ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

১৩তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-১৩♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

🍁

- আম্মুউউউ আমার কোমড়টা গেল গো! আমি এই বয়সেই কোমড় ভাঙ্গা হতে চাইনা আম্মুউউ! উহু উহু!

- এই মেয়ে দেখে শুনে চলতে পারোনা? হুট হাট করে ঝড়ের মতো এসে আমার সাথেই কেন ধাক্কা খেতে হয় তোমার? চোখ কি পকেটে খুলে রাখো নাকি?

সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষটার ধমক খেয়ে আমার বুকটা ধুক করে উঠলো। পেছন ঘুরে দৌড়োতে গিয়ে কারো সাথে ধাক্কা লেগে এতোক্ষণ কোমড়ের ব্যাথায় চোখ বন্ধ রেখেই কান্না করে যাচ্ছিলাম। কার সাথে ধাক্কা খেয়েছি তাও দেখিনি। ওরে রে অনন্যারে! তোর ফাটা কপালে শুধু সাদা বিলাই'ই ঘুরঘুর করে রে!

আমি চোখ পিটপিট করে খুলে উপরে তাকাতেই দেখি উনি ভাবলেশহীন ভাবে পকেটে হাত গুঁজে আছেন। যেনো আমি পড়ে গেছি তাতে তার কোনো যায়ই আসে না। আর আসার কথাও না। এতো সুন্দর গার্লফেন্ড থাকতে আমার ওপর দরদ দেখাবে নাকি?এমা ছিঃ ছিঃ আমি আমার সাথে আর কারো তুলনা করছি কেনো?

এসব বসে ভাবতে ভাবতেই আরেক ধমক।

- এখনোও বসে আছো কেনো? স্টান্ড আপ। কুইক!

আমার কোমড়ে ব্যথা করছে ভীষণ। সাথে পায়েও চোট লাগছে। এই মানুষটা কি বুঝতে পারছেনা? অন্য কেউ হলে এতোক্ষণে কোলে করে উঠিয়ে নিতো।

আমি অসহায় ফেইস বানিয়ে ঠোঁট উল্টে উনাকে বললাম,

- ব্যাথা পাইছি, উঠতে পারছিনা।

ঠিক তখনই রাত্রি হাঁপাতে হাঁপাতে আমাদের কাছে এসে দাঁড়িয়ে পড়লো।

- এই তুই পড়ে গেলি কিভাবে?

আমি হাতের ইশারায় সাদা বিলাইয়ের দিকে দেখিয়ে দিলাম যার মানে আমি এই লম্বু সাদা পিলারের সাথে ধাক্কা খেয়েছি।

রাত্রি আমার ইশারায় নীবিড় ভাইয়ার দিকে এক নজর তাকিয়ে একটা জোড়পূর্বক হাসি দিয়ে আমাকে টেনে তুলতে উদ্দ্যত হওয়া মাত্রই আরেক ধমক।

- খবরধার ওকে তুলবে না। ও নিজে থেকেই উঠুক। সব সময় অন্যের ওপর ডিপেন্ডেড হওয়া ঠিক নয় এটা ওর বোঝ উচিৎ।

রাত্রি উনার ধমক খেয়ে চুপসে গেল। ভয়ে ভয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,

- অনু সোনা, উঠ। বেশি লাগেনি তো।

এখন নিজেকে একটা ছন্নছাড়া বেড়ালের থেকে কম কিছু মনে হচ্ছে না আমার। কি অবস্থা! এতো খারাপ দিনও আসবে আমার? ভার্সিটির সবাই আমাকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখে হাসাহাসি শুরু করে দিয়েছে। ছিঃ! কি একটা অবস্থা! ব্যাথা পা আর কোমড় নিয়ে শেষ মেশ নিজেকেই উঠতে হলো। আমাকে উঠতে দেখে উনি বাঁকা হেসে রাত্রিকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন,

- হেই রাত্রি সি হার, একাই উঠতে পারলো অথচ এতক্ষণ ড্রামা করছিলো। হাহ!

(আমার দিকে তাকিয়ে) এন্ড ইউ, ফার্দার এসব ন্যাকামো আমার সাথে করতে এসো না। অগ্নির বোন বলে যে তোমার সাত খুন মাফ করে দেব তা ভেবো না।

বলেই উলটো দিকে হাটা দিলেন উনি। এদিকে আমার মেজাজ হাই লেভেলে উঠে গিয়েছে। কি ভাবেন টা কি উনি নিজেকে? লাটসাহেব? যত্তসব! আর রাত্রিও উনার ভয়ে আমাকে তুললো না। হাও কুড শি? আমি রেগেমেগে রাত্রিকে চোখ রাঙিয়ে ক্লাসের দিকে হাটা ধরলাম। রাত্রি আমার কাছে এসে আমাকে ধরতে নিলেই এক হাত দিয়ে বাঁধা দিয়ে বলে উঠলাম,

- যখন প্রয়োজন ছিল তখন তো ধরিস নি। এখন আলগা পিরিত দেখাতে হবে না। দূরে যা।

বলেই ধীর পায়ে হেটে হেটে ক্লাসে গেলাম। রাত্রি পেছন পেছন আসে ন। হয়তো হার্ট হয়েছে অনেক। আমি পেছন ফিরে তাকালে হয়তো আগের জায়গাতেই ঠাঁয় দাঁড়িয়ে ওর অশ্রু মাখা চোখ দেখতে পেতাম। কিন্তু দেখিনি। ওর ও একটা শিক্ষা পাওয়া উচিৎ। নীবিড় ভাইয়ার ভয়ে আমাকে উপেক্ষা করেছে ও। এতো সহজে কি করে মাফ করে দেবো?

ক্লাসগুলো কোনোরকমে শেষ করলাম। স্যার বেড়িয়ে যাওয়া মাত্রই ক্লাসে একটা গোল মিটিং বসে গেলো, যার মেইন আলোচনার বিষয় হলো "নীবিড় ভাইয়ার গার্লফ্রেন্ড"।

একটু ভালো করে শুনেই বুঝতে পারলাম এখানে শুধু ক্লাসের স্টুডেন্টস না, পুরো ভার্সিটি জুড়েই গতো ২ ঘন্টার মধ্যে নিউজটা ছড়িয়ে গিয়েছে। আর এদিকে আমি ঘামা শুরু করে দিয়েছি। কেউ জানুক বা না জানুক আমি সহ ওই মেয়েগুলো তো জানে এই নিউজের প্রচারক আমি।

আর এটাও বেশ বুঝতে পারছি যে ভার্সিটির কেউই তার গার্লফ্রেন্ড সম্পর্কে অবগত ছিলো না। কিন্তু উনি তো ফেসবুকে ছবি পর্যন্ত দিয়ে রেখেছে তাহলে এরা কেউই জানে না কেনো? হুয়াই?

🍁

লুকিয়ে লুকিয়ে ক্যাম্পাসের একটা কোণায় পাইচারী করছি। উদ্দেশ্য সাদা বিলাইয়ের থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখা। তার সামনে ধরা পড়া চলবে না কোনো মতেই। অনেকক্ষণ যাবৎ উঁকিঝুঁকি মেরেও সাদা বিলাইকে দেখতে না পেয়ে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পা বাড়ালাম।

কিন্তু হুট করে ঝড়ের গতিতে কেউ আমার মুখ চেপে ধরে একটা ফাঁকা রুমে নিয়ে গেল। আমি ছোটাছুটির ব্যর্থ চেষ্টা চালাতে লাগলাম কিন্তু কোনো লাভ হলো না। মানুষটা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো। রুমটায় কি বিদঘুটে অন্ধকার। কিছু দেখবার জো নেই। জানালা গুলোও বন্ধ। আমি কাঁপাকাঁপা গলায় অচেনা মানুষটিকে বলে উঠলাম,

- কে...কে....কে আপনি? আ...আমাকে এখানে এনে দরজা লাগিয়েছেন কেনো? আমাকে যেতে দিন।

লোকটা কোনো জবাব দিলো না। উনাকে দেখতে না পারলেও বেশ বুঝতে পারছি উনি আমার দিকে ঝুঁকে রয়েছে।। উনার গরম নিঃশ্বাস সোজা আমার গলায় পড়ছে। আমি সরে আসতে নিলে লোকটা আমার দু বাহু শক্ত করে চেপে ধরে। আমি ভয়ে আঁতকে উঠে নিজেকে ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।

- দে...দে...দেখুন আমাকে ছেড়ে দিন। কি...করেছি আমি? আমাকে এভাবে এখানে এনেছেন কেন? দূরে যান। প্লিজ আমি বাসায় যাবো।

এবার লোকটা মুখ খুললো আমার বাহু ঝাঁকিয়ে একপ্রকার চেঁচিয়েই বলে উঠলো,

- কি করেছো? কি করোনি তাই বলো। প্রবলেম কি তোমার হ্যাঁ? আমার গার্লফ্রেন্ড কোথা থেকে বানালে তুমি?

উনার ভয়েজ শুনে আমি ক্লিয়ার উনি সাদা বিলাই ছাড়া আর কেউ নন। ভয়ে আমার প্রাণপাখি যেনো উড়ে দৌড় দিবে এমন অবস্থা। আচ্ছা উনি কি করে জানলো যে আমি এই কথাটা ফাটাইছি? আমি তা জানার জন্য আমতা আমতা করে উনাকে বলে উঠলাম,

- আ..আ...আপনার গফ আছে শুনে আমিও সারপ্রাইজড হয়েছি ভাইয়া! কিন্তু আপনি আমাকে কেনো আস্ক করছেন?

- এই নিজেকে খুব চালাক মনে করো তাইনা? তুমি কি ভাবলে তুমি আমার ব্যাপারে যা নয় তা ফাটায় বেড়াবা আর আমি জানবো না? তাছাড়া তোমার মতো একটা আহাম্মক ছাড়া কে আছে যে আমার গার্লফ্রেন্ড বানিয়ে দিবে?

- মা...মানে...? আপনি তো নিজেই ফেবুতে কভার আপ দিছেন আপনার গফের সাথে।

উনি এবার প্রচন্ডে রেগে আমার পাশের দেয়ালে স্বজোড়ে ঘুষি মারলেন। যাতে আমি ভয়ে কেঁপে উঠলাম। এই বুঝি কান্না করে দেবো এমন অবস্থা।

- এই মেয়ে তুমি কভার পিক দেখলা আর ক্যাপশনটা দেখলা না? হাউ কুড ইউ? এতোটা ফুল কেউ হতে পারে? আরে ওটা বোন আমার, নিত্য। বোনকে শেষমেশ গার্লফেন্ড বানিয়ে দিলে? ইউ স্টুপিড! (চেঁচিয়ে)

- মা..মা...মানে? ওটা আপনার বোন ছিলো? আস্তাগফিরুল্লাহ! নাউজুবিল্লাহ! হায় আল্লাহ! সরি সরি গালতি সে মিসটেক হো গেয়া!

- সরি? হোয়াট সরি? জানে ভার্সিটিতে তোমার এই ফাউল নিউজে হাংগামা শুরু হয়ে গিয়েছে? কোথাও বেরোতে পারছিনা আমি। সবাই একের পর এক কোয়েশ্চেন করে যাচ্ছে যে "কবে থেকে এসব! কোথাকার মেয়ে" ব্লা ব্লা!

এটা তোমার ফল্ট সো তুমি সব ঠিক করবে। যাও যাদের প্রথমে বলছিলা আমার জিএফ আছে তাদের গিয়ে বলো যে তুমি যা বলছো ভুল বলছো। তারপর দেখতেছি কি শাস্তি দেওয়া যায়।

- মা...মানে? আরও শাস্তি দিবেন?

- অভিয়েসলি। নাও গো। (চেঁচিয়ে)

উনার ধমক খেয়ে আমার রুহু বের হয়ে আসার উপক্রম। আমি অন্ধকারে কোনোরকমে হাতিয়ে গেট খুলে দৌড়ে বেড়িয়ে গেলাম। তবে ভাগ্যটা বড়ই ভালো তখনকার মেয়েগুলোর মধ্যে একটা আপু সামনে কার যেনো সাথে কথা বলছে। আমি দৌড়ে গিয়ে আপুটার সামনে হাঁপাতে লাগলাম। আমাকে দেখে ফোনের লাইন কেটে বলে উঠলেন,

- এইতো তোমাকেই তো খুঁজছিলাম আমরা! হ্যাঁ এবার বলো নীবিড়ের জিএফ কে?

আমি মুখ কাচুমাচু করে দুহাতের আঙুল খোঁটাতে খোঁটাতে বলে উঠলাম,

- আ..আপু, আমি সরি! আসলে আমি উনার বোনকে গফ ভেবে আমার বেস্টুকে বলতে গেছিলাম। আর আপনারা শুনে ফেলেছেন।

আমার ধারণা মতে মেয়েটার আমাকে ধমক দেওয়ার কথা অথচ আমাকে অবাক করে দিয়ে মেয়েটা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো,

- এই তুমি আমাকে চিন্তা মুক্ত করলে। উফ! কি ভয়টাই না পেয়েছিলাম আমি। থ্যাংকস! আর হুম এরকম ভুল নিউজ শুনিয়ে হার্ট ফেইল করিয়ো না বুঝলে?

বলেই আমাকে ছেড়ে দিয়ে ছুট লাগালেন। ব্যাপারটা পুরোপুরি আমার মাথার ওপর দিয়ে গেল। যাক বাবা! ভাবলাম কি আর হলো কি! তবে এটুকু বুঝে গেছি আগের ভুয়া নিউজটার মতো এটাও এই মেয়ে লিক করে পুরো ভার্সিটি ছড়িয়ে দিবে। দ্যাট মিনস আমার কাজ শেষ।

অবশেষে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম আমি। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে হাটা দিলাম রাত্রির খোঁজে। পুরো ২ ঘন্টা হয়ে গেছে এর থেকে বেশি সময় ওর ওপর রাগ করে থাকতে পারবোনা আমি।

চলবে...........................💕

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন