ফন্ট সাইজ:
থিম:
সাইকো টাইম

১৯তম পর্ব

লেখক: রিয়াজ রাজ

#সাইকো_টাইম ( পর্ব-১৯)

লেখক- #রিয়াজ_রাজ

------------------------

রিয়াজ সহ সবাই অবাক হয়ে সাইকোর দিকে তাকিয়ে আছে। এদিকে সিনিয়র অফিসার তার কালো বাইক,কালো জ্যাকেট আর হেলমেট দোকানে ঢুকিয়ে ফেলে। আর ঐ পোষাকের ভিতর নরমাল জামাকাপড় শো করে, এবং তার ডিপার্টমেন্টের বাইকটা বাহিরে নিয়ে আসে। যখনি আবার সাডার আটকাতে যাবে,সেই মুহুর্তে রিয়াজ জয়েন কলে চিৎকার মেরে বলে," এট্যাক...."।

রিয়াজের অনুমতি পেয়ে চারপাশের পায়ের, বিকট শব্দগুলো যেনো সিনিয়র অফিসার ওরফে সাইকোর দিকে ছুটে আসতে থাকে।হুট করে পুলিশের উপস্থিতি দেখে সিনিয়র অফিসার তার ডিপার্টমেন্টের বাইকটা ফেলে, দৌড় লাগায়। এদিকে পুরো বাজার ঘিরে রিয়াজের টিম থাকায়, সিনিয়র অফিসারের সামনে দুইজন পুলিশ পিস্তল টার্গেট করে ধরে। সিনিয়র অফিসার তাদের দেখেই, কোমর থেকে একটা হাতুড়ি বের করে। যা দেখে সামনের দুইজন পুলিশ অফিসার ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু শুট করতে পারেনা। আর যাইহোক, উনি তাদেরি সিনিয়র অফিসার। এদিকে সিনিয়র অফিসার ওরফে সাইকো হাতুড়ি উপরে তুলে দুই পুলিশকে এট্যাক করতেই যাবে। তখনি বউ বাজার কাপিয়ে একটা পিস্তলের শব্দ ছড়িয়ে যায়। এতে কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে থাকা নাইট গার্ড ঘুম থেকে এক লাফ মেরে উঠে বলে," কে,, কে,,, কে,,,,"।।

চেয়ারের সাথে হাত পা বেধে বসিয়ে রাখা হয় সিনিয়র অফিসারকে। সামনে দাঁড়িয়ে আছে রিয়াজ আর সুফিয়ান।তারা সবাই এখন,সুফিয়ানের বাড়িতে। সিনিয়র অফিসারের পা থেকে টপটপ করে রক্ত ঝরছে। যেটা দুই পুলিশ অফিসারকে বাচানোর জন্য,রিয়াজ সিনিয়র অফিসারের পায়ে গুলি করেছিলো। সিনিয়র অফিসার ব্যাথায় কাতরাতে থাকে। রিয়াজ সিনিয়র অফিসারের উদ্দেশ্যে বলে," বল,কেন করেছিস এতো মেয়েকে খুন"। সিনিয়র অফিসার মাথা তুলে রিয়াজের উদ্দেশ্যে বলে," আমাকে ছাড় বলছি। নয়তো তোর পরিবারের যারা যারা বেচে আছে,তাদের কেও বাচবে না। তুইও না"। রিয়াজ কথাটা শুনেই আবার সিনিয়র অফিসারের পায়ে আরেকটা গুলি করে। সিনিয়র অফিসার ব্যাথায় আবার চিৎকার দিলে,রিয়াজ পিস্তলের মাথা সোজা সিনিয়র অফিসারের মুখে গুজে দেয়। এরপর ধমক দিয়ে বলে," তুই কেমন সাইকো রে। সাইকো রা তো নিজের পরিবারকে ভালোবাসে। আর তুই নিজের মেয়েকে কিভাবে এতো নিকৃষ্টভাবে হত্যা করলি। তোকে তো মন চাচ্ছে এই মুহুর্তেই মেরে ফেলি"। কথাগুলো শুনে সাইকো হাসতে শুরু করে। মুখে পিস্তলের মাথা ঢুকানো তাই,গোংরানি হাসির শব্দ বের হচ্ছে। রিয়াজ এইবার ধৈর্য হারা হয়ে সিনিয়র অফিসারের থেকে নেওয়া হাতুড়িটা হাতে নেয়। আর ধাপ ধাপ করে সিনিয়র অফিসারের হাটুতে ৩-৪ টা আঘাত করে। হাতুড়ির আঘাতে সিনিয়র অফিসার চিৎকার মেরে উঠার সঙ্গে সঙ্গে রিয়াজ বলে," সব তথ্য দিবি নাকি আরো আঘাত খাবি"। এদিকে সাইকো যন্ত্রণার মাঝেও জোর পূর্বক হেসেই যাচ্ছে। এইসব কান্ড দেখে সুফিয়ান এইবার রেগেমেগে রিয়াজের হাত থেকে পিস্তল কেড়ে নেয়। আর সোজা সিনিয়র অফিসারের কপাল বরাবর ধরতেই,রিয়াজ সুফিয়ানকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয়। সুফিয়ান উল্টো রিয়াজকে ধমক দিয়ে বলে," এইটার বেচে থাকার কোনো মানেই নেই। আমার জান্নাতের খুনিকে আমি নিজের হাতেই মারবো"। রিয়াজ সুফিয়ানকে শান্ত করে উত্তর দেয়," দেখ সুফিয়ান। ওয় চায় আমরা তাকে মেরে ফেলি। যাতে তার থেকে কোনো ইনফরমেশন না পাই। তাই আমাদের ইনফরমেশন বের করতে হলে,সিনিয়র অফিসারকে বাচিয়ে রাখতে হবে"। রিয়াজ এবং সুফিয়ানের কথোপকথন শুনে সিনিয়র অফিসার যন্ত্রণা মিশ্রিত কন্ঠে হেসে উত্তর দেয়," আমাকে মেরে ফেললেও কোনো ইনফরমেশন দিবো না আমি। তোদের যা মন চায় কর"। রিয়াজ সিনিয়র অফিসারের কথাগুলো শুনে শান্ত মাথায় তার সামনে দাঁড়িয়ে বলে,

- আপনি হয়তো জানেন না,আপনার মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে আমরা কতটা আফসোস করেছি ( এই অব্দি শুনে হটাৎ সিনিয়র অফিসারের মুখের নকশা বদলে যায়। যেনো উনি ভিতরে ভিতরে কষ্ট পাচ্ছে।এতেই রিয়াজ বুদ্ধি খাটিয়ে আবার শান্ত গলায় বলতে শুরু করে) আমি জানি আপনি আপনার মেয়েকে খুন করেন নি। আপনার ফেসবুক আইডিতে আমি দেখেছি,আপনার মেয়েকে নিয়ে আপনি কতটা খুশি ছিলেন। আপনার মেয়ের আইডি ভিজিট করে আমি বুঝেছি,আপনার মেয়ে আপনাকে কতটা ভালোবাসে। আপনার মেয়ে যখন যা চাইতো,নিমিষেই আপনি তা পায়ের কাছে এনে দিতেন। আপনার মেয়ের মৃত্যুর দিন আপনার চোখে আমি আর্তনাদ দেখেছি। আপনি একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার। আপনি দেশের রক্ষাকারী। আপনি দেশের শত্রুকে নয়,আপনার মেয়ের খুনিকে ধরতে তো আমাদের সাহায্য করুন। আমি জানি,আপনার মেয়ের জন্য আপনি সব করতে পারবেন। ভেঙ্গে পড়বেন না স্যার,নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন। বলুন আপনি কেনো সাইকো হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

কথাগুলো শুনতে শুনতে সিনিয়র অফিসারের চোখের কোনায় অশ্রুপাত জমে যায়। তিনি কিছুটা ইমোশনাল হয়ে রিয়াজের দিকে অসহায়ের দৃষ্টিতে তাকায়। রিয়াজ তার এই চেহারা দেখে আবার বলে," স্যার, আপনি হার মানার মানুষ নই। আপনি অনেক শক্তিশালী। আপনার রেকর্ড সবসময় ভালো ডিপার্টমেন্টে। আমাকে সব খুলে বলুন।আমি আপনার সাহায্য করবো"।

কথাগুলো শুনে সিনিয়র অফিসার এইবার কেদেই দেয়। রিয়াজ হুট করে উনার সামনে বসে উনাকে জড়িয়ে ধরে। শান্তনা দিচ্ছে, না কাদার জন্য। সিনিয়র অফিসার রিয়াজের এমন ব্যাবহারে এইবার বলে,

- আমি জানিনা সে কে। আমার মেয়ের মৃত্যুর পর আমি সাইকোকে ধরার জন্য সুফিয়ানকে চাপ দিলেও,নিজে নিজেও আমি সাইকোকে ধরার জন্য সিক্রেট মিশন চালাই।কিন্তু সাইকো আমার চেয়েও এগিয়ে ছিলো। ( রিয়াজ সিনিয়র অফিসারকে ছেড়ে, এইবার উনার চোখের দিকে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করে)

- মানে,কি করেছিলো সে।

- তোমাকে জেলে বন্দি করার আগের দিন রাতে সাইকো আমার বাড়িতে আসে। আর আমার স্ত্রী, মা, বাবা এবং আমার বড় ছেলের বাচ্চাদের আটক করে নেয়। আমি সাইকোকে মারার জন্য পিস্তল নিতে গেলেই,সাইকো আমার নাতনীর গলা কেটে খুন করে ফেলে। আমার চোখের সামনেই। ( কথাটা বলেই সিনিয়র অফিসার কাদতে শুরু করে। এদিকে কথাটা শুনে রিয়াজের গা যেনো শিওরে উঠলো। এরপর রিয়াজ আবার বলে)

- তারপর..?

- এরপর সাইকো আমার ছেলে এবং ছেলের বউয়ের গলায় ছুরি ধরে। আর আমাকে বলে তাদের সাথে কাজ করার জন্য। ঐ সময় আমার বাড়িতে ৩ টা সাইকো ছিলো। সবার মাথায় হেলমেট। তাই কারো চেহারা স্পষ্ট দেখিনি। আমি রাজি হচ্ছিলাম না,সেই মুহুর্তে ওদের ফোনে একটা কল আসে। আর তারা কল রিসিভ করে আমার সামনে লাউড স্পিকার দেয়। কলের অপর প্রান্ত থেকে একটা রোবটিক কন্ঠ আমাকে বলে," তুই আজ থেকে আমার দলের দেওয়া পোষাক পড়ে রাতে বের হবি। যদি তুই তোর পরিবারের বাকিদের বাচাতে চাস,তবে করবি এমন। আর নয়তো তোকে বাচিয়ে রেখে,সবাইকে মেরে ফেলবো। তাদের মৃত্যু যন্ত্রণায় তুই তীল তীল করে মরবি"। ওর কথাগুলো শুনে আমি বুঝতেছিলাম না কি করবো। এদিকে কলের ওপাশ থেকে আবার বলে," আমি তোকে কল দিবো। এখন আমার টিম চলে আসবে। তুই তাদের সাথে এখনি ডিউটিতে নেমে যা"।

- এরপর কি করলেন আপনি।

- কি করবো। নিজের পরিবারকে বাচানোর জন্য তাদের সাথে বেরিয়েছি। ওরা আমাকে বউ বাজারে এনে ছেড়ে চলে যায়। আর তখনি আমার ফোনে একটা কল আসে। সেই হাইড করা নাম্বার থেকে। রোবটিক কন্ঠে সে আবার বলে," তোর প্যান্টের পকেটে একটা চাবি আছে। ওটা দিয়ে ডান পাশের দোকানের তালা খোল। ভিতরে তোর বাইক এবং পোষাক আছে। ডিউটির সময় শুধু ওটা ব্যাবহার করবি"। সাইকোর কথা শুনে আমি তার কথামতো কাজ করি। এরপর সেদিন আমার ডিউটি হয়,গার্মেন্টস থেকে দেরি করা আসা যেকোনো একটা মেয়েকে নিজের পুলিশ কার্ড দেখিয়ে গ্রেপ্তার করা। এবং তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে আসা। ওর কথামতো আমি সেটাই করি। এবং সেই মুহুর্তে ১ টা কার এসে সেই মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। আমি শুধু তাকিয়েই ছিলাম। আর এইভাবেই প্রতি রাতে আমাকে একটা মেয়েকে তাদের শিকার বানাতে সাহায্য করা লাগতো। সে আমাকে সব অর্ডার কলে দিতো। ওর নাম্বার ট্রেক করা সম্ভব না। লোকেশন একবার এক স্থানে দেখায়। আর ভয়েজ রোবটিক স্বরে কনভার্ট করা। তাই ভয়েজ চেনা যায় না। সে কখনো আমাদের সামনে আসেনি। তাই তাকে কখনো দেখিও নি। কিন্তু শর্ত ছিলো,আমি কোনোভাবে ডিপার্টমেন্টকে এই বিষয়ে জানালে,বা আমার নাতনির খুনের বিষয়ে কাওকে বললে,আমার পরিবারকে খুন করা হবে। তাই নিজে মরতে রাজি ছিলাম,কিন্তু তোমাদের বলতে রাজি হইনি। দয়া করে আমাকে সাহায্য করো। আমি আর পারছিনা।

সিনিয়র অফিসারের কথা শুনে রিয়াজ,সুফিয়ান সহ বাকিদের চোখ ভিজে একাকার। রিয়াজ শান্ত গলায় বলে," তারমানে সাইকো যে কেও হতে পারে। হয়তো আমাদের সাথেই চলাফেরা করে বেড়াচ্ছে। কিন্তু দিনের আলোয় সে আমাদের আপন হলেও,রাতে সে ভয়ংকর সাইকো। এই সাইকো মানুষকে ব্যবহার করে যাচ্ছে শুধু। নিজে বেরিয়ে আসেনা"। কথাগুলো বলার মাঝেই সুফিয়ানের নাম্বারে একটা মেসেজ আসে। সুফিয়ান মেসেজটা ওপেন করতেই দেখে,সিনিয়র অফিসারের পুরো পরিবারের মাথা কাটা লাশের ছবি।

চলবে...........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন