদ্রিয়ান তা দেখে মুচকি হেসে তার মাথার চুল এলোমেলো করে দিয়ে বলে,
__" আমার উপর সন্দেহ করে লাভ নেই, একটু পরেই দেখতে পাবে"।
তার পর এরিক কে উদ্দেশ্য করে বলে,
__"লিওনিডাকে নিয়ে এসো"।
এরিক মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে ট্রাক থেকে লিওনিডাকে বের করে নিয়ে আসে। লিওনিডাকে দেখেই সকলে অবাক হয়ে চোখ গোল গোল করে তাকিয়ে থাকে সেই দিকে। সাদা ধবধবে একটি সিংহী বাদামী রঙের চোখ, খুব ভয়ঙ্কর দেখতে লিওনিডা। কিন্তু স্কারফেজ এর তুলনায় একটু কম ভয়ঙ্কর। লিওনিডা কে বের করে আনতেই সে দৌড়ে তার মনিবের কাছে চলে আসে। আদ্রিয়ানের কাছে লিওনিডা আসতেই আদ্রিয়ান ঝুঁকে তাকে আদর করে দেয়। মনিবের আদর পেতেই সে মলিন হয়ে পরে। লিওনিডাকে আদর করে দিতে দিতে সে আনাস্তাসিয়ার উদ্দেশ্য করে বলে,
__" ব্লাড রোজ, লিওনিডা আজ থেকে এখানে আমাদের সাথে থাকবে"।
আনাস্তাসিয়া এবার সোজা হয়ে জিজ্ঞেস করে,
__" কেন"?
__" কেন মানে আমি তোমার সাথে এখানে থাকি তাই তার দেখভাল করার জন্য কেউ নেই তাই তাকে আমি আমার সাথে এখানে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তোমার কোন আপত্তি নেই তো"।
__" কিন্তু আমাদের এখানে আপাতত কোনো পোষাপ্রাণীর জন্য রুম খালি নেই, চাইলে অন্য প্রাণীদের সাথে থাকতে পারে"।
আমান এর কথা শুনে আদ্রিয়ান একটু ভেবে বলে,
__" স্কারফেজ তো একা থাকে তার সাথে লিওনিডাকে রাখলে তো কোন প্রব্লেম নেই"।
__" তা ঠিক কিন্তু......
আমান এর কথা সম্পুর্ন করার আগেই আনাস্তাসিয়া নাকোচ করে বলে,
__" একদম না, আমি আমার স্কারফেজ এর সাথে কোন মেয়েকে রাখব না"।
আদ্রিয়ান ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,
__" কেন, তোমার স্কারফেজ এর সাথে আমার লিওনিডাকে রাখলে কি হয়"।
__" না আমি চাইনা আমার ছেলের সাথে কোন মেয়ে থাকুক"।
আদ্রিয়ান কিছু বলতে যাবে তার আগেই লেনি বলে উঠে,
__" ম্যাম এরাতো মানুষ নয় পোষাপ্রাণী তাহলে একসাথে থাকলে ক্ষতি কি"।
__" ঠিক বলেছে লেনি, লিওনিডা আমাদের স্কারফেজ এর সাথেই থাকবে"।
আমান এর কথা শুনে আনাস্তাসিয়া একটু ভেবে রাজি হয়ে বলে,
__" ঠিক আছে তাহলে ওদের নিয়ে যাও, আর স্কারফেজ কে গোসল করিয়ে দিয়ে ওর শরীর নোংরা হয়ে আছে"।
আমান একজন গার্ড কে ইশারা করে স্কারফেজ আর লিওনিডাকে নিয়ে যেতে বলে। তার পর তাঁরাও একে একে ভবনের ভেতরে ঢুকে যে যার রুমে চলে যায়। আনাস্তাসিয়া রুমে ঢুকে কোন দিকে না তাকিয়ে সোজা ওয়াশরুমে চলে যায়। তারপর দীর্ঘ সময় ধরে লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে নাইট ড্রেস pj সেট পরে বেরিয়ে আসে। বেরিয়ে এসে সামনে তাকাতেই ভ্রু কুঁচকে গেল তার। আদ্রিয়ান বিছানায় বসে আছে তার পাশেই একটা বাটি রাখা। আনাস্তাসিয়াকে বেরিয়ে আসতে দেখে আদ্রিয়ান তাকে ইশারায় কাছে ঢাকতে ঢাকতে বলে,
__" আমার কাছে আসো আর ঔষধ টা খেয়ে নাও"।
আনাস্তাসিয়া ভ্রু কুঁচকে বাধ্য মেয়ের মত কাছে আসতে আসতে বলে,
__" কিসের ঔষধ"।
আনাস্তাসিয়া কাছে আসতেই আদ্রিয়ান তার দুই হাত নিজের এক হাতের মাঝে নিয়ে আরেক হাত দিয়ে বাটিটা তার সামনে ধরে বলে,
__" এটা আয়ুর্বেদিক ঔষধ খেয়ে নাও তাড়াতাড়ি তাহলে তোমার মাথা ব্যথা কমে যাবে"।
আনাস্তাসিয়া একবার বাটির দিকে তাকিয়ে নাক সিঁটকিয়ে বলে,
__" উহু আমি খাবো না, ছিঃ কি বিশ্রী গন্ধ আর কি বাজে দেখতে"।
আদ্রিয়ান এক ভ্রু কুঁচকে বলে,
__" খাবে না মানে, তুমি জানো এটার শরীরের জন্য কত অপকারিতা আছে, এটা খেলে তুমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে আর আয়ুর্বেদিক ঔষধ এরকমি দেখতে হয়, এবার লক্ষী মেয়ের মতো খেয়ে নাও"।
__" না আমি খাবো না তুমি খাও"।
আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়ার হাত ধরে টেনে নিজের উরুর উপর বসিয়ে একহাতে জড়িয়ে ধরে আদুরে কন্ঠে বলে,
__" আমার লক্ষী বউ আমার সোনা বউ আমার জান দেখো এমন যেদ করে না আমার সোনা বউ জানটা লক্ষী মেয়ের মতো খেয়ে নাও"।
আনাস্তাসিয়া এবার অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে বলে,
__" না.....
আদ্রিয়ান তার দিকে তাকিয়ে কপাল কুঁচকে বলে।
__" খাবে না"।
__"না"।
__"সত্যিই খাবে না"।
__" বললাম তো খাবো না"।
__" ভেবে বলছো তো পরে কিন্তু আমাকে কিছু বলতে পারবে না"।
আনাস্তাসিয়া এবার ভ্রু কুঁচকে আদ্রিয়ান এর দিকে তাকিয়ে জেদি কন্ঠে বলে,
__" আর কতো বার বলবো খাবো না....... উমমম"।
আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়ার কথার মাঝেই তার গাল চেপে ধরে বাটির সবটুকু ঔষধ তার মুখে ঢেলে দিয়ে, তার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট পুরে দেয়। যার ফলে আনাস্তাসিয়া মুখের ঔষধ গুলো ফেলতে না পেরে বাধ্য হয়ে গিলে ফেলে। তবুও আদ্রিয়ান তাকে ছাড়ে না দীর্ঘ এক চুমু খেয়ে তার পর ছেঁড়ে দেয়। আনাস্তাসিয়া ছাড়া পেতেই বমি করার মতো করে ওঠে,
__" "ওয়াক..ওয়াক...থুথু কি বিশ্রী ওয়াক....
আনাস্তাসিয়া কান্ড দেখে আদ্রিয়ান শব্দ করে হেসে ফেললো। আদ্রিয়ানকে হাসতে দেখে আনাস্তাসিয়া রাগি দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাতেই থমকে গেল। কি সুন্দর করে আদ্রিয়ান হাসছে, সে কখনো ভাবতে পারেনি ছেলেদের হাঁসি ও কখনো এতো সুন্দর হতে পারে। আদ্রিয়ান এর হাসিটা ছিল অদ্ভুত সুন্দর—একেবারে স্বতঃস্ফূর্ত, উষ্ণ আর প্রাণবন্ত। সেই হাসিতে ছিল এক ধরনের নিষ্পাপ আন্তরিকতা, যা মুহূর্তেই চারপাশের সবকিছুকে যেন ম্লান করে দিল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠা হাসি আর চোখের মৃদু ঝিলিক এমন এক আকর্ষণ তৈরি করেছিল, যা থেকে চোখ ফেরানো কঠিন। সেই একটুকরো হাসিই যেন সময়কে কয়েক মুহূর্তের জন্য থামিয়ে দিয়েছিল। আনাস্তাসিয়া যেন কখনো কাওকে এতো সুন্দর করে হাসতে দেখে নি। ছেলেরা হাসলে এতো সুন্দর লাগে তাদের সেটাও তার জানা ছিল না। আদ্রিয়ানকে না দেখলে হয়তো কখনো জানতে ও পারতো না। মূহুর্তে তার রাগ গলে জল হয়ে গেল। আদ্রিয়ান নিজের হাঁসি থামিয়ে আনাস্তাসিয়ার গালে চুমু দিয়ে বলে,
__" ঘুমাবে চলো, তোমার রেস্টের প্রয়োজন"।
আনাস্তাসিয়া তার দিকে তাকিয়ে থেকেই মাথা নেড়ে সম্মতি দিল। আদ্রিয়ান তাকে কোলে করে নিয়ে বিছানায় নিয়ে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুজনে ঘুমের দেশে পাড়ি জমায়।
______________>>>>>>>>>>>____________
রাত তখন প্রায় এগারোটা ছুঁই ছুঁই। লেনি নিচ তলার করিডোর দিয়ে এথেরিয়ন এর রুমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সকালের দিকে এথেরিয়নের শরীরটা হাল্কা খারাপ ছিল, কিন্তু সারাদিনের ব্যস্ততায় আর তার সাথে দেখা হয়নি না কোন খোঁজ নিতে পেরেছে। তাই সে এথেরিয়নের খোঁজ নিতে তার রুমের দিকে যেতে লাগল। রুমের দরজার সামনে এসে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলো। ভাবল এখন দরজায় নক করা ঠিক হবে কি না। যদি সে ঘুমিয়ে পড়ে? একবার সে ভাবলো ফিরে যাবে, তার পর ভাবল এসে যখন গিয়েছে একবার দেখে যাক। অতঃপর দরজায় নক করার জন্য হাত রাখতেই ভ্রু কুঁচকে গেল। দরজা ভিজিয়ে রেখে ঘুমিয়েছে এথেরিয়ন। সে নিঃশব্দে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে দরজা ভিজিয়ে দেয়। ভেতরে ঢুকতেই দেখতে পেল পুরো রুম অন্ধকার। সে অন্ধকারের মাঝেই হেঁটে বেডের কাছে গিয়ে টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে দিল। টেবিল ল্যাম্প এর আলোয় পুরো রুম হাল্কা আলোকিত হয়ে উঠে। লেনি ঘাড় ঘুরিয়ে বিছানার দিকে তাকাতেই দেখল এথেরিয়ন কম্বল মুড়ি দিয়ে বিছানায় শুয়ে আছে। লেনি বিছানার পাশে বসে এথেরিয়ন এর কপালে হাত ছুয়াতেই চমকে যায়। এথেরিয়নের গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। সে উঠে থার্মোমিটার খুঁজে এনে এথেরিয়ন এর জ্বর চেক করতেই দেখলে তার ১০৩° জ্বর উঠছে। লেনি থার্মোমিটার মেখে একটি বাটিতে করে পানি আর একটি রুমাল নিয়ে আসলো। তারপর বিছানার এক কোণে এথেরিয়নের মাথার কাছে বসে পানিতে রুমাল ভিজিয়ে তার মাথায় জল পট্টি দিয়ে দিতে লাগলো।
__"জানো, তোমাকে এভাবে অসুস্থ দেখে আমার বুকটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে। ইচ্ছে করছে তোমার সব কষ্ট আমি নিজের কাছে নিয়ে নিই, আর তোমাকে শুধু হাসতে দেখি"।
কিছুক্ষণ পর আবার বললো,
__"তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠো। আমি আবার তোমার সেই সুন্দর হাসিটা দেখতে চাই। প্রতিশ্রুতি দাও, আমাকে এভাবে আর ভয় পাইয়ে দেবে না। তোমার হাতটা শক্ত করে ধরে সারাজীবন পাশে থাকতে চাই—সুখে, দুঃখে, অসুখে, সব সময়।"
তার পর নিরবে কেটে গেল কিছু সময়। হঠাৎ এথেরিয়ন জ্বরের ঘোরে বিড়বিড় করে কিছু বলতে লাগলো। লেনি ভ্রু কুঁচকে হাল্কা মাথা ঝুঁকিয়ে তার কথা শুনার চেষ্টা করল।
__"তুমি এসেছো...? আমি জানতাম তুমি আসবে..."
লেনি মাথা উঠিয়ে মলিন স্বরে বলে,
__" আমাকে যে আসতেই হতো আপনার কাছে, আমার আপনার কাছে না এসে উপায় আছে"।
__" জানো তোমাকে অনেক কথা বলার ছিল... যদি ভুলে যাই..."
__"তুমি জানো... আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি... হয়তো কখনো বলতেই পারিনি রেড মুন..."
কথাটি শুনে লেনির মন খারাপ হয়ে গেল, নিজের ভালোবাসার মানুষের মুখে অন্য কারোর জন্য ভালোবাসার কথা শুনা সত্যিই বিষাদময়। এভাবে কিছুক্ষণ জল পট্টি দেওয়ার পর কপালে হাত দিয়ে দেখলো জ্বর কমে এসেছে। তাই সে কিছুক্ষণ এথেরিয়নের দিকে তাকিয়ে থেকে মন ভরে দেখে নিল একবার ঘুমন্ত এথেরিয়নকে। আদেও কি তার মন ভরেছে? উহু সারা জীবন এই মানুষটাকে এভাবে দেখে গেলেও তার মন ভরবে না। অতঃপর সে উঠে দাড়িয়ে চলে যাওয়ার জন্য এক পা বাড়াতেই আচমকা এথেরিয়ন তার হাত টেনে ধরে বলে উঠল,
__"যেও না... আর একটু থাকো... তোমার হাতটা ছেড়ো না..."
লেনি ঘাড় ঘুরিয়ে তার দিকে তাকালো। এথেরিয়ন আবার বললো,
__"এত দূরে দাঁড়িয়ে আছো কেন... কাছে এসো না..."
লেনি এটি ভাবে দাড়িয়ে থাকতেই এথেরিয়ন আবার বললো,
__"আমাকে ছেড়ে যেও না... প্লিজ..."
লেনি এবার তার পাশে বসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,
__"এতো আমি,জাবোনা আপনাকে ছেড়ে, কখনো না"।
এথেরিয়নের কি হলো কে জানে সে ঘুমের মধ্যেই মুচকি হেসে বলে,
__"ঘুমিয়ে পড়ো না... না, আমিই ঘুমিয়ে যাচ্ছি... কিন্তু তুমি থেকো... পাশে থেকো..."
__" থাকবো তো আমি সারা জীবন আপনার পাশে থাকবো কখনো ছেড়ে যাবো না"।
কথাটি বলেই তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল মুচকি হাসলো।ঘুমন্ত মুখটার দিকে চুপচাপ তাকিয়ে বসে আছে সে। কত শান্ত, কত নির্ভার লাগছে তাকে। অথচ এই শান্ত মুখটার পেছনেই লুকিয়ে আছে এক অসমাপ্ত গল্প—যেখানে কেউ কাউকে পায়নি।
সে জানে, যাকে সে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, সে অন্য কাউকে ভালোবাসে। আর সেই মানুষটিও নিজের ভালোবাসাকে পায়নি। যেন দুজনের ভাগ্যেই লেখা ছিল অপূর্ণতার গল্প।
তবু তার মনে কোনো রাগ নেই, কোনো অভিযোগ নেই। শুধু এক বুক নীরব কষ্ট। মনে হচ্ছে, যদি পারত, এই মানুষটার সব দুঃখ নিজের বুকে তুলে নিত। যদি পারত, তার চোখের সব অশ্রু মুছে দিয়ে অন্তত একবার সত্যিকারের হাসি উপহার দিত।
ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে সে শুধু মৃদু হেসে মনে মনে বলে, "তোমাকে না পেলেও তোমার শান্তিটুকু যেন কখনো হারিয়ে না যায়। আমার ভালোবাসা হয়তো তোমার জীবনের অংশ হলো না, কিন্তু তোমার ভালো থাকা আজও আমার সবচেয়ে বড় প্রার্থনা।"
কিছু ভালোবাসা একসঙ্গে থাকার জন্য জন্মায় না। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে পাশে বসে, দূর থেকে ভালো থাকার প্রার্থনা করার জন্যই বেঁচে থাকে।
এভাবেই কেটে যেতে থাকে সারাটা রাত, কখন যে লেনি এথেরিয়নের হাত ধরে ঘুমিয়ে পড়ে সে নিজেও জানে না। একটি অন্ধকার ঘরে একসাথে কাটিয়ে দিল দুটো ভিন্ন মানুষ কিন্তু তাদের মনের ভেতরের কষ্ট একি, না পাওয়ার কষ্ট।
(চলবে....)
[ যারা অশ্লীলতা মুক্ত উপন্যাস পড়তে চান তাঁরা আমার লেখা নতুন উপন্যাসটা " অপূর্ণার শেষ পঙুক্তি উপন্যাসটা পড়তে পারেন]