ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

২২তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-২২♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

.

🍂

.

- আআআআআআআআআ............!

.

জোড়ে একটা ঘরকাঁপানি চিৎকার দিয়ে এক লাফে সোজা অগ্নি ভাইয়ার কোলে উঠে পড়লো রুশো ভাইয়া। উঠেই কাঁপাকাঁপা গলায় বলে উঠলো,

.

- হে...হেই বো ব্রো লুক শি ইজ স্পিকিং! ওহ মাই গড আমার সাথে দেখা হয়েই সে কথা বলতে পারছে। ওহ গড! আই জাস্ট কান্ট বিলিভ দিস। এতো বড়বড় ফিল্মকেও হাড় মানিয়ে দিলো।

.

রুশো ভাইয়ার কোনো কথাই বুঝতে পারছি না আমরা কেউই। সবই তো ঠিকই ছিল হঠাৎ রাত্রির আমার নাম ধরে ডাকায় রুশো ভাইয়ার এমন রিয়াকশনের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছিনা আমি। শুধু আমি কেন এখানে উপস্থিত কেউই বুঝে উঠতে পারছেনা। সবাই সবার মুখের দিকে চাওয়া চাওয়ি করছি শুধু। রাত্রির মুখ দেখে যা বুঝলাম সে যে শুধু অবাকই হয়েছে তাই নয় সাথে চূড়ান্ত রেগেও গিয়েছে।

শেষমেশ আমিই কনফিউশন দূর করতে বলে উঠলাম,

.

- কি বলছো এসব রুশো ভাইয়া? আর রাত্রির কথা বলাতে এতো অবাকই বা হচ্ছো কেনো?

.

অগ্নি ভাইয়া রুশো ভাইয়াকে নিজের কোল থেকে নামিয়ে একই প্রশ্ন করে বসলো। রুশো ভাইয়া অগ্নি ভাইয়ার দিকে তাকিয়েই বলে উঠলো,

.

- মানে ও বোবা না? (রাত্রির দিকে আঙুল দেখিয়ে)

.

- হোয়াট বোবা হতে যাবে কেনো? আরে বোকা, বোবা হলে আমাদের কথা শুনছে কিভাবে? পাগল হয়ে গেয়েছিস নাকি?

.

- আরে ব্রো ট্রাস্ট মি, তুমি ওকে নিয়ে আসতে বলার পর ওর নাম আস্ক করেছিলাম যে ওর নেইম কি। বাট শি সেইড নাথিং। পুরো রোডে আসতে আসতে আরোও অনেক কথাই শেয়ার করে গেছি বাট শি জাস্ট হেয়ার্ড। একটা টু সাউন্ড ও করে নি। ইভেন বাসায় আসার পরোও তো এই কেবল একটা কথা বললো। তখন পড়ে যাওয়া থেকে আটকালাম মুখ ফুটে একটা থ্যাংকসও দিলো না। তো আমার ফল্ট টা কি? ওকে তো আমি বোবাই ভেবে নিয়েছিলাম!

(হঠাৎ বলতে বলতে তুড়ি বাজিয়ে) ভেবেছিলাম এরকম একটা ইম্পসিবল ইনসিডেন্ট স্টোরিতে এড করে দিনে দুপুরে ফেমাস হয়ে যাবো বাট তা আর হলো কই। সাচ আ ভেরি ব্যাড লাক! (মুখ কালো করে)

.

রাত্রি বাদে আমরা তিনজন তিনজনের দিকে ২ সেকেন্ড তাকিয়েই হু হা করে হেসে উঠলাম। পাশেই যে রাত্রি রেগেমেগে বোম্ব হয়ে গেছে তা কারোও খেয়ালই নেই! হঠাৎ হাসি থামিয়ে আমরা তিনজন এক পলক রাত্রির দিকে তাকিয়েই গলা খাঁকারি দিয়ে উঠলাম। রাত্রি মারাত্মক রেগে গেছে। চোখ দিয়ে খুন করে ফেলছে রুশো ভাইয়াকে। হয়তো রাগগুলো একটু একটু করে পুষে নিয়ে একেবারে ঢেলে ফেলবে রুশো ভাইয়ার দিকে। আর রুশো ভাইয়া তো ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে আনমনে নিজের কল্পনার জগতে ভাসতে ব্যস্ত। তার কোনো ধারণাই নেই যে যেকোনো মুহূর্তে তার ওপর এটম বোম্ব ব্লাস্ট হতে পারে।

.

হলোও তাই। রাত্রি একপ্রকার তেড়েই রুশো ভাইয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। দাঁড়িয়েই হাতের এক আঙুল তুলে চেপে রাখা সব ক্ষোভ ঝাড়তে শুরু করে দিলো। ততক্ষণে আমি দু কানে দু আঙুল ঢুকিয়ে দিয়েছি। কারণ রাত্রি একটু চাপা স্বভাবের হলেও যদি একবার ক্ষেপে যায় তো তাকে থামানো বড়ই দুঃষ্কর। সামনে তাকিয়ে দেখিয়ে দেখি ভাইয়াদেরও একই অবস্থা। অগ্নি ভাইয়া দুকানে দুহাত চেপে সোফায় বসে চোখ বন্ধ করে রয়েছে আর পাশেই নীবিড় ভাইয়া মাথা নিচু করে দুহাতে মুখ ঢেকে রয়েছেন।

.

- ওই বিদেশ ফেরত ধলা ইন্দুর তোর সাহস কি করে হয় আমারে বোবা বানানোর? এই দেখ আমি চেঁচাচ্ছি। কোন এংগেল দিয়ে বোবা লাগে বলতো এবার?

.

রুশো ভাইয়া ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে রাত্রির দিকে। বোঝার চেষ্টা করছে আসলে কি বলছে সে তাকে! রাত্রির ধমক খেয়েও রুশো ভাইয়া অগ্নি ভাইয়া আর নীবিড় ভাইয়ার দিকে বোকার মতো দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে উঠলো,

.

- ব্রো, হোয়াট ইজ "ধলা ইন্দুর"?

.

অগ্নি ভাইয়া আগের মতো থেকেই বলে উঠলো "ফর্সা" আর নীবিড় ভাইয়াও আগের মতো মাথা নিচু করে মুখ ডেকেই বলে উঠলো "মাউস!"

রুশো ভাইয়া দুটো ওয়ার্ড একসাথে করে আনমনেই বলে উঠলো "ফর্সা মাউস" এটা আবার কেমন নাম? অর্ধেক প্রশংসা তো অর্ধেক অপমান! ইন্টারেস্টিং তো।

.

নাহ আর পারা যাচ্ছে না। এতোক্ষণ ধরে হাসি কন্ট্রোলে রাখলেও আর পারছি না আমি। আজ রুশো ভাইয়ার কপালে যে খুব বড়সড় শনি আছে তা বেশ বুঝতে পারছি। কানে আঙুল ঢুকিয়েই দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে লাগলাম। আসার সময় "ঢিশুম" টাইপ একটা আওয়াজ কানে ভেসেছিলো। হয়তো যেটা ভেবেছিলাম তাই হয়ে গেলো। ইশশ রে বেচারা রুশো ভাইয়া! বিদেশ থেকে ফিরতে না ফিরতেই সাবান ছাড়াই ধুয়ে গেলো!

.

🌺

.

প্রায় আধঘন্টা পর পা টিপেটিপে নিচে নেমে এলাম। পরিবেশটা নিতান্তই ঠান্ডা মনে হচ্ছে। হয়তো ঝড় চলে যাওয়ায় পর মুহূর্তের নিস্তব্ধতা!

নিচে নেমে এসে দেখে অগ্নি ভাইয়া আর নীবিড় ভাইয়া কফির মগে স্থির দৃষ্টি নিক্ষেপ করে চুমুক দিয়ে যাচ্ছে। পাশে তাকাতেই দেখি রুশো ভাইয়া টমেটো তে বরফ ঠেলাচ্ছে, থুক্কু আই মিন নিজের লাল হয়ে যাওয়া নাকে বরফ ঠেকাচ্ছে। এবার বুঝলাম তখনকার "ঢিশুম" এর আসল মানেটা। রাত্রি তবে রুশো ভাইয়ার নাক টাকেই টার্গেট বানালো। ইশশ! একেই ফর্সা মানুষ। একটু রোদে গেলেই লাল হয়ে যায়। সেখানে রাত্রির সর্বশক্তি ওয়ালা ঘুষি খেয়ে নাক টার বারো অবস্থা বানিয়ে ফেলেছে।🤦‍♀

.

- রুশো ভাইয়া, আর ইউ ফিলিং বেটার?

.

রুশো ভাইয়া আমার দিকে অসহায় দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে উঠলো,

- ছুটকি, ট্রাস্ট মিহ আমার কুনো দুষ ছিলু না। তাও কিনু আমি ঘুষি খাইলুম? হুয়াই ছুটকি ছুটকি!

.

রুশো ভাইয়ার কথা শেষ হতে কি না হতেই অগ্নি ভাইয়া আর নীবিড় ভাইয়া একসাথে কফির মগ টেবিলে রেখেই হাসা শুরু করে দিলো। নীবিড় ভাইয়া তো হাসতে হাসতে অগ্নি ভাইয়ার ওপর পড়ে যাচ্ছে। আর অগ্নি ভাইয়া হাসতে হাসতে সোফায় হেলান দিয়ে মুখ ওপরের দিকে করে রেখেছে। এখন যদি আমিও হেসে দেই তবে রুশো ভাইয়া বড্ড অসহায় ফিল করবে তাই ভাইয়ার কাছে গিয়ে নাকে আইস ব্যাগটা লাগাতে লাগাতে বলে উঠলাম,

.

- ভাইয়া, এখানকার পরিবেশ কিন্তু ইউএসের মতো না এখানে দিনে দুপুরে গোলা-বারুদ ছাড়াই হামলা হয়ে যায়। তাই একটু সাবধানে দেখে শুনে কথা বলিও হুম।

.

আমার কথায় যেনো ভাইয়াদের হাসি আরোও তীব্র আকার ধারণ করলো। বুঝতে পেরেছি এতোক্ষণ ধরে নিশ্চয় হাসি চেপে ধরে রেখেছিলো তারা। আর আমি তো উপরে গিয়েই হেসে উজাড় করে এসেছি। তাই প্রবলেম খুব একটা হচ্ছে না। রুশো ভাইয়া এবার চুপ করে রইলো কি জানি আবার কি বলায় তাকে উস্টা খেতে হয় সেই ভয়ে।

আমি এদিক ওদিক চোখ বুলাচ্ছি রাত্রিকে খুঁজতে। মেয়ে গেলো কোথায়? এভাবে খোঁজাখুঁজির একটুপরই দেখি আম্মুর সাথে ডাইনিং টেবিলে খাবার এনে রাখছে রাত্রি। কিন্তু তার চেহারায় এখনোও রাগের চিহ্ন স্পষ্ট! রুশো ভাইয়ার নাক ফাটিয়েও যেনো শেষ হয়নি তার রাগ।

.

🌹

.

- হ্যালো এভরীওয়ান...! কেমন আছো সবাই?

.

পেছন থেকে কারোও মিষ্টি গলা পেয়ে সবাই একসাথে গেইটের দিকে তাকালাম। নিত্য আপু মেডিকেলের ইউনিফর্ম পড়ে ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে ভেতরে ঢুকছে। আপুর চুলগুলো উঁচু করে টাইট করে ঝুটি করে বাঁধানো। মিষ্টি কালারের সালোয়ার তারওপর সাদা কালারের এপ্রোন! ঠোঁটে হাল্কা গোলাপি কালারের লিপস্টিক। কাঁধে লেডিস ব্যাগ! আর এক হাতে ডক্টরস বক্স! এখনই প্রাকটিক্যালি ট্রিটমেন্টের প্রাকটিস করানো হচ্ছে বোধহয়। সব মিলিয়ে একদম মিষ্টি পরী লাগছে আপুকে! ইশশ কারো নজর না লাগে।

.

আপু এসেই আগে আমার গাল টেনে বলে উঠলো,

- কেমন আছো অনন্যা? মুখটা শুকনো শুকনো লাগছে কেনো তোমার?

.

বলেই আমার কপালে, গালে হাত রেখে বলে উঠলো,

- একি, তোমার তো গা গরম! জ্বর বাধালে কিভাবে?

.

আপুর কথা শুনে সবাই আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। অগ্নি ভাইয়া ছুটে এসে আমার কপালে হাত রেখে বলে উঠলো,

- সব সময় বেখেয়ালি।

নিত্য তুমি জানো আজ পুলে স্লিপ কেটে পড়ে গিয়েছিলো বাদরটা। নীবিড় না বাঁচালে কি হতো ভাবতে পারো? নীবিড়েরও ঠান্ডা লেগে গেছে বোধহয়। (চিন্তিত হয়ে)

.

- সেকি? ওয়েট! ভাইয়া....! তুই এদিকে আয়। দুজনের টেম্পারেচারটা মেপে দেখি।

.

নীবিড় ভাইয়া অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমার পাশে বসে পড়লো। ওদিকে আম্মু আর রাত্রি লাঞ্চ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আম্মু জানবে না। এই ফাঁকে ভাইয়া পুলে পড়ে যাওয়ার ব্যাপারটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করা শুরু করে দিলো।

.

সাদা বিলাই আর আমি দুজনেই মুখে থার্মোমিটার নিয়ে বসে আছি। অগ্নি ভাইয়া তখন থেকে বকবক করে মাথাটা খেয়ে ফেলছে। ভাইয়াটা এরকমই, একটু চুন থেকে পান খসলেই বকতে বকতে পুরো দুনিয়া উলটে দেয়। এদিকে রুশো ভাইয়া আর নিত্য আপুও টেনশনে পড়ে গেছে।

দুজনের থার্মোমিটারই মুখ থেকে নিয়েই নিত্য আপু খুব সুক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করে বলে উঠলো,

.

- জ্বর তো ভালোই বাধিয়ে ফেলেছো। ১০০ ডিগ্রি আপ। ভাইয়ার টেম্পারেচার স্বাভাবিক থাকলেও জ্বর আসার সম্ভাবনা আছে।

আমি যদিও প্রফেশনাল ডক্টর হইনি তাও। ভরসা করতে পারো। আচ্ছা আমি কিছু ঔষুধের নাম বলে দিচ্ছি। কেই কি এনে দিতে পারবে?

.

অগ্নি ভাইয়া চট করে বলে উঠলো, "আমাকে লিখে দাও। এক্ষুনি এনে দিচ্ছি!" বিনিময়ে আপু শুধু মুচকি একটা হাসি দিয়ে প্যাডের একটা পেজে কিছু মেডিসিনের নাম লিখে পেজটা ভাইয়ার দিকে এগিয়ে দিলো। আর ভাইয়া তা হাতে নেওয়া মাত্রই ছুট লাগালো ফার্মেসির দিকে।

.

🍁

.

আজ সবাই এখানেই থেকে গেল। আবার যাওয়ার জন্য কেউ কথা তুললোও না। ব্যাপারটা বরই অদ্ভুত। সেই যে দুপুরে খেয়ে রেস্ট নিতে রুমে পাঠিয়ে দিয়েছে তারপর থেকে কিসব ঘুটুর ঘুটুর করছে আল্লাহ মালুম। আমি গেট খুলে বের হতে নিলেই কেউ এসে থামিয়ে দিয়ে কড়া গলায় বাইরে যেতে নিষেধ করে যাচ্ছে। ব্যাপারটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না মোটেই।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নেমে এলো। ২ ঘন্টা ঘুমিয়েছি এর মধ্যে। শরীরটা এখন ভালো লাগছে। কিন্তু মনটা একেবারেই ভালো নেই। কথায় সবাই মিলে আড্ডা দিবো তানা আমায় সবাই ঘরবন্ধি করে রেখে দিয়েছে। কিন্তু আর পারা যাচ্ছেনা। এবার যাই হয়ে যাক না কেনো আমি বেড় হবোই।

.

মনস্থির করে পা টিপেটিপে দরজার কাছে এসেই চোরের মতো নিঃশব্দে দরজা খুলার চেষ্টা করছি। হায় রে অনন্যা! তোর কপাল কি রকম ভাব! নিজের বাড়িতে নিজেকেই চোরের মতো দরজা খুলতে হচ্ছে! 🤦‍♀

দরজা খুলেই মাথা বের করে এদিক ওদিক চোখ বুলিয়ে নিলাম। নাহ কেউ নেই। একেবারে ফাঁকা ময়দান। আর এই ফাঁকা ময়দানেই গোল দিবো আমি।

দরজা আটকিয়ে যেই না উলটো দিকে ঘুরে হাটা ধরলাম ওমনি কোনো পিলারের সাথে ধাক্কা খেলাম। কিন্তু এখানে তো কোনো পিলার আগে ছিলো না। সেটা তো সিঁড়ির দুপাশে রয়েছে। মাথা তুলে ওপরে তাকাতেই বুঝলাম এটা কোনো সিমেন্টের পিলার নয় বরং রক্ত মাংসে গড়া আমার যম সাদা বিলাই! উনাকে দেখে এবার ভয়ের থেকে রাগ বেশি হচ্ছে। সেই তখন থেকে কেউ না কেউ আমার ওপর নজর রেখে যাচ্ছে। কখনোও অগ্নি ভাইয়া, কখনো নিত্য আপু আবার কখনোও রুশো ভাইয়া তো কখনোও প্রাণের সখি রাত্রি! শেষমেশ এই সাদা বিড়ালটাও কিনা আমাকে পাহারা দিচ্ছে! ডিজগাস্টিং!

.

- বাইরে কোথায় যাচ্ছো? চুপচাপ ভেতরে যাও। রেস্ট নাও। একেবারে ৮ টার পর বের হবে।

.

- হোয়াট? মাথা খারাপ হয়ে গেছে আপনার? দেখুন! সেই দুপুর থেকে ঘরে আছি আমি। ২ ঘন্টা ঘুমিয়েছি ১ ঘন্টা গেমস খেলেছি। আর করার মতো কিছু পাচ্ছিনা। আমি বের হবো। তাছাড়া আমি কমপ্লিটলি ফাইন। জ্বর টর কিছু নেই আর। প্লিজ সরুন।

.

উনি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ভ্রু কুঁচকে বলে উঠলেন,

- কিছু করার মতো খুঁজে পাচ্ছোনা তো? ওকে চলো আমি দেখিয়ে দিচ্ছি কি করে সময় কাটাবে তুমি।

.

বলেই আমার হাটু জড়িয়ে কাঁধে উঠিয়ে নিলেন আমায়। আর আমি উনার থেকে ছোটাছুটি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। উনার পিঠে কিল ঘুষি বসিয়ে চলেছি আমি। তাও কোনো লাভ হচ্ছে না। এবার খুব জোড়েসড়ে একটা কিল বসিয়ে দিলাম উনার পিঠে। উনি ব্যথায় আমাকে ছেড়ে দেওয়া মাত্রই ধপাস করে ফ্লোরে পড়ে গেলাম আমি। উনি আবারোও আমায় তুলতে আসলে সামনের গ্রিল দুহাতে চেপে ধরলাম যাতে আমায় ঘরে নিয়ে যেতে না পারে। উনিও হাল ছাড়বার পাত্র নন। আমার দুই পা ধরে টেনেই যাচ্ছেন।

শেষমেশ উনি উপায় না পেয়ে আমার দূর্বল পয়েন্টে আঘাত করে বসলেন। যেটা হলো "কাতুকুতু" এই কাতুকুতু নামক ভয়ংকর হাস্যকর অনুভূতিটি আমার রন্দ্রে রন্দ্রে শিরায় শিরায় প্রবাহমান। ঠিক আমার ঘুম কাতুরে ভাইটার মতোই।

সাদা বিলাই আমার কোমড়ে আঙুল বুলাতে থাকে কাতুকুতু দেওয়ার জন্য। আর আমি এইদিকে হাসতে হাসতে কান্না করে ফেলছি। ছুটাছুটি করছি সাথে কাকুতিমিনতি করে চলেছি যাতে উনি থামেন। কিন্তু উনি তো উনিই আমার হাত ছুটার আগ পর্যন্ত কাতুকুতু দিয়েই যাবেন। আমি বাধ্য হয়েই হাসতে হাসতে গ্রিল ছেড়ে দেই। আগে প্রাণ তারপর অন্যকিছু। উনি আমার হাত ছুটা দেখেই টুপ করে কোলে তুলে নিয়ে রুমে ঢুকে গেলেন।

.

🌸

.

বইয়ের মধ্যে মুখ গুঁজে ফোঁপাচ্ছি আমি। সামনেই লাঠি হাতে পায়ের ওপর পা তুলে রিল্যাক্সে বসে আছেন নীবিড় ভাইয়া। এইটুকু সময়ে এতোগুলো পড়া দিয়ে বসিয়ে রেখেছেন আমায়। উনার একটাই কথা টাইম বেশি লাগলে লাগুক কিন্তু উনাকে আজ ১১ টার মধ্যে পড়া কমপ্লিট করে দেওয়া চাই। এতো বড়বড় বিক্রিয়া দেখে এখনই আমার অবস্থা দফারফা হয়ে যাচ্ছে। এই পড়া দুদিনেও পড়ে মুখস্থ করতে পারবো কিনা জানা নেই আমার।

তাইতো বারবার অসহায় দৃষ্টিতে উনার দিকে তাকাচ্ছি আমি কিন্তু তাকানো মাত্রই ৪৪০ ভোল্টের একটা করে ধমক খেয়ে আবারোও বইয়ে মুখ ঢুকিয়ে আল্লাহকে ডাকা শুরু করে দিচ্ছি।

ইয়া আল্লাহ! এ কি দুর্দিন এলো আমার! নিজের বাড়িতে নিজেই টর্চারড!

এই অন্যায় সইবে না আল্লাহ! আপনার বিচার হবে! হবেই মি..সাদা বিলাই!

.

.

.

চলবে..................❤

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন