ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

৪৬তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-৪৬♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

.

🌺

.

গোয়াল ঘরে চিন্তিত হয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে আছে নীবিড়। সে ভাবছে একসাথে দুজনকে কি করে নিয়ে যাবে। এমনিতেই তো ভলুকে সামলানো দায় সেখানে দু দুটো গরুকে একসাথে নিয়ে যাওয়া এককথায় অসম্ভব প্রায়! যদি হাত ছুটে একবার পালিয়ে যায় তবে ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে তারা।

.

এভাবে বেশ কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে প্রথমে লালুকে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে মনস্থির করলো নীবিড়। বিসমিল্লাহ বলে আল্লাহর নাম নিয়ে লালুর দড়ির খুঁটিটা মাটির ভেতর থেকে টেনে তুলে ফেললো সে। দড়িটা শক্ত করে হাতের সাথে পেচিয়ে হেঁচকা টান মেরে লালুকে নিয়ে এগোতে লাগলো নীবিড়। লালু যেহেতু শান্ত স্বভাবের তাই গলায় টান পড়তেই এগোতে লাগলো সে।

.

প্রায় ১০ মিনিটের পথ ৩০ মিনিটে শেষ করে মাঠে গিয়ে খুঁটি গেরে ধপ করে হাটুর ওপরে ভর করে বসে পড়লো নীবিড়। ঘেমে শরীরের সাথে পড়নের শার্টটা একদম লেপ্টে গিয়েছে।

ক্লান্ত হয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে কপালের ঘামগুলো ঝেড়ে ফেললো সে। এই খাড়া দুপুরের প্রখর রোদের তীব্র তাপে যেনো ঝলসে যাচ্ছে পুরো শরীর নীবিড়ের। আজ যেনো সূর্যি মামও মনস্থির করেছেন, নিজের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাটাই পৃথিবীর বুকে ঢেলে দেবেন।

কিছুক্ষণ ওভাবেই বসে থেকে উঠে দাঁড়ালো নীবিড়। বুক ফুলিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস টেনে আবারও বড়বড় পায়ে হেটে চললো সেই কাঁচা রাস্তায়৷

.

এবার ১৩ মিনিটের মাথায় বাড়ির পাশের গোয়াল ঘরে এসে পৌঁছোলো নীবিড়। শরীর ক্লান্ত থাকায় ১০ মিনিটের জায়গায় ৩ মিনিট বেশিই লেগে গেলো তার।

কিছুক্ষণ ভলুর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে নিলো ভলুকে নীবিড়। পর মুহূর্তে নিজেকে শান্ত করে পাশ থেকে আমগাছের পাতার ডালটা থেকে কয়েকটা পাতা ছিঁড়ে নিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো ভলুর কাছে। নীবিড়কে নিজের দিকে এগোতে দেখে জোড়ে "হাম্বায়ায়া...!" করে ডেকে উঠলো ভলু।

বুক ফুলিয়ে একদফা সাহস নিয়ে ভলুর থেকে সামান্য দূরত্ব বজায় রেখে একটা পাতা ডান হাতে নিয়ে ভলুর চোখের সামনে ঘোরাতে লাগলো নীবিড়। সেই পাতাটা দেখেই খাওয়ার জন্য নিজের মাথা পাতাটাকে উদ্দেশ্য করে এদিক ওদিকে বাঁকাতে লাগলো ভলু।

এভাবে কিছুক্ষণ পাতাটা ঘুরিয়ে ভলুর মুখের সামনে ধরতেই নিজের লম্বা জিহ্বা বের করে মুখের ভেতর পাতাটা পুরে নিয়ে চাবাতে লাগলো ভলু।

এভাবে বেশ কয়েকবার পাতা খাইয়ে দিলো ভলুকে নীবিড়। পাতাগুলো খেয়ে আগের থেকে অনেকটাই শান্ত হয়ে পড়লো ভলু।

.

নীবিড় সুযোগ বুঝে দড়িতে একবার টান দিতেই আবারও রেগে হাম্বায়ায়ায়া করে ডেকে উঠলো ভলু। নীবিড় বুঝলো এভাবে ভলুকে নিয়ে যাওয়া যাবে না তাই আগে ওকে নিজের বশে আনতে হবে।

এদিকে এতোক্ষণ রোদে থাকায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে তার। এই মুহুর্তে এক কি দু গ্লাস ঠান্ডা জল দিয়ে গলাটা ভিজিয়ে নেবার বড্ড দরকার নীবিড়ের। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও সদর দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলো নীবিড়।

.

🍂

.

নীবিড় ভাইয়াকে বাড়িতে ফিরতে দেখে চোখ জলে ভরে উঠলো আমার। উনার ক্লান্তিমাখা শুকনো মুখটা সোজা এসে বুকে বিঁধছে। যদি পারতাম তবে,

" তুমি কান্তদুপুরে রৌদ্রমাখা মেঘে ক্লান্তিগুলো দাও ছড়িয়ে,

আমি মেঘলা দিনে হাত বাড়িয়ে দেবো কষ্টগুলো মুছিয়ে!

-- আয়ানা জাহান নুসরাত 💕 "

এই লাইন দুটোর মতো উনার সব দুঃখ,কষ্ট, ক্লান্তি ধুয়েমুছে নিঃশেষ করে ফেলতাম। কিন্তু আফসোস আমি তা পারছিনা।

.

---- কি? পারলে না তো? এতটুকুতেই হার মেনে নিলে?

.

দিদুনের উনাকে ব্যঙ্গ করে কথাটা বলায় মুচকি হেসে জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে নিয়ে এক নিঃশ্বাসে খেয়ে নিয়ে নীবিড় ভাইয়া বলে উঠলেন,

---- সবে তো শুরু ডিয়ার দিদুন। আগে আগে দেখো হোতা হ্যায় কেয়া! কি ড্রিমার ঠিক ডায়ালগ দিলাম তো না কি?

.

"কারেক্ট ব্রো!" বলে উনার সাথে হাত উঠিয়ে হাই ফাইভ করলো রুশো ভাইয়া! অগ্নি ভাইয়া পকেট থেকে রুমাল বের করে নীবিড় ভাইয়ার কপালের ঘামগুলো মুছে দিলো। বিনিময়ে নীবিড় ভাইয়া হেসে অগ্নি ভাইয়ার পেটে নিজের হাতের কুনুই দিয়ে গুঁতো মেরে দিয়ে বলে উঠলেন "যা শালা, বোনকে সামলা আমি ঠিক আছি!"

বলেই শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে চলে গেলেন উনি।

.

আমি উনার যাওয়ার দিক থেকে চোখ সরিয়ে একবার দিদুনের দিকে তাকালাম। দিদুনের যেনো এতে কোনো হেলদোলই নেই। দিব্যি আগের মতোই বসে রয়েছেন উনি।

দিদুনের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে বড়বড় পায়ে ঘরে চলে এলাম আমি। কিচ্ছু ভালো লাগছে না আমার। এদিকে নিত্য আপু মাটির উনুনে রান্না চাপিয়ে আগুনের তাপে পুড়ছে ওদিকে নীবিড় ভাইয়া এই রৌদ্রময় দিনে লালু-ভলুকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে গেছেন। না জানি কতো কষ্ট হচ্ছে দুজনের!

.

🌸

.

নীবিড় ভলুর পাশে খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে। তার ভাবনা সবকিছুরই একটা বিগ পয়েন্ট থাকে, তাই সে ভলুর বিগ পয়েন্টটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। এই নিয়ে বেশ কয়েকবার গায়ে হাত দিয়েছে সে ভলুর। কিন্তু প্রতিবারের মতোই তেড়ে এসেছে ভলু।

বর্তমানে ভলু আরাম করে ডালায় রাখা কচি পাতাগুলো চিবিয়ে যাচ্ছে।

আর এদিকে নীবিড়ের ইচ্ছে করছে ভলু রাগটাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে!

.

---- শালার এতো বদমেজাজি কেনো এই ভলু বল্টুটা আল্লাহ মালুম! লালুটা কতো ভদ্র আর এটা! একদম ঘাড়ত্যাড়া! ডিজগাস্টিং!

.

দাঁতে দাঁত চেপে কথা গুলো বলেই এগিয়ে যেতে লাগলো নীবিড়। ভলুর একেবারে পাশে গিয়ে হাটু গেড়ে বসে পড়লো নীবিড়। নীবিড়কে পাশে বসতে দেখে ভলু আবারও "হাম্বায়ায়ায়ায়....!" করে নিজের সিং দিয়ে গুঁতো দিতে উদ্দ্যত হবে তার আগেই নীবিড় ভলুর গলা জড়িয়ে ঝাপটে ধরলো ভলুকে।

ভলু ছাড়া পাবার জন্য ছুটাছুটি করছে কিন্তু নীবিড় আর ছাড়বে না বলে পণ করেছে যেনো। নিজের ডান হাতে ভলুর গলার ঝুলন্ত অংশে হাত বুলাতেই ভলু আস্তে আস্তে শান্ত হয়ে পড়লো। একটা সময় আরাম পেতে পেতে একেবারেই চুপ হয়ে গেলো ভলু! ভলুকে শান্ত হতে দেখে খুশিতে চোখ চিকচিক করে উঠলো নীবিড়ের। হাসতে হাসতে ভলুর গলা জড়িয়ে ধরেই নিজের গালের সাথে ভলুর গলায় ঘষতে শুরু করলো সে।

ভলু যেনো এতে আরো বেশিই আরাম পেলো। সে নিজেও নীবিড়ের সাথে গাল ঘষতে শুরু করলো। নীবিড় ভলুর গলায় হাত বুলাতে বুলাতেই দড়িটা ধরে পিছিয়ে আসতে লাগলো। খুঁটিটা টান মেরে তুলে হাতের সাথে দড়িটা শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে ভলুর গলায় হাত বুলাতে বুলাতেই তাকে মাঠে নিয়ে যেতে লাগলো সে।

.

🌹

.

অগ্নি ভাইয়া আর রুশো ভাইয়া পায়চারী করছে ঘরের এদিক থেকে ওদিক। আমি আর রাত্রি আপাতত গালে হাত দিয়ে তাদের পায়চারীই দেখে যাচ্ছি। অগ্নি ভাইয়া একটু পরপর খাটে অথবা চেয়ারে একটা করে লাথি মেরে দিচ্ছে, এদিকে রুশো ভাইয়া কপাল চাপড়াচ্ছে। মাঝখান থেকে মুখ ফুলিয়ে রেখেছি আমি আর রাত্রি।

নিত্য আপু নিচে রান্নাঘরে রান্না করছে। ভাত আর ডাল হয়ে গিয়েছে, বাকি শুধু মাংস আর মাছ ভাজি!

আর আমরা এদিকে অপেক্ষা করছি নীবিড় ভাইয়ার ফেরার। উনি এলেই ভাইয়ারা উনাকে নিয়ে দীঘির পাড়ে যাবে গোসল করতে।

.

---- অগ্নি.....! রুশো.....! গোসলে যাবি না? দেড়ি হয়ে যাচ্ছে জলদি নিচে আয়।

.

নিচ থেকে নীবিড় ভাইয়ার গলার আওয়াজ পেয়ে রুশো ভাইয়া আর অগ্নি ভাইয়া দুজন দুজনের দিকে এক পলক চেয়ে আলনা থেকে দুটো গামছা হাতের মুঠোয় নিয়ে তৎক্ষণাৎ ঝড়ের গতিতে নিচে নেমে গেলো। পেছন পেছন নেমে এলাম আমি সাথে রাত্রিও।

.

নিচে নেমেই নীবিড় ভাইয়ার মুখটা দেখেই বুকে মোচড় দিয়ে উঠলো আমার। উনার ফর্সা মুখখানা একদম লাল বর্ণ ধারণ করেছে। কপাল বেয়ে টপটপ করে ঘাম গড়িয়ে পড়ছে উনার। পড়নের সাদা শার্টটা একেবারে ভিজে গায়ের সাথে লেগে গিয়েছে। সিল্কি চুলগুলো এলোমেলো হয়ে একাকার। ঘেমে চুলগুলোও ভিজে গিয়েছে উনার। মনে হচ্ছে এইমাত্র গোসল করে গা ভিজিয়ে এসেছেন উনি। কিন্তু এগুলো তো আর পানি নয়, এগুলো উনার শরীর থেকে নিসৃত স্বেদজল!

এতো ক্লান্ত শরীর নিয়েও কতো সহজে মুখে হাসি ফুটে রেখেছেন উনি।

উনার এই শুকনো মুখের ক্লান্তিমাখা হাসিটাও কতোটা স্নিগ্ধ!

.

নীবিড় ভাইয়া আমার দিকে এক পলক চেয়ে ঠোঁটের কোণের ঝুলিয়ে রাখা হাসির সীমারেখা বৃদ্ধি করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। পর মুহূর্তে ভাইয়াদের নিয়ে বেড়িয়ে গেলেন উনি।

.

---- অনন্যা, চল আমরাও গোসলটা সেরে নেই। আপুর রান্না হলে আবার আপু ঢুকবে তো!

.

আমি রাত্রির দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় সম্মতি জানিয়ে ধীর পায়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লাম। আমার পেছন পেছন এলো রাত্রিও।

.

🌼

.

---- দিদুন আসবো?

.

---- আরে আয় আয় খাটে বোস।

.

দিদুনের সম্মতি পেয়ে গম্ভীর মুখে দিদুনের পাশে গিয়ে বসলো মামুন। মামুনের মুখ গম্ভীর দেখে দিদুন ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন,

---- কিরে মুখটা এমন করে রেখেছিস কেনো?

.

মামুন মুখ তুলে দিদুনের দিকে চেয়ে অসহায় দৃষ্টিতে বলে উঠলো,

---- দিদুন, যদি নীবিড় সব পরীক্ষায় পাশ করে যায় তাহলে কি আমি অনন্যা কে আর পাবো না?

.

দিদুনের মামুনের প্রশ্নে ভাবলেশহীন ভাবে খাটের সাথে লাগানো বালিয়ে গা এলিয়ে দিয়ে বলে উঠলেন,

---- পাশ করতে পারলে তো! আমি তোদের বিয়ে যখন দেবো বলেছি, তখন দেবোই। এটাতো কিছুই না। কাল দেখিস কি করি আমি।

.

🌷

.

রাত ১০ টা বেজে ১৫ মিনিট.......

নিত্যর হাতে নিঃশব্দে ঠোঁট বুলিয়ে যাচ্ছে অগ্নি। আর নিত্য গালে হাত দিয়ে অগ্নির পাগলামো দেখে যাচ্ছে।

সবাই ঘুমিয়ে গেলো রুশো আর অগ্নি অনন্যাদের ঘরে গিয়ে ইনিয়েবিনিয়ে নিত্যর সাথে কিছুক্ষণ একলা থাকার জন্য রাত্রি আর অনন্যাকে কিছুক্ষণ ঘর ফাঁকা করতে বলে ঢুকে পড়েছে অগ্নি। অন্যদিকে রুশো রাত্রির সাথে একটু খুনশুটি করবে বলে বুদ্ধি খাটিয়ে অনন্যাকে নীবিড় ডেকে পাঠিয়েছে বলে নীবিড়ের ঘরে যেতে পাঠিয়ে দিয়েছে। মাঝখান থেকে রাত্রির কোথাও যাবার মতো জায়গা নেই বলে অগত্যাই তাকে রুশোর সাথে যেতে হয়েছে ছাদে। কারণ বাড়িতে যদি ঘুরে বেড়াতে কেউ দেখে ফেলে তবে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।

.

---- খুব কষ্ট হয়েছে তাইনা? ইশশশ....! আগুনের আঁচ লেগে কতোটা জ্বলে গিয়েছে দেখেছো তুমি? এইজন্যই বলছি চলো চলে যাই। দিদুন যা ভাবে ভাবুক! আমার এসব ভালো লাগছে না একদম। কিন্তু তুমি আমার কথা শুনছোই না! বারবার বাঁধা দিচ্ছো।

.

নিত্য অগ্নির পাগলামোয় কপালে হাত দিয়ে বলে উঠলো,

---- উফফফ...! অগ্নি! তুমিও না, কাজ শিখতে একটু আধটু চোট তো লাগেই। তেমন কিচ্ছু হয় নি, অনন্যা অয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে দিয়েছিলো তো। তুমি শুধু শুধু চিন্তা করছো!

.

---- কাজ শিখতে একটু আধটু চোট লাগবে মানে? কোন কাজটা পারো না তুমি? আর তাছাড়া রান্না পারো তাই বলে এভাবে কষ্ট করে রান্না করতে হবে না তো তোমায়। আর তুমি প্লিজ, দিদুনের হয়ে একটা কথাও বলো না। আমার জাস্ট আর সহ্য হচ্ছেনা।

.

---- আহ....! অগ্নি ছাড়ো তো ওসব কথা। কতোদিন পর তোমাকে একটু কাছ থেকে দেখতে পেলাম। কোথায় একটু রোমান্টিক মুডে থাকবা তা না! হুহ....!

.

কথাগুলো এক নাগারে বলেই মুখ ফুলিয়ে বসলো নিত্য। অগ্নি কি করবে ভেবে না পেয়ে বাচ্চাদের মতো টুপ করে ছোট্ট একটা চুমু খেয়ে নিলো নিত্যর গালে। কিন্তু নিত্যর রাগ ভাঙার বদলে আরোও বেড়ে গেলো। চোখ ছোট ছোট করে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে অগ্নির দিকে চেয়ে নিত্য বলে উঠলো,

"আস্ত নিরামিষ একটা!"

.

🌺

.

---- ভাইয়ায়ায়ায়া........!

আমার ডাকে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে পড়লেন নীবিড় ভাইয়া। অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,

.

---- একি তুমি এখানে? অগ্নি, রুশো গেলো কই?

.

উনার এমন প্রশ্নে নিমিষেই ভ্রু কুঁচকে এলো আমার। আমি পাল্টা প্রশ্ন করে বসলাম,

---- আপনিই তো আমায় ডেকে পাঠালেন! রুশো ভাইয়া তো তাই বললো। আর পাশের ঘরে নিত্য আপুর কাছে অগ্নি ভাইয়া গিয়েছে।

.

আমার কথায় হকচকিয়ে উঠে পর মুহূর্তে নিজেকে শান্ত করে বলে উঠলেন,

---- একটু চোখ লেগে যেতে না যেতেই বান্দর দুটো হাওয়া হয়ে গেলো?

.

আমাকে বোকা বানিয়ে উনার কাছে পাঠানো হয়েছে বুঝতে পেরে ঠোঁট উল্টালাম আমি। উনি কিছু একটা ভেবে হেঁচকা টান মেরে নিজের বুকের ওপর ফেললেন আমায়। দুহাতে আমার কোমড় জড়িয়ে ধরে শীতল কণ্ঠে বলে উঠলেন,

.

---- এবার ঘুমটা ভালো হবে আমার। উফফফ....! কত্তো ধকল গিয়েছে আজ। তুমিও ঘুমোও গুড নাইট!

.

বলে আমায় নিজের বুকে জড়িয়েই চোখ বন্ধ করে ফেললেন উনি। উনার এমন অদ্ভুত কান্ডে হতবাক হয়ে চোখ বড়বড় করে ফেললাম আমি। উনার থেকে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য নড়াচড়া করতেই উনি চোখ বন্ধ রেখেই ধমকে উঠলেন,

---- আহহ! মাছের মতো নড়াচড়া করছো কেনো? ডিস্টার্ব করো না তো। চুপচাপ ঘুমোতে দাও। আম রিয়েলি ভেরি টায়ার্ড!

.

আর কিছু বললাম না আমি। এমনিতেই আজ অনেক পরিশ্রম করেছেন উনি। কিন্তু তাই বলে এভাবে ঘুমোবেন? আমি কি অপদার্থ নাকি যে ওজনশূন্য বলে চুপটি করে বুকের ওপর উঠিয়ে রেখেছেন?

আমার যে বুকের বাম পাশের হৃদপিন্ডের সিস্টোল-ডায়াস্টোল রেট বেড়ে যাচ্ছে তা কি উনি জানেন?

.

🍁

.

---- এই বুড়িটাকে আমার একদম সহ্য হচ্ছে না! ইচ্ছে তো করছে পাতিলের কালি গিয়ে পুরো মুখে লেপে দিয়ে আসি বুড়িটার।

.

রাত্রির কথা শুনে উচ্চস্বরে হো হো করে হাসতে শুরু করলো রুশো। রুশোর হাসি দেখে রাত্রি আগের থেকেও আরোও রেগেমেগে বোম্বাই মরিচের মতো ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে উঠলো,

.

---- আপনি হাসছেন? আপনার কি মনে হচ্ছে আমি মজা করছি?

.

রুশো দুহাতে পেট চেপে ধরে হাসতে হাসতে বলে উঠলো,

---- আরে না না! এটম বোম্বের কাছ থেকে এটাই আশা করা যায়। বাই দ্য ওয়ে আই হ্যাভ আ প্লান।

.

রুশোর মুখের প্লানের নাম শুনতেই রাগ ভুলে উত্তেজিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করে উঠলো,

---- কি প্লান?

.

রুশো নিজের পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা পলিথিন বের করে রাত্রির সামনে ধরলো। রাত্রি ভেতরে কি আছে বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করলো,

---- কি এটা?

.

রুশো ভ্রু নাচিয়ে দাঁত কেলিয়ে বলে উঠলো, "বিছুটি পাতা!" বিছুটি পাতা সম্মন্ধে রাত্রির জ্ঞানের ভান্ডার শুণ্য তাই ঠোঁট উল্টে সে আবারও জিজ্ঞেস করলো,

.

---- এটা আবার কিসের পাতা! আর এটা দিয়ে হবেই বা কি?

.

রুশো একটা রহস্যময়ী হাসি দিয়ে বলে উঠলো,

---- এর নাম বিছুটি গাছের পাতা পাতা এর আরেক নাম হলো ছুতরা গাছের পাতা। এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো "Tragia involucrata."

এই গাছটা "ইউফোরবিয়াসেই" পরিবারের একটি উদ্ভিদ। একে উত্তর বঙ্গের লোকেরা "ছোতরা গাছ" অথবা "চুলচুইল্লাগাছ" বলে থাকে। তবে এর শুদ্ধ নাম বিছুটি গাছ। আর এর পাতা এগুলো দেখেই পাতাগুলোর নাম বিছুটি পাতা।

.

রাত্রি কিছুক্ষণ রুশোর বলা বিছুটি পাতার ডিটেইলস শুনে মাথা ঘুরিয়ে বললো,

---- সে যাই হোক! এটা দিয়ে হবে টা কি?

.

---- আরে মেরি এটম বোম্ব, এটা এমন একটা উদ্ভিদ যার পাতা, রস অথবা পাতার গুড়ো শরীরে লাগলে চুলকানি শুরু হয়। এবার নিশ্চয়ই বুঝে গেছো আমরা ঠিক কি করতে যাচ্ছি!

.

রুশোর আইডিয়া বুঝতে পেরে রাত্রি নিমিষেই চোখ দুটো রসগোল্লার সাইজ বানিয়ে ফেললো!

.

.

.

চলবে.................💕

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন