#প্রেম_আমার♥
#পার্ট-১২♥
#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥
🌺
- শুনো মেয়ে তুমি আর আমাকে ডিস্টার্ব করবা না। ডু ইউ হ্যাভ এনি আইডিয়া কাল তোমার জন্য আমার বোনের কতো বড় সর্বনাশ হতে পারতো? লিসেন, এবার যদি তুমি আমাকে কল দাও অর এনি টাইপ অফ কমিউনিকেশন করার ট্রাই করো, দ্যান আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না।
- অগ্নি...প্লিজ আমার কথাটা একবার শুনো। (কান্না জড়িত কন্ঠে)
- নো ওয়ে। এন্ড নো মোর ওয়ার্ডস। জাস্ট স্টে ওয়ে ফ্রম মি। আল্লাহ হাফেজ!
বলেই অগ্নি ফোনটা কেটে নিজের চুল টেনে ছিঁড়তে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। ওদিকে নিত্য ভাবতেও পারেনি অগ্নিকে জোড় করে ডেকে নিয়ে গিয়ে সে এতো বড় একটা ভুল করে বসবে। নিত্যর এখন নিজের গালে নিজেকেই থাপ্পড় দিতে ইচ্ছে করছে। না জেনেই এতো বড় একটা ভুল হয়ে গেল। নিত্য অনন্যা কে সামনাসামনি না দেখলেও অগ্নির বোন হিসেবে অনেক স্নেহ করে। সবসময় অগ্নিকে জ্বালাতন করলেও অনন্যার খোঁজ-খবর ফাঁকেফাঁকে নেয় সে। তার জন্য অনন্যার কতো বড় একটা বিপদ হয়ে যেতে পারতো ভেবেই ঢুকরে কেঁদে উঠছে সে।
🍂
- এইযে সাদা বিলাই?
- হোয়াট ডু ইউ মিন বাই সাদা বিলাই?
- না মানে ওই দেখেন জানালায় একটা বিড়াল উঁকি মারছিলো। ওটাকেই সাদা বিলাই বলেছি। হেহে।
জোড়পূর্বক হাসার চেষ্টা করে বললাম আমি।
- তা মিস অনন্যা, আমি যেখানেই থাকি সেখানেই তোমার সাদা বিলাই চলে আসে। ব্যাপারটা অদ্ভুত না?
এক সাইডের ভ্রু উঁচু করে প্রশ্ন ছুড়লেন উনি।
আমি কিছুটা ভড়কে গেলাম। আসলেই আমার মুখের কোনো লাগাম নেই। উনাকে দেখলেই আমার পেট থেকে মুখে অটোমেটিক্যালি চলে আসে একটাই নাম, "সাদা বিলাই, সাদা বিলাই এন্ড সাদা বিলাই!"
- আসলে ভাইয়া, সাদা বিলাই লাভস ইউ টু মাচ! তাই আপনি যেখানে সাদা বিলাইও সেখানে তাই এরকম হয়। সাদা বিলাই আপনাকে ছাড়া থাকতেই পারে না। না না না।
আমার কথাটা শুনে নীবিড় ভাইয়ার মুখটা ঠিক দেখার মতো হয়েছে। উনি ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না উনার এক্সপ্রেশনটা ঠিক কি রকম হওয়া উচিৎ। উনি ভ্রু কুঁচকে কিছু একটা বলতে নিতেই ভাইয়া রুমে চলে আসে। আর উনার বলা হয়ে উঠেনা।
- কার ফোন ছিলো ভাইয়া?
- ফ্রেন্ডের রে। আচ্ছা তোরা আয় খেতে আম্মু ডাকে।
আমি ঠোট উলটে ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে দুহাত বাড়িয়ে বলে উঠলাম,
- ভাইয়া.? কোলে...!
ভাইয়া আমার কথা শুনে চোখ বড়বড় করে ফেললো। ভ্রু কুঁচকে বলে উঠলো,
- অনু তোর পায়ে ব্যাথা করছে?
নীবিড় ভাইয়াও আমার পায়ের দিকে ফিরে তাকালেন হয়তো বুঝতে চাইছেন কোথায় চোট পেয়েছি। আমি ওদের অবস্থা দেখে ফিক করে হেসে বলে উঠলাম,
- আরে পা দেখে লাভ নাই, পা একদম ঠিক আছে। আসলে কোলে উঠতে ইচ্ছে করছে। হিহি। ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত নিয়ে যা প্লিজ।
ভাইয়া আর নীবিড় ভাইয়া দুজনেই হেসে উঠলো আমার কথায়। ভাইয়া হাসতে হাসতে বলে উঠলো,
- এতো বড় হয়েছিস তাও তোর বাচ্চামো গেলো না। (নীবিড় ভাইয়ার দিকে ফিরে) বুঝলি নীবিড় এর মাথায় এখনো বুদ্ধির বিকাশই হয়নি তাতেই ভার্সিটিতে পড়ছে। ভাবা যায়?
নীবিড় ভাইয়া মুচকি হেসে ভাইকে ইশারা করলো আমাকে কোলে নিতে। ভাইয়া আমাকে কোলে উঠিয়ে হাটতে নিতেই থেমে গেল। ভাইয়া হয়তো গায়ে শক্তি পাচ্ছে না। পাবেই বা কি করে বেচারার এমনিতেই হাই প্রেশার। আমার জন্য অনেক টেনশনে ছিল তাই হয়তো প্রেশারটা বেড়েছে। নীবিড় ভাইয়া, ভাইয়ার অবস্থা বুঝতে পেরে বলে উঠলেন,
- অগ্নি শরীর খারাপ লাগলে ছেড়ে দে। পড়ে তুইও পড়বি সাথে বোনেরও কোমড় ভাঙবি।
আমিও সাদা বিলাইয়ের কথায় যথারীতি সম্মতি দিয়ে ভাইয়াকে বলে উঠলাম আমাকে নামিয়ে দিতে। কিন্তু ভাইয়ার জেদ সে আমাকে কোল থেকে নামাবে না। যাই হয়ে যাক না কেন ঠিক পারবে সামলাতে। ভাইয়া মনে মনে কষ্ট পাচ্ছে এই ভেবে কোনো না কোনো ভাবে সে দোষী।
নীবিড় ভাইয়া আমাদের কাছে এসে ভাইয়ার কোল থেকে আমাকে নিজের কোলে নিয়ে বলে উঠলো,
- অগ্নি তুই পায়ের দিকটা ধর, আমি সামনে ধরতেছি। দু ভাই মিলেই ওরে কোলে নিয়ে যাই।
আমি তো সাত আসমান থেকে ধপাস করে পড়ে গেলাম। হায় রে কি হচ্ছে! দুজন এক সাথে আমাকে কোলে নিচ্ছে।
অগ্নি ভাইয়া হেসে দিয়ে আমার হাটুর নিচে ধরে কোলে নিলো। এভাবেই দুজনেই আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। আর আমি আহাম্মকের মতো চেয়ে চেয়ে দেখছি দুজনকে। নীবিড় ভাইয়া ধরাতে কেনো যেন অন্যরকম একটা অনুভূতি হচ্ছে। হৃদপিন্ডটা খুব জোড়ে জোড়ে লাব ডাব লাব ডাব করে উঠছে।
আমাদের ৩ জনকে এভাবে সিঁড়ি থেকে নামতে দেখে আম্মু আব্বুর মুখ গোলগাপ্পার সাইজ ধারণ করলো নিমিষেই। এভাবে কিছুক্ষণ হা করে মশা মাছি খেয়ে তারা দুজনেই একসাথে হু হা করে হেসে উঠলো।
আম্মু হাসতে হাসতে আব্বুকে বলে উঠলো,
- দেখো দেখো ছেলে দুটোর কান্ড দেখো!
- হায়রে ও কি আটার বস্তা যে ওভাবে দুজনে মিলে কোলে করে আনছিস? (আব্বু)
আম্মু আব্বুর কথায় ঠোঁট ফুলিয়ে ভ্রু কুঁচকে মুখ ঘুরিয়ে নিলাম আমি। আমার মুখ ফোলানো দেখে যেনো সবার হাসিই দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ভাইয়া আর নীবিড় ভাইয়া আমাকে ডাইনিং টেবিলের চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে নিজেও বসে পড়লেন। আমার এক পাশে ভাইয়া আর এক পাশে নীবিড় ভাইয়া বসলেন। ভাব খানা এই আমি হলাম মেমসাহেব আর তারা আমার বডিগার্ড।
সবাই হেসে খেলেই ডিনার শেষ করে নিলাম। ভাইয়া খাওয়া শেষে প্রেশারের মেডিসিন নিয়ে নিলো।
- মামুনি আমি আসি তাহলে।
- বাবুই থেকে যা নাহয়।
- না মামুনি আজ না অন্য কখনও। আর অগ্নি, টাইম মতো ভার্সিটি আসবি। তোর সাথে কিছু হিসেব বাকি আছে।
বলেই ভাইয়ার মাথায় চাটি মেরে চলে গেলেন।
🍁
ফোনটা হাতে নিয়ে ওয়াইফাই কানেক্ট করলাম। উদ্দেশ্য সাদা বিলাইয়ের আইডি খুঁজে বের করা। কিন্তু কি অদ্ভুৎ সার্চ মেরে শুধু বিড়ালের ছবিই আসছে। ব্যাপারটা মাথায় ঢুকছে না আমার। একটু ভালো করে দেখতেই প্রমাণ পেলাম আমি কতো বড় উল্লুক! কি পরিমাণ গাধা, না না গাধা তো মেল জেন্ডার, আই মিন গাধী হলে আমি "সাদা বিলাই" লিখে সার্চ করি? জিহ্বায় একটা কামড় দিয়ে নিজেই নিজের মাথায় একটা চাটি মেরে "সাদমান শাহরিয়ার নীবিড়" লিখে সার্চ করলাম। প্রথমেই পেয়ে গেলাম কারণ ভাইয়ার সাথে মিউচুয়াল ছিল। প্রোফাইল পিকটা দেখে একটা বড়সড় ক্রাশ খেলাম। ছবিটায় ভাইয়া আর সাদা বিলাই দুজন দুজনের কাঁধে হাত দিয়ে ভুবন ভুলানো হাসি দিয়ে রেখেছে। কি মারাত্মক সেই হাসি। একটা মেয়েকে এই হাসি দিয়ে কি সাংঘাতিক ভাবেই না খুন করতে পারেন উনি। ক্যাপশনে দেওয়া আছে, "পাগলে তু মেরা ভাই হ্যায়!" ইশশ কি বন্ধুত্ব! কারো নজর না লাগে।
হঠাৎ কভার ফোটোর দিকে চোখ পড়তেই দেখি একটা মেয়ে ভেংচি কেটে রয়েছে আর সাদা বিলাই মেয়েটার গাল টেনে শয়তানি হাসি মুখে ঝুলিয়ে রেখেছেন। এটা দেখে আমার কেন জানি বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো। আর ঠিক তখনই কারেন্ট ঠাস করে চলে গেল আর ওয়াইফাইও অফ হয়ে গেল। আমি ফোন টা রেখে দিয়ে ঠোট উল্টে বসে রইলাম।আচ্ছা আমার এরকম ফিল হচ্ছে কেন? কিছুই ভালো লাগছেনা। এসব ভাবতে ভাবতেই বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে করতে একসময় চোখজোড়া বুজে ঘুমিয়ে পড়লাম আমি।
🍂
সকাল সকাল ভার্সিটি গিয়েই রাত্রির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। ওকে গতকালকের সব ঘটনা খুলে বলতেই বেচারী কান্না করা শুরু করে দিয়েছে। একটু পর পর হেচকি তুলতে তুলতে বলে উঠছে,
- অনু রে, সব আমার জন্য হলো। আমি আব্বুর সাথে কেনো গেলাম? আর আব্বুর সাথে তোকেও নিয়ে কেনো গেলাম না?
আমি গালে হাত দিয়ে ওর কান্না উপভোগ করছি। সত্যি বলতে আমার খারাপ লাগছেনা ব্যাপারটা। বেস্টু যখন ভ্যাতকান্দুরীর মতো কান্না করে এর থেকে মজার সিন বোধহয় আর দুটো হয় না। আমি বেশ কিছুক্ষণ ওকে কাঁদতে দিয়ে পরে বুঝিয়ে টুঝিয়ে থামালাম। আহারে বেচারী।
পরক্ষণে আমার সাদা বিলাইয়ের গার্ল ফ্রেন্ডের কথা মনে পড়ল, খুবই এক্সাইটমেন্ট নিয়ে একপ্রকার চেঁচিয়েই বলে উঠলাম,
- রাত্রি জানিস নীবিড় ভাইয়ার গফ আছে? অনেক সুন্দরী!
বাট দূর্ভাগ্য কথাটা শুধু রাত্রির কানে না, আমাদের আশেপাশে বসে থাকা কিছু মেয়েদের কানেও চলে গেছে। আর তা শুনেই তারা চোখ বড় বড় করে কানাঘুঁষো শুরু করে দিয়েছে। বেশ বুঝতে পারছি এখানে আর ১ সেকেন্ডও থাকা চলবে। না হলে মেয়েগুলো আমার ওপর ঝাপিয়ে পড়বে নির্ঘাত। পরিস্থিতি বুঝে রাত্রিকে চোখের ইশারায় উঠতে বললাম আমি। কিন্তু ও পাল্টা ইশারা করে জিজ্ঞেস করলো "কেনো?" আমি আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে রাত্রিকে একটা জোড়ে চিমটি কেটে ভো দৌড় দিলাম। সাথে সাথে মেয়েগুলো পেছন থেকে "এই আপু দাড়াও, এই মেয়ে" বলে চিৎকার করা শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু তাতে কি? আমার পায়ের স্পিড তো আরও বেড়েই চলেছে। আমাকে পালাতে দেখে রাত্রিও আমার পেছনে ছুট লাগালো। এদিকে আমি আল্লাহ আল্লাহ করে যাচ্ছি যাতে আমি এই নিউজের প্রচারক তা গুণাক্ষরেও কেউ টের না পায়। নাহলে স্বয়ং শনি গ্রহ এসে হাল্লা বোল করবে আমার কপালে।
চলবে........................❤