ফন্ট সাইজ:
থিম:
ধ্রুব তারা

১৭তম পর্ব

লেখক: Akhi shekh

ধ্রুবতারা.... 

পর্ব ১৭.. 
লেখিকা.. আঁখি শেখ.
............….....
সকাল ৯ টা বাজে। 
তারা এখনো বেঘরে ঘুমাচ্ছে নিজের রুমে। সময়ের খেয়াল নাই। আজকে যে তার কলেজে ক্লাস টেস্ট আছে তা যেন মনে নাই। 
ব্রেকফাস্ট এর টেবিলে সবাই আছে।  ধ্রুব কিছু সময় আগে ঢুলতে ঢুলতে এসে বসেছে।  কাল সারারাত তো তার ওপর দিয়ে কম ধকল  যায়নি।  
আচ্ছা দেখো যে মেয়েটা সারারাত পাগলামো করলে জ্বালানোর সেই মেয়েটা কি সুন্দর নিশ্চিন্তে রানীর মত ঘুমাচ্ছে।  এদিকে ধ্রুব 'ত বাকি রাত্রে ভালোভাবে ঘুমাতে পারিনি।  কি করে ঘুমাবে কালকে তারা যা পাগলামো করেছে।  
তারমিন চৌধুরী ছোট মেয়েকে না দেখে তরীকে প্রশ্ন করল, 
" নবাবজাদি কি এখনো ঘুমাচ্ছে?  ওর কি খেয়াল নেই আজকে আর কলেজে ক্লাস টেস্ট আছে?  তুমি ওকে ডাকো নি?  "
"আম্মু আমি তো ওকে ডেকেছিলাম কিন্তু ওঠেনি।  আসলে রাতে অনেক দেরি করে ফিরেছে তো তাই হয়তো উঠতে পারছে না।  "
তরীর কথা শুনে তৌহিদুর  চৌধুরী বললেন, 
" ঠিক আছে মানলাম!  কলেজে গিয়ে ক্লাস  টেস্ট টা দিয়ে এসে তারপর আবার ঘুমাবে।  এখন যাও ওকে গিয়ে তোলো।  পড়ালেখায় খুব  ফাঁকিবাজি দিয়েছে মেয়েটা।  এমন করলে তো পাস করবে না? "
" আহ তোহিদ!  ছোট মেয়েটার উপর এত চাপ দিস না তো। এমনি তো পড়ালেখায় খুবই ভালো।  দেখি শুধু পাশে না ফার্স্ট ক্লাস পাবে। "
"বড় ভাইজান আপনি আর ওকে তোল্লাই দিয়ে মাথায় তুলবেন না তো!  বড্ড ফাজিল হয়েছে।  চৌধুরী বাড়িতে না হয় ওর বাদরামো  গুলো আমরা সবাই মেনে নিচ্ছি। যখন বিয়ে হবে শ্বশুর বাড়িতে যাবে ওখানকার কেউ তো আর ওরে বাদ্রাম  মেনে নেবে না ।  তখন থেকে চৌধুরী বাড়ির সবাইকে কথা শুনতে হবে।  "
মনি মায়ের কথার প্রদত্তরে আদ্র বলল, 
" মনিমা আমার বোনকে আমি কখনোই অন্য বাড়ি পাঠাবো না।  আমার বোন সারা জীবন এই বাড়িতেই থাকবে।  "
"তাহলে কি তুমি তোমার বোনকে বিয়ে দেবে না সারাজীবন তার আইবুড়ো করে রাখতে পারবে না পাড়ার লোকে তো অনেক কথা বলবে।"
"প্রয়োজনে ঘরজামাই রেখে দেবো! "
ধ্রুব সবেমাত্র জুসে চমক দিয়েছিল।  ভাইয়ের মুখে ঘর জামাই কথাটা শুনে আর গিলা হলো না।  মুখ ফসকে সব অগ্রে বেরিয়ে আসলো।  তখন কাশি শুরু হয়ে গেল।  
জোস্না চৌধুরী বিচলিত হয়ে তাড়াতাড়ি করে পানি এগিয়ে দিলেন।  তারমিন চৌধুরী মাথায় ফু দিয়ে দিচ্ছিলেন।  
আদ্র ধ্রুবর অবস্থা দেখে ভ্রু কুচকে  বলল, 
" হঠাৎ আবার বিষম খেলি কিভাবে?  আমি তো আর তোকে বলিনি!"
" ভাইয়া চুপ করবে খাওয়ার সময় না কথা বলা নিষেধ।  চুপচাপ খাও।  তোমার না ভার্সিটি আছে দেরি হয়ে যাবে তো। " 
আদ্র ঠোট বাকিয়ে একটু হাসলো নিঃশব্দে। " মুখে বলে তো ভালোবাসি না অথচ জামাইয়ের কথা শুনেই বিষম খেলো। 
তুমি আমার ছোট ভাই তুমি যে তলে তলে টেম্পু চালাও এটা আমি খুব ভালোই জানি। " বিড়বিড় করে বলল আদ্র।  
এদিকে তরু আর তরীর অনেক প্রচেষ্টায় তারা ঘুম থেকে উঠলো।।  ঘুম ঘুম চোখে বিছানায় উঠে বসলো। মাথাটা এখনো ধরে আছে।  সবকিছু কেমন এখনো ঘোলাটে দেখছে।  আসলে প্রথমবার ড্রিঙ্ক করেছে তো তাই একটু সহ্য করতে কষ্ট হচ্ছে।  
বেখেয়ালিভাবে নিজের পোশাকের দিকে নজর গেল তারার।  
তৎক্ষণাৎ তার ঘুম ঘুম ভাব উড়ে গেল।  তার পরনে রয়েছে টি-শার্ট আর প্লাজো।  কিন্তু এটা কি করে সম্ভব?  কালকে পার্টিতে অর্ণবের কাছ থেকে পানি খাওয়ার পরে তো তার আর কিছুই মনে নাই। সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিল। তাহলে তার ড্রেস চেঞ্জ করলো কে? 
" আপু আমার ড্রেস কে চেঞ্জ করলো?!"
" তরু একটু মজা নেয়ার জন্য বলল,
" তোর ড্রেস নিশ্চয়ই তুই চেঞ্জ করেছিস আমরা তো তোকে সকাল থেকে এই ড্রেসেই দেখছি।  এখন যা তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নে আমরা এখনই বেরোবো। আমরা অলরেডি রেডি তোর কলেজের দেরি হয়ে যাবে তোর আজকে না ক্লাস টেস্ট আছে? "
ক্লাস টেস্টের কথা শুনে  তারার চোখ কপালে উঠলো।  শুধু কিছুই পড়েনি দুদিন।  কি লিখবে গিয়ে।। নিশ্চিত ফেল করে বসে থাকবে। তারপর স্যারের বকুনি  শুনতেই হবে। 
ক্লাস টেস্টের কথা শুনে তারা নিজের ড্রেসের কথা ভুলে গেল।  তড়িঘড়ি করে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিল। তারপর তাড়াতাড়ি করে ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে দৌড় দিল।
   নিজের রুমে যাওয়ার জন্য উপরে আসছিল ধ্রুব। 
কয়েকটা সিঁড়ি মাত্র উঠেছে।  অমনি তাড়াহুড়ো করে উপর  থেকে নামতে দেখল তারাকে। সাবধানে বাণী ছুড়ে বলল, 
" আসতে নাম ড্রামা কুইন  এক্ষুনি তো উল্টে পড়বি।"
কে শুনে কার কথা।  তারা দৌড়ে যেতে যেতে উত্তর  করল,
"আপনার জ্ঞান  এখন শোনার সময় নাই! ক্লাস টেস্ট আছে আমি অলরেডি লেট।  তো জ্ঞান টা  তুলে রাখুন কলেজ থেকে এসে শুনবো। "
ধ্রুব দুদিকে মাথা নেড়ে চলে গেল।  
উপরে উঠে কিছু একটা মনে পড়তে আবার পিছে ফিরে তাকালো,
দেখল তারা তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যাচ্ছে! 
ধ্রুব দ্রুত সিড়ি দিয়ে নামছে আর তারা কে ডাকছে
" এই ড্রামা কুইন এর বাচ্চা দাঁড়া! এটা কিভাবে তুই কলেজে যাচ্ছিস? "
ধ্রুবর এই উচ্চ বাচ্চ্যে ডাকে রান্নাঘর থেকে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে আসলো বৃষ্টি, জোসনা, ও তারমিন চৌধুরী।  
" তারা জুতো পড়তে পড়তে জবাব করলো, 
" কেন এভাবে তো রোজ যায় কলেজে।  সবাই তো এভাবেই যাই। খারাপ কি দেখতে লাগছে আমায়?  "
"খারাপ লাগছে ভীষন খারাপ লাগছে পেত্নির মত লাগছে তুই এভাবে কেন কলেজে যাবি?  চুল ছেড়ে রেখেছিস কেন? "
" কারণ চুল ভেজা তাই! শুকনার সময় নাই।  যখন শুকিয়ে যাবে বান্ধবীর দিয়ে বেনী করিয়ে নেব।  এখন আপনার বকবক শোনার সময় নেই আমার। যেতে হবে! "
" তোর বোরকা কই?  তুই কি এ ভাবে বোরকা ছাড়াই যাস? "
তারা এবার  ধ্রুব'র কথা শুনে দুই হাত কোমরে চেপে ধরে হেসে ফেলল! ধ্রুব'র কথা শুনে জোসনা চৌধুরী বললেন, 
" ধ্রুব ও তো এখনো ছোট ও কিভাবে বোরকা পরবে। আর তাছাড়া ওতো বাড়ির গাড়িতেই যাই।  আবার ফিরেও আসে বাড়ির গাড়িতে।  মাঝেমধ্যে একা একা যায়।  যেদিন বাড়িতে গাড়ি থাকে না।  আর তাছাড়া ও তো এখনো ছোট বোরখা সামলাতে পারবে না। "
মায়ের কথা শুনে ধ্রুব ভ্রু,  কুস্কে বলল, 
"ছোট!  কোন দিক থেকে একে ছোট মনে হয়? দুষ্টুমিতে পিএইচডি করা।  এখনই বলছি শক্ত হাতে লাগাম চেপে ধরো।  না হলে কিন্তু পরে পস্তাবে।  এ মেয়ে কিন্তু বড্ড জেদি।  "
এই বলে ধ্রুব আর দাঁড়ালো না।  তারা মুখ ভেংচি কেটে বিড়বিড় করে  বলল, 
" নিজে যেন সাধু।  কালকে আমি দেখে এসেছি উনি কথায় কথায় যাই!  ছোট ছোট ড্রেস পরা মেয়েরা ওখানে নাচানাচি করে আর ইনি সেখানে গিয়ে মদ গেলেন।  আবার এসেছে আমাকে জ্ঞান দিতে! অসহ্যপুরুষ কোথাকার! "
তারাও আর দাঁড়ালো না।  দৌড়ে চলে গেল বাইরে।  আজকে বাড়িতে গাড়ি নেই।  তাই তাকে একাই যেতে হবে।  তরী তরু আদ্রের গাড়িতে চলে গেছে।  কারণ তারার কলেজ উল্টোদিকে।  
..............…...…...…...
রাত ১২ টা... 
ধ্রুব তার নিজস্ব স্টাডি রুমে বসে কেস স্টাডি করছিল।  এই রুমটা নিচে। স্টোর রুমের পাশে অবস্থিত।  ছোটবেলা থেকেই এই  রুমটা ধ্রুব নিজের দখলে নিয়েছিল।  এই রুমে অনেক কিছুই আছে। ধ্রুবর জিম করার অনেক অনেক সরঞ্জাম  আছে এই রুমে।  আর একপাশে স্টাডি করার জন্য  বানানো।  কয়েকটি বুক সেলফ চেয়ার টেবিল আছে। 
ধ্রুব বর্তমানে এখানেই বসে কিছু  কেস স্টাডি করছিল এবং কিছু  ফাইলো  সামনে রাখা আছে। 
অর্ণবের সাথে দেখা করে কিছুকেস ফাইল সাথে নিয়ে এসেছে।  কালকে থেকে জয়নিং।  তাই সব বিষয়ে আগে থেকে ক্লিয়ার থাকতে চাই।  তার জীবনের একমাত্র এমবিশন হলো দুর্নীতি দমন করা।  
পড়তে পড়তে বেশ অনেকটাই রাত হয়ে গেছে।  রাত একটা বেজে গেছে।  কালকে সকাল থেকেই  শুরু হবে  নতুন জীবনের প্রথম অধ্যায়।  তাই ধ্রুব বেশি রাত জাগতে চাইছে না।  মাইন্ড টাকে রিফ্রেশ করতে হবে।  ঘুমানোর প্রয়োজন।  এমনিতে বাড়িতে আসার পর থেকে ভালোভাবে ঘুম হচ্ছে না।  
লাইট অফ করে দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে ধ্রুব নিজের ল্যাপটপ হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসলো।  ডাইনিং টেবিল থেকে এক গ্লাস পানি খেয়ে উপরে উঠে চলে গেল নিজের রুমে। 
ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লো।  
রাত দুটো বাজে, 
তারার রুমের দরজাটা আস্তে আস্তে খুলে গেল।  পা টিপে টিপে বেরিয়ে এলো তারা।  গায়ে একটা ওড়না জড়ানো।  ওড়নাটা দিয়ে মাথা সহ মুখ ঢেকে নিয়েছে।  শুধু চোখ দুটো বেরিয়ে আছে।  
রুম থেকে বেরিয়ে করিডোরে  উঁকি ঝুঁকি মারল।  
না কেউ নেই সবাই ঘুমাচ্ছে।  এই সুযোগ এই সুযোগেই কাজটা সারতে হবে।  
তারা পা টিপে টিপে হাঁটা ধরল।  গিয়ে  একটা দরজার সামনে থামলো ধাক্কা দিয়ে দেখল খোলা আছে কিনা। না খোলাই আছে শুধু ভিড়ানো ছিল। 
দরজাটা নিঃশব্দে খুলে পা টিপে টিপে ভিতরে ঢুকলো তারা। বড় লাইট অফ করে নিল রঙের একটা ড্রিম লাইট জালানো। 
দেখল বিছানায় শুয়ে আছে সুদর্শন সুঠাম দেহি পুরুষটি।  কোমর অবধি ব্ল্যাঙ্কেট জড়ানো।  
ফর্সা পিঠ উন্মুক্ত। উপর হয়ে শুয়ে আছে।  দুই হাত দিয়ে বালিশটা আঁকড়ে ধরে আছে মাথার দুই পাশ
 দিয়ে। 
তারা পা টিপে টিপে পুরুষটির বিছানার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। নিল রঙের ড্রিম লাইট এর আলো এসে পরেছে ফর্সা ক্লিন সেভ করা মায়াবি মুখের ওপর। সামনের কিছু অবাধ্য চুল কপালের উপর এসে পড়েছে। তারার মন বলছে চুলগুলো একটু ছুঁয়ে দিতে। কিন্তু না যে খাটাসের খাটাস যদি উঠে পড়ে, মনে মনে বলল, 
"কি সুন্দর মায়াবী লাগছে মুখটি! অথচ সব সময় মুখটা  কেমন খাটাশের মত করে রাখে।  এই যে ঘুমের মধ্যে  মধ্যে কত স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে। দেখে কে বলবে এই লোকটা রাগী বদমেজাজি  একজন এসপি! একটু হাসতেও পারে না। কেন একটু হেসে হেসে কথা বললে কি জাত চলে যায়? অসহ্য পুরুষ!"
তারা আর দাঁড়িয়ে থাকল না। পা টিপে টিপে ড্রেসিং টেবিলের কাছে গেল।  নিঃশব্দে সব সরিয়ে সরিয়ে খুঁজতে লাগলো কাঙ্খিত জিনিসটি।  বেশ কিছু সময় পরে খুঁজে পেয়েও গেল। গুচ্ছি" কোম্পানির একটি পারফিউম। পারফিমের বোতলটা হাতে নিয়ে তারা তো উত্তেজনার বসে প্রায় চিৎকার করেই দিতে যাচ্ছিল। নিজেই নিজের মুখ চেপে ধরে আটকালো।  গুচ্ছি কোম্পানি !  এটাতো অনেক বড় ব্রান্ডের কোম্পানি।  এত দামি জিনিস এই পুরুষটি ব্যবহার করে?  তারপর তারা দেখতে পেল,  হাত ঘড়ি ওয়ালেট সবই গুচ্চি কোম্পানির।  
তারা তো খুশি ধরে রাখতে পারছে না।  গুচ্ছি কোম্পানির জিনিস হাতে পেয়েছে।  তাও আবার পারফিউম।  হোক না জেন্ট'স।তাতে কি।  তারার ঘ্রানটা পছন্দ হয়েছে।  তাই এটা আজ থেকে তারার।  
তারা  পারফিউমের কৌটাটা হাতে নিয়ে চলে আসছিল।  তখন দেখতে পেলে সোফার উপর অবহেলার সাথে পড়ে আছে একটা টি শার্ট।  মনে হয় ঘুমাতে যাওয়ার আগে এটা খুলে রেখেছে।  তারমানে তার শরীরের ঘ্রান এখনো টি-শার্টে বিদ্যমান।  একটু এগিয়ে গেল।  কাঁপাকাঁপা হাতে টি-শার্টটা তুললো।  একটা শুকনো ঢোক গিলে টি শার্টটা নাকের কাছে নিয়ে আসলো।  অমনি তারা যেন কোথাও হারিয়ে গেল। শুকিয়ে যাওয়া ঘাম আর পারফিউমের মিসেলে  কী সুন্দর পুরুষালী ঘ্রান।  এই ঘ্রানটা যে তারাকে বড্ড টানে।  
তারা আর দেরি করলো না টি শার্টটা  বুকের সাথে চেপে ধরে পা টিপে টিপে আবার বেরিয়ে আসার জন্য পা বাড়ালো, 
" সুউউউখ!"
অমনি তারার পা দুটো থমকে গেল।  ঘুম জড়ানো নেশাক্ত কন্ঠে ডাকলো ধ্রুব।  
সুখ!  এই নামে তো ধ্রুব ডাকে।  বাড়ির কেউই সুখ নামে ডাকে না।  সকলে বোনেদের সাথে মিল রেখে তারা বলে ডাকে।  কিন্তু একমাত্র ধ্রুব,  যে নিজের নামের সাথে তারা নামটা মিলে যায় বলে সুখ বলে ডাকে। ঘুম জড়ানো নিঃস্বার্থ কন্ঠে সুখ বলে ডাকাটা তারার কানে বারবার বাঁজতে লাগলো।  তারা শুকনো ঢক গিলল।  সারা শরীরে এক অজানা  শিহরনে শিহরিত হল।  মেরুদন্ড দিয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেল।  হার্টবিট দ্রুত লাফাচ্ছে।  মনে হচ্ছে এক্ষুনি হয়তো বেরিয়ে হাতে চলে আসবে।  
এই লোকটা এখনো জেগে আছে।  ঘুমায়নি নাকি ঘুম ভেঙে গেছে।  কিন্তু তারা তো কোন শব্দ করেনি।  কি করে বুঝলো যে তারাই এসেছে?  
কি বলে ডাকলো, সুখ! 
কতদিন পরে তারা এই নামটা শুনলো।  সেই ছয় বছর আগে শেষবার শুনেছিল।  ধ্রুব যখন দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছিল।  যাওয়ার আগে শুধু একটা কথাই বলে গেছিল, 
"সুখ আমি চলে যাচ্ছি।  ভালো থাকবি দুষ্টামি করবি না।  দুষ্টামি করলে কিন্তু ফিরে এসে শাস্তি দেব।  "
ব্যাস এতোটুকুই বলে গেছিল।  আবার সেই  ৬ বছর পরে সুখ বলে ডাকলো.। বাড়িতেও এসেছে তিন দিন।  অথচ একবারও  সুখ বলে ডাকেনি।  সব সময় তো উড়নচণ্ডী ড্রামা কুইন এসব বলেই ডাকে।  
"সুখ! ডাকলাম তো তোকে কাছে আয়! "
ধ্রুবর  আবার ডাকে সন্নিতো ফিরে তারার।  আস্তে আস্তে পিছু ফিরে তাকায়।  তাকিয়ে দেখে ধ্রুব একইভাবে শুয়ে আছে।  তারা কাঁপতে কাঁপতে এক পা এক পা করে এগিয়ে গেল।  বিছানার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।  তারপরে বলল, 
" আপনি ঘুমাননি? "
ধ্রুব'  একই অবস্থায় থেকে চোখ বন্ধ করেই ঘুম জড়ানো কন্ঠে উত্তর করল, 
" ঘুমাতে আর দিলি কই তুই তো আমার রাতের ঘুম কেড়ে নিলি।  "
"আমি কোথায় ঘুম কারলাম আমি তো এসে একটু এক চুল শব্দ করিনি।  আপনি কিভাবে বুঝলেন আমি এসেছি।  আমার তো ওড়না দিয়ে মুখ ঢাকা। "
" এর আগেই না তোকে বলেছি তোর অস্তিত্ব আমি অন্ধকারেও বুঝতে পারি।  বাদ দে কেন এসেছিস।  এত রাতে আমার রুমে আসা তোর ঠিক হয়নি। "
" এমনি মানে এমনি এমনি এসেছিলাম। " 
"এমনি এমনি কেউ এত রাতে কারো রুমে আসে?  "
" আচ্ছা আমি তাহলে যাচ্ছি আপনি ঘুমান! "
" দাঁড়া কোথায় যাচ্ছিস?  আমার ঘুম যখন তুই কেরেছিস এখন আমার ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে যা।  "
আশ্চর্য তারা এখন কিভাবে ঘুম পাড়াবে।  এই লোকটাই কি বাচ্চা মানুষ নাকি।  গান গেয়ে গল্প বলে ঘুম পারাবে।  বিরক্তিকর একটা মানুষ।  ঘুম না হলে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমাক।  তারার কি তাতে।  তারার কাজ হয়ে গেছে তার মানে তারা এখানে আর এক মুহূর্ত দাঁড়াবে না।।  
" আপনি কি বাচ্চা নাকি যে আপনাকে ঘুম পাড়িয়ে দেব।  আপনি ঘুমানোর চেষ্টা করুন ঘুম না হলে ঘুমের ওষুধ খান।  আমি যাচ্ছি আমার ঘুম পাচ্ছে।  "
" আর কত খাব ঘুমের ওষুধ।  প্রায় প্রতি রাতে তো ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমাই।  এই ডাক্তারের ওষুধ খেতে আর ভালো লাগেনা।  আমার ঘুমের অরজিনাল ওষুধ টা কবে পাবো?  একেবারে অর্গানিক।  কোন ভেজাল নাই।  বলতো কবে পাব ওষুধটা? "
" আশ্চর্য আমি কিভাবে বলবো? "
" তোর কাছেই তো আছে! "
" আমার কাছে আপনার ঘুমের ওষুধ আছে কি সব যা তা বলছেন।  আমি কখনো জ্বরের বড়িই খাই না।  বমি পাই বলে।  আর আমার কাছে কিনা আপনার ঘুমের ওষুধ আছে?  "
"  আছে এখন বুঝবে না পরে বুঝবি যা গিয়ে ঘুমা! বিরক্ত করবি না আমাকে আর।  বড্ড জ্বালাচ্ছিস তুই আমাকে।"
এই পুরো কথোপকথন  যে অবস্থায় ছিল শুয়ে ওই অবস্থাতেই বলেছে।  চোখ তুলে একবার তাকাইয়া দেখিওনি।  তারা কিছু সময় দাঁড়িয়ে ধ্রুবকে ভালো করে পড়খ করে আবার চলে গেল।  যার জন্য আসছিল তা তো নিয়েই নিয়ে নিয়েছে।  এখন আর দাঁড়িয়ে বিপদ বাড়িয়ে লাভ নেই। কেটে পড়লেই মঙ্গল।  
("চলবে".......)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন