#প্রেম_আমার♥
#পার্ট-৪৫♥
#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥
.
🌺
.
নিজের ঘাড়ে ভেজা অনুভব করতেই চমকে উঠলাম আমি। উনাকে ধরে সোজা করে দাঁড় করাতেই নিজের বা হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখের কোণে জমা জলগুলো মুছতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন উনি!
আমি অবাক হয়ে পলকহীন চোখে দেখছি উনাকে। এই মানুষটার চোখেও জল আসতে পারে? আদৌ কি তা সম্ভব? এমন অসাধ্য সাধন হলো কি করে?
কিন্তু উনি কি জানেন উনার এই চোখের জলগুলো আমার ভেতরটাকে ক্ষত-বিক্ষত করে দিচ্ছে, ঝড়াচ্ছে অঝোরে রক্ত!
.
আমি নীবিড় ভাইয়ার পায়ের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে পড়লাম। উনি আমায় বাধা দিলেন না বরং অবাক চোখে তাকিয়ে থাকলেন আমার দিকে। হয়তো বোঝার চেষ্টা করছেন আমি হঠাৎ উনার পায়ের ওপর পা রেখে উঠলাম কেনো!
আমি মেয়ে হিসেবে যেহেতু যথেষ্ট লম্বা, উনার কান পর্যন্ত পৌঁছোই আমি। তাই সহজেই উনার পায়ের ওপর ভর করে উঠায় অনেকটাই মুখোমুখি হয়ে পড়লাম।
.
আমি কিছুক্ষণ উনার ঘন পল্লব বিশিষ্ট চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে হুট করেই সেই চোখে ঠোঁট ছোঁয়ালাম।
আমি হয়তো পড়ে যাবো আশংকা করে উনি দুহাতে কোমড় জড়িয়ে ধরলেন আমার।
আমি নির্দ্বিধায় উনার দু চোখেই আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলাম।
.
উনি মৃদু হেসে আমায় ছেড়ে দিতেই চট করে নেমে পড়লাম উনার পা থেকে! এতোক্ষণ ছিলাম, নিশ্চয়ই ব্যথা পাচ্ছিলেন।
উনার ডান হাত নিজের হাতে মুঠোয় নিয়ে ধীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করলাম,
.
---- আপনার চোখে পানি কেনো ভাইয়া? আপনি কি জানেন আপনার চোখে পানি দেখে আমার কষ্ট হচ্ছিলো। মনে হচ্ছিলো কেউ যেনো ইচ্ছেমতো নির্মমভাবে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে চলেছে আমার হৃদপিন্ডে। কেনো কাঁদছিলেন বলুন?
.
উনি হা করে আমার দিকে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছেন। হয়তো ভাবতেই পারেন নি আমি এমন কিছু করবো। পর মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিয়ে আবারও উল্টো দিকে মুখ ফিরিয়ে আকাশের পানে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বসলেন উনি। আমিও তৎক্ষণাৎ উনার পাশেই রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পড়লাম উত্তরের আশায়।
উনি হাল্কা হেসে একবার আমার জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আবারও আকাশের পানে চেয়ে বলে উঠলেন,
.
---- তুমি কি ওখানে কাউকে দেখতে পাচ্ছো অনন্যা?
.
উনার প্রশ্নের কোনো উত্তর জানা নেই আমার তাই ফ্যালফ্যাল চোখে আবারও একরাশ বিস্ময় নিয়ে তাকালাম উনার দিকে। উনি আবারও বলতে শুরু করলেন,
---- ওখানে আমার আম্মু থাকে, জানো?
.
উনার মায়ের কথা শুনে নিমিষেই মুখটা মলিন হয়ে এলো আমার। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমিও এবার তাকালাম উনার দেখানো আকাশের থালার ন্যয় চাঁদের সব থেকে নিকটে জ্বলজ্বল করতে থাকা ঐ ছোট্ট তারা টায়! যেটা পৃথিবী থেকে দেখতে পিঁপড়ের মতো ছোট লাগলেও বাস্তবে হয়তো পৃথিবীর থেকে কয়েক হাজার গুণ বড় অথবা পৃথিবীর থেকেও ছোট!
উনি হাতের ইশারায় সেই তারাটিকে দেখিয়ে বলে উঠলেন,
---- জানো ছোটবেলায় আম্মু আমাকে আর নিত্যকে কোলে নিয়ে একটা গল্প শুনাতো, সেই গল্পে যদি কেউ পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায় তবে সে নাকি ওই আকাশটায় চলে যায়। একদিন আম্মু বলেছিলো, "যদি আমি কখনো হারিয়ে যাই তবে ভেবে নিবি আমি চাঁদের সব থেকে কাছের তারাটা হয়ে গিয়েছি!"
আমি সাইন্সে পড়াশুনো করি। জানি সেটা হয়তো বা কোনো নক্ষত্র অথবা কোনো গ্রহ যা চাঁদের মতো সূূর্যের থেকে আলো সংগ্রহ করে ছড়িয়ে দিচ্ছে, তবুও কেনো জেনো মনে হয় ওইতো ওটাই আম্মু। দূর থেকে আমাদের দেখছে। তাই রোজ রাতেই একবার হলেও ওই আকাশটায় আমার হারিয়ে যাওয়া আম্মুকে খুঁজে বেরোই আমি।
একটু থেমে আবারও বলতে শুরু করলেন,
--- মাঝে মাঝে আকাশেরও মন আমার মতো খারাপ থাকে। তখন আকাশে ভীড় করে ঘন কালো মেঘ। এই মেঘগুলো খুব বাজে হয় জানো? শুধু শুধু আমার আম্মুটাকে ঢেকে দেয়। ওরা কি জানে না আমি প্রতিদিন রাত হওয়ার অপেক্ষা করি যাতে আম্মুকে এক নজর দেখতে পাই?
.
উনার কথার মাঝেই কখন যে টপটপ করে গাল বেয়ে নোনাজল গড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে তার খেয়ালই নেই আমার।
নীবিড় ভাইয়া আকাশের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আমার দিকে তাকাতেই আঁতকে উঠলেন। অস্থির হয়ে তৎক্ষণাৎ কোমড় জড়িয়ে ধরে নিজের একদম কাছে নিয়ে গেলেন আমায়। একহাত দিয়ে আমার চোখের কোণে জমা জলগুলো মুছে দিয়ে উত্তেজিত কন্ঠে প্রশ্ন করলেন,
.
---- এই পাগলি, তুমি কাঁদছো কেনো? বোকা মেয়ে একটা! একদম কাঁদবে না, তুমি কি জানো, তোমায় কাঁদলে সিরিয়াসলি পুরো বাচ্চাদের মতো লাগে? অবশ্য এমনিতেও তুমি বাচ্চাই! বড় হলেই বা কোনদিন?
.
উনার কথায় কান্নার বেগ আরোও বাড়িয়ে উনার বুকের কিল-ঘুষি মারতে শুরু করলাম আমি। আমায় উনার বুকে কিল-ঘুষি মারতে দেখে ব্যথা পাওয়ার বদলে হাসির ঝংকার তুলে দিলেন উনি। উনার হাসির আওয়াজে আমি উনার বুক থেকে মুখ তুলে মুগ্ধ চোখে তাকালাম সেই হাসির পানে! চাঁদের আলোয় উনার ঝকমকে দাঁতের ভুবন ভোলানো হাসি দেখে অজান্তেই নিজের ঠোঁটের কোণেও এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো আমার।
আবারও বুকের বাম পাশে সেই চিনচিনে অনুভূতিটা হতে লাগলো! এই হাসি দেখেই না জানি কতো শত প্রাণ খুন হয়ে যেতে পারে নিমিষেই। তা কি উনি জানেন?
ভাবতেই অবাক লাগে এই মানুষটাই আমার স্বামী! যাকে দেখলে আগে আমি দশ হাত দূরে থাকতাম, আজ তার আর আমার মাঝে ১ ইঞ্চিও ফাঁক নেই। বিবাহের মতো পবিত্র সম্পর্কে বাঁধা পড়েছি আমরা পরস্পরের সাথে।
.
নীবিড় ভাইয়া হাসি থামিয়ে চোখ বন্ধ করে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আমার চোখের দিকে তাকালেন। আমি এখনোও বোকার মতো চেয়ে রয়েছি উনার স্নিগ্ধ মুখ খানায়।
উনি মুচকি হেসে সামান্য ঝুঁকে নিজের কোমল অধর আমার ললাটে স্পর্শ করিয়ে এক গভীর চুম্বন এঁকে দিলেন সেথায়। সাথেসাথেই নিজের গোলক রন্ধ্র বন্ধ করে ফেললাম আমি। উনার প্রেমময় স্পর্শে এক অজানা শিহরণ বয়ে গেলো আমার প্রতিটি শিরা-উপশিরায়।
আমায় সোজা করে দাঁড়িয়ে করিয়ে নিজের ডান হাত আমার বাম গালে স্পর্শ করে উনি বলে উঠলেন,
.
---- ঘুমোবে চলো! অনেক রাত হয়েছে।
.
আমার গালে রাখা উনার হাতের ওপর নিজের ডান হাত রেখে আমি বলে উঠলাম,
---- আপনি পারবেন তো সবটা সামলাতে? যদি না পারেন? আমাকে কি একলা রেখে ছেড়ে চলে যাবেন আপনি?
.
উনি নিজের মুখটা আমার মুখের কাছে আরোও একটু এগিয়ে নিয়ে এসে শীতল কণ্ঠে বলে উঠলেন,
---- মৃত্যুর আগ অবদি ছেড়ে যাবো না পাগলি। ওই এক উপর ওয়ালা ছাড়া আর কারো সাধ্য নেই এই নীবিড় কে অনন্যার থেকে দূরে নিয়ে যাবার।
তার প্রেমের থেকে দূরে নিয়ে যাবার।
.
আমি অবাক দৃষ্টিতে উনার দিকে চেয়ে আনমনেই প্রশ্ন করে বসলাম,
---- ভালোবাসেন আমায়?
.
উনি আমার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে নিজের কপালের সাথে আমার কপাল ঠেকিয়ে ধীর কন্ঠে বলে উঠলেন,
---- ভালোবাসলেই বুঝি মুখ ফুটে বলতে হয়? বুঝে নেওয়া যায় না? বা মুখে বললেই বুঝি ভালোবাসা হয়ে যায়? কর্ম দ্বারা কি প্রকাশ পায় না?
.
বিনিময়ে আমি আর কিছু বললাম না। জবাব পেয়ে গিয়েছি আমি। এই মানুষটা আমায় ভালোবাসেন, ভীষণভাবে ভালোবাসেন। ভাবতেই মনের মাঝে সুপ্ত শুকপাখী ডেকে উঠছে আমার। ভালোবাসার অনুভূতি বুঝি এতোটাই সুন্দর? এতোটাই অমায়িক!
.
🍁
.
জানালা ভেদ করে সূর্যের তীর্যক রশ্মি চোখে পড়তেই কপাল কুঁচকে এলো আমার। বাম হাত চোখের সামনে ধরে আড়মোড়া ভেঙে উঠতেই নজরে পড়লো নিত্য আপুকে।
আপু জানালার পর্দা সরিয়ে তার পাশেই চেয়ার টেনে বসে চায়ের কাপের চুমুক দিচ্ছে। আমায় উঠতে দেখেই মিষ্টি করে আপু বলে উঠলো,
.
---- এইতো পাখিটার ঘুম ভাঙলো তবে! চা খাবে কি অনন্যা?
.
আমি বাম হাত দিয়ে চোখ চুলকোতে চুলকোতে ঠোঁট উল্টালাম। কাচুমাচু করে জবাব দিলাম,
---- আপু, আমি তো গরম চা খাই না।
.
আপু আমার এমন বোকার মতো জবাবে ফিক করে হেসে বলে উঠলো,
---- চা তো গরমই হয়! ঠান্ডা চা খাওয়া যায় নাকি?
.
নিজের বোকামির জন্য নিজেই নিজের মাথায় একটা চাটি মেরে দিলাম। ঘুম থেকে উঠে বোধহয় বুদ্ধিসুদ্ধি লোপ পেয়ে গিয়েছে আমার। এক কথায় বললেই তো হতো যে আমি চা খেতে পারিনা।
নিত্য আপু আবারো হাসলো। হেসে বলে উঠলো,
---- আচ্ছা, ফ্রেশ হয়ে এসো। রাত্রি একটু আগেই ফেশ হতে গিয়েছে।
.
এতো সকালে আপুর হাতে চায়ের কাপ দেখে আমি একটু ভেবে জিজ্ঞেস করলাম,
---- এতো সকালে চা কে বানালো?
.
আপু একটা ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বলে উঠলো,
---- আমিই বানিয়ে নিলাম। তাছাড়া আজ থেকে সকলের রান্নার দ্বায়িত্ব আমার ওপরে দিয়েছে দিদুন। আরোও ৩ কাপ চা ভাইয়াদের ঘরে দিয়ে এসেছি! আর তোমার ঘুম কাতুরে ভাইকে ডাকার জন্য ভাইয়া গ্লাসে পানি নিয়ে বসে রয়েছে!
.
বলেই হাল্কা স্বরে হাসলো আপু। আমি কিছুক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে আপুর নিশ্চিত চেহারার দিকে তাকিয়ে থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বেরিয়ে এলাম ঘর থেকে।
না জানি আল্লাহ তায়ালা এই দুই ভাই বোনকে কতোটা ধৈর্য্য দান করে বানিয়েছেন। চরম কঠিন সময়েও কতো স্বাভাবিক থাকে তারা। এমন ভাবটা নেয় যেনো সবকিছু ঠিক আছে, কোথাও কোনো ভুলভ্রান্তি নেই। আর এই স্বাভাবিকতার সাথেই তাল মিলিয়ে বুকে হাজারও চিন্তা, কষ্ট, ক্লান্তি চেপে রেখে ঠোঁটের কোণে মিষ্টি এক চিলতে হাসি ঝুলিয়ে রাখে তারা! অথচ আশেপাশের মানুষেরই তাদের এই দুর্দশায় ঘুম নেই চোখে।
পুরো বাড়ির মানুষের রান্না একা হাতে করাটা কি এতোটাই সহজ? কখোনই না! যেখানে আম্মু, চাচিমনি আর বড় চাচি মিলেও এতো রান্না করতে হিমশিম খেয়ে যায় সেখানে এই বয়সে একা হাতে নিত্য আপু কিভাবে করবে সবটা? এতো আর শহর নয় যে ইন্ডাকশন ওভেন অথবা গ্যাস ওভেনে রান্না চাপিয়ে নিশ্চিন্তে একা হাতে সবটা সামলে নেয়া যাবে। এতো মাটির উনুন। আগুনের সাথে খেলা করে রান্না করতে হয় এখানে। অভ্যেস ছাড়া আপু পারবে তো?
.
🍂
.
আজ নিত্য আপু রুটি আর আলুর তরকারি বানিয়েছে। কষ্ট হয়েছে বানাতে জানি তবুও আপু হাসি মুখেই রেঁধে সবাইকে খাবার বেরে দিচ্ছে। আপুর মুখ লাল হয়ে গিয়েছে। গা ঘেমে একাকার অথচ তাও আপুর মুখে যেনো প্রাপ্তির হাসি।
আমার পাশেই বসে আছে অগ্নি ভাইয়া। থরথর করে রেগে কাঁপছে ভাইয়ার পুরো শরীর! নিজের চোখের সামনে আপুর এরকম অবস্থা নিতে পারছে না ভাইয়া। এই নিয়ে দিদুনের কাছে কথা বলতেও চেয়েছে কিন্তু আম্মু আব্বু ভাইয়াকে থামিয়ে দিয়েছে। যদি হিতে বিপরীত হয়ে যায় সেই আশংকায়। আমার একদম ভালো লাগছে না এসব। রুশো ভাইয়াও দিদুনের ওপর ভীষণ রেগে গিয়েছে। মাঝখান থেকে শান্ত শুধু নীবিড় ভাইয়া! এখন পর্যন্ত একটা টু শব্দও করেন নি উনি।
.
কোনোরকমে একটু খেয়ে উঠে পড়লাম আমি। আসলে খাওয়ার ইচ্ছেটুকুই নেই। খাবার যথেষ্ট ভালো হয়েছে কিন্তু খেতে ইচ্ছে করছে না আমার।
সবার কাছে নিত্য আপুর রান্নার প্রশংসা শুনে আপুর চোখ উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।
এতো ভালো হবার পরও দিদুন খেয়ে শুধুমাত্র "চলনসই!" শব্দটি উচ্চারণ করলেন। যেই শব্দটা আপুর কাছে কেমন লেগেছে জানা নেই আমার তবে আমার কাছে এতোটাই কষ্টদায়ক লেগেছে যেন মনে হচ্ছে রান্নাটা আপু নয় আমি করেছি।
.
---- হোয়াট ইজ দিস ছুটকি? এই বুড্ডিটা এতো স্ট্রিক্ট কেনো? ভাবী আগুনে পুরে এতো ভালো রান্না করলো তাও শি জাস্ট সেইড "Passable!"
লাইক সিরিয়াসলি! দ্যটস রিয়েলি নট ফেয়ার!
আমি হলে এতোক্ষণ রেগেমেগে ওই মাটির ওভেনটাই ভেঙে ফেলতাম!
.
---- হুশশশশ.....! ভাইয়া চুপ! আস্তে কথা বলো। দিদুনের কানে গেলে খবর আছে!
.
রুশো ভাইয়া আমার কথায় মুখ কালো করে আবারও চুপ করে রইলো। খাওয়া শেষে দিদুন আবারও নিজের চেয়ারে গিয়ে চোখে চশমা পড়ে বসলেন। পাশে রাখা খবরের কাগজটা উল্টে পাল্টে ভাঁজ করে খবর পড়তে শুরু করলেন দিদুন। দু-এক লাইন পড়ে কাগজে মুখ ডুবিয়েই নীবিড় ভাইয়াকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন,
.
---- একি তুমি এখনো যাওনি? ওহ তোমাকে তো বলাই হয়নি কি করতে হবে! গোয়াল ঘরে গিয়ে লালু ভলুর গলায় বাঁধা দড়ির খুঁটি খুলে মাঠে গিয়ে ঘাস খাইয়ে নিয়ে এসো। আপাতত এটাই করো পরে কি করবে বলে দেবো।
.
বলে আবারও খবর পড়তে শুরু করলেন দিদুন। দিদুনের কথায় করুন চোখে তাকালাম আমি নীবিড় ভাইয়ার দিকে। অথচ উনার মুখে হতাশার কোনো চিহ্ন মাত্র নেই। যেনো উনাকে সচরাচর করা কাজগুলোর মধ্যেই কিছু করতে দেওয়া হয়েছে বলে এমন স্বাভাবিক রয়েছেন উনি। উনি আমার দিকে এক পলক চেয়ে নিজের ঘন পল্লব বিশিষ্ট চোখজোড়া ঝাপটে নিশ্চিত থাকতে ইশারা করলেন আমায়।
স্বাভাবিক ভাবেই মুচকি হেসে বেড়িয়ে গেলেন সদর দরজা দিয়ে। আমি শুধু অসহায় দৃষ্টিতে চেয়ে রইলাম উনার যাওয়ার দিকে।
পাশ থেকে রুশো ভাইয়া ভয়ার্ত স্বরে মাথায় হাত দিয়ে বলে উঠলো,
.
---- ওহ নোউ আবারও সেই লালু-ভলু!
.
.
.
চলবে..................💕