ফন্ট সাইজ:
থিম:
হয়তো আমার নয়তো কারো নয়

৩য় পর্ব

লেখক: সিমু নোহা

বাইরে তখন ঝড়ের তাণ্ডব যেন সব সীমা ছাড়িয়ে এক প্রলয়ঙ্করি রূপ ধারণ করেছে। বাতাসের হা-হু চিৎকারে চারপাশ কেঁপে উঠছে মুহুর্মুহু, ধেয়ে আসা তীব্র দমকা হাওয়ার আঘাতে একে একে ছোট ছোট গাছপালার গোড়া উপড়ে আছড়ে-পিছড়ে পড়ছে জনশূন্য রাস্তার ওপর। জানালার কাচে বৃষ্টির ফোটাগুলো প্রচণ্ড বেগে ঠিকড়ে এসে আছড়ে পড়ছে।

এক অদ্ভুত অস্থিরতায় নিজের ঘরে অনবরত পায়চারি করে চলেছে সায়েম। একবার ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাচ্ছে, আবার ফিরে আসছে অন্যদিকে। বাইরে ঝড়ের যে তাণ্ডব চলছে, তার চেয়েও বড় এক তাণ্ডব বইছে এখন সায়েমের ভেতরে। বুকের ভেতরটা কেন যেন এক নামহীন, অজানা অনুভূতিতে তোলপাড় করছে। তার দীর্ঘদিনের স্থির মস্তিষ্ক আজ কোনো এক অদ্ভুত অচেনা টানে টালমাটাল।

পায়চারি করতে করতেই হঠাৎ কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হলো তার। মনের ভেতরের অস্থিরতা সামলাতে না পেরে পকেট থেকে ফোনটা বের করে এক মুহূর্তও না ভেবে ডায়াল করল আয়ানের নম্বরে। ওপাশ থেকে আয়ানের কল রিসিভ করার সাথে সাথেই, কোনো ভূমিকা না করে সায়েম একরকম আদেশসূচক কণ্ঠে বলে উঠল,

"আজ গাছের নিচে যে মেয়েটাকে দেখেছিলাম, ওই মেয়েটার সম্পূর্ণ ডিটেইলস আমার চাই।"

সায়েমের এই অনাকাঙ্ক্ষিত আর অনড় আদেশ শুনে আয়ানের মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। সে কিছুটা হকচকিয়ে গিয়ে চিৎকার করে উঠল,

"কী বলছিস তুই? মাথা ঠিক আছে তোর? এমন একটা হুট করে দেখা অচেনা-অজানা মেয়ের সম্পূর্ণ ডিটেইলস আমি কীভাবে বের করব? আমি কি কোনো গোয়েন্দা নাকি?"

কিন্তু সায়েমের গলায় নমনীয়তার কোনো লেশমাত্র নেই। সে বরফশীতল অনমনীয় কণ্ঠে আবার তাগিদ দিয়ে বলল,

"আমি অত কিছু জানি না। আমি যেটা বলেছি, ঠিক সেটাই করবি।"

আয়ান ওপাশ থেকে একটু চিন্তিত কণ্ঠে বলল,

"কিন্তু ভাই, অত ঝড়ের মাঝে গাছের নিচে একা দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা আদৌ মানুষ তো? নাকি কোনো জিন-পরী বা অন্য কিছু? তুই নিশ্চিত তো ওটা মানুষ ছিল?"

আয়ানের এই ধরনের ফালতু কথা শুনে সায়েমের ভেতরের চেপে রাখা রাগগুলো মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলে উঠল। তার চোখ দুটো রাগে লাল হয়ে এল। সে দুই পাটি দাঁত একসাথে চেপে, চোয়াল শক্ত করে ফিসফিসিয়ে বলল,

"উল্টাপাল্টা কথা বলা বন্ধ কর আয়ান। নইলে কিন্তু এই ঝড়ের মধ্যেই তোর বাড়িতে গিয়ে তোকে জ্যান্ত মাটিতে গেড়ে দিয়ে আসব, মনে রাখিস।"

সায়েমের কথা বলার এই ধরন শুনে আয়ান নিমিষেই চুপ হয়ে গেল। সে ভালো করেই জানে, সায়েম তার পুরনো সেই চিরচেনা রাগী রূপে ফিরে এসেছে। ছোটবেলা থেকেই সায়েমের রাগ একদম আকাশ ছোঁয়া। রেগে গেলে সে কী করতে পারে আর কী করতে পারে না, তার কোনো ঠিকঠিকানা থাকে না। যদিও সব সময় সে রাগ দেখায় না, শান্ত আর গম্ভীর থাকে; কিন্তু রাগ যখন মাথায় চড়ে, তখন তাকে সামলানো অসম্ভব।

ছোট থেকে সায়েমের এই চড়া রাগ সহ্য করতে করতে আজ একটু সুযোগ পেয়ে আয়ানও সামান্য ভাব নেওয়ার জন্য সায়েমের সাথে রাগ দেখিয়েছিল। কিন্তু সায়েমের হুঙ্কারে তার সেই ভাব মুহূর্তেই উবে গেছে যেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আয়ান তড়িঘড়ি করে নরম কণ্ঠে বলল,

"আচ্ছা ঠিক আছে, তুই রাগিস না ভাই... আমি দেখছি কীভাবে কী করা যায়।"

আয়ানের মুখ থেকে আশ্বাসসূচক শব্দটা বের হতে না হতেই, তাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সায়েম সশব্দে কলটা কেটে দিল। ফোনটা বিছানায় ছুড়ে ফেলে সে আবার জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। বাইরের ঝড় তখনও থামেনি, আর তার মনের ঝড়ের গতিও যেন আরও একধাপ বেড়ে গেছে।

.

.

এক গাঢ় ও থমথমে রাতে সিকদার বাড়ির বিশাল ফটকের সামনে এসে থামল একটি নীল রঙের টয়োটা গাড়ি। গাড়ি থামার শব্দটুকু ছাড়া চারপাশটা তখন অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতায় ডুবে ছিল। গাড়ি থেকে নেমে এল মিহি এবং তার বড় ভাই আদি। চারিদিকে ঘুটঘুঁটে অন্ধকার, কেবল ঝড়ের শেষ বিকেলের ঝাপসা হাওয়ায় চারপাশের পরিবেশটা কেমন যেন ভারী হয়ে আছে। আদি বোনকে চুপিচুপি ইশারা করতেই মিহি পা টিপে টিপে কোনো শব্দ না করে বাড়ির সদর দরজা পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল। আদিও মিহির একেবারে পেছনে পেছনে সাবধানে বাড়ির ভেতরে ঢুকে।

ভেতরে ঢুকে মিহি সতর্ক চোখে চারপাশটা একবার ভালো করে পরখ করে নিল। ড্রয়িংরুমে কেবল এক কোণে সামান্য নিভু নিভু আলো জ্বলছে, আশেপাশে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। চারপাশ ফাঁকা দেখে মিহি আশ্বস্ত হয়ে ধীরে-সুস্থে যেমনই ওপরের সিঁড়ির দিকে পা বাড়াবে, ঠিক তখনই হঠাৎ পুরো ড্রয়িংরুমের সবগুলো বাতি একসাথে জ্বলে উঠল! মুহূর্তে চারপাশটা ঝলমলে আলোয় আলোকিত হয়ে গেল। হঠাৎ আলো জ্বলে উঠলেও মিহি সেদিকে পাত্তা না দিয়ে দ্রুত দৌড়ে নিজের ঘরের দিকে পালিয়ে যেতে চাইল। কিন্তু মাঝপথেই পিছন থেকে ভেসে আসা এক পুরুষালী ভারী কণ্ঠের ডাকে থমকে দাঁড়াল সে। বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল, একমুহূর্তে পুরো শরীর যেন শক্ত হয়ে গেল মিহির। নিজের অজান্তেই গলায় একটা ঢোক গিলে সে আস্তে আস্তে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাল।

সামনে দুই হাত পেছনে দিয়ে গম্ভীর ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন তার বাবা সাইদুল সিকদার। আর তার ঠিক পেছনেই নিজের অপরাধী মুখটা কাঁচুমাচু করে দাঁড়িয়ে আছে আদি! আদির চেহারা দেখেই মিহি বুঝে গেল, সব শেষ। মনে মনে কেবল এটুকুই ভাবল, "শেষ রক্ষা আর হলো না!"

সাইদুল সিকদার থমথমে কণ্ঠে বলে উঠলেন,

"এদিকে এসো।"

মিহি ভয়ে কাঁপা পা ফেলে বাবার সামনে এসে অপরাধীর মতো দাঁড়ায়। সাইদুল সিকদার তার দিকে একরাশ কঠোর দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন,

"তোমাকে আমি কেন বাইরে যেতে দিই না, এবার বুঝতে পেরেছ তো? তোমার বান্ধবী সেই কখন বাড়িতে ফিরে গিয়েছে! আর তুমি? যদি কোনো বিপদ আপদ হয়ে যেত?

মিহি তোতলাতে তোতলাতে কাচুমাচু হয়ে বলতে চাইল,

"আসলে…বাবা..."

"চুপ!"

মিহির কথার মাঝপথেই হুঙ্কার দিয়ে তাকে থামিয়ে দিলেন সাইদুল সিকদার। মিহি আর কোনো কথা বলার সাহস পেল না, একপাও এগোল না—মাথা নিচু করে নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সাইদুল সিকদার গম্ভীর গলায় আবার বললেন,

"তোমার ভাইকে যদি আমি না পাঠাতাম, তবে তুমি কি এই ঝড়ের মধ্যে সারারাত ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে? বাড়ি ফেরার কোনো খেয়াল ছিল তোমার?"

মিহির মুখ থেকে একটা শব্দও বের হলো না। অপরাধবোধ আর ভয়ে সে মাথা নিচু করেই একবার ভাইয়ের দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকাল। বোনের এমন কাতর মুখ দেখে আদির মনে মায়া হলো। সে বাবাকে একটু শান্ত করার ভঙ্গিতে নরম গলায় বলল,

"বাবা, এবারের মতো ওকে মাফ করে দাও। ও তো এমনিতেও একা একা কোথাও যায় না..."

আদির কথা শেষ হতে না হতেই সাইদুল সিকদার বলে উঠলেন,

"তোমাদের আশকারা পেয়েই তো ও মাথায় উঠেছে!

“ওকে আশকারা তুমিও তো কম দাও না বাবা!"

আদির আচমকা পাল্টা জবাবে সাইদুল সিকদার কিছুটা ইতস্তত বোধ করলেন এবং চুপ হয়ে গেলেন। পরমুহূর্তে নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি সরাসরি মিহির দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বললেন,

"এমন কাণ্ড যাতে আর কোনোদিন হতে না দেখি! যাও, এখন নিজের ঘরে যাও।"

ঘরে যাওয়ার অনুমতিটুকু মেলামাত্রই মিহি আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না, প্রায় দৌড়েই নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াল। কিন্তু ওপরের করিডোরের মাঝপথে যেতেই তার দেখা হয়ে গেল পরিবারের বাকি সদস্যদের সাথে। সিঁড়ির মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার মা ইয়াসমিন সুলতানা, চাচাতো বোন তিশা এবং ছোট চাচী রিনা আক্তার। নিশ্চয়ই ড্রয়িংরুমের কাণ্ড তারা দূর থেকেই খেয়াল করছিলেন। মিহি এত মানুষের সামনে আর দাঁড়াল না, তাদের কাউকে কিছু না বলেই দ্রুত পাশ কাটিয়ে চলে গেল। তার চোখে তখন জল টলমল করছে, কান্নাটা যেন বাঁধ মানতে চাইছে না। বাবা তাকে একটু বকা দিলেই তার বুকটা ফেটে যায়, মনের ভেতর ভীষণ কষ্ট হয়। বাবা যেমন তাকে অতিরিক্ত ভালোবাসেন তেমন তার ভালোর জন্য অতিরিক্ত শাসনও করেন, এটা মিহি বোঝে কিন্তু মিহির মন বোঝে না।

সকাল এগারোটা বেজে পনেরো মিনিট। ঝড়ের তান্ডব কেটে গিয়ে বাইরে তখন একফালি মিষ্টি রোদ ফুটে উঠেছে। বন্ধ জানালার কাঁচের ফাঁক দিয়ে উপচে পড়া রোদের কিরণ এসে পড়েছে ঘরের মেঝেসহ খাটের ওপর। আড়মোড়া ভেঙে ঘুম ভাঙল মিহির। ঘুম ভেঙেই অলস ভঙ্গিতে বিছানায় উঠে বসল সে। তারপর অবহেলায় পাশে পড়ে থাকা মোবাইলটা হাতে নিয়ে সময়টা দেখতেই চমকে উঠে একেবারে লাফিয়ে উঠল!

"হায় আল্লাহ!—এক মুহূর্তে ঘরের ভেতরের নিস্তব্ধতা ভেঙে চিৎকার করে মাকে ডাকল মিহি,

"মা! ও মা! তুমি কোথায়?"

মেয়ের অত বড় হাঁকডাক শুনে ইয়াসমিন সুলতানা আর স্থির থাকতে পারলেন না। তড়িঘড়ি করে এসে মিহির ঘরে ঢুকলেন। ব্যস্ত গলায় বললেন,

"কী হয়েছে? এভাবে চিল্লাচ্ছিস কেন সকাল সকাল?"

মিহি ব্যাকুল চোখে মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে ইঙ্গিত করে বলল,

"দেখো তো ক'টা বাজে! আমার না আজ কলেজে ক্লাস ছিল? তুমি আমাকে ডাকোনি কেন?"

ইয়াসমিন সুলতানা মেয়ের উদ্বিগ্ন চেহারা দেখে মৃদু হেসে এগিয়ে এলেন। মিহির পাশে বিছানায় বসতে বসতে বললেন,

"কাল অত রাতে ঝড়ের মধ্যে বাড়ি ফিরেছিস, শরীরটা তো এমনিতেই ক্লান্ত ছিল। তাই তো তোর বাবা তোর কথা ভেবে বলে দিয়েছেন তোকে সকালে ঘুম থেকে না ডাকতে।"

বাবার কথা শুনতেই মিহির মনটা এক নিমিষে ফুরফুরে হয়ে গেল। বাবার প্রতি জমানো কাল রাতের সব অভিমান যেন এক লহমায় ধুয়েমুছে সাফ! কিন্তু পরক্ষণেই তার মনে পড়ে গেল, আজ কলেজে একটা ভীষণ ইম্পর্টেন্ট ক্লাস ছিল। ভাবল—সময় তো অনেক গড়িয়ে গেছে, এখন আর কলেজে গিয়ে লাভ নেই, আজ আর যাওয়া হচ্ছে না।

ইয়াসমিন সুলতানা বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললেন,

"আজ যখন কলেজে যাসইনি, তখন তিশার সাথে একটু আশেপাশ থেকে ঘুরে আয়। বেচারি মেয়েটা তোকে কতদিন ধরে বলছে একটা দিন সাথে বের হওয়ার জন্য।"

মায়ের মুখে এমন কথা শুনে মিহির চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল। সে বিশ্বাসই করতে পারছিল না, কালকের ঘটনার পর মা তাকে আবার ঘুরতে যাওয়ার কথা বলছে! সে অবাক হয়ে বলল,

"মা! আমি আবারও ঘুরতে যাব? কাল রাতে বাবা কত বকাবকি করল, দেখলে না? আবার যদি রেগে যান?"

ইয়াসমিন সুলতানা হেসে উঠে বললেন,

"আরে, তোরা কি সারা দিনের জন্য দূরে কোথাও যাচ্ছিস নাকি? এই তো সামনে থেকেই একটু ঘুরে চলে আসবি। এর মধ্যে আর বাবা কী বলবে!"

মা যখন নিজেই অভয় দিচ্ছেন, তখন আর মিহি বারণ করল না। মৃদু হেসে হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ল। ইয়াসমিন সুলতানা তাকে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিচে নামতে বলে নিচে নেমে গেলেন। মা ঘর থেকে বের হতেই মিহি ঝটপট বিছানা ছেড়ে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তার হাঁটু পর্যন্ত দীর্ঘ, ঘন কালো চুলগুলো যত্ন করে পেঁচিয়ে মাথার ওপর একটা আলগা খোঁপা করে বেঁধে নিল। সত্যি বলতে, এত বড় চুল সামলানো যে কী ঝক্কির কাজ, তা কেবল মিহিই জানে! চুলগুলো তাকে ভীষণ জ্বালায়, কিন্তু তাও সে নিজের ইচ্ছেমতো এক ইঞ্চি চুলও কাটতে পারে না—শুধুমাত্র বাবার কারণে। সাইদুল সিকদার তার মেয়ের এই লম্বা চুল বড্ড ভালোবাসেন।

তৈরি হয়ে মিহি সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিল, ড্রয়িংরুমে চোখ পড়তেই তার চোখ দুটো খুশিতে ঝলঝল করে উঠে। ডাইনিং টেবিলে বসে কফি খাচ্ছিলেন তার ছোট চাচা আনোয়ার সিকদার! চাচাকে দেখা মাত্রই মিহি আনন্দের আতিশয্যে এক দৌড়ে নিচে নেমে এল এবং পিছন থেকে গিয়ে চাচার গলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। আনোয়ার সিকদার হেসে উঠে পরম মায়ায় মিহির হাত দুটো ধরে তাকে টেনে এনে নিজের পাশের চেয়ারে বসালেন। মিহি অভিমানের সুরে আদুরে গলায় জিজ্ঞেস করল,

"ছোটু আব্বু, তুমি কখন এলে? আমাদের তো কিচ্ছু জানাওনি!"

আনোয়ার সিকদার একটু হাসার ভঙ্গিতে বললেন,

"এই তো মা, কিছুক্ষণ হলো পৌঁছালাম।"

চাচার এই সংক্ষিপ্ত উত্তর শুনে মিহি সাথে সাথে গাল ফুলিয়ে মুখ হাঁড়ি করে ফেলল। ভাতিজির এমন বাচ্চাদের মতো মিষ্টি অভিমান দেখে আনোয়ার সিকদার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। তিনি মিহির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে পরম ভালোবাসায় বললেন,

"ব্যাস ব্যাস, আর রাগ করতে হবে না। তোদের ছেড়ে আমি আর কোথাও যাচ্ছি না। এবার থেকে একবারে এখানেই থাকব, তোদের সাথেই।"

চাচার মুখে এই আনন্দের খবরটা শোনা মাত্রই মিহি একগাল হেসে পুরো বাড়ি যেন একাই মাথায় তুলে নিল। সিকদার পরিবারটা আসলে এমনই—একটা ছোটখাটো, ভীষণ হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত যৌথ পরিবার। পরিবারের প্রতিটি মানুষ একসাথে মিলেমিশে ভালোবাসা আর আনন্দে থাকতে পছন্দ করে।

বাড়ির সবচেয়ে বড় অভিভাবক হলেন মিহির বাবা, সাইদুল সিকদার। বাইরে কঠোর স্বভাবের হলেও ভেতরের মানুষটা পরিবারের সবার প্রতি প্রচণ্ড মমতাময়। আর আনোয়ার সিকদার হলেন তার ছোট ভাই। সাইদুল সিকদারের দুই সন্তান—বড় ছেলে আদি এবং ছোট মেয়ে মিহি। অন্যদিকে আনোয়ার সিকদারেরও দুই সন্তান—মেয়ে তিশা এবং একটি ছেলে। তবে তার ছেলে গত কয়েক বছর ধরে এই বাড়িতে থাকে না, হোস্টেলে থাকে। বাড়ির দুই গৃহিণী—মিহির মা ইয়াসমিন সুলতানা এবং ছোট চাচি রিনা আক্তার—সংসারের সব কাজ আর ভালোবাসার বন্ধন দিয়ে পুরো পরিবারটাকে পরিপূর্ণ করে রেখেছেন।

মিহির চাচা আনোয়ার সিকদার তার কাজের খাতিরে বছরের বেশিরভাগ সময়টা কুমিল্লাতেই কাটাতেন। কিন্তু এবার তিনি আর দূরে থাকবেন না, একেবারে পরিবারের ভালোবাসার টানে ফিরে এসেছেন নিজের বাড়িতে, সবার মাঝে।

চলবে……

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন