ফন্ট সাইজ:
থিম:
জল তরঙ্গে

৮ম পর্ব

লেখক: ইরফা মাহনাজ

#জল_তরঙ্গে—#পর্বঃ৮

#ইরফা_মাহনাজ

____________________

তরণরা রাঙামাটি এসেছে মাইন্ড রিফ্রেশ করতে। ওদের ফ্রেন্ড টুটুলের বাড়ি রাঙামাটি তাই হোটেল না নিয়ে সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওরা সংখ্যায় চারজন। তরণ, টুটুল, সূর্য আর অরু। এই চারজনের গ্যাং।

--- কিরে তরণ তোর হলো?

কথাটা বলতে বলতে আসলো টুটুল। ওর দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে আছে তরণ। আজ নাকি টুটুলের মায়ের কোন বোনের বিয়ে এখন তারা সেখানেই যাবে।

ঘুরতে এসেছে ঘুরবে। তা না করে বিয়ে খেতে যাওয়ার কি দরকার। তবে টুটুল নাছোড়বান্দা সে কিছুতেই তরণকে ছাড়া যাবে না। তরণের থেকে গালি খেয়েও তার শিক্ষা হয়নি।

তরণ বাকিদের কাছে অহংকারি, খারাপ হলেও ফ্রেন্ডদের কাছে একদম ভিন্ন। তার এই ফ্রেন্ড সার্কেল সেই ক্লাস প্লে থেকে। এতো বছরের ফ্রেন্ডশিপে একটুও আঁচড় লাগেনি।

রাঙামাটির এই জায়গা টায় ভ্যানে করে যাওয়া যায়। বেশি দূরে না হওয়ায় ওরা ভ্যানেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একটা ভ্যানে চালকের দুই পাশে বসেছে অরু আর টুটুল।

আর পিছনের দিকে বসেছে সূর্য, তরণ। তরণ এসব ভ্যান ফ্যান এ কখনো ওঠেনি। তাই কিছুক্ষন এদিকে হেলে পড়ছে তো কিছুক্ষন ওদিকে। তরণের কাজে হেসে কুটিকুটি সূর্য।

--- সান তোর নিচের দুটো বেল আইকনে এমন এক টান দিবো যে এভাবে হাসি বন্ধ হয়ে যাবে। শালা ***।

তরণের কথা শুনেই বেচারার অবস্থা হালুয়া। হাসি মুখটা চুপসে এই টুকুনি হয়ে গেছে। নিজের ভবিষ্যতের কথা উঠতেই হাত দিয়ে চেপে ধরে নিজের ভবিষৎ। ভয়ার্ত দৃষ্টিতে আঁতকে উঠে বলে,

--- নো ডুড! ইয়্যু ক্যা'ন্ট।

বাঁকা হাসে তরণ। তারপর সগক্তি করে বলে উঠে,

--- ইয়াহ! বাডি আই ক্যান।

দেখতে দেখতে ওরা বিয়ে বাড়ি এসে হাজির। বিয়ে বাড়ি বিয়ে বাড়ি কম শোক বাড়ি বেশি মনে হচ্ছে। নেই কোনো বিয়ের আমেজ। না আছে হাসি, হুল্লোড়া আর না আছে বিয়ে বিয়ে নামক আনন্দ। আছে শুধু মানুষের যাতায়াত আর ফিসফিসানি।

--- আহারে বেচারি মাইয়াডা এমন কপাল পোড়া বুঝি মাইনষে হয়!

কিছু পাড়ার মহিলারা এসব নানা ধরণের আলোচনা করছে। তার মধ্যেই একটা বাক্য তরণের কানে আসে। সে কিছু সময়ের জন্য থামলেও ব্যাপারটা গ্রাহ্য করে না।

--- এই পুতুল তুই কি ভুলে মরা বাড়ি নিয়ে আসলি?

টুটুলের উদ্দেশ্য জিজ্ঞেস করে সূর্য। ওর কথায় মুখ দিয়ে "চ" বর্গীয় আওয়াজ উচ্চারণ করে অরু। ও শুধায়,

--- এই সূর্যের আলো তোর মুখটা একটু বন্ধ রাখ।

অরু কি বলল না বলল এতে হেলদোল নেই টুটুলের ও আছে ওর নাম বিকৃত করে বলা নিয়ে।

--- ফান এর বাচ্চা আমাকে পুতুল বলতে বারণ করেছি না?

--- তো আমি কি ফান? আমার মজা উড়াতে উড়াতে এখন আমার নামটা অবধি ছাড়িসনি।

--- স্টপ দিস গাইস!

তরণের হুংকাঁরে ভাটি পড়ে ওদের ঝগড়ায়। ঝগড়া থামতেই পুনরায় তরণ বলল,

--- লেটস গো ব্রাদার্স।

সামনে এক পা দিতেই কিসের সাথে পা বেজে পড়ে যায় ও। ধপ করে আওয়াজে তরণের বন্ধুরা সব এগিয়ে আসে। অরু জানতে চাইলো,

--- পড়লি কিভাবে। আর ইয়্যু অলরাইট?

উঠে দাড়িয়ে জামা ঝাড়তে ঝাড়তে শুধায়,

--- আ'ম ওকে বাট মাই প্রিসিয়াস ড্রেস... উম, আই নিড টু গো টু দ্যা ওয়াশরুম। টুটুল হেল্প মি।

টুটুল ও মাথা নাড়িয়ে তরণকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটা দেয়। গন্তব্য ওয়াশরুম।

******************

রুমের মাঝে এসেই গুঞ্জনের হাত ছেড়ে দেয় তরঙ্গ। ঘাড়ের পিছনে হাত দিয়ে ডলে বাম হাতের বুড়ো আঙ্গুল কপালে ঘষে। বুঝাই যাচ্ছে সে নিজের রাগ কন্ট্রোল করছে।

নিজের লাইফটা একটা স্কুইড গেমে মনে হচ্ছে তার কাছে। তরঙ্গের ভাবনা বেশিদুর এগোতে পারে না। তার আগেই গুঞ্জন ঝাপিয়ে পড়ে হিংস্র বাঘিনীর মত।

হাঁটু ভাজ করে মারে এক কিক তরঙ্গের পেটে। তরঙ্গ দুই পা পিছিয়ে যায়। নিজের পেট চেপে কপালে ভাঁজ করে তাকায় গুঞ্জনের দিকে। যে কিনা রাগে ফুসছে। সাহস কত বড় গুঞ্জন কে টেনে আনে!

--- গুঞ্জন!

--- ডোন্ট শাউট! আওয়াজ নিচে।

তরঙ্গের দিকে তর্জনীর তাক করে শাসায় গুঞ্জন। ফোস করে শ্বাস ফেলে তরঙ্গ। বলে,

--- রিলাক্স। আমার তোমার সাথে কথা আছে।

--- আমার কোন কাপুরুষের সাথে কথা নেই।

--- গুঞ্জননন!! বিহেভ ইউরসেল্ফ।

--- নিচে আপনার এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠান চলছে। আপনার উডবি ওয়াইফ আপনার জন্য অধীর অপেক্ষায় বসে আছে।

--- আই ডোন্ট *** কেয়ার।

--- কেয়ার করেন না অথচ বিয়ের পিড়িতে বসে পড়েছেন। মিস্টার তরঙ্গ আমি মায়ের আঁচল ধরে ঘোরা লোক দেখেছি তবে আপনার মতো নয়।

এই একটা দিকেই তরঙ্গ হেরে যায়। বার বার হেরে যায় সে।

--- দেখো ফার্স্ট অফ অল মায়ের প্রসঙ্গে আমি আপাতত আসতে চাই না। আর এখানে মায়ের কথা উঠছে কেনো? আমাদের দুজনের মাঝে মাকে কেন আনছো?

তরঙ্গের লাস্ট কথাটা শুনে হাসে গুঞ্জন। হিলের আওয়াজ তুলে তরঙ্গের দিকে এগিয়ে আসে। কাধে হাত বুলিয়ে ওর পিছে এসে দাঁড়ায়। তরঙ্গের ঘাড়ের কাছের অংশে গুঞ্জনার ঠোঁট ছুই ছুই। গুঞ্জনের পদক্ষেপের সাথে তরঙ্গ নিজেও তার চোখের মনি ঘোরায়। গুঞ্জন ফিসফিস ভয়েজে শুধায়,

--- এই সামান্য কথাটা আগে ভাবলে বোধহয় আজকের সিচুয়েশন ক্রিয়াটই হতো না।

হাসি খেলে গেল তরঙ্গের পৌরুষ অধর জুড়ে। পিছনে পিছনে ঘুরে গুঞ্জনকে নিজের সাথে চেপে ধরে। এক হাতে কোমর চেপে অন্য হাতে গুঞ্জনার দুই হাত নিজের বিশাল খাবার মুষ্টিবদ্ধ করে। তারপর শুধালো,

--- ডিভোর্স কোন সমাধান ছিল না সেটা ছিল একপ্রকার পালিয়ে বাঁচা।

--- সম্পর্কে সবচেয়ে বড় জিনিস বিশ্বাস।

--- ডিভোর্সের কারণটা আজও বলোনি গুঞ্জন!

--- আপনার মনোবাসনা পূর্ণ হয়েছে। দ্যাটস এনাফ।

--- তুমি আমি আমরা আমাদের পরিকল্পনা একজনের কাছে এসে ফিকে হয়ে যায়। কথাটা মনে রেখো।

অনেক হয়েছে তরঙ্গকে এখন বিষের মতো লাগছে গুঞ্জনের কাছে। তাই তো থমথমে গলায় বলে,

--- তলার ও খাবে আবার গাছেরও কুড়াবে। এক্সও লাগবে আবার ফিউচারও ছাড়তে ইচ্ছে করে না। এমন জায়গায় কিক করবো ফিউচারের ও কোনো ফিউচার থাকবে না।

--- ডিয়ার মাই এক্স লেডি। আমি জানি আমি তলার খাই উপস খেয়েছি। কিন্তু আমি বারো তলায় মুখ দেই না। এতদিন আপনারা খেলেছেন নাউ ইটস মাই টার্ন।

*****************

"উম উম"! আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই করতে পারছে না আলতা। কারণ তাকে বাথরুমের দেওয়ালে চেপে ধরে আছে ট্রেনে বসে দেখা হওয়া অসভ্য সেই পুরুষটি।

আলতার ভয়ে যেনো প্রাণ পাখি উড়ে যাবার পালা। আলতার রুমটা বাড়ির পিছন সাইডে। আর এদিকেই বাথরুমটা। এই অল্প একটু বাইরেই। কেউ এদিকে আসেনা। তার উপর রাত। তাছাড়া এটা শুধু বাড়ির মানুষদের।

বাহিরের মানুষ এলে সামনের দিকে একটু দূরে টিন সেট বাথরুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই তো সৎ মায়ের বেধড়ক মারের খেয়ে ব্লাউজ আর পেটিকট পড়ে একটা সুতির ওড়না গায়ে পেঁচিয়ে সবেই বের হবে অমনি হুড়মুড় করে কেউ একজন ঢোকে।

আকস্মিক একটা পুরুষকে নিজের বাথরুমে দেখে থমকে যায় আলতা। থরথর করে কেঁপে উঠে ওর সমস্ত অঙ্গ। এরই মাঝে তরণ আলতাকে খেয়াল করে ওকে চেপে ধরে দেওয়ালের সাথে।

যাতে এই মেয়ে চিৎকার না করে আর কোনো বাজে সিচুয়েশনে পড়তে না হয়। কিন্তু ভাগ্য যে অন্য কিছু লিখে রেখেছিলো!

অনেক্ষন যাবৎ আলতা না আসায় পাশের বাসার এক মহিলার সাথে ইলমা গিয়ে হাজির হয় বাথরুমের সামনে। দরজা ধাক্কিয়ে গালি দিতে দিতে ডাকে।

--- ওই মুখপুড়ি মা** বের হ। বাইরে তোর লাং বসে আছে অপেক্ষায়। এক বিয়ে করেও রসের কম নেই আবার বিয়ে করতে এসেছে।

বলেই শয়তানি হাসি দেয়। কথাগুলো শুনে নিজের অজান্তেই তরণের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। কপালের শিরা জেগে ভয়ানক হয় অবস্থা। ফলে আলতার উপর চাপ পড়ে।

মুখ চেপে ধরায় শ্বাস নিতে বেগ পোহাতে হয় তাকে। তরণের দুই পায়ের মাঝে আটকে থাকা পা দুটো দাপাদাপির কারণে পাশে থাকা বালতি ঠাস আওয়াজে নিচে পড়ে।

কিছু পড়ার শব্দে ইলমা দরজা ধাক্কানো বাড়িয়ে দেয়।

--- এই দরজা খোল আলতা। কিসের শব্দ হলো ভিতরে?

--- উমমম!!

কিছুটা অন্যরকম শব্দ শুনতেই ইলমার পাশে দাড়ানো মহিলাটাও এবার এগিয়ে আসলো। যেনো এতক্ষন পরে নিজের পছন্দের কোনো টপিক পেলো সে।

বাহিরে দরজা ধাক্কানো হচ্ছে অনবরত। আর এদিকে ভিতরে ভীতু রমণী বন্দি অসভ্য পুরুষের বাহুডোরে।

___________

চলবে~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন