ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ২)

৮৪তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥(সিজন-টু)

#পর্ব-৮৪♥

#আয়ানা_জাহান_নুসরাত♥

----- "লেডিস এন্ড জেন্টেলম্যানস, আপনাদের আর অপেক্ষা করিয়ে রাখবো না। আমাদের সেকেন্ড উইনারের নাম ঘোষণা করতে চলেছি এক্ষুণি। এর মধ্যে হয়তো অনেকেই ভেবে ফেলেছেন কারা কারা পরবর্তী রাউন্ডে যাচ্ছে?"

উপস্থাপকের প্রশ্নের বিনিময়ে তীব্র এক চিৎকারে ফেটে পড়ল দর্শকেরা। যার অধিকাংশ জুড়ে ছিল নীবিড়ের নাম, তারপর 'ইয়থ ক্রিউ' এবং 'বয়েস জেনারেশন'। 'ইয়থ ক্রিয়' মূলত ম্যাটের টিমের নাম এবং 'বয়েস জেনারেশন' আরেকটি চার সদস্যের টিমের নাম। উপস্থাপক দর্শকদের থেকে আসা সমস্বরের উত্তরগুলো শুনে নিয়ে লম্বা করে হাসলেন। মুখের সামনে মাইক্রোফোনটা নিয়ে উচ্ছ্বাসিত গলায় বললেন,

----- "ওয়াও! ইউ গাইস আর টু গুড! হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন আপনারা। আমাদের ফাইলান রাউন্ডে যে দু'জন যেতে চলেছে তারা হলেন দ্য কিং অফ ড্যান্সিং সাদমান শাহরিয়ার নীবিড় এন্ড দ্য পাওয়ারফুল বয় ব্যান্ড 'ইয়থ ক্রিউ'....!"

লম্বা টান জুড়ে দিয়ে এনাউন্সমেন্ট শেষ করলেন উপস্থাপক। দর্শকদের মাঝে মুহুর্তেই ছেয়ে গেলো উল্লাস। মাঝে কেউ কেউ গোপনে ফেলল দীর্ঘশ্বাস। আমার বুকে এক ভয়ানক চিন্তার পাথর চেপে ছিলো। নীরবে ছুটিয়ে চলছিল কপালের ঘাম। আমি কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে লম্বা করে শ্বাস ফেললাম। ভেতরের চিন্তাগুলোকে ডানা মেলে উড়তে দিলাম ক্ষণিকের জন্য। নীবিড়, টিম 'ইয়থ ক্রিউ' যখন স্টেজ থেকে কুশলাদি বিনিময় করে পরবর্তী রাউন্ডের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন ঠিক তক্ষুণি দ্রুত পায়ে ড্রেসিং রুমে প্রবেশ করলাম আমি। আমায় দেখে এবার আর কস্টিউম বেছে নেওয়ার সাহস করে উঠতে পারলো না মেকআপ আর্টিস্টেরা। আমি কাবার্ড খুলে বেশ খোঁজাখুঁজি চালানার পর হোয়াট কালারের একটা চমৎকার কস্টিউম উদ্ধার করলাম। আগা থেকে গোড়া অবধি নিজের সুক্ষ্ম সন্ধান চালিয়ে যখন কোনো ঘাপলার অস্তিত্ব বের করতে পারলাম না তখন স্বস্তির শ্বাস ফেলে নীবিড়কে সেই কস্টিউমটায় নিজেকে মোড়াতে দিলাম। নীবিড় হেসে বিনাবাক্যে চেঞ্জ করে এলেন।

বিশাল সেই আয়নাটার সামনে যখন বাকি প্রতিযোগীদের বসানো হলো তখন আমার সন্দিহান নজর গিয়ে পড়ল ম্যাটের ওপর। ম্যাট নিজ মনে কিছু একটা ভাবছে। ভাবসাব মোটেও সুবিধার ঠেকছে না। কি করতে চলেছে তাও বোঝা হয়ে উঠছে না।

আমি যখন ম্যাটের ওপর নজর রাখতে ব্যস্ত এমন সময় একজন লেডি মেকআপ আর্টিস্ট নীবিড়কে তৈরি করতে ব্যস্ত হলো। ভেজা ভুলগুলো হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে শুকাতে শুরু করেছে এমন সময় তার ওপর দৃষ্টি স্থির হলো। আর পাঁচজন প্রতিযোগীদেরও একইভাবে তৈরি করা হচ্ছে যদিও তবু ব্যাপারটা মোটেও ভালো লাগলো না আমার। ঈর্ষা কি-না জানি না তবে এক তিক্ত অনুভূতিতে ছেঁয়ে গেল পুরোটা শরীর। আমি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক ঝটকায় মেয়েটার হাত থেকে ছিনিয়ে নিলাম হেয়ার ড্রায়ারটা। মেয়ে নিঃসন্দেহে আমার থেকে বয়সে বড়। তবু কোনো তোয়াক্কা না করে ধমকের সুরে বললাম,

------ "আপনার সাহস তো কম নয় আপনি উনাকে স্পর্শ করছেন! সরুন, সরে দাঁড়ান বলছি!"

মেয়েটা এমন আকস্মিক ঘটনায় হতভম্ব হয়ে রইলো। চোখ দুটো বড়বড় করে সরে দাঁড়াল। নীবিড় প্রথমেই বুঝে উঠতে পারলেন না ব্যাপারটা। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বিস্ময় কাটিয়ে প্রশ্ন ছুড়লেন,

------ "অনন্যা, হোয়াট হ্যাপেন্ড?"

নীবিড়ের এমন ভোলাভালা মুখ করে প্রশ্ন করায় রাগটা বেড়ে আকাশ ছুঁল আমার।

------ "আপনি তো চুপই থাকুন। একটা কথাও বলবেন না। আমি থাকতে অন্য কোনো মেয়ের প্রয়োজন নেই আপনাকে তৈরি করা উছিলায় স্পর্শ করার। বুঝেছেন আপনি?"

আমি রেগেমেগে কঠিন গলায় উনাকেও ধমক মেরে চুপ করালাম। উনার ভেজা চুলগুলো ড্রাই করে ঠোঁটে আলতো করে লাগিয়ে দিলাম লিপবাম। নীবিড় মুখে ছোটোখাটো একটা গুহা সৃষ্টি করে চেয়ে ছিলেন আমার পানে। আমি সুক্ষ্ম চোখে তাকাতেই নজর ফিরিয়ে নিলেন। আমি আপাতত সেদিকে মন দিলাম না আর। উনি যা ইচ্ছে ভাবুক। আমায় যদি পাগলও ভাবেন তাতেও কোনো আপত্তি নেই আমার। অন্য কোনো মেয়ে উনার এতো কাছাকাছি থাকবে আর আমি তা বড়বড় চোখ করে দেখব নাকি? হাহ! কক্ষনও নয়। আমি স্পষ্ট দেখেছিলাম মেয়েটার চোখ নীবিড়ের চুলে নয় ঠোঁটের দিকে যাচ্ছিলো। ইশশস কি জঘন্য! যেখানে আমি নিজেই বউ হয়ে আজ পর্যন্ত আমার হাজবেন্ডকে স্পর্শ করলাম না সেখানে ওই মেয়ে এসেছেন উনাতে নজর দিতে। শখ কত! ইচ্ছে তো করছে মেয়ের লম্বা লম্বা চুলগুলো ছেঁটে দিয়ে কদু বানিয়ে ছেড়ে দেই। সাচ আ ফুল!

__________________________________________

থার্ড রাউন্ড শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। দু'জনের মাঝে প্রথমে নাম এনাউন্স করা হলো "ইউথ ক্রিউ"এর। অর্থাৎ নীবিড়ের পারফরম্যান্সেই শেষ হবে প্রতিযোগিতা। আমি বুক ফুলিয়ে শ্বাস নিয়ে রেস্টরুমের দরজায় দাঁড়ালাম। এখান থেকে বেশ ভালো করেই দেখা যায় সবকিছু। নীবিড় সিটে চুপ করে বসে আছেন। হাতে ওয়াটার পট। চূড়ান্ত পারফরম্যান্সে নিজের সবটা দেবেন তা খুব করে বোঝা যাচ্ছে উনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে।

আমি খুব মনোযোগ দিয়ে 'ইউথ ক্রিয়' এর পারফরম্যান্স দেখছিলাম এমন সময় হাঁফাতে হাঁফাতে এসে পাশে দাঁড়ালো ভাইয়ারা, নিত্য আপু এবং রাত্রি। অত্যাধিক পরিশ্রম করেছে এমন ভাবসাব ভাইয়াদের। দু'জনেই ঘেমে চিপচিপে হয়ে আছে। নিত্য আপু, রাত্রির অবস্থাও করুন। বেচারিরা শুধু দৌড়েই গেছেই ম্যাটের পার্সোনাল স্টাফগুলো পেছনে। আমি ওদের চারজনকেই ঠিকমতো পরখ করে নিয়ে প্রশ্ন ছুড়লাম,

------ " প্রচুর খাটুনি খেটেছ। এবার বলো, কিছু উদ্ধার করতে পারলে?"

রাত্রি দম নিতে নিতে জবাব দিলো,

------ "আমরা তেমন সন্দেহজনক কিছু পাইনিরে অনু।"

------- "আর এখান থেকেই একটা জিনিস পরিষ্কার , ম্যাট বেশ গভীর জলের মাছ। ও জানে আমরা ওর আসল রূপ জানি বিধায় ওর স্টাফদের ওপর কড়াকড়ি ভাবেই নজর রাখব। যার জন্য সে কৌশলে এখানকার স্টাফদের টাকা খাইয়ে নিজের দলে করে নিয়েছে। যাতে সাপও মরে আর লাঠিও না ভাঙ্গে।"

রাত্রির কথার পেছনে জুড়ে দিলো নিত্য আপু। অগ্নি ভাইয়া নিজের ভেজা চুলগুলোয় হাত চালিয়ে বলল,

------- "কিন্তু আফসোস, অশ্বডিম্বটা জানেনা ও গাছের

ডালে ডালে চললে আমরা চলি গাছের পাতায় পাতায়।"

অগ্নি ভাইয়ার কথায় উৎসুক দৃষ্টিতে কি হয়েছে তা জানার জন্য তাকালাম আমি। রুশো ভাইয়া ফাঁক পেয়ে ফরফর করে বলে ফেলল,

------ "ব্রো ইজ রাইট! ওই পেটে গরবর করানোর ধান্দা করা বান্দারে এক্কেবারে বাইন্দা বাংলা ধোলাই দিয়ে ছেড়ে দিয়েছি আমরা।"

আমার চোখদুটো পরিধি বৃদ্ধি করে খুশির বহিঃপ্রকাশ ঘটাল। প্রথমে বিশ্বাসযোগ্য মনে না হওয়ায় বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

------ "সত্যিই?"

চারজনই একসাথে মাথা উপর থেকে নিচে দু'বার ঝাঁকিয়ে বিজয়ের হাসি হাসলো। অগ্নি ভাইয়া গর্বের সহিত বলল,

------- "আর কোনো চিন্তা নেই। আর কিচ্ছু করতে পারবে না ওই ম্যাট। নীবিড় ঠিকই নিজের বেস্ট পারফরম্যান্স দিয়ে ট্রফিটা জিতে নেবে দেখিস!"

উত্তেজনায় চোখেমুখে প্রাপ্তির হাসি ফুটে উঠল আমার। আমি লাফিয়ে উঠে চারজনকেই নিজের বাহুডোরে আবদ্ধ করার জন্য হাত বাড়ালাম। অনেকটা ক্রিকেট খেলা শুরু পূর্বে খেলোয়াড়েরা যেভাবে একে-অপরের কাঁধে হাত রেখে গোল হয়ে গোপন আলোচনা সেড়ে নেয় ঠিক সেভাবেই নিজেদের মাঝে প্রাপ্তির উল্লাস ভাগাভাগি করে নিলাম আমরা। নীবিড় এতক্ষণ কিছুটা দূর থেকে আমাদের কান্ড-কারখানা পর্যবেক্ষণ করছিলেন। শত চেষ্টার পরও যখন আলোচনার মূল প্রসঙ্গটা উদ্ধার করতে ব্যর্থ হলেন ঠিক তখন গিয়ে উঁচু গলায় বলে উঠলেন,

------ "ও হ্যালো? কি গোপন আলোচনা চলছে ওখানে?"

নীবিড়কে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে বললাম আমি,

------ "তা আপাতত আপনার না জানলেও চলবে। আপনি বরং পানি খাওয়ায় মন দিন। আবার বেশি খেয়ে ফেলবেম নাম পারফরম্যান্সের মাঝে প্রাকৃতিক চাপ ডাক দিলে মুশকিল!"

নীবিড় লজ্জা চুপ করে গেলেন। তারপর ফুস করে হতাশার শ্বাস ছাড়লেন। শতশত কিউরিওসিটি থাকা সত্ত্বেও বাড়িয়ে প্রশ্ন করতে পারলেন না আর। ম্যাটদের পারফরম্যান্স শেষের দিকে। খানিক বাদেই উনার নাম ডাকা হবে স্টেজে। যার দরুন চুপ থেকেই কাটাতে হলো সময়টুকু।

অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত সময় ঘনিয়ে এলো। স্টেজে উচ্চস্বরে ডাকা হলো নীবিড়ের নাম। আমার হৃদ স্পন্দন ক্ষণিকের জন্য বিরতি নিলো। নীবিড় যখন ধীরগতিতে স্টেজে ডান পা'টা ফেললেন ঠিক তক্ষুণি স্পন্দের হার বেড়ে দ্বিগুণ হলো। ডিবডিব শব্দে আলোড়ন সৃষ্টি করলো হৃদপিন্ডটা। নীবিড় যখন স্টেজের মাঝামাঝি গিয়ে দাঁড়ালেন তখন সকলের সমন্বিতস্বর খানিকটা নেমে এলো। পুরো স্টেজ অন্ধকার হলো চোখের পলকে। তার পরপরই জ্বলে উঠল নীল, সবুজ, বেগুনির সংমিশ্রণে একাধিক টিমটিমে আলো। ব্যাকগ্রাউন্ডটা যেনো অন্যরকম এক চমক নিয়ে সেজে গেলো নিজে থেকেই। নীবিড় হাল্কা করে হাসলেন। দর্শকসহ প্রত্যেকটা সদস্যকে মারাত্মকভাবে চমকে তুললেন পকেট থেকে লাল রঙের একটা ফিতা বের করে। আমরা সকলেই একরাশ আগ্রহ নিয়ে তাকালাম। দর্শকদের মাঝে চাপা গুঞ্জন চলল কয়েক সেকেন্ড। এর মাঝেই যখন নীবিড় ফিতাটা শক্ত করে চোখে বেঁধে নিলেন ঠিক তক্ষুণি মিউজিক বেজে উঠল। আমার শ্বাস যেনো সেখানেই থেমে গেল মুহুর্তের জন্য। বিস্ময়ে ফেটে পড়ল প্রতিটি দর্শক। নীবিড় নিজের মতো স্টেপ তুলেই চললেন। নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে কেড়ে নিলেন অন্যান্য দলের ফ্যানদের মনও। আমি ভয়ার্ত চোখে অগ্নি ভাইয়ার দিকে তাকালাম। ভাইয়া হয়তো বুঝল আমার মনে চলা তুফানটা। যার দরুন পলক ঝাপটে বলল,

------ "চিন্তা করিস না। হি ইউল বি ফাইন।"

------ "কিন্তু ভাইয়া, এটা তো রিহার্সালে ছিলো না। ব্লাইন্ড ড্যান্স করবেন একথা বলেন পর্যন্ত নি! এমনটা না করলে কি হতো না?

অগ্নি ভাই ফুস করে শ্বাস ফেলল। কাঁধে আলত করে হাত রেখে বলল,

------ "নীবিড় কখন কি করে না করে তার ধারণা আজ পর্যন্ত আমিই করতে পারলাম না। তোর অবাক হওয়াটা স্বাভাবিক। ধৈর্য্য রাখ! নীবিড় যেই স্টেজে পা রাখে সেই স্টেজে আইকনিক কিছু হবেনা তা তো হয়না। এটাই হয়তো এক আইকনিক পারফরম্যান্স হয়ে রয়ে যাবে দর্শকদের মনে।"

আমি বুকে হাজারো চিন্তার পাহাড় জমিয়েই মাথাটা হাল্কা করে নাড়ালাম। পারফরম্যান্সের এক পর্যায়ে নীবিড় ক্ষণিকের জন্য থমকালেন। আমার বুকটা ধক করে উঠলো সেই মুহুর্তেই। পা'য়ে কি আবারও আঘাত পেলেন উনি?

আমার কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই কৌশলে জুতোজোড়া পা থেকে খুললেন উনি। খালি পায়েই আবারও শুরু করলেন নাচ। আমার শরীরের লোমগুলো কাঁটার মতো দাঁড়িয়ে রইল। মৃদুভাবে কাঁপতে লাগলো পুরো শরীর। রাত্রি আমার পাশে এসে ঘেঁষে দাঁড়াল। আমার অবস্থাটা বুঝতে পেরে ডান হাতটা চেপে ধরে রইল। নীবিড়ের পারফরম্যান্সের শেষের দিকে কেন যেনো উনাকে স্বাভাবিক বলে মনে হলো না আমার। উনার পা'দুটো কাঁপছে বলে মনে হচ্ছে। যা লক্ষ্য করে কাঁপাকাঁপা গলায় বলে উঠলাম আমি,

------ "ভা..ভাইয়া আমার কেনো যেনো উনাকে ঠিক লাগছেনা। উনার ক..কষ্ট হচ্ছে পা ফেলতে। দেখো!"

আমার কথা শুনে চমকে ভাইয়ারা সহ, রাত্রি এবং নিত্য আপু সুক্ষ্ম চোখে তাকাল নীবিড়ের পানে। রুশো ভাইয়া ভাবুক ভঙ্গিতে বলল,

------ "কিন্তু আমার তো এমন কিছু মনে হচ্ছে না রে ছুটকি। ব্রো ইজ লুকিং ফাইন!"

------ "রক্ত!"

আমার "রক্ত" বলে চেঁচিয়ে উঠার দরুন চমকে উঠে সবাই আমার দেখানো ইশারা বরাবর তাকাল।

------ "র...রক্ত! উ...উনার পা থেকে রক্ত ঝরছে। ভাইয়া, নিত্য আপু দে..দেখো উনার পা থেকে রক্ত পড়ছে!"

কথাগুলো বলতে বলতেই কখন যে চোখে নোনাজল চলে এলো টেরই পেলাম না। নীবিড়ের পা থেকে ঝরা বিন্দু বিন্দু রক্তগুলো স্টেজে লেপ্টে যাচ্ছে অবলীলায়। এক একটা রক্তবিন্দু এক একটা সুক্ষ্ম সূঁচের ন্যায় আঘাত করতে লাগলো আমার বুকে। আমি হঠাৎ করেই উত্তেজিত হয়ে উঠলাম। শরীরের কাঁপুনি বেড়েই চলল ক্রমান্বয়ে। আমায় এভাবে উত্তেজিত হয়ে দেখে শক্ত করে চেপে ধরলো রাত্রি-রুশো ভাইয়া। অগ্নি ভাইয়া কি করবে ভেবে না পেয়ে স্টেজে উঠে পড়েই ছুট লাগালো ভাইয়ার উদ্দেশ্যে। ইতিমধ্যে গানও বন্ধ হলো। নীবিড় নাচ থামিয়ে ধপ করে বসে পড়লেন ফ্লোরে। চারিদিকে করতালির তীব্র শব্দে ছেয়ে গেল। দর্শকেরা সিট ছেড়েই দাঁড়িয়ে পড়ল উত্তেজনায়। কারো কারো চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল খুশিতে। বাংলাদেশের বুকে এমন একটা মাস্টারপিস সচক্ষে দেখা কি কম কিছু? একদম না! এবার অগ্নি ভাইয়ার পিছু পিছু ছুট লাগালাম আমরাও। নীবিড় চোখ থেকে মোটা ফিতাটা খুলে জোরে জোরে শ্বাস ফেলছিলেন। গায়ের শার্টটা লেগে গিয়েছে গায়ের সাথে। চুলগুলো বেয়ে টপটপ করে ঘাম পড়ছে। ঠোঁটজোড়া কাঁপছে দ্রুত শ্বাস টানায়। আমি ধপ করে উনার পাশে বসে কান্না জুড়ে দিলাম। না চাইতেও অবাধ্য জলগুলো গড়িয়ে পড়তে লাগলো চোখ বেয়ে। নীবিড় আমার পানে চিন্তিত চোখে ফিরে তাকালেন। চোখদুটো লাল হয়ে আছে উনার। নিত্য আপু ধরা গলায় প্রশ্ন ছুড়লো,

------ "ভাইয়া, এ...এসব কিভাবে হলো? পা থেকে রক্ত পড়ছে কেনো তোর?"

নীবিড় আমার গালে হাত রেখে পলক ঝাপটে বোঝালেন তিনি ঠিক আছেন। তারপর নিত্য আপুর কথার প্রশ্নের জবাব স্বরূপ দূরে পড়ে থাকা জুতোজোড়া ইশারায় দেখালেন। রুশো ভাইয়া দ্রুত সেই জুতোজোড়া ঘেঁটে রহস্য উদঘাটন করতে লেগে পড়ল। নীবিড়কে নিয়ে যখন আমরা সহ স্টাফেরা ব্যস্ত তখন চেঁচিয়ে বলল রুশো ভাই,

------ "ও মাই গড! ব্রো, বুটের ভেতরে কাচের টুকরো!"

রুশো ভাইয়ার উক্ত বাক্যটির বিনিময়ে আতঙ্ক ছেয়ে গেল সবার মাঝে। আমার চোখদুটো জ্বলতে শুরু করলো। কান্নার জন্য নয়, কাউকে খুন করে ফেলার তীব্র আকাঙ্ক্ষায়। নীবিড় দাঁড়াবার চেষ্টা করেও তৃতীয়বারের মতো অসফল হলেন। অগ্নি ভাইয়া স্টাফদের বেখেয়ালিপনা দেখে ধমক মেরে সরে যেতে বলল। সবাইকে অবাক করে দিয়ে নীবিড়কে কাঁধে তুলে নিয়ে দাঁড়ালো কোনোরকম। নীবিড় বাঁধা দিয়ে বললেন,

------ "আরে কি করছিস, আমায় নিতে পারবি না। ছেড়ে দে, আমি ঠিক আছি। একাই যেতে পারবো।"

অগ্নি ভাইয়ার মুখ ঘুরিয়ে তাকাল নীবিড়ের পানে। উত্তাপ ছড়ানো চোখদুটো অনেক কিছু বলতে চাইছে তার। তাতে হাজারো প্রশ্ন, হাজারো অভিমান, হাজারো রাগ জমা। সেই চোখদুটোয় জমেছে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ স্বচ্ছ অশ্রুকণা।

------ "আর একটা কথাও বলবি না তুই। উচ্ছন্নে যাক তোর কম্পিটিশনে। তুই এখন হসপিটালে যাচ্ছিস এটাই ফাইনাল।"

কথাটা বলেই নিজের কলিজার টুকরোকে কাঁধে তুলে ছুট লাগালো অগ্নি ভাই। বন্ধুর প্রতি বন্ধুর এমন ভালোবাসা দেখে দর্শকেরাও যেনো আবেগী হয়ে পড়লেন। আমরাও আর দাঁড়ালাম না এক মুহুর্তের জন্য। ছুট লাগালাম ভাইয়ার পিছু পিছু।

#চলবে_________

[ আরো তাড়াতাড়ি দিতে পারতাম কিন্তু মাঝথেকে এক বাজে পরিস্থিতি ফেঁসে গিয়ে লেখা থামাতে হয়েছে। টেনশনে কি লিখেছি জানিনা। গুছিয়ে লিখতে পারিনি। ক্ষমা করবেন। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন