ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

২১তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-২১♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

.

🌹

.

- হাচ্ছুউউউউউউ...!

- হাচ্ছুউউউউউউউ....!

.

সাদা বিলাই আর আমি একই টাইমে এভাবে হাচি দিবো ব্যাপারটা ঠিক মেনে নিতে অদ্ভুদ লাগছে। মানে এতোক্ষণ কেউই দিলাম না, এখন আবার দুজনেই দিলাম তাও আবার একসাথে একই সময়ে!

হাচি দিয়ে দুজন দুজনের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালাম যার অর্থ এই যে, " আপনি আমায় কপি করেছেন, আমি না।"

ভাইয়া আমাদের দুজনকে একসাথে হাচি দিতে দেখে কপালে হাত দিয়ে ঠাস করে সোফায় বলে পড়লো।

.

- এইরে, একটা বাদরকেই সামলাতে পারি না, দুটো বাদরকে কিভাবে সামাল দেবো? দুজনেই তো ঠান্ডা লাগিয়ে ফেলেছিস। হায় হায়!

.

ভাইয়ার কথা শুনে মনে হচ্ছে আমরা দুজই দেড় বছরের বাচ্চা আর উনি আমাদের দেখভাল করে নিজেকে উজাড় করে দেয়। আমি আর সাদা বিলাই দুজনেই ভাইয়ার দিকে ভ্রু কুঁচকে চোখ ছোট ছোট করে তাকালাম, যার অর্থ এই "তোরে আহ খাইছি রে!" ভাইয়া আমাদের দুজনের দিকে একবার চোখ তুলে তাকিয়ে আমতা আমতা করতে লাগলো কিন্তু তাতে কোনো লাভ হলো না ভাইয়ার। ততক্ষণে আমি আর নীবিড় ভাইয়া দুজনেই ভাইয়ার ওপর আক্রমণ করে ফেলেছি। নীবিড় ভাইয়া কিলঘুষি চালাচ্ছেন আর আমি একবার ভাইয়ার চুল টানতেছি তো একবার কাতুকুতু দিয়ে চলেছি।

.

- আরে আরে হইছে, আর বলবো না। আরে লাগতেছে তো আউউউউ! আহাহা ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি!

.

আমাদের হুড়োহুড়ি, মারামারির মধ্যেই আগমন ঘটলো ২ জোড়া পায়ের। সেই ২ জোড়া পায়ের অধিকারী কারা তা দেখবার জন্য পেছন ফিরে তাকাতেই আমার মুখটা অটোমেটিক্যালি "হা!" হয়ে গেল। রুশো ভাইয়া "শাহরুখ খান" স্টাইলে দু দিতে হাত মেলে রয়েছে! আর মুখে সেই শাহরুখ খানের মোস্ট ফেভারিট গানের "তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সানাম!" দু লাইন গেয়ে চুলগুলো ডানে বামে একবার ঝাঁকিয়ে মুখে সেই চিরচেনা দাঁত কেলানো হাসি ঝু্ঁলিয়ে বলে উঠলো,

.

- হ্যালো, গাইস! ইটস কল হিরো স্টাইল এন্ট্রি ইউ নো!

.

আমি আর আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালাম না। এক দৌড়ে ভাইয়ার কাছে গিয়ে চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে বলে উঠলাম,

- আমার চকলেট.....কোথায়? (হাত পেতে)

.

রুশো ভাইয়া চুলগুলো কোনোরকমে ঠিক করে মুখটা অপরাধীর মতো করে বলে উঠলো,

- উপপস...! আই এম এক্সট্রেমলি সরি রে ছুটকি, একদম মনে ছিলো না। নেক্সট টাইম গেলে এনে দিবো ট্রাস্ট মি।

.

সাথেসাথেই মুখে অমাবস্যা নেমে এলো আমার। এই বুঝি কেঁদে ভাসিয়ে দেবো পুরো বাড়ি। কতো অপেক্ষা করেছি আমি এই বিদেশি চকলেটের জন্যে! পুরো চার চারটে বছর। ভাবা যায়? আর রুশো ভাইয়া কিনা চকলেট আনার কথা ভুলেই গিয়েছে? না না এই কষ্ট মেনে নেওয়া যায় না। আর কোনো কথা বলবো না আমি রুশো ভাইয়ার সাথে। ভেবেই ভাইয়ার হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলের সাথে নিজের কনিষ্ঠ আঙ্গুল ছুঁইয়ে বলে উঠলাম,

.

- তোমার সাথে আমার আড়ি, আর কোনো কথা নেই আমার তোমার সাথে। তুমি খুব পঁচা রুশো ভাইয়া।

.

বলেই নাক মুখ ফুলিয়ে উল্টো দিকে ঘুরে হাটা ধরলাম। এক ধাপ দিতেই রুশো ভাইয়া সহ প্রায় সবার হাসি শুরু হয়ে গেল। আর আমি থমকে দাঁড়ালাম। রুশো ভাইয়া পেছন থেকে একটু জোড়েই বলে উঠলো,

.

- গাড়িতে প্রায় ১৫ টাইপস এর চকলেটস রাখা আছে। কারো যদি খেতে ইচ্ছে করে তো সে জেনো গাড়িতে গিয়ে নিয়ে আসে। নাহলে অন্যদের দিয়ে দেওয়া হবে।

.

রুশো ভাইয়ার কথাটা বলতে দেড়ি হলেও আমার এক ছুটে গাড়ির কাছে যেতে দেড়ি হয়নি। যাওয়ার আগে রুশো ভাইয়ার চুল টেনে দিয়ে চলে গিয়েছি আর ভাইয়ার সেই ঢং করে "আউউচ!" বলে উঠাটা শুনে আরোও মজা পেয়েছি।

.

- অগ্নি, এটাই কি সেই রুশো যাকে তুই ড্রিমার বলতি সবসময়?

- হ্যা, একেবারে ঠিক ধরেছিস! রুশো এদিকে আয়। মিট হিম। হি ইজ "সাদমান শাহরিয়ার নীবিড়" আমার বেস্ট ফ্রেন্ড কম ভাই বেশি।

.

নীবিড়কে দেখে রুশোর মনে এক প্রকার খুশির বন্যা বয়ে গেল। লাফাতে লাফাতে এসেই নীবিড়কে টাইডলি হাগ করে রুশো।

- হেই নীবিড় ব্রো, তোমার কথা অনেক শুনেছি। উইল ইউ বি মাই নেক্সট স্টোরিস হিরো?

.

রুশোর কথা শুনে নীবিড় তেমন কিছু বুঝলো বলে মনে হলো না। বরং অগ্নিকে হাত দিয়ে খোঁচা মেরে চোখের ইশারায় বলে উঠলো,"কিসের স্টোরি আর কিসের হিরো?"

অগ্নি নীবিড়ের অবস্থাটা বুঝতে পেরে রুশোকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,

.

- আরে হ্যা হ্যা! হবে হবে তুই একদম চিন্তা করিস না।

আর নীবিড়, (নীবিড় ভাইয়ার দিকে তাকিয়া) রুশোর অনেকদিনের স্বপ্ন স্ক্রিপ্ট রাইটার হওয়ার। সো তোর ক্যারেক্টারটা হিরোর জায়গায় দিতে চাইছে।

.

নীবিড় এবার বুঝতে পেরে রুশোর কাঁধে হাত রেখে হাল্কা হেসে বলে উঠে,

- অবশ্যই ড্রিমার!

.

এরকম আরোও নানান গল্পের ঝুলি খুলে ৩ জনই সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বসে পড়ে। রুশো তো একটার পর একটা জোকস বলে যাচ্ছে আর নীবিড়-অগ্নি হেসে কুটিকুটি হয়ে যাচ্ছে। এতোকিছুর মাঝে যে ঘরে আরোও একজন সদস্য উপস্থিত তা কারোও চোখেই পড়ে নি।

রাত্রি মুখ ফুলিয়ে গেটের কাছে এসে দাঁড়িয়ে আছে আমার অপেক্ষায়। এদিকে আমি এতো গুলো চকলেট দুহাতে ধরতেই পারছিনা। কমপক্ষে ৩ বার নিয়ে যাওয়া আসা করতে হবে তাহলে বোধহয় চকলেটগুলো বাসায় নিয়ে যাওয়া পসিবল হবে। কিন্তু আমার কথা একটাই, আমি তিন তিন বার যাওয়া আসা করতে পারবো না না না। তাইতো কোলে করে নিয়ে যাচ্ছি কিন্তু পারছি আর কই? দুকদম হাটতেই ঠাস ঠাস করে পড়ে যাচ্ছে আমার সাধের চকলেটের বক্স গুলো।

এরকম কয়েকবার প্রচেষ্টা চালাতে চালাতে আমার চোখ যায় গেইটে মুখ ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রাত্রির দিকে। ওকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে বেচারীর মুড খারাপ। আমি দাঁত কেলিয়ে একটা হাসি দিয়ে রাত্রিকে হাতের ইশারায় কাছে ডাকলাম। জানি আমার এই দাঁত কেলানোটা ওর বিন্দুমাত্র পছন্দ না। কারণ আমার এই দাঁত কেলানোর মানে আর কেউ বুঝুক বা না বুঝুক রাত্রি ঠিকই বুঝে নেয়। এর মধ্যে এক প্রকার সন্দেহ সন্দেহ গন্ধ পায় সে। তাও বেস্টফ্রেন্ড বলে কথা আমার ডাক কি আর উপেক্ষা করতে পারে? একদমই পারে না। তাই তো বেচারী মুখ ফুলিয়ে আমার কাছে এসে বলে উঠলো,

.

- কি করতে লাগবে বল।

.

আমি আবারোও সুন্দর করে দাঁত কেলিয়ে রাত্রির নাকটা টেনে দিয়ে মুখটা অসহায়ের মতো করে বলি,

- দেখনা! এত্তোগুলো চকলেট একা নিয়ে যেতে পারছিনা। তুই অর্ধেক ধর বাকি অর্ধেক আমি নিয়ে যাই।

.

অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাত্রি আমার হাত থেকে ৭ টা চকলেটের বক্স নিয়ে খুব সাবধানে হেটে চলতে লাগে। আর বাকি ৮ টা আমি নিয়ে ওর পিছু পিছু যেতে লাগলাম। কারোও চেহারা দেখা যাচ্ছেনা। কারণ চকলেটের বক্স দিয়ে দুজনেরই মুখ ঢাকা।

.

গেটের কাছাকাছি যেতেই কিছুর আওয়াজে মাথা একসাইড দিয়ে বের করলাম কিসের আওয়াজ তা দেখার জন্য। কিন্তু যা দেখলাম তা দেখেই চোখ আমার ছানাবড়া! রাত্রির কোমড় জড়িয়ে ধরে এক ধ্যানে রাত্রির দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রুশো ভাইয়া। আর রাত্রি চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে রুশো ভাইয়ার দিকে। হায় হায় কি রোমান্টিক সিন মাইরি! ওদের দিক থেকে চোখ নিচের দিকে যেতেই দেখি আমার প্রাণপ্রিয় চলকেটগুলো ফ্লোরে অসহায়ের মতো গড়াগড়ি খাচ্ছে। যা দেখে আমার বুক ফেটে কান্না আসতে চাইছে। এহ্যাএহ্যা করে যেই না কান্না জুড়ে দিতে বসলাম ওমনি পেছন থেকে আওয়াজ পেয়ে রুশো ভাইয়া ততক্ষণাত রাত্রিকে ছেড়ে দ্রুতো চকলেটগুকো তোলা শুরু করে দিলো। আমি দ্রুতো পা চালিয়ে টেবিলের ওপর গিয়ে চকলেটগুলো রেখে উলটো দিকে মুখ ফুলিয়ে তাকালাম। আমার চাহনী দেখে রুশো ভাইয়া একটা শুকনো ঢোক গিলে বাকি চকলেটগুলো টেবিলে রেখে বলে উঠলো,

.

- তোর বেস্টু গেটে পা বেজে পড়ে যেতে লেগেছিলো, আর আমি তোদের চকলেট আনায় হেল্প করতেই যাচ্ছিলাম। ওকে পড়ে যেতে দেখে ধরে বাঁচিয়ে দিলাম। হেহে! একা মানুষ ২ টো জিনিস তো আর আটকাতে পারবোনা। তাইনা? প্লিজ ছুটকি ডোন্ট বি এংরি উইথ মি! (ঠোট উলটে)

.

রুশো ভাইয়ার এমন বোকার মতো কথা শুনে আমি রাগি ফেইস বদলে ফিক করে হেসে দিয়ে রাত্রির কাছে গিয়ে ভাইয়াকে বলে উঠি,

- আরে জাহান্নামে যাক চকলেট আগে আমার বান্ধুপি তারপর অন্যকিছু।

.

রাত্রি মুচকি হেসে আমার মাথায় একটা চাটি মেরে দেয়। আর রুশো ভাইয়া ঠোট উলটে বলে উঠে, "দিনমে উল্লু বানা দিয়ে!" বলেই মাথা চুলকোতে চুলকোতে ভাইয়াদের পাশে বসে পড়ে।

.

🍁

.

এমন সময় আম্মু আব্বুর আগমন ঘটে। বাড়ি ভর্তি এতোগুলো মানুষ দেখে আম্মু আব্বুর খুশি যেনো আর ধরে না। আর আম্মু আব্বু তো পুরাই সারপ্রাইজড হয়ে গেল যখন তারা রুশো ভাইয়াকে দেখো,

- রুশো? তুই? কবে এলি? কখন এলি? তোর আম্মু তো কিছু জানালো না।

বাব্বাহ বিদেশে থেকে দেখি আরোও ফর্সা হয়ে গেছিস! ( আম্মু)

- হ্যা রুশো বাবা! কখন এলে তুমি?

.

আরে মনি, আংকেল আমি কাল নাইটে ফিরেছি আর তোমাদের কাউকেই বলিনি কজ ইটস আ সারপ্রাইজ ইউ নো। আচ্ছা মনি তোমরা ফ্রেশ হয়ে এসো। দেন আমার জন্য তোমার স্পেশাল চিকেন ফিট বানিয়ো প্লিজ!

রুশো ভাইয়ার পছন্দের চিকেন ফিটের নাম শুনেই আমু আর রাত্রি নাক মুখ শিটকালাম। অদ্ভুত হলেও ভাইয়ার ওটাই পছন্দ। আম্মু আব্বু হেসে দিয়ে ভাইয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো।

হটাৎ আম্মুর খেয়াল হলো যে এটা তো ভার্সিটির সময়। এখন তো সবার বাসায় আসার কথা না। তাই প্রশ্ন করে বসলো। আমি অগ্নি ভাইয়াকে আজকের পুলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা যাতে না বলে তাই মাথা ডানে বামে ঘুরিয়ে ইশারা করলাম। কারণ আম্মু আব্বু জানলে টেনশন করবে। ভাইয়াও চোখের ইশারায় সম্মতি জানিয়ে কোনো এক অজুহাতে বলে দিলো যে আজ ক্লাস হবে না।

আম্মু আব্বু আর বেশি কথা না বাড়িয়ে ফ্রেস হতে চলে গেল। আর যাওয়ার আগে নীবিড় ভাইয়াকে বলে গেল যাতে নিত্য আপুকে ফোন করে মেডিকেল কলেজ থেকে ডিরেক্ট বাসায় আসতে বলে! নীবিড় ভাইয়া না চাইতেও নিত্য আপুকে ফোন করে আসতে বললো কারণ উনি জানেন হাজার চেষ্টা করেও আম্মু ভাইয়াকে লাঞ্চ না করে যেতে দিবে না। নিত্য আপু আসবে জেনে অজান্তেই ঠোটের কোণে হাসি ফুটে ওঠলো অগ্নি ভাইয়ার। যা আর কারো চোখ এড়ালেও আমার চোখ এড়ালো না।

.

.

.

.

চলবে..........................💕

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন