ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

৫৪তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-৫৪♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

.

🌺

.

প্রায় আধঘন্টা হতে চললো রুশো ভাইয়া এখনো ফেরে নি। ফোনটাও সুইচড অফ বলছে। এবার বেশ চিন্তা হচ্ছে আমার। ২০ মিনিটের মধ্যেই ভাইয়ার যেখানে চলে আসার কথা সেখানে ৩০ মিনিট পাড় হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ফোনে ট্রাই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে অগ্নি ভাইয়া।

নীবিড় ভাইয়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে অগ্নি ভাইয়াকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন,

---- অগ্নি চল! আই থিংক রুশো ইজ ইন ডেঞ্জার।

.

নীবিড় ভাইয়ার কথাটা বলতে দেড়ি হলেও অগ্নি ভাইয়ার চটজলদি উঠে গাড়ির চাবিটা হাতে নিতে দেড়ি হলো না। দুজন দুজনেই দিকে তাকিয়ে "চল" বলেই এক ছুটে বেড়িয়ে গেলেন সদর দরজা দিয়ে।

ব্যাপারটা এতো দ্রুত ঘটে গেলো যে আমি আর নিত্য আপু শুধু বোকার মতো চেয়ে রইলাম সদর দরজা বরাবর।

পর মুহূর্তেই মাথায় আঘাত হানতে শুরু করে দিলো "বিপদ" নামক ভয়ংকর শব্দটা। যতই চাইছি পজিটিভ থিংকিং করতে ততই আরোও মন নামক অলয়েজ ব্রেইনের বিরুদ্ধে চলা ক্ষেত্রটির মাঝে একটাই প্রশ্ন উঁকি দিয়ে চলেছে, "খারাপ কিছু হলো না তো?"

.

🍂

.

পাঁচ মিনিটের রাস্তা ৯০ কিলোমিটার পার আওয়ার বেগে গাড়ি চালিয়ে ২ মিনিটে পাড় করে হঠাৎ থমকে গেলো অগ্নি। সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক কষে গাড়ি থামিয়ে চটজলদি নেমে পড়লো অগ্নি-নীবিড়!

রাস্তার ধারে দুটো ছেলে রক্তাক্ত শরীরে ব্যাথায় গড়াগড়ি খেয়ে যাচ্ছে কিন্তু উঠতে পারছেনা। এদিকে আরোও দুজন ছেলেকে ধরে ইচ্ছেমতো কেলিয়ে যাচ্ছে রুশো। জুডোর Shoulder Wheel, One hand Reversal, Single leg Takedown, Two hand reap সহ বেশিরভাগ ট্রিকস ই এপ্লাই করে ইচ্ছেমতো মেরে চলেছে সে ছেলেগুলোকে। পাশেই রাত্রি বারবার বারণ করে যাচ্ছে রুশোকে যাতে ছেলেগুলো কে ছেড়ে দেয় কিন্তু রুশোর তাতে কোনোই ভাবাবেগ হচ্ছেনা যেনো।

.

অগ্নি-নীবিড় দুজনেই স্ট্যাচুর মতো দাঁড়িয়ে আছে শুধু। বোঝার চেষ্টা করছে যে এক্সাক্টলি হচ্ছে টা কি! এটা কি আদৌ রুশো? তাদের দুষ্টু-মিষ্টু ড্রিমার?

কয়েক সেকেন্ড ওভাবেই অবাক চোখে রুশো কে পর্যবেক্ষণ করে অগ্নি-নীবিড় ছুট লাগালো রুশোকে থামাতে। ওদের দেখেই পড়ে থাকা একটা ছেলে গোঙাতে গোঙাতে চাপা কন্ঠে বলে উঠলো,

.

---- সাদমান ভাই! আমাদের বাঁচান, আমরা আর কোনোদিনও মেয়েদের বিরক্ত করবো না ভাই। একে থামান ভাই দোহাই লাগে।

.

পড়ে থাকা ছেলেটাকে দেখে এবার নীবিড়ের মাথাও রক্ত চড়ে গেলো। রাগের মাথায় সজোড়ে একটা লাথি মেরে বসলো ছেলেটাকে সে।

.

---- তোরা? স্কাউন্ড্রেল! আগের বার আমার মার খেয়েও শিক্ষা হয়নি তোদের? লোকে ঠিকই বলে, কুত্তার লেজ কোনোদিনো সোজা হয় না। আবে কুকুর তো হাজার গুণ ভালো রে তোদের মতো মানুষের থেকে!

.

বলেই আবারও মারতে যাবে তার আগেই অগ্নি নীবিড়কে টেনে ধরে আটকে দিলো তাকে। তখনও রুশো আগের ছেলেটাকে আঘাত করেই চলেছে।

.

---- নীবিড়, ছেড়ে দে। এমনিতেই মার খেয়ে উঠে দাঁড়াবার মতো অবস্থায় নেই এরা। আপাতত রুশো কে থামাতে হবে।

.

নীবিড় হাত মুঠো করে নিজের রাগটাকে নিজের মধ্যেই দমিয়ে রেখে রুশোকে থামাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। অগ্নি রাত্রিকে গাড়িতে গিয়ে বসতে বলে নিজেও রুশোকে টেনে ধরলো,

---- ব্রো, ছেড়ে দাও আমাকে, আজ আমি এই জানোয়ার গুলোকে মেরেই ফেলবো। ও..ওরা আমার রাত্রিকে টাচ করেছে, ওকে আজেবাজে কথা বলেছে। ভালো ভাবে বুঝিয়েছিলাম বাট দে ডিডেন্ট লিসেন টু নি! দে বিহেভিং লাইক বাস্টার্ড!

.

অগ্নি রুশোকে টেনে তুলে নিজের দিকে ফিরিয়ে শান্ত করার জন্য ঝাপটে ধরে বলতে শুরু করলো,

---- আই নো রুশো! প্লিজ এবার থাম। দে আর টু মাচ হার্ড-হিট, রাত্রির কিচ্ছু হয় নি। শি ইজ টোটালি ফাইন রুশো।

.

রুশো এবার অনেকটা শান্ত হলো অবশেষে। নীবিড় এই ফাঁকে ছেলেদুটোকে টেনে তুলে দাঁড় করিয়ে বললো,

---- বাঁচতে চাস তো ভাগ এখান থেকে, তোদের নেক্সট টাইম যেনো আমার চোখের সামনে পড়তে না দেখি। সাথে ওই দুটোকেও নিয়ে যা।

.

ছেলে দুটো যেনো এবার নিজেদের প্রান ভোমরা ফিরে পেলো। খুড়িয়ে খুড়িয়ে হেটে গিয়ে বাকি দুজনকে টেনে তুলে পালাতে লাগলো সবকটা মিলে।

অগ্নি রুশোকে শান্ত হতে দেখে ছেড়ে দিয়ে গাড়িতে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে দিলো। রাত্রি পেছনের সিটে বসে ছিলো, অগ্নি গিয়ে ওর পাশেই রুশোকে বসিয়ে দিয়ে নিজে ড্রাইভিং সিটে বসে৷ পড়লো।

এদিকে নীবিড় রুশোর আনা বাইকে উঠে পড়লো।

.

অগ্নি রাত্রিকে বাড়ি অবদি ছেড়ে আসার জন্য গাড়ি স্টার্ট দিলো। এবার গতি অনেকটা কমিয়েই চালাতে লাগলো অগ্নি যাতে রুশো আর রাত্রি কিছুক্ষণ নিজেদের মতো স্বাভাবিক হয়ে নিতে পারে।

রাত্রি যেনো পুরো বোবা হয়ে গিয়েছে। কি করবে কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না সে। রুশোর দিকে তাকানো যাচ্ছে না। পড়নের সাদা শার্টটা লালবর্ণ ধারণ করছে ছেলেগুলোর ছিটকে পড়া রক্তে। ঘেমে শরীর একাকার। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। চোখের কথা আর নাই বা বলি।

কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর হুট করেই রুশো রাত্রির মুখপানে ঘুরে রাত্রির বাম হাতটা নিজের দুহাতের মুঠোয় নিয়ে বলে উঠলো,

.

---- হেই এটম বোম্ব, সরি হ্যাঁ আসলে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি আমি। ওরা এতো বাজে বাজে কথা বলছিলো ইভেন তোমায় টাচ করতে এসেছিলো। সব মিলিয়ে আই ওয়াস নট ইন মাই কন্ট্রোল।

.

রাত্রি এবার বিস্ফরীত চোখে রুশোর দিকে তাকালো। খুবই সাবধানে হাতটা ছুটিয়ে নিয়ে কড়া গলায় প্রশ্ন করলো,

---- তো? আমার সাথে যাই করুক আপনি এতো রিয়াক্ট করলেন কেনো? আর তখন আমাকে ধরায় এটা বললেন কেনো যে আপনার কলিজায় হাত দিয়েছে?

.

রুশো রাত্রির এমন প্রশ্নে খুবই বাজেভাবে ভড়কে গেলো। রাগের বশে কখন এমন একটা সেন্টেনস উচ্চারণ করে ফেলেছে সে বুঝতেই পারে নি।

এখন কি বলে কাটিয়ে দিবে এর অনুসন্ধানে চোখের মনি এদিক ওদিক ঘুরিয়ে খানিক ভেবে হঠাৎ ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে রুশো প্রতিউত্তরে বললো,

.

---- কত্তো ডাম্ব তুমি এটম বোম্ব! দেখো, তুমি ছুটকির বেস্টু, সেই হিসেবে তুমি ছুটকির কলিজা, এদিকে ছুটকি আবার আমার কলিজা তাই ওর কলিজা মানেই আমার কলিজা। ওর বেস্টুর কিছু হলে আমি কি জবাব দিতাম বলো? তাই বলে ছিলাম আর কি!

.

রাত্রি কিছুক্ষণ চোখ ছোট ছোট করে রুশোকে দেখে নিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। কি অদ্ভুত! একটু আগে যাকে দেখে ভয়ে কুঁকরে উঠতে হচ্ছিলো এখন তাকে আবারও সেই আগের রূপে দেখে স্বস্তি মিললেও অদ্ভুত লাগছে তার।

রাত্রিকে চুপ করে থাকতে দেখে রুশো রাত্রির ধ্যান ভাঙানোর জন্য মজা করে বলে উঠলো,

.

---- আর এটা কি হলো এটম বোম্ব? তুমি তো দিব্যি আমার কাছে এটম বোম্বের রূপ ধারণ করে কথায় কথায় আমার নাকটা ফাটিয়ে বেহাল করে দাও, আর ওদের দেখে মেনি বেড়াল হয়ে গেলে? দ্যটস রিয়েলি নট ফেয়ার।

.

রাত্রি মুচকি হেসে বললো,

---- কারণ আপনি বোকার মতো চুপচাপ নাক ফাটিয়ে নেবার জন্যই বসে থাকেন।

.

রাত্রির কথা শেষ হতেই গাড়ির ব্রেক কষলো অগ্নি। ওরা ওদের গন্তব্যে পৌঁছে গিয়েছে। রাত্রি রুশোকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে গেইট খুলে নেমে পড়লো। বড়বড় পায়ে হেটে চললো সে বাড়ির সদর দরজা বরাবর।

অগ্নিদের পেছনে নীবিড়ও এসে বাইক থামালো।

রুশো ঠিক ততক্ষণই স্থির দৃষ্টিতে রাত্রির দিকে তাকিয়ে ছিলো যতক্ষণ পর্যন্ত না সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করে দৃষ্টির অগোচরে চলে যায় তার।

রাত্রি যেতেই আরোও কিছুক্ষণ একই ভাবে চেয়ে থেকেই চোখ দুটো বুজে মনে মনে রাত্রির ছবি কল্পনায় ফুটিয়ে তুললো রুশো। আনমতেই সেই ছবিতে হাত ছুইয়ে মুচকি হেসে উঠলো সে।

.

অগ্নি একবার রুশোকে দেখে নিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে স্টার্ট দিলো। ছুটে চললো সে বাড়ির উদ্দেশ্যে। ওদের পেছন পেছন বাইক নিয়ে ছুটে রওনা হলো নীবিড়ও।

.

🌹

.

বর্তমানে আমার মুখ দিয়ে অনায়াসেই পুরো একটা গোলগাপ্পা ঢুকিয়ে দেওয়া যাবে। হাহ বলে কি! রুশো ভাইয়া আর ফাইটিং? রুশো ভাইয়া, যে কিনা এসব মারামারি দেখলে দশ হাত দূরে থাকে সে করেছে মারামারি? এও সম্ভব?

.

---- অনু, এবার এটলিস্ট মুখটা বন্ধ কর। ঘরে যত মশা আছে সব তোর মুখে ঢুকে যাবে। (অগ্নি)

.

অগ্নি ভাইয়ার কথায় মুখ বন্ধ করার বদলে আমি আবারও হ্যাবলার মতো মুখ হা করেই ভাইয়ার দিকে তাকালাম। পাশ থেকে নীবিড় ভাইয়া এক হাত দিয়ে আমার থুতনিতে হাত দিয়ে উঁচু করে মুখ বন্ধ করে দিতেই ধ্যান ভাঙলো আমার। হকচকিয়ে উঠে আমি রুশো ভাইয়াকে প্রশ্ন করলাম,

---- রুশো ভাইয়া, তুমি জুডো প্রো হলে কিভাবে?

.

রুশো ভাইয়া টি-শার্ট গায়ে জড়াতে জড়াতে আমার পাশে এসে বসে বলতে শুরু করলো,

---- আসলে হয়েছে কি ছুটকি, আমি একবার ইউএস থেকে টুরে কোরিয়া গিয়েছিলাম। তো ওখানকার একটা জুডো ক্লাবে ভিজিট করি আমি, কোরিয়ান ছেলেরা জুডো প্রাক্টিস করছিলো তো দেখে আমারও ইচ্ছে হলো শেখার তাই ২ সপ্তাহ ওদের সাথেই জুডো শিখি। যদিও ওদের মতো এক্সপার্ট হতে পারিনি ওটুকু সময়ে বাট বেশ কিছু ট্রিকস এপ্লাই করতে পারি।

.

নিত্য আপু এবার মুখ খুললো,

---- আরে বাহ দেবর জি! তুমি তো জাস্ট ফাটিয়ে দিয়েছো।

.

নীবিড় ভাইয়া নিত্য আপুকে থামিয়ে দিয়ে বললেন,

---- আপাতত ফাটা ফাটি অফ করে ঘুমো তোরা রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে যাবে।

তাছাড়া রুশোর অনেক এনার্জি লস হয়েছে, হি নিড আ লং রেস্ট।

.

নীবিড় ভাইয়ার কথায় শায় জানিয়ে মাথা নাড়ালো অগ্নি ভাইয়াও। রুশো ভাইয়া আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে উঠে পড়লো। আমাদের ঘুমোতে বলে লাইট অফ করে দিয়ে পাশের ঘরে চলে গেলো ভাইয়ারা।

ভাইয়ারা যেতেই আমি বিছানায় হেলান দিয়ে ভাবতে লাগলাম রুশো ভাইয়া মনে মনে রাত্রিকে এতোটা ভালোবাসে, আদৌ কি রাত্রি বুঝবে ভাইয়াকে?

.

🍁

.

রাত প্রায় ৩ টা বেজে এসেছে, তবুও ঘুম নেই রাত্রির উদ্বিগ্ন চোখে।

রিমিকে ঔষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে রাত্রি অনেকক্ষণ। বর্তমানে সে অবস্থান করছে তার ঘর আর ছাদের মাঝে লাগানো থাইগ্লাসের সামনে। রাতের বেলা থাইয়ের ওপাশে ঘরের ভেতর থেকে কিছু দেখা না গেলেও দিনের বেলা ঠিকই সব দেখা যায়। আবার বাইরে থেকে ঠিক উল্টো। দিনের বেলায় ঘরের ভেতরের কিছু দেখে না গেলেও রাতের বেলায় সবই স্পষ্ট দেখা যায় যদি না পর্দা টানানো থাকে। যেহেতু রাতের বেলা ঘরের ভেতর থেকে বাইরে কিছু দেখা যাবে না তাই রাত্রি জানালার গ্লাসটা সরিয়ে স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছে আকাশ পানে।

.

রাত্রি আনমনেই ভেবে চলেছে রুশোর কথা, আনমনেই এঁকে চলেছে রুশোর প্রতিচ্ছবি। তার মনে প্রশ্ন জাগছে "আচ্ছা রুশো ছেলেটা এরকম কেনো?" সবসময় হাসি-ঠাট্টায় মত্ত থাকে, সিরিয়াসনেস বলতে যে পৃথিবীতে একটা শব্দ আছে তা রুশোকে দেখে বোঝাই যায় না। আবার হুটহাট রাত্রির একটু কিছু হলে যেনো রুশোকে আর চিনতে পারে না সে। কেনো এতোটা ভাবে রুশো রাত্রিকে নিয়ে? এসব কি শুধুই বোনের বেস্ট ফ্রেন্ড হবার ফর্মালিটিস নাকি নাকি অন্য কিছু? যদি অন্য কিছুই হয় তবে কি সেটা?

.

রুশো ছেলেটা বেখেয়ালি, প্রানবন্ত, রং-তামাশায় মত্ত! অথচ রাত্রির দূর্দিনে সেই তাকে সবথেকে বেশি সাপোর্ট করেছে। অগ্নিকে ভুলে থাকার সবথেকে ইফেক্টিভ সলিউশন সেই বের করে দিয়েছে। নির্ঘাত মৃত্যুর হাত থেকে রুশোই তাকে বাঁচিয়েছে। কেনো করে সে এসব?

রাত্রি তো অগ্নিকে ভালোবাসে তারপরও কেনো রুশোকে নিয়ে এতো ভাবনায় ডুবতে হচ্ছে তাকে?

.

এরকম আরো হাজারও প্রশ্ন চরকার মতো ঘুরপাক খাচ্ছে রাত্রির মনে। কিন্তু উত্তর শুধুই ফাঁকাসেটের মতো।

অবশেষে রাত্রি ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত হয়ে জানালা বন্ধ করে পর্দা টেনে দিয়ে রিমির পাশে এসে বসে পড়লো। রিমির কপালে হাতের উল্টো পিঠ ঠেকিয়ে তাপমাত্রাটা আগের থেকে কমেছে অনুভব করে কাথাটা দিয়ে গা ভালো করে ঢেকে দিয়ে পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো সে।

.

🌸

.

ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরেই আমার চোখ কপালে উঠে গেলো। নিত্য আপুর আব্বু আমাদের বসায় এসেছেন। বর্তমানে ড্রয়ই রুমে আম্মু আব্বুর সাথে কোনো এক বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনায় মত্ত হয়ে রয়েছেন উনি।

.

আমায় বাসায় প্রবেশ করতে দেখে আম্মু বলে উঠলো,

---- এইতো অনন্যা চলে এসেছে, জলদি গিয়ে ফেশ হয়ে নিচে আয়। নীবিড় আর অগ্নি আসুক এর মধ্যে, তোদের সাথে কথা আছে।

.

আমি নীবিড় ভাইয়ার আব্বুকে সালাম দিয়ে উপরে চলে এলাম। না জানি কি নিয়ে কথা বলতে চাইছে উনারা! আম্মু কি আংকেল কে বলে দিলো আমার আর নীবিড় ভাইয়ার এক্সিডেন্টলি বিয়ের কথাটা? উনি ঠিক কি রিয়াকশন দেবেন কথাটা শুনার পর?

এসব ভাবতে ভাবতেই ঘরে চলে এলাম অামি। ঘাড় থেকে ব্যাগটা টেবিলের ওপর রেখে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লাম শাওয়ার নেওয়ার জন্য। এতোদিন ক্লাস না করে হঠাৎ আজ এতগুলো ক্লাস করায় মাথাটা ঠিক কাজ করতে চাইছে না। কি এমন হতো যদি পড়াশুনো নাই বা থাকতো? আর পড়াশুনো থাকলে থাকতো, আবার পরীক্ষার আসার কিই বা দরকার ছিলো?

.

🌷

.

ড্রয়ইরুমের সোফায় বসে আছি আমি অগ্নি ভাইয়া, রুশো ভাইয়া, নীবিড় ভাইয়া, নিত্য আপু সাথে বাড়ির বড়রা উইথ এক্সিডেন্টলি শশুড়উল্লাহ!

ভার্সিটি থেকে ভাইয়ারা একটু আগেই এসেছে। রুশো ভাইয়াকেও নাকি আম্মু আসতে বলেছে। ইউএস থেকে আসার পর রুশো ভাইয়া অবশ্য নিজেদের বাসায় কতোদিন ছিল তার হাতে গোনা হিসেব থাকলেও আমাদের বাসায় কতোদিন ছিলো তার হিসেব নেই। আসলে রুশো ভাইয়ার নিজের কোনো ভাই-বোন নেই, একা বাসায় করবে কি? তার ওপর খালামুনি আবার হাই স্কুলের টিচার। যদিও পেশাটা শুধুই শখের বসেই বেছে নিয়েছে খালামুনি তবুও তার জন্য দিনের বেলা বাইরেই থাকতে হয়। তারওপর আংকেলের অফিস তো আছেই। রুশো ভাইয়া ইউএস থেকে ফিরে কয়েকদিন রিল্যাক্স করে আবার আংকেলের কোম্পানি তে জয়েন করেছে।

আজ সকালে বেড়িয়ে আবার খালামুনির বাসা থেকে অফিসে গিয়েছিলো রুশো ভাইয়া। আসার পথে অগ্নি ভাইয়া রুশো ভাইয়াকেও টেনে এনেছে।

.

নীরবতার চাদর ভেদ করে আব্বু নীবিড় ভাইয়ার আব্বুকে বললেন,

---- আচ্ছা তাহলে এখন কথাটা শুরু করা যাক। কি বলেন?

.

নীবিড় ভাইয়ার আব্বু চায়ের কাপটা টেবিলে রাখতে রাখতে বললেন,

---- অবশ্যই। তা কথাটা হচ্ছে যেহেতু আল্লাহর কালেমা পড়ে নীবিড়-অনন্যার যেভাবেই হোক বিয়ে হয়েই গিয়েছে তাই এবার আমরা চাইছি তোমাদের পারিবারিকভাবে বিয়েটা দিয়ে দিতে। তাছাড়া অনন্যার মতো মিষ্টি একটা বউমা হবে আমার এতে তো আমার আপত্তি থাকার কোনো কথাই না। তাই আমরা ভেবে নিয়েছি অগ্নি-নিত্যর সাথে একই দিনে নীবিড়-অনন্যারও বিয়েটা সেড়ে ফেলতে।

.

এক্সিডেন্টলি শশুর মশাইয়ের কথায় বিষম খেয়ে কাশতে শুরু করে দিলাম আমি। রুশো ভাইয়া তৎক্ষণাৎ টেবিল থেকে পানির গ্লাস আমার হাতে ধরিয়ে দিলো। ঢকঢক করে পুরো গ্লাস শেষ করে তবে শান্ত হলাম আমি।

নীবিড় ভাইয়ার সাথে আমার অলরেডি বিয়ে হয়ে গিয়েছে তারপরও আবার বিয়ের কথাটা শুনেই কেমন একটা বউ বউ ফিলিংস আসছে আমার। কই এতোদিন তো এমন লাগে নি! বাড়ি ভর্তি লোক আসবে, আমায় গহনা, বেনারসি শাড়িতে মোড়ানো হবে, কাজি সাহেব আবারও বুলি আওড়াতে আওড়াতে বলবেন, "বলো মা কবুল!" আবার বিয়ে পড়ানো হয়ে গেলে বাড়ি ছেড়ে যাবার সময় বাচ্চাদের মতো হাত-পা ছাড়িয়ে ভ্যা ভ্যা করে কান্না করতে হবে। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠান করে বিয়ে পড়ানোর কথা শুনেই এসব সিন কল্পনায় ভাসতে শুরু করে দিয়েছে আমার। গলা ক্রমশ শুকিয়ে আসছে শুধু।

রুশো ভাইয়া আমার এমন অবস্থা দেখে বলে উঠলো,

.

---- লে বিবাহিত ছুটকির আবার বিয়ের কথা শুনে উল্টাউল্টি হচ্ছে!😑

.

.

.

চলবে...............💕

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন