ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

২৬তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-২৬♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat) ♥

.

🌺

.

- ভা..ভা...ভাইয়া...! প্লিজ আমাকে যে..যেতে দিন। আমি তো আর ইচ্ছে করে আন্ডা ফুটাইনি! থুক্কু মানে ওই ডিম মারিনি। ওটা তো.. ইয়ে মানে ওই হাত থেকে ফসকে উড়ে গিয়েছিলো আর ল্যান্ড করার মরো ভালো জায়গা খুঁজে না পেয়ে আপনার মাথা টাকেই বেঁছে নিয়েছিলো। আ..আমার কোনো দোষ নেই।

.

এবারও উনি ভাবলেশহীন। আমি উনার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সেই কখন থেকে কাকুতিমিনতি করে চলেছি কিন্তু উনি তো উনিই। আমাকে ওখান থেকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে এসে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়েছেন। বর্তমানে আমি আর আন্ডামাখা সাদা বিলাই একই ওয়াশরুমে অবস্থান করছি। উনি দরজা আটকে দিয়ে দরজায় হেলান দিয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে রেখেছেন। এই নিয়ে কয়েকবার মাফ চেয়ে উনার কানে ডুগডুগি বাজিয়েছি কিন্তু উনি যেনো কিছু শুনতেই পারছেন না। আসার সময় রুশো ভাইয়া আর রাত্রিকে মুখে আঙুল চেঁপে থাকতে বলে এসেছেন। ওরাও নীবিড় ভাইয়ার রক্তিম চোখ দেখে ভয়ে কিছু বলার সাহস পায় নি। এদিকে আমি অসহায়! চেঁচামেচি করেও কোনো লাভ হবে না। কেউ এদিকে নেই। সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। তাই উনার কাছে মাফ চাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই, যদিও জানি মাফ তো আজীবনেও করবেন না, তবে আমাকে সাফ করে দিতে পারেন অবশ্য।

.

- ভা..ভাইয়া.....!

আর বলতে পারলাম না। উনি এবার হেলান দেওয়া থেকে উঠে সোজা আমার উপর আক্রমণ করে বসলেন। আমার দুবাহু শক্ত করে দুহাতে ধরে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরলেন উনি আমায়!

.

- একদম চুপ! আর একটা কথাও বলবে না তুমি। তোমার জন্য আজ আমার এই হাল! ইয়াক...! জাস্ট লুক এট মি! আমার কি অবস্থা করেছো তুমি!

এখন তুমিই এসব পরিষ্কার করবে। শ্যাম্পুর বোতল নিয়ে সাইডে দাঁড়াও। পানিশমেন্ট আরোও বাকি আছে।

.

বলেই ঝড়না ছেড়ে দিলেন উনি। ঝড়নার পানিগুলোর ছিটে এসে পড়ছে আমার ওপর। আর উনি চোখ বন্ধ করে ঝড়নার নিচে দাঁড়িয়ে ভিজে যাচ্ছেন। একসময় উনার চুল থেকে ডিমের কুসুমটা টুস করে পড়ে গেল। যা দেখে আমি মনে মনে বলে উঠলাম "ওভাবেই তো ভালো লাগছিলো উনাকে। কি সুন্দর সূর্যমুখী ফুলের মতো ফুটেছিলো উনার মাথায়!

তখন কার সিন টা আসলেই জাস্ট দেখার মতো ছিলো। কিভাবে ডিমটা উড়ে গেল! ওর সোজা সাদাবিলাইয়ের মাথায় ল্যান্ড করে বসলো!

ডিম ও কতো বুদ্ধিমান রে! ভাবা যায়? ঠিকই বুঝতে পেরেছিলো যে কার মাথায় ফুটা উচিৎ!

.

- এই মেয়ে! কি ভাবছো? নাও এখন কাজে লেগে পড়ো কুইক! (চেঁচিয়ে)

.

উনার হাই ভোল্টেজ ওয়ালা ধমক খেয়ে আমি পূনরায় বাস্তবে ফিরে এলাম। কিন্তু উনার ওই ডিমমাখা চুলে হাত দেবো কিভাবে? ইয়ুউউউ!!! এমনিতেই তো উনার কাছে গেলেই ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসে। সেখানে উনাকে শ্যাম্পু করিয়ে দেবো আমি? ইম্পসিবল!

তাই মনে মনে একটা ফন্দি আটলাম। জানি না কাজে দেবে কি না। তাও শেষরক্ষার জন্য আটানো ফন্দিটাকে বাস্তবায়ন করা জরুরী! পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য মুখটা কাচুমাচু করে ইনোসেন্ট মার্কা হাসির রেশ টেনে বলে উঠলাম,

.

- ভা...ভাইয়া! আপনি এতো রাগ করছেন কেনো বলুন তো? আপনার তো আরোও আমার কাছে থ্যাংক ফুল থাকা উচিৎ!

.

নীবিড় ভাইয়া এবার চোখ খুললেন। বিস্ময়ে "What?" বলে চেঁচিয়ে উঠলেন উনি। আবারোও আমি মুখটা কাচুমাচু করে বলে উঠলাম,

.

- আসলে কি জানেন ভাইয়া! ডিম বড়ই উপকারী একটা খাদ্যবস্তু! ডিম খেলেই যে শুধু উপকার তা নয়! এটা লাগিয়েই মানু্ষ উপক্রিত হয়। দেখেন না এখন কার মানুষ ডিম খাওয়ার বদলে মাখে। এটা দিয়ে বিভিন্ন ফেইস প্যাক তৈরী করে। আর চুলের কথা বলবেন তো, ডিমের কোনো তুলনাই হয় না। চুল ঘন, সিল্কি, মজবুত করায় ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ডিম মেরে তো আরোও আপনার চুল সুন্দর করে দিলাম আমি। এখন বলুন, আমাকে থ্যাংকস দেবেন নাকি শাস্তি!

.

উনি আমার দিকে দিকে কিছুক্ষণ ভ্রু কুঁচকে চোখ ছোটছোট করে তাকিয়ে পর মুহূর্তে হু হা করে হেসে ফেললেন।

আমি বুঝলাম না হাসলেন কেনো উনি? উনার তো উলটে আরো রাগ করবার কথা ছিলো। তাহলে কি সত্যিই আমার ফন্দি কাজে লেগে গেলো?

ভেবেই মনটা খুশি হয়ে গেলো। কিন্তু এই খুশি আর বেশিক্ষণ টিকলো না যখন সাদা বিলাই হাসতে হাসতেই বলে উঠলেন,

.

- সিরিয়াসলি অনন্যা! তুমি আমায় তোমার স্টুপিড লজিক দিয়ে ভোলাতে চাইছো? কত্তো ডাম্ব তুমি! উফফফ.....!

.

বলেই আবারো হাসতে লাগলেন। এবার পড়লাম আমি বড়ই দুশ্চিন্তায়। তার মানে কি সত্যিই আমাকে উনার ডিমমাখা চুলে শ্যাম্পু করিয়ে দিতে হবে? আল্লাহ গো! সামবদি খিল মিহ পিলিজ!

.

🌸

.

কিচেনের পাশে চেয়ার টেনে বসে নখ খাচ্ছে রুশো। তার ঠিক সামনে পায়চারী করে যাচ্ছে রাত্রি। তাদের দুজনেরই টেনশনে ঘাম ছুটে যাচ্ছে। কে জানে আবার কান ধরে উঠবস করায় নাকি অনন্যা কে! রাত্রি হঠাৎ পায়চারী থামিয়ে একবার রুশোর দিকে তাকালো। রুশো এখনোও সমানে নখ কামড়ে যাচ্ছে।

যা দেখে বিরক্তবোধ করলো রাত্রি। তার মতে এসব নখ কামড়ানো বাচ্চাদের কাজ সেখানে এতো বড় একটা ছেলে নখ কামড়াচ্ছে। যদিও রুশোকে দেখতে বাচ্চাদের মতোই লাগে।

.

- এইযে আপনি, সেই কখন থেকে নখ কামড়ে যাচ্ছেন। বন্ধ করুন।

.

রুশো রাত্রির ধমক খেয়ে নিজের হাতের দিকে তাকায়। আসলেই তো সেই তখন থেকেই দাঁত দিয়ে নখ কামড়ে যাচ্ছে সে। টেনশনে হুশই ছিলো না তার। রাত্রির কথায় টের পেলো মাত্র।

.

- আমি কি আর ইচ্ছে করে নখ কামড়াচ্ছি? ওটা তো টেনশনে আপনা আপনিই হয়ে যাচ্ছিলো।

.

রাত্রি বিনিময়ে কিছু বলবে তার আগেই অগ্নি এসে হাজির হলো।

- এই তোরা এখানে কি করছিস? আর নীবিড় কোথায়?

.

অগ্নির প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে রুশোর অনন্যার হাত থেকে নীবিড়ের মাথায় ডিম পড়ার সিন মনে পড়ে গেল। আনমেই বলে উঠলো সে,

- আন্ডা ফুটা!

.

অগ্নি রুশোর কথায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। "What?" বলে জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে রুশোর দিকে রাকায় সে। এদিকে রাত্রি আরো ঘামতে শুরু করেছে। রুশো বলে দেবে ভেবে রাত্রি নিজের পা তুলে দিলো রুশোর পায়ের ওপরে। পায়ে ব্যথা অনুভব হওয়ায় "আউচ" করে উঠা মাত্রই রাত্রি চট করে নিজের পা সরিয়ে ফেলে। রাত্রির পায়ের খোঁচা খেয়ে হুশ আসে তার।

প্রসঙ্গ পাল্টাতে দাঁত কেলিয়ে অগ্নির দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো সে,

.

- উপসস সরি ব্রো! স্টোরির সিন নিয়ে ভাবছিলাম। নীবিড় ব্রো মেবি ঘরের দিকে গেলো।

.

- নিশ্চয় আবার শাওয়ার নিতে গিয়েছে। বেচারা অনেক খাটাখাটনি করে হাঁপিয়ে গেছে। আচ্ছা রুশো তুই আয় হেল্প লাগবে। আর এইযে তুমি, (রাত্রির দিকে একটা ব্যাগ এগিয়ে দিয়ে) এটা গিয়ে অনন্যাকে দিয়ে এসো।

.

রাত্রি মুগ্ধ চোখে চেয়ে রয়েছে অগ্নির দিকে। অগ্নির কথা তার কান পর্যন্ত পৌঁছোচ্ছেনা। অগ্নির কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। চুলগুলোও ভিজে গিয়েছে ঘেমে যাওয়ার কারণে। চিপ বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পরছে। ক্লান্ত মুখখানাতেও কেমন অদ্ভুত স্নিগ্ধতা ছেয়ে রয়েছে যেনো। রাত্রি অগ্নির কথা না শোনায় খানিকটা বিরক্তবোধ করলো অগ্নি। কিছুটা জোড়ে আবারোও বলে উঠলো,

.

- কি হলো ধরো!

.

এবার রাত্রির হুশ এলো কাঁপাকাপা হাতে ব্যাগটা নিলো রাত্রি। রাত্রির মন খারাপ হলো অগ্নির এভাবে কথা বলায়। রুশো ব্যাপারটা আন্দাজ করতে পেরে বলে উঠলো,

.

- হেই এটম বোম্ব! আজকে সুন্দর করে সেজো কেমন! ছুটকিকেও সাজিয়ে দিও। কালকের সাজটা কিন্তু অনেক স্টানিং ছিলো।

.

বিনিময়ে রাত্রি চোখ ছোট ছোট করে তাকালো রুশোর দিকে। তাকিয়েই গটগট করে বড়বড় কদম ফেলে হাটা ধরলো অনন্যার ঘরের দিকে। আর রুশো রাত্রির চলে যাওয়ায় দিকে চেয়ে রইলো।

অগ্নি রুশোর কাঁধে হাত রেখে বলে উঠলো,

.

- কিরে ড্রিমার তোর এটম বোম্বের ওপর ফিদা হলি নাকি?

.

বিনিময়ে রুশো হাসলো।

- নোপ ব্রো! জাস্ট ওর রাগী ফেইস টা দেখতে ভালোলাগে। হিহি।

.

অগ্নি হেসে রুশোর চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে ডেকোরেশনের কাজে লেগে পড়লো।

.

🌹

.

বিগত ১৫ মিনিট যাবৎ আমি সাদাবিলাইয়ের কেশে শ্যাম্পু ম্যাসাজ করে চলেছি। তবুও ডিমের গন্ধ ছোটাতে পারছিনা আমি। ইশ কি বিদঘুটে গন্ধ। এখন আমার সন্দেহ হচ্ছে ডিম টা কি পচা ডিম ছিলো নাকি? কিন্তু তা হলে তো ডিম টা হাল্কা হতো! উহু! ডিমের গন্ধ এতো বাজে তা আজ জানলাম।

.

- কি হলো থেমে গেলে কেনো? ভালোমতো ওয়াশ করো! যদি একটুও ছিটেফোঁটা গন্ধ থাকে তাহলে তো বুঝতেই পারছো তোমার কি হাল করবো।

.

সাদাবিলাইয়ের কথায় একটা শুকনো ঢোক গিললাম আমি। কল্পনায় দেখেও নিলাম আমি এক বিরাট হাড়ির ভেতর বসে আছি। আর সাদা বিলাই আমার থেকে প্রায় দশগুণ বড়। উনাকে দেখতে একটা বড়সড় দানবের মতো লাগছে। উনি অট্টহাসি হেসে একেরপর এক ডিম ছুড়ে মারছেন আমার ওপর। আর আমি ডিমের সাগরে ভেসে চলেছি।

কল্পনা দেখেই আতকে উঠলাম আমি। সাথে ভয়ে "নায়ায়ায়ায়ায়া....." বলে চেঁচিয়ে উঠলাম।

নীবিড় ভাইয়া ধরফড়িয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন। আমার দুবাহু ঝাঁকিয়ে বলে উঠলেন,

.

- এই কি হয়েছে চেঁচাচ্ছো কেনো?

.

উনাকে দেখে ভয়টা আরোও বাড়লো বৈ কমলো না। চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিলাম আমি।

কাঁপাকাঁপা গলায় বলে উঠলাম,

- পি..প্লিজ! আমার কাছে আসবেন না। আমার ভ..ভয় করছে। ডিম মারবেন না সাদা বিলাই প্লিজ।

.

উনি আচমকা আমার কোমড় জড়িয়ে ধরে হেঁচকা টান দিয়ে আমাকে একদম নিজের সাথে মিশিয়ে ফেলেন। আমি এতোক্ষণ অর্ধভেজা অবস্থায় ছিলাম কিন্তু এবার পুরোপুরিই ভিজে টুইটুম্বুর হয়ে গেলাম। আমি উনার এতোটা কাছে চলে এসেছি যে আর একটু খাটো হলে বোধহয় উনার হৃদস্পন্দন শুনতে পেতাম।

উনি আমাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরেই বলতে শুরু করলেন,

.

- কেনো করো এমন হুম? বলিনা আমার থেকে দূরে দূরে থাকতে! তাও কেনো এতো জ্বালাও আমায়? বোঝোনা কেনো বলোতো? কেনো এতো পোড়াও? নিজেকে যে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনা আমি।

.

উনার এমন শীতল কন্ঠে পুরো শরীরে শিহরণের স্রোত বয়ে গেল আমার। একদফা কেঁপে উঠলাম আমি। আমার হৃদপিন্ডটা ভীষণ ফাস্ট বিট করা শুরু করে দিয়েছে। গায়ের লোমগুলো দাঁড়িয়ে যাচ্ছে আমার। উনি আমার কপালে হাল্কা করে ঠোঁট ছোঁয়াতেই জমে গেলাম আমি। নাম না জানা এক অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে আমার। কিন্তু আমার তো এতোক্ষণে তো আমার রেগে যাওয়া উচিৎ কিন্তু আমার মধ্যে সেই রাগটা যেনো সৃষ্টিই হচ্ছে না।

.

উনি আমায় হুট করে ছেড়ে দিয়ে ঝড়না বন্ধ করে দিলেন। মুখ উলটো দিকে ঘুরিয়ে আমার দিকে টাওয়াল এগিয়ে দিয়ে বলে উঠলেন,

- গা মুছে নিজের ঘরে গিয়ে চেঞ্জ করে নাও, ফাস্ট।

.

উনার হুট করে অন্য ফ্লেভারে চলে যাওয়ায় কিছু বুঝে উঠতে পারলাম না আমি। কোনোরকমে গা মুছে ভেজা পায়েই বেরিয়ে এলাম।

আমার রুমে এসে দেখি খাটের ওপরে একটা ব্যাগ রাখা। যার ভেতরে মেবি কোনো ড্রেস রয়েছে। ব্যাগটা নিয়েই ওয়াশরুমে ঢুকে চেঞ্জ করে নিলাম।

ড্রেসটা আসলেই অসাধারণ। অফ হোয়াইট কালারের লং গাউন। তাতে সাদা পাথরের কাজ রয়েছে। এক কথায় নিজেকে নিজের কাছেই এখন পুতুল পুতুল লাগছে আমার।

.

🍁

.

আমি সিঁড়ি বেয়ে নামছি। আমার দুপাশে রাত্রি আর নিত্য আপু। সাজাবার জন্য গিয়েছিলো। কিন্তু আমি তো ভারী সাজ নেই না। রাত্রি মেকআপ বক্স যেই না খুলতে নিয়েছিলো ওমনি এক লাফ মেরে ২ হাত সরে গিয়েছি আমি। আমার মতে এসব মেকআপ আসলে ফেক আপ। মেকআপ করলে নিজেকে অন্য অন্য লাগে। নিজের আসল চেহারাটাই ঢাকা পড়ে যায়। যেটা একেবারেই অপছন্দ আমার। আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছে তাতেই মাশাল্লাহ! নিত্য আপুও বেশি সাজগোজ পছন্দ করে না। তবুও রাত্রিও জোড়াজুড়িতে লিপস্টিক আর কাজল দিয়ে নিলাম। এটার আমার সাজগোজের সর্বোচ্চ সীমা।

.

নীবিড় ভাইয়াকে দেখেই আজ আরেক দফা ক্রাশ খেয়ে বসলাম। বুকের ভেতরটা কেমন যেনো ধক করে উঠলো আমার। উনি অফ হোয়াইট শার্ট পরেছেন। উপরের দুটা বাটন খোলা। হাতা কুনুই পর্যন্ত ফোল্ড করা। সাথে কালো প্যান্ট। সিল্কি চুলগুলো চিকচিক করছে। কপালে এসে পড়ছে তাদের খানিকটা। ডার্ক রেড ঠোট গুলোতে সেই ভুবন ভোলানো হাসি....!উফফফফ! এত্তোগুলো মাশাল্লাহ।

আমি নামতেই আমার দিকে কয়েক সেকেন্ড স্থির দৃষ্টি নিক্ষেপ করে পরমুহূর্তে চোখ নামিয়ে নিলেন।

.

🌺

.

কেক তো কাটা শেষ ইভেন সবাইকে দিয়ে দেওয়াও শেষ তবে আরেকটা কেক কেনো?

ভাইয়াকে জিজ্ঞাসা করতেই কেমন এক রহস্যময়ী হাসি দিলো। খটকা লাগছে এবার। রুশো ভাইয়া দাঁত কেলিয়ে রয়েছে আমার দিকে। নিত্য আপু মুচকি মুচকি হাসছে। রাত্রি আমার পাশে থাকায় ওর রিয়াকশন চোখে পড়লো না আমার। আমি রাত্রির দিকে মুখ ঘোরাতেই অনুভব করলাম কেউ এদিকে আসছে। বিপদের আশংকা করে চট করে সরে যেতেই রুশো ভাইয়ার ক্রিমে মাখা হাত সোজা গিয়ে পড়লো রাত্রির গালের ওপর।

আর আমি বোম্ব ফুটার আগেই দুহাত দিয়ে চোখ ঢেকে ফেললাম। আমার সাথে সাথে বাকি সবাইও তাই। তৃতীয়বার নাক ফাটার দৃশ্য দেখলে আমি বোধহয় হার্ট এট্যাকই করে বসবো।

.

.

.

.

চলবে.....................💕

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন