ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

৪৭তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-৪৭♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

.

🌺

.

ভোরের পাখিদের কিচিরমিচির কোলাহল কানে ভেসে আসতেই চোখজোড়ায় কম্পন সৃষ্টি হলো আমার।

ঘুমু ঘুমু চোখদুটো পিটপিট করে খুলতেই নিজেকে নীবিড় ভাইয়ার বাহুডোরে আবদ্ধ অবস্থায় আবিষ্কার করলাম আমি।

চোখজোড়া আধখোলা রেখেই জানালার দিকে এক পলক তাকিয়ে বুঝতে পারলাম হয়তো বা আযান দিয়েছে প্রায় অনেক্ষণই তবে ওয়াক্ত অবশিষ্ট রয়েছে এখনোও। রাতের কালো আভা কাটিয়ে হাল্কা ফর্সা ভাব ফুটে উঠতে শুরু করেছে আকাশে। নীবিড় ভাইয়া এখনোও উঠেন নি ঘুম থেকে, যা দেখে খানিকটা অবাক হলাম আমি। সচরাচর ফজরের আযানের সাথেসাথেই ঘুম থেকে উঠে পড়েন উনি। হয়তো ক্লান্ত থাকার ফলে ঘুমটা বেশি হয়েছে আজ।

নামায ছুটে যেতে পারে তাই নীবিড় ভাইয়াকে ডাকতে লাগলাম আমি। কানের কাছে দুবার ডাকতেই কপালে ভাঁজ ফুটে উঠলো উনার। উনি চোখ বন্ধ রেখেই ঘুমু ঘুমু কন্ঠে মৃদু সুরে বলে উঠলেন,

---- আর একটু ঘুমোতে দাও না প্রেয়সী!

.

উনার মুখে প্রেয়সী ডাকটা শুনে পুরো শরীর জুড়ে এক শীতল স্রোতধারা বয়ে গেলো আমার। তবে সময় কম দেখে আপাতত নিজের অনুভূতিটা কে সাইডে রেখে উনাকে আবারও ডেকে উঠলাম,

---- ভাইয়া! নামাযের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে!

.

ওমনি এক লাফ মেরে শুয়া থেকে আমায় নিয়েই উঠে বসলেন উনি। একবার জানালার দিকে তাকিয়েই "ওহ শিট!" বলে ছুট লাগালেন বাথরুমে।

২ মিনিটের মাঝেই উনি অযু করে আসতেই আমিও চলে গেলাম অযু করে নিতে।

.

এসে নীবিড় ভাইয়াকে সালাম ফেরাতে দেখে উনার পাশে খানিকটা দূরত্ব বজায় রেখে নামাযে দাঁড়িয়ে পড়লাম আমি।

নামায শেষে পাশ ফিরে তাকাতেই চোখ আটকে গেলো আমার। নীবিড় ভাইয়া খাটে বসে গালে হাত দিয়ে এক নজরে চেয়ে রয়েছেন আমার দিকে। উনার এমন চাহনি দেখে লজ্জায় চোখ নামিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম আমি।

হঠাৎ কালকের ঘটনা মনে পড়তেই চোখ বড়বড় হয়ে এলো আমার। আমি হন্তদন্ত হয়ে উনাকে জিজ্ঞেস করলাম,

.

---- ভাইয়া....! আমি আর আপনি যদি এখানে ঘুমিয়ে থাকি তবে অগ্নি ভাইয়া আর রুশো ভাইয়া কোথায় ঘুমিয়েছে?

.

আমার প্রশ্নে হকচকিয়ে উঠে কপালে চিন্তার ছাপ ফেলে উনি বলে উঠলেন,

---- এইরে! এদের কথা তো কয়েক মুহুর্তের জন্য ভুলেই গিয়েছিলাম।

.

বলেই উঠে দাঁড়ালেন উনি। উনাকে উঠে দাঁড়াতে দেখে চটজলদি উল্টো দিকে ঘুরে পা বাড়ালাম দরজার দিকে। দরজা খুলে পাশের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে দরজায় নক করার জন্য হাত ছোঁয়াতেই দরজাটা হাল্কাভাবে একটু সরে গেলো। তার মানে ছিটকিনি ভেতর থেকে লাগালো নেই। তাই নিঃশব্দে দরজা খুলে পা টিপেটিপে ভেতরে প্রবেশ করলাম আমি। আমার পেছন পেছন প্রবেশ করলেন নীবিড় ভাইয়াও।

.

ঘরের ভেতরে ঢুকতেই আমার চোখ ছানাবাড়া! খাটে উল্টো হয়ে ঘুমিয়ে আছে অগ্নি ভাইয়া! খাটের পাশেই হেলান দিয়ে মেঝেতে বসে ঘুমোচ্ছে রুশো ভাইয়া।

এদিকে কাঠের চেয়ারে মাথা বাঁকা করে ঘুমের মাঝে ঘনঘন শ্বাস ফেলছে রাত্রি।

আমাদের ঠিক সামনে জানালার কোল ঘেঁষে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে নিত্য আপু। আমি আপুকে দেখে উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

.

---- আপু, কখন উঠলে? আর কাল কে কিভাবে ঘুমিয়েছো?

.

আপুর কিছুটা চমকে উঠে আমাকে আর নীবিড় ভাইয়াকে দেখে চোখ মুখ কুঁচকে জড়ো করে বলে উঠলো,

---- সেটা তোমার এই ঘুমকাতুরে ভাইকে জিজ্ঞেস করো! ওর জন্য আমরা তিনজনের কেউই ঠিক মতো ঘুমোতে পারিনি। রাতে আমার সাথে গল্প করতে করতে ঘুমে কাত হয়ে গিয়েছিলেন মহারাজ! হাজার ডেকেও উঠাতে পারিনি তাকে। এদিকে রুশো-রাত্রি ছাদে মশার কামড় খেতে খেতে প্রায় অনেকক্ষণ পরেই এসে আমাদের ডাকতেই ওদের ঘরে ঢুকিয়ে তোমার ভাইয়ের অবস্থা দেখাই আমি। আবার মায়ার জন্য পানি মেরে ঘুম ভাঙাইও নি ওর। উফফ....! ওর জন্য আমরা তিনজনের একজনও ঘুমোতে পারিনি।

রুশো ভাইয়া অবশ্য তোমায় ডাকতে যেতে চেয়েছিলো কিন্তু একবার ডাকে ভেতর থেকে সাড়াশব্দ না পেয়ে তোমরা ঘুমিয়ে গিয়েছো ভেবে ঘুরে এসেছে।

.

নিত্য আপুর পুরো কথা শুনে নীবিড় ভাইয়া ধপ করে খাটে বসে পড়লেন। হায় হায় করতে করতে অবশেষে অগ্নি ভাইয়াকে নিজের পিঠে উঠিয়ে নিয়ে যেতে যেতে বলে উঠলেন,

---- রাত্রি কে খাটে শুইয়ে দে নিত্য। আমি এই বস্তাটাকে রেখে রুশোকে নিয়ে যাচ্ছি ৷ আর একটু ঘুমোক। ৭ টার আগে আগে ডেকে দিস।

.

বিনিময়ে নিত্য আপু সম্মতি সূচক মাথা নাড়ালো। নীবিড় ভাইয়া যেতেই আমি আর নিত্য আপু মিলে রাত্রিকে চেয়ার থেকে উঠিয়ে খাটে এনে শুইয়ে দিলাম। রাত্রির পাশেই ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লো নিত্য আপু।

আমার দিকে ছোট ছোট চোখ করে ভ্রু নাচিয়ে আপু বলে উঠলো,

.

---- কাল দুজনে কি কি করলে হুম হুম?

.

আপুর প্রশ্নে নিমিষেই আমার গোলক রন্ধ্র বড়বড় হয়ে গেলো। গলা খাকারি দিয়ে উঠে নিজেকে সামলিয়ে প্রতিউত্তরে বললাম,

---- ক...কি আবার করবো? গিয়ে তো দেখলাম উনি বেঘোরে ঘুমোচ্ছেন। আমিও উনার পাশে বসে পড়লাম, আর কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম টেরই পাই নি। হিহি!😅

.

নিত্য আপুর বোধহয় আমার কথাটা ঠিক বিশ্বাস হলো না। তাই সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আরও কিছু বলবে তার আগেই আবারও নীবিড় ভাইয়া এসে হাজির হলেন। যার ফলে নিত্য আপুর আর কিছু বলা হয়ে উঠলো না। উনি রুশো ভাইয়াকে বসা থেকে তুলতে নিলেই রুশো ভাইয়া "মাম্মিইইইই....!" বলে এক লাফ মেরে সরে গিয়ে নিজের বুকে ফুঁ দিয়ে বলে উঠলো,

.

---- ওহ ব্রো তুমি! আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। এই ভেবে যে আবারও এটম বোম্ব ফুটলো টুটলো নাকি!

.

নীবিড় ভাইয়া রুশো ভাইয়ার কথায় হাসতে হাসতে খাটে বসে পড়লেন। সাথে ফিক করে হেসে উঠলাম আমি সাথে নিত্য আপুও। উনি হাসি থামিয়ে রুশো ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,

---- সিরিয়াসলি! ড্রিমার, তুমি ড্রিমেও রাত্রিকে তোমার ওপর বোম্ব ব্লাস্ট করতে দেখো! উফফফফ....!😂

.

রুশো ভাইয়া মুখটা পেঁচার মতো করে রাত্রির দিকে এক পলক চেয়ে বললো,

---- তো কি আর দেখবো বলো? আদর করবে নাকি? পারে তো জাস্ট বোম্ব ব্লাস্ট করতেই! হাই পাওয়ার ওয়ালা এটম বোম্ব একটা! হুহ!

.

এবার উচ্চস্বরেই হেসে উঠলাম আমরা সবাই। হাসির আওয়াজে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায় রাত্রির কপালে বিরক্তির ভাজ ফুটে উঠতেই রুশো ভাইয়া উল্টো পায়ে দৌড়ে নিজের ঘরে চলে গেলো। রুশো ভাইয়ার পেছন পেছন দৌড়ে বেরিয়ে গেলেন নীবিড় ভাইয়াও! আমরা দুজনের এভাবে ছুটে পালিয়ে যাওয়া দেখে মুখ টিপে হাসতে লাগলাম। সোরগোল কমতেই রাত্রি আবারও ডুব দিলো অতল ঘুমের রাজ্যে।

.

🌸

.

বেলা ৮ টা বেজে ৩২ মিনিট,

নিত্য আপু রান্না করতে নিচে গিয়েছে। এদিকে আমি আর রাত্রি ঘরে পায়চারি করছি। কিছু ভালো লাগছে না।

হঠাৎ নিচ থেকে চেঁচামেচির আওয়াজ কানে ভেসে আসায় চমকে উঠলাম আমি। রাত্রি আর আমি একে অপরের দিকে এক পলক তাকিয়েই ছুট লাগালাম নিচে।

.

দিদুন গায়ের জ্বালায় ছটফট করছেন। দু হাত দিয়ে পিঠ,গলা, হাত চুলকে যাচ্ছেন। দিদুনকে ঘিরে বাড়ির সবাই বড়বড় চোখ করে চেয়ে আছে। সবাই বোঝার চেষ্টা করছে যে এক্সাক্টলি হয়েছে টা কি দিদুনের। এর মধ্যেই মামুন ভাইয়া গিয়ে দিদুনকে ধরে চুলকাতে মানা করায় দিদুন আরোও বেশিই চুলকোচ্ছেন। সব কিছু আমার মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ করে দিদুনের হলো টা কি!

.

মামুন ভাইয়া বালতি থেকে পানি এনে দিদুনকে থামতে বলে হাত ধুইয়ে দিতেই যেনো দিদুনের ছটফটানি আরোও বেড়ে গেলো। এদিকে আম্মু আব্বু, চাচিমনি, বড় চাচি, চাচ্চুরা কি করবে কিচ্ছু ভেবে পাচ্ছে না।

হঠাৎ করে দিদুনকে সামলাতে গিয়ে মামুন ভাইয়ার হাতেও চুলকানি উঠে গেলো। হাতে চুলকোতে চুলকোতে একসময় ছড়িতে গেলো পুরো গায়েই। দিদুন আর মামুন ভাইয়া দুজনেই গা চুলকোতে চুলকোতে গা লাল করে ফেলেছেন!

.

---- একি আমার গা এখন চুলকোচ্ছে কেনো? আহহ.....! মা........! (মামুন)

.

চুলকালে বরফ লাগালে অনেকটা আরাম পাওয়া যায় তাই নিত্য আপু ফ্রিজ থেকে বরফ আনতে ছুটে গিয়েছে।

পুরো বাড়ি খুঁজেও না ফ্রিজ আর না বরফ পেয়ে হতাশ হয়ে এসে খানিকবাদেই এসে আমার পাশে এসে মুখ কালো করে দাঁড়ালো আপু।

সবার চোখেমুখেই চিন্তার ছাপ। শুধুমাত্র মাঝখান থেকে দাঁত কেলিয়ে যাচ্ছে রুশো ভাইয়া! ব্যাপারটা আমার কাছে ঠিক সুবিধের ঠেকছে না। আচ্ছা দিদুন আর মামুন ভাইয়ার চুলকা-চুলকির পেছনে রুশো ভাইয়ার কোনো হাত নেই তো?

.

আমার মতোই নিত্য আপুও তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রুশো ভাইয়ার দিকে চেয়ে আছে। হয়তো আপুও কিছু আঁচ করতে পারছে যে, হয়তো রুশো ভাইয়াই কোনো না কোনো গন্ডগোল পাকিয়েছে।

.

---- রুশো ভাইয়া....! হাসছো কেনো তুমি?

.

রুশো ভাইয়া মুখ টিপে হাসতে হাসতেই জবাব দিলো,

---- হাসবো না মানে? দেখনা কিভাবে চুল্কাতে চুল্কাতে লাফাচ্ছে! উফফফ....! কি সিন মাইরি! না হেসে কি আর পারা যায়?

.

এবার আমি সন্দেহের দৃষ্টি রুশো ভাইয়ার থেকে সরিয়ে নিক্ষেপ করে বসলাম রাত্রির দিকে। রাত্রি এতোক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে তামাশা দেখলেও বর্তমানে সে লুকিয়ে লুকিয়ে হাসছে। যা আমার কারণ আমার বোধগম্য না হলেও চোখের আড়াল নয়।

তাই রাত্রির পাশে গিয়ে এমন ভাবে রিয়াকশন দেখালাম যে আমি সব জানি কিন্তু আবারও তার মুখ থেকে শুনতে চাইছি।

.

---- রাত্রি, এটা কোনো কাজ করলি তোরা? দেখ দিদুন আর মামুন ভাইয়া কিরকম গলা কাটা মুরগির মতো ছটফট করছেন।

.

রাত্রি হাসতে হাসতেই বললো,

---- আমি আবার কি করলাম, যা করার ওই ধলা ইন্দুরই তো করেছে!

.

আমি চোখ বড়বড় করে জিজ্ঞেস করলাম,

---- কি করেছে?

.

---- কি আবার? কি জানি নাম....ও হ্যাঁ মনে পড়েছে। বিছুটি পাতার রস গিয়ে দিদুনের বালতির পানিতে মিশিয়েছে!

.

রাত্রির কথায় ধপ করে মাথায় হাত রেখে দাঁড়ালাম আমি। নিত্য আপু আমার কাছে এসে ঝাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

---- কি হলো অনন্যা? রাত্রি কি বললো?

.

আমি শুধু বোকার মতো বড়বড় চোখ করে নিত্য আপুর দিকে তাকিয়ে জবাব দিলাম "বিছুটি পাতা!"

সাথেসাথেই নিত্য আপুর চোখও রসগোল্লার আকার ধারণ করলো! "সর্বনাশ!" বলেই আপু ছুট লাগালো নিজের ঘরে। এদিকে বাড়ি যেনো মাছের বাজার হয়ে গিয়েছে। এতো চেঁচামেচি হচ্ছে যা বলার বাহিরে। আমাদের সকলের কেন্দ্রবিন্দু বর্তমানে মামুন ভাইয়া আর দিদুন। যারা দুজনেই নিজেদের শরীরের সাথে যুদ্ধে নেমে পড়েছে।

.

নিত্য আপু ঝড়ের গতিতে নিচে নেমে এসে সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠলো, "আপনারা কেউ উনাদের ছোঁবেন না! আমি পেভিসন লাগিয়ে দিচ্ছি। সেরে যাবে!" বলেই আপু আগে দিদুনকে ধরে বসিয়ে পুরো হাত, পিঠের খোলা অংশ আর গলায় ম্যাসেজ করে দিলো। দিদুনের পরে মামুন ভাইয়াকেও পেভিসন লাগিয়ে দিলো নিত্য আপু।

এই ফাঁকে আমি গিয়ে বালতির পানিগুলো ফেলে দিয়ে নতুন করে আবারও পানি ভরিয়ে এনে রাখলাম। এদিকে নীবিড় ভাইয়া আর অগ্নি ভাইয়া শুধু এদিক থেকে ওদিকে চোখ ঘুরিয়ে বোকার মতো চেয়ে চেয়ে কাহিনী দেখছে।

.

---- আপনারা প্লিজ চুলকোলেও চুলকাবেন না। এলার্জি জাতীয় যেহেতু তাক চুলকোলে আরোও বাড়বে।

.

নিত্য আপুর কথায় মামুন ভাইয়া আর দিদুন কষ্ট হলেও চুলকানো থামিয়ে দিলো। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর চুলকানি সেড়ে গেলে দিদুন সকলের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন,

.

---- এরকম টা হলো কিভাবে? আমি তো গোসল সেড়ে আসছিলাম। হঠাৎ এমন চুলকানি শুরু হলো কেনো?

.

রুশো ভাইয়া দিদুনের প্রশ্নে একটা শুকনো ঢোক গিললো। নিত্য আপু পরিস্থিতি সামাল দিতে বলে উঠলো,

---- বর্ষার মৌসুম! এলার্জি কম বেশি সবার হয় দিদুন! আপনি আর মামুন ভাইয়া ঘরে গিয়ে আরাম করুন। খাবার আমি গিয়ে নাহয় দিয়ে আসবো।

.

দিদুন আর কিছু বললেন না। গম্ভীর মুখ করে নিজের ঘরে চলে গেলেন। কিন্তু মামুন ভাইয়া হয়তো নিত্য আপুর যুক্তিটা ঠিক মেনে নিতে পারেন নি। তাই বালতির পানির দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছেন উনি। কিছুক্ষণ ওভাবে চেয়ে থেকেই হুট করে পানিতে হাত ডুবিয়ে দিলেন মামুন ভাইয়া। প্রায় ২ মিনিট হাত ডুবিয়ে রাখার পরও কোনো অনুভূতি না হওয়ায় হাত তুলে দাঁড়িয়ে পড়লেন উনি।

হতাশ হয়ে বড়বড় পায়ে নিজের ঘরে ঢুকে পড়লেন। ভাজ্ঞিস পানি ফেলে দেওয়ার সময় আমায় দেখে নি কেউ। নাহল ঠিক রুশো ভাইয়ার উত্তম-মধ্যম হয়ে যেতো আজ! উফফফ......! বড্ড বাঁচা বাঁচলাম।

.

🌹

.

ভয়ে থরথর করে পুরো শরীর কাঁপছে আমার। আমার পাশেই দাঁড়িয়ে নখ কামড়াচ্ছে রুশো ভাইয়া। অগ্নি ভাইয়া নিজের কাঁপা হাটু ঢাকতে ব্যস্ত! এদিকে নিত্য আপু আর রাত্রি ঘেমে ভিজে একাকার!

.

আমাদের সামনে মুখোমুখি বসে রয়েছেন দিদুন ও নীবিড় ভাইয়া। তাদের মাঝখানে দাবার বোর্ড! দাবা এমন একটা বুদ্ধির খেলা যেখানে আজ পর্যন্ত কেউ দিদুন কে হারাতে পারে নি। আর আজ সেই প্রতিযোগিতায় দিদুনের বিপক্ষে রয়েছেন নীবিড় ভাইয়া। সবার মাঝেই ব্যাপক উত্তেজনা! আর আমার মাঝে কাজ করছে এক আকাশ সমান ভয়। যদি নীবিড় ভাইয়া হেরে যান তবে কি সত্যি সত্যি হারাতে হবে উনাকে আমার?

.

প্রায় আধঘন্টা যাবৎ খেলা চলছে কিন্তু দিদুনের একটা গুটিও মারা পরে নি যেখানে অলরেডি নীবিড় ভাইয়ার দু দুটো সৈন্য মারা পরেছে! উনার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে!

উনার হার শব্দটা মাথায় আসতেই ভয়টা আরোও তীব্র ভাবে গ্রাস করতে শুরু করে দিয়েছে আমায়। একটু পর পরই পানি খেয়ে পেট ফুলিয়ে যাচ্ছি আমি কিন্তু তৃষ্ণা যেনো কিছুতেই মিটছে না। এদিকে রুশো ভাইয়া নখ খাওয়ার স্পিড আর অগ্নি ভাইয়ার হাটুর কম্পনের বেগ উভয়ই সুষম গতিতে বেড়েই চলেছে যেনো।

.

.

.

চলেছে.............💕

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন