#প্রেম_আমার♥
#পার্ট-৪৯♥
#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥
.
🌺
.
বিছানায় পা ঝুলিয়ে ঠোঁট উল্টে বসে আছে রুশো ভাইয়া। রুশো ভাইয়ার পেঁচার মতো মুখ দেখে খিল্লি উড়িয়ে যাচ্ছে অগ্নি ভাইয়া! পাশেই মুখ টিপে হেসে যাচ্ছে নীবিড় ভাইয়া। এদিকে রাত্রিও রুশো ভাইয়ার মতো মুখ ফুলিয়ে রেখে বসে রয়েছে। আর নিত্য আপু চেয়ারে আরাম করে বসে আমসত্ত্ব খাচ্ছে।
দিদুনে আমসত্ত্ব ভীষণ ভালো বানাতে পারে৷ একবার খেলে বারবার খেতে ইচ্ছে করে। নিত্য আপুও প্রথমে খেতে চায়নি তবে একটু মুখে দেওয়ার পর ননস্টপ খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। যদিও আমি অনেক খেয়েছি তবুও লোভ সামলাতে না পেরে একটু একটু করে নিত্য আপুর থেকে নিয়ে মুখে দিচ্ছি।
.
বর্তমানে রুশো ভাইয়া আর রাত্রি মুখ ফুলিয়ে রাখার কারণ তারা দুজনেই দিদুনকে বালতি বালতি অপবাদ দিয়ে গোডাউন বানিয়ে ফেলেছে আর এখন এসে বুঝতে পারছে যে দিদুন ইচ্ছে করে এসব করে নি। রুশো ভাইয়া কিছুক্ষণ ওভাবেই বসে থেকে হঠাৎ কিছু মনে পড়ায় বলে উঠলো,
.
---- হেই আমার এতো গিল্টি ফিল হওয়ার তেমন কোনো কারণ নেই। ওই বার না বলে আম পেরে খাওয়ায় আমাকে আমচোর ভেবে তাড়া করেছিলো দিদুন, এন্ড এবার তো দুধ ফেলে দেওয়ার জন্য আমাকে লালুর দুধ দুইতে পাঠিয়েছিলো। আর ওই লালুর বদলে ভলু আমার ধোলাই করে ছেড়েছে। এক কথায় আমার ভর্তা বানিয়েছে দিদুন সো আমিও নাহয় চুলকানি দিয়ে শোধ নিলাম।
.
রুশো ভাইয়ার এমন যুক্তিহীন যুক্তি শুনে অগ্নি ভাইয়া আগের থেকেও উচ্চস্বরে হাসতে শুরু করে দিয়েছে। এদিকে এতোক্ষণ ধরে মুখ ফুলিয়ে রাখা রাত্রিও রুশো ভাইয়ার কথায় ফিক করে হেসে ফেলেছে। মাঝখান থেকে চুপ শুধু আমি আর নিত্য আপু। কারণ দুজনেই মুখেই আমসত্ত্ব। হাসতে গেলেই গলায় লেগে যাবে! যার ফলে হাসি কন্ট্রোল করার যুদ্ধে নেমে পড়েছি আমরা।
নীবিড় ভাইয়া হাসতে হাসতেই বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে চোখটা বুজে জোড়ে একটা শ্বাস নিলেন। আমাকে উদ্দেশ্য করে উনি বললেন,
.
---- অনন্যা, একটু এদিকে আসো তো!
.
উনার কথায় ভ্রু কুঁচকে তাকালাম আমি। উনি আবারও চোখ বন্ধ রেখেই বলে উঠলেন, "কি হলো আসো!" উনার কথায় নড়েচড়ে উঠলাম আমি। পা টিপেটিপে উনার পাশে বসতেই আমার ডান হাত আঁকড়ে ধরে নিজের বকের সাথে চেপে ধরলেন উনি। সবার সামনে এভাবে আমার হাত নিজের বুকে রাখায় নিমিষেই চোখ বড়বড় হয়ে এলো আমার। লজ্জায় এদিক ওদিক চোখ বুলাতেই সবাইকেই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত আবিষ্কার করলাম আমি। অগ্নি ভাইয়া এখনোও রুশো ভাইয়াকে নিয়ে খিল্লি উড়াচ্ছে, রাত্রি একটু পর পর ফিক করে হেসে উঠছে আর নিত্য আপু আপন মনে আমসত্ত্ব খেয়ে যাচ্ছে। কেউ একটি বারের জন্যও আমাদের দিকে তাকাচ্ছে না।
উনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবারও বলে উঠলেন,
.
---- এদিক-ওদিক তাকিয়ে কি দেখছো? কোথায় আমাকে মুগ্ধ চোখে দেখবে। কপালে ঠোঁট ছুইয়ে ঘুম পারিয়ে দেবে তানা এদিক-ওদিক তাকিয়ে যাচ্ছো। এমন চোখ যা আমায় দেখে না তা না রেখে আগের মতোই পকেটে খুলে রাখো!
.
আমাকে নিয়ে নীবিড় ভাইয়ার এমন মন্তব্যে ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম আমি। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে উনার দিকে তাকাতেই উনি চোখ খুলে আমার দিকে তাকালেন। আমার হাতটা নিজের বুক থেকে উঠিয়ে ঠোঁটের কাছে নিয়ে গিয়ে আলতো করে স্পর্শ করলেন। উনার ঠোঁটের স্পর্শে কেঁপে উঠলাম আমি। উনি ক্লান্তিমাখা মুখেই মুচকি হেসে আমার হাত ধরেই হেঁচকা টান মেরে নিজের আরোও কাছে নিয়ে এলেন আমায়। এদিকে আমার গলা আবারও শুকিয়ে আসছে। গোলক রন্ধ্র বড়বড় করে আশেপাশে চোখ বুলিয়ে তৃষ্ণায় কাতর হয়ে কাঁপাকাঁপা গলায় উচ্চারণ করলাম, "পা..পা...পানি...!"
.
এই মুহুর্তে আমার মুখে পানি চাওয়ার আবদার উনার পছন্দ হলো না মোটেই। চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ ফুটিয়ে নিত্য আপুকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন উনি,
.
---- বোন, এটাকে গিয়ে পানির ট্যাংকি তে চুবা তো প্লিজ! একটুতেই গলা শুকিয়ে যায় কিভাবে?
.
নিত্য আপু মুখে থাকা আমসত্ত্বটা আর একটু চিবিয়ে গিলে নিয়ে আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠলো,
---- ওর পেট তো এমনিতেই ট্যাংকি! আলাদা করে ট্যাংকিতে চুবাতে হবে কেনো?
.
বলে আবারও আমসত্ত্ব খাওয়ায় মনোযোগ দিলো নিত্য আপু! অগ্নি ভাইয়া আমার দিকে একবার তো রুশো ভাইয়ার দিকে এক পলক তাকিয়ে কিছু একটা ভেবে হঠাৎ চুটকি বাজিয়ে বলে উঠলো,
---- এই অনু, রুশো তোদের ঝাক্কাস একটা নাম পেয়েছি। অনুর নাম আজ থেকে ট্যাংকি আর রুশো নাম নেইল কাটার! সুন্দর না?
.
অগ্নি ভাইয়ার দেওয়া এমন উদ্ভট নাম শুনে আমি আর রুশো ভাইয়া একে অপরের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালাম। নিত্য আপু আমসত্ত্ব খেতে খেতেই মুখ বাকিয়ে অগ্নি ভাইয়াকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,
.
---- আর নিজে যে ভূমিকম্প তার বেলায়?
.
নিত্য আপুর বলা ভূমিকম্প শব্দটা শুনে অগ্নি ভাইয়া থতমত খেয়ে আমতাআমতা করে বলে উঠলো,
.
---- মা..মানে?
.
নিত্য আপু নিজের চোখের দৃষ্টি সরু করে ভাইয়াকে ব্যঙ্গ করে বলে বললো,
---- তুমি কি মনে করেছো আমি অন্ধ? একটু ভয় পেলেই যে তোমার হাটু কাঁপে তা কি জানি না আমি?
.
নিত্য আপু ভাইয়ার মারাত্মক রহস্যটা জেনে ফেলায় বিষম খাওয়া শুরু করলো অগ্নি ভাইয়া। রুশো ভাইয়া সুযোগ বুঝে অগ্নি ভাইয়ার পিঠে থাপ্পড় দিতে দিতে দাঁত কেলিয়ে বলে উঠলো,
---- শাট শাট! ভাবীই তো জেনেছে অন্য কেউ তো না। সো নো টেনশন ব্রো!😁
.
বিনিময়ে অগ্নি ভাইয়া ঠোঁট উল্টে করুন চোখে তাকালো রুশো ভাইয়ার দিকে। রুশো ভাইয়া অগ্নি ভাইয়ার এমন চাহনি দেখে আবারও একদফা দাঁত কেলিয়ে দিলো। অগ্নি ভাইয়া মুখ ফুলিয়ে বললো,
.
---- ভেটকাইস না! আমারও সময় আসবে। তোর বউয়ের সামনে উড়াধুরা ইজ্জতের ফালুদা বানাবো তোর! হুহ!
.
অগ্নি ভাইয়ার কথায় রুশো ভাইয়া মুখটা ছোট করে মিনমিন করে বললো,
---- তা তো অলরেডি হয়েই গিয়েছে। নতুন করে কি ফালুদা বানাবে। এবার পারলে কাস্টার্ড বানিয়ো!
.
রুশো ভাইয়ার মিনমিন করে বলায় আমরা কেউ কথাটা শুনতে পেলাম না। অগ্নি ভাইয়া রুশো ভাইয়ার কাছাকাছি থাকায় শুধু ভাইয়াই শুনতে পেলো। সাথেসাথেই হাসিতে ফেটে পরে নীবিড় ভাইয়ার ওপর গড়াগড়ি খাওয়া শুরু করলো অগ্নি ভাইয়া। রাত্রি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রুশো ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
.
---- এবারের কথাটা এভাবে বেড়ালের মতো মিনমিন করে বললেন কেনো?
.
রুশো ভাইয়া জবাবে কিছু বলবে তার আগেই আমি হাত উঠিয়ে বলে উঠলাম,
---- আরে সাদা বিলাই তো নীবিড় ভাইয়া! রুশো ভাইয়া কি করে বেড়াল হবে?
.
আমার কথায় চোখ বড়বড় করে আমার দিকে তাকালো সবাই। সবার এমন চাহনির কোনো অর্থ খুঁজে পেলাম না আমি। রাত্রি ঠোঁট কামড়ে আমায় আড়চোখে পাশে তাকাতে ইশারা করতেই "আরে পাশে আবার কি?" বলে পাশে মুখ ঘুরিয়ে তাকাতেই আঁতকে উঠলাম আমি। সাথেসাথে ৯০° এংগেলে মাথা ঘুরিয়ে চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে নিলাম। এতোক্ষণে বুঝলাম সবাই আমার মুখে এতো সাধারণ একটা বাক্য শুনে এমন রিয়াকশন কেনো দিচ্ছে। আমার পাশে যে স্বয়ং সাদা বিলাই ই রয়েছেন তাতে আমার কোনো হুশই ছিলো না। হাউ স্টুপিড আই এম!
উনি চোখ ছোট ছোট করে দাঁতে দাঁত চেপে চেয়ে রয়েছেন আমার দিকে। যেনো এক্ষুনি টুপ করে গিলে ফেলবেন আমায় এক নিমিষেই!
নিজের বোকামির জন্য নিজেই নিজের মাথায় ঠাস করে চাটি মেরে দিলাম আমি। উনি চোখের ইশারায় সবাইকে পাশের ঘরে যেতে বলতেই বাধ্যগত সন্তানের মতো সুরসুর করে বেড়িয়ে গেলো সবাই। রুশো ভাইয়া দরজা চাপিয়ে দিতে দিতে "বেস্ট অফ লাক ছুটকি!" বলে আস্তে করে দরজাটা চাপিয়ে দিয়ে হাওয়া হয়ে গেলো। আমার করুন চাহনি ফিরেও দেখলো না কেউ। মানুষ রূপি বেড়ালের মাসি থুক্কু মেসো বাঘের কাছে রেখে গেলো এই ছোট্ট কলিজার ভোলাভালা বাচ্চাটাকে।
.
আমি একটা শুকনো ঢোক গিলে ভয়ে ভয়ে উনার দিকে তাকাতেই ভ্রু নাচিয়ে "আব কিধার জায়েগি বাচ্চি!" বলেই খাট থেকে নেমে এক পা এক পা করে আমার দিকে এগোতে লাগলেন উনি।
আবারও ঢোক গিলে এক পা এক পা করে পেছাতে লাগলাম আমি। উনি এগোতে এগোতে একদম কাছে এসে পড়লেন আমার। আমি আর পেছাতে না পেরে পিঠে দেয়ালের স্পর্শে বুঝলাম আমার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। উনি বাঁকা হেসে আমার দু কাধের ওপর দিয়ে নিজের দুহাত দেয়ালের ওপর রাখলেন উনি। আমি এদিক ওদিক চোখ বুলিয়ে পালানোর পথ খুঁজে চলেছি। কিন্তু আফসোস পালানোর বিন্দুমাত্র অবকাশও রাখেন নি উনি।
.
---- আবার বলো কি যেনো বলছিলে আমায়?
.
আমি এদিকে ওদিক চোখ বুলিয়ে জোড় পূর্বক দাঁত বের করে বললাম,
---- "হেহে...! না না কি যে বলেন! আমি আবার আপনাকে কি বলবো? আপনি কতো সুন্দর! হ্যান্ডসাম!ফর্সা! বেড়ালদের মতো সফট আপনার ত্বক। বেড়ালদের মতো জ্বলজ্বল করে আপনার চোখ!
আমি তো শুধু আপনার সৌন্দর্যটা বর্ণনা করার জন্য এক কথায় " সাদা বিলাই " বলেছিলাম আর কি। 😅
.
উনি আমার কথায় বাম সাইডের ভ্রু উঁচু করে ঠোঁটে আবারও বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলে উঠলেন,
---- ওহ রিয়েলি! তা আমাকে দেখে এতো ভয় পাচ্ছো কেনো? লুক এট মি!
.
উনার কথায় আবারও কেঁপে উঠলাম আমি। ভয়ে ভয়ে উনার দিকে তাকাতেই উনার নেশা ভরা চাহনি দেখে থমকে গেলাম আমি। উনার চোখে ডুব দিলাম আমি নিজেও। ঠিক এইজন্যেই আমি উনার কিউট কিউট চোখগুলোর দিকে তাকাই না। তাকালেই যেনো আমার পুরো সিস্টেম হ্যাং হয়ে যায়! নিজের মধ্যে থাকি না আমি আর, ডুব দেই উনার সেই মায়াভরা প্রেমময় গোলক রন্ধ্রে!
.
উনি মুচকি হেসে আমার কপালে পড়ে থাকা চুলগুলো কানের পিঠে গুঁজে দিয়ে আমার দিকে ঝুকে পড়তে লাগলেন। উনার ঘনঘন উষ্ণ নিঃশ্বাস সোজা এসে পড়ছে আমার মুখের ওপর।
যার দরুন গায়ে কাটা দিয়ে উঠছে আমার। শিরা-উপশিরায় এক অজানা শিহরণ বয়ে চলেছে।
উনি এক হাতের আমার কোমড় জড়িয়ে হেঁচকা টান মেরে নিজের একদম কাছে নিয়ে আসা মাত্রই দরজায় কোনো এক ফেরেশতা এসে কড়া নাড়লো। উনি তৎক্ষণাৎ আমায় ছেড়ে দিতেই চট করে সরে দূরে চলে আসলাম আমি। উনি রেগেমেগে বোম্ব হয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন,
.
---- ঠিক রোমান্সের টাইমেই কেনো সবাই ফালুদা বানাতে আসে! জাস্ট ডিজগাস্টিং!
.
বলেই রাগে ফোসফাস করতে করতে দরজা খুলে দিলেন উনি। জুঁই ভাবী হাতে মিষ্টির বাটি নিয়ে মিষ্টি করে হেসে বললেন,
----- বাকিরা কোথায়? সবার জন্য মিষ্টি নিয়ে এলাম।
.
আমি জুঁই ভাবী গলা পেয়ে বুঝলাম ফেরেস্তা না আপাতত ভাবীই আমায় বাঁচালেন। আমি চট করে দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললাম,
----- ভাবী, হঠাৎ তোমায় এতো খুশি খুশি লাগছে যে! কিসের মিষ্টি এগুলো?
.
ভাবীর গাল দুটো লাল আভা ধারণ করেছে। ভাবী লজ্জায় লাল হয়ে গদগদ কন্ঠে বললো,
---- তোমরা ফুপা-ফুপ্পি হতে যাচ্ছো।
.
বলেই মিষ্টি একটা হাসি দিলো জুঁই ভাবী। আমি মিষ্টির বাটিটা নীবিড় ভাইয়ার হাতে ধরিয়ে দিয়ে খুশিতে ভাবীকে টাইডলি হাগ করে বললাম,
.
---- এতো খুবই খুশির খবর ভাবী! বাড়িতে নতুন অতিথি আসবে! ওয়াও!
.
ভাবী লজ্জায় লাল হয়ে মাথা নাড়ালো। ভাবী যেতেই আমি সুযোগ বুঝে পাশের ঘরে লক্ষ্য করে দৌড় মারলাম। বর্তমানে এই সাদা বিলাইয়ের থেকে পালানোটাই আমার কাছে মূখ্য! উনি মুখ ফুলিয়ে পেছন থেকেই বললেন, "একবার হাতে পাই খালি, বুঝাবো মজা!"
উনার পুরো কথা না শুনেই আমি হুড়মুড় করে আপু-ভাইয়াদের ঘরে ঢুকে পড়লাম। আমাকে এভাবে হন্তদন্ত হয়ে ঢুকতে দেখে রুশো ভাইয়া চমকে উঠে বলে উঠলো,
.
----- হেই ছুটকি, ব্রো কি পাটাকা ফুটাইলো নাকি যে এভাবে পালিয়ে এলি?
.
রুশো ভাইয়ার প্রশ্নে বাকিরাও জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো আমার দিকে। আমি একটা ভেংচি কেটে মুখ ফুলিয়ে বললাম,
---- আজ্ঞে না! একটা গুড নিউজ আছে। জুঁই ভাবী প্রেগন্যান্ট! সেই খুশিতেই ভাবী মিষ্টি পাঠিয়েছে সবার জন্য। পাশের ঘরে চলো সবাই।
.
আমার কথা শেষ হবার আগেই রুশো ভাইয়া মিষ্টির নাম শুনে "ওহ মাই লাভ, সুইটস!" বলেই ভোঁ দৌড় দিয়ে নীবিড় ভাইয়ার ঘরে চলে গেলো। রুশো ভাইয়ার এভাবে ঝড়ের বেগে যাওয়ায় আমার চুলগুলো বাতাসে এলোমেলো হয়ে গেলো। সাথেসাথে মুখ আগের থেকেও বেশি ফুলে উঠলো আমার। নিত্য আপু, অগ্নি ভাইয়া আর রাত্রি ফিক করে হেসে ফেললো! সবাই খুশি হয়েই চললো পাশের ঘরে।
.
🌸
.
আমরা সবাই আড্ডায় মেতে উঠেছি এমন সময় আম্মু এসে দরজায় করাঘাত করে বললো, "বাচ্চা পার্টির মাঝে কি একটু সময় আসতে পারি?"
আম্মুর গলা পেয়েই সচেতন চোখে পেছন ফিরে তাকালাম আমরা। নীবিড় ভাইয়া আম্মুকে দেখে বললেন,
.
---- আরে আরে কি বলছো মামনি! আমাদের মাঝে আসতে আবার পারমিশন নেওয়ার কি আছে?
.
আম্মু ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললো,
---- কি জানি, তোরা আবার কি সিক্রেট কথা বলিস! যাক গে। এখন কথা হচ্ছে আমরা কাল তিতুমীর ধরে রাজশাহী ব্যাক করছি। ট্রেনের টাইম সন্ধ্যে ৬ টায়। তাই কাল তোরা দিনে বগুড়া ঘুরে নিস!
.
আম্মুর কথায় খুশিতে চোখ চিকচিক করে উঠলো সবার। রুশো ভাইয়া খুশির ঠেলায় এক কাফ মেরে আম্মুকে জড়িয়ে ধরে বললো,
.
---- ইয়া হু! মনি, সিরিয়াসলি আমি লুঙ্গি পড়তে পড়তে তেঁতো হিয়ে গিয়েছে। উফফফ...! যেই সেই দিক থেকে বাতাস ঢোকে। কিছু পড়ে আছি ফিল করাই যায় না। জাস্ট ঠু মাচ ইরিটেটিং! তার ওপর অলওয়েজ ভয়ে ভয়ে থাকতে হয় এই ভেবে যে এই খুলে গেলো বোধহয়! আহ শান্তি শান্তি শান্তি!
.
রুশো ভাইয়ার কথায় হু হা করে ঘর কাঁপিয়ে হাসতে শুরু করে দিলাম আমরা সবাই। রুশো ভাইয়া এবার বুঝলো যে এক্সাইটেড হয়ে একটু বেশিই বলেছে সে। তাই লজ্জায় গুটিশুটি মেরে বসলো ভাইয়া।
আম্মু রুশো ভাইয়ার চুলগুলো হাত দিয়ে এলোমেলো করে দিয়ে হাসতে হাসতে চলে গেলো!
আম্মু যেতেই নীবিড় ভাইয়া সিরিয়াস ভঙ্গিতে নড়েচড়ে বসলেন। আমরা সবাই উনার সিরিয়াসনেস দেখে হাসি থামিয়ে উৎসুক দৃষ্টি নিক্ষেপ করলাম উনাতে।
উনি ভ্রু কুঁচকে ঠোঁট কামড়ে কিছু একটা ভেবে বলে উঠলেন,
.
---- কালই যেহেতু চলে যাচ্ছি সেহেতু বগুড়ার নিদর্শনাদির মাঝে কিছু তো দেখে যাওয়াই যায়।
.
নীবিড় ভাইয়ার কথায় আমরা সবাই খানিক চিন্তা করে একবাক্যে উত্তর দিলাম "অবশ্যই যায়!" উনি উত্তর পেয়ে আবারও বলতে শুরু করলেন,
.
---- তাহলে মহস্থানগড় যাই কি বলো সবাই? বগুড়ার নিদর্শনাদির মাঝে মহস্থানগড়ই অন্যতম! তাছাড়া এটা খুব একটা দূরেও না। শহর থেকে অনলি ১৩ কিলোমিটার উত্তরে যেতে হবে।
.
নীবিড় ভাইয়া প্রোপোজালে এক বাক্যে সবাই রাজি হয়ে গেলাম। রুশো ভাইয়া খুশি হয়ে বললো,
---- আইডিয়াটা দারুন! তাছাড়া এখানে থেকে থেকে একদম পেকে গেছি। যাওয়ার আগে কিছু ভালো মোমেন্টস দরকার। এন্ড ফটোশুট ও করা হয়নি। ওখানে গেলে অসাম অসাম ফটোশুট করা যাবে!
.
---- হুম তা তো যাবেই! তাহলে গাইস তোমরা রেডি থেকো। আর নিত্য, তোর হবু ননদ এন্ড সো কল্ড ভাবীকে বলবি রাত না জাগতে! তোরাও জাগবি না। কাল আবার মাঝ রাস্তায় ঘুমোলে ওকে কোলে নিতে পারবোনা আমি। মাঝ রাস্তায় ফেলেই চলে যাবো!
.
উনার কথা শুনে নিমিষেই মুখটা ফুলে উঠলো অামার! আমি চোখ ছোট ছোট করে বললাম,
---- আপনাকে নিতে কে বলেছে? আমার আরোও দু দুটো ভাই আছে!
.
---- হ্যাঁ আর আপনার দু দুটো ভাইয়েরও৷ দশটা নয়, পাঁচটা নয় একটা করে হবু বউ আছে! বউ ছেড়ে তোমাকে কোলে নেবে নাকি?
.
নীবিড় ভাইয়ার কথায় কাশি উঠে গেলো অগ্নি ভাইয়া আর রুশো ভাইয়ার। কাশতে কাশতে রুশো ভাইয়া মিনমিন করে বললো,
.
---- আরে ব্রো, আমার ভান্ডা ফুটাও কেন! যেকোনো মুহূর্তে বোম্ব ব্লাস্ট হয়ে যাবে তো!😫
.
.
.
চলবে.............💕