#প্রেম_আমার♥
#পার্ট-৪৮♥
#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥
.
🌺
.
এই নিয়ে নীবিড় ভাইয়ার তিন তিনটে সৈন্য মারা পড়লো অথচ দিদুনের একটাও না। কি সাংঘাতিক ভাবে খেলে দিদুন। যতই পানি খাচ্ছি ততই গলাটা আরোও শুকিয়ে আসছে। মাথাটা কেমন যেনো ঝিমঝিম করছে আমার! কি হবে এখন যদি উনে হেরে যায়? ভাবলেই বুক ফেটে কান্না আসছে আমার।
এদিকে নিত্য আপু আর রাত্রি আল্লাহ আল্লাহ করে যাচ্ছে! অগ্নি ভাইয়া ঘেমে যাচ্ছে সাথে হাটু কাঁপাতে কাঁপাতে ভূমিকম্প সৃষ্টি করে ফেলেছে। আর রুশো ভাইয়া তো এবার নখ ছেড়ে আঙুলই কামড়ানো শুরু করে দিয়েছে।
.
নীবিড় ভাইয়া এবার মনে হলো ইচ্ছে করেই একটা সৈন্যকে সামনে মারা খাওয়ার জন্য এগিয়ে দিলেন। যা দেখে আমি অবাক হয়ে চোখ বড়বড় করে ফেললাম! করছেন কি উনি? স্বইচ্ছায় হারতে চাইছেন নাকি?
.
কিন্তু আমার ধারণা বদলে দিয়ে দিদুন যেই না মন্ত্রী দিয়ে সৈন্য খেয়ে নিলেন ওমনি উনি নিজের ঘোড়া দিয়ে মন্ত্রীকে মেরে দিলেন চোখের পলকে। নিমিষেই খুশিতে চোখ চিকচিক করে উঠলো আমার। রুশো ভাইয়া আঙুল মুখে দেওয়া অবস্থাতেই শিটি মেরে দিলো! রুশো ভাইয়ার শিটি বাজানোতে অগ্নি ভাইয়া হাটু চেপে ধরেই ফিক করে হেসে ফেললো। এদিকে দিদুন একবার রুশো ভাইয়ার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আবারও খেলায় মনোযোগ দিলেন।
.
প্রথমেই মন্ত্রী খেয়ে ফেলায় দিদুনের পাওয়ার কমে গিয়েছে। তবুও থেমে নেই দিদুন! নীবিড় ভাইয়া আবারও ইচ্ছে করে হাতি সামনে খেতে দিয়ে দিতেই নৌকা দিয়ে মেরে দিলেন দিদুন। নীবিড় ভাইয়া বাঁকা হেসে ফট করে নিজের মন্ত্রী দিয়ে মেরে দিলেন দিদুনের নৌকা! ব্যস! দিদুনের আরোও একটা পাওয়ার কমে গেলো।
দিদুনের চোখেমুখে এই প্রথম দাবা খেলতে গিয়ে চিন্তার ছাপ ফুটে উঠেছে। দিদুন হয়তো এবার নীবিড় ভাইয়ার ট্রিক টা ধরতে পেরে গেছেন। তাই আবারও নীবিড় ভাইয়া নিজের আরেকটা হাতি এগিয়ে দিতেই তা মারা যাবে সত্ত্বেও না খেয়ে অন্য গুটি এগিয়ে দিলেন দিদুন! নীবিড় ভাইয়া আবারও বাঁকা হেসে একেবারে শেষ প্রান্তে গিয়ে খেয়ে ফেললেন দিদুনের অবশিষ্ট নৌকোটাও! দিদুনের কুচকে যাওয়া কপাল এবার আগের থেকেও কুচকে এলো। নীবিড় ভাইয়া যে উনাকে বিভ্রান্ত করার জন্যই এরকমটা করছে তা এতোক্ষণে বেশ বুঝতে পেরেছে দিদুন। কিন্তু অগ্যতাই উনার ৩ টে হাই পাওয়ারের গুটিই মারা পড়লো, অথচ যেখানে নীবিড় ভাইয়ার শুধু সৈন্য মারা পড়েছে।
.
এবার দিদুন আর নীবিড় ভাইয়ার ফাঁদে পা দিলেন না। নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে খেলতে লাগলেন দিদুন!
খেলতে খেলতে নীবিড় ভাইয়ারও হাতি মারা পড়লো! যা দেখে নীবিড় ভাইয়ার কপালে সামান্য চিন্তার ছাপ ফুটে উঠলো।
এভাবে একে একে দুজনেরই গুটি মারা যাবার পর দিদুনের কাছে অবশিষ্ট শুধু একটা ঘোড়া আর একটা হাতি সাথে রাজা তো আছেই। আর এদিকে নীবিড় ভাইয়ার আছে একটা ঘোড়া, একটা সৈন্য ও সাথে রাজা! পাওয়ারের দিক থেকে দিদুন নীবিড় ভাইয়ার থেকে অনেক এগিয়ে আছেন। যেকোনো মুহূর্তে নীবিড় ভাইয়া হেরে যেতে পারেন যার আশংকা করেই চোখে রীতিমতো ঝাপসা দেখতে শুরু করে দিয়েছি আমি।
মামুন ভাইয়া আমাদের থেকে খানিকটা দূরে চেয়ারে আরাম করে বসে রয়েছেন, এই খেলায় যেনো কি ফলাফল আসবে তার সম্মন্ধে আগে থেকেই অবগত সে!
.
নীবিড় ভাইয়া এবার বুদ্ধি খাটিয়ে এক ঘর সৈন্য তো একঘর রাজা এভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে লাগলেন। আর এদিকে দিদুনের লক্ষ্য ঘোড়া আর সৈন্যটাকে মেরে রাজাকে হারিয়ে জিতে যাওয়া!
কিন্তু দিদুনের আশাটা তীরে এসে তরী ডুবে যাবার মতোই অস্ত গেলো নীবিড় ভাইয়ার সৈন্যটাকে শেষ মাথায় নিয়ে গিয়ে মন্ত্রী তুলে নেওয়ার পর! মন্ত্রী তুলেই এক এক করে দিদুনের দুটো গুটিকেই ঘরে পাঠিয়ে দিলেন উনি। এখন বাকি শুধু দিদুনের রাজা। একের পর এক চেক খেয়ে যাচ্ছে দিদুন। তবুও পালানো থামাচ্ছেন না। একটা সময় গিয়ে কোণায় আটকা পড়ে গেলো দিদুনের রাজা। এক ধাপ দিলে ঘোড়া দিয়ে চেক পড়বে আরেক ধাপ যেকোনো দিকে দিলেই মন্ত্রী দ্বারা চেক পড়বে। আর সামনে আছে নীবিড় ভাইয়ার রাজা। যাওয়ার পথ শুধু একটাই। তাই পেছনে যেতেই আবারও মন্ত্রী দিয়ে চেক দিয়ে দিদুনের মুখে ঝামা ঘুষে দিলেন নীবিড় ভাইয়া। টানা দেড় ঘন্টা খেলার পর অবশেষে বিজয়ী হলেন উনি। কিন্তু এটা যে শুধু খেলার জিত নয়! জিত দুটি জীবনের দুটি ভালোবাসার ১ টি প্রেমের!
.
---- বেটার লাক নেক্সট টাইম দিদুন!
.
বলেই নীবিড় ভাইয়া দাবার বোর্ড রেখে উঠে পড়লেন। আমার দিকে একটা চোখ টিপ মেরে দিয়ে আবারও একদফা ক্রাশ খাইয়ে দিলেন উনি। সাথেসাথে আবারও বুকের বাম পাশে চিনচিন করে উঠলো আমার। নীবিড় ভাইয়া পকেটে দু হাত গুঁজে উপরে চলে যেতে নিতেই আবারও দিদুন পেছন থেকে শান্ত গলায় বলে উঠলেন,
.
---- খেলা এখানেই শেষ নয়! বিকেলে প্রস্তুত থেকো। এটাই শেষ পরীক্ষা! সাথে তোমার নিভে যাওয়া আশার শেষ প্রদীপও।
.
🍂
.
ভাইয়াদের ঘরে অবস্থান করছি আমি,রাত্রি নিত্য আপু সহ ভাইয়ারা! অগ্নি ভাইয়া নিত্য আপুর হাতে ফোঁসকা পড়েছে কি না তা দেখতে ব্যস্ত। অবশেষে যখন দেখলো আজ হাত পোড়া যায় নি তখন একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে শান্ত হয়ে বসলো অগ্নি ভাইয়া।
.
----- সিরিয়াসলি ব্রো এই বুড়ি তো বুড়ি না এ তো পুরোই ডাইনি বুড়ি! আমি স্টোরিতেও এতো ভিলেনি বুড়িকে আনি না সেখানে এ তো পুরো রিয়েল লাইফেই ঢুকে গেলো! আই সুয়্যার যদি নীবিড় ব্রো হেরেও যায় তো আমি ওই বুড়ির মাথায় একটা চুলও রাখবোনা।
.
---- একদম ঠিক! (রাত্রি)
.
---- আহহহ! থামবে তোমরা? কি শুরু করেছো দুজনে? তোমরা প্লিজ শান্ত হও। আমার ভাই ঠিকই পারবে দেখে নিও! (নিত্য)
.
---- বাট যদি না পারে? (অগ্নি)
.
---- যেটা হবেই না সেটা ভেবে মাথা খারাপ করার আদৌ কোনো মানে হয়? সো প্লিজ তোমরা একটু চুপ থাকো! আমাকে ভাবতে দাও।
.
এতোক্ষণ চুপচাপ ছিলেন শুধু নীবিড় ভাইয়া। সবার কথা শুনার পর খানিক নড়েচড়ে বসলেন উনি। চিন্তিত গলায় বললেন,
---- আচ্ছা অগ্নি, তোদের এখানে পরীক্ষা দেওয়ার মতো আর কি আছে? লাইক এবার পুকুরে মাছ ধরতে বলবে না তো? অবশ্য ওটা একটু কষ্ট হলেও পারবো।
.
অগ্নি ভাইয়া ঠোঁট উল্টে জবাব দিলো,
---- যেহেতু এটাই লাস্ট, দ্যট মিনস এতোটা ইজি টাস্ক দেবে না দিদুন।
.
অগ্নি ভাইয়ার জবাবে আবারও নীরবতা ছেয়ে গেলো সবার মাঝে। এদিকে আমার বুকের মাঝে শুরু হয়েছে উথাল-পাতাল! একমাত্র ভরসা এখন শুধুই উপর ওয়ালাই! তিনি ছাড়া আর কেউ সাহায্য করতে পারবে না আমাদের।
.
🍁
.
চোখ জলে ভেসে যাচ্ছে আমার। চারিদিক থেকে কোলাহল কানে ভেসে আসছে। এ যেনো কোলাহল নয়, এক তীব্র আর্তনাদ যা আমার মস্তিষ্ককে খন্ড-বিখন্ডে পরিণত করে চলেছে।
বাড়ির সকলে গ্রামের ক্লাবের পেছনের মাঠে এসে জোড়ো হয়েছি। আমাদের সামনে মাঠে একটি নির্দিষ্ট দাগাঙ্কিত গোলাকার এলাকার মাঝে একদিকে অবস্থান করছে নীবিড় ভাইয়া আর অপর দিকে বিপুল দা!
.
আমি ভাবতেও পারিনি শেষমেশ দিদুন উনাকে এমন একটা বিপদজনক পরীক্ষায় ফেলবেন। বিপুল দা জাতে হিন্দু। এই গ্রামে সবথেকে শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত উনি। উনার সামনে শহর থেকে আসা ভালো ভালো বডিবিল্ডারও হার মেনে নেয়। সেখানে নীবিড় ভাইয়া কে তো বোধহয় সেকেন্ডের মধ্যে আঁছড়ে ফেলে দেবে বিপুল দা।
আজ বিকেলে দিদুনের মুখে বিপুল দার বিরুদ্ধে নীবিড় ভাইয়ার মোকাবেলার কথা শুনে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম আমি, নিত্য আপু ভাইয়ারা সাথে বাড়ির সকলেই শুধু নীবিড় ভাইয়া বাদে। উনার একটাই কথা যতো কঠিন পরীক্ষাই দিক না কেনো তিনি তা দেবে সাথে বিজয়ীও হবেন। অনেকবার বারণ করা স্বত্তেও উনাকে ফেরাতে পারিনি আমি। উনি সেই আমার কথায় পিছ পা না হয়েই দিদুনের শর্ত মেনে মাঠে এসেছেন বিপুল দা'কে হারাতে।
.
বর্তমানে এখনোও প্রতিযোগিতা শুরু হয় নি। দিদুনের বলা মাত্রই শুরু হয়ে যাবে৷ বিপুল দাও আজ বেশ প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে।
দিদুন চেয়ার টেনে বসেই
"শুরু করা হোক" বলতেই বিপুল দা ঝাঁপিয়ে পড়তে নিলো নীবিড় ভাইয়ার ওপর কিন্তু বিপুল দা কে সুযোগ না দিয়ে নীবিড় ভাইয়ার চট করে পূর্বের স্থান ত্যাগ করায় বিপুল দা ধরতে পারলো না উনাকে। নীবিড় ভাইয়া ভ্রু নাচিয়ে "আয় আয়!" বলে হাতের ইশারায় কাছে ডাকছেন বিপুল দা কে৷ নীবিড় ভাইয়াকে নিজেকে নিয়ে ব্যঙ্গ করতে দেখায় পায়ের রক্ত যেনো মাথায় উঠে গেলো বিপুল দা'র।
বিপুল দা তেড়ে এগিয়ে যেতেই নীবিড় ভাইয়া এক লাফ মেরে সরে গিয়ে উল্টো দিক থেকে লাথি মেরে দিলেন বিপুল দার পিঠে। লাথি খেয়ে ছিটকে মাটিতে পড়লো বিপুল দা। নীবিড় ভাইয়া বাঁকা হেসে বললেন "একজন ড্যান্সারের সাথে পাঙ্গা নিতে আসাও কিন্তু মুখের কথা নয়।" নীবিড় ভাইয়ার কথা শেষ হবার আগেই বিপুল দা নিচ থেকে নীবিড় ভাইয়ার পা টেনে মাটিতে ফেলে দিলো।
.
---- ভাইয়ায়ায়ায়া......!
---- নীবিড়........! উঠ! কাম অন....!
.
এই সময়ে অগ্নি ভাইয়া, নিত্য আপু নীবিড় ভাইয়াকে ডাকতে পারলেও পারছিনা শুধু আমি। গলা দিয়ে কোনো আওয়াজই বের হচ্ছে না আমার। যেনো বাক প্রতিবন্ধী হয়ে গিয়েছি আমি।
.
নীবিড় ভাইয়া পরা থেকে দু পায়ের ওপর ভর করে চোখের পলকে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন। আমার দিকে তাকিয়ে একটা মলিন হাসি হেসে আবারও বিপুল দার দিকে মুখ ফিরিয়ে সোজা মুখ বরাবর একটা ঘুষি মেরে দিলেন বিপুল দার। সাথেসাথেই বিপুল দার একটা দাঁত ভেঙে রক্ত পড়তে শুরু করলো। বিপুল দা ব্যাথায় ছটফট করতে করতে মুখ চেপে ধরলো। রুশো ভাইয়া বিপুল দার দাঁত ভেঙে যাওয়া দেখে খুশিতে এক লাফ মেরে জোড়ে একটা শিটি বাজিয়ে উঠলো।
নীবিড় ভাইয়া নিজের ঘেমে ভিজে যাওয়া চুলগুলোর মাঝে হাত চালিয়ে ঝাকিয়ে পানি ঝেড়ে নিলেন। এদিকে বিপুল দা আগের থেকেও আরোও রেগে গিয়ে অগ্নিমূর্তির ন্যয় রূপ ধারণ করে নীবিড় ভাইয়া গায়ে ঘুষি মারতে নিলেই নীবিড় ভাইয়া বাঁকা হয়ে সরে গিয়ে নিজেই উল্টে বিপুল দার পেট বরাবর ঘুষি মেরে দিলেন। সাথেসাথেই চিৎকার করে আছড়ে পড়লো বিপুল দা। নীবিড় ভাইয়া ফিক করে হেসে দিয়ে ঠোঁট কু্ঁচকে "চু চু চু....!" শব্দ করে বলে উঠলেন,
.
---- ইশশশস বেচারা! শুধু হাতির মতো বিশাল দেহ থাকলেই সব হয় না মি. হোয়াট?
.
রুশো ভাইয়া বললো "বিপুল দা!" নীবিড় ভাইয়া "থ্যাংক্স ড্রিমার" বলে আবারও বলতে শুরু করলেন,
---- হুম মি. বিপুল! সাথে বুদ্ধিরও দরকার হয়।
.
বলেই নীবিড় ভাইয়া হাত পা থেকে ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে চলে আসতে লাগলেন। খুশিতে আমার চোখে শুখের অশ্রু এসে জমাট বাঁধতে শুরু করে দিয়েছে!
কাঁপাকাঁপা পা নিয়েই আমি ছলছল চোখে উনার দিকে এক পা একপা করে এগিয়ে যেতে লাগলাম। পেছন থেকে ব্যাপক হৈ-হুল্লোড় কানে ভেসে আসছে। রুশো ভাইয়া আর অগ্নি ভাইয়া তো নীবিড় ভাইয়ার বিজয়ের খুশিতে লুঙ্গি ছাড়াই মাঠে সবার সামনে লুঙ্গি ড্যান্স করা শুরু করে দিয়েছে।
.
আমি নীবিড় ভাইয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আর উনি ঠোঁটে সেই ভুবন ভুলানো হাসির রেশ ফুটিয়ে এগিয়ে আসছেন আমার দিকে। হঠাৎ পেছন থেকে নিত্য আপুর "ভাইয়া....! সরে যা!" বলে করা আর্তনাদ কানে পৌঁছোতেই সচেতন চোখে নীবিড় ভাইয়ার পেছনে বিপুল দার হাতে লাঠি দেখতে পেয়ে দৌড়ে নীবিড় ভাইয়ার কাছে গিয়ে ধাক্কা মেরে ফেলে দিলাম উনাকে। উনার সাথে টাল সামলাতে না পেরে আমিও পরে গেলাম উনার বুকের ওপর। ভুলবশত আমার ঠোঁট গিয়ে লাগলো সোজা উনার ঠোঁটের ওপর। আর এদিকে বিপুল ভাইয়ার নিক্ষেপ করা লাঠিটা গিয়ে লাগলো সোজা মামুন ভাইয়ার মাথায়!
মামুন ভাইয়া ব্যাথায় চিৎকার করে মাথা চেপে ধরলেন। ততক্ষণে নিশানা সঠিক না হওয়ায় ভয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে পালিয়ে গিয়েছে বিপুল দা।
.
---- যেমন কর্ম তেমন ফল! প্রতিযোগিতা শেষ হবার পরও আপনি কোন সাহসে উনাকে ইশারা করলেন আমার ভাইয়াকে আঘাত করার? (নিত্য)
.
নিত্য আপুর কথায় হকচকিয়ে উঠলো সবাই। নীবিড় ভাইয়া আর আমি উঠে সবার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। নিত্য আপু যে প্রচন্ড রেগে গিয়েছে তা আপুকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে। নীবিড় ভাইয়াকে দেখে আপু মামুন ভাইয়ার দিক থেকে নজর সরিয়ে নীবিড় ভাইয়াকে এসে জড়িয়ে ধরলো,
.
---- ভাইয়া, ঠিক আছিস তুই?
.
নীবিড় ভাইয়া নিত্য আপুর মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
---- আমি একদম ঠিক আছি বুদ্ধু!
.
নিত্য আপু নীবিড় ভাইয়াকে ছেড়ে দিয়ে আমার গালে হাত রেখে বললো,
---- ঠিক সময়ে তুমি গিয়ে ভাইয়াকে না ধাক্কা দিলে আজ ভাইয়ার লেগে যেতো!
.
আমি বিনিময়ে শুধু মৃদু হাসলাম। এতোক্ষণে মামুন ভাইয়াকে ধরে উঠিয়েছে চাচ্চুরা। চাচিমনি তো নিত্য আপুর মুখে কথাটা শুনার পর মামুন ভাইয়ার ওপর চরম ক্ষেপে গিয়েছে। চাচ্চুরা চাচিমনিকে কোনোরকমে থামিয়ে মামুন ভাইয়াকে ধরে বাড়িতে নিয়ে গেলেন।
ওরা যেতেই আম্মু আব্বু দৌড়ে এসে আমাদের গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
আম্মু দিদুনকে উদ্দেশ্য করে বললো,
.
---- দেখলেন তো আম্মা, আপনার সব পরীক্ষাতেই বাবুই পাশ করে গেলো। আর পাশ করবে নাই বা কেনো দেখতে হবে না স্বয়ং উপর ওয়ালা ওদের জুটি বানিয়ে দিয়েছে। ওদের কেউই আলাদা করতে পারবে না।
.
দিদুন কিছুক্ষণ ভাবলেশহীন ভাবে থেকে মুচকি হেসে বলে উঠলেন,
---- জানি, আর জানি দেখেই নীবিড়কে দিয়ে এসব পরীক্ষা দিইয়ে নিয়েছি আমি।
.
দিদুনের কথায় আমরা সবাই এক বাক্যে উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম "মানে....?" দিদুন বসা থেকে উঠে নীবিড় ভাইয়ার সামনে গিয়ে উনার মাথায় হাত বুলিয়ে বলতে শুরু করলেন,
.
---- আমি তোমায় দেখেই বুঝেছিলাম তুমি অনন্যাকে ভালোবাসো আর ওর জন্য সব করতে পারো! কিন্তু মামুনের সাথে অনন্যার বিয়ে ঠিক করে রখেছিলাম আমি। মামুন অনেক আগে থেকেই জানতো যে ওর বিয়েটা অনন্যার সাথেই হবে। আর যেহেতু তোমাদের বিয়েটা স্বাভাবিক ভাবে হয়নি তাই যদি আমি তোমায় এসব পরীক্ষার মধ্যে না ফেলতাম তবে মামুন অন্য কোনো ভাবে তোমাকে অনন্যার জীবন থেকে সরিয়ে ফেলতে চাইতো।
(একটু থেমে দিদুন আবারও বলতে শুরু করলেন)
---- মামুন ছোট থেকেই চুপচাপ আর জেদি স্বভাবের। উপর থেকে শান্ত দেখালেও ও ভীষণ ঠান্ডা মাথার কূটবুদ্ধি সম্পন্ন! ওকে দেখে বোঝার ক্ষমতা নেই ও কিভাবে কার ক্ষতি করে বসে। তাই এই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে ওকে আস্বস্ত করে রেখেছিলাম যে যেভাবেই হোক অনন্যার সাথে ওর বিয়ে দেবো আমি।
আর যেহেতু সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েওছো তাই আর আমার কিছু করার নেই এটা ভাবিয়েই ওকে থামিয়ে রাখবো এরকমটাই ভেবে রেখেছি আমি। তাছাড়া আমি চেয়েছিলাম অনন্যার জীবনে এমন কেউ থাকুক যে হবে বুদ্ধিসম্পন্ন, ধৈর্য্যশীল এবং ধূর্ত! যেকেনো পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে পারবে। এই পরীক্ষা গুলো মূলত তোমার আর অনন্যার বিয়ে নিয়ে নয় বরং তোমার ভালোবাসার জোড়ের প্রমাণ হিসেবে নিয়েছি আমি। শুধু তুমি নও। তোমারা দু ভাই বোনই আমার চাওয়া মতে যোগ্য! এবার তোমাদের শুধু সব নিয়ম-কানুন মেনে বিয়েটা দিয়ে দেবো! তাহলে আর কেউ কিছু করতে পারবে না। মামুন কে আমিই সামলে নেবো। তবে এখন যা যা বললাম তার একটা কথাও যেনো মামুন জানতে না পারে। ও শুধু জানবে এটুকুই যে তুমি জিতেছো অনন্যাকে নিজের ভালোবাসাকে।
.
দিদুনের কথায় সবার মুখের কালো মেঘ কেটে খুশির ঝিলিক ফুটে উঠলো। আমি আর নীবিড় ভাইয়া দিদুনকে জড়িয়ে ধরে প্রশান্তির হাসি হাসলাম। এদিকে রুশো ভাইয়া আর রাত্রি জ্বিবে কামড় দিয়ে ধরে আছে।
.
----- ইশশস রে ভালা বুড়িডারে শেষমেশ বিছটু পাতার চুলাকানি খাওয়াইলাম! (রুশো)
.
.
.
.
চলবে................💕