#জল_তরঙ্গে— #পর্বঃ৬
#ইরফা_মাহনাজ
❌কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ❌
(আলতা বাদে বাকি চরিত্রগুলো খুব একটা পসিটিভ নয়। প্রত্যেক চরিত্রের নিজস্বতা আছে।)
_________________
মায়ের ইমোশনাল ব্ল্যাকমেলের কাছে তরঙ্গের সিদ্ধান্ত টিকেনি। অগত্যা নিজের ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও তাকে সায় জানাতে হয়েছে আজকের সন্ধ্যার আয়জিত এনগেজেমেন্ট অনুষ্ঠানে। ছেলের দ্বিতীয় বারের বিয়েতে স্রোতের খুশি যেনো আর ধরে না।
আনন্দের সাথে সকলকে দাওয়াত দিচ্ছে। সঙ্গী মেয়ে তটিনী। এই মেয়েটাই তো একদিন নিজের স্বার্থে গুঞ্জনের সাথে নিজের ভাইয়ের জুটি বাধে আর আজ আবার এই মেয়েটাই ভাইয়ের সংসার ভাঙার জন্য দায়ী। "আসলেই নারী বড্ড বিচিত্র চরিত্রের"! এদের সহজে ধরতে পারা কিংবা পড়তে পারা চারটি খানি কথা না।
নিজের আলিশান রুমের বিশাল বেডের মাঝে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে তরঙ্গ। গায়ের খয়েরি রঙা টিশার্ট কুঁচকে যাওয়া। কমফোর্টার পায়ের নিচে পড়ে আছে। রাতে ভালো করে ঘুমাতে পারেনি ফলস্বরূপ এখনো বিছানা ছাড়তে সে সক্ষম হয়নি।
ডাইনিং এ বসে লিস্ট করছে তটিনী। কাগজে লিখছে আজকের প্রয়োজনীয় সামগ্রির নাম যেগুলো তারা আজ কিনবে। মার্কেটে গিয়ে এনগেজমেন্টের তত্ত্বের সব গুলো জিনিস ভালো ভাবে আরেকবার পরখ করে নিচ্ছে।
তন্মধ্যে সেথায় ছুটে আসে স্রোত। মেয়েকে জিজ্ঞেস করে,
--- কিরে তোর কতদূর হলো? সকাল সকাল বেরিয়ে পড়তে হবে এসব বিয়ের বাজার অনেক সময় সাপেক্ষের।
--- উফ মা! লিখছি তো। আমি তো বসে নেই। সেই সকাল থেকে শুধু এক কাপ চা খেয়েছি। বিয়ে বাড়ি বলে কথা।
--- আহা রাগছিস কেনো? আর শোন জামাইয়ের কি খবর? আসবে কবে?
--- তোমার জামাইর কথা চিন্তা করো না। সে ঠিক সময়ে চলে আসবে।
--- কথা হয়েছে বুঝি?
--- হুম রাতেই হয়েছে। তা তোমার ছোট ছেলে কোথায়? বড় ভাইয়ের বিয়ে সে এখন গেছে ট্যুরে! এই তুমি লাই দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলেছো।
--- ওর কথা বাদ দে। ওটাকে আমি মানুষ করতে পারলাম না। তরঙ্গকে এখনো বসতে বললে বসবে আর ওটা! আমার একটা কথাও শুনবে না। ওর বিয়ে দিতেও আমার ভয়।
--- তবে মা তোমার ছেলে তরঙ্গ ও কিন্তু এখন তোমার হাতের নাগালের বাহিরে চলে যাচ্ছে।
--- আমি যেতে দিলে তো। আচ্ছা তুই এদিক সামলে সময় থাকতেই বেরিয়ে পর। আমি দেখি তোর বাবা কমিউনিটি সেন্টারের কি করলো তারপর ফোন দেওয়া।
স্রোত চলে গেলে তটিনী আবার নিজের কাজে মনোনিবেশ করে। তন্দ্রারার বাবা স্রোতের একমাত্র ভাই। যেহেতু তন্দ্রার সাথেই বিয়ে তাই স্রোতদের বাপের বাড়ির লোক কনে পক্ষ আর ওরা বরপক্ষ। তটিনীর আপন চাচা না থাকলেও চাচাতো চাচা, ফুফু আছেন।
সেইসব চাচাতো, ফুফাতো ভাই বোনদের ও তাদের মা বাবাদের আসতে বলা হয়েছে। কাজিন পার্টি মিলেই আজ যাবে এনগেজমেন্টের জিনিসপাতি কিনতে।
********************
সাংসারিক যাতাকলের পর ডিভোর্স হয়ে গিয়ে এখন ফ্রি গুঞ্জন। স্বাধীন, মুক্ত। নেই শাশুড়ি ননদের কুটকাচালি। নেই এই সকালের নাস্তা বানানোর তাড়া, সারাদিন কি রান্না করবে সেসব চিন্তা। ঘামে ভিজে হাত পুড়িয়ে রান্না বান্না করেও মন না পাওয়ার অসহ্য সেইসব কিছুই নেই।
নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী রান্না করলো, আবার মন না চাইলে কিনে আনলো। একজন মানুষ আর কত কি খাবে এটুকু কেনাই যায়। গুঞ্জন নিজের সিঙ্গেল লাইফ ভীষণ উপভোগ করছে।
--- শালা*র মানুষ বিয়ে যে কেনো করে! সিঙ্গেল লাইফ ইজ দ্যা বেস্ট লাইফ।
সকালে ওঠার সেই তাড়াহুড়ো নেই। অলস্য ভঙ্গিতে বিছানা ছাড়লো। হামি দিয়ে আরমোড়া ভেঙ্গে বিছানা ঝাড়ু দিয়ে বিছানা ঝাড়লো।
ফ্রেশ হয়ে এসে চা বসালো।গরুর দুধ দিয়ে ঘন করে চা বানাবে। মোবাইল অন করে চার্জ না থাকায় সেটা চার্জে বসিয়ে দেয়। তারপর নিজের মনের মতো করে এককাপ চা করে। ফোন খুলে খাটের উপর বসে।
ইউটিউবে গিয়ে শর্টস দেখছে আর চায়ের মধ্যে বিস্কিট ভিজিয়ে খাচ্ছে। আয়েশ করে বসে চা খাওয়ার মজাই আলাদা। আর তার উপর যদি হয় পাক্কা চা খোর! চা শেষে গুন গুন করে গেয়ে উঠে,
"শুকনো পাতার নূপুর পায়ে
নাচিছে ঘুর্ণিবায়
জল তরঙ্গে ঝিল্মিল্ ঝিল্মিল্
ঢেউ তুলে সে যায়॥
দীঘির বুকে শতদল দলি'
ঝরায়ে বকুল-চাঁপার কলি
চঞ্চল ঝরনার জল ছল ছলি
মাঠের পথে সে ধায়॥
বন-ফুল আভরণ খুলিয়া ফেলিয়া
আলুথালু এলোকেশ গগনে মেলিয়া
পাগলিনী নেচে যায় হেলিয়া দুলিয়া
ধূলি-ধূসর কায়॥
ইরানি বালিকা যেন মরু-চারিণী
পল্লীর-প্রান্তর-বনমনোহারিণী
আসে ধেয়ে সহসা গৈরিক বরণী
বালুকার উড়্নি গায়॥"
গানটায় গুঞ্জন ভীষণ ভাবে অবসেসড। ও একটা দিনও যাবেনা যে এই গান না গেয়ে, না শুনে থাকে। ও যখন এই গানটা গায় নিজের মনের ভিতর থেকে সে গানের লিরিক্স এর প্রতিটা লাইন উপভোগ করে।
গান গাইতে গাইতে টুকটাক কাজ গুলো করে ফেলে। সকালে গুঞ্জনের শুধু এক কাপ চা আর বিস্কিট হলেই চলে। আলতার যাওয়া থেকে ওর সাথে এখনো কথা হয়নি।
কেমন আছে, কি করছে আল্লাহ জানে। আলতার গুঞ্জনের অসুস্থতা নিয়ে টেনশন হওয়ায় বুঝি দৈবাত ভাবে গুঞ্জনের জ্বরবাবাজি পলায়ন করেছে। আর গুঞ্জন এখন ফুরফুরে মেজাজে আছে।
********************
আলতা আর তরণের কাছাকাছি আসায় সিটি বাজিয়ে উঠে তরণের বন্ধুমহল। ওদের দিকে বিরক্ত নজরে তাকায় তরণ। পরপরই আলতার কোমরে চাপ দেয়।
আলতা কেঁপে উঠে। তরণ কাঠখোট্টা স্বরে বলে,
--- ট্রেন জার্নি কি আমার কোলে বসেই করার ইচ্ছে?
তড়িঘড়ি করে উঠতে গেলেই পুনরায় বাধে বিপত্তি। আলতার ওড়নার সাথে তরণের শার্টয়ের বোতাম ফেঁসে যায়। উঠতে গেলেই ওড়নার টান বেজে ধপ করে আবারো ওর কোলে বসে পড়ে।
--- আই থিং শি লাইকস ইয়্যু'র ল্যাপ্স ব্রো।
সূর্যের কথা শুনে তরণ তাকায় আলতার দিকে। ভালো মতো স্ক্যান করে শয়তানের মতো হাসে। দন্তের পিস্টোন পিষ্ট করে নিম্ন অধর। রমণীর কোমরের খাঁজে পুরুষালি হাত গুঁজে নিজ দিকে প্রেস করে।
আলতার নাজুক দেহখানা থরথর করে কাঁপে। ভীত চোখে তাকায়। নিজের ভুল স্বীকার করে জানায়,
--- আ'ম সো সরি।
তরণের ঠোঁটের আগায় দেখা মিলে বাঁকা হাসি। অহংকারি পুরুষটি তার দম্ভর ন্যায় ঘাড় নামিয়ে রমণীর কানের কাছে মুখ নামায়। তরণের উত্তপ্ত নিঃশ্বাস রমণীর গাল দুটো গরম করে তোলে।
চোখ খিচিয়ে নিয়ে শুধায়,
--- ক... কি করছেন?
হাসে অসভ্য পুরুষ। হ্যাস্কি ভয়েজে বলে,
--- ইজ মাই ফ্রেন্ড রাইট? ডু ইয়্যু লাইক মাই ল্যাপ্স?
--- না। বিষয়টা সম্পূর্ণ ভুল। আমার চুল আটকে গেছে আপনার শার্টয়ের সাথে।
--- আই হ্যাভ নো প্রবলেম ইফ ইয়্যু ওয়ান্ট টু সিট দেয়ার। বাই দি ওয়ে আই লাইক দিস পজিশন। ফিলিং ডিস্টিং ডিস্টিং!
*******************
মার্কেটে এসেছে গুঞ্জন। আজকে তরঙ্গের এনগেজেমেন্ট আর সে শপিং করবে না! আফটার অল তরঙ্গের এক্স ওয়াইফ সে। তাকে পার্টিতে নজর কাড়া লাগতে হবে না বুঝি?
প্রথমেই ড্রেস সেকশনে ঢুকলো গুঞ্জন। গুঞ্জনরা মোটেই গরিব নয়। দামি জিনিস
পত্র এফোর্ট করার সম্পূর্ণ এবিলিটি আছে ওর। চাকরি করে নিজের ইনডিপেনডেন্স এর জন্য। আর চাকরির সব টাকাই সে প্রেসেন্টই উড়িয়ে দেয়।
ফিউচার নিয়ে ভাবার সময় নেই। সে প্রেসেন্ট উপভোগ করে। তার কাছে লাইফ হচ্ছে এনজয় করার জিনিস।
ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ একটা ড্রেস গুঞ্জনের পছন্দ হয়ে যায়। সে একজনকে ডেকে জানতে চাইলো,
--- এই ড্রেসটার প্রাইজ কত?
হেল্পিং গার্লটা কিছু বলবে তার আগেই সেখানে উপস্থিত হয় আরেক রমণী। গুঞ্জনের সেই ড্রেসটাই ধরে প্রশ্ন করে,
--- এক্সকিউজ মি?
--- ইয়েস ম্যাম। হাউ ক্যান আই হেল্প ইয়্যু?
--- এই ড্রেসটার দাম জানতে চাচ্ছি।
--- সরি ম্যাম এই ড্রেসটা ইতমধ্যেই একজন কাস্টমার পছন্দ করে ফেলে।
রেগে গেলো তন্দ্রা। জোর গলায় বলল,
--- সো হোয়াট ইয়্যু *** গার্ল। আমি চাই মানে চাই।
--- ম্যানার্সলেসের মতো বিহেভ এখনো ছাড়তে পারোনি তাই না? দুদিন পর বিয়ে আর এখন ও আচরণ এতো রুড!
গুঞ্জনের আগুনে ঘি দেওয়ার মতো কথা শুনে আরো খেঁকিয়ে উঠলো তন্দ্রা। বলে উঠলো,
--- হেই ইয়্যু আমাকে ম্যানার্স শিখাতে আসো এতো বড় সাহস!
--- সত্যি কথা বলেছি। আচ্ছা এসব কেচাল বাদ দেও আর ড্রেসটা ছেড়ে দেও।
--- নেভার এভার। আর তুমি বলার কে? আমি কোনটা নিবো না নিবো?
--- তোমার অলওয়েজ আমার সিলেক্ট করা ইউজড জিনিসই পছন্দ তাই না?
গুঞ্জনের অপমান করে বলা কথায় থমকে গেলো তন্দ্রা। কোথাও না কোথাও গিয়ে ওর পিঞ্চ মারা কথাটা খুব গায়ে লাগলো। এই মেয়েটাকে আগে যখন দেখেছে সে ছিলো শান্ত নদীর মতো। তন্দ্রা নিজেও কত কটু কথা বলেছে।
টু শব্দ করেনি। অথচ এখন দেখো প্রতিপক্ষকে অপমানে ঝাঁজরা করে দিচ্ছে। দাঁতে দাঁত চেপে তন্দ্রা বলে,
--- তরঙ্গের আইডেন্টিটি নিয়ে খুব মাতামাতি করছো না? শুনে রাখো আমি টার উডবি।
মুচকি হাসে গুঞ্জন। হাত ভাঁজ করে বুকের কাছে। তারপর বলে,
--- সেটা তো দেখাই যাচ্ছে। শুনে রাখো গুঞ্জনের পরিচয় গুঞ্জন নিজে। ওর কারো বাল ছাল পরিচয়ের দরকার পড়েনা। এনি ওয়ে কথা হচ্ছিলো ড্রেস নিয়ে। আর আমার এখন মুড চলে গেছে।
থেমে গিয়ে স্টাফ গার্লটার দিকে তাকায় গুঞ্জন। তারপর বলল,
--- আপনি বরং ড্রেসটা তাকেই দিয়ে দিন। আসলে তার সবসময় আমার দয়া করে দেওয়া জিনিস গুলোই পছন্দতো!
গুঞ্জন অত্যন্ত দাপটের সাথে হেঁটে সেখান থেকে প্রস্থান নেয়। তার ওয়াই এস এল হিলের ঠক ঠক আওয়াজ এখনো তন্দ্রার কানে প্রতিধ্বনি হয়। সে রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারায়। মেয়েটা কিভাবে ওর জায়গাটা বুঝিয়ে দিলো!
******************
গোসল শেষ করে বসে আছে তরঙ্গ। হাতে তার একটা রিং। এটা গুঞ্জনের। গুঞ্জন ডিভোর্স দিয়ে রিংটা ফেরত দিয়ে যায়। তরঙ্গ অবশ্য এটা মায়ের কাছ থেকে নেয়। মূলত মায়ের কাছেই সে আংটিটা পায়।
আংটির দিকে তাকিয়ে তরঙ্গের অতীতের একটা স্মৃতি মনে হানা দেয়।
অতীত ~
তরঙ্গ তখন এতো ভালো পজিশনে ছিলো না। সে যাজ্ঞে। বিয়ের পর গুঞ্জনকে তরঙ্গের খাটে বসিয়ে দেওয়া হয়। লাল টুকটুকে লাজ বধূ বসে রয় স্বামীর অপেক্ষায়।
অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রুমে আগমন ঘটে তরঙ্গের। বর বেশের তরঙ্গকে মারাত্মক সুদর্শন লাগছে। তরঙ্গ ভারিক্কি গলায় গলা খাকারি দিলে গুঞ্জনের নারী কায়াটি কম্পিত হয়।
এক পা, দু পা করে গুঞ্জনের দিকে এগোয় তরঙ্গ। আর এতেই হার্ট রেট বেড়ে দ্বিগুন গুঞ্জনের। তরঙ্গ ধপ করে বিছানায় বসে। পুরুষালি হাত এগিয়ে নিয়ে ধীরে ধীরে রাঙা বধূর অপার সৌন্দর্য উন্মোচন করে।
--- মাশাআল্লাহ! এ যে আকাশে জ্বলতে থাকা সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা!
সেদিন মিলিত হয় দুটো দেহ, ঘামের সহিত দুটো বিপরীত লিঙ্গের দেহ লেপ্টে যায় একে অপরের সাথে। ভালোবাসার আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়। একে অপরের ঘন ঘন শ্বাস নেওয়ার আওয়াজে গরম হয়ে উঠে বদ্ধ রুমটা।
ডিম লাইটের আলোয় দুটো কায়ার মিলে মিশে একাকার হয়ে যাওয়ার সাক্ষী হয় ঘরের ভারি বাতাস, একে অপরের উন্মাদনায়, বেপরোয়ায় হারিয়ে সুখের জোয়ারে ভাসে দুজন নর-নারী।
যারা মত্ত হয়েছিলো আদিম খেলায়। সুখ গোঙ্গানি শেষে যখন ক্লান্ত দুটো দেহ একে অন্যের পোশাকে পরিণত হয় তখন সেই ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে তরঙ্গ উপহার হিসেবে এই আংটি গুঞ্জনের অনামিকায় পড়িয়ে দেয়। আর বলে এই আংটির খেয়াল রাখতে। গুঞ্জনও কথা দিয়েছিলো সে এটা কখনো কাছ ছাড়া করবে না।
অতীত থেকে বেরিয়ে আসে তরঙ্গ। হাতের শক্ত মুঠোয় চেপে ধরে আংটি খানা। তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
--- বেঈমান, মিথ্যাবাদী!
*****************
অন্যদিকে এই একই স্মৃতিচারণে মত্ত গুঞ্জন। তার মনে আছে স্পষ্ট। সে ডিভোর্স পেপারে সই করলেও হাতের সেই অনামিকা আঙ্গুলের পরিহিত আংটিটি দিতে চায়নি।
কিন্তু স্রোত নিষ্ঠুরের মতো সেদিন সেটা কেড়ে নিয়েছিল। এবং এও বলেছিলো,
--- যেখানে আমার ছেলের সাথেই তোর কোনো আর সম্পর্ক নেই সেখানে আংটি দিয়ে কি করবি।
অসহায় ছিলো গুঞ্জন সেদিন। পারেনি রক্ষা করতে নিজের ওয়াদা। এই আফসোস আজও গুঞ্জনকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।
___________
চলবে~