ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

২৭তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-২৭♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

.

🌺

.

আমারা ৪ জন চোখে হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছি উদ্দেশ্য রুশো ভাইয়া নাক ফেটে টমেটো হয়ে যাওয়ার সেই বীভৎস দৃশ্য তৃতীয়বার দেখবো না। কিন্তু এবার "ঢিশুম" টাইপ কোনো সাউন্ড না আসায় বিস্ময়ে চোখ থেকে হাত সরিয়ে কি হচ্ছে দেখার জন্য চোখ খুললাম।

আমার সাথে বাকিরাও চোখ খুললো।

.

রাত্রি ইচ্ছেমতো কেকের ক্রিম হাতে নিয়ে রুশো ভাইয়ার পুরো মুখে মাখিয়ে চলেছে। আর রুশো ভাইয়া স্টিল সেভাবেই দাঁড়িয়ে আছে। ব্যাপারটা বড়ই অদ্ভুদ! রুশো ভাইয়া তো চাইলেই সরে যেতে পারতো কিন্তু ভাইয়া ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। আর রাত্রি ভাইয়াকে পুরো ভূত বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।

.

ক্রিম মাখাতে মাখাতে এবার রাত্রি থামলো। আমি রাত্রির পাশে দাঁড়িয়ে কানে ফিসফিস করে বলে উঠলাম,

- কিরে? এবার রুশো ভাইয়ার নাকটা বেঁচে গেলো কিভাবে?

.

রাত্রি চোখ ছোটছোট করে আমার কানে ফিসফিসিয়ে উত্তর দিলো,

- আরে মারতে গিয়েইছিলাম প্রায় কিন্তু...অলরেডি নাক লাল ছিলো, এবার মারলে হাড্ডি ভেঙ্গে যেতো তাই ছেড়ে দিলাম। বাট তোর এই ভাইকে বুঝা। নেক্সট টাইম আমার পেছনে লাগলে নাক আর নাকের জায়গায় থাকবে না। হুহ!

.

আমাদের কথার মাঝেই রুশো ভাইয়ার চাপা আওয়াজ ভেসে আসতে লাগলো।

- "আহহহহহ" হেই আমি কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছিনা। চোখ জ্বলছে। ছুটকি, অগ্নি ব্রো....! হেল্প মি প্লিজ।

.

ভাইয়ার চোখে হয়তো ক্রিম ঢুকে গিয়েছে। তাই তাড়াহুড়ো করে আমি ভাইয়ার কাছে গেলাম। ওদিকে অগ্নি ভাইয়া ছুট লাগালো পানি আনার জন্য। নীবিড় ভাইয়া রুশো ভাইয়াকে ধরে এক সাইডে নিয়ে গেলো। রুশো ভাইয়া চোখ জ্বলার জন্য ছটফট করছে। আমি টেনশনে পরে গেলাম এবার। রাত্রিরোও মুখটা শুকিয়ে এলো। মুখে ক্রিম মাখালে ঠিক ছিলো কিন্তু চোখে পর্যন্ত দিতে গেলো কেনো?

.

- হলো এবার তোর শান্তি? রাত্রি তুই আসলেই রুশো ভাইয়ার সাথে একটু বেশি বেশিই করছিস! ভাইয়া এই পর্যন্ত ইচ্ছে করে কিছুই করে নি। ভাইয়া আমাকে ক্রিম মাখাতে এসেছিলো। কিন্তু আমি মাঝ থেকে সরে যাওয়ায় ভুলক্রমে তোর গালে গিয়ে লেগেছে।

.

আমার কথায় হয়তো রাত্রির রিয়ালাইজ হলো। আসলেই সে একটু বেশি বেশিই করছে।

.

- সরি অনন্যা..! আমি আসলে রাগের মাথায়...!

.

রাত্রিকে আর বলতে না দিয়ে থামিয়ে আমি আবারো বলে উঠলাম,

- সরি বলার হলে আমাকে না রুশো ভাইয়াকে বল।

.

অগ্নি ভাইয়া ততক্ষণে পানি আর টিস্যু নিয়ে হাজির হলো। রুশো ভাইয়া একের পর এক পানির ঝাপটা দিতে লাগলো। কিছুটা বেটার ফিল করার পর টিস্যু দিয়ে চোখের আশেপাশের ক্রিম গুলো আগে মুছে নিলো। ভাইয়ার বাম চোখটা একদম লাল হয়ে গিয়েছে। তখনই নিত্য আপু হাতে একটা ড্রপ নিয়ে এলো। হয়তো চোখে দেওয়ার ড্রপ হবে।

.

- রুশো ভাইয়া, এদিকে এসে বসো। এই ড্রপ টা দিলে জালা কমে যাবে।

.

অগ্নি ভাইয়া নিত্য আপুর কথা মতো রুশো ভাইয়াকে এনে সোফায় বসিয়ে দিলো। সাথে আমরাও পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। রুশো ভাইয়া চোখ বন্ধ করে রেখেছে। জালা করায় চোখের কোণ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে ভাইয়া। তাও রুশো ভাইয়া হাসতে হাসতে বলছে,

.

- আরে আমার কিছু হয়নি। তখন একটু জ্বলছিলো। নাও আই এম এবস্যুলুটলি ফাইন। ডোন্ট টেক এনি টাইপ অফ টেনশন।

.

- চুপপ কর তুই। দেখতেই পারছি কেমন আছিস। চোখ খোল ড্রপ টা দিয়ে দেবে নিত্য।

.

অগ্নি ভাইয়া কিছুটা রেগেই রাত্রির দিকে তাকিয়ে কথাটা বললো। তাতে জেনো রাত্রি আরোও ভয় পেয়ে গেলো। নিত্য আপু রুশো ভাইয়ার চোখে ড্রপ দিয়ে কিছুক্ষণ চোখ মেলে ওপরের দিকে তাকিয়ে থাকতে বললো।

এদিকে আমার রুশো ভাইয়ার জন্য ভীষণ খারাপ লাগছে। সবসময় ভাইটা আমার হাসিখুশি থাকে। সবাইকে হাসিতে মাতিয়ে রাখে। অথচ নিজের কিছু হলে বুঝতেই দেয় না। একবার আমাকে গাছ থেকে পড়ে গিয়ে ব্যথা পাওয়া থেকে আটকাতে নিজেই আমাকে ঘিরে ধরে পড়ে গিয়েছিলো। ভাইয়া আমাকে কভার করে পড়ায় আমার বিন্দুমাত্রও ব্যথা লাগে নি। সম্পূর্ণ আঘাত লেগেছিলো রুশো ভাইয়ার। অথচ তখনোও ভাইয়া হাসছিলো এই বলে,

.

- হ্যা রে ছুটকি। মাটিও দেখি তোর মতো নরম হয়ে গিয়েছে। এতো ওপর থেকে পড়লাম দুজনে, না তোর লাগলো আর না আমার।

.

আজো তাই আছে রুশো ভাইয়া। রাত্রি রুশো ভাইয়ার পাশে গিয়ে মাথা নিচু করে আমতাআমতা করে বলে উঠলো,

- স..সরি! আসলে আমি বুঝতে পারি নি যে চোখে চলে যাবে!

.

রুশো ভাইয়া বসা থেকে উঠে বসে রাত্রিকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে বলে উঠলো,

- ওহ আম অল রাইট এটম বোম্ব, এন্ড ইউ নো হোয়াট? তোমার ওই রাগি ফেইস টাই আমার ভালো লাগে। সো এরুকুম সুরি টুরি বইলু না কিমন?

.

রুশো ভাইয়ার কথা শুনে না চাইতেও হেসে উঠলাম আমি। আমার সাথে সাথে হেসে উঠলো বাকি সবাই।

.

.

অগ্নি ভাইয়ার চাপ বেজায় বেরে গেলো। আব্বু বিজনেস সামলানোর দায়িত্ব এখনই ভাইয়ার ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। ইভেন আব্বুর কালিগদেরও বলে দিয়েছে। নীবিড় ভাইয়ার আব্বু অবশ্য নীবিড় ভাইয়াকে এখনোই এসবে জড়াতে বলে নি। নীবিড় ভাইয়ার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। পড়ালেখা একেবারে শেষ করেই বিজনেসে হাত দিতে চান উনি। আর তো মাত্র কয়েকটা মাসই বাকি। কিন্তু আব্বুর চাপ বেড়ে গিয়েছে। তারওপর আব্বুর ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে। এই শরীর নিয়ে একা কুলিয়ে উঠতে পারছেনা তাই এখনই অগ্নি ভাইয়াকে অগত্যা বিজনেসে ইনভলভ হতে হলো।

.

🌸

.

আজ নিয়ে এক সপ্তাহ হয়ে গেলো আমি সাদা বিলাইয়ের থেকে পালিয়ে পালিয়ে বেরোচ্ছি। ভার্সিটিতে গেলে খুবই সাবধানে চলাফেরা করছি। মাঝে মাঝে সামনে পড়ে গেলেই সালাম দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেছি। আসলে উনার সামনে গেলেই কেমন যেনো হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে। আমি নিজেও বুঝি না এরকম কেনো হয়।

তার ওপর সেদিনকের পুলে পরে যাওয়ার ঘটনার পর থেকে আমাকে দেখলে সবাই কেমন যেনো একটা রিয়াকশন দেয়। যেই রিয়াকশনের অর্থ আমি বুঝতে পারিনা। তবে এই রিয়াকশন আমার স্বাভাবিক মনে হয়না। বড্ড অস্বস্তি হয় আমার।

এসব ভাবছিলাম সাথে ভার্সিটির একটা পুল সাইড গাছের নিচে বসে চিপস খাচ্ছিলাম। হঠাৎ রাত্রির চিমটি খেয়ে ঘোর কাটলো আমার।

.

- এই অনন্যা, দেখ ওই চিরকুট টা আবার আসছে।

.

রাত্রির কথায় চিপস খাওয়া থামিয়ে সামনে তাকালাম। সিফাত নামের হ্যাংলা ছেলেটা এদিকেই তার বেক্কেল মার্কা হাসি দিতে দিতে হেটে আসছে। ছেলেটাকে দেখে কপালে বিরক্তির ভাঁজ ফুটে উঠলো আমার। এই ছেলেটা কে দেখলেই আমার গা পিত্তি জ্বলে উঠে। ১ সপ্তাহ ধরে শুধু গায়ে পরে পরে কথা বলতে আসে। শুধুমাত্র সিনিয়র বলে কিছু বলিনা। আমাদের সেম ব্যাচ হলে এতোক্ষণে হাত পা ভেঙ্গে রেখে দিতাম।

.

- হেই গার্লস কেমন আছো তোমরা?

.

- জ্বি আলহামদুলিল্লাহ! (ব্যাট্টা ছেঁচড়া আমরা যেমনই থাকি তাতে তোর কি?)

.

- বাহ বেশ তো। তা কি করছো?

.

ব্যাট্টা কানা দেখতে পারেনা চিপস খাচ্ছি। খাওয়ায় ব্যাগড়া দিয়ে এখন জিগাস কি করি?

মেজাজটা বিগড়ে যাচ্ছে আমার। পাশে তাকিয়ে দেখি রাত্রিরোও একই অবস্থা! শুধুমাত্র ভদ্রতার খাতিরে দাঁতে দাঁত চেপে কোনোরকমে বলে উঠলাম,

.

- এইতো বসে বসে চিপস খাচ্ছিলাম। আপনি আসায় খাইতে ব্যাঘাত ঘটলো।

.

কথাটা এমনভাবে বললাম যাতে আমরা বিরক্ত বুঝে নিজের রাস্তা মেপে চলে যায় এই বিরক্তির ডিব্বাটা। কিন্তু যাওয়ার বদলে আবারোও সেই বেক্কেল মার্কা হাসি দিয়ে বলে উঠলো,

.

- আরে শুধু চিপস খেলে তো গলা শুকিয়ে যাবে। এই নাও তোমার জন্য জুস নিয়ে এলাম। (হাতে থাকা জুসের বোতলটা এগিয়ে দিয়ে)

.

এবার আমি ভীষণ রেগে গেলাম। মানেটা কি? আমার জন্য জুস নিয়ে এসেছে। আমি কি লাগি তার? হুটহাট এসে এভাবে গায়ে পরে ভাব জমানোর মানে কি! রেগেমেগে যেই না আঙুল তুলে কিছু বলতে যাবো তার আগেই হুট করে কোথায় থেকে যেনো সাদা বিলাই টুপ করে আমাদের সামনে চলে আসে।

.

- সিফাত...! কি হচ্ছে এখানে? (গম্ভীর কন্ঠে)

.

সিফাত নামক ছেলেটা উনার গলা পেয়ে যেনো হকিচকিয়ে গেলো। পেছনে ঘুরে কাঁপাকাঁপা গলায় বল উঠলো,

- ভা...ভাই...! আসলে আপুটার গলা শুকিয়ে গেছিলো তাই আর কি জুস এনে দিচ্ছিলাম।

.

নীবিড় ভাইয়া কিছুক্ষণ ভ্রু কুঁচকে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে থেকে আমাদের দিকে তাকালো। আমি তো এই ছেলের কান্ড দেখে চরম অবাক। বলে কি এই ছেলে হ্যা? এক ঠেলায় আপু হয়ে গেলাম? আর আমি নাকি জুস আনতে বলেছি!

রাত্রি আর আমি একে অপরের দিকে দিকে চাওয়া-চাওয়ি করছি। রাত্রি শুধু একবার নীবিড় ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে মাথা দুদিকে নাড়িয়ে না বোধক সম্মতি জানালো, যার অর্থ "যে না আমরা বলি নি জুস টুস আনাইতে!"

সাথেসাথেই বিকট এক আওয়াজে মাটিতে ছিটকে পড়লো ছেলেটা। এমনি এমনি ছিটকে পড়ে নি, পড়েছে সাদা বিলাইয়ের হাই পাওয়ার ওয়ালা হাতের চড় খেয়ে।

.

- আমাকে মিথ্যে বলিস! সাহস এতোদূর গেলো কিভাবে তোর?

.

- ভা...ভা...ভাই মাফ করে দেন। আর এমন ভুল হবে না ভাই।

.

নীবিড় ভাইয়া ছেলেটাকে নিচ থেকে কলার ধরে তুলে শান্ত গলায় বলে উঠলো,

- ভালো করে ওদের মুখ দেখে নে! নেক্সট টাইম ওদের আশেপাশেও যেনো না দেখি তোকে।

এখন ক্লাসে যা।

.

বলেই ছেড়ে দিলেন ছেলেটিকে। ছাড়া পাওয়া মাত্রই পেছনে না তাকিয়েই এক ছুট লাগালো ছেলেটা!

আমি আর রাত্রি এতোক্ষণ শুধু " হা" করে দেখছিলাম সবকিছু। এবার আমি মুখ খুললাম।

.

- এতো জোড়ে কেউ থাপ্পড় মারে? দাঁত তো ভেঙ্গেই গিয়েছে বোধহয়!

.

নীবিড় ভাইয়া ডোন্টকেয়ার ভাব নিয়ে পকেটে দুহাত গুঁজে বলে উঠলেন,

- তোমার এতো দরদ উতলে পরলে নিজের দাঁত গুলো খুলে ওকে লাগিয়ে দিও।

.

উনার কথা শুনে গলা খাঁকারি দিয়ে উঠলাম আমি। প্রসঙ্গটা বদলানোর জন্য বলে উঠলাম,

- ভা..ভাইয়া কোথায়?

.

- সেটা তো আমি তোমার কাছেই জানতে আসছিলাম যে অগ্নি কোথায়! অফিস থেকে সোজা ভার্সিটি আসার কথা ছিলো। এখনোও এলো না কেনো?

.

- আমিও ভাইয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। একটু দরকার আছে। নেক্সট ক্লাস ১২ টায় আছে আমার। তাই এখানে বসে অপেক্ষা করছিলাম।

.

নীবিড় ভাইয়া আমার দিক থেকে চোখ সরিয়ে গেইটের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। হঠাৎ আমার হাত টেনে ধরে দৌড়তে লাগলেন। আর রাত্রিকে বললেন "আমরা আসছি। লেট হতে পারে। ক্লাস করে চলে যেও।"

আমি দাঁড়িয়ে থাকলে পড়ে যাবো তাই উনার সাথে পা মিলিয়ে দৌড়োতে লাগলাম।

.

- আরে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে? বলবেন তো!

.

- চুপ চাপ আমার সাথে এসো। কোথায় যাচ্ছি সেটা গেলেই বুঝতে পারবে।

.

বলেই আমাকে গ্যারেজের পাশে দাঁড় করিয়ে বাইক বের করে আনলেন।

- আ...আমিও কি বাইকে যাবো?

- নাহ...! তোমার জন্য আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা করবো মহারাণী!

স্টুপিড! চুপচাপ পেছনে উঠে পড়ো। (ধমক দিয়ে)

.

আমি উনার ধমক শুনে কেঁপে উঠলাম। একরাশ অনিচ্ছা সত্ত্বেও পেছনে উঠে বসলাম। আমি বসা মাত্রই উনি বাইক স্টার্ট দিয়ে ছুটে চললেন অজানায়। আল্লাহ মালুম আমাকে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিতে যাচ্ছেন না তো উনি?

.

.

.

.

চলবে................................💕

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন