ফন্ট সাইজ:
থিম:
জটিল প্রেম

৩৩তম পর্ব

লেখক: আসিফা খান

#পর্ব_৩৩

#জটিল_প্রেম

----------------------☞

(গল্প কপি করা নিষেধ।)

.

নতুন সকালটা ছিল একদম ভিন্ন রকমের। কেমন স্নিগ্ধ ভাব চারিদিকে।। জানালার ফাঁক দিয়ে সূর্যের প্রথম আলো এসে পড়ছে বিছানার গায়ে। পর্দা আলতো দুলছে হাওয়ার ছোঁয়ায়, আর ঘরের চারপাশে যেন এক প্রশান্তির চাদর বিস্তৃত।

জারিন চোখ মেলতেই দেখতে পেল রাফাজকে। এই পুরুষ তার শৌখিন ব্যক্তি।। যার অপেক্ষায় সে পার করেছে অনেক গুলি বসন্ত।। আর আজ তার বুকের বাম পাশে মাথা রাখা সে... এটাই যেনো লিখিত ছিলো ভাগ্যে।।

নিঃশ্বাসের মাঝে প্রশান্তি টের পাওয়া যাচ্ছে মানুষটার...যেন শত যন্ত্রণার পর এক চিরকাঙ্ক্ষিত বিশ্রাম।। জারিন চুপচাপ তাকিয়ে ছিল রাফাজের মুখের দিকে। লজ্জায় একাকার হলেও চোখের তৃষ্ণা তাহ উপেক্ষা করছে।। এই চোখ, যা তাকে তেরো বছর আগেও দেখেছিল ভালোবাসায়, আজও তেমনি করে তাকিয়ে আছে... শুধু আরও গভীর, আরও স্থির। রাফাজ এইবার চোখ খুলে হালকা হাসল,,, আহা মন জুড়িয়ে যাওয়া হাসি...

"ঘুম ভাঙিয়ে দিলে তো, প্রিন্সেস!"

জারিন এইবার কিছুটা হলেও নড়েচড়ে ওঠে।। ওর লাজে আচ্ছন্ন মুখশ্রী দেখে রাফাজ হেসে ফেলে।। আবারো বলে,,,,

"উফফ তোমার এই লজ্জা!! এই লজ্জায় আমি সেই কবেই ফিদা হয়েছিলাম আবার আজও হচ্ছি,,,চিরকাল হবো।"

জারিন ফিসফিস করে বলে..."আপনি একটুও বদলাননি।।"

রাফাজ মুচকি হেসে ওর কপালে একটা চুমু দেয়,,,

"জানো, আজকের এই সকালটা আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সকাল। তোমাকে পাশে নিয়ে ঘুম ভাঙা... এর চেয়ে বড় কিছু চাওয়ার নেই আমার।"

জারিন মুগ্ধ হয়ে সবটা শোনে।। হাত বাড়িয়ে রাফাজ এর কপালে পড়ে থাকা চুল সরিয়ে দিলো। এই একচল্লিশ বছর বয়সী ইয়াং পুরুষ কে সে নিজের মনের রাজা হিসাবে চেনে।। তত্পর নিজের আঙুলে সেই সাদা ডায়মন্ডের আংটি দেখিয়ে খানিক আবেগী কন্ঠে বলল,,,

"আপনি বলেছিলেন, এই আংটি তেরো বছর ধরে পকেটে ছিল। আর এখন এটা আমার আঙুলে... এতটাই বাস্তব, এতটাই সুন্দর যে আমি স্বপ্ন ভেবে ভুল করছি বারবার।"

রাফাজ নির্নিমেষ দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো প্রেয়সীর দিকে।। ওর আঙুলটায় চুমু খায় আদর ঢেলে...

"এটা কোনো স্বপ্ন না জারিন, এটা আমাদের নতুন শুরু... যেখানে অতীত নেই, শুধু তুমি আর আমি আছি।"

"আমরা...."

সকালের আলোয় একে অপরকে আবারও নতুন করে খুঁজে নেয় তারা। একটা নতুন জীবন, একটা নতুন অধ্যায়।। যেখানে ভালোবাসা শুধু অনুভব নয়, বিশ্বাসও।। রাফাজ ফিসফিয়ে বলে ওঠে,,,

"তোমার সাথে, প্রতিদিন... নতুন সকাল হবে প্রেমে পূর্ণ আমার জারিন।।"

-----------

ঘড়িতে সকাল দশটা। খান বাড়িতে যেন উৎসব লেগেছে। পুরো বাড়ি হৈচৈ আর আনন্দে মুখরিত। রান্নার সুগন্ধে মৌমৌ করছে চারিপাশ।।

আজ খান আর শেখ পরিবার একসাথে। এতো বছর পর আবারো দুই পরিবার একত্রে।। এটা কোনো বড় উপলক্ষ্যের থেকে কম নাকি!!পুরনো সম্পর্কের পুনর্মিলন।।

এই মিলনমেলায় সবার চোখে খুশির ঝিলিক, আবার কারো মনে অজানা এক অস্থিরতা।। সব কিছু নতুন শুরু বলে কথা।।

জারিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভেজা চুল ড্রাই করতে ব্যাস্ত।। এমনিতেও আজ সে লেট তারপর গতরাতের প্রেম মুহূর্ত সব মিলিয়ে মেয়েটা লজ্জা,অস্থিরতা আর নার্ভাসনেসে শেষ হচ্ছে।। সবার সামনে গিয়ে সে দাঁড়াবে কি ভাবে!!

আবার বিপত্তি ঘটেছিল রাফাজ এর ড্রেস নিয়ে।। মানুষটা গোসল করে পরবে কি!! এটা ভেবেই টেনশান করতে লাগলো জারিন ঠিক সেই সময়েই আসমা সুলতানা আর জায়ান এর মা মিলে এসে তাকে রাফাজ এর জন্য একটা পাঞ্জাবি পাজামা আর তার জন্য একটা নতুন মেহেরুন রংয়ের শাড়ি দিয়ে গেছে ব্যাস তখন থেকেই জারিন আরো বেশি লজ্জায় কাপকাতুরে।।

রাফাজ গোসল শেষে ড্রেশাপ করে বের হলো সবে মাত্র। বেরিয়েই জারিন এর উষসী রূপে মুগ্ধ হয়ে মোহিত চোখে তাকিয়ে রইলো।। রাফাজ এর একটা হার্টবিট মিস হলো যেনো।। ইসস...এই মেয়েটা কে দেখে কেউ বলবে তার বয়স চৌত্রিশ!! মোটেও না।। মেয়েটা যেনো মাত্র যৌবনে ফুটন্ত যুবতী।।রাফাজ বুক ফুলিয়ে শ্বাস নেয়।। এই মেয়ের জন্য সে আজীবন অপেক্ষা করতে রাজি ছিলো।।

এদিকে জারিন রাফাজ এর শ্বাস টানা দেখে মজার ছলে সামান্য ব্যাঙ্গ করে বললো,,,

"বুড়ো বয়সে এরকম একটু শ্বাস'এর প্রবলেম হয়।

আপনার একবার ডাক্তার দেখানো উচিত।।"

রাফাজ ভ্রু কুঞ্চিত করে,চোখ ছোটো ছোটো করে বললো,,,,"এক্সকিউজ মি মিসেস!! ফর কাইন্ড ইউর ইনফর্মেশন,,, স্কুল পড়ুয়া বাচ্চা মেয়ে গুলো আমায় লাভ লেটার দেয় এখনও।। আমায় বুড়ো বলার ভুল করবেন না,,,আর এমনিতেও বুড়ো হলে কাল রাতে...."

রাফাজ এরপরে কিছু উচ্চারণ করতে যাবে তার আগেই জারিন হাওয়ার বেগে এসে ওর মুখ চেপে ধরে।। জারিন এর কান লাল।। ও ভালো করেই বুঝেছে রাফাজ কি বলতো।। এদিকে রাফাজ চোখে হাসে।। অতপর ও হাত নামিয়ে মৃদু স্বরে বলল,,,,

"আমার মুখে হাত চেপে ধরলে কিন্তু মনের কথা থামাবে কি করে?"

"সেটা আমি শুনতে পারছি না।"

রাফাজ এবার জারিন এর মাথা নিজের বুকের বা পাশে চেপে ওকে জড়িয়ে ধরলো। বলল,,,

"কি শোনা যায়?"

জারিন ওর বুকের আওয়াজ শুনে,,থমকে গেল মেয়েটা।। ধীরে ধীরে বলল,,,

"শোনা যায়... একটা খুব চেনা শব্দ। যেখানে শুধু প্রশান্তি থাকে,,,এটা আমার জায়গা।।"

রাফাজ গভীর গলায় বললো,,,

"এই শব্দটা তেরো বছর ধরে তোমার নাম নিচ্ছে। প্রতিটা স্পন্দনে... শুধু 'জারিন... জারিন' বলেই তো চলেছি। জায়গাটা লিখিত তোমার ছিল জারিন,,, এখনে কখনও কারোর জায়গা হয়নি।।"

জারিনের চোখ ভিজে উঠলো।। এত সুখ এর মাঝেও অতীত ভুলতে পারা কি এত সহজ!! কেনো পেরিয়ে গেলো এত গুলি বছর!! কেনো এই বুকে মাথা রাখতে এত দেরি হলো!! সে মাথা তুলে রাফাজের চোখে তাকালো,,, রাফাজ ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে, গাল ছুঁয়ে বললো,,,

"আর কান্না নয় প্রিন্সেস... সময় আমাদের আলাদা করেছিল, কিন্তু আবার এই সময় আমাদের এক করেছে।। তুমি আমার কাছে আজীবন একইরকম থাকবে জান,,,দূরে থেকেও আমাদের ভালোবাসা তো কমেনি।।"

"ভালোবাসি,,,,"

রাফাজ ওর চোখের পাতায় দীর্ঘ চুমু এঁঠে বললো,,,"আমিও..."

অতঃপর নীরবতায়,আদরে জড়িয়ে কাটলো অনেক গুলি মুহূর্ত।। রাফাজ এইবার কিছুটা সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলল,,,"জারিন তোমার ফোন চেক করো একবার,,,তোমার মোহরানার টাকা আমি সকালে তোমার একাউন্টে ট্রান্সফার করেছি।"

জারিন এর একটুও ইচ্ছে করলো না এখন ফোন হাতে নিতে। তাও রাফাজ এর জোরাজুরিতে ফোন খুলে একাউন্ট চেক করলো,,,অতপর অবাক হয়ে রাফাজ এর দিকে তাকিয়ে বলল,,,

"এত...এত টাকা!!"

রাফাজ মাথা চুলকিয়ে বলে,,,"প্রতি বছর আমি কিছু আমাউন্ট জমাতাম। তুমি তো ছিলে না কিন্তু ভাবতাম যদি তুমি থাকতে তাহলে হয়তো এরকম কিছু অর্থ খরচ হতো,কিংবা আমি খরচ করতাম তোমার জন্য।। সেটাই এত বছরে জমে এত টাকা হয়েছে,,,এই গুলো তোমার আমানত আমার কাছে ছিল এতদিন এখন তোমার কাছে ফিরিয়ে দিলাম।।"

জারিন কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে রইলো।। এত ভালোবাসা,আনুগত্য সে কোথায় রাখবে!! জারিন এর এখন ভয় হচ্ছে,,,তার ভাগ্যের উপর হয়তো তারই নজর লেগে যাবে।। জারিন এর নাক টানার শব্দ শুনেই রাফাজ ত্বরিত মাথা নাড়িয়ে না বুঝিয়ে বলল,,,

"নাহ নাহ আর কান্না নয় প্লিজ,,,"

জারিন ঠোঁট ভেঙ্গে কেঁদে দিলে রাফাজ নিজের কপালে হাত রাখে।। হায়রে মেয়ে মানুষ।। জারিন ঠোঁট ফুলিয়ে বলে,,,,

"আপনি একটা পাগল,,,"

রাফাজ দুই কাঁধ নাচায়। হয়তো সে পাগল। জারিন আবারও বলে,,,"এত টাকা আমি কি করবো!?"

"আচ্ছা আমাদের হানিমুন প্ল্যান করো। এটা তোমার দায়িত্ব।"

মুহূর্তেই জারিন এর কান্না বন্ধ হয়ে গেলো।। ঠোঁট বাঁকিয়ে পুরুষটির কথা,লজ্জা এড়িয়ে গেলো যেনো।। চোখ মুছে রাফাজ কে কিছু বলতে যাবে তার আগেই জারিন এর মাথায় খেলা করলো কিছু চিন্তা।। সে অতি অবাক হয়ে রাফাজ এর দিকে চেয়ে ভ্রূ কুচকে বললো,,,

"এক সেকেন্ড,,,আপনি আমার একাউন্ট নাম্বার পেলেন কোই?? আমি তো আপনাকে কখনোই দিই নি।"

রাফাজ হেসে বলে,,,"তোমার এনজিও তে এত বছর ডোনেট করে আসছি জারিন,,,তোমার এক্যাউন্ট নাম্বার পাবো না,,,এটা আর এমন কি!!"

কথাটি বলেই জিভ কাটলো রাফাজ। ফ্লোতে বেরিয়ে গেছে।। এদিকে জারিন হা হয়ে রইলো।। মস্তিষ্ক হানলো কিছু কথা। তারমানে এত বছর প্রতি মাসে যে মোটা অংকের এমাউন্ট আসতো তার এনজিওতে সেটা রাফাজ পাঠাতো!! এদিকে জারিন সেই মানুষটাকে কত খোঁজার চেষ্টা করত। ভাবতো একটা ধন্যবাদ জানাবে কিন্তু মানুষটা হয়তো নিজেই সামনে আসতে চায়তো না।।

জারিন বিস্মিত হয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই রাফাজ ওর হাত টেনে বলে,,,

"পরে হবে এই বিষয়ে কথা এখন নিচে চলো সবাই অপেক্ষা করছে। খিদে পাচ্ছে...।"

জারিন আর কিছুই বলতে পারলো না।। সে শুধুই অবাক হচ্ছে।।

--------------

নানান রকমের নাস্তায় ভরা টেবিল।। সমস্ত খাবার আনোয়ারা বেগম নিজ হাতে বানিয়েছেন অবশ্যই সাহায্য করেছে বাড়ির বৌএরা। মিষ্টি বানিয়েছে জুলফিকার সাহেব,,, আয়নাম সাহেব সকাল সকাল কোথা থেকে হালুয়া পরোটা নিয়ে আসলো,,,এটা জারিন এর প্রিয় তিনি জানেন।। সবাই যেনো নিজ নিজ ভাবে নতুন দম্পতিদের জন্য ভালোবাসা পরিবেশন করতে ব্যাস্ত।। রাফাজ আর জারিন সবার এত এত আদর পেয়ে আবেগী হয়ে উঠলো।। ইসস,,, এই দুই পরিবারের মাঝে এতো ভালোবাসা কোথাও যেন চাপা পড়েছিল আর আজ সেই পাথর সরে গিয়ে ভালোবাসা গুলি ফোয়ারার মত উত্থিত হচ্ছে।।

জারিন আর রাফাজ কে পাশাপাশি হাসি মুখে বসে থাকতে দেখে আনোয়ারা বেগম আর রাজিয়া বেগম দুই জনের চোখেই পানি জমে ওঠে।। তাদের ছেলে মেয়ে দুটো এত দিন ধরে যে যন্ত্রণা সহ্য করে এসেছে সেটা নিরাময় হতে দেখে দুই মায়ের মন গলে যায়।। দোয়া করে আপন বাচ্চাদের জন্য,,, হ্যাঁ বাচ্চা। ছেলেমেয়েরা যতই বড় হয়ে যাক না কেন বাবা মায়ের কাছে তারা বাচ্চাই থাকে।।

রুমি আর আসিফা পরস্পর বসেছে।। আসিফার পাশের চেয়ারে আয়াজ।। মেয়েটা প্রথমে উঠে যেতে চাইছিল কিন্তু অগচরে টেবিলের নিচ থেকেই ওর হাত টেনে ধরে ছেলেটা।। আসিফা অবাক হয়ে,বড় বড় চোখ করে ওর দিকে তাকালো কিন্তু আয়াজ ভাবলেশহীন ভাবে খেয়েই যাচ্ছে।। মেয়েটা আশেপাশে তাকিয়ে চুপচাপ আবার বসে গেলো। হাত ছড়ানোর চেষ্টা করেও লাভ হলো না,,,ছেলেটা শক্ত করে ধরে আছে।।

এখানে শুধু উপস্থিত নেই জায়ান।। কাল রাত থেকেই ছেলেটাকে দেখেনি রুমি।। সেই সবার চোখের আড়াল হলো আর দেখা মিলল না তাঁর।। রুমি একটু হলেও চিন্তিত হলো।। জায়ান এর দিকটা সে বুঝতে পারছে।। সবাই মোটামুটি খাওয়ায় ব্যাস্ত কিন্তু রুমি একটা পরোটা খেয়ে বসে আছে,,,কিন্তু ভাবছে সে। রুমিকে বসে থাকতে দেখে জায়ানের মা রুমির মাথায় হাত রেখে সামান্য হেসে বলল,,,

"মা আমার একটু ছেলেটাকে ডেকে আনবে! এতক্ষণ ঘুমায় না ও যতই দেরি করে ঘুমাক না কেনো।। আমি যেতাম কিন্তু এখানে আমার একটু কাজ আছে,,,"

রুমি নার্ভাস হেসে বলে,,,"আন্টি আমি!! আমি যাবো!?"

"হ্যাঁ যাও,,, তোমার কোনো সমস্যা!?"

"নাহ,,,মানে"

"আচ্ছা থাক আমিই যাই,,,"

জায়ান এর মা উদাস কন্ঠে কথাটি বলেই চলে যেতে নিলে রুমি দাড়িয়ে উঠে বলে,,,

"আন্টি আমি..আমি যাচ্ছি।"

ভদ্র মহিলা হেসে বলে,,,"আচ্ছা যাও,,,"

রুমি চলে গেলো।। জায়ান এর মা তাকালেন নিজের স্বামী জুলফিকার সাহেব এর দিকে অতঃপর আসমা সুলতানা।। ছেলে মেয়েদের জীবন তারা খাদে ঠেলে দেবে না।। শেষ চেষ্টা করুকনা তারা,,,বাকি আল্লাহর ইচ্ছে।। ছেলে মেয়ে দুটো কে যত কাছাকাছি রাখা যায়।।

---------

রুমি দরোজা ঠেলে জায়ান এর রুমে প্রবেশ করে।। রুম আঁধারে নিমজ্জিত।। এসি চলছে তাই রুম ঠান্ডা।। মেয়েটার শরীর কেঁপে উঠলো।। বড় রুমের মাঝে বিশাল বেড,,,সেখানে ঘুমে আচ্ছন্ন পুরুষ। কাত হয়ে শুয়ে আছে। পরনে শুধুই একটা ফোর কোয়াটার ট্রাউজার,,,বাকি শরীর উন্মুক্ত।।

ছেলেটা হয়তো ঠান্ডায় গুটিয়ে আছে।। রুমি ঠোঁট বাঁকায়,,,চাদর নিয়ে ঘুমালেই হয়।। তার উপর নাঙ্গু পাঙ্গু হয়ে ঘুমিয়ে ছেলেটা। রুমি চোখ নামায়।।

রুমি পা টিপে টিপে এগিয়ে যায়।। ঠিক জায়ানের সামনে দাড়িয়ে রইলো কিছুক্ষন। কি বলবে! বুঝতে পারলো না।। সে যতই ভাবে মানুষটার থেকে দূরে থাকবে কিন্তু কোনো না কোনো ভাবে তারা কাছাকাছি চলেই আসে।। কিন্তু এদিকে তারা তো জানে না তাদের বিধান একেওপরের সাথে কবেই মিলে গেছে।।

রুমির বুকের ভিতর কেমন যেন ধুকধুক করছে। সে চায়নি আসতে, তবুও এসেছে। মনে মনে নিজের ওপর রাগও হচ্ছে।চোখ নামিয়ে তাকায় জায়ানের শান্ত মুখটার দিকে। এটাই সেই ঘাড় ত্যারা রাগি বদমেজাজি ছেলেটা না!! ঘুমন্ত অবস্থাতে কেমন যেন শিশুসুলভ নিষ্পাপ লাগছে। অবচেতনে এক চুল হাসি আসে রুমির মুখে। আবারো তাহ্ মিলিয়ে যায় সেটা।

রুমি কি ভেবে আশেপাশে তাকায় দেখে বিছানার অপর পাশে চাদর রয়েছে একটা,, রুমি সেটা নিয়ে জায়ানের গায়ের উপর চাপাতে যাবে কি,,,হঠাৎই জায়ান কিছুটা নড়ে উঠে, চোখ বন্ধ,,,গলায় একরাশ ঘুম জড়ানো স্বরে বলে—

"ডোন্ট গো প্লিজ...."

রুমির শরীর কেঁপে ওঠে। ও কি স্বপ্নে বলছে, নাকি জেগে আছে?সে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। অনেকক্ষণ জায়ান এর ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। অতঃপর ভ্রূ কুচকে জায়ান এর দিকে ঝুঁকে একদম লো আওয়াজে বললো,,,,

"জায়ান,,,আপনি...."

নাহ আর কিছু বলার সুযোগ দিলো না ছেলেটা।। নিজের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে রুমিকে একদম হ্যাঁচকা টানে নিজের উন্মুক্ত,প্রশস্থ বুকের তলায় নিলো।। দুই হাতে ওকে জড়িয়ে সোজা মাথা গুঁজে দিলো মেয়েটার মোলায়েম গলদেশে।।

মুহূর্তেই ঘটে যাওয়া ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব রুমি। কি হলো এটা!! ওর চিকন শরীর থরথর করে কাপছে। রুমির ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। জায়ানের উষ্ণ বুকের মধ্যে আটকে পড়েছে সে। ছেলেটার শরীর ঠান্ডা।। আচ্ছা জায়ান কি জানে সে কী করছে? নাকি এখনো স্বপ্নের গভীরে তলিয়ে আছে?

রুমি চোখ বন্ধ করে ফেলল। এত কাছ থেকে জায়ানের নিঃশ্বাসের গতি টের পাওয়া যাচ্ছে। বুকের ভেতর ধুকধুক শব্দে মনে হচ্ছে চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে গেছে,,,শুধু ওদের দুজনের নিঃশ্বাসের আওয়াজ।

ওর শ্বাস প্রশ্বাস ভারী হয়ে আসছে। গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোচ্ছে না। একদিকে নিজের শরীর জায়ানের গায়ে লাগা,,, পুরো দেহটাই জায়ানের দখলে।। কেন সে এল এখানে? কেন জায়ানের এই আকস্মিক স্পর্শে পালিয়ে যাচ্ছে না,,,চিৎকার করছে না? রুমি কোনো রকম জায়ান এর কাঁধে ঠেলা দিয়ে বলে,,,

"জায়ান... আপনি... ছাড়ুন আমাকে... জায়ান... চোখ খুলুন,,,ছাড়ুন"

একটা ফিসফিসে কণ্ঠে কথাগুলো বললেও নিজের স্বরেই ভয় পেল রুমি। ওর আওয়াজ যেন জায়ানের বুকেই হারিয়ে গেল। কিন্তু ছেলেটা ছাড়েনি। বরং আরও জোরে আঁকড়ে ধরল। জায়ান ঘুম-ঘোরে রুমির গলায় ঠোঁট ঘষা দিয়ে বলল,,,

"প্লিজ...ভুল বুঝো না আমায়...রুমি,,,,দূরে ঠেলে দিও না.... আমি জানি আমি ভুল...."

কথা থেমে গেলো জায়ান এর বিড়বিড় করলো বটে কিন্তু শব্দ আর শোনা গেলো না।। রুমি গাল হা করে শ্বাস টানে। ও নাস্তানাবুদ হচ্ছে।। কেনো হচ্ছে এই গুলো!!

জায়ানের প্রতিটা শব্দ যেন তার সমস্ত রাগ, অভিমান, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এর দেয়াল ভেঙে দিচ্ছে। ভিতরে ভিতরে যে অনুভূতিগুলোকে সে চেপে রেখেছিল এতদিন, সেগুলো হু হু করে বেরিয়ে আসতে চাইছে।। যতই হোক সে রুমি,,, হ্যাঁ সেই রুমি যে এই ছেলেটাকে ছোটো থেকেই অনুভূতির শীর্ষে রেখে এসেছে।।

এই মানুষটার চোখের দিকে তাকালেই রুমি বুঝে যায়, যতই জায়ান রাগ করুক, গলা চড়িয়ে কথা বলুক, তার ভিতরে একটুকরো নিঃস্বতা লুকিয়ে আছে। একটা কষ্ট আছে যা শুধুই ভালোবাসা দ্বারা নিরাময় করা যায়।।

জায়ান এবার হাত উঁচিয়ে রুমির কাঁধে রেখে ওকে আরো টানতে চায় নিজের কাছে।। রুমি শুকনো ঢোক গিলে,,,,এটা ঠিক নয়। তাদের মধ্যে কিছু নেই।। এদিকে দরোজা লক নেই যে কেউ চলে আসতে পারে। তাদের যদি কেউ এভাবে দেখে নেয় তাহলে কেলেঙ্কারি বেঁধে যাবে।। রুমি নিজেকে সংযত করে,,,এত তাড়াতাড়ি সব ঠিক হওয়ার নয়।

রুমি এইবার চোয়াল শক্ত করে জায়ান এর কাঁধে সজোরে ধাক্কা দিয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বললো,,,

"জায়ান ছাড়ুন আমায়,,,কি হচ্ছে এই গুলো!! জায়ান গেট আপ,,,চোখ খুলুন,,,"

"ঘুমাতে দাও সানফ্লাওয়ার"

"আমি সানফ্লাওয়ার হলে আপনি সূর্য,,, নিজে পুড়ছেন আর আমাকেও পড়াচ্ছেন।। আল্লাহ,,,কেন এলাম আমি এখানে! জায়ান চোখ খুলুন,,, তাকিয়ে দেখুন আপনি কি করছেন,,,"

"ঠান্ডা লাগে সূর্যমুখী,, যেও না প্লিজ..."

"আহারে আদিখ্যেতা,,,চাদর নিন কিন্তু আমায় ছাড়ুন।।,যখন বিনা কারণে রাগ ঝাড়েন আমার উপর তখন! বিনা দোষে আমায় কষ্ট দেন!!

(রুমি কিছুটা থেমে নিজের উপর বিরক্ত হয়ে উফ বলে।)

আমি এই কি বলছি এই সব! কেনো আমি সব জায়গায় ফেঁসে যাই!! এই জায়ান এর বাচ্চা,,, ছাড় আমায়...."

রুমি কি বলবে কি করবে কিচ্ছু ভেবে পাচ্ছে না সব যেনো খিচুড়ি হয়ে যাচ্ছে।। এই একটা মানুষের সান্নিধ্য রুমিকে কখনোই খারাপ ফিল করায় না বরং একরাশ স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে ওর মাঝে।। এখন যেমন রুমি জায়ানের উপর রাগ করবে! নাকি ওকে দূরে সরাবে! নাকি নিজের সমস্ত অভিমান শব্দ আকারে পেশ করবে, কিছুই বুঝতে পারছে না।। তাও সে এত তাড়াতাড়ি গোলে যাওয়ার মেয়ে না।।

কিন্তু হঠাৎই জায়ান এমন এক কাজ করে বসে, যার অভিঘাতে রুমির সমস্ত সত্তা ঝিমঝিম করে ওঠে।। গভীর ভাবে এক ফুরফুরে শিহরণ জাগে পেটের মধ্যে। ছেলেটা নিজের শুষ্ক ঠোঁটের মাঝখানে নিয়ে আসে রুমির মোলায়েম গলার কোণের একটুখানি। দুই ঠোটের মাঝে চেপে ধরে সেই নরম চামড়া।। সেই ছোঁয়ায় ছিল না কোনো তাড়াহুড়ো, বরং ছিল এক নিঃশব্দ কথা, এক অপরাধী কোমলতা। রুমির নিঃশ্বাস আটকে যায়, মনে হয় যেন সে মুহূর্তেই মরে যাবে।

তৎক্ষণাৎ রুমির চোখ চিকচিক করে ওঠে।। জায়ান এর প্রশস্থ পিঠে খামচি দেয়,,,কোনো রকম ভাবে ওকে সরিয়ে দিতে পারলেই সে বাঁচে। অবশেষে সে জায়ান এর কানের কাছে বিরাট এর চিৎকার দেয়।। এইবার কাজ হয়।। জায়ান চমকে, ধড়ফড় করে উঠে বসে।। রুমি যেনো হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো,,, ও ওঠে বসে হাঁফাতে লাগলো।।

এদিকে জায়ান রুমিকে দেখেই বিস্ময়ে বিমূঢ়।। নিজের দিকে তাকিয়ে ফট করে চাদর টেনে শরীর ঢেকে বললো,,,

"তুমি...তুমি এখানে কি করছো!! একটা ইয়াং, তাগড়া যুবকের রুমে আসতে তোমার লজ্জা করে না!!"

রাগে রুমির মুখ লাল হতে থাকে। ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলে রাগে গজগজ করতে করতে জায়ান এর দিকে বলিস ছুঁড়ে দিয়ে বলে,,,

"মেরে গলা ঘুরিয়ে দেবো একদম ফালতু লোক...

আমি মরে যাচ্ছি না আপনার রুমে আসার জন্য,,,এখন অভিনয় হচ্ছে আবার।। নেহাত আন্টি রিকোয়েস্ট করল আপনাকে ডাকার জন্য তাই এসেছি কিন্তু আমি কি জানতাম যে আপনি একটা ফাজিল! লুচ্চা!

মাথায় শুধু ফ্যান্টাসি ঘোরে, তাই না?

লজ্জা তো নাই,বেহায়া লোক।। এখন উল্টো আমার উপরই দোষ চাপাচ্ছেন!"

জায়ান তখনো চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে। রুমির তেজে সে যেন হালকা চুপসে যায়। তাও ঠোঁটের কোণে চিলতে হাসি যাহ রাগিণী রুমির চোখের আড়ালে।। ছেলেটা কেমন মিনমিন করে বলে,,,

"আমি কি করেছি?"

রুমি থেমে আবার গর্জে ওঠে। বিছানা থেকে নামতে নামতে বলে,,,

"আপনার নাম হওয়া উচিত জায়ান লুচ্চা খান!

যদি আপনি আমায় না ছাড়তেন তাহলে আমি আপনাকে গলা টিপেই শেষ করে দিতাম?"

"তুমি জেলে চলে যেতে। ফাঁ*সি হতো তোমার।।"

"সেটা ঢের ভালো।। আর হ্যাঁ,,,ঘুমানোর আগে আয়তুল কুরসি পড়ে ঘুমাবেন তাহলে ভুলভাল স্বপ্ন দেখবেন কম...ফালতু মিয়া কোথাকার,,,বিয়ের বয়সে বিয়ে না করলে এমনি হয়।"

"কিন্তু আমি করেছি টা কি?"

"আর একটা কথা বললে দাঁত ভেঙ্গে, ঠোঁট কেটে দেবো।"

ডেঞ্জারাস হুমকি দিয়ে রুমি বেরিয়ে গেলো শেষে ধরাম করে দরোজা বন্ধ করতে ভুললো না। এদিকে জায়ান শব্দ ছাড়া শরীর কাঁপিয়ে হাসছে।। রুমির এই "এই জায়ান এর বাচ্চা,,, ছাড় আমায়" উক্তিটার পরেই জায়ান পুরোপুরি চেতনায় ফিরে আসে কিন্তু তাও এই মেয়েটাকে সহজে ছেড়ে দেওয়ার কিংবা যেতে দেওয়ার কোন ইচ্ছাই জাগে না তার মাঝে।। তাই তো নিজেকে সামলে রাখতে না পেরে শেষে!!!

জায়ান কে মিটিয়ে ফেলার মত শক্তি আছে ওই মেয়েটার মাঝে... ওই মেয়েটার জন্য জায়ান সব পারে করতে কিন্তু এতদিন মেয়েটার প্রতি করে আসা অবিচার জায়ানকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।। অনুতাপ,অপরাধবোধ ছেলেটার সত্তাকে নাড়িয়ে তুলছে।। কিভাবে সব ঠিক হবে! কিভাবে সব জটিলতা মুক্ত হবে!! কিন্তু যাই হয়ে যাক জায়ান হাল ছাড়বেনা সে নিজের চেষ্টায় অটল থাকবে।

-------------

এদিকে রুমিকে জায়ানের কামরা থেকে বেরিয়ে আসতে দেখে ফেলে আনোয়ারা বেগম,,,মনে মনেই বৃদ্ধা খুশি হন যাক সম্পর্ক তাহলে এগাচ্ছে।।

আসিফা চা ভর্তি ট্রে টেবিলের ওপর রেখে অন্য পাশে বসতে নিলেই আয়াজ ওর দিকে জ্বলন্ত চোখে তাকায়।। আসিফা কাউকে ভয় পায় না কিন্তু তাও এই মানুষটার চাহনি উপেক্ষা করতে পারল না সে চুপচাপ ওর পাশের বসে।। মানুষটা অনেকক্ষণ ধরেই তার সাথে এমনটা করছে।।

চায়ের কাপ সবার দিকে এগিয়ে দিতে নিলে কাপের একটুখানি গরম চা আসিফার হাতের ওপর এসে পড়লে মেয়েটা উফ করে ওঠে,, ঠিক তখনই অত্যধিক উদ্বিগ্ন হয়ে আয়াজ ওর হাতের উপর হাত রেখে সেই জায়গায় ফু দিতে থাকে।। ছেলেটা অতিশয় বিচলিত। আয়াজ এর অধীর,উতলা এই আচরণ সেরকম কেউ লক্ষ না করলেও জারিন, রাফাজ,রুমি আর দূরে থাকা আয়াজ এর মা আসমা সুলতানার দৃষ্টি এড়ালো না।।

আয়াজ এর অশান্ত আচরণ দেখে আসিফা শুকনো ঢোক গিলে ওর দিকে তাকিয়ে রইলো। রাফাজ জারিন এর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে আয়াজ এর উদ্দেশে সুর টেনে বললো,,,

"আমার ভাতিজা... একটুখানি চা পড়ে আসু মামনির অনেক কষ্ট হচ্ছে,, তাই না! তাহ কি অ্যাম্বুলেন্স ডাকব!!"

আয়াজ ফ্লোতে,ওর হাতে ফু দিতে দিতে বলে,,,"হ্যাঁ চাচু ডাকো!! (একটু থেমে) নাহ মানে ও ব্যাথা পেয়েছে তো ,,,মানে আর কি বলব,,,আসু আর ইউ ওকে!"

রুমি আর জারিন ও এক সাথে গালে হাত রেখে টেনে টেনে বলে,,,"হ্যাঁ আসুউউউ আর ইউ ওকে!?"

আসিফা এদিকে চিয়ারে মাথা নিচু করে বসে।। লজ্জায় ওর গাল লাল হয়ে এলো।। আয়াজ ও চায়ের কাপ নিয়ে উদাও।। কালকের ঘটনার পর মেয়েটার একটু আঁচড় ও সে সহ্য করতে পারবে না।। শুধু মাত্র আয়াজ জানে যে আসিফার নিখোঁজে সে কতটা ভেঙে পড়েছিল।।

রাফাজ জারিন এর কানের কাছে বলে,,,"বুঝতে পারছো কিছু!?"

"সেটা পারছি।। কিন্তু কিভাবে! এরা দুইজন টম এন্ড জেরি ছিল।"

"মিসেস,,, সব সম্পর্ক প্রথমে টম এন্ড জেরি হয় তারপরে কিন্তু রোমিও জুলিয়েট হয়।"

"হুমম তাহ ঠিক,,,আপনি জানতেন?"

"না জানতাম না,,,কিন্তু একদিন জেনে ফেলেছি।। তো কি ডিসাইড করলে!!"

"কি আবার! আমরা যেরকম মিলে গিয়েছি, সবাইকে সেরকম মিলিয়ে দেব ইনশা আল্লাহ,,,চিন্তা নেই,,,"

কথা শেষ করে জারিন চুপচাপ বসে থাকা রুমির দিকে তাকালো।।এই মেয়েটা তার জায়ুর প্রাণ কিন্তু তাদের জটিলতার কারণে এই সম্পর্ক তিক্ততায় পূর্ণ।। জারিন বোঝে দুইজনের চোখের ভাষা।।

এই সবের মাঝে আনোয়ারা বেগম রাজিয়া বেগম কে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠেন,,,"আপা অনুষ্ঠান যেহেতু হবে তাহলে জারিন এখানেই থাক,,,অনুষ্ঠান শেষে নিয়ে যাবেন,,, আপনাদের কি মতামত?"

প্রতিটা মানুষ আনোয়ারা বেগমের কথায় সহমত পোষণ করলে বেঁকে বসে রাফাজ।। সে সমস্ত লজ্জা,অস্বস্তি ভুলে বলে ওঠে....

"আমার মতামত হচ্ছে,,,১৩ বছর বউ দূরে ছিল কিছু বলিনি এখন ১৩ সেকেন্ডও দূরে থাকা যাবে না।। ও আজই আমার সাথে যাবে,,,আর কোনো কথা হবে না।।"

রাফাজ এর কথায় সবাই চুপ হয়ে যায়।। দুই বৃদ্ধা পড়ে লজ্জায়।। বড় বড় ভাইয়ারা রাফাজ এর কথায় কপাল ঘষে,,,ভাবিগুলো দূরে দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হেসে দেয়।। জারিন লাজে আচ্ছন্ন। সে রাফাজ এর পেটে কনুই দিয়ে গুতা দেয়। বেচারা ব্যথায় শব্দও করতে পরে না।। শুধুই জারিন এর দিকে ফিসফিস করে বলল,,,,

"এরা সবাই বাংলা সিনেমার ভিলেনের মতো কথা বলবে আর আমি একটু হিরো ও সাজতে পারব না?"

"চুপ করুন।"

জারিন এর মৃদু ধমকে চুপ হয়ে যায় রাফাজ।। আয়নাম সাহেব বলে,,,"ওরা বিবাহিত কিন্তু সেই বিয়েতে আমরা উপস্থিত ছিলাম না... আম্মা আপনি বললে আমি কাজী ডেকে আনি,, তাদের বিয়ে আবার হোক আমাদের সামনে। সাক্ষী আমরা দেব।"

সবাই সহমত জানায়।। আয়নাম সাহেব আর জুলফিকার সাহেব দুইজনেই বেরিয়ে গেলো।। এদিকে জিন্স টি শার্ট পরনে জায়ান সিঁড়ি দিয়ে দৃপ্ত পায়ে নামতে নামতেই গমগমে কণ্ঠে সালাম দিলো। সবাই ওর দিকে তাকিয়ে সালাম গ্রহণ করে।। জায়ান সোফায় বসে থাকা রুমির দিকে একবার তাকালো,,,চোখে চোখ মিলে গেলো তাদের।

একটি মুহূর্ত থেমে রইল যেন। নীরবতায় বোনা এক অনুভব। অজানা কিছু কথা চোখের দৃষ্টিতে খেলা করতে লাগলো।। রুমি আবারও চোখ নামিয়ে ফেললো।।

আসিফার মা জায়ান কে নাস্তা সার্ভ করলো।। ছেলেটা চুপচাপ খাচ্ছে।। জারিন উঠে ওর পাশে বসলো।। ছেলেটার সিক্ত চুল ছুঁয়ে বললো,,,

"আর ইউ ওকে! এত দেরি হলো যে আজ?"

জায়ান মৃদু হেসে বলল,,,"আম ফাইন ফুমা। রাতে দেরি করে ঘুমিয়েছি তাই,,,"

"কোনো বিষয়ে চিন্তিত?"

"নাহ,,,"

"আমি তোমায় জন্ম দেইনি ঠিকই কিন্তু আমিও তোমার মা... বুঝি আমি তোমায় জায়ু।। তোমার কোনো দোষ নেই,,,পরিস্থিতি মানুষকে দিয়ে এমন অনেক কিছু করিয়ে নেয় যা সে চায় না, তবুও করে ফেলে"

জারিনের কণ্ঠ কাঁপছিলো একটু। জায়ান চুপচাপ তাকিয়ে রইলো প্লেটের দিকে।

জারিন হাতটা ওর কাঁধে রাখলো, "তুমি আমার কাছে এখনও সেই ছোট্ট, আদুরে ছেলেটাই আছো।।"

জায়ান চোখ তুলে তাকালো। জারিন ওকে আশ্বাস করলো।। জায়ান এর ঠোঁটের কোণে একটা হালকা হাসি ফুটে উঠলো। তবুও তার চোখে এক অপার বিষণ্ণতা।

আরেকদিকে রুমি আড়চোখে তাকিয়ে ছিলো পুরোটা সময়। দেখছিল ফুফু ভাতিজার সুন্দর দৃশ্য।জারিনের কণ্ঠে যে মমতা, জায়ানের চোখে যে অব্যক্ত বেদনা,,,সবটাই সে অনুভব করতে পারছিলো দুর থেকে।

ঠিক তখনই জায়ান আবার একবার তাকালো রুমির দিকে। দুজনের চোখ ফের মিললো। এবার চোখ নামাল না কেউ।। এক নিঃশব্দ আত্মসংলাপ চলতে থাকলো তাদের মাঝখানে।

------

সময় গড়াতেই আয়নাম সাহেব আর মিস্টার জুলফিকার ফিরে আসলেন কাজি সাহেব কে সাথে নিয়ে।। সকলে প্রস্তুত।।

জারিন আর রাফাজ কে পাশাপাশি বসানো হলো।। বাড়ির সবাই একত্রে। চারপাশে নীরব উত্তেজনা। বিয়ে পড়ানো শুরু হলো। আসিফা ভিডিও করছে দাড়িয়ে ,,,চোখে আনন্দ। পাশে আয়াজ দাড়িয়ে,,,নিরব, স্থির।

রুমি দাড়িয়ে জারিন এর পিছনে,,,জায়ান সোফায় বসে চুপচাপ।। জারিন কবুল বলতে গিয়ে গলা কাঁপলো। তাও গলা টেনে কবুল বলতেই আসিফা এক্সসাইটেড হয়ে আয়াজের দিকে তাকিয়ে চোখ বড় বড় করে বলল,,,

"বলেছে… কবুল!"

আয়াজ একটু ঝুঁকে, গভীর চোখে তাকিয়ে আসিফার চোখে, ফিসফিসিয়ে বলল,,,

"আমিও… কবুল…"

ওদের চোখাচোখিতে সময় থেমে গেল।

কাজির কণ্ঠ তখনো বয়ে নিয়ে চলেছে বিয়ের বাক্য। কিন্তু আয়াজ আর আসিফার মধ্যে তখন অদৃশ্য অনুভূতির বাতাস।। আসিফা নার্ভাস হলো।

চোখ নামালো মেয়েটা।। এদিকে মোনাজাত শুরু হলো। সবাই হাত তুলে দোয়া চাইলো নতুন দম্পতির জন্য।।

অতঃপর শুরু হলো উপহার এর পালা।। আনোয়ারা বেগম মেয়ের জন্য রেখে দেওয়া সমস্ত গহনা জারিন এর সামনে রাখে।। রাফাজ এর জন্য ঘড়ি,আংটি সহ বোনের জন্য সোনার চুরি জুলফিকার সাহেব উপহার দেয়। আসিফার বাবা আমান সাহেব ও সোনার নূপুর পরিয়ে দিলেন জারিন কে।। মেয়েটা এইবার কেঁদে দেবে দেবে ভাব ঠিক এমন সময় জায়ান নিঃশব্দে একটা ছোট বক্স নিয়ে জারিন এর সামনে বসে।। জারিন ভ্রু কুঁচকে ইশারায় জিজ্ঞাসা করল কি আছে!? জায়ান কিছু না বলেই সেটা তার ফুমায়ের হাতে রাখলো

জারিন অবাক হয়ে বক্সটা নেয়। খুলতেই চোখ বড় হয়ে যায় তার।। ভিতরে একটা অনেক এক্সপেনসিভ কিন্তু দেখতে পুরোনো লাগছে,,,অত্যন্ত রুচিশীল একটা রিস্টওয়াচ। ডায়ালটা সাদা, চামড়ার স্ট্র্যাপটা ধূসর, আর ঘড়ির পেছনে খোদাই করা এক লাইন লেখা:

"you are an sunshine"

জারিন কিছুক্ষণ ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে থাকে। ওর চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে।। সে জায়ান এর চুলের মাঝে হাত বুলিয়ে বলে,,,

"থ্যাংক ইউ...You are the most amazing boy I have ever met."

"And I have never seen a more patient woman than you."

জায়ান উঠে চলে যায়।। দুপুরের খাওয়া দাওয়া ধীরে ধীরে শেষ হয়।। এবার শেখ পরিবার ফিরে যাবে সাথে যাবে জারিন।। জারিন নিজের কাপড়,আর কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস প্যাক করতে যাবে কি তখনই রাফাজ ওকে বাঁধা দিয়ে বলে,,,

"কিছু নেবে না জারিন,,,আমি সব নতুন কিনে দেবো।"

"কিন্তু,,,,"

"কোনো কিন্তু না,,,"

জারিন জিদ করে হলেও একটা সালোয়ার কামিজ নিজের ভ্যারিটি ব্যাগে পুড়ে নিলো।। এবার যাওয়ার পালা।। জারিন এর মন খারাপ করলো।। চোখের পানি বাঁধ মানে না।। এক দিকে নিজের ভালোবাসার মানুষকে এত বছর পর আপন করে পাওয়ার সুখ আর অন্যদিকে ছোট্টবেলা থেকে বেড়ে ওঠা এই পরিবার, এই ঘর ছেড়ে দেওয়ার দুঃখ।।

আসিফা ঠোঁট ফুলিয়ে আছে,,,সবাই দুই তোলা থেকে নিচে নেমে গেলে আসিফা ও পিছে পিছে যায়,,,ঠিক সেই সময় আয়াজ কোথা থেকে এসে ওর হাত টেনে সোজা ওর রুমেই নিয়ে যায়।

এদিকে মেয়েটা ভয়ে শেষ। চিৎকার দেওয়ার আগেই আয়াজ ওর ঠোঁটের ওপর আঙ্গুল রেখে বলে,,,,

"চুপ...."

আসিফা থেমে যায়। গোল গোল চোখে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে থাকে। নিজের দিকে তাকাতেই দেখে আয়াজ ওকে দুই হাতে চেপে ধরে আছে,,,তাদের মাঝে দূরত্ব নেই বললেই চলে।। মেয়েটা এইবার লজ্জা পেয়ে সরে আসতে নিলেই আয়াজ এক ভ্রু নাচিয়ে বলল,,,

"এখন সরে যাচ্ছ কেন!! কালকে তো ঠিকই আমার কোলে ছিলে,,,ইভেন বুকে মাথা রেখে জড়িয়ে ধরে ছিলে,,, তখন কোথায় ছিল এই লজ্জা!?"

আসিফা এইবার আরও বেশি অসস্থিতে পড়ে।। ওর পিঠের শিরদাঁড়া বেয়ে গড়িয়ে পড়ে শীতল স্রোত।। সজ্ঞানে মানুষটার এত কাছে সে এরকম কখনোই আসেনি।। আসিফা কিছুটা তুতলিয়ে বলে,,,

"কাল...কাল তো তখন আমি অজ্ঞান ছিলাম,,,"

আয়াজ মাথা নাড়িয়ে বলে,,,"এক্স্যাক্টলি,, কাল তুমি পুরোপুরি অজ্ঞান হওয়ার আগে আমাকে কি বলেছিলে? ওয়ান সেকেন্ড... হ্যাঁ মনে পড়েছে...উ'হিব্বুকা। এবার বলো এটার মানে কি?"

আসিফা এইবার থমথমে খেয়ে যায়।। হায়,,, সে কাকে প্রেম বিতরণ করেছে এই মানুষটা তো কিছু বুঝতেই পারিনি।। এবার আসিফা কি বলবে!! মেয়েটা এদিক ওদিক তাকিয়ে নিজেকে ধাতস্ত করে।। আয়াজ এর কৌতূহলী দৃষ্টি সে মোটেও এড়িয়ে যেতে পারছে না।। আসিফা আমতা আমতা করে বলল,,,

"মানে...মানে মান কচু।"

আয়াজ চোখ ছোটো ছোটো করে বললো,,,"কথা ঘোরাচ্ছ রাইট!! এই তুমি আবার আমায় গালাগালি দাও নি তো?"

আসিফা ত্বরিত মাথা নাড়িয়ে না বুঝিয়ে বলে,,,,"ইসস ছিঃ ছিঃ,,,মোটেও না।। ওটার মানে অন্য,,,,"

"মানে টা কি,,,!!"

"মানে হলো,,, ও হ্যাঁ এটার মানে হলো ধন্যবাদ।। আরে কাল আপনি আমায় বাঁচিয়েছিলেন না!;তাই ধন্যবাদ দিয়েছিলাম।"

কথাটি বলে আসিফা হাঁফ ছেড়ে বাঁচে।। এদিকে আয়াজ ছোটো ছোটো দৃষ্টি ফেলে ওর দিকে তাকিয়ে রইলো। আসিফার কথা তার বিশ্বাস হয়েছে বলে মনে হয় না।। মেয়েটা নার্ভাসনেস কাটাতে এইবার ঠোঁট কামড়াচ্ছে তাহ দেখে আয়াজ মৃদু ধমকে বলে,,,

"ঠোঁট কামড়াচ্ছ কেনো?"

আসিফা ফট করে ওর দিকে তাকিয়ে রইল তত্পর কিছু মনে করে মিনমিন সুরে বললো,,,"আজ সকাল থেকেই আপনি আমার সাথে একটু অন্যরকম ব্যবহার করছেন!?"

"কেমন?"

"কেমন একটা!! প্রেমিক দের মত,,,নাহ মানে লাভিডাভি একটা ভাব।।"

"কেন! আমার এই আচরণ তোমার ভালো লাগছে না!?"

আসিফা এইবার কেঁপে ওঠে।। ফ্লোরে দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বললো,,,

"কেন করছেন এরকম সেটা আগে বলুন?"

আয়াজ ওর মুখের দিকে আরো ঝুঁকে গিয়ে বলল,,,"ভালো লাগছিল কিনা সেটা আগে বল?"

"যদি বলি লাগছিল না?"

"তাহলে শুনে রাখ,,, তোমার ভালো লাগুক আর না লাগুক আমার আচরণ তো এরকমই থাকবে।। ইভেন এর থেকে আরও বেশি,, কি বললে তুমি তখন! লাভিডাভি... হ্যাঁ লাভিডাভি হবে।। ডু ইউ হ্যাভ এনি প্রবলেম?"

"ইয়েস আই হ্যাভ... কারন আপনি আমাকে আপনার থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন,,, আমি দূরেই ছিলাম আপনি কেন এখন এরকম করছেন,,??"

"কারণ তুমি দূরে থাকলেও আমি আর দূরে থাকতে পারছি না।। এই চঞ্চলা, হৃষ্টপাখির ফাঁদে পড়েছি আমি।। তুমি ফাঁদে ফেলেছো আমায়,,,এখন পালিয়ে যেতে চাইলে তো হবে না,,,কারণ তুমি এই গম্ভীর, সিরিয়াস আর অলওয়েজ কর্মব্যস্ত থাকা পুরুষটিকে ফাঁসিয়ে ফেলেছ।। এটার শাস্তি হিসাবে আমি তোমাকে নিজের করে রাখতে চাই....মাধবীলতা।।"

কথা গুলি শেষ করেই আয়াজ প্রথমবারের মতো নিজের শুকনো ঠোঁট ছোঁয়ালো মেয়েরা মাথার কিনারে এদিকে আসিফা স্তব্ধ। আসিফা চুপ। কিছু বলার ভাষা নেই ওর। মাথার ডান পাশে আয়াজের সেই হালকা স্পর্শ যেন অদ্ভুতভাবে হৃদয়ের সব লজ্জা, অভিমান মুছে দিতে লাগল।

মেয়েটা চোখ বন্ধ করলো এক মুহূর্তের জন্য। নিঃশব্দে অনুভব করলো তার বুকের ভেতর কেমন যেন এক অচেনা আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

আয়াজ ধীরে ধীরে মুখটা ওর কান ঘেঁষে এনে খুব নিচু গলায় বলল,,,

"তোমার আমার এই সমস্ত আচরণ ভালো লাগুক আর না লাগ ুক আমি তো এরকমই করব। বরং এর থেকে বেশী কিছু.... থামাতে পারলে থামাও আমায় কিন্তু বাজি রাখছি তুমি পারবে না আর আমি মানবো না।। আর কিছুদিনের দেরি,,তারপর আমি তোমাকে পার্মানেন্টলি নিয়ে যাব,,,প্রমিজ।"

আয়াজ এর আঙ্গুল ওর গাল ছুঁয়ে চলে যায়।। আসিফা দাড়িয়ে রইলো একই ভাবে।। সব কিছু যেনো স্বপ্ন লাগছে।।

-------------

শেখ বাড়ির সবাই খান বাড়ি থেকে বেরিয়ে ঘুরোঘুরি করলো।। এটা পুরোটাই জারিন এর মন ভালো করে দেওয়ার জন্য।। মেয়েটা নিঃশব্দে কান্না করতে করতে বেরিয়েছিল খান বাড়ি থেকে।। অতঃপর অনেক কেনাকাটা এবং রাতের ডিনারের পর সবাই ফিরে আসলো।।

জারিন প্রায় 13 টা বছর বা তারও অধিক সময় পর এই বাড়িতে পা রাখল জারিন এর মনে আছে। সে শেষবার এই বাড়িতে এসেছিল যখন সে রাফেজকে নিউইয়র্ক যাওয়ার জন্য আটকাতে এসেছিল কিন্তু তারপরেই তো সব থমকে গেল পেরিয়ে গেল এক যুগ কিংবা তারও বেশি।

জারিন কে নিয়ে রাফাজ নিজের রুমে এলো।। এখন আর এই কামরা রাফাজ এর একার নয়, এই কক্ষের অর্ধেক ভাগ জারিনের। যে ভাগ দেওয়ার জন্য রাফাজ অপেক্ষা করেছে।।

এদিকে রুমে প্রবেশ করে জারিন চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো। ও খুবই সূক্ষ্ম নজরে পরখ করতে লাগলো রুমটা।। ধীরে ধীরে ওর চোখ দুটো ভিজে উঠলো।।

এই কক্ষটা ঠিক সেই ভাবে ডিজাইন করা যেভাবে জারিন চেয়েছিল একটা সময়।। আবদার করে নানান কথা বলেছিল। রুমের কোন জায়গাটা কেমন হবে, কোথায় তারা দুইজন বসে রাতে গল্প করবে,,,,,সবটা একদম সেই ভাবেই করা।। রাফাজ চুপ করে দাঁড়িয়ে।। জারিন ঠোঁট ভেঙ্গে কেঁদে উঠলো,,, ছুটে গিয়ে রাফাজ এর গলা জড়িয়ে ধরে বলল,,,,

"পৃথিবীর সমস্ত প্রেমিকেরা আপনার কাছে তুচ্ছ।।"

রাফাজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরল নিজের সাথে।। এই কক্ষের প্রতিটা আসবাবপত্র যেন তাদের স্বাগতম জানালো। এই নারীটার অপেক্ষায় ছিল তারাও অনেক বছর ধরে।।

https://www.facebook.com/share/p/1ANyAd1zCR/

#জটিল_প্রেম সমস্ত পর্বের লিংক একসাথে

ক্রমশ

----------------(4600 শব্দের লেখা এবার দেখি কে কেমন কমেন্ট করে।। আমার লেখা এত বড় পর্বের পরিবর্তে আমিও বড় এবং গঠন মূলক কমেন্ট চাই। আর প্লিজ এক একজন পাঁচ কোরে মন্তব্য করো পেজের জন্য এবং গল্পের জন্য এটা জরুরি।।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন