#প্রেম_আমার♥
#পার্ট-২৯♥
#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥
.
🌺
.
আম্মুকে ঘিরে আমি, অগ্নি ভাইয়া, রুশো ভাইয়া, নীবিড় ভাইয়া আর নিত্য আপু বসে আছি৷ সবার চোখেই অস্থিরতার ছাপ। আমি আবারও পানির গ্লাস হাতে নিয়ে বসে আছি। নাহ এভাবে প্রতিবার পানি খেতে উঠতে যাওয়া সম্ভব নয় তাই পানির জগটাই তুলে নিয়ে এলাম। আমার পাশে রুশো ভাইয়া আবারোও নিজের দাঁতগুলোকে নেইল কাটার বানিয়ে ফেলেছে। বুঝি না আমি। আমাদের এই দু ভাই বোনের এরকম অদ্ভুত অভ্যেস হলো কি করে! আমি টেনশনে পানি খেয়ে পেট ফুলাই আর রুশো ভাইয়া দাঁত দিয়ে নখ কাটতে কাটতে বোধহয় আঙ্গুলই খেয়ে ফেলে।
.
অবশ্য অগ্নি ভাইয়ার এরকম অভ্যেস না থাকলেও খুবই লজ্জাজনক এক মারাত্মক অভ্যেস আছে। আর সেটা হলো "হাটু কাঁপা" ভাইয়া টেনশনে পড়ে গেলে ঘামার সাথে সাথে হাটুতে ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে ফেলে। যেটা বর্তমানে ঘটে চলেছে। সবাই টেনশনে আম্মুর দিকে মনোযোগী থাকায় ভাইয়ার হাটু কাঁপার দৃশ্য নজরে না দিলেও আমি বেশ দেখতে পাচ্ছি। নিত্য আপু যদি দেখতো তবে নির্ঘাত মৃগী রোগ ভেবে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যেতো!
.
এই নিয়ে নীবিড় ভাইয়া আর রুশো ভাইয়া মিলে আম্মুকে ইনিয়েবিনিয়ে অনেক কথাই বুঝিয়েছে। তবে জানি না কতোটুকু সফল হয়েছে। কারণ আম্মুর এখন পর্যন্ত কোনো পজিটিভ রিয়াকশন চোখে পড়ে নি আমার। আম্মু শুধু ভাইয়াদের কথা গুলো শুনেই গেছে। মস্তিষ্ক পর্যন্ত নিয়ে গেছে কি না সন্দেহ। নিত্য আপু এই প্রথম আম্মুর সামনে মাথা নত করে বসে আছে। আসলে এতোক্ষণ উৎসুক দৃষ্টিতে চেয়ে থেকেও আম্মুর কোনো উত্তর না পেয়ে আপু ধরেই নিয়েছে আম্মু রাজি নন। তাই নিজের মায়ের মতো দেখে আসা মামনিকেও যেনো আজ অচেনা লাগছে তার। সাথে অগ্নি ভাইয়া তো টেনশনে একেবারে চুপসে গেছে। এমনি সময় হলে আমি ভাইয়ার এরকম নার্ভাস ফেইস দেখে হেসে কুটিকুটি হয়ে যেতাম। কিন্তু এই মুহূর্তে ভাইয়ার অসহায়ত্বটা বড্ড কষ্ট দিচ্ছে আমায়।
.
অনেক্ষণ যাবৎ আম্মুর কোনো হেলদোল নেই দেখে নীবিড় ভাইয়া বুক ফুলিয়ে একটা দীর্ঘঃশ্বাস টেনে বলে উঠলেন,
- মামনি...!
.
আম্মু এবার নড়েচড়ে বসে কপাল কুঁচকে বলে উঠলো,
- আমি নিত্যকে নিজের বৌ মা বানাতে পারবো না ব্যাস....!
.
আম্মুর উচ্চারিত এই একটা সেনটেন্স যেনো মুহূর্তেই কতো শতো প্রাণ চুরমার করে শেষ করে দিলো। দুমড়ে মুচড়ে উঠলো আমার হৃদয়। নিত্য আপু প্রায় কেঁদেই দেবে যেনো। রুশো ভাইয়ার হুশ নেই কখন যে কাটা বাদ দিয়ে আঙ্গুল চুসতে শুরু করে দিয়েছে। এদিকে নীবিড় ভাইয়া আর অগ্নি ভাইয়া যেনো এখনোও এক টুকরো আশা নিয়ে করুণ চোখে আম্মুর মুখপানে চেয়ে রয়েছে।
এই ভয়ানক হৃদয় ভাঙ্গা পরিস্থিতিতে আবারও পিপাসায় পেলো আমায়। এবার সাথে গ্লাস না থাকায় অগত্যা জগ উঁচু করে হা করে পানি খেতে লাগলাম আমি।
আম্মু আবারও বলে উঠলো,
.
- হ্যা! আমি নিত্যকে নিজের ছেলের বৌ বলে মানবো না কারণ.........(একটু থেকে)
ওকে আমি নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসি। ও শুধু নামে আমার ছেলের বৌ হবে। কিন্তু আসলে ও আমার মেয়ে। ঠিক অনন্যার মতোই!
.
আম্মুর উপরিউক্ত উক্তি শুনা মাত্রই আমার জগ থেকে মুখে ঢালতে থাকা পানি মুখে না পড়ে জামায় পড়ে গেলো সাথে মুখে যেটুকু পানি নিয়েছিলাম তা গিলার আগেই ভুসসসস....করে বেড়িয়ে গেলো।
এদিকে রুশো ভাইয়া অন্যমনস্কতার বশে মুখে ঢুকানো আঙুলটিতে "কচ" করে নিজেই কামড় বসিয়ে "আউচচ!" করে উঠলো।
নিমিষেই সবার মুখেই খুশির ঝিলিক। খুশিতে চোখ চকচক করে উঠলো সবার৷ কিন্তু সবাই যেনো বাক প্রতিবন্ধী হয়ে গেলাম। আম্মু সবার এমন অবস্থা দেখে নিজের আগের মুড বদলে ফিক করে হেসে দিয়ে বলে উঠলো,
.
- কিরে চুপ করে গেলি কেনো! বল কেমন দিলাম?
.
রুশো ভাইয়া মামনির কথার পরিপ্রেক্ষিতে আনমনেই বলে উঠলো,
.
- ওত্তেরি..!
কি চিজ তুমি মনি,
থোরি দের আগেই হয়ে গিয়েছিলে সবার শনি!
হায়রে ফ্লেবার চেঞ্জের খনি,
তাইতো তোমাকেই খুঁজছে এ দুচোখের মনি।
ওগো রং পাল্টানো অনামিকা,
হবে কি আমার গল্পের নায়িকা?
.
(আম্মুর নাম অনামিকা) রুশো ভাইয়ার এমন অদ্ভুত কবিতায় সবাই তার দিকে কয়েক সেকেন্ড স্থির দৃষ্টি রেখে পর মুহূর্তে হু হা করে হেসে উঠলাম। আম্মু মুখ ফুলিয়ে বলে উঠলো,
.
- এই বয়সে এসে নায়িকা বানাচ্ছিস? আমি যখন অনুর বয়সী ছিলাম তখন কতো সুন্দর ছিলাম! তখন কোথায় ছিলিস?
.
রুশো ভাইয়া মাথা চুলকে বলে উঠলো,
- কোথায় আবার? তোমার বোনের পেটে!
.
এবার সবার হাসির বেগ যেনো আরোও বেড়ে গেলো। উফফ রুশো ভাইয়াও হয়েছে একটা হাসির ডিব্বা! সত্যিই ভাইয়ার যে বউ হবে সে নিঃসন্দেহে অনেক লাকি হবে।
.
🍁
.
রুশো ভাইয়া মাথা চেপে ধরে বসে আছে। পাশেই চুপচাপ চিন্তিত হয়ে বসে আছি আমরা সবাই। রুশো ভাইয়ার মতো এতো হাসিখুশি মানুষের মলিন মুখটা নিতে পারছিনা আমরা কেউই।
নীবিড় ভাইয়া আবারো রুশো ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করলেন,
.
- হেই ড্রিমার, কি হয়েছে সেটা বলবে তো। আমি সলিউশন বের করবোই ট্রাস্ট মি।
.
রুশো ভাইয়া এবার হাত সরিয়ে মুখ তুলে তাকালো। বাচ্চাদের মতো ঠোট উলটে বলে উঠলো,
- কি বলবো ব্রো! এবারের স্টোরিটাও হিট হলো না। এতো ভালো ক্যারেক্টার গুলো এড করলাম তাও হলো না।
.
নীবিড় ভাইয়া আর অগ্নি ভাইয়া নিজেদের মধ্যে ইশারায় কিছু কথা বলে আবারও কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করলেন। তারপর হুট করেই নীবিড় ভাইয়া বলে উঠলেন,
.
- একটা কথা মন দিয়ে শুনো রুশো। স্টোরিতে কিন্তু শুধু অন্যদের ফলো করে ফিলিংস এড করলে সেটা খুব একটা ভালো প্রোমোশন পাবে না। তুমি অন্যকে না দেখে নিজেকে দেখো। অন্যরা কি ইম্যাজিন করছে সেটা না ভেবে তুমি নিজে কি ইম্যাজিন করছো সেটা নিয়ে ভাবো। তুমি ধরে নাও তোমার স্টোরির মেইন ক্যারেক্টার তুমি নিজেই। তুমি কি ফিল করছো সেসব নিয়ে ভাবতে হবে তোমায়। এই টেকনিকটা এপ্লাই করে নেক্সট স্টোরি লিখো। আই থিংক দ্যাট উইল বি বেটার।
.
রুশো ভাইয়া খুবই মনোযোগ সহকারে নীবিড় ভাইয়ার কথা গুলো শুনলো। উনার কথার অর্থ বুঝতে পেরে খুশিতে চোখ চকচক করে উঠলো ভাইয়ার। রুশো ভাইয়া খুশিতে এক লাফ দিয়ে নীবিড় ভাইয়ার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। এদিকে নীবিড় ভাইয়া হুট করে এমন পরিস্থিতির স্বীকার হওয়ার টাল সামলাতে না পেরে রুশো ভাইয়াকে নিয়েই ধপাস করে বিছানায় পরে গেলেন। এই সিন দেখে আমি সহ নিত্য আপু আর অগ্নি ভাইয়া হু হা করে হাসতে শুরু করে দিলো।
অদ্ভুদ ব্যাপার আমাদের সাথে সাথে নীবিড় ভাইয়া আর রুশো ভাইয়াও বিছানায় পড়ে থেকে হাসতে শুরু করে দিলেন। যেটা দেখে আমি চোখ ছোটছোট করে সাদা বিলাইয়ের দিকে তাকালাম। এতোক্ষণে রুশো ভাইয়ার জায়গায় আমি হলে নির্ঘাত ধাক্কা মেরে ফেলে দিতেন আমায়। অথচ রুশো ভাইয়ার উনার ওপর পড়ায় আরোও হাসছেন উনি! ফাজিল পোলা!
.
🌹
.
পরের দিন.....☀
আজ নিত্য আপুর আব্বুর আমাদের বাসায় আসার কথায় আসার কথা। এনগেজমেন্ট এর কথা বলার জন্য। প্রথমে আমাদেরই যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু আম্মু চান না উনাকে বাড়তি ঝামেলায় ফেলতে। এমনিতেই কাজের চাপ উনার বেশি। নিত্য আপুর আম্মু তো অনেক আগেই গত হয়ে গেছেন। অথচ আপুর আব্বু চাইলেই আবারও বিয়ে করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেন নি। আপুর মুখের শুনা তারা একে ওপরকে ভীষণ ভালোবাসতেন।
এসব ভেবেই বুক চিরে দীর্ঘঃশ্বাস বেড়িয়ে এলো আমার।
.
গাল ফুলিয়ে ড্রয়িংরুমে বসে আছি আমি। অবশ্য ইচ্ছে করে ফুলিয়ে নেই। তারও যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। কারণটা হলো আমার আক্কেল দাঁত গজাচ্ছে। গালের ডান সাইড ফুলে বোম্ব হয়ে আছে আমার। নিজেকে আয়নায় দেখতেই হাসি পাচ্ছে আমার নিজেরই আর তো ভাইয়ারা! সেই কখন থেকে অগ্নি ভাইয়া আমার মজা নিয়ে চলেছে৷ রুশো ভাইয়া না হাসলেও দাঁত কেলিয়ে আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছে এই বলে,
.
- আরে ছুটকি! তোর এতো কম বয়সে আক্কেল হবে ভাবা যায়? অনেকের তো বুড়ো বয়সে হয়। তখন হয়ে কোনো লাভ আছে নাকি? শুধু ব্যথাটা বেশি করে বুড়ো বয়সে উঠলে।
.
কিন্তু এরা আমার মুড অফের কারণ বুঝতে পারছেনা। মোট কথা আমি এই ফোলা গাল নিয়ে ভার্সিটি যেতে পারবোনা। ভাইয়া তো অলরেডি আমাক "গোল আলু" উপাধিই দিয়ে ফেলেছে, না জানি ভার্সিটিতে গেলে আরোও কি কি উপাধি পাবো আমি। সেই ভয়েই আজ ভার্সিটি যাওয়ার প্লান অগত্যা ক্যান্সেল করে দিলাম। আজ নাকি ভাইয়াও যাবে না তাই শোক টা কিঞ্চিত কমে এলো আমার। কিন্তু রাত্রির সাথে আড্ডা না দেওয়া পর্যন্ত তো আমার পেটের ভাত হজম হবে না। উফফফ.....! কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা।
আমার গোমড়া মুখ দেখে রুশো ভাইয়া ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে উঠলো,
.
- ছুটকি, খুব ব্যথা করছে কি?
.
আমি চট করে রুশো ভাইয়ার দিকে মুখ ফিরিয়ে বলতে শুরু করি,
- আরে আমার দাঁত ব্যাথা করছেনা। শুধু ফুলে আছে এই। আর আমার মুড অফ কারণ আজ রাত্রির সাথে দেখা হবে না।
.
রুশো ভাইয়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে হঠাৎ মুখে হাসি ফুটিয়ে বলে উঠলো,
- আরে এটা আবার কোনো প্রবলেম হলো? এটম বোম্বকে আসতে বল বিকেলে। নীবিড় ব্রো রাও তো আসবে তখন। সবাই মিলে নিত্য আর অগ্নি ব্রো কে নিয়ে জমিয়ে আড্ডা দেওয়া যাবে।
.
রুশো ভাইয়ার কথা শুনে নিজের মাথায় নিজেই একটা চাটি মেরে দিলাম আমি। সাদা বিলাই ঠিকই বলে। আমি আসলেই একটা স্টুপিড। রাত্রিকে আসতে বললেই যেখানে হয়ে যায় সেখানে আমি মুখ গোমড়া করে বসে আছি।
.
🍂
.
গলা শুকিয়ে যাচ্ছে আমার। আজ এই দাঁতের ব্যাথার জন্য দুপুরে খাইনি আমি। যদিও বাম দিক দিয়ে খাওয়া যেতো তবুও কেনো যেনো খেতে ইচ্ছে করে নি। এদিকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নেমে যাচ্ছে তাও রাত্রির কোনো খবর নেই। নিত্য আপুরা অনেকক্ষণ আগেই এসেছে। ড্রয়িংরুমে বসে সবাই সব কিছু ফাইনাল করে নিত্য আপু আর অগ্নি ভাইয়াকে একা কথা বলতে পাঠিয়েছে। বর্তমানে অগ্নি ভাইয়া আর নিত্য আপু ছাদে অবস্থান করছে। আর আমি কিচেনে জুস নিতে এসেছি। নিত্য আপুর আব্বু আর আমার আম্মু আব্বু বসে গল্প করছেন। কিন্তু নীবিড় ভাইয়াকে কোথাও দেখতে পারছিনা। কে জানে কোথায় গেলেন উনি।
.
জুসের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে অন্যমনস্ক হয়ে হাটতে গিয়ে ঠাসস...করে পিলারের সাথে ধাক্কা খেয়ে ব্যালেন্স সামলে দাঁড়ালাম আমি। মাথা তুলে সামনে তাকাতেই আমার মুখ "হা" হয়ে গেলো। একি! এতো কোনো পিলার নয়। এতো জ্বলজ্যান্ত সাদা বিলাই। উনি নিজের পরিহিত শার্টের দিকে চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছেন। তার কারণ আমার হাতে থাকা জুসের গ্লাসের অনেকটা জুস উনার শার্টে পড়ে গিয়েছে।
.
- স্টুপিড....! চোখ কি পকেটে খুলে রাখো তুমি? কি করলে এটা! আমার পুরো শার্টই তো ভিজিয়ে দিলে।
.
আমি জ্বিবে কামড় দিয়ে উনার ধমক শুনে যাচ্ছি। আল্লাহ কেনো যে বারবার উনার সাথেই আমার এক্সিডেন্ট ঘটিয়ে ফেলেন তা উনিই জানেন!
হায় আল্লাহ! এখন কি করবো আমি?
ভাবতে ভাবতেই একটা বুদ্ধি এলো মাথায়। মুখ কাচুমাচু করে বলে উঠলাম,
.
- ভা....ভা...ভাইয়া আপনি শার্টটা আমাকে দেন। আমি ওয়াশ করে দিবোনি। আপনি বরং ভাইয়ার কোনো শার্ট পরে নিন। প্লিজ.....!
.
আমার কথাটা হয়তো উনার পছন্দ হলো। আমাকে ভাইয়ার রুমের বাইরে দাঁড় করিয়ে উনি একটা টি-শার্ট পড়ে বেড়িয়ে এলেন। আমার হাতে উনার জুসে ভিজে যাওয়া শার্টটি দিয়ে বলে উঠলেন,
.
- গো..! সুন্দর করে ওয়াশ করবে। একটা দাগও যদি থাকে তাহলে বুঝতেই পারছো কি করবো....! (বাঁকা হেসে)
.
আমি একটা শুকনো ঢোক গিলে ছুট লাগালাম আমার রুমে। গিয়েই দরজা লক করে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম আমি।
১০ সেকেন্ড ও হয়নি আবার হুট করে কেউ দরজায় নক করায় ধরফড়িয়ে উঠলাম। আবারো নিশ্চয় সাদা বিলাই এসেছেন। আরে উনার কি আক্কেল হুশ জ্ঞান বলতে কিছুই নেই নাকি? রুমে আসলাম ১ মিনিটও হয়নি তাতেই শার্ট ফেরত নিতে এলেন নাকি?
রেগেমেগে দরজা খুলতেই আমি "হা" হয়ে গেলাম। আমার সামনে একটা ময়দা সুন্দরী দাঁড়িয়ে আছে। একটু ভালো করে দেখে বুঝলাম এটা আর কেউ না আমার বেস্টু রাত্রি।
.
- ওই হা করে দাঁড়িয়ে কি দেখছিস? ঢুকতে দিবি না?
.
- তুই হঠাৎ এতো সেজেগুজে এসেছিস কেনো রাত না দিন? ওহ এবার বুঝলাম এই জন্যই আসতে আসতে তোর সন্ধ্যে লেগে গেলো। শাঁকচুন্নি! কখন থেকে অপেক্ষা করছিলাম আমি জানিস? এই দেখ পেট ফুলে রয়েছে। কতো কথা জমা আছে ভাব!
.
- হয়েছে হয়েছে। মন চাইলো তাই সাজলাম। (আমার গালের দিকে তাকিয়ে) এই তোর গাল ফুলে গেছে কেনো বলতো?
.
উফফফ এই ভয়টাই পাচ্ছিলাম আমি। প্রসঙ্গ এড়াতে রাত্রিকে টেনে এনে খাটে বসিয়ে আমি ওয়াশরুম যেতে যেতে বলে উঠলাম,
- " আক্কেল হচ্ছে আমার, যেটার অভাবে তুই আজো বেক্কেল!"
.
বলেই ওয়াশরুমে ঢুকে গেলাম আমি। রাত্রি হয়তো আমার বলা কথার কোনো মিনিং বুঝতে না পেরে এতোক্ষণে মাথা চুলকানো শুরু করে দিয়েছে। চুলকোলে চুলকোক। আমার কি? আপাতত এই জুসে ভরা সাদা বিলাইয়ের সাদা শার্টের সাথে যুদ্ধ করা শুরু করি আমি।
.
🌺
.
রাত্রি অনন্যার অপেক্ষা করছিলো কিন্তু ৫ মিনিটেও না বেড় হওয়ায় বোর হয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে এলো রাত্রি। ওর চোখ জোড়া শুধু এখন অগ্নিকেই খুঁজে চলেছে। নীবিড়ের আব্বুকে নিচে দেখেও তেমন কোনো অর্থ বুঝতে পারে নি রাত্রি। কারণ উনাদের আসা যাওয়া খুবই কমন।
.
রাত্রি হেটে হেটে রুশো যেই রুমে ছিলো সেই রুম ক্রস করছিলো এমন সময় রুশোর চোখ যায় রাত্রির দিকে। নেভিব্লু কালারের সিল্কের শাড়ি পড়েছে সে। কানে বড়বড় ঝুমকো। চুলগুলো কোমড় পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়া। সাথে ভারী মেকআপে যেনো অপরূপ লাগছে তাকে। রাত্রি হাটতে হাটতে রুশোর রুম ক্রস করে ছাদের দিকে এগোতে লাগলো। রাত্রিকে ছাদের দিকে যেতে দেখে রুশো রাত্রিকে আটকাতে তার পেছন পেছন রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।
.
অগ্নির কাঁধে মাথা দিয়ে রেখেছে নিত্য। তার অবাধ্য চুলগুলো অগ্নির বুকজুড়ে বিরাজ করছে। এই হাল্কা বাতাসে দুজনই যেনো প্রেমের জোয়ারে ভাসতে শুরু করে দিয়েছে। দুজনেরই দৃষ্টি শুণ্যে। নীরবতার মাঝেও যেনো তারা মনে মনে কথোপকথন চালিয়ে যাচ্ছে।
.
রাত্রি ছাদে পা রাখা মাত্রই এই দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়ায়। তার চোখ থেকে অবলীলায় নোনাজল গড়িয়ে পড়তে শুরু করে। তার ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কাঁদতে কিন্তু সেই শক্তিটুকুও যেনো পাচ্ছে না সে।
রাত্রিকে দরজাতেই থেমে যেতে দেখে রুশোও থেমে যায়। সে রাত্রির মুভমেন্ট পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। হঠাৎ রাত্রির চোখ পানি দেখে বুকের ভেতর ছ্যাঁত করে ওঠে রুশোর। দুমড়ে মুচড়ে যেতে থাকে তার শতশত আশা। তাহলে কি তার সন্দেহই ঠিক ছিলো? রাত্রি অগ্নিকে ভালোবাসে! তাহলে তো রাত্রি ভেঙ্গে পড়বে। সে যে রাত্রিকে কষ্ট পেতে দেখতে পারবে না।
.
রাত্রি এক পা দু পা করে পেছাতে পেছাতে একসময় উলটো দিকে ঘুরে কাঁদতে কাঁদতে ছুট লাগায়। রাত্রিকে আসতে দেখে রুশো দেয়ালের অপর পাশে নিজেকে আড়াল করে সরে দাঁড়ায়। হাজারও দুশ্চিন্তা ভর করতে থাকে তার মাথায়। কেমন এক চিনচিনে অসহ্যকর ব্যাথা হতে থাকে বুকের বাম পাশে। রাত্রির জন্য ভয় হতে শুরু করে রুশোর। রাত্রির ছুটে নিচে নেমে যাওয়া দেখে কিছুক্ষণ স্ট্যাচুর মতো দাঁড়িয়ে থাকে সে। হঠাৎ রাত্রি যদি কিছু করে বসে ভেবেই রুশোও ততক্ষণাত নিচে নেমে আসে।
.
- রুশো রাত্রি ওভাবে বেড়িয়ে গেলো কেনো? তুই কি আবারও ঝগড়া করেছিস ওর সাথে? (মনি)
.
রাত্রি বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেছে শুনে এক অজানা ভয় এসে বাসা বাধে রুশোর মনে। মনিকে চিন্তা করতে মানা করে এক ছুটে বেড়িয়ে যায় রুশোও! এদিকে দুজনের এভাবে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যাওয়ায় চিন্তায় পড়ে যায় সবাই।
.
🌸
.
অন্যমনষ্ক হয়ে রোডের মাঝ বরাবর হেটে চলেছে রাত্রি। এই নিয়ে দু তিনটে গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগতে লাগতে বেঁচে গিয়েছে সে। এমন সময় ওপর পাশ থেকে একটা ট্রাক ফুল স্পিডে ছুটে আসছে তার দিকে। কিন্তু রাত্রির সে দিকে কোনোই ভ্রুক্ষেপ নেই। ট্রাক ড্রাইভারটাও মাতাল। মদ খেয়ে দুলতে দুলতে ট্রাক চালিয়ে যাচ্ছে লোকটি।
ট্রাকটা একদম কাছাকাছি চলে আসা মাত্রই কেউ হ্যাঁচকা টান মেরে রাত্রিকে রোডের সাইডে নিয়ে গিয়ে সজোড়ে থাপ্পড় মেরে দেয় তার গালে।
.
.
.
চলবে........................💕