ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

২৪তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-২৪♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

.

🌺

.

ছাদে পা রাখা মাত্রই আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম যেনো। নড়বার শক্তিও হাড়িয়ে ফেলেছি আমি। শুধু মুগ্ধ নয়নে চেয়ে রয়েছি।

.

ছাদের আনাচে কানাচে নীল সাদা মরিচ বাতি দিয়ে সাজানো। পুরো ছাদের সাথে ফুলের টবগুলোও ঝকমক করছে। আমার দোলনাটায় এত্তোগুলো ফুল দিয়ে সাজানো। ছাদের মাঝ বরাবর একটা গোল টেবিল তার ওপরে আমার পছন্দের এত্তোবড় একটা কেক। তার ঠিক পেছনে খানিকটা উঁচুতে বড় একটা ঝুলানো ব্যানার টাঙানো। তার দুপাশে নীল সাদা রং এর বেলুন লাগানো। ছাদের প্রত্যেকটা পিলারে বেলুনের বাহাড়। এমনকি পুরো ছাদের ফ্লোরেই বেলুনের ছড়াছড়ি।

.

নিত্য আপু খুব মন দিয়ে কেক ডেকোরেশন করছে। রাত্রি ক্যান্ডেল হাতে টেবিলের দিকে যাচ্ছে। অগ্নি ভাইয়া দুহাতে দুটো টেডিবিয়ার নিয়ে দোলনায় রাখছে। ওদিকে রুশো ভাইয়া বেলুন ফোলাচ্ছে। বর্তমানে অর্ধেক ফুলিয়েছে। কিন্তু শুধু নীবিড় ভাইয়াকে কোথাও দেখতে পারছিনা।

.

হঠাৎ, আমাকে দেখে সবাই একদফা ভূত দেখার মতো চমকে গেল। সবাই যেনো স্টাচু হয়ে গিয়েছে। রুশো ভাইয়ার অর্ধেক ফোলানো বেলুন ফুসসসস....! করে চুপসে ভাইয়ার মুখ থেকে উড়ে গেলো।

পর মুহূর্তে সবাই ঘড়ির দিকে এক পলক চেয়েই একসাথে "Happy Birthday Anannya" বলে চেঁচিয়ে উঠলো। সাথে সাথেই এক বস্তা গোলাপ ফুলের পাপড়ি আমার ওপর এসে পড়তে শুরু করলো। আমি অবাক হয়ে ওপরে তাকাতেই দেখি এই ফুলের পাপড়ি গুলো এমনি এমনি নয় বরং আমার হ্যান্ডসাম সাদা বিলাই আমার ওপর ছড়াচ্ছেন। উনাকে এক পলক দেখেই আমার মুখে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো। এত্তো সুন্দর সারপ্রাইজ দেখে খুশিতে আমার হাত পা অবশ হয়ে আসছে। চোখে পানি চিকচিক করছে। এ তো কোনো কষ্টের অশ্রু নয় এতো পরম সুখের অশ্রুকণা!

.

নীবিড় ভাইয়া ওপর থেকে ততক্ষণাত নেমে এলো। উনি বাদে বাকি সবাই দৌড়ে এসে আমার খুব টাইডলি হাগ করে বসলো,

.

- কি টাইমিং রে অনু! আমরা তো কাজে কাজে ভুলেই গিয়েছিলাম ১২ টা বেজে আসছে। একদম ঠিক টাইমে ছাদে এসেছিস। (অগ্নি)

.

- বার্থডে গার্ল, তো বলো কেমন লাগলো আমাদের দেওয়া সারপ্রাইজ? (নিত্য)

.

- স্পিচলেস! আমি বাকরুদ্ধ! (আনমনেই বলে উঠলাম)

.

সবাই আমার কথা শুনে হাসা শুরু করে দিলো। রাত্রি আমার মাথায় একটা চাটি মেরে বলে উঠলো,

- অনন্যা রে, তোর সবার বার্থডে মনে থাকে আর নিজেরটাই ভুলে গিয়েছিলি?

.

আমি মাথা চুলকে চুলকে বলে উঠলাম,

- সেই রে! তোর অত্যাচার দিন দিন বেরেই চলেছে। দেখ এখনই সব ভুলে যাচ্ছি। তোর চেঁচামেচিতে না নিজেকেই ভুলে যাই!

.

রাত্রি আমার কথা শুনে চোখ ছোটছোট করে কেবল বকতে যাবে তার আগেই রুশো ভাইয়া চোখমুখ ঢেকে বলে উঠলো,

- প্লিজ! ছুটকির বার্থডের দিন এটলিস্ট এটম বোম্ব ফাটিয়ো না।

.

ভাইয়ার কথায় হু হা করে হেসে উঠলাম আমরা। আর রাত্রি কটমট করে ভাইয়ার দিকে তাকিয়েও আমার জন্য কিছু বললো না।

.

- হ্যা রে ভাইয়া! আম্মু আব্বু কেও ডাকতি!

.

- নারে আম্মু আব্বু জানেই। আর আব্বুর তো রাত জাগা যাবেই না। আম্মুকে আসতে বলেছিলাম বাট বললো ছোটদের মধ্যে আসতে চাইলো না। বিকেলে তো আয়োজন করবেই তখন সবাই থাকবে। চিন্তা করিস না। এটা তো জাস্ট আমাদের প্লান ছিলো। (অগ্নি)

.

- হেই ব্রো সিস, তোমাদের হলে চলো, ছুটকিকে দিয়ে কেক কাটাই। আমি আর ওয়েট করতে পারছিনা ট্রাস্ট মি! ইশশ দেখতেই কি ইয়াম্মি লাগছে খেতে কেমন লাগবে ভাবলেই....! (রুশো)

.

রুশো ভাইয়ার কথায় হেসে উঠলাম আমরা সবাই। এমনি এমনি কি আর ওকে জোঁকার বলা হয়?

নিত্য আপু টেবিল থেকে কিছু একটা এনে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,

.

- অনন্যা, এটা তোমার জন্য!

.

বলেই আমার মাথায় একটা সাদ পাথরের তাজ পড়িয়ে দিলো। তাজটা অসম্ভব সুন্দর! সিম্পলের মধ্যে। যেমনটা প্রিন্সেসরা পরে অনেকটা সেরকমই।

.

- থ্যাংকইউ সো মাচ আপুউউউউ!

.

- থ্যাংক ইউ আমায় না বলে ওই যে ভাইয়াকে বলো। ভাইয়া সারা মার্কেট ঘুরে বেছে বেছে এই তাজ টা নিয়ে এসেছে।

.

আপুর কথা শুনে আমি তাজ্জব বনে গেলাম। বলে কি! নীবিড় ভাইয়া কিনেছে এটা? তাও আমার জন্য? উনার মতো বদমেজাজি, গোমড়া মুখো সাদা বিলাই কি না আমার জন্য কিনেছে? উনি তো আমায় সহ্যই করতে পারেন না। সবটাই কি তবে বেস্টফ্রেন্ডের বোন দেখেই?

হবে হয়তো! ভেবেই একটা দীর্ঘঃশ্বাস ছাড়লাম আমি। আসলেই উনার পছন্দ আছে বৈকি।

.

🍂

.

আজ থেকে উনিশ বছর পূর্ণ হলো আমার। সেই সুবাদেই কেকের ওপরে "1" এন্ড "9" ডিজিটের দুটো ক্যান্ডেল জ্বালানো।

নিত্য আপুর ট্যালেন্ট দেখে আমি হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি। এটা যে ঘরে বানানো কেক বোঝার বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই। ডেকোরেশন ও তাই। একটা স্মাইলি ফেইস আঁকানো তাতে। পাশে বড়বড় করে আমার নাম লেখা! ওরে ট্যালেন্ট রে। আর আমি চা পর্যন্ত বানাতে পারি না, ভেবেই নিজের গালে আস্তে করে একটা চড় বসিয়ে দিলাম।

.

- ওই ফুঁ দে। (অগ্নি)

- হ্যা! অনন্যা কি ভাবছো ফুঁ দাও। (নিত্য)

.

আমার এক পাশে অগ্নি ভাইয়া, আরেক পাশে রাত্রি। রাত্রির পাশে রুশো ভাইয়া, আবার রুশো ভাইয়ার পাশে নীবিড় ভাইয়া, আর উনার পাশে নিত্য আপু। আবার নিত্য আপুর পাশে অগ্নি ভাইয়া। বলতে গেলে সবাই আমাকে ঘিরে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমার ঠিক সামনে নীবিড় ভাইয়া।

অগ্নি ভাইয়া আর নিত্য আপুর তাড়া দেওয়ায় আস্তে করে হেলে ফুঁ দিলাম। কিন্তু কপাল আমার একটা ক্যান্ডেল নিভলেও আরেক টা নিভে নি। তা দেখে সবাই হেসে দিলো আর অগ্নি ভাইয়া আমার মাথায় চাটি মেরে বলে উঠলো,

.

- ওরে আহাম্মক রে। সামান্য দুটো ক্যান্ডেলও ফুঁ দিয়ে নেভাতে পারে না।

.

ভাইয়ার হাতে একটা চিমটি কেটে দিয়ে ভেংচি কাটলাম আমি। এবার জোড়ে একটা ফুঁ দিয়ে দুটো ক্যান্ডেলই ফেলে দিলাম।

.

🌸

.

কেক কেটে পড়লাম মহাবিপদে। সবার আগে কাকে খাওয়াবো এই নিয়ে টেনশনে পড়ে গেলাম। শেষে সিদ্ধান্ত নিলাম আমার ডান দিক থেকে যতদূর হাত যায় ততদূর যে যে থাকবে তাকে খাওয়াবো দেন বাম দিকে যারা থাকবে তাদের খাওয়াবো। সেই সিদ্ধান্তেই অটুট হয়ে ভাইয়াকে আগে কেক খাওয়ালাম। কেকের টুকরোটা ছোট করে কাটায় অগ্নি ভাইয়াকে খাইয়ে নিত্য আপুকে দিয়েই শেষ হয়ে গেল। তবে একটা জিনিস খেয়াল করলাম কেক খাওয়ানোর সময় দুজনই লজ্জা টাইপ মুচকি মুচকি হাসছিলো। হাসুক ঠিক আছে বাট লজ্জা লজ্জা ফিলিংস কেনো? ভাববার বিষয় হলেও ব্যাপারটা তেমন পাত্ত না দিয়ে আবারোও কেক কেটে এক পিস নিলাম রাত্রিকে খাইয়ে রুশো ভাইয়াকে দিবো তখনই দেখি ভাইয়া আগে থেকেই হা করে রয়েছে। আমি ফিক করে হেসে পুরো পিস টাই রুশো ভাইয়াকে দিয়ে দিলাম। রুশো ভাইয়াও মনের সুখে কেক খেতে লেগে পড়লো।

.

এবার আমার বুক ধুক ধুক করছে কারণ লাস্ট ওয়ান যিনি এখনোও কেক খান নি তিনি হলেন ওয়ান এন্ড ওনলি মুখসধারী সাদা বিলাই। উনাকে চেনা বড়ই মুশকিল। সবার সামনে আমার সাথে হেসে হেসে কথা বললেও, কেউ না থাকলে একেবারে সাবান ছাড়াই ধোলাই দিয়ে ছেড়ে দেন। হাহ!

আচ্ছা উনাকে খাওয়ানো টাকি খুব জরুরী? না খাওয়ালে হয় না? উনি তো তাকাচ্ছেন ও না। তাহলে বরং নাই খাওয়াই।

এসব আকাশ পাতাল ভাবছি তখনই ভাইয়ার গলা কানে এলো,

.

- কিরে? কি ভাবছিস? নীবিড় কে খাওয়া।

.

ভাইয়ার ভাবনার মাঝখানে সাইকেল চালানোর জন্য আমার সাজানো গোছানো পরিকল্পনাটা একদম মাঠে মারা গেল। আমি মুখ গোমড়া করে এক পিস কেক নিয়ে উনার সামনে গেলাম। উনি আমাকে দেখে কিঞ্চিত ভ্রু কুঁচকালেন, সাথে ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে তুললেন। যা জানান দিচ্ছে তিনি মনে মনে কোনো ফন্দি আটছেন নিশ্চয়। আমি ভয়ে ভয়ে উনার মুখের কাছে কেকের টুকরোটা এগোতেই উনি আমার হাত ধরে কেকের সাথে আমার হাতের আঙুলও মুখে ঢুকিয়ে নিলেন। এমন আকস্মিক ঘটনায় আমি চোখ বড়বড় করে ফেললাম। সাথেসাথেই উনি আমার আঙুলে "কচ" করে কামড় বসিয়ে ছেড়ে দিলেন। আমি ব্যাথায় যেই না মুখ খুলে চেঁচাতে যাবো তার আগেই উনি কৌশলে কেকের বাকি অংশ আমার মুখে পুড়ে দিলেন। সবটা সবার অগোচরেই ঘটে গেল। কারণ সবাই তো মজা করতে ব্যস্ত।

নীবিড় ভাইয়া আমার দিকে বাম সাইডের ভ্রু উঁচু করে নিজের ঠোঁট বামদিকে বাঁকিয়ে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে ভাইয়াদের কাছে চলে গেলেন।

আর আমি কেক নিয়েই মুখ ফুঁলিয়ে রোবটের মতো দাঁড়িয়ে আছি। কেক টাকে চাবানোর কথাও মাথায় নেই আমার।

হঠাৎ মনে পড়ায় কোনোরকমে কেকটা গিলে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিলাম। কি হলো একটু আগে? ইয়া আল্লাহ! আমাকে বাঁচাও এই জল্লাদের কাছ থেকে। দিনে দুপুরে এতো অত্যাচার আর সহ্য করা যায় না।

ভাইরে তুই কি এই দুনিয়ায় আর বেস্টু পাইস নাই?

.

🌹

.

- মাম্মিইইইইইইইইইই.................!

.

বলে চেঁচিয়েই ভয়ে কুঁকয়ে উঠে রাত্রিকে চেপে ধরে ওর পেছনে মুখ লুকালো রুশো ভাইয়া!

.

ভাইয়ার এহেন কান্ডে কেউই কিছু বুঝে উঠতে পারছি না আমরা। আবার কি হলো? আগের বার নাহয় রাত্রির কথা বলায় ভয় পেয়ে ভাইয়ার কোলে উঠেছিলো রুশো ভাইয়া। কিন্তু এবার ভয় পেয়ে রাত্রিকেই চেপে ধরলো কেনো?

.

- একি কি করছেন? ছাড়ুন আমায়!

.

রুশো ভাইয়া রাত্রির কথায় কিঞ্চিত পরিমাণেও সরলো না। বরং ওকে ধরে রেখেই সামনে আঙুল দেখিয়ে বলে উঠলো,

- ক...ক..ক..ককরোচ.....!

.

রুশো ভাইয়ার দেখানো আঙুল বরাবর তাকিয়ে দেখি একটা আরশোলা হেটে যাচ্ছে। হায় কপাল! আমি আরশোলা দেখে একটু ভয় পেলেও রুশো ভাইয়ার ভয় পাওয়া দেখে নিজেকে বড়ই সাহসী বলে মনে হচ্ছে আমার।

.

অগ্নি ভাইয়া হাসতে হাসতে আরশোলা টাকে সরিয়ে দিয়ে এসে আরোও মজা করে বলে উঠলো,

- রুশো...! এই দেখ আমার হাতের মুঠোয় আরশোলাটা আছে। তোকে হ্যালো, হায় বলার জন্য ছটফট করছে!

.

ওমনি রুশো ভাইয়া "নোওওওও....!!" বলে চোখ বন্ধ করে চেঁচিয়ে উঠে রাত্রিকে একেবারে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো।

বর্তমানে রাত্রির অবস্থা একেবারেই দেখার মতো হয়েছে। না পারছে ভাইয়াকে ছাড়াতে আর না পারছে সইতে....!

ব্যাপারটায় কার কি মনে হচ্ছে তা জানি না তবে আমার ব্যাপক মজা লাগছে! হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যাবে বোধহয় আমার!

.

.

.

চলবে....................💕

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন