ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

৫৩তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-৫৩♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

.

🌺

.

---- দে...দে..দেখুন একদম এগোবেন না। আমি কিন্তু চেঁচিয়ে পুরো বাড়ি মাথায় তুলে নেবো!

.

নাহ এবারও কোনো কাজ হলো না। সেই একই রকম ভাবে ভিলেনি চাহনী যুক্ত করে স্নিগ্ধ মুখখানাটা কে একেবারে ভয়ংকর বানিয়ে এগিয়ে আসছেন উনি আমার দিকে। উনি যতই আমার দিকে এগোচ্ছেন আমি ততই এক পা এক পা করে পিছিয়ে যাচ্ছি। পেছাতে পেছাতে এক পর্যায়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলো আমার। উনি ঠোঁটে আবারও সেই মারাত্মক ভাবে ঘায়েল করা বাঁকা হাসির রেশ ফুটিয়ে ঝুঁকে পড়লেন আমার দিকে। সাথেসাথেই ভয়ে চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে নিলাম আমি।

.

---- আবারও জিজ্ঞেস করছি, দুধটা খাবে কি না? ইয়েস অর নো?

.

এবারেও আমি নিজের মাথাটা কে ডানে-বামে নাড়িয়ে অসম্মতি জানালাম।

আবারও সেই একই হতাশা জনক নেগেটিভ উত্তর আসায় চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়ে উঠলো উনার। উনি নিজের এক হাত দিয়ে আমার কোমড় জড়িয়ে ধরে হেঁচকা টান মেরে সোজা উনার বুকের ওপর ফেললেন আমায়। ঘটনার আকস্মিকতায় চরমভাবে ভড়কে গেলাম আমি। গলা শুকিয়ে আবারও কাঠ হয়ে এলো আমার। এই মুহুর্তে পানি না পেলে বোধহয় আমি মরেই যাবো! বর্তমানে যদি আমার দুটো পাখা থাকতো তবে উড়ে গিয়ে পানির সন্ধানে "Thirsty Crow!" এর মতো কলসিতে পাথর না ছুড়ে পুরো কলসির মধ্যেই ঢুকে পড়তাম আমি।

.

উনি আমার কোমড়টা আগের থেকেও শক্ত করে চেপে ধরে কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে নেশাভরা কন্ঠে বলতে লাগলেন,

---- লাস্ট টাইম বলছি খেয়ে নাও৷ নয়তো কন্ট্রোললেস হয়ে পড়বো আমি। প্লিজ ডু ইট ফাস্ট অনন্যা!

.

এবার আমি যে হাত পা ছাড়িয়ে কান্না করবো তারও পথ রাখলেন না উনি। আমি জমে পুরো ফ্রিজড জয়ে গিয়েছি। বুঝতে পারছি আজ হয় দুধ খেয়ে অর্ধমৃত হয়ে থাকতে হবে নয়তো উনার কাছেই খুন হয়ে যেতে হবে আমায়।

অবশেষে যখন আর কোনো পথ খুঁজে পেলাম না তখন শুকনো গলায় কাঁপাকাঁপা কন্ঠে বলে উঠলাম,

.

---- খা...খাবো! পি...প্লিজ এবার সরুন। আমার ভয় করছে!

.

কিন্তু অদ্ভুত, আমার কথাটা যেনো উনি আমার এতো কাছে থেকেও শুনতে পেলেন না। আমার কোমর চেপে ধরেই আরোও গভীরভাবে মিশিয়ে নিলেন আমায় নিজের বুকের সাথে। এদিকে আমার শরীরে মারাত্মক কম্পন শুরু হয়ে গিয়েছে। জানি না কেনো এমন হচ্ছে। উনার সংস্পর্শে আমি এর আগে যে যাই নি এমনটা নয় তবে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে উনার এমন আচরণ ঠিক নিতে পারছিনা আমি। উনি দিন-দুনিয়া ভুলে গিয়ে আলতো করে আমার কানের লতিতে ঠোঁট ছুইয়ে দিলেন নিজের। ভয়ে, আতংকে উনার শার্ট খামছে ধরলাম আমি। এবার একটু জোড়েই বলে উঠলাম,

.

---- ভা..ভা...ভাইয়া....! খুবই পিপাসা পেয়েছে। ছেড়ে দিন আমায়। পানি খাবো!

.

সাথেসাথেই ফট করে ছেড়ে দিয়ে উল্টো দিকে মুখ ঘুরিয়ে জোড়ে জোড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে লাগলেন উনি। দুহাতে নিজের চুলগুলো টানতে টানতে অস্পষ্ট ভাবে বুলি আওড়াতে লাগলেন। যার মৃদু আওয়াজ আমার কান পর্যন্ত পৌঁছোলেও বোধগম্য হলো না মোটেই।

.

---- হোয়াটস রং উইথ ইউ নীবিড়? কন্ট্রোল কন্ট্রোল! হোয়াই আম বিহেভিং লাইক আ সিক ম্যাড! হোয়ায়!

.

---- ভাইয়া কি হয়েছে আপনার?

.

আমার প্রশ্নে চমকে উঠলেন উনি। টানতে থাকা চুলগুলো থেকে হাত সরিয়ে কিছুক্ষণ চুপ থেকে আমার মুখ পানে ফিরে তাকালেন উনি। দুধের একটা গ্লাস হাতে নিয়ে উনি বলে উঠলেন,

.

---- নাথিং! খেয়ে নাও চটপট আর আমায় উদ্ধার করো।

.

আবারও দুধের গ্লাসটা দেখেই চোখ টলমল করে উঠতে শুরু করলো আমার। দুধের গ্লাসের দিকে আমায় এভাবে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে উনি আবারও বলে উঠলেন,

.

---- ওভাবে তাকিয়ে থেকে কোনো লাভ নাই। এই দু গ্লাস দুধ খতম না করলে এক ফোটাও পানি পাবে না। আর তুমি নাকি তৃষ্ণার্ত! সো ড্রিংক ইট। ইট উইল রিমুভ ইওর থার্স্টটিনেস ইজিলি।

তা এখন বলো কোনটা মিক্স করবো? হরলিক্স, কমপ্লান অর বুস্ট? নাকি এমনিতেই খেয়ে নেবে, কোনটা?

.

উনার কথায় শুকনো ঢোক গিলে আশেপাশে চোখ বুলাতে লাগলাম আমি। আমায় কিছু খুঁজতে দেখে উনি ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন,

.

---- এদিক ওদিক খোঁজো কি? মেইন জিনিস তো আমার হাতেই৷

.

আমি খানিকটা ইতস্তত বোধ করে আমতা-আমতা করে বলে উঠলাম,

---- ইয়ে মানে লবণ!

.

উনি যেনো আমায় লবণ খু্ঁজতে দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন। খানিক ভেবে নিয়ে ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,

---- লবণ দিয়ে হবে কি?

.

আমি ঠোঁট উল্টে মিনমিন করে বললাম,

---- দুধে গুলাবো, তারপর চামচ দিয়ে এক স্পুন এক স্পুন করে খাবো! নাহলে খেতে পারবো না। হেহে!😅

.

আমার জবাবে ঠাস করে কপালে নিজের হাত দিয়ে চাপড় মেরে দিলেন উনি। হতাশ হয়ে উনি বললেন,

---- এতো কষ্ট করার পর খাবে তো খাবে সাথে দুধের সব গুণাগুণ নষ্ট করেই খাবে।

.

বলেই কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে দরজা খুলে কিচেনে চলে গেলেন উনি। লবণের বোয়াম ধরে সাথে করে নিয়ে এসে ট্রের ওপর রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,

---- আমি গুলিয়ে দেবো? নাকি তারও পরিমাণ আপনি করে দেবেন?

.

আমি দাঁত বের করে মাথা চুলকোতে চুলকোতে বললাম,

---- পরিমাণ মতো আপনিই দিয়ে দেন। সমস্যা নেই। আর কমপ্লান বা বুস্ট মেশাতে হবে না। হরলিক্সটাই মিশিয়ে দিন।

.

উনি চোখ মুখ কুঁচকে দুধে হরলিক্স আর লবণ ছেড়ে দিয়ে শব্দ করতে করতে চামচ দিয়ে গোলাতে লাগলেন। যেনো কোনো দুধের গ্লাসে নয় স্বয়ং আমার পেটের রেচন প্রক্রিয়ায় কিডনির বদলে উনিই নিযুক্ত হয়েছেন।😑

.

🌹

.

কোনোরকমে এক গ্লাস হরলিক্স একটু একটু করে চামচ দিয়ে খেয়ে শেষ করে তবে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম আমি। সাথে থাকা আরো একটা দুধের গ্লাস আমাকে মেরে ফেললেও আর এখন খাওয়াতে পারবেন না বুঝে অগত্যাই নীবিড় ভাইয়াকেই অপর গ্লাসটা শেষ করতে হলো।

কি সুন্দর ঢকঢক করে খেয়ে পুরো গ্লাসটা চোখের পলকে ফিনিশ করে দিলেন উনি। যেনো দুধ নয় অমৃত পান করছেন উনি।

.

ট্রের ওপর গ্লাস গুলো নিয়ে যেতে যেতে উনি বলে উঠলেন,

---- এটা কিন্তু জাস্ট আজকের জন্য নয়। ডেইলি খেতে হবে তোমায়। সো বি প্রিপেয়ার্ড। নিত্য আর রাত্রিকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। বেশি রাত জাগবা না। ভার্সিটি যেতে হবে কাল থেকে! আল্লাহ হাফেজ!

.

বলেই দরজাটা চাপিয়ে দিয়ে শিটি বাজাতে বাজাতে চলে গেলেন উনি সাথে দিয়ে গেলেন এক বুক ফাটা বেদনা। এবার ভীষণ কান্না পাচ্ছে আমার। এরকম অত্যাচার প্রতিদিন সহ্য করতে হবে কল্পনা করতেই আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।

.

🍂

.

ঠোঁট উল্টে দু গালে দু হাত রেখে মুখ ফুলিয়ে বসে রয়েছি আমি। সামনেই নিত্য আপু আয়নার সামনে নিজের লম্বা লম্বা চুলগুলোতে চিরুনি চালিয়ে যাচ্ছে। আর এদিকে রাত্রি আমার মুখ পানে একবার করে তাকাচ্ছে সাথে মুখ টিপে হেসে চলেছে। আমি অনন্যা দুধ খেয়েছি এই নিয়ে বোধহয় ইতিহাস সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে যার দরুন রাত্রির সেই ইতিহাস নিয়ে চরম ইন্টারেস্ট সাথে ফিলিং ফানি মুড তো যুক্ত রয়েইছে রাত্রির।

ওর এই গা জ্বলানো হাসি দেখে ইচ্ছেতো করছে বক্সিং এর মতো ঢিসুম ঢুশুম করে মেরে নাক-মুখ ফাটিয়ে দেই। কিন্তু আফসোস আমার শরীরে বক্সিং করার মতো শক্তির ছিটেফোঁটাও অবশিষ্ট নেই।

.

রাত এখন ১ টা বেজে ১৬ মিনিট.....

হুট করে রাত্রির ফোনের রিং টনের আওয়াজে চমকে উঠলাম আমি। রাত্রি খানিকটা অবাক হলো এতো রাতে কারোও কল করায়। শুয়া থেকে উঠে বসে ফোন টা হাতে নিতেই চোখ বড়বড় হয়ে এলো রাত্রির। এতো রাতে বাসা থেকে ফোন, কোনো সমস্যা হলো না তো? তাই আর দেড়ি না করে চট করে ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরে ভয়ে ভয়ে রাত্রি বলে,

.

---- হ্যালো আম্মু?

.

ওপাশ থেকে মৃদু সুরে রিমি বলে উঠে,

---- আম্মু না আমি রিমি। কি করছো আপু?

.

রিমির অস্বাভাবিক কন্ঠে বিচলিত হয়ে রাত্রি আবারও প্রশ্ন করে,

---- কিরে তোর গলাটা এমন শুনাচ্ছে কেনো রিমি? কি হয়েছে? এতো রাত অবদি জেগে আছিস কেনো? আম্মু কই?

.

ওপাশ থেকে কাঁপাকাঁপা গলায় রিমি বলে,

---- কিছু হয়নি আপু, ঘুম আসছেনা। জ্বর এসেছে একটু তো তাই। আম্মু মাথায় জলপট্টি দেবে দেখে পানি আর কাপড় আনতে গিয়েছে, তুমি কাল জলদি চলে এসো আপু। তুমি আসলেই আমি সুস্থ হয়ে যাবো দেখো। অনেক মিস করছি তোমায়।

.

রিমির জ্বর কথাটা কান পর্যন্ত পৌঁছোতেই রাত্রির মুখটা ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করলো। ছোট বোনটা কে যতই বকা-ঝকা করুক না কেনো বা যতই তার সাথে হুটহাট মারামারি করুক না কেনো দিনশেষে ঠিকই রাত্রি গিয়ে রিমি মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। একমাত্র আদরের ছোট বোনকে বাইরে থেকে কঠিন রূপ দেখালেও ভেতরে ভেতরে ভালোবাসে রাত্রি। এক কথায় অসম্ভব রকমের ভালোবাসে। তাইতো সামান্য জ্বর নামক শব্দটা শুনেই ঘামতে শুরু করে দিয়েছে সে। রাত্রি ব্যস্ত হয়ে খাট ছেড়ে উঠতে উঠতে রিমি কে বলে,

.

---- আমি আসছি তুই থাক। ১০ মিনিটের মধ্যেই আসছি।

.

বলেই ফোনের লাইনটা কেটে গ্রাম থেকে ফেরার পথে নিজের গুছিয়ে রাখা ব্যাগটা হাতে নিলো রাত্রি৷ আমি আর নিত্য আপু রাত্রিকে এতো ব্যস্ত হয়ে ঘর থেকে বেড়োতে দেখে চটজলদি বিছানা ছেড়ে নেমে পড়লাম। রাত্রির সামনে গিয়ে বিচলিত হয়ে প্রশ্ন করলাম,

.

---- কি হয়েছে? এতো রাতে হন্তদন্ত হয়ে ব্যাগ হাতে কোথায় যাচ্ছিস?

.

রাত্রি কোনোরকমে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,

---- রিমির জ্বর! আমাকে বাসায় যেতে হবে। আমার বোনটা অসুস্থ!

.

রিমি অসুস্থ শুনে আমারও মন টা খারাপ হয়ে গেলো। কিন্তু এতো রাতে রাত্রিকে একা বাসায় যেতে দেওয়াও তো যাবে না। হাজার হোক মেয়ে মানুষ। মাঝ রাতে রাস্তায় খারাপ মানুষের আনাগোনা থাকে, তাই রাত্রিকে বাধা দিয়ে বললাম,

---- এতো রাতে বাড়ি যাওয়া ঠিক হবে না রাত্রি, বিপদ হতে পারে।

.

আমায় কথায় নিত্য আপুও শায় দিয়ে বললো,

---- কাল ভোর বেলায় যেও রাত্রি! কিছু হবে না চিন্তা করো না।

.

কিন্তু রাত্রি নাছোড়বান্দা! সে যখন এখন যাবে বলেছে তো যাবেই। আমরা তো আর ওকে এভাবে একা ছাড়তে পারি না তাই নিত্য আপু খানিক ভেবে বললো,

---- তুমি একটু দাঁড়াও, আমি ভাইয়াদের মধ্যে কাউকে বলি তোমায় পৌঁছে দিয়ে আসতে। আর আমার কাছে মেডিসিন আছে তোমায় দিচ্ছি নিয়ে যেও।

.

বলেই আপু ছুট লাগালো পাশের ঘরে।

.

খানিক বাদেই ভাইয়ারা ঘর থেকে বের হয়ে এলো। এদিকে নিত্য আপু নিজের ব্যাগ থেকে মেডিসিনের একটা পাতা বের করে রাত্রির হাতে ধরিয়ে দিলো। রুশো ভাইয়া শার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে এসে বলে উঠলো,

---- চলো এটম বোম্ব তোমায় পৌঁছে দিয়ে আসি।

.

রুশো ভাইয়া রাত্রিকে নিয়ে যাবে দেখে ভ্রু কুঁচকে এলো রাত্রির। নিমিষেই চোখেমুখে বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠলো তার। কিন্তু আপাতত করার কিছুই নেই তাই চুপচাপ ব্যাগ হাতে আমাদের "আল্লাহ হাফেজ" বলে বড়বড় পায়ে বেড়িয়ে গেলো রাত্রি রুশো ভাইয়ার সাথেই।

ওরা যেতে আমরা এক ঘরে বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম রুশো ভাইয়ার ফেরার। ভাইয়া ফিরলেই একেবারে শুতে যাবো সবাই।

.

🍁

.

গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করতে সময় লাগবে বিধায় অগ্নির বাইক নিয়েই রওনা দিয়েছে রুশো-রাত্রি। বাইকে রুশোর পেছনে বসতে অস্বস্তি হলেও মনে শুধুমাত্র বোনের অসুস্থতার কথাটাই ঘুরপাক খাচ্ছে রাত্রির। যার দরুন অস্বস্তিকর ভাবখানা পুরোপুরি গ্রাস করতে পারছে না রাত্রিকে। বারবার শুধু বোনের ভার কন্ঠে বলা কথা গুলোই মনের মাঝে আওড়ে চলেছে সে।

.

অনন্যাদের বাড়ি থেকে মাত্র ১০ মিনিটের রাস্তার অর্ধেক পাড় করতেই খুব জোড়ে সড়েই বাইকে ব্রেক কষলো রুশো৷ হঠাৎ এমন ঝাঁকুনিতে টাল সামলাতে না পেরে রুশোর ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়লো রাত্রি। রেগে মেগে কেবল রুশো কে হঠাৎ এভাবে ব্রেক কষার কারণ জানতে চাইবে তার আগেই সামনে থেকে এক দল লোকের বিশ্রী হাসির আওয়াজ কানে ভেসে আসলো তার।

.

---- একিরে, এতো পুরো মেঘ না চাইতেই জল মামা! মাঝ রাতে যে আকাশ থেকে চাঁদ একদম রাস্তায় নেমে এসেছে।

.

বলেই সামনে থাকা মাতাল ছেলেগুলো আবারও বিশ্রী ভাবে হাসতে শুরু করে দিলো। মাতাল ছেলেগুলোকে দেখে ভয়ে রাত্রি মুখ লুকালো রুশোর পেছনে। রুশো ছেলেগুলোর পা থেকে মাথা অবদি চোখ বুলিয়ে বলে উঠলো,

---- হোয়াট ডু ইউ ওয়ান্ট ব্রোস? এভাবে পথ আটকালেন কেনো? ডোন্ট মেকআপ দ্য রোড প্লিজ , উই আর গেটিং লেইট।

.

ছেলেগুলোর মাঝখানে একজন রুশোকে দেখে বাকিদের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো,

---- এ এবার কে রে? বিদেশি না বাংলাদেশি?

.

৪ জনের মধ্যে আরেকজন বললো,

---- দেখ তুই বিদেশের মাল বিদেশে গিয়ে এসব ইংরেজিতে পকপক করিস। আপাতত পেছনের মাল টাকে আমাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে কেটে পর।

.

রুশো মাথা ঘুরিয়ে রাত্রির ভয়ে কুঁকরে যাওয়া শুকনো মুখখানা দেখে নিয়ে ইশারায় নামতে বললো তাকে। রাত্রি অবাক চোখে রুশোর দিকে তাকাতেই রুশো নিজের ঘন পল্লব বিশিষ্ট চোখের পলক ঝাপটে নিশ্চিন্ত থাকতে বললো তাকে। রাত্রি ভয়ে ভয়ে বাইক থেকে নেমে পেছনে গিয়ে দাড়ালো। রুশো বাইকটা স্ট্যান্ড করে রাত্রির সামনে এসে দাঁড়িয়ে ছেলেগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,

.

---- লিসেন টলমলে ব্রোস, আমি দেশের মানুষ দেশেই আছি এন্ড আকাশের চাঁদ ও আকাশেই আছে। বাট এখন যদি তোমরা আমাদের পথ না ছেড়ে স্টিল এভাবেই থাকো দেন তোমরা ঠিক কোন হসপিটালে যাবে বা দেশে যাবে আই রিয়েলি ডোন্ট নো! তাই মানে মানে কেটে পড়ো ভাইয়েরা আমার।

.

রুশোর কথায় রেগে উঠলো ছেলেগুলো। তাদের মধ্যে যে লিডার সে বাকিদের বলে উঠলো,

---- খাড়ায় খাড়ায় তামাশা দেখোস তোরা? যা এটাকে মেরে মালটা কে নিয়ে আয়।

.

"জ্বি বস" বলেই তিনটে ছেলে তেড়ে রুশোর দিকে এগোতেই রুশো দুহাত দেখিয়ে থামতে ইশারা করে আকাশের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললো,

---- আরে আরে ওয়েট ওয়েট ওয়েট। ওই দেখো, আকাশে হাতি উড়তেছে।

.

রুশোর কথায় অবাক হয়ে ছেলে তিনটে আকাশের দিকে তাকিয়ে উড়ন্ত হাতি খুঁজতে লাগলেই রুশো পেছন থেকে লাথি মেরে তিনজনকেই ফেলে দিলো রাস্তায়।

ওদের বস রেগেমেগে চেঁচিয়ে বলে উঠলো,

---- আবে আহাম্মকেরা, মার শালাকে নাহলে আমার হাতেই মরবি তোরা।

.

ছেলে তিনটি কোনোরকমে কোমড় ধরে উঠে রুশোর দিকে এগোতে নিলেই রুশো উল্টো দিকে ঘুরে ছুট লাগালো। ওর পেছন পেছন ছুট লাগলো বাকি তিনজনও। একটা নির্দিষ্ট জায়গা জুড়ে গোল গোল ঘুরতে লাগলো রুশো। রুশোকে ধরতে ওর পেছন পেছন গোল গোল ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে ধপ করে রাস্তায় বসে পড়লো তিনজনই। রুশো ওদের অবস্থা দেখে ভেংচি কেটে বলে উঠলো,

.

---- ব্যাট্টা মাতালের দল। আমাকে ধরতেই পারছিস না আর তো মারবি? হাহ! আবে এ বুল্ডোজার! চাল জাস্ট তুই বাকি আছিস। কাম কাম....!

.

হাতের ইশারায় ছেলেগুলোর লিডারকে ভেঙ্গিয়ে ডাকলো রুশো। এতে চরমভাবে রেগেমেগে পুরো ফায়ার হয়ে তেড়ে আসলো ছেলেটা রুশোর দিকে।

রুশোর পেট বরাবর পাঞ্চ মারার উদ্দেশ্যে হাত চালাতে নিলেই রুশো ফ্লিপ মেরে ডান দিকে সরে গিয়ে সোজা পা দিয়ে লাথি মেরে দিলো ছেলেটার মেইন পয়েন্টে।

ব্যথায় চেচিয়ে উঠে নিজের মেইন পয়েন্ট ধরে ধুপুস করে রাস্তায় বসে পড়ে ছটফট করতে শুরু করলো ছেলেটা।

.

রুশো হাসতে হাসতে বললো,

---- হেহে দেখ এবার কেমন লাগে! রুশোর পেছনে লাগা তাইনা? গন্ডার!

.

এদিকে রুশোর এরকম ফাইটিং দেখে ভয় পাবার বদলে উল্টো পেট চেপে ধরে হাসতে শুরু করে দিলো রাত্রি। এই ফাঁকে বাকি তিনটে ছেলেদের মধ্যে একজন চুপিচুপি রাত্রির পেছনে গিয়ে রাত্রির হাত চেপে ধরে টানতে শুরু করে দিলো। রাত্রি নিজের হাত ছাড়াতে ছোটাছুটি করতে করতে চেঁচিয়ে রুশো কে ডেকে উঠলো,

.

----- রুশো ভাইয়া........!

.

রাত্রির চিৎকারে চটজলদি উল্টো দিকে ফিরলো রুশে রক্তচক্ষু নিয়ে। রুশোর চোখদুটো লাল টকটকে বর্ণ ধারণ করলো নিমিষেই। রুশো দৌড়ে গিয়ে সোজা বুক বরাবর লাথি মেরে দিলো ছেলেটার। যার দরুন মুখ থুবড়ে হুমড়ি খেয়ে রোডে পড়ে গেলো ছেলেটা। রুশো হাতের মুঠো শক্ত করে বসে পড়ে ছেলেটার সেই হাত উল্টো দিকে ঘুরিয়ে মুচড়ে দিলো যেই হাত দিয়ে রাত্রির হাত ধরেছিল সে।

এতো জোড়ে হাত মুচড়ে দেওয়ায় চিৎকার করে আঘাতের জানান দিলো ছেলেটি। কিন্তু রুশোর তাতে কোনো যায় ই আসলো না। সে নিজের যতো রাগ আছে তা ঝেড়ে সোজা ফেলতে লাগোলো ছেলেটার ওপর। বুকের ওপর পা তুলে দিয়ে এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করে দিলো ছেলেটাকে রুশো। মারতে মারতেই চিৎকার করে বলতে শুরু করলো সে,

.

---- সাহস কি করে হলো তোর আমার কলিজায় হাত দেবার? ভালো ব্যবহার করছিলাম সহ্য হচ্ছিলো না না? সালা.....! লাথো কা ভূত বাতো সে নেহি মানতে! তোকে তো আজকে মেরেই ফেলবো আমি।

.

বলে ক্রমাগত মারতে থাকলো রুশো ছেলেটাকে। এক পর্যায়ে আঘাতে আঘাতে রক্তাক্ত করে দিতে থাকলো ছেলেটার শরীর রুশো।

এদিকে রাত্রি রুশোর এমন রূপ দেখে ভয়ে জমে গিয়েছে। থরথর করে কাঁপছে তার পুরো শরীর। কি বললো রুশো রাত্রিকে? রাত্রিকে টাচ করা রুশোর কলিজায় হাত লাগানো হলো কিভাবে? এমন নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগলো রাত্রির ছোট্ট মাথাটায়!

.

.

.

চলবে.................💕

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন