#সাইকো_টাইম ( পর্ব-০৮)
লেখক- #রিয়াজ_রাজ
--------------------------
আন্দোলন, মিছিল হতে হতে বিকেল ঘনিয়ে আসে। রিয়াজকে আদালতে তোলা হয়। ভিতরে রিয়াজের পক্ষে কোনো সাক্ষী না থাকায়,জজ রায়ও শুনিয়ে দেয়। আর টিভিতে নতুন নিউজ শুরু হয়ে যায়," প্রমাণ অনুসারে সাইকো রিয়াজকে আদালত ফাঁসির রায় শুনিয়ে দিয়েছে"।
রিয়াজের ফাঁসির খবর ছড়িয়ে যায় চারদিকে। সারা দেশে উৎসব চলছে। সাইকো খুনি ধরা খেয়েছে। রিয়াজের বাসা থেকে কেও বের হতে পারেনা। বাড়ির বাহির দিয়ে যে'ই যাচ্ছে সে রিয়াজদের বাড়িতে একটা একটা পাথর ছুড়ে দিচ্ছে। বাড়ির ভিতরে রিয়াজের বাবা এ নিয়ে বেশি ক্ষিপ্ত। ভিতরে তাদের কথোপকথন। রিয়াজের বাবা রিয়াজের মা'কে বলছে," দেখ তুই দেখ। এতিমখানা থেকে তুলে এনেছিলাম তাকে। আল্লাহ আমাকে দিয়ে কেনো করালো এই পাপ। নিজের ছেলের মতো বড় করেছি আমি তাকে। অথচ আজ তার জন্য মুখে চুনকালি পড়ছে আমাদের"। রিয়াজের মা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। অন্যদিকে বাড়ির এক কোনায় মায়া গুজে বসে আছে। মেয়েটির চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে যায়। নিজের স্বামীর ফাঁসি কাল। এই সময়ে একটা স্ত্রীর মনোভাব কেমন হওয়ার কথা,সেটা হয়তো ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। ছোট্ট মেয়ে রিমা এখনো বুঝেও না সবাই কেন নিশ্চুপ। সে শুধু তার বাবার জন্য কান্না করছে। কিন্তু এইটা জানেনা,আগামীকাল তার বাবার ফাঁসি। এরপর আর কোনোদিন তাকে দেখতে পাওয়া যাবেনা।
এদিকে সুফিয়ান মেইন রোড দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে। যেতে যেতে রাস্তার পাশে একটা চায়ের দোকানের সামনে গাড়ি থামায়। এরপর গাড়ি থেকে নেমে দোকানের সামনে গিয়ে বলে," মামা,একটা সিগারেট দেন"। দোকানদার সুফিয়ানকে দেখে বলে," স্যার, আপনিই তো সেই সাইকোরে ধরছেন তাই না? আপনি মহান স্যার।আপনার জন্য এখন আমার মেয়ে নিশ্চিন্তে স্কুলে যেতে পারে"। সুফিয়ান কিছুই না বলে সিগারেট হাতে নেয়। এরপর সিগারেট ধরিয়ে একটা চা দেওয়ার জন্যেও বলে। দোকানি সুফিয়ানের কথামতো একটা চা'ও রেডি করে দেয়। সুফিয়ান চায়ে চুমুক দিয়ে সিগারেট মুখে নিয়ে ভাবে," রিয়াজও ঠিক এইভাবে চা সিগারেট খেতো"। কথাটা ভাবতে ভাবতে সুফিয়ানের মনে পড়ে যায় ভার্সিটির একটা ঘটনা। যখন সুফিয়ান ছিলো একদম একটা হাবলা টাইপের ছেলে। নাজমুল আর রিয়াজ সেদিন ভার্সিটির গেটে বসে সিগারেট টানছিলো। হাতে ছিলো এক কাপ চা।রিয়াজদের সাথে তখন সুফিয়ানের পরিচয় হয়নি। সুফিয়ান কলেজ গেটে প্রবেশ করতে যাবে,তখনি একটা মেয়ের সাথে সুফিয়ান ধাক্কা খায়। আর মেয়েটাকে সরি বলে চলে যেতে চাচ্ছিলো। কিন্তু ঘটনা সেখানে থেমে যায়নি। সাথে সাথে মেয়েটির বয়ফ্রেন্ড আকাশ এসে সুফিয়ানের কলার ধরে গালে ৩ টা থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। ঘটনা তখনো থেমে থাকেনি। এরপর সেই প্রেমিক তার প্রেমিকাকে বলে জুতা দিয়ে আঘাত করার জন্য। সুফিয়ান লজ্জায় কান্না করে দিচ্ছিলো। আর এসব দেখে রিয়াজ এবং নাজমুল সেখানে আসে। রিয়াজ সেই প্রেমিক ভাইকে বলে বসে,"আকাশ ভাই, উনি সরি বলেছেন তো। ছেড়ে দিন না"। রিয়াজের কথা শুনেই সেই প্রেমিক পুরুষের মাথায় আগুন ধরে যায়। সে সুফিয়ানকে ছেড়ে রিয়াজের কলার ধরতেই,রিয়াজ হাতে থাকা গরম চা প্রেমিক পুরুষের মুখে মেরে দেয়। যন্ত্রণায় আকাশ হাউমাউ শুরু করতেই, রিয়াজ তার হাতে থাকা জ্বলন্ত সিগারেট আকাশের মুখে ঢুকিয়ে দেয়। আকাশের জিব্বা প্রায় পুড়েই যাচ্ছে। এসব দেখে আকাশের প্রেমিকা মার খাওয়ার ভয়ে দৌড়ে পালায়। রিয়াজ আকাশকে স্থীর করে বলে," দেখ তোর লায়লী ভেগে গেলো।"। কিন্তু এতে আকাশের শিক্ষা হয়নি। সে রিয়াজকেই দোষি বানিয়ে মারতে আসছিলো। সেই মুহুর্তে রিয়াজ আকাশের নাকে একটা ঘুষি মেরে দেয়।
আকাশ ৩৭ ঘন্টা হসপিটাল ছিলো।
ঘটনা মনে পড়তেই সুফিয়ানের মুখে এক জিলকি হাসি ফুটে উঠে। রিয়াজের সেই সাহসীকতা দেখে সুফিয়ান মুগ্ধ হয়েছিলো। আর সেই ভার্সিটি থেকেই তাদের বন্ধুত্ব। আজ রাস্তার পাশে সুফিয়ান দাডিয়ে আছে। মুখে সিগারেটও আছে,আর হাতে চা। শুধু নেই রিয়াজ। সুফিয়ানের চোখের কোনায় টপটপ করে কয়েক ফোটা পানি ঝরে।
এদিকে মায়া বিছানায় শুয়ে শুয়ে কান্না করছে। মায়ার হাতে রিয়াজ এবং মায়ার একটা কাপল ছবি। বিয়ের দিন তুলেছিলো। ছবিটা বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় কাতরাতে থাকে মায়া। ঠিক তখনি পেছন থেকে কেও হুট করে মায়ার মাথায় লোহা দিয়ে আঘাত করে বসে।
সিন বদলে যায়। চারপাশ অন্ধকার।
টন টন টন টন টন
হুম। এইভাবেই টন টন করছে মায়ার মাথা। মায়া কোনোভাবে চোখ খোলে। হাত নাড়াতে গিয়ে দেখে, একটা লোহার শিকল দিয়ে মায়ার হাত বেধে রাখা হয়েছে। মায়ার ঝাপসা চোখ ধীরে ধীরে ক্লিয়ার হয়। মায়া দেখে, একটা বন্ধ ঘরে চেয়ারে সে বসে আছে। হাত পা চেয়ারের সাথে শিকল দিয়ে বেধে রাখা। কথা বলতে পারছেনা কারণ মুখ একটা রবারের ফিতা দিয়ে বেধে রাখা হয়েছে। মায়া চটপট করতে শুরু করে। আর তখনি বন্ধ রুমের দরজার ওপাশ থেকে কিছুর আওয়াজ শুনতে পায় মায়া। আওয়াজটা কোনো লোহার ঘষামাজার শব্দ। মায়া কান পেতে আওয়াজটা শুনতে চাচ্ছে, ঠিক সেই মুহুর্তে একটা মেয়ের চিৎকার ভেসে আসে ঐ রুম থেকে। মায়া চিৎকার শুনেই ভয় পেতে শুরু করে। পাশের রুমে যেনো কোনো মেয়ে গলা ফাটিয়ে চিল্লাচ্ছে। এক একটা চিৎকার এতোই কষ্টের যে মায়ার বুকের ধুকপুকানি বেড়ে যাচ্ছিলো। মায়া বুঝে যায় সে এখন কোথায়। মায়া ঐ মেয়ের চিৎকার শুনে নিজেই ভয়ে চিৎকার দিয়ে চাচ্ছে। কিন্তু মুখে রবার জাতীয় একটা ফিতার বাধন থাকায় হচ্ছেনা তা। ঐ পাশে মেয়েটার চিৎকার আর এই পাশে মায়ার চটপট যেনো পরিবেশকে আতঙ্কিত করে তুললো। আর এর মাঝেই হুট করে মেয়েটির চিৎকার বন্ধ হয়ে যায়।
মায়া নিশ্চুপ। ওপাশ থেকে আর কোনো শব্দ আসছেনা। মায়ার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। ঘামে কপাল ভিজে একাকার। পুরো রুম স্তব্ধ। মায়ার নাক দিয়ে যে নিশ্বাস বের হচ্ছে,শুধু ওই নিশ্বাসের শব্দ পুরো রুমে ছুটাছুটি করছে। কিন্তু এই নিরবতা বেশিক্ষণ টিকেনি। মায়া খেয়াল করে,কেও দরজা খুলে মায়ার রুমে ঢুকছে। মায়া দরজার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে। আর দেখে,হেলমেট পরিহিত একটা লোক রুমে ঢুকে দরজা আটকে দেয়। তার হাতে একটা বক্স। এবং তার গায়ে কালো জ্যাকেট। ভয়ের বিষয় হচ্ছে পুরো জ্যাকেট রক্তে লাল হয়ে আছে।
মায়ার মাথার উপর একটা লাইট নিমনিম করছে। ভয়ে মায়াও গলা ফাটিয়ে চিৎকার দিতে চাচ্ছে। কিন্তু সেটি তার দ্বারা হচ্ছিলো না। লোকটা এসে সোজা মায়ার সামনে বক্সটা রাখে। এরপর বক্স খুলে বক্স থেকে একটা খুর ( সেলুন দোকানে দাড়ি কাটার জন্য যে খুর ব্যাবহার হয়,তা) বের করে। মায়া ভেবে নেয়,এ বুঝি খুর দিয়ে তার গলা কেটে দেওয়া হবে। কিন্তু লোকটা খুর হাতে নিয়ে মায়ার পিছনে যায়। এরপর মায়ার মাথার চুল সব কাটতে শুরু করে। মায়া জোরে জোরে চিৎকার দিয়ে চাচ্ছে। কিন্তু রবারের সেই ফিতার জন্য আওয়াজ বের হচ্ছিলো না। দুই টান দিয়ে সাইকো আবার মায়ার সামনে আসে। এরপর বক্স থেকে একটা ক্যামেরার স্টান এবং ক্যামেরা বের করে। আর ফিটিং করে দেয় মায়ার দিকে। মায়া বুঝে যায়,সাইকো মায়ার সাথে যা যা করবে,তা ভিডিও করতে চাচ্ছে। মায়া চিল্লানোর বহু চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু হচ্ছিলো না। কারণ মুখে রবারের ফিতা লাগানো।
এদিকে সাইকো ক্যামেরা ফিটিং করে মায়ার পিছনে আবার আসে। আর চুল আবার কাটতে শুরু করে। মায়া নাড়াচাড়া করায়,খুরের কয়েকটা দাগ মায়ার মাথায় লেগে যায়। যার কারণে কিছু অংশ কাটাও গেছে। সেই কাটা অংশ দিয়ে রক্ত বের হয়ে,ঝরছে মায়ার কপালে। সাইকো এক এক করে মায়ার মাথার সব চুল ফেলে দেয়। মায়ার কাতরানি আর চটপট করা যেনো থামছেই না।
সাইকো এরপর আবার বক্সের কাছে আসে। সে বক্স থেকে একটা কেচি এনে,সাদিয়ার মতো মায়ার সারা শরীর থেকে জামাকাপড় কেটে খুলে নেয়। সম্পূর্ণ উলঙ্গ মায়া চেয়ারে বসে আছে।মায়ার কাতরানি আর চটপট করা যেনো থামছেই না।
সাইকো মায়ার জামা কাটার পর বক্স থেকে একটা কুড়াল বের করে। মায়া কুড়াল দেখে আরো বেশি চটপট করতে লাগলো। সাইকো মায়ার ডান হাত ধরে শক্তভাবে। এরপর কুড়ালের এক কোপে মায়ার হাতের ৫ টি আঙ্গুল পড়ে যায়। মায়া যন্ত্রণায় চিল্লাচ্ছে,মন খুলে চিল্লাতে চাচ্ছে। কিন্তু পারছে না। এরপর সাইকো মায়ার বাম হাতের কাছে এসে দাঁড়ায়। আর এবারো এক কোপে বাম হাতের সব আঙ্গুল ফেলে দেয়। মায়ার কাতরানি আর চটপট করা যেনো থামছেই না।
এরপর সাইকো বক্সে কুড়াল রেখে একটা ছুরি বের করে। মায়া ছুরি দেখে, আর হাতের যন্ত্রণায় বুক ফাটিয়ে চিল্লাতে চাচ্ছে। কিন্তু সে পারছেনা।
এরপর সাইকো ছুরিতে কিছু একটা লাগাচ্ছিলো। গন্ধ মায়ার নাকে আসছে। স্পষ্ট এইটা এসিড। মায়ার কাতরানি আর চটপট করা যেনো থামছেই না।
এদিকে সাইকো এসিড মিশ্রণ ছুরি নিয়ে মায়ার সামনে আসে।পরে মায়ার কাধে সাইকো একটা হাত রাখে। এবং অন্য হাতে ছুরি নিয়ে,মায়ার যৌনিপথে ঘ্যাচাং ঘ্যাচাং ঘ্যাচাং করে আঘাত করতে শুরু করে। মায়ার রুহ বের হয়ে যাচ্ছিলো। এবারের চিৎকারে মুখের রবার মায়ার মুখ থেকেই সরে যায়। আর মুখ থেকে রবারের ফিতা সরায়,মায়ার চিৎকার এতো জোরেই শুনা যাচ্ছিলো যে। যেকোনো সুস্থ মানুষ এই চিৎকার শুনলে হার্ট অ্যাটাক করতো। মায়ার কাতরানি আর চটপট করা যেনো থামছেই না।
ঝাপসা চোখ।মায়া ধীরে ধীরে চোখ খোলে। বুঝতে পারে চিল্লাতে চিল্লাতে মায়ার জ্ঞান হারিয়েছিলো। চোখ খুলেই দেখে,সাইকো সামনে ছুরি নিয়েই দাঁড়িয়ে আছে। সাইকোকে দেখে আবার মায়া চিৎকার দেওয়া শুরু করে। সাইকো ঠান্ডা মাথায় আবার মায়ার সামনে আসে। এরপর মায়ার বুকের স্তন এক হাতে ধরে,অন্য হাত দিয়ে কাটতে শুরু করে। মায়া এক একটা চিৎকার দিচ্ছে যে,তার গলা ভেঙ্গে আওয়াজও বের হচ্ছিলো না। সাইকো ঠান্ডা মাথায় মায়ার বুকের একটা স্তন কেটে ফেলে দেয়। সামনেই ক্যামেরা। ক্যামেরাতে মায়ার উলঙ্গ দেহ,টাকলা মাথা থেকে ঝরা রক্ত,যৌনি পথ বেয়ে ঝরা রক্ত,স্তন কাটা দেহ ভিডিও আকারে ধারণ হচ্ছে। মায়ার কাতরানি আর চটপট করা যেনো থামছেই না।
মায়া এইবার জোরে একটা চিৎকার দিয়ে বলে," হে উপর ওয়ালা, তুমি আমাকে মেরে কেন ফেলছো না। আমি আর সহ্য করতে পারছি না"। বলেই মায়া চিল্লাতে থাকে। চিল্লানোর মাঝে মায়ার চোখ হটাৎ রুমের কোনায় যায়। আর দেখে, মায়ার মেয়ে রিমাকে সাইকো রুমের কোনায় বেধে ফেলে রেখেছে।
এদিকে সাইকো এইবার সেই ছুরি দিয়ে জীবন্ত মায়ার পেট কাটতে শুরু করে। মায়া যন্ত্রণায় চিল্লাচ্ছে। কিন্তু সাইকো ঠান্ডা মাথায় মায়ার পেট কেটে কেটে নাড়িভুড়ি বের করতে শুরু করে। মায়ার কাতরানি আর চটপট করা বন্ধ হয়ে গেলো।
চলবে............