#প্রেম_আমার♥
#পার্ট-২৮♥
#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥
.
🌸
.
টেবিলের এক কোণায় চেয়ার টেনে বসে একের পর এক পানির গ্লাস খালি করে চলেছি আমি। আমার পাশে রুশো ভাইয়া দাঁত দিয়ে নখ কামড়ে চলেছে। আমাদের সামনেই নিত্য আপু থরথর করে কাঁপছে। পাশে অগ্নি ভাইয়া নিজের ঘাম মুছতে মুছতেই শহীদ হয়ে যাবে বোধহয়।
সবাই যে যার জায়গায় স্থির থেকে ভয়ার্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে রয়েছে নীবির ভাইয়ার দিকে। নীবিড় ভাইয়া এক দৃষ্টিতে নিচের দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি হাতের দুমুঠো শক্ত করে ধরে রেখেছন। থরথর করে কাঁপছে উনার ঠোঁটজোড়া। হয়তো বা নিজের রাগ টাকে কন্ট্রোল করবার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উনি।
.
🍁
.
#কিছুক্ষণ_আগের_অনাকাঙ্ক্ষিত_ঘটনা...!
.
আমি সাদা বিলাইকে একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছি কিন্তু উনি যেনো শুনেও শুনছেন না। আপন মনে ডোন্টকেয়ার ভাব নিয়ে বাইক চালিয়ে যাচ্ছেন উনি। হঠাৎ আমার চোখ যায় আমাদের সামনে খানিকটা দূরে থাকা কারের ওপর। কারটা দেখে আমি বেশ অবাক হয়ে পড়ি। কারণ কারটা আর কারোর নয়,স্বয়ং আমাদের প্রাইভেট কার। যেটা নিয়ে ভাইয়স অফিসে যাওয়ার জন্য বেড়িয়েছিলো। তবুও নিশ্চিত হওয়ার জন্য নীবিড় ভাইয়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে বলে উঠলাম,
.
- ভাইয়া...! ওটা তো আমাদের কার। আপনি কি আমাদের কার ফলো করছেন?
.
উনি বোধহয় আমার প্রশ্ন শুনে বেশ বিরক্ত হলেন। অনেকটা ঝাঁঝালো কন্ঠেই সামনে তাকিয়ে বলে উঠলেন,
- হাও স্টুপিড! কার দেখেও কি মনে প্রশ্ন জাগছে না তোমার ভাই এদিকে কোথায় যাচ্ছে? এদিকে না তোমার বাড়ি আর না অফিস! ভার্সিটি তো ক্রস করেই এসেছে। নাও জাস্ট কিপ সাইলেন্ট।
.
🌹
.
৫ মিনিট যাবৎ ভার্সিটির গেইটে পায়চারী করছে রুশো। অনন্যা একটা এসাইনমেন্ট রেখে গেয়েছিলো বাসায়, তাই দিতে পাঠিয়েছে মনি তাকে। কিন্তু বিপত্তি ঘটছে এখানে, অনন্যার ফোন বন্ধ। বেশ কয়েকবার কল করার পরও কোনো রেসপন্স না পেয়ে রুশোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফুটে উঠছে। যেহেতু এখন ক্লাস টাইম ও না তাহলে নিশ্চয় ক্যাম্পাসের ভেতরেই কোথাও ঘোরাঘুরি করছে অনন্যা, তাই রুশোর ধারণা।
.
রাত্রি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে হাটাহাটি করছিলো। হঠাৎ গেইটের দিকে চোখ যেতেই খানিকটা অবাক হয় রাত্রি। তার মনে প্রশ্ন জাগে, "রুশো এখানে কেনো?" পর মুহূর্তে ভাবলো নিশ্চয় অনন্যার জন্য এসেছে। কিন্তু নীবিড় তো অনন্যাকে ধরে নিয়ে কোথাও একটা চলে গিয়েছে। রুশো তো অনন্যাকে খুঁজে পাবে না। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও ধীর পায়ে গেইটের দিকে এগোতে লাগে রাত্রি, উদ্দেশ্য ফট করে রুশোকে জানিয়ে ফট করে চলে আসবে।
.
রুশো কেবল বাধ্য হয়ে ভেতরে ঢুকবে তার আগেই রাত্রির গলা পেয়ে থেমে যায়। মাথা তুলে সামনে তাকাতেই দেখে সে রাত্রি তাকে হাতে দেখিয়ে থামতে বলে ঠিক তার দিকেই এগিয়ে আসছে। রুশো সেখানেই রাত্রিকে দেখে থেকে যায়। রাত্রির থেকে চোখ সরাতেই পারছে না জেনো সে। পুরো ১ টা সপ্তাহ রাত্রির দেখা মেলে নি রুশোর তৃষ্ণার্ত চোখদুটোর। সেই তৃষ্ণারই নিবারণ করে চলেছে আজ তার অবাধ্য চোখ জোড়া যেনো। রুশো জানে না কেনো এমন অদ্ভুত অনুভূতি হয় তার রাত্রির জন্য। কই আগে তো কখনোও কোনো মেয়ের জন্য এমন অনুভূতি হয় নি। বুকের ভেতরে উথালপাতাল হয় নি তো আগে এমন। তবে কি সে মায়ায় জড়িয়ে যাচ্ছে রাত্রির? সত্যিই কি তাই?
.
রাত্রি রুশোর সামনে এসে রুশোকে আবারো ডাক দেয়,"ভাইয়া" বলে। কিন্তু রুশোর কোনো ভাবাবেগ হয় না তাতে। রাত্রির কাছে রুশোর এমন চাহিনী দেখে বেশ অস্বস্তি হতে লাগে। শেষমেশ রুশোর ধ্যান ভাঙ্গানোর জন্য তার সামনে তুড়ি বাজিয়ে ওঠে। এবার রুশোর ধ্যান ভাঙ্গে। আমতা আমতা করে বলে উঠে,
.
- উপপস..! তুমি এসেছো খেয়ালই করি নি আমি। স্টোরি নিয়ে ভাবছিলাম।
বাই দ্য ওয়ে কেমন আছো এটম বোম্ব? (ভ্রু নাচিয়ে)
.
আবারোও "এটম বোম্ব" বলায় বেশ রাগ হয় রাত্রির। অথচ বেচারী বোঝেই না যে রুশো তাকে রাগানোর জন্যই ওকে "এটম বোম্ব বলে ডাকে। রাত্রি রুশোর প্রশ্নের কোনো জবাব না দিয়ে বলে উঠে,
.
- আপনার ছুটকি ভার্সিটিতে নেই। একটু আগে নীবিড় ভাইয়া ওকে টেনে কোথায় যেনো নিয়ে চলে গিয়েছে।
.
রুশো প্রথমে রাত্রির কথা ভালো করে গায়ে লাগায় নি। পরমুহূর্তে মুহূর্তে বুঝতে পেরে বিস্ময়ে চিৎকার করে বসে সে।
- ওহ আচ্ছা!.......হোয়াট???? 😲
- আজ্ঞে হ্যা!
- ওহ মাই গড! কোন দিকে গিয়েছে বলতে পারো?
- এইতো দক্ষিণ দিকের রোড ধরে বাইক নিয়ে গিয়েছে। গিয়েছে তাও ১০ মিনিট হয়েছে।
.
রাত্রি কথা পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই রুশো হাওয়া! এতো স্পিডে কারে উঠে স্টার্ট দিয়ে চলে গেল রুশো যে রাত্রি আহম্মক বলে গেন। আনমনেই তার মুখ থেকে বেড়িয়ে গেলো,"যাক বাবা! কচ্ছপের মতো থেকে হুট করে খরগোশের মতো চলে গেলো!"
.
🌷
.
ভাইয়ার কার একটা ক্যাফেতে গিয়ে থামতে দেখে নীবিড় ভাইয়াও বাইক থামিয়ে আমাকে নামতে ইশারা করলেন। সাথে নিজেও নেমে গেলেন। আমাকে ভাইয়ার ওপর নজর রাখতে বলে বাইকটা রোডের এক সাইডে পার্ক করে এলেন।
অগ্নি ভাইয়া কার থেকে বেড়িয়ে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে চললো ক্যাফের ভেতরে। ভাইয়াকে দেখে যা বুঝলাম ভাইয়া ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছে। নীবিড় ভাইয়া আমাকে কমান্ডারদের মতো "ফলো মি!" বলেই ধীর পায়ে এগোতে লাগলেন ক্যাফের ভেতরে। এমন একটা জায়গায় গিয়ে থামলেন যেখান থেকে ভাইয়াকে দেখা গেলেও ভাইয়া আমাদের দেখতে পারবে না। কারণ ভাইয়া চেয়ারের উল্টো দিকে বসেছে। আমি শুধু অবাকের ওপর অবাক হয়ে চলেছি।
আমি আরোও অবাকের শীর্ষস্থানে পৌঁছোলাম ভাইয়ার সামনে থাকা মানুষটাকে দেখে। ভাইয়ার সামনে মাস্ক পরিহিতা একটা মেয়ে বসে আছে। আগে সাদা এপ্রোন জড়ানো। দেখেই বোঝা যাচ্ছে কোনো মেডিকেলের স্টুডেন্ট। কিন্তু মাস্ক দিয়ে মুখ ঢাকা থাকায় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না মেয়েটার মুখ।
.
মেয়েটা কথা বলতে বলতে ভাইয়ার হাত চেপে ধরে কান্না করা শুরু করে দিলো যা দেখে আমি পুরাই ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম। অগ্নি ভাইয়ার মুখ দেখা না গেলেও ভাইয়ার মুভমেন্ট দেখে বোঝ যাচ্ছে যে ভাইয়া মেয়েটাকে কান্না করতে বারণ করছে।
এসব দেখে আমার মনের মাঝে হাজারোও প্রশ্ন হাবুডুবু খেয়ে চলেছে যেনো।
হঠাৎ নীবিড় ভাইয়ার দিকে চোখ যাওয়ায় আমি ভয়ে আতকে উঠলাম। উনার চোখ থেকে যেনো লাভা ছড়াচ্ছে। সেই লাভায় যেনো ধ্বংস করে দেবেন উনি সবকিছু।
এরমধ্যেই কোথায় থেকে যেনো রুশো ভাইয়া আমাদের পাশ কাটিয়ে দৌড়ে ক্যাফের ভেতরে ঢুকে যায়। সবই যেনো আমার মাথার ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। রুশো ভাইয়া আবার এখানে কোথায় থেকে আসলো?
রুশো ভাইয়া ভেতরে ঢোকা মাত্রই অগ্নি ভাইয়া আর সাথে থাকা মেয়েটা ধরফড়িয়ে উঠে দাঁড়ায়।
.
অগ্নি ভাইয়া রুশো ভাইয়াকে উদ্দেশ্য করে আমতাআমতা করে বলে উঠে,
- রু..রুশো..! তুই?
.
রুশো ভাইয়া তাড়াহুড়ো করে ঢুকায় অগ্নি ভাইয়াকে খেয়াল করেনি তখন। ভাইয়ার গলা পেয়ে উল্টো দিকে ঘুরেই রুশো ভাইয়া একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। রুশো ভাইয়া অগ্নি ভাইয়াকে টাইডলি হাগ করে পাশে থাকা মেয়েটাকে দেখে জিজ্ঞাসা করে উঠলো,
.
- ব্রো হু ইজ সি?
.
রুশোর ভাইয়ার প্রশ্ন করায় মেয়েটা নিজের মাস্ক খুলে ফেললো। আর সাথেসাথেই আমার চোখ রসগোল্লার আকার ধারণ করলো। আমি বিস্ময়ে "আয়ায়ায়ায়ায়া..."!" করে চেঁচিয়ে বসলাম। আমার চিৎকার শুনে অগ্নি ভাইয়া, রুশো ভাইয়া আর নিত্য আপু ঘাড় ঘুরিয়ে এই আওয়াজের উৎস খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।
নীবিড় ভাইয়া এবার আড়াল থেকে বেড়িয়ে এলেন সাথে পিছুপিছু এলাম আমিও। নীবিড় ভাইয়াকে দেখেই নিত্য আপু অগ্নি ভাইয়ার হাত খাঁমচে ধরলো। অগ্নি ভাইয়া কাঁপাকাঁপা গলায় কিছু বলতে যাবে তার আগেই উনি হাতের পাঁচ আঙুল মেলে ভাইয়াকে থামিয়ে দিয়ে বসে পড়তে বললেন।
.
🍂
.
#বর্তমানে...........
.
আমি রুশো ভাইয়ার হাতে গুঁতো মেরে ফিসফিস করে বলে উঠলাম,
- রুশো ভাইয়া..! কি হতে চলেছে?
.
রুশো ভাইয়া আমার কথা শুনে নখ কাঁটতে কাঁটতেই দু কাঁধ উঁচু করে ঠোঁট উল্টালো। যার অর্থ ভাইয়াও আমার মতো একই পরিস্থিতিতে।
.
হঠাৎ নীবিড় ভাইয়া নিচের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেই বলে উঠলেন,
- "বেইমান....!"
.
নীবিড় ভাইয়ার এই একটা কথা শুনেই আত্মা কেপে উঠলো আমাদের সবার। এর মধ্যে আমি আবারোও বোতল থেকে পানি ঢালতে নিলেই বোতল পানিশূন্য আবিষ্কার করলাম। গলা শুকিয়ে আসছে আমার। ভীষণ আরোও এক ট্যাংকি পানির বড্ড প্রয়োজন।
.
নিত্য আপু ভয়ে ভয়ে বলতে শুরু করলো,
- ভাইয়া..! এখানে অগ্নির কোনো দোষ নেই। আমিই দুবছর ধরে ওকে......
.
আর কিছু বলতে পারলো না নিত্য আপু। অগ্নি ভাইয়া নিত্য আপুকে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠলো,
- নিত্যর কথা শুনিস না নীবিড়। আমি বলছি। আসলে আমিই নিত্যকে অনেক আগে থেকে পছন্দ করতাম।
ওকে এই নিয়ে বহুবার ফোর্স করেছি আমি। আর আজকেও ওকে আমিই ব্লাকমেইল করে আসতে বলেছি ট্রাস্ট মি। ওর কোনো দোষ নেই। আমি বেইমানি করেছি তোর সাথে। কোনো শাস্তি দেওয়ার থাকলে আমাকে দে। আমাকে মার।
.
নীবিড় ভাইয়া একদম শান্ত গলায় মাথা নিচু করেই বলে উঠলেন,"আর কতো মিথ্যে বলবি?"
বলেই মাথা তুলে তাকালেন।
.
- না নীবিড়, আমি সত্যি বলছি..! আমি....
.
অগ্নি ভাইয়াকে থামিয়ে দিয়ে নীবিড় ভাইয়া "ব্যাস...!" বলে চেঁচিয়ে উঠলেন। উনার গর্জনে কেঁপে উঠলাম আমি। নিত্য আপু তো পারেনা এখনই কেঁদে দেয়। এদিকে রুশো ভাইয়া নখ খেতে খেতে আঙুলই খেয়ে ফেলবে বোধহয়।
নীবিড় ভাইয়া বসা থেকে চট করে দাঁড়িয়ে বলতে শুরু করলেন,
.
- কি মনে করেছিলিস তোরা? নীবিড়কে ফাঁকি দিয়ে যাবি? এই নীবিড়কে বোকা বানাবি? কি মনে করেছিস, আমি কিছু বুঝবোনা হ্যা? আমাকে এভাবে ঠকালি তোরা? আরে তুই না আমার বেস্টফ্রেন্ড আর নিত্য তুই? তুই তো আমার নিজের বোন। কিভাবে পারলি এমন করতে? ভয় করলো না একবারোও?
এর মূল্য তোদের দিতে হবে। দিতেই হবে।
তোরা রেডি হয়ে যা শাস্তির জন্য। আগামী সপ্তাহে তোদের "এংগেজমেন্ট!"
.
নীবিড় ভাইয়ার কথা শুনে সটাং করে দাঁড়িয়ে পড়লাম আমরা সবাই। আনমনেই আমার মুখ থেকে বেড়িয়ে গেলো, "হা?" নীবিড় ভাইয়া আমাকে কিছুটা ব্যঙ্গ করে বলে উঠলেন,
- "হা নয় হ্যা!"
.
- মানে কি নীবিড়? কি যা তা বলছিস?
.
নীবিড় ভাইয়া পকেটে দুহাত গুঁজে স্ট্রেট হয়ে দাঁড়িয়ে কপালে পরে থাকা চুলগুলোতে ঠোঁট বাকিয়ে ফুঁ দিলেন। আবারোও বলে উঠলেন উনি,
.
- কেনো তোরা যা তা করত পারিস আর আমি বললেই দোষ? অবশ্য, বলছি না জাস্ট করেও দেখাবো।
আরে শালা, তুই কেমনে লুকোলি আমার থেকে এতো বড় কথাটা? নিত্য নাহয় ছোট , ভয়ে আমাকে বলতে পারেনি। তুই তো বলতে পারতি? আরে আমি নিজে দাঁড়িয়ে তোদের দুজনের বিয়ে দিতাম। কি ভেবেছিলিস আমি তোদের ব্যাপারে জানলে তোদের মেনে নেবো না? এই চিনলি তোরা আমাকে? আরে তোরা দুজনই আমার কলিজার দুইটা টুকরা। তোদের মতো পারফেক্ট কাপল কি আর দুটো হয়? সেই আগে থেকেই আমি ভেবে রেখেছিলাম তোদের দুটোকে একসাথে বাঁধবো আর তোরা যে এভাবে নিজে থেকেই নিজেদের ধরা দিবি তা বুঝতেই পারিনি আগে।
আর নিত্য, তোর চয়েজের সাথে সাথে ধৈর্যও আছে বলতে হবে। দু দুটো বছর অগ্নিকে জ্বালিয়েছিস! ইম্প্রেসিভ!
.
নীবিড় ভাইয়ার কথা আমরা সকলে এতোক্ষণ নীরব দর্শকের মতো শুনছিলাম। একটা টু সাউন্ডও করি নি কেউই। কারণ কিছু বলার মতো পরিস্থিতিতেই ছিলাম না আমরা। প্রত্যেকের মুখ "হা" সাইজ ধারণ করেছে। যেনো খুবই অনায়াসেই গোলগাপ্পা ঢুকিয়ে দেওয়া যাবে।
নিত্য আপুর চোখ ছলছল করছে। অগ্নি ভাইয়া যেনো ভাষা হাড়িয়ে ফেলেছে। এদিকে আমি আর রুশো ভাইয়া সবার মুখ চাওয়া চাওয়ি করছি।
.
নীবিড় ভাইয়া এবার দু হাত বাড়িয়ে ঠোঁট উলটে বলে উঠলো,
- কোথায় ভাবলাম সিনেমার মতো দুজনে এসে জড়িয়ে ধরে ভ্যা ভ্যা করবি তানা রোবটের মতো দাঁড়িয়ে আছি!
(রুশো ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে) কি ড্রিমার এমনটাইতো হয় তাইনা?
.
রুশো ভাইয়া লাফিয়ে উঠে বলে উঠলো,
- ইয়াহ ইয়াহ!
.
অগ্নি ভাইয়া আর নিত্য আপু একবার নিজেদের দিকে তাকিয়ে পর মুহূর্তে নীবিড় ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে এক ছুটে ঝাঁপিয়ে পড়লো উনার ওপর। নিত্য আপু তো খুশিতে কেঁদেই দিলো। ইশশ কি সুন্দর মুহূর্ত। সাদা বিলাই টাকে আমি যতটা খারাপ ভেবেছিলাম ততোটাও খারাপ উনি নন। আসলেই উনি ভালো। সবার সাথেই ভালো। শুধু আমার সাথেই উনার শত্রুতা বোধহয়।
পাশ ফিরে রুশো ভাইয়ার দিকে তাকানো মাত্রই দেখি ভাইয়া এই মুহূর্তটা ক্যামেরা বন্দি করে নিচ্ছে। আসলে রুশো ভাইয়া এমনই। সবসময় ক্যামেরা আর ল্যাপটপ নিয়ে ঘুরে। ক্যামেরায় যখন তখন ছবি তুলে আর ল্যাপটপে যেখানে সেখানে বসে লিখালিখি করে। এমনকি অফিসেও।
.
- আরে আরে হয়েছে হয়েছে। এবার ছাড় পড়ে যাবো তো আমি।
.
নীবিড় ভাইয়া উপরিউক্ত উক্তি শুনে চোখ মুছতে মুছতে নিত্য আপু আর অগ্নি ভাইয়া উনাকে ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো।
.
- এ ব্যাটা, তুই বুঝলি কিভাবে রে বলতো?
.
অগ্নি ভাইয়ার প্রশ্নে মুচকি হাসলেন উনি। ঠোঁটের কোণে হাসি ঝুলিয়ে রেখেই বলে উঠলেন,
- একটা কথা কি জানিস? না তুই ঠিক মতো মিথ্যে বলতে পারিস আর না নিত্য। তোর হঠাৎ হঠাৎ করে হাওয়া হয়ে যাওয়া। যখন তখন মন খারাপ করে থাকা। এসবেই আমার আগে থেকে সন্দেহ হতো। আর রইলো তোদের মনের কথা জানা। সেটা তো তোদের চোখ দেখলেই ধরে ফেলা যায়। যদিও সবাই সেটা পারবে না তবে আমি পারি।
.
উনার কথার মাঝেই সাইকেল চালিয়ে হাত উঠিয়ে বলে উঠলাম আমি, "আমিও প্রায় ধরেই ফেলেছিলাম!"
আমার কথায় চোখ ছোট ছোট করে অগ্নি ভাইয়া আমার দিকে তাকালো। নিত্য আপু লজ্জায় পড়ে গেলো। রুশো ভাইয়া আর নীবিড় ভাইয়া আমার বাচ্চামো দেখে ফিক করে হেসে দিলো।
পর মুহূর্তে নিত্য আপু মুখটা মলিন করে বলে উঠলো,
.
- কিন্তু ভাইয়া...! আব্বু যে আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। কাল রাতে আমি আব্বুকে এই নিয়ে কারো সাথে ফোনে কথা বলতে শুনেছি।
.
নীবিড় ভাইয়া নিজের সিল্কি চুলগুলোতে আঙুল চালিয়ে বলে উঠলো,
- শুনেছিস! কারণ আমি তোকে শুনিয়েছি। কাল আব্বুকে বলেছিলাম তোকে শুনিয়ে শুনিয়ে বিয়ের কথা বলতে। নাহলে তো এভাবে হাতে-নাতে ধরতে পারতাম না।
.
বলেই হাসলেন উনি। আর নিত্য আপু রেগেমেগে তেড়ে গিয়ে নীবিড় ভাইয়া গায়ে কিল-ঘুষি বসাতে লাগলো।
আমরা সবাই হেসে ফেললাম দুই ভাই বোনের এমন খুনশুটি দেখে। বাপরে কতো বুদ্ধি নিয়ে চলেন সাদাবিলাই। ভাবা যায়?
রুশো ভাইয়া তো খুশিতে আমার হাত ধরে লাফাতে লাগলো। আমরা দুজনেই জোড়ে বলে উঠলাম,
.
- হিপ হিপ হুড়রে.....! বাসায় লাগবে এবার বিয়ে......!
.
.
.
.
চলবে.........................💕