ফন্ট সাইজ:
থিম:
অতৃপ্ত চাহনা

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: তুরঙ্গনা

#অতৃপ্ত_চাহনা

#তুরঙ্গনা

পর্ব—||০৬||

ভার্সিটির ক্লাস শেষে চুপচাপ অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে তৃতীকা। মধ্য দুপুরের তীক্ষ্ণ তাপ,অসহনীয় গরম—সবমিলিয়ে ভীষণ ক্লান্ত সে। মন মেজাজটাও আজ তেমন ভালো নেই। আজ ভার্সিটিতে গিয়ে যে একে একে এতোকিছুর সম্মূখীন হতে হবে, তা মোটেও আশা করেনি সে।

আজ ক্লাস শুরুর দিকের ঘটনা। অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ দেরি করে ভার্সিটিতে পৌঁছাতেই দেখে—ক্লাস শুরু হয়ে গিয়েছে। এরপর স্যারের কিছু কড়া কথা শোনার পর তার ক্লাসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়৷ অতঃপর দীর্ঘ সময়ের কয়েকটা ক্লাস শেষে,নতুন এক ঝামেলা।

টিফিন টাইমে ভার্সিটির মাঠে গিয়ে গাছের নিচে বসে ছিল। এমন সময় হঠাৎ কিছু সিনিয়রদের উৎপত্তি হয় তার সামনে। তৃতীকা গাছের নিচে বসে নিজ মনে পড়তে থাকলেও,এই সিনিয়র কিছু ছেলে-মেয়ের নজর পড়ে তার দিকে।

ফলাফলস্বরূপ তারা তৃতীকার সামনে এসে আচমকা হাজির হয়। এবং গোল করে দাঁড়িয়ে, অদ্ভুত ভাবে হাসতে শুরু করে। আচমকা এতোগুলো মানুষকে তার সমানে দাঁড়িয়ে হাসতে দেখে তৃতীকা কিছুটা ঘাবড়ে যায়।সে বসা হতে উঠে দাঁড়াতেই, প্রত্যেকের ভাবভঙ্গিতে খানিকটা পরিবর্তন আসে।

তৃতীকা পারছেও না এখান থেকে সরাসরি চলে যেতে। এমনটা করলে না জানি এরা, কখন কি করে বসে। এই ভাবনাতেই তৃতীকা চুপটি করে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। এরইমাঝে পাশ থেকে একজন স্টাইলিশ মেয়ে তার দিকে তাকিয়ে বলে,

"এই মেয়ে! তোমার সাহস তো কম না। তুমি কোন সাহসে আমাদের দেখেও,এখন অব্দি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছো?"

আচমকা এহেন কথা শুনে তৃতীকা দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে যায়। তার কি আদোও কিছু করার আছে? সে তো এদের ঠিকমতো চেনেও না। এরইমাঝে আবার একটা ছেলে অনেকটা বিরক্তির সহিত বলে ওঠে,

"এ মেয়ে তো ভারী অসভ্য। সিনিয়রদের দেখলে যে সালাম দিতে হয়—এটা কি এখন তোমার ধরে-বেঁধে শেখাতে হবে?"

---"আ...জ্বী,না মানে...আসসালামু আলাইকুম। আমার ঠিক মনে ছিল না৷ দুঃখীত আমি...আমি বুঝতে পারিনি।"

ইতস্তত ভঙ্গিতে কথাগুলো বলতেই, তৃতীকা খানিকটা ঘাবড়ে যায়৷ আগে থেকেই শুনেছে ভার্সিটির সিনিয়ররা জুনিয়দের র‍্যাগিং করে৷ কিন্তু এখন পর্যন্ত এসবের সম্মূখীন হতে না হলেও, তৃতীকার মন-প্রাণে এখন শুধু এটাই বলছে যে—শেষমেষ সে এসবের পাল্লায় পড়েই গিয়েছে। না জানি আজ তার সাথে কি হতে চলেছে।

এদিকে সিনিয়র ছেলে-মেয়েগুলো তার সালামের উত্তরটা খানিক ভণিতার সহিতে দিয়ে, বিস্তৃত স্বরে হাসতে লাগল। আচমকা সবার হাসি দেখে তৃতীকা আবারও ভড়কে যায়৷ তৃতীকা বুঝতে পারছে না, এই মূহুর্তে তার কি করা উচিত৷

---"বলছিলাম...আ...আমি কি যেতে পারি?"

তৃতীকার এহেন কথায় পুনরায় তাদের ভাবগতিক পরিবর্তন হয়। অনেকটা সন্দিহান ও রুক্ষ স্বরে তারা বলে,

"এই মেয়ে তো দেখছি কোনো আদব কায়দাই জানে না। মনে হচ্ছে স্পেশাল ট্রিটমেন্ট দিতে হবে।"

এরইমাঝে আবার পাশের আরেকজন তৃতীকার উদ্দেশ্য বলে,

"এই মেয়ে! নাম কি তোমার?"

তৃতীকা কিছুটা ঘাবড়ে যাওয়া স্বরে আওড়ায়,

"তৃতী...তৃতীকার তালুকদার।"

---"কিহ! তৃতীকা? এটা আবার কেমন নাম? এ নামের অর্থ কি?"

তৃতীকা আবারও কিছুটা ইতস্ততস্বরে আওড়ায়,

"তৃতীকা মানে তৃষ্ণার্ত কিংবা এইরূপ অর্থবহনকারী শব্দ।"

তৃতীকার কথা শুনে আচমকা ছেলেগুলো হেসে ফেলল। এরইমাঝে একজন আবার বলে উঠল,

"বাহ,নামটা তো জোস! মেয়ের নামও যেমন হ"র্নি, দেখতেও তো পুরো..."

অকস্মাৎ এমন বিদঘুটে কথা শুনে তৃতীকা সম্পূর্ণ হতভম্ব। ওদিকে সেই ছেলেটা তার কথা অসম্পূর্ণ রেখেই, কুরুচিপূর্ণ ভঙিতে হাসতে লাগল। একইসাথে তারপাশে থাকা বন্ধু-বান্ধবীও উচ্চস্বরে হেসে ওঠে। এদিকে এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে যেন তৃতীকার দম বেড়িয়ে আসার উপক্রম। অকস্মাৎ-ই তার হাত-পা মৃদু কম্পনে কাঁপতে শুরু করেছে। রাগ,ক্ষোভ কিংবা অসহায়বোধ—সবই হচ্ছে মিশ্রভাবে। তবুও সে চাইছে, নিজেকে যথাসাধ্য নিয়ন্ত্রণ করার৷

এরিমধ্যে তাদের হাসাহাসি বন্ধ হলে,আরো এক ছেলে বিস্তৃত বাঁকা হেসে বলে,

"তোমাকে আমাদের পছন্দ হয়েছে। আগা-গোড়া সবদিক থেকেই পারফেক্ট। তবে নিয়ম-কানুন গুলো যতদ্রুত পারো শিখে নিও। এর পরেরবার থেকে সিনিয়রদের দেখলে বড় করে সালাম দেবে। আর যতক্ষণ না সিনিয়র বড় ভাই-বোন আসা-যাওয়ার পারমিশন দিচ্ছে,ততক্ষণ পর্যন্ত এক'পা-ও নড়বে না।

ছেলেটির কথা শেষ হতেই, আরো এক মেয়ে এসে তার উদ্দেশ্যে বলে,

"এবারের মতো ছেড়ে দিচ্ছি। এরপর ধরলে আর বাঁচতে পারবি না৷"

মোটামুটি আরো কিছু টুকটাক অপ্র'য়োজনীয় ও বির'ক্তিকর কথাবার্তা শেষে, তারা তৃতীকার কাছ থেকে সরে যায়। কিন্তু যাওয়ার আগে পানিশমেন্ট স্বরূপ কয়েকটা নোট খাতা ধরিয়ে দিয়ে যায়। এবং তৃতীকাকে বলা হয়ে, এই সবগুলো নোট তাদের ফাঁকা খাতায় তুলে লিখে দিতে হবে। আর এইজন্য সময় দেওয়া হয় মাত্র দুদিন৷এবং শেষবেলায় তাদের মধ্যে একজন,হুমকি স্বরূপ তৃতীকার উদ্দেশ্যে বলে,

"এই দুদিনের মধ্যে যদি কাজ না হয়, তবে তোমার জন্য অনেক খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে—কথাটা মাথায় ভালোমতো ঢুকিয়ে নিও।"

____

দিনের সূচনা যে এমন কিছু দিয়ে হবে—তা তৃতীকার জানা ছিল না। ভার্সিটির এসব ঘটনা ভাবতে ভাবতেই সে নিস্পৃহে অফিসে প্রবেশ করে। তৃতীকা গিয়ে নিজের ডেস্কে বসে। তার শিফটের মানুষজন কেবল আসতে শুরু করেছে। সে বাড়ি না গিয়ে সোজা এখানে আসে বিধায়,সবার চেয়ে যেন সেই এগিয়ে রয়েছে।

অফিসে এখন লাঞ্চ টাইম চলছে। যারা ফুল টাইম জব করে, তারা এখন নিজেদের মতো খাওয়াদাওয়া করছে। তৃতীকার আশেপাশে আপাতত তেমন কেউই আসেনি। দুপুরে বাড়িতে যেতে পারবে না বিধায়, আগেই বাড়ি হতে খাবার নিয়ে এসেছে। খানিকটা ক্ষিদে পেলেও,কেমন যেন এক দ্বিধাবোধ কাজ করছে নিজের মাঝে।

তৃতীকা নিজের হাত পরিষ্কার করে এসে, নিজের লাঞ্চবক্সটা খুলে,ডেস্কের উপরেই রেখে খেতে বসলো। দুপুরের খাবারে খানিকটা ভাত,ডিম সিদ্ধ আর ডাল নিয়ে এসেছে। তবে কেমন যেন অস্বস্তি বোধ হচ্ছে নিজের মাঝে। হয়তো বা এতো বড় অফিসে, আজকালকার যুগে এসে,এমন লাঞ্চ নিয়ে আসা—লোকে কি বলবে বা ভাববে সে চিন্তায়।

যার ফলে সে চাইল,সবাই আসার আগেই দ্রুত খাবারটা শেষ করতে। এই ভাবনায় সে খানিকটা তাড়াহুড়ো করেই নিজের খাবার খেতে লাগল। কিন্তু খাবারের মাঝ পর্যায়ে এসে, হঠাৎ জারা সহ আরো কিছুজন, অফিসে প্রবেশ করে। জারার পাশাপাশি আরো একটা মেয়ে এসে তৃতীকার দুপাশে—নিজেদের ডেস্কে বসে পড়ে।

এরিমধ্যে জারার নজর তৃতীকার দিকে পড়তেই, সে অনেকটা বিস্ময়ের স্বরেই বলে ওঠে,

"সিরিয়াসলি? তুমি এই অফিসের লাঞ্চে... এই...এইসব ডাল,ভাত খাবার খাচ্ছো?"

নিমিষেই তৃতীকার হাত থেমে যায়। আর তার খাওয়া হয়ে ওঠে না। সে সংকোচে মাথা নিচু করে ঠোঁট চেপে বসে থাকে। ওদিকে জারার উচ্চস্বরে আশেপাশে কয়েজনেই ইতিমধ্যে তার দিকে ঘুরে-ফিরে তাকিয়ে রয়েছে। এতে তৃতীকার অস্বস্তিবোধ যেন আরো বেড়ে যায়।

জারার পাশাপাশি আরো একটা মেয়ে তৃতীকার দিকে চেয়ে মিটমিট করে হাসছে। তৃতীকা কিছুই বলছে না। সে নিজেকে স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টায়। ওদিকে জারা থামল না। সে খানিকটা তাচ্ছিল্য ও রংতামাশার সহিতেই হেসে হেসে বলে,

"আমি গতকালই বুঝে গিয়েছিলাম তুমি হয়তো তেমন...আমি বলতে চাচ্ছি যে...তুমি যে এতো বেশি গরীব তা বুঝতে পারিনি। দেখো তোমার লাঞ্চ বক্সটাও কেমন...এটা কি টিন না অন্যকিছু? এমন জং ধরা পুরোনো কেনো?...ইয়ুও!"

একে তো উল্টোপাল্টা কথা বলছে, একইসাথে আবার তৃতীকার লাঞ্চ বক্সটা নিজের দু’আঙ্গুলের সহিত ঘৃণাবোধ ও সংকোচের সাথে এলোমেলো করে ছুঁয়ে দিচ্ছে।এদিকে তৃতীকা যেন এবার আর এসব সহ্য করতে পারল না।

জারার কথা শেষ হতে না হতেই, তৃতীকা তার হাতটা বাম হাত দিয়ে খপ করে শক্ত হাতে ধরে ফেলল। অতঃপর গলার স্বর দৃঢ় করে, জারার দিকে চোখ রাঙিয়ে আওড়ায়,

"হ্যাঁ আমি অনেক গরীব৷ তাই আমার যা সামর্থ্য—আমি তাই নিয়ে এসেছি লাঞ্চে।আর আমার মতে, কোনো বহিরাগত ব্যক্তির এ নিয়ে কোনো সমস্যা হবার কথা নয়।"

আচমকা তৃতীকার এহেন অভিব্যক্তি পরিবর্তনে, জারা কিছুটা ঘাবড়ে যায়। সে অপ্রস্তুত হয়ে হেসে বলে,

"আরেহ্,তুমি তো দেখছি রেগে যাচ্ছো..."

---"না,আমি মোটেও রেগে যাইনি। কেননা আমি রাগলে তা সহ্য করার ক্ষমতা খুব কম মানুষেরই রয়েছে। বিশেষ কোনো ব্যক্তি ব্যতীত আমি সাধারণ মানুষের সামনে নিজের এই ব্যক্তিত্বকে উন্মোচন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। আশা করি, বুঝতে পেরেছো!"

এই বলেই তৃতীকা তার হাতটা একপ্রকার নিঃশব্দে ছুঁড়ে দূরে সরায়। জারাও এবার আরো বেশি ভড়কে যায়। সে ইতস্তত ভঙ্গিতে খানিকটা রাগের সহিতই চারপাশটা দেখে। সকলে তাকিয়ে রয়েছে তাদের দিকে। আরো লোকজন আসায় তারাও এখন, তাদের দিকে চেয়ে। তৃতীকার নজর সেসব দিকে না রইলেও, জারা দাঁড়িয়ে থাকায় অনেকেই তাকে কৌতুহল বশত দেখছে। এরইমধ্যে জারা রাগের বশে কিছু একটা করার জন্য উদ্বিগ্ন হয়। তবে তার পূর্বেই তার নজর পড়ে খানিকটা দূরে।

নিজের রুম থেকে বেড়িয়ে,কোনো এক গন্তব্যে হেঁটে চলেছে আধীর রায়ান চৌধুরী। তার তীক্ষ্ণ নজর, গম্ভীর অভিব্যক্তি সবই তার সম্মূখের দিকে। আশেপাশে কি হচ্ছে তার কোনো কিছুই যেন তার দেখার বিষয় নয়। সবই যেন তার কাছে তুচ্ছ।

এদিকে স্বয়ং অফিসের সিও-কে দেখে জারা কিছুটা ঘাবড়ে যায়। একইসাথে তার মাথায় এক পরিকল্পনাও তৈরি হয়। এখন সবার সামনে ভালো সেজে তৃতীকাকে কিছু না বললেও, তৃতীকাকে সহজে ছেড়ে দেওয়ার মতো ব্যক্তি সে নয়।

______

অফিসের সিও আধীর রায়ান চৌধুরী তৃতীকাকে ডেকেছে। অবশ্যই সেটা অফিসের কোনো বিষয় সম্পর্কিত। যার ফলে তৃতীকাও আর দেরি না করে তার রুমে ছুটে গিয়েছে। আজকের মনমেজাজ কোনোটাই ভালো নেই তার তার। সকাল থেকে একের পর এক অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে মন-মেজাজ তার বিষিয়ে রয়েছে।

---"মেই আই কাম ইন স্যার?"

দরজা ঠেলে শুরুতেই তৃতীকা ভেতরে আসার পারমিশন চেয়ে নেয়। গতবারের মতো আজও কোনো ভুল হোক,আর তাকে কথা শুনতে হোক—তা সে চায় না। ওদিকে তৃতীকার কথা শুনে, তার দিকে না তাকিয়েই আধীর গম্ভীর স্বরে বলে,

"ইয়েস, কাম ইন...!"

তৃতীকা ভারী শ্বাস ফেলে দরজাটা চাপিয়ে দিয়ে, সামনের দিকে এগিয়ে যায়। আধীর মনোযোগ সহকারে কিছু ফাইল চেক করছে।তবে তৃতীকা ডেস্কের কাছে এগিয়ে যেতেই, আধীর গম্ভীর স্বরে বলে,

"মিস তৃতীকা! কাজ কেমন হচ্ছে?"

আচমকা এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করায়, তৃতীকা খানিকটা ইতস্তত স্বরেই বলে,

"জ্বী,ভালো।"

এবার আধীর মাথা তুলে,তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে আওড়ায়,

"শুধুই ভালো?"

এটা শুনে তৃতীকা যেন কিছুটা ঘাবড়ে যায়।এর চেয়ে বেশি কিছু কি তার বলার কথা ছিল?আবারও কি ভুল কিছু করে ফেলেছে সে?

---"না মানে..."

তৃতীকার কথা শুরু হওয়ার পূর্বেই, আধীর তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে,

"দিন, ফাইলগুলো দিন!"

তৃতীকা আবারও দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে যায়। কিসের ফাইল চাইছে এই আধীর রায়ান চৌধুরী। তাকে তো শুধু বলা হয়েছিল,আধীর স্যার নাকি তাকে ডেকে পাঠিয়েছে। এরচেয়ে বেশি কিছু তো পিওন তাকে বলেনি।এদিকে তৃতীকাকে এভাবে স্তব্ধ মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে,আধীর খানিকটা ভ্রু কুঁচকে বলে ওঠে,

"কি হলো? আপনি কি..."

এরইমাঝে আধীর খেয়াল করতেই দেখে, তৃতীকা তার সঙ্গে করে কিছুই আনেনি। যা দেখে সে নিমিষেই যেন বিস্মিত হয়৷ এবং সন্দিহান স্বরে আওড়ায়,

"আপনাকে যে রিপোর্ট গুলো রেডি করতে বলা হয়েছিল—ওগুলো আপনি করেননি?"

এবার যেন তৃতীকার হুঁশ ফেরে। তবে কিছুটা আশ্চর্যও হয়। কেননা গতকাল তাকে অনেকগুলো রিপোর্ট কালেক্ট করা সহ আরো কিছু কাজ দেওয়া হয়েছিল। কাজের পরিধি এতোই ছিল যে, সে ভেবেছে এসব করার জন্য সে যথেষ্ট সময়ও পাবে। কেননা আলাদাভাবে কেউ সময়সীমা সম্পর্কে কিছুই বলেনি তাকে। কিন্তু এখন আধীরের কথা শুনে মনে হচ্ছে, সে তার কাছে ঐ রিপোর্টগুলোরই ফাইল চাইছে এবং তা এই মূহুর্তেই।কি আশ্চর্য! এই মুহূর্তে সে এতো গুলো রিপোর্টের ফাইল কোথায় পাবে? সে তো এখন পর্যন্ত কিছুই করেনি সেভাবে।

---"কি হলো?এভাবে স্ট্যাচুর মতো দাঁড়িয়ে আছেন কেনো?"

তৃতীকা এবার সত্যিই অনেক বেশি ঘাবড়ে গিয়ে আমতাআমতা করে বলে,

"স্যার আমি তো ভেবেছিলাম... "

এবারও তৃতীকার কথা শুরু হবার পূর্বেই, আধীর রায়ান গম্ভীর স্বরে বলে ওঠে,

"কি ভেবেছিলেন আপনি? মাত্র ওই কয়েকটা রিপোর্টের ফাইল তৈরি—আমি আপনাকে সারামাস ধরে করতে দিয়েছি? আর সবচেয়ে বড় কথা, আপনি খালি হাতে আমার কেবিনে এসেছেন কোন সেন্সে?নিশ্চয় আমি আপনাকে, আমার সাথে গল্প করার জন্য ডাকিনি!"

---"সরি স্যার। আমার বুঝতে... "

---"হোয়াট সরি...! আমি একদিনেই বলে দিয়েছি,আমার এখানে 'সরি' বলতে কোনো শব্দ গ্রহনযোগ্য নয়। কাজ করতে হলে, ঠিকমতো করবেন। নয়তো রিজাইন লেটারটা দিয়ে, সুন্দর মতো চলে যাবেন।"

তৃতীকার যেন আর কিছুই বলার সুযোগ হলো না। সে চুপচাপ এক জায়গাতেই দাঁড়িয়ে রইল। এদিকে তৃতীকাকে কিছুটা সময় তীক্ষ্ণ গম্ভীর চাহনিতে পর্যবেক্ষণের পর, আধীর ভারী শ্বাস ফেলে বলল,

"ইট ওয়াজ দ্য লাস্ট টাইম। এরপর আমি একটা কথাও বলব না। বিশেষ বিবেচনায় আপনাকে কাজের জন্য একটা সুযোগ দেওয়া হয়েছিল,তবে আপনি যদি তার যথার্থ ব্যবহার করতে না পারেন—তবে আপনাকে এই অফিসের কোনো প্রয়োজন নেই। কেননা আপনার এতোসব খামখেয়ালী কোনোমতেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়, মিস তৃতীকা!"

---"জ্বী স্যার।"

তৃতীকা বাধ্য হয়েই শেষমেশ এইটুকু আওড়িয়ে নিজেকে শান্ত রাখে। একইসাথে নিজের খামখেয়ালিতে বিরক্ত হয়ে, মুখ-চোয়াল শক্ত করে,নিজেকেই নানান কথায় বকতে শুরু করে।

____

সম্মূখে আধীর তার নিজের ল্যাপটপে গম্ভীর্যের সহিত কাজ করে চলেছে। আর তৃতীকা ঠিক একই ডেস্কে ভিজিটর চেয়ারে বসে নিজের কাজ করছে। মূহুর্তটা বেশ অপ্রস্তুতকর। বদ্ধ রুমে দুই মানব,নিজেদের কাজে ব্যস্ত। কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছে না।

মূলত তৃতীকার আর সুযোগ হয়নি,এই আধীর রায়ান চৌধুরী ওরফে তার বিশেষ নামপ্রাপ্ত মিস্টার খারুশ হতে মুক্তি পাওয়া। ফাইল তৈরি হয়নি বিধায়, আধীরের কড়া নির্দেশ মোতাবেক এখন তৃতীকাকে তার কেবিনে, তার ডেস্কেই—এমন কি স্বয়ং আধীর রায়ান চৌধুরীর সামনে বসেই কাজ করতে হচ্ছে। কেননা সম্পূর্ণ কাজ শেষ না হওয়া অব্দি,এখান থেকে বের না হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে আধীর।

সবমিলিয়ে তৃতীকা তার রাগ,ক্ষোভ কিংবা বিরক্তির পর্যায়সীমাকেই অতিক্রম করে ফেলেছে। এই কড়া, বদমেজাজী, গম্ভীর স্বভাবের আধীর রায়ানকে তার দু'চক্ষে সহ্য হচ্ছে না। মানলাম সে তার বস, কিন্তু এ কেমন তার ব্যবহার? পাওয়ার থাকলেও কেনো কাউকে,এতোটা রুক্ষ হতে হবে?

এসব ভাবতে ভাবতেই তৃতীকা বিরক্তির চাহনিতে দাঁত চেপে আড় চোখে আধীরকে দেখছিল। একইসাথে মনে মনে বিড়বিড় করে আওড়ায়,

"খারুস একটা!"

আর ঠিক তৎক্ষনাৎ আধীর তার ল্যাপটপ হতে মাথা তুলে, তৃতীকার দিকে তাকায়। নিমিষেই দুজনের চোখে চোখ পড়ে যায়। অকস্মাৎ এ ঘটনায় তৃতীকা ভড়কে গিয়ে কেঁদে ফেলবে এমন দশা। কিন্তু আধীরে এমন শান্ত,তীক্ষ্ণ দৃষ্টি হতে পালানোটা তার সম্ভব হচ্ছে না। যেন চাহনিতেই সে তাকে কাচ্চা গিলে খাবে।

তৃতীকা কিঞ্চিৎ ঢোক গিলে, চোখ নামিয়ে নিতে নিতেই—আধীর কিঞ্চিৎ বাঁকা হেসে বলে,

"আই নো, আ'ম লুকিং ঠু গুড। আজ পর্যন্ত যত মেয়েরই সুযোগ হয়েছে আমাকে সামনাসামনি হতে দেখার—তারা ঠিক এভাবেই হ্যাবলার মতো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখেছে আমায়। যা নিত্যন্তই বিরক্তিকর। কিন্তু আমি কখনো প্রত্যাশা করি না, আপনার মতো ব্যক্তিত্বরে কোনো মানুষ আমাকে ঠিক একই নজরে দেখুক!"

আচমকা এসকল কথা শুনে তৃতীকা যেন সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে যায়। সে বিস্ময়ের সহিত আধীরের দিকে চেয়ে থাকে। এই আধীর এসব কথার দ্বারা কি বোঝাতে চাইছে? সে বাকি মেয়েদের মতো তাকেও...ছিঃ! এ লোকের শখ কত। বাকি মেয়েদের অকালে বিবেক-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে বিধায়,তারও এখন একই দশা হয়েছে? অসম্ভব!

এসব ভাবতে ভাবতেই তৃতীকা তৎক্ষনাৎ মনে মনে আওড়ায়,

"এ লোকে সমস্যা কি! সে কি ভাবছে? এরমতো বুইড়া ব্যাটাকে কিনা আমি উল্টোপাল্টা নজরে দেখব? ছিহ্,কি চিন্তাভাবনা এনার!"

---"কি হলো,এখনই একই খেয়ালে পড়ে আছেন?"

পুনরায় আধীরে কথায় তৃতীকার ধ্যান ভাঙে। মনে মনে এক কথা বললেও, পরিস্থিতি সামাল দিতে সে নমনীয় স্বরে আওড়ায়,

"আমি মোটেও আপনাকে ওসব উলটাপালটা নজরে দেখছিলাম না। হুট করে শুধু চোখে চোখ পড়ে গিয়েছে।"

আধীর তীক্ষ্ণ নজরে তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর মুচকি হাসে। এবং পরক্ষণেই বলতে শুরু করে,

"ইট'স ওকে,আই নো...। এখন যান গিয়ে আমার জন্য কফি বানিয়ে আনুন।"

আচমকা এহেন কথা শুনে তৃতীকা বেশম খায়। কপাল কুঁচকে বলে,

"কি?"

আধীর খানিকটা বিরক্তি,গম্ভীর স্বরে আওড়ায়,

"আপনাকে কফি বানিয়ে আনতে বলেছি। ওখানে সবকিছু রাখা রয়েছে।"

দূরে থাকা একটি টেবিলের দিকে ইশারা করে,আধীর তার নিজের কাজে আবারও মনোযোগী হয়। এদিকে ইতস্ততভাবে তৃতীকা উঠে দাঁড়িয়ে, সেই টেবিলের দিকে এগিয়ে যায়। বুঝতে পারছে না এটা সে কিসের চাকরি করতে এলো৷ শেষে এই খারুসটার জন্য কফি বানাতে হচ্ছে। মন তো বলছে এই অফিসে আসার পর থেকেই তার জীবনে যত সমস্যা শুরু হয়েছে।

তৃতীকা টেবিলের কাছে এসে দেখে,এখানে কফি মেশিন হতে কফি বানানোর যাবতীয় জিনিসপত্র রয়েছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে এ লোক নিয়মিত কফি খায়। কিন্তু তৃতীকা কফি সম্পর্কে জানলেও,এটা বানানোর কোনো পদ্ধতি সম্পর্কে সে অবগত নয়। এছাড়া এটা কখনো খাওয়ার সুযোগও তার হয়নি। আর এদিকে এতো সব যন্ত্র, জিনিসপত্র দেখে তার মাথাটা ঘুরতে শুরু করল। ভাবতে লাগল, না জানি এটা বানাতে কতকিছু করতে হবে। অথচ সে তো কিছুই জানে না।

তৃতীকা একটা কাপ আর কফির বয়ামটা হাতে নিয়েই, উলোটপালোট করে তা দেখতে লাগল।পরক্ষণেই আবার পেছনে ফিরে একপলক দেখে নেয় আধীরকে। সে তো তার কাজে ব্যস্ত। কিন্তু তৃতীকা কি করবে তাই বুঝতে পারছে না।

এবার তৃতীকা বাধ্য হয়েই পেছনে ফিরে আধীরে উদ্দেশ্য বলে ওঠে,

"শুনছেন...!"

এইটুকু বলতে না বলতেই তৃতীকা থমকে যায়। এটা সে কিভাবে কথা বলছে। হ্যাঁ,সে আধীর রায়ানকে পছন্দ করে না। কিন্তু অফিসে এভাবে এক অর্ধপরিচিত লোককে কিভাবে সে এমন সম্মোধনে ডাকে?

তৃতীকা নিজের উপর বিরক্ত হয়। তবে সে নিজেকে সামলে নিয়ে, কিছু বলে ওঠার পূর্বেই—আধীর ভ্রু কুঁচকে তৃতীকার দিকে তাকায়। মূহুর্তে তৃতীকা ঘাবড়ে যায়।প্রতিবার এ কেমন পরিস্থিতির সম্মূখীন হচ্ছে!

আধীরে চাহনি হতে পালানোর মতো সুযোগ তৃতীকার নেই। সে কোনো মতে ইতস্তত ভঙ্গিতে আওড়ায়,

"স্যার,বলছিলাম এটা কিভাবে বানায়?"

তৃতীকার কথা শুনে আধীর কিছুটা অবাক হয়৷ এবং সে গম্ভীর স্বরে বলে ওঠে,

"আপনি কফি বানাতে পারেন না?"

তৃতীকা নিস্পৃহে জবাব দেয়,

"না! এতো সব জিনিস দেখে,কিছুই বুঝতে পারছি না।"

আধীর রায়ান কিছু একটা ভেবে নিয়ে বলে,

"ওখানে দেখুন গরম পানি রয়েছে। আপনি যাস্ট পানির সাথে কফি মিক্স করে নিয়ে আসুন। আপাতত আর কিছুই করতে হবে না।"

এই বলেই সে আবারও তার কাজে মনযোগী হয়। এদিকে তৃতীকাও তার কথামতো গরম পানিতে বেশ খানিকটা কফি পাউডার মিশিয়ে নেয়৷ তবে মূহুর্তেই তার কিছু একটা মনে পড়তেই সে বলে,

"আপনার এখানে তো চিনি নেই। চিনি ছাড়া কিভাবে খাবেন এটা?"

নিমিষেই আধীর মুখ তুলে তার দিকে তাকিয়ে, গম্ভীর স্বরে বলল,

"আপনাকে চিনি দিতে কে বলেছে?"

---"চিনি ছাড়া খাবেন নাকি আপনি?"

---"জ্বী, আপনি ওভাবেই নিয়ে আসুন।"

তৃতীকার এহেন কথাবার্তায় আধীর ভারী শ্বাস ফেলে। সে কিছুটা অবাক হওয়ায় পাশাপাশি, বিরক্তও বটে। এদিকে তৃতীকা মনে মনে বিরক্তির স্বরে আওড়ায়,

"বেটা চিনি ছাড়া চা-কফি খাওয়া লোক। এইজন্যই তো মুখ দিয়ে মধু ঝরে না৷ মধু ঝরবে কি করে? এ খচ্চর খারুসটার মুখে তো শুধু বি'ষ আর বি'ষ!"

তৃতীকা আর একটু দেরি না করে, সরাসরি কফির কাপটা নিয়ে আধীরে কাছে আসে।তার ডেস্কের উপর কাপটা রেখে,তার দিকে খানিকটা এগিয়ে দেয়। অতঃপর সে নিজের সিটে বসে আবারও কাজ শুরু করে। এদিকে আধীর তৃতীকার বানানো কফির দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে। সে কিছুক্ষণ কুচকুচে কালো কফির মিশ্রণের দিকে তাকিয়ে থাকার পর দীর্ঘ ভারী শ্বাস ফেলে। কফির মিশ্রণ দেখেই বোঝা যাচ্ছে,এতে কফির পরিমাণ অনেক বেশি। এটা তৃতীকা ইচ্ছে করে করেছে,নাকি অবুঝ মনেই—তা আধীরের বোধগম্য নয়। সে ভারী শ্বাস ফেলে, তৃতীকার উদ্দেশ্য বলে,

"মিস তৃতীকা!"

আধীরের কথায় তৃতীকা মাথা উঁচিয়ে তার দিকে তাকায়। এবং স্বাভাবিক ভাবে বলে,

"জ্বী, স্যার!"

আধীর কফির মিশ্রণের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই বলে,

"আপনি কফি খান না?"

তৃতীকা কিছুটা ইতস্ততস্বরে বলে,

"না, স্যার। আমি কখনো কফি খাইনি।"

তৃতীকার এহেন কথায়, আধীর খানিকটা অবাক স্বরে বলল,

"কখনো খাননি?"

তৃতীকা নিস্পৃহে মাথা নেড়ে বোঝায়,‘না, সে কখনো কফি খায়নি।’

এদিকে আধীর কি যেন ভেবে নিয়ে, কফির কাপটা তৃতীকার দিকে আলতোহাতে ঠেলে এগিয়ে দেয়। এবং গম্ভীর স্বরে বলে,

"নিন,এবার খান।"

অকস্মাৎ আধীরের এহেন পদক্ষেপে তৃতীকা চমকায়। সে ইতস্তত ভঙ্গিতে আধীরের দিকে তাকাতেই,আধীর স্বাভাবিক স্বরে আবারও বলে,

"নিন, খেয়ে দেখুন৷ কেমন বানিয়েছেন, নিজের কফি৷"

তৃতীকা বুঝে উঠতে পারছে না, এখন তার কি করা উচিত। এদিকে আধীর নিজের মতো বলে নিয়ে,আবারও তার কাজে মনোযোগী হয়েছে।

তৃতীকা খানিকটা সময় ভাবনা চিন্তার পর, কফির কাপটা আলতোভাবে নিজের কাছে টেনে নেয়। কিছুটা সংকোচ বোধ হতেই, কফির কাপটা ঠোঁট অব্দি ছোঁয়ায়। কিন্তু এক ঢোক গিলতেই যেন তার সমস্ত দেহ—রুহু অব্দি কফির তেঁতো স্বাদে বিষিয়ে ওঠে। তৃতীকা চোখমুখ কুঁচকে, বেখেয়ালীতে ঠাস করে কফির কাপটা ডেস্কে রাখে। অল্পের জন্য কফি ডেস্কের উপরে থাকা কাগজের উপর না পড়লেও, তৃতীকার চোখমুখ কুঁচকানো অভিব্যক্তিতে, আধীর গম্ভীর দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই, ঠোঁট চেপে কিঞ্চিৎ হেসে ফেলে।

এদিকে চোখমুখ কুঁচকানো অবস্তাতেই, তৃতীকা প্রচন্ড বিরক্তির সাথে বলে ওঠে,

"ছিহ্! জ*ঘন্য! এটা কি জিনিস? এতো বিদঘুটে কেনো এর স্বাদ? ওয়াক থু!"

তৃতীকার এহেন অভিব্যক্তিতে গম্ভীর আধীর রায়ান, আকস্মিক শব্দ করেই হেসে ফেলে। অন্যদিকে তৃতীকা চোখমুখ স্বাভাবিক করে, আধীরকে এভাবে হাসতে দেখেই রেগেমেগে সোজা বোম হয়ে যায়৷ মুখে কিছু না বললেও, মনে মনে প্রচন্ড রাগ-বিরক্তির সাথে আওড়ায়,

"অসভ্য! বজ্জাত বেটা! শা"লা খারুস এটা ইচ্ছে করে করেছে। কেমন অসভ্যের মতো করে হাসছে। খোদা তুমি আমাকে এ কোথায় ফাঁসিয়ে দিলে? এই বুড়ো বজ্জাত খারুস তো আমার জীবনটাই শেষ করে দেবে!"

চলবে_________

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন