#প্রেম_আমার♥
#পার্ট-০৬♥
#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥
🍁
অগ্নি কিছুক্ষণ চুপ করে নীবিড়কে পর্যবেক্ষণ করলো। অতঃপর বিকট শব্দে হুহা করে হেসে উঠলো সে। যা দেখে নীবিড় দাঁত কটমট করে অগ্নির দিকে তাকালো। কিন্তু তাতেও তার কোনো হেলদোল নেই, সে তো হেসেই যাচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউ ওকে লাফিং গ্যাস খাইয়ে দিয়েছে।
- ওই শালা, তোর হাসা বন্ধ করবি?
- আরে ব্যাটা, এতোদিন পর তোকে এরকম একটা পরিস্থিতিতে দেখেও কিভাবে হাসি আটকাবো বল? হাসতে দে ভাই!
পেটে হাত চেপে হাসতে হাসতেই বলে উঠল অগ্নি।
- অগ্নি! বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে। আশাপাশে দেখ সবাই তোকে আর আমাকে কিভাবে দেখছে।
অগ্নি হাসতে হাসতে মাঠে শুয়ে একপ্রকার গড়াগড়ি খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। কোনোরকমে নিজের হাসি চাপিয়ে রেখে বলে উঠলো সে,
- আরে এ আর নতুন কি? ভার্সিটিতে তোকে আর আমাকে ছাড়া কেউ কাউকে দেখে নাকি? চিল না! এতো চাপ নিস না। এখন বল কুকুরটার সাথে কি কাবাডি খেলতেছিলি? কাবাডি কাবাডি কাবাডি!
- চুপ কর শালা! তোর কি আমাকে বলদ মনে হয়? তোর জন্যই তো তাড়াতাড়ি আসতে হলো আর এই তাড়াতাড়ি আসাটাই আমার শনি হয়ে দাঁড়ালো! না জলদি আসতাম আর না ওই মেয়েটার সাথে বাইকে ধাক্কা লাগতো আর না কুকুর তাড়া করতো! উফফফ!
কপালে আঙুল ঘষতে ঘষতে বলল সে।
- মেয়ে? কোন মেয়ে রে? একটা মেয়ের জন্য সাদমান শাহরিয়ার নীবিড় কে কুকুরের তাড়া খেতে হলো! ওয়াও! মেয়ে টাকে পাইলে একটা থ্যাংকস দিবো দোস্ত!
- শালা তোকে তো আমি.......!
বলেই অগ্নিকে ধরতে গেল নীবিড়। আর তা দেখে অগ্নি বসা থেকে উঠে এক দৌড়ে পগারপার। নীবিড় অগ্নির পেছনে ছুটছে আর অগ্নি ভেংচি কেটে সামনে দৌড়ে চলেছে।
ওদের এভাবে দেখে কিছু মেয়ে কানাঘুষো শুরু করে দিয়েছে,
- এই এই দেখ ডগি টা তো গেল এবার এক ক্রাশ আরেক ক্রাশের পেছনে ছুটছে। (মেয়ে-১)
- ইশশ! এরা এতো কিউট কেনো রে? উফফ! যদি মেয়েদের দুটো বিয়ে করা যেত তাহলে আমি নীবিড় আর অগ্নি দুজনকেই বিয়ে করে নিতাম! (মেয়ে-২)
- বললেই হলো? ওরা আদৌ কোনো মেয়ের দিকে তাকায় নাকি? দুটোই মনে হয় মেয়ে দেখলে ঘাসে মুখ দিয়ে চলে। একটু দেখেও না! দেখলে আমার প্রেমে পড়তই! আম শিউর! (মেয়ে-৩)
এরকম আরোও নানান কথাবার্তা বলে চলল মেয়েরা।
🍂
এদিকে আমি পা টিপেটিপে মাঠে নেমে রাত্রিকে খুঁজে চলেছি,
- রাত্রি? এই রাত্রি.? কোথায় লুকোলি বলতো? বেড়িয়ে আয় কুত্তা চলে গেছে তো!
আমার ডাক শুনে রাত্রি গেইটের পাশের পিলারটার পেছন থেকে বেড়িয়ে এক দৌড়ে আমার কাছে এসে থামলো।
- অনন্যা রে, কি করলি এটা বলতো? শেষ মেশ নীবিড় ভাইয়াকে কুকুরের তাড়া খাওয়ালি? ভেবে দেখেছিস তোকে পেলে নীবিড় ভাইয়া কি করবে? পুরা কাচ্চা চাবায় গিলে ফেলবে।
ভয়ে ভয়ে বলল রাত্রি।
- আমার কি দোষ বলতো? কুকুরটাকে ওভাবে চেঁচাতে কে বলেছিল? তাহলে তো আর আমি লাফ মেরে ছুট লাগাতাম না। হুহ!
- হ্যাঁ এখন নিজের দোষ ঢাকতে বেচারা কুকুরটাকে দোষী বানা! ফাজিল মাইয়া! না তুই দৌড় মারতি আর না কুকুরটা তোক ধরতে না পেরে নীবিড় ভাইয়াকে সামনে পেয়ে তাড়া করতো। এখন যে কি হবে আল্লাহ মালুম।
- আরে কিচ্ছু হবে না! তুই এতো ভ...ভ..ভয় পাস কেন বলতো? চিল মার না! আমরা ওই সাদা বিলাইয়ের সামনে যাবোই না। লুকায় লুকায় চলে যাবো।
- ভয় কি আমি পাচ্ছি? না তুই? উফফফ তোকে নিয়ে আমি আর পারি! না চল তো এখন। ক্লাসের টাইম পার হয়ে যাচ্ছে!
🍁
ক্লাস শেষে চুপিচুপি বের হয়ে চোখ এদিক থেকে ওদিক ঘুরাচ্ছি। আই মিন সাদা বিলাইটাকে খুঁজে চলেছি। চোখের সীমানা যতদূর ততোদূর উনাকে পেলাম না।
- এই রাত্রি, আয় রাস্তা ক্লিয়ার। (ফিসফিসিয়ে)
রাত্রি একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে পা টিপে টিপে আমার সাথে ভার্সিটি থেকে বের হয়ে গেল। ভার্সিটি থেকে বের হয়ে একটা বিজয়ের হাসি হাসলাম আমি।
- আরে বাহ আনানয়্যা! তেরা তো কোই জাওয়াব হি নেহি হ্যায়! আই আ্যাম সো প্রাউড অফ ইউ!
সামনের চুলগুলো হাত দিয়ে পেছনে সড়িয়ে বলে উঠলাম।
- অনু! অনু রে..!
- আরে তোর আবার কি হলো?
- আমার দিকে না তাকিয়ে, সা...সা সামনের দিকে তাকা!
- কি আছে সামনে হ্যাঁ?
বলেই মাথা ঘুরিয়ে সামনের দিকে তাকানো মাত্র দেখি নীবিড় ভাইয়া ফোনে মুখ গুঁজে স্টলের সিটে বসে রয়েছেন। যা দেখে আমি মুখ দিয়ে বলে উঠলাম, "খাইছে রে, ভাগ মিলখা ভাগ, থুক্কু ভাগ অনন্যা ভাগ!"
বলেই রাত্রির হাত ধরে ব্যাথা পা নিয়েই উলটো দিকে হাটা দিলাম একটা রিক্সা পাওয়ার আশায়। কিন্তু ওই যে আমার কপাল! যা চাই তাহা আজীবনেও না পাই টাইপ! তাই তো আজ একটা রিক্সাও পাচ্ছিনা। শালার সব কটা রিক্সা মরে গেছে বোধহয়!
আর কয়েকধাপ দিতেই একটা গাড়ি আমাদের সামনে এসে থেকে যায়। গাড়িটা চিনতে অসুবিধা হলো না। গাড়ির কাচ নামিয়ে ভেতর থেকে কেউ বলে উঠলো,
- তাড়াতাড়ি উঠে পড় দুজনেই।
- আরে ভাইয়া তুই গাড়ি নিয়ে এলি কখন?
- ড্রাইভার আংকেল কে কল করে আসতে বলছিলাম। তোকে পৌঁছে দিয়ে আবার আসবো। ফ্রেন্ডরা মিলে একটা প্রজেক্টের কাজ করছি তাই।
আর বেশি কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ গাড়িতে উঠে পড়লাম দুজনে। রাত্রি পেছনে বসলো আর আমি ভাইয়াকে ড্রাইভার উপাধি দিতে চাই না বলে সামনে ভাইয়ার পাশে বসলাম। আচমকা গাড়ির দরজা বন্ধ করতে যেতে পায়ে যেখানে ব্যাথা পেয়েছিলাম সেখানে লেগে গেল। ব্যাথায় কুকিয়া "আহহহ" করে উঠলাম আমি।
- বোন কি হইছে পায়ে? ব্যাথা পেলি কি করে? এই রাত্রি ও পায়ে চোট পাইল কিভাবে?
রাত্রি কিছু বলতে যাবে তার আগেই আমি বলে উঠি,
- আরে ভাইয়া তেমন কিছু না। পায়ের নিচে ইট ছিলো, না দেখে হাটতে যেয়ে পরে গেছি।
- আহ! অনু তুই কবে বড় হবি বলতো? আমি তো আর সবসময় তোর সাথে সাথে থাকতে পারবো না। একটু দেখেশুনে চলবি তো? উফফফ! এমন বাদর একটা বোন থাকলে জীবনটাই ত্যানাত্যানা!
- কি আমি বাদর! তুই বান্দর, গুই সাপ, এনাগন্ডা, জলহস্তী, মিনি হাতি, কুমির...
আর বলতে না দিয়ে ভাইয়া নিজের হাত দিয়ে আমার মুখ চেপে ধরে বলে উঠলো,
- চুপ আর একটা কথাও না। অকাম করার সময় তো আর আপনার মনে থাকে না মহারাণী! এখন চুপ করে বসে থাক।
এই রাত্রি দেখোতো পেছনে ফার্স্ট এইড বক্স রাখা আছে। ওটা আমাকে দাও। (মাথা পেছনে ঘুরিয়ে)
রাত্রি বক্সটা ভাইয়ার দিকে এগিয়ে দিতেই ভাইয়া তাড়াতাড়ি করে বক্স খুলে স্যাভলন এন্টিসেপ্টিক আর ব্যান্ডেজ বের করে নিলো। অতঃপর খুব যত্নসহকারে ভাইয়া আমার পায়ের কাটা জায়গাটা পরিষ্কার করে মলম লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিতে লাগলো।
রাত্রি মুগ্ধ নয়নে অগ্নির দিকে চেয়ে আছে আর মিটিমিটি হাসছে। তার মতে অগ্নির মতো এতো কেয়ারিং আর কিউট ছেলে দ্বিতীয়টা হয়না। সে অগ্নির প্রতি মুগ্ধ। সে অনেক আগে থেকেই।
ব্যান্ডেজ করা হয়ে গেলে অগ্নি ফার্স্টএইড বক্সটা রাত্রির দিকে এগিয়ে দিয়ে ধরতে বলে। কিন্তু রাত্রিতো এখনও অন্য ভাবনায় ডুবে আছে। দু-তিনবার ডেকেও তার কোনো ভাবাবেগ হলো না তাই আমি পেছন ফিরে রাত্রির মাথায় একটা চাটি মেরে দিলাম। সাথে সাথেই রাত্রি হকচকিয়ে হুশে ফিরলো,
- কিরে? কোন ধান্দায় ডুবে আছিস? বক্সটা পাছনে রাখ!
রাত্রি তাড়াতাড়ি করে বক্সটা নিয়ে পেছনে রেখে মুখে ইনোসেন্ট মার্কা হাসি দিয়ে বলে উঠে,
- না রে কিছু না। বুঝতে পারিনি।
আমি আর কথা বাড়ালাম না। ভাইয়া চুলগুলো এক হাত দিয়ে ঠিক করে আরেক হাত দিয়ে সানগ্লাসটা পড়ে ড্রাইভ করতে লাগলো।
🍁
আজকে শুক্রবার,
ওয়ার্ক আউট করা হয়নি এই সপ্তাহে। কাল তো কোনোরকমে নীবিড় ভাইয়ার হাত থেকে বেচে গেছি আজও ভার্সিটি অফ। মজাই মজাই! আজকে উড়াধুরা ড্যান্স হবার দিন।
বর্তমানে অডিও স্পিকারে লাউড মিউজিক প্লে করে ওয়ার্ক আউট করছি আমি। পরনে একটা ব্লাক টি-শার্ট আর ব্লাক লেগিংস। মিউজিক লাউডে থাকায় বাইরের কোনো আওয়াজ ভেতরে আসবে না। শান্তিমতো ওয়ার্ক আউট করতে পারবো।
ওদিকে,
কেউ দরজায় বেল বাজানো মাত্রই অগ্নি দরজাটা ফট করে খুলে দিলো। আরে ব্যাটা আয় আয় জলদি বলেই টানতে টানতে মানুষটিকে ভেতরে ঢুকালো।
- আরে শালা এতো টানাটানি করিস না। আমার এতো স্ফট স্ফট বডি পার্টস খুলে যাবে।
- ইহহহ আইছে রে। খুইল্লা যাবে! হাহ! তুই বস আমি আম্মুকে ডাকি।
আম্মুউউ...আম্মুউউউউ... দেখো কে এসেছে।
অগ্নির মা কিচেন থেকে বের হয়ে নীবিড়কে দেখেই খুশিতে আত্মহারা হয়ে বলে উঠলেন,
- বাবুই তুই এসেছিস! আয় আয় আমার বুকে আয়। কতদিন তোকে দেখিনা!
- ও আমার সুইট কিউট মামুনি!
বলেই নীবিড় এক ছুটে আম্মুর কাছে গিয়ে আম্মুকে জড়িয়ে ধরে!
চলবে......................💗