#প্রেম_আমার♥
#পার্ট-২৫♥
#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥
.
🌸
.
ছাদের এক কোণে বসে নাকে বরফ লাগাচ্ছে রুশো ভাইয়া। তার ঠিক পাশে গালে হাত দিয়ে বসে আছি আমি। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার নাক টাকে টমেটো বানিয়ে ছাড়লো রুশো ভাইয়া। আমি বুঝিনা দেহের এতো গুলো অঙ্গ-প্রতঙ্গ থাকার পরোও রাত্রির চোখে কোনো ভাইয়ার অসহায় নাকটাই পড়ে! হুয়াই?
.
অগ্নি ভাইয়া আর নীবিড় ভাইয়া নিজেদের মধ্যে কিসব খুশুর ফুশুর করে যাচ্ছেন। আর একটু পর পর মুখ টিপে হেসে চলেছেন। ওদিকে নিত্য আপু চেয়ারে বসে হাই তুলছে। যা জানান দিচ্ছে আপুর চোখে এক বস্তা ঘুম এসে বাসা বেঁধেছে।
আর রাত্রি তো তখন রুশো ভাইয়ার নাকটাকে টমেটো বানিয়েই ঘরে চলে গেছে। এতোটা রাগ কেনো করলো ও? রুশো ভাইয়া তো আর ইচ্ছে করে করে চেপে ধরে নি ওকে। ভয় ভাঙার পর বেশ কয়বার সরি ও তো বলেছে তাও এতো রাগ! ইশশ কি ঘুষি টাই না মেরেছিলো! ভাবলেই মনে হয় এই বুঝি আমার নাকটাই ফেটে গেল রে।
.
ঘরের দরজা লাগিয়ে বালিশ কোলে নিয়ে এক নাগারে কেঁদে যাচ্ছে রাত্রি। সে এই জন্য কাঁদছে না যে রুশো তাকি জড়িয়ে ধরেছিলো। বরং সে তো কাঁদছে অগ্নির জন্য। ফোঁফাতে ফোঁফাতেই অস্পষ্ট গলায় বলে যাচ্ছে সে,
.
- কেনো অগ্নি ভাইয়া কেনো করলেন এমন? অন্য কেউ আমাকে ধরায় কোথায় ছাড়িয়ে দেবেন তা না আরোও এমন মজা করলেন যেনো ওই ধলা ইন্দুর আরোও আমায় চেপে ধরে। আপনার কিচ্ছু যায় আসলো না? আরোও হাসাহাসি করছিলেন আমায় নিয়ে আপনি। কেনো? আপনি কি বোঝেন না যে আমি আপনাকে ভালোবাসি। কই আপনি নাকি মেয়েদের সাথে কথা বলেন না, নিত্য আপুর সাথে তো খুব হেসে খেলেই কথা বলেন আপনি। আজ এতো সুন্দর করে সাজলাম, এক নজর দেখলেনও না। কেনো বলুন?
.
এসব বলছে আর ফুঁপিয়ে কাঁদছে রাত্রি। সব কষ্ট যেনো একসাথে ভর করছে আজ। চোখের জলগুলোও বাঁধ মানছে না যেনো। অবলিলায় গড়িয়ে পড়ছে
চোখজোড়া থেকে তার।
.
🌹
.
সবার মাঝেই যখন পিনপতন নীরবতা বিরাজমান তখনই সেই নীরবতার পর্দা ভেদ করে নিত্য আপু এক আঙুল উঁচু করে বসা থেকে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো,
.
- গাইস, আই হ্যাভ এন আইডিয়া!
.
নিত্য আপুর কথা শুনে সবাই এক্সাইটেড হয়ে যেই না বলে উঠলাম "কি আইডিয়া?" ওমনি মুখে হাত দিয়ে হাই তুলতে তুলতে আপু বলে উঠলো,
.
- জেগে থেকে কোনো লাভ নেই। চলো গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি সবাই।
.
আপুর এমন আইডিয়া শুনে সবাই একসাথে চেঁচিয়ে উঠে বলে উঠলাম "What ???" যা শুনে কানে দু হাত চেপে গোমড়া মুখ করে আবারোও ধপ করে বসে পড়লো নিত্য আপু। ঠোঁট উল্টে আবারোও বলে উঠলো,
.
- তো আর হবে টা কি? এখন ১ টা বেজে ৩০ মিনিট। তাতে নাকি ২ টো পর্যন্ত জেগে হই হুল্লোড় করবো আমরা। তা না সবাই চুপচাপ। কিচ্ছু ভেবে পেলে না কেউই? তার থেকে তো ঘুমোনোই ঢেড় ভালো। নয় কি?
.
নিত্য আপুর এমন কথায় গলা খাঁকারি দিয়ে উঠলো অগ্নি ভাইয়া। বুক ফুলিয়ে একটা দীর্ঘঃশ্বাষ টেনে আমায় উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,
.
- অনু যা তো আমার ঘর থেকে গিটারটা নিয়ে আয়। সবার ঘুম ছোটাচ্ছি আমি।
.
ভাইয়া গান গাইবে শুনেই খুশিতে চোখ চিকচিক করে উঠলো সবার। ভাইয়ার গানের গলা আসলেই মারাত্মক। একদম ঘায়েল করে দেওয়ার মতো। ভাইয়ার গান শুনলে মনে হয় কান দিয়ে না বরং মন দিয়ে শুনছি। একদম বুকে এসে লাগে!
কিন্তু ভাই আমার যে কিনা স্টেজ ছাড়া গানই করে না সে কিনা আজ সবাইকে লাইভ গিটারে টিউন তুলে গাইবে তাও কোনো জোড়াজুড়ি ছাড়াই! ব্যাপারটা ঠিক হজম করতে কষ্ট হচ্ছে আমার।
তবুও এক্সাইটমেন্ট যেনো আর ধরে না।
.
এদিকে রুশো ভাইয়া ভাইয়ার গান শুনার উত্তেজনায় হাত উঠিয়ে লাফাতে নিতেই নাকে হাত লেগে বারি খেয়ে "আউউচ" করে উঠে আবারোও নাকে বরফ ঘষতে লেগে পড়লো। যে দেখে আমি ফিক করে হেসে রুশো ভাইয়ার চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে হাঁটা ধরলাম ভাইয়ার রুমের দিকে। আসার সময় রাত্রিকে আবারোও মানানোর চেষ্টা করবো। এতক্ষণে রাগ কমার কথা নিশ্চয়।
.
গিটার হাতে রাত্রির ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমি। এই নিয়ে কম করে হলেও পাঁচ কি ছ বার ডেকেছি ওকে, যাতে আমাদের সাথে ছাদে যায়। কিন্তু প্রতিবারই ফিল্মের বোরিং ক্যারেকটারদের মতো উত্তর দিয়েছে সে " তোরা যা। আমাকে একটু একা থাকতে দে"! যা শুনে আমার মাথায় আতশবাজি ফুটতে শুরু করে দিয়েছে। শেষমেশ রেগে গেলাম আমি। এতোটা রিয়াক্ট করার কোনো মানে হয় নাকি? রাত্রি এবার একটু বেশি বেশি করছে। রেগেমেগে একপ্রকার চেঁচিয়েই বলে উঠলাম,
.
- ঠিক আছে। থাক তুই আসতে হবে না। আজকের দিন টায় ও রেগে বসে কাটিয়ে দে।
ভাইয়া গান গাইবে এখন। আমি গিটার নিয়ে গেলাম। টাটা। কানে তুলো দিয়ে ঘুমো।
.
বলেই হাটা ধরলাম আমি। ভেতর থেকে কোনো উত্তর আসার অপেক্ষায় রইলাম না আর। যে বুঝতে পারে না তাকে বোঝানো যায়, কিন্তু যে বুঝতেই চায় না তাকে হাজার চেষ্টা করেও কিছু বোঝানো যায় না। তাই আর ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়ে সময় নষ্ট করলাম না আমি। আজ আমার জন্মদিন, এই দিনেও যদি সে আমার সাথে কথা না বলে তাহলে এ কেমন জন্মদিন? পেত্নি একটা! তোর বর যে হবে সে তোকে দিনরাত ২৪ ঘন্টা জালিয়ে মারবে। দেখে নিস।
.
এরকম আরোও হাজারটা বকবক করতে করতে ছাদে গিয়ে পৌঁছোলাম আমি। আমি যেতেই দেখি মেঝেতে কার্পেট বিছিয়ে অলরেডি গোল হয়ে বসে গিয়েছে সবাই। আমি গিয়ে গিটারটা ভাইয়ার হাতে দিয়ে নিত্য আপুর পাশে বসে পড়লাম। আমার বাম দিকে রুশো ভাইয়া। তার পাশে নীবিড় ভাইয়া আর তার পাশে অগ্নি ভাইয়া। আবার অগ্নি ভাইয়ার পাশে নিত্য আপু। এরকম একটা সিকুয়েন্স বজায় রেখে বসেছি সবাই। এবারোও সাদা বিলাই আমার ঠিক সামনে। কি কপাল ! কেনো যে বারবার আমাকে উনার মুখোমুখিই হতে হয় কে জানে!
.
ভাইয়া গিটারে টিউন তুলবে ঠিক সেই সময়েই কারো আগমনের শব্দে সবাই পেছন ফিরে তাকালাম।
রাত্রি ধীর পায়ে গুটিশুটি মেরে এগিয়ে আসছে এদিকেই। আমি ওকে দেখে খুশি হলেও মুখে তা প্রকাশ না করে মুখ ফুলিয়ে রুশো ভাইয়ার দিকে চেপে বসলাম। রুশো ভাইয়া এক পলক রাত্রির দিকে চেয়েই চোখ নামিয়ে নিলো। রাত্রি আমার আর নিত্য আপুর মাঝে চুপটি করে বসে পড়লো।
.
- কি রাত্রি, এতোক্ষণে তোমার রাগ কমলো!
আর রাগ করে থেকোনা গো পাখি। দেখো রুশো ভাইয়া সেই কখন থেকে মন খারাপ করে রয়েছে। ভাইয়া তো আর ইচ্ছে করে কিছু করেনি তাইনা?
.
রাত্রি মুচকি হেসে বলে উঠলো,
- আমি আর রেগে নেই আপু।
.
নিত্য আপু রাত্রির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে মিষ্টি করে হেসে বলে উঠলো,
- এইতো গুড গার্ল!
.
বিনিময়ে রাত্রিও হাসলো। আমি রেগে আছি বুঝতে পেরে রাত্রি আমার হাত ধরে করুন সুরে বলে উঠলো,
- সরি অনন্যা! আমি একটু বেশিই রিয়াক্ট করে ফেলেছিলাম। আর এমন হবে না। প্লিজ রাগ করে থাকিস না আর।
.
আমি রাত্রির দিকে একবার ভ্রু কুঁচকে বিরক্তিমাখা চোখে তাকিয়েই পর মুহূর্তে ফিক করে উঠলাম। আমার হাসির সাথে বাকি সবাইও হেসে তাল মেলালো। আপনজনদের প্রতি রাগ জিনিসটা আমার নেই বললেই চলে। যা আছে সেটা শুধুই অভিমান। তাও ক্ষণিকের জন্য। আমার মতে অতিরিক্ত রাগ-অভিমান এসব সম্পর্কে ক্ষতের সৃষ্টি করে। যা আমি মানতে একেবারেই নারাজ। কেনো শুধু শুধু রাগ অভিমান করে জীবনের সুন্দর মুহূর্ত গুলো নষ্ট করতে হবে? পরে তো ঠিকই আফসোস করতে হয়। তার থেকে এসব রাগ অভিমান না করে ফুরফুরে মেজাজেই থাকা শ্রেয়।
.
🍂
.
ভাইয়া গান গাইতে চেয়েই যেনো পড়লো মহাবিপদে। কোন গানটা গাইবে এই নিয়ে বড়ই কনফিউজড ভাইয়া। কারণ আমরা এক একেকজন একেক গানের আবদার করে বসছি। একপ্রকার চেঁচামেচিই শুরু করে দিয়েছি বলা যায়। একেকজনের একেক আবদার শুনে ভাইয়া হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। শেষে আর না পেরে "স্টপ" বলে চেঁচিয়ে উঠলো ভাইয়া।
.
- চুপ সবাই চুপ। আমার যেটা পছন্দ সেটাই গাইবো। এটাই ফাইনাল।
.
ভাইয়ার কথায় আমরা সবাই মুখে আঙুল চেপে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম। নীবিড় ভাইয়া ভাইয়ার কানে ফিসফিসিয়ে কি জেনো বলে সরে আসলো। ভাইয়াও চোখের পলক ফেলে সম্মতি জানালো। ব্যাপারটা বুঝলাম না। না বুঝেই আপাতত গান শুনায় মনোযোগ দিলাম আমি।
.
- Soch na Jeyada, keya hain irada,
Mujhko bol de...!
Kiu hein khafa tu raj jo dilke
Mujhpe khol de....!
Tu udas to chehere pe,
Mere udasi chayi hein......!
PAGLE Tu...Mera Bhai Hain...!
PAGLE tu...Mera Bhai hain.....(||)
.......................................................
.
ভাইয়ার গান শুনে সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেলো যেনো। তবে সবচেয়ে বেশি খুশি বোধহয় নীবিড় ভাইয়াই হয়েছেন। গানটা স্পেশালি নীবিড় ভাইয়াকে ডেডিকেট করেই গেয়েছে ভাইয়া এটা স্পষ্ট! নীবিড় ভাইয়ার চোখে পানি চিকচিক করছে। ঠোঁটের কোণে সেই প্রশান্তিমাখা হাসি ফুটে উঠেছে উনার।
.
- এই তোকে না বললাম এটা বাদে অন্য কোনো গান গাইতে! শালা, ইমোশনাল করে দিস কেন বলতো...!
(ভাইয়ার কান টেনে ধরে)
.
- আহহ...! লাগছে! ব্যাটা ছাড়। কোথায় থ্যাংকস জানাবি তা না। আর তুই আবার আমাকে শালা বলে ডাকলি? (চোখ ছোট ছোট করে)
.
- ওহ! বললাম নাকি? কি জানি মনে পড়ছে না তো! (মাথা চুলকে)
.
"দাড়া মনে করাচ্ছি" বলেই ভাইয়া নীবিড় ভাইয়ার মাথা চাটি মেরে দিলো।
মার খেয়ে দুজনেই হাসিতে ফেটে পড়লো। আমরা এতোক্ষণ নীরব দর্শকের মতো ওদের কান্ড কারখানা দেখছিলাম। এবার সবাই এক সাথে হাসা শুরু করে দিলাম।
.
রাত ২ টো বেজে ১২ মিনিট। ঘুমবাবাজি অলরেডি আমার চোখে কলিংবেল বাজিয়ে চলেছে। শুধু একটা আরামদায়ক বিছানা দরকার। ব্যাস তাতেই একটা জব্বর ঘুম দেবো আমি। আমার সাথে সাথে সবারই প্রায় একি অবস্থা! শুধু ভাইয়া আর নিত্য আপু বাদে। ব্যাপারখানা বড়ই অদ্ভুত! একটু আগে নিত্য আপু ঘুমে টুপছিলো। এখন আবার চোখে ঘুমের বিন্দুমাত্র লেশফেশ ও নেই।
আমি আর পারবোনা ঘুম আটকে রাখতে। ওদিকে রুশো ভাইয়া অলরেডি বসে বসেই ঘুমোনো শুরু করে দিয়েছে। রাত্রি আর আমার একি অবস্থা। হঠাৎ নীবিড় ভাইয়া ঘুমু ঘুমু চোখে বলে উঠলেন,
.
- অগ্নি, ভাই আমার আমি গেলাম। তুই টেবিল চেয়ার যার যার জায়গায় রেখে শুতে চলে আয়।
.
বলেই চোখ ডলতে ডলতে ভেতরে চলে গেলেন। নীবিড় ভাইয়ার যাওয়া দেখে রুশো ভাইয়াও টলমল করতে করতে ছুট লাগালো। এবার আমার আর রাত্রির যাওয়ার পালা। যেহেতু আর ঘুমের সাথে প্রতিযোগীতায় পারা যাচ্ছেনা।
.
- আমরা গেলাম। আপু, ভাইয়া তোমরাও এসো।
.
বলেই রাত্রিকে টানতে টানতে নিয়ে চলে এলাম। রাত্রির ঘুম চোখে টুপটুপ করছে তাও আসতে চাচ্ছিলো না কেনো আল্লাহ মালুম।
ঘরে এসে ধপাস করে শুয়ে পড়লাম। আহহ! আই লাভ ইউ ঘুম!
.
- আচ্ছা ভাইয়া, আপনি থাকেন। আমিও গেলাম।
.
বলেই যেই না নিত্য যেতে লাগলো ওমনি পেছন থেকে হেঁচকা টান মেরে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে ফেললো তাকে অগ্নি।
- কি আমি তোমার ভাইয়া লাগি এখন তাইনা?
.
- হুহ! যাও তো। কোথায় ভাবলাম আমাকে নিয়ে একটা রোমান্টিক গান গাইবে তানা আমার সমস্ত আশায় জল ঢেলে দিলে। আল্লাহ এত্তো সুন্দর ভয়েজ দিয়েছে হবু বউকে দু-চারটে গান উপহার তো দিতে পারো।
.
- ওহহো তাইতো বলি আমার মেমসাহেবের মুখ গোমড়া কেনো! আরে রাগ করছো কেনো বলতো? আমি তো তোমারই। যখন খুশি তখনই গান শুনতে পারবে। আচ্ছা কাল তোমাকে নিয়ে একটা গান গাইবো পার্টিতে ওকে? এবার তো হাসো।
.
নিত্য মুচকি হেসে অগ্নির গালে একটা চুমু এঁকে দিয়ে ছুট লাগালো ঘরে। আর অগ্নি ওখানেই স্টাচু হয়ে গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। আনমনেই বলে উঠলো সে "এটা কি ছিলো?"
.
🌺
.
আম্মু আব্বু পার্টির এরেঞ্জমেন্টের জন্য ব্যস্ত। এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে চলেছে। যদিও খুব বেশি কেউ আসবে না। আন্টি আংকেল, আর আব্বুর কিছু বন্ধুবান্ধব সাথে নীবিড় ভাইয়ার আব্বুও আসবে। আর আমরা ছোটরা তো আছিই।
সকাল সকাল নীবিড় ভাইয়া আর নিত্য আপু বাসায় চলে গেছিলো। আবার দুপুরের দিকে এসে কাজে লেগে পড়েছে। সবাই যার যার কাজেই ব্যস্ত। আরে আমি বার্থডে গার্ল আমাকে কেউ পাত্তাই দিচ্ছেনা। হুহ!
.
বড্ড খিদে পেয়েছে তবে সেটা যেমন তেমন খিদে নয়। টক জাতীয় কিছুর খিদে। লোকজন আসতে আসতে তো সন্ধ্যে হয়ে যাবে। এদিকে লাঞ্চ করেও যেনো পেট ভরে নি আমার। পেট আমার টক-ঝাল করে মরছে। সবাই ব্যস্ত কাকেই বা বলবো এই অদ্ভুতুড়ে খিদের কথা ?
ভেবেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাঁটা ধরলাম কিচেনের দিকে।
.
কিচেনে কেউই নেই। একটা বড় ঝুড়িতে এত্তোগুলো সিদ্ধ ডিম রাখা আছে। আশেপাশে কিছু না পেয়ে বাধ্য হয়ে ফ্রিজ খুললাম আমি। ফ্রিজের ভেতরে তাকাতেই চোখ আটকে গেলো আমার তেঁতুলের আচারের বয়ামে। আহা! এতোক্ষণ কই ছিলি তুই?
.
আচারের বয়াম হাতে নিয়ে কিচেনেই সিনের পাশে বসে আচার খেতে লাগলাম আমি। উফ! কি মজা!
আচার খেতে আমার কোনোকিছুরই হুশ নেই।
হঠাৎ কারো চাপা হাসির আওয়াজে ধ্যান ভাঙলো আমার। সামনে তাকিয়ে দেখি রাত্রি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়া শুরু করে দিয়েছে।
যা দেখে আমি ভ্রু কুঁচকে বলে উঠলাম,
.
- লাফিং গ্যাস খেয়ে এসেছিস নাকি? পাগলির মতো হাসছিস কেনো?
.
রাত্রি হাসতে হাসতেই বলে উঠলো,
- বা রে, তো হাসবো না? তুই যে বিয়ের আগেই প্রেগন্যান্ট হয়ে বসে আছিস! না হেসে কি আর পারা যায়?
.
রাত্রির কথা লাফ মেরে দাঁড়িয় রাগি গলায় বলে উঠলাম,
- ওই পেত্নি, কিসব আজেবাজে বকছিস? কোথায় বলা আছে আচার খেলেই প্রেগন্যান্ট হয়? আমার টকের খিদে লেগেছিলো তাই আচার খাচ্ছি!
.
আমার কথায় রাত্রি যেনো চরম অবাক। চোখ বড়বড় করে বলে উঠলো,
- সে কিরে...! তাহলে তো নিঃসন্দেহে প্রেগন্যান্ট! আল্লাহ গো......! কে করলো এটা?
.
আমি ওর কথায় রেগে গিয়ে "তবে রে বলেই" ঝুড়ি থেকে একটা ডিম হাতে নিলাম। রাত্রি বিপদের গন্ধ পেয়েই উলটো দিকে ছুট লাগালো সাথে আমিও। একটু যেতেই হাতে থাকা ডিমটা ছুড়ে মারার অভিনয় করে ভয় দেখাতে যেয়ে হাত ফসকে ডিমটা উড়ে গেলো আমার। আমি আর রাত্রি দুজনেই বিস্ময়ে ডিমের ল্যান্ডিং পয়েন্ট দেখতে ব্যস্ত হওয়া মাত্রই চোখ যেনো বেড়িয়ে এলো দুজনার। শেষমেশ সাদা বিলাইয়ের মাথায়ই ডিমটা গিয়ে সোজা ল্যান্ডিং করে বসলো রে।
.
আমি আরোও চরম অবাক হয়ে পড়লাম কারণ ডিম টা সেদ্ধ নয় বরং কাঁচা। যা দেখে মুখে দুহাত চেপে চোখ বড়বড় হয়ে এলো আমার। ডিমের কুসুম উনার মাথায় সূর্যমুখী ফুলের মতো ফুটে উঠেছে। আর সাদা অংশে মাখামাখি উনার গা! উনি রক্তিম চোখে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে আমার দিকে চেয়ে রাগটাকে একেবারে সঞ্চয় করে নিচ্ছেন।
এমন সময় রুশো ভাইয়া এই পরিস্থিতি দেখে বলে উঠলো,
.
- ওহ মাই আল্লাহ!
নীবিড় ব্রোর মাথায় ফুটলো আন্ডা!
এখন তো ছুটকি খাবে ডান্ডা!😱
.
.
.
চলবে..................💕