ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

২৩তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-২৩♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

.

🍂

.

কপালে এক হাত দিয়ে জ্বীবের এক সাইডে কামড় দিয়ে চোখ বড়বড় করে সামনে তাকিয়ে আছে নিত্য। তার ঠিক সামনেই চকলেট ক্রিমে মাখামাখি অবস্থায় রোবটের মতো দাঁড়িয়ে আছে অগ্নি।

.

একটু আগেই কেক বানানোর জন্য চকলেট ক্রিম বানাচ্ছিলো নিত্য। সেই মুহূর্তে নিত্য কিচেনে একা থাকায় অগ্নি চুপিচুপি নিঃশব্দে কিচেনে ঢুকে পড়ে। তার উদ্দেশ্য ছিল নিত্যকে চমকে দেওয়া। কিন্তু তার এই চমকে দেওয়া যে তাকে চকলেটে গোসল করিয়ে ছাড়বে তা সে কল্পানাতেও ভাবতে পারেনি কোনোকালেই। তার মতে একজন মেডিকেলে পড়ুয়া ছাত্রি নিতান্ত্যই সাহসী হবে। কিন্তু নিত্য যে সবার থেকে ব্যতিক্রম তা সে এখন বেশ বুঝতে পারছে।

.

অগ্নি নিত্যকে সারপ্রাইজ দেবে বলে পা টিপেটিপে নিত্যর পেছনে গিয়ে "ভাউউউ" করে চেঁচিয়ে উঠেছিলো। সেই সময় নিত্য চকলেট ক্রিম বানাচ্ছিল। হঠাৎ পেছন থেকে কারো ভাউউ করে উঠায় হাতে চকলেটের বোলটা নিয়ে চিৎকার করে ঘুরে দাঁড়ায় সে। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত ক্রিমগুলো ছিটকে অগ্নির ওপর পড়ে যায়, যার ফলস্বরূপ অগ্নি এখন চকলেটের ভূতে পরিণত হয়েছে!

.

- আ...আ...আম সো সরি! আ...আসলে আমি বুঝতে পারিনি। হঠাৎ কারো চেঁচানোর আওয়াজে ভয় পেয়ে ঘুরতে গিয়ে...ইয়ে মানে ওই চকলেটগুলো আরকি....! হেহে! (জোড়পূর্বক দাঁত বের করে হেসে দিয়ে)

.

নিত্যর এখন ঠিক কি করা উচিৎ তা সে বুঝে উঠতে পারছেনা। বারবার এদিক ওদিক তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিলে যাচ্ছে সে। তার মতে অগ্নি এখনই অগ্নিমূর্তি রূপ ধারণ করবে। আগের ফ্লেবারে কনভার্ট হয়ে দু চারটে থাপ্পড়ও বসিয়ে দিতে পারে সেই ভয়ে আগে থেকেই দুগালে দুহাত চেপে ধরে রেখেছে নিত্য।

কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে অগ্নি নিজের গালে লেগে থাকা চকলেট এক আঙুলে স্লাইড করে নিয়ে, আঙুলটি মুখে ঢুকিয়ে দেয়। অগ্নির কান্ড দেখে কিছুই বুঝে উঠতে পারছেনা নিত্য। বোকার মতো হা করে অগ্নিকে দেখে বোঝার চেষ্টা করছে যে এক্সাক্টলি ঠিক কি করতে চাইছে সে। অগ্নি ঠোঁট পাউট টাইপ করে নাড়িয়ে চাড়িয়ে ভ্রু কুঁচকে চোখ দুটো এদিক ওদিক ঘুরিয়ে আনমনেই বলে উঠলো,

.

- সবই ঠিকঠাক তবে একটু সল্ট দিতে হবে। না হলে কেমন যেন বিদঘুটে টাইপ টেস্ট আসছে।

.

বলেই উল্টো দিকে ঘুরে হাঁটা ধরলো অগ্নি। যা দেখে নিত্যর মুখের "হা" আগের তুলনায় আরোও দ্বিগুণ আকার ধারণ করলো। আনমনেই বলে উঠলো সে ," হা! এটা কি হলো!"

.

🌼

.

গত আড়াই ঘন্টা যাবৎ আমি মাত্র দুটো বিক্রিয়া মুখস্থ করেছি। তাও মাঝে মাঝে সংকেতগুলো গুলিয়ে ফেলছি। যদি বইয়ের পাতাগুলো খেয়ে ফেললেও পড়াগুলো মুখস্থ হতো তবে আমি ছাগলের মতো গাছের পাতার বদলে বইয়ের পাতাগুলোই ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেতাম নির্ঘাত।

কিন্তু তা তো আর সম্ভব নয়। বইয়ের পাতা গুলো পানিতে গুলিয়ে জুস বানিয়ে খেলেও তা আমার ছোটখাটো মাথায় ঢুকবে না।

সামনেই জল্লাদের মতো কোপ বসানোর জন্য বসে আছে সাদা বিলাই। উনাকে দেখেই আমার রুহু কেঁপে উঠছে। একটু পর পর একটা করে পানির গ্লাস শেষ করে চলেছি আমি।

গলাটা এবার আগের থেকে আরোও বেশিই শুকিয়ে এলো যখন নীবিড় ভাইয়া কড়া গলায় বলে উঠলেন

"দেখি এতোক্ষণ ধরে কতোটুকু পড়লে, বই রাখো নোট বুক বের করো।"

উনার কথাটা শুনা মাত্রই বুলের বামপাশে একটা মোচড় দিয়ে উঠলো। এই বুঝি বুক ফেটে কান্না করে পুরো বন্যা বইয়ে দেবো আমি। গলা আমার শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল আবারও। তাই উনার দিকে আবারোও অসহায় দৃষ্টি নিক্ষেপ করে করুণ স্বরে বলে উঠলাম,

.

- নী..নীবিড় ভা...ভাইয়া...! আর..এক গ্লাস পানি প্লিজ....!

.

নীবিড় ভাইয়া বিনিময়ে মাথা ঘুরিয়ে বেড টেবিলে থাকা পানির জগ টা নিচ থেকে উপরে চোখ বুলিয়ে আবারোও আমার দিকে মাথা ঘুরিয়ে শান্ত সুরে বলে উঠলেন,

- এই পর্যন্ত ঠিক কয় গ্লাস পানি খেয়েছো বলতে পারো?

.

আমি প্রথম থেকে মনে করে করে একটা করে আঙুল বের করতে করতে শেষে হাতের পাঁচটা আঙুলই বের করে দেখিয়ে ঠোঁট উল্টালাম।

সাথেসাথেই উনার হাই ভোল্টেজ ওয়ালা এক ধমক খেয়ে জমে গেলাম আমি।

.

- ৫ গ্লাস পানি খেয়ে পুরো জগ খালি করে ফেলোছো। এরপরেও তোমার গলা শুকায় কিভাবে? ওটা তোমার পেট নাকি কূয়া! সব পানি দিয়েই ভর্তি করে ফেললে ডিনার কোন পেটে ঢুকাবে? স্টুপিড!

.

- কেনো? আপনার পেটে! 😁

.

বলেই নিজেই নিজের মুখ চেপে ধরলাম আমি। এতোক্ষণ মনে মনে উনাকে অনেক কথা শুনালেও এবারেরটা এভাবে মুখ ফোসকে বের হবে কে জানতো?

কিন্তু অবাক করা বিষয় উনি মুখে কিছুই না বলে বসা থেকে উঠে গেলেন। উঠেই আমার দিকে এগোতে লাগলেন। যা দেখে আমার প্রাণপাখি যেনো যায় যায়!

.

- আমার পেটে ঢুকাবে তাইনা? তা কিভাবে শুনি?

- আ..আ..আমি তো ওটা..ভ..ভুলে বুলে ফেলেছি ভা...ভাইয়া! সুরি!

- হোয়াট? ওই সুরি টা আবার কি?

- হেহে! "সরি" এর তোতলা ভার্সন! (দাঁত বের করে)

- শা....ট আ....প! সাচ আ স্টুপিড গার্ল! চুপচাপ পড়ো।

.

বলেই জগ টা নিয়ে রুম থেকে ধরাম করে দরজাটা লাগিয়ে চলে গেলেন। আর আমি এক লাফ মেরে উঠে পড়লাম। দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলতে লাগলাম। এই সুযোগ আমাকে পালাতে হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় সাদা বিলাই আমার সুযোগের মাথা কেটে দরজাটা বাইরে থেকে লক করে চলে গেছেন।

.

মেজাজটা পুরোপুরি বিগড়ে গেলো আমার। দিনে দুপুরে এতো অত্যাচার আর সহ্য করা যাচ্ছে না।

মনের ক্ষোভ মেটাতে জোড়ে একটা চিৎকার দিয়ে বসলাম আমি।

- " সাদা বিলাইয়ের বাচ্চা....! তোর কপালে বউ জুটবে না দেখে নিস। শাঁকচুন্নি তোর ঘাড় মটকাবে। একসাথে ১০০ টা কুত্তার তাড়া খাবি তুই....!"

.

বলেই দরজায় জোড়েসড়ে একটা লাথি মেরে আবারোও অগত্যা টেবিলে বসে বইয়ে মুখ গুঁজলাম আমি।

.

🌹

.

- আরে ওইদিকটায় দেখুন। বেলুনগুলো তো খুলে যাচ্ছে!

.

- হেই জাস্ট ডোন্ট ওয়ারি এটম বোম্ব! (রাত্রি চোখ ছোট ছোট করে তাকাতেই) উপপস! আই মিন মিস. হোয়াট?

.

- রাত্রি...! (দাঁতে দাঁত চেঁপে)

.

- ওহ ইয়েস..! রাত্রি, রাইট? ওকে ওকে আমি ঠিক করে দিচ্ছি!

.

বলেই টুলের ওপর উঠে গেল রুশো! ব্যানারের পাশে বেলুনগুলো ঠিক মতো লাগিয়ে যেই না নিচে নামতে যাবে ওমনি টুল থেকে পা স্লিপ কেটে সোজা রাত্রির ওপর গিয়ে পড়লো সে। রাত্রি এমন আকস্মিক ঘটনায় টাল সামলাতে না পেরে নিজেও পড়ে যায় ফ্লোরে!

.

রুশো রাত্রির ওপরে আর রাত্রি রুশোর নিচে। রুশো এক দৃষ্টিতে রাত্রির দিকে তাকিয়ে আছে। যেনো কোনো যাদুঘরের ভাস্কর্য পর্যবেক্ষণ করছে সে। এদিকে রাত্রি রুশো কে ধাক্কিয়ে যাচ্ছে কিন্তু তাতে কোনো লাভই হচ্ছে না তার! রুশো আগের মতোই ঘোর লাগানো দৃষ্টিতে চেয়ে আছে তার দিকে।

.

- ওই ব্যাটা ধলা ইন্দুর! উঠ বলতেছি!

.

নাহ চেঁচিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। রুশো আগের মতোই রিয়াকশন ছাড়া ড্যাবড্যাব করে চেয়ে আছে তার দিকে। রাত্রির শরীরে এতোটা শক্তিও নেই যে রুশো ধাক্কিয়ে ওপর থেকে ফেলে দেবে। শেষে আর কোনো উপায় না পেয়ে নিজের মাথা দিয়ে রুশোর মাথায় ""ঢিশুম"" করে একটা বারি মেরে দিলো রাত্রি। রুশো "আউউউচ" করে মাথা চেপে ধরে সরে যেতেই রাত্রি চট করে উঠে দাঁড়িয়ে নিজের কপালে হাত বুলাতে থাকে। সে নিজে থেকে মারলেও অনেকটা ব্যথা লেগেছে নিজেরই। নিউটনের বলের তৃতীয় সুত্র মোতাবেক যেমন বলা হয়েছে "প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত মূখি প্রতিক্রিয়া রয়েছে!" ঠিক তেমনই আঘাত দিতে যেতে উলটে আঘাত লেগেছে রাত্রিরোও।

.

- ওরে আমার বিউটিফুল কপালে পটেটো বানিয়ে ফেললো রে.......! (কপাল চেপে ধরে গড়াগড়ি খেতে খেতে বলে উঠলো রুশো)

.

রাত্রি কপাল ঘষতে ঘষতেই চোখ বড়বড় করে বলে উঠলো,

- মানে? কপালে পটেটো?

.

- আরে আলু আলু! আলু বানিয়ে ফেললে তুমি আমার কপালে। আউউউচ! উহুহুহু!

.

রুশোর কথা শুনে না চাইতেও হাসি পেলো রাত্রির। তাও হাসি উপেক্ষা করে রাগি ফেইস নিয়ে আবারোও কপালে হাত বুলাতে লাগলো নিজের।

রুশো উঠে দাঁড়িয়ে রাত্রিকে নিজের কপালে হাত বোলাতে দেখে চিন্তিত হয়ে বলে উঠলো,

.

- ইশশ তোমারও লেগে গেলো! প্লিজ, আমায় হার্ট করবে সে ঠিক আছে। বাট নিজেকে হার্ট করে আমায় মেরোনা।

.

রাত্রি রুশোর এমন কথায় কিছুটা অবাক হয়। পর মুহূর্তে আবারো ঝাঁঝালো গলায় বলে উঠলো,

- একটা কাজও কি ঠিক মতো করতে পারেন না আপনি? আর মেয়ে মানুষের মতো পড়ে গেলেন কেনো। ইভেন এতোবার বলার পরই বা সরছিলেন না কেনো আমার ওপর থেকে?

.

- আরে আরে কাম অন! জাস্ট রিল্যাক্স না! এতো হাইপার হলে ডেকোরেশন করবে কি করে? হাও? সো জাস্ট চিল। ওটা একটা এক্সিডেন্ট ছিলো জাস্ট। নাথিং এলস! এন্ড সরি ওনাস এগেইন ফর.....

.

বলেই টুপ করে নিজের কপালের সাথে রাত্রির কপালে আরেকবার আস্তে করে বারি মেরে উলটো দিকে ফিরেই দৌড়ে যেতে যেতে বলে উঠলো,

- ছোটবেলায় মাম্মা বলতো, কারো সাথে মাথায় একবার বাড়ি খেলে শিং গজায়। দুবার খেলে আর গজায় না। আমার সুইট কিউট ফেইসে শিংটা খুবই বাজে লাগবে, সো আরেক টা বারি দিলাম। সরি এটম বোম্ব.......!(জোড়ে টান দিয়ে)

.

রুশো আর রাত্রির দিকে ফিরে তাকায় নি। এক ছুটে ছাদ থেকে বেরিয়ে গেছে সে। একবার যদি ফিরে তাকাতো তাহলে রেগেমেগে বোম্বাই মরিচ হয়ে যাওয়া রাত্রিকে ঠিকই দেখতে পেতো!

.

🍁

.

- খেতে এসো ডিনারের টাইম হয়ে গেছে! তোমার দ্বারা পড়াশুনা হবে না তা বোঝা হয়ে গিয়েছে আমার। তাড়াতাড়ি এসো। কুইক।

.

বলেই চলে গেলেন নীবিড় ভাইয়া। উনি যেতেই আমি উনাকে হাজারটা গালি বিড়বিড় করে দিতে দিতে ডাইনিং টেবলে এসে বসলাম। সবার আগে থেকেই এসে বসে গল্প জুড়ে দিয়েছে। আমার সাথে কেউ কথাই বলছে না। সবাই একে ওপরের সাথে কথা বলতেই ব্যস্ত। এমনকি রাত্রি পেত্নিটাও আমাকে ভুলে গিয়েছে। নিত্য আপুর সাথে কি সুন্দর হেসে হেসে গল্প করছে। আর এই তিন বান্দরের দল তো গল্পের ঝুলি খুলে বসেছে যেনো। আমি শুধু মুখ ফুলিয়ে দেখে যাচ্ছি সব কিছু। বড্ড অভিমান হচ্ছে আমার। ঠিক আছে ওরা কথা বলবে না তো আমিও বলবো না। আমার কি ঠেকা! যত্তসব!

আম্মুও তেমন কথা বললো না। আব্বু নাকি আজ ঘরেই খাবে। অফিস থেকে টায়ার্ড হয়ে ফিরেছে। তাই আম্মু আমাদের খেতে দিয়ে নিজের জন্য আর আব্বুর জন্য খাবার বেড়ে নিয়ে চলে গেলো।

.

কোনোরকমে রাগে গজগজ করতে একটু খেয়েই উঠে পড়ি আমি। উঠেই বড়বড় পায়ে ঘরের দিকে হাটা ধরি। আজ খেতেও ভালো লাগছেনা। তাছাড়া অর্ধেক পেট তো তখন পানি খেয়েই ভরিয়ে ফেলেছি। কে জানে আজ বাথরুম যেতে যেতে ঘুম হবে কিনা।

আমি কিছুদূর আসতেই পেছন থেকে সবার চাপা হাসির আওয়াজ ভেসে আসছিলো। তাতে আমার কি? হাসুক। হাসতে হাসতে শহীদ হয়ে যাক সবাই, তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না হুম।

.

.

.

চলবে.......................💕

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন