ফন্ট সাইজ:
থিম:
কাজল্লাতার মেঘ

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: Rahmatunnesa

কাজললতার মেঘ ☁️

লেখিকা: রহমাতুন্নেছা
পর্ব ৬
এভাবে দেখতে দেখতে কেটে গেল দীর্ঘ একটা মাস। ফাল্গুনের ছোঁয়া পেরিয়ে প্রকৃতিতে তখন বসন্তের প্রথম বার্তা। শীতের সেই হাড়কাঁপানো হাড়হিম করা ঠান্ডা ভাবটা আস্তে আস্তে কমে আসলেও ভোরের দিকে এবং রাতের বাতাসে হালকা একটা হিমেল আমেজ তখনো লেগে থাকত। মিষ্টি রোদের ওম আর চারপাশের গাছে গাছে নতুন পাতার মায়াবী সবুজ—সব মিলিয়ে এক অপূর্ব আবহাওয়া।
এই এক মাসে অনেক কিছু বদলে গেছে। বিশেষ করে জান্নাতুলের মনের অবুঝ আকাশটাতে এখন কেবলই ইমনের আনাগোনা। প্রতিদিন সকালের সেই লুকোচুরি, ধাক্কা খাওয়ার নাটক, আর ইমনের সেই চরম অ্যাটিটিউড ভরা ভাব—সবকিছু মিলে জান্নাতুলকে যেন পুরোপুরি বন্দি করে ফেলেছে।
আজ জান্নাতুল এবং তার তিন বান্ধবী—রিয়া, মিম আর প্রিয়া—একটু শক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিদিনের এই ফাজলামো আর সহ্য হয় না! জান্নাতুলের মনে এখন শত শতাংশ নিশ্চিত যে, এই 'কবি সাহেব' তাকে প্রচণ্ড পছন্দ করে, কিন্তু মুখের ওপর কিছু বলতে সাহস পায় না। 
আর ইমনের এই অদ্ভুত রকমের কৌশলটা ছিল তার বন্ধুদের বুদ্ধি। তারা জানত, মানুষের মস্তিষ্ক সাধারণত অবহেলা, রহস্য বা তাচ্ছিল্য সহজে সহ্য করতে পারে না। আর ঠিক এই সাইকোলজিটাই কাজ করেছে! ইমন প্রতিদিন তার সামনে দিয়ে এমনভাবে ভাব নিয়ে চলে যেত যেন সে জান্নাতুলকে চিনেই না। আর এই রহস্যময় তাচ্ছিল্যই জান্নাতুলকে বাধ্য করেছে সারাদিন ইমনকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে একসময় তার দেখে গভীর ভাবে ঝুঁকে পড়তে। 
জান্নাতুল এখন ইমনকে মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছে, যদিও সে তা সহজে প্রকাশ করতে নারাজ।
রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে প্রিয়া দুষ্টু হেসে বলল, "দোস্ত জানু! সত্যি বলছি, এই কবি সাহেবের অ্যাটিটিউড আর সহ্য হয় না। আমি তো ভাবছিলাম এইবার একে আমি এগারো নাম্বার প্রেম প্রস্তাব দিয়ে দেবো, কিন্তু তোর জন্য খালি ছেড়ে দিলাম!"
জান্নাতুল চোখ পাকিয়ে প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল, "খবরদার! তুই একদম এগোবি না ওসব ফাজলামো নিয়ে, দূরে থাকবি বলছি!"
এভাবে কথা কাটাকাটি করতে করতে তারা যখন ঠিক সেই চিরচেনা মোড়টায় এসে পৌঁছাল, তখন দূর থেকেই দেখা গেল—প্রতিদিনের মতো আজও সেই একই রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসছে ইমন! মুখে সেই আগের মতো চরম ভাব আর অ্যাটিটিউড।
জান্নাতুল মনে মনে ভাবল, "দাঁড়া ব্যাটা! আজ তোকে হাতেনাতে ধরবই ধরব। দেখি তোর এই ভাব কোথায় থাকে!"
রোজকার চেনা নিয়মে আজও হুট করে এসে ধাক্কা লাগল। বরাবরের মতো কিছু বকাঝকা, ঝগড়া আর একটা অদ্ভুত রোমান্টিক ছন্দ শুনিয়ে ইমন চলে যাওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু আজ জান্নাতুলের চোখে কোনো রাগ ছিল না, বরং ছিল এক চিলতে চতুর হাসি। সে রাগ দেখানোর ভান করে আগের মতো দ্রুত সেখান থেকে চলে গেল।
ইমন তো গিয়ে বেচারা বেহায়ার মতো দাঁড়িয়ে রইল! এক মাসের অভ্যাসে প্রতিদিন তো এই সময়ে জান্নাতুল তাকে মনে মনে গালি দিতে এবং মুখেও বলতো, কিন্তু আজ উল্টোটা হওয়ায় ইমনের মাথায় তো আকাশ ভেঙে পড়ার দশা! সে অবাক হয়ে ভাবল, "আরে! আজ কাজললতা আমার ওপর এত সহজে রাগ করে চলে গেল কেন? সে তো আজ আমাকে পাত্তাই দিলো না?"
ইমন যখন হতাশ হয়ে চারপাশ দেখছিল, তখন সুযোগ বুঝে জান্নাতুল আর তার বান্ধবীরা দৌড়ে গিয়ে রাস্তার পাশের একটা ঘন গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ল।
ইমন দ্রুত ঘুরে এসে দেখল—রাস্তায় কেউ নেই! সে চোখ বড় বড় করে এদিক-ওদিক তাকাতে লাগল, "কই গেল? এত তাড়াতাড়ি কোথায় উবে গেল মেয়েটা?"
ঠিক তখনই ইমনের পেছন থেকে একটা সুমধুর, মিষ্টি অথচ একটু চতুর কণ্ঠস্বর ভেসে এল—
"কবি সাহেব, আপনি কি কাউকে খুঁজছেন নাকি?"
ইমন নিজের অজান্তেই ঘোরের মধ্যে বলে ফেলল, "হ্যাঁ, আমার কাজললতা কোথায় গেলো কে জানে..."
কথাটা শেষ করেই ইমনের টনক নড়ল! সে চমকে গিয়ে পেছন ফিরে তাকাতেই দেখল—তার সেই কাজললতা স্বয়ং তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে! আর শুধু কি তাই? মুহূর্তের মধ্যে ইমনের পেছনের রাস্তাটা আটকিয়ে দিল তার তিন বান্ধবী—রিয়া, মিম আর প্রিয়া।
চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হলো ইমনকে! মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে কাঁপতে থাকা এক অসহায় কবি সাহেব, আর চার কোণায় চারমূর্তি—জান্নাতুল ও তার তিন বান্ধবী।
ইমনের তখন ভয়ে অবস্থা এমন যে হাত-পা থরথর করে কাঁপছে! সে ঢোক গিলতে গিলতে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
 "তু... তোমারা... মানে আমি তো কিচ্ছু জানি না! সব ওই আমার হারামজাদা বন্ধুদের প্ল্যান ছিল! তুমি... তুমি এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?"—কী যে বলছে, ইমন নিজেও আর ঠিকঠাক কুলকিনারা পাচ্ছে না!
ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সে আবার বলে উঠল, "ক... কাজললতা? না না, আমি আপনাকে কেন খুঁজব? আমি আপনাকে একটুও খুঁজছি না! আমি তো জাস্ট... এমনিই যাচ্ছিলাম!"
জান্নাতুল দুই হাত বুকে গুঁজে বাঁকা হেসে বলল, "ও তাই নাকি? তা আপনারা যারা এত ব্যস্ত মানুষ, রাস্তায় যে একজন মানুষ আছে সেটাও দেখার সময় পান না, প্রতিদিন ধাক্কা দিয়ে চলে যান, আপনাদের কি প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই দুইবার করে যাতায়াত করতে হয়? নাকি অন্য কোনো কাহিনী আছে বলুন তো? ব্যাপারটি কি একটু বুঝিয়ে বলুন তো"
ইমন তখন ভয়ে ঘামতে শুরু করেছে। সে আমতা আমতা করে বলল, "মানে... আসলে... ওই যে রাস্তাটা একটু শর্ট তো, তাই..."
এদিকে একটু দূরে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ইমনের সেই চার বাঁদর বন্ধু—রাফসান, সজল, ফাহিম আর তুষার—পুরো ঘটনাটা দূর থেকে দেখতে দেখতে তো হাসতে হাসতে মাটিতে গড়িয়ে পড়ার উপক্রম!
সজল পেটে হাত দিয়ে ফিসফিস করে বলল, "দোস্তরা! আজ তো আমাদের কবি সাহেবের দফা একদম রফা! ওই দেখ, কীভাবে আমাদের বীরপুরুষকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরেছে!
 ভাই ও কি বলছে ভুলভাল"কথা গুছিয়ে বলতে পারছি না কি ঘোড়ার ডিম বলছে রে ভাই, কপালে বলে প্রেম করতে গেছে,
রাফসান কপালে হাত দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে গম্ভীর গলায় বলল, "ভাই রে! আমাদের এই বন্ধুটার শেষ পর্যন্ত এভাবেই পতন হলো! তোরা সবাই একবার হাত তুলে আমাদের প্রিয় ইমনের আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করিস—সবাই বল আমিন!"
ওদিকে ঘেরাওয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে ইমন তখন কোনোমতে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে, আর জান্নাতুলের চোখের সেই বিজয়ী চাউনিতে 
সেখানে স্পষ্ট লেখা—"আজ তোড়ে ধরেছি, আর কোথায় যাবি কবি সাহেব!"
চারদিক থেকে ঘেরাও করা সেই ভীতিকর পরিস্থিতি থেকে যেন এক চিলতে স্বস্তি পেল ইমন। জান্নাতুল হঠাৎ করেই নরম একটা মুচকি হাসি দিয়ে নিজের হাত থেকে সুন্দর একটি খামে মোড়ানো চিঠি ইমনের দিকে বাড়িয়ে দিল। চিঠিটি হাতে গুঁজে দিয়ে জান্নাতুল তার বান্ধবীদের নিয়ে সেখান থেকে হেলেদুলে হনহন করে হেঁটে চলে গেল।
জান্নাতুলের চলে যাওয়ার পর ইমনের মৃতপ্রায় দেহে যেন সত্যি সত্যি রুহু ফিরে এল! এতক্ষণ ভয়ে তার বুকের ভেতর যে হাড়হিম করা ঠান্ডা স্রোত বইছিল, তা যেন এক নিমিষে উবে গেল। সে তখনো অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেই পেছনের রাস্তাটার দিকে, যেদিক দিয়ে তার কাজললতা একটু আগে হেঁটে চলে গেল।
ঠিক তখনই তার সেই চার বাঁদর বন্ধু—রাফসান, সজল, ফাহিম আর তুষার—দৌড়ে এসে হাজির হলো ইমনের পাশে।
সজল ইমনের পিঠে একটা বিশাল থাপ্পড় মেরে খিলখিল করে হেসে বলল, "কিরে দোস্ত ইমন? কী ব্যাপার ভাই? আমাদের কবি সাহেবের কি ভয়ে প্যান্ট খোলার দশা হয়েছিল নাকি? যেভাবে ঠরঠর করে কাঁপছিলি, দেখলে তো মায়া লাগে!"
ফাহিম দাঁত কেলিয়ে বলল, "আরে বাদ দে না! বীরপুরুষ তো এখন প্রেয়সীর প্রেমে ফিদা! ওসব ফালতু কথা পরে বলবি, আগে তোর হাতের ওই জিনিসটা কী একটু খুলে দেখাবি? ওই তোর কাজললতা যাওয়ার সময় তোর হাতে কী যেন গুঁজে দিয়ে গেল রে ভাই?"
বন্ধুদের এমন খোঁচাখুঁচি আর দুষ্টুমি গায়ে মাখল না ইমন। তার পুরো মনোযোগ এখন ওই হাতের ছোট চিঠিটার ওপর। সে বন্ধুদের এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে বলল, 
"চল, ওই পুরাতন বটতলার চাতালটায় গিয়ে বসি।"
সবাই মিলে চাতালের সেই কংক্রিটের বেঞ্চটায় বসার পর ইমন খুব যত্নে খামের মুখটা খুলল। খাম থেকে সুগন্ধি ছড়ানো একটি চিরকুট বের হলো। চিঠির ওপর অতি যত্নে, সুন্দর হাতের লেখায় বড় বড় করে লেখা—
"আপনার উত্তরের অপেক্ষায় থাকব, কবি সাহেব।"
এই কয়েকটি কথা দেখেই ইমনের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। ঠোঁটের কোণে অজান্তেই এক চিলতে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, "ভাই, লেখাটা দেখেছিস? কী মায়াবী!"
তুষার চোখ গোল গোল করে বলল, "আরে ধুর! খালি ভাব মারিস না তো দোস্ত! জলদি খুলে পড়, ভেতরে কী এমন জাদু লেখা আছে আমরাও একটু শুনি!"
ইমন আর দেরি না করে চিঠিটা মেলে ধরে পড়তে শুরু করল। জান্নাতুলের সেই অবুঝ মনের গভীর থেকে উঠে আসা আবেগগুলো যেন একে একে কাগজের পাতার সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। সে একটু গলা ঝেড়ে পড়তে লাগল—
"চিঠির প্রথমে আপনাকে আমি ‘কবি সাহেব’ বলে সম্বোধন করলাম, কারণ আপনার আসল নাম তো আমি তখন জানতাম না। আপনি আমার সামনে হাজির হয়েছিলেন একটা কবিতা নিয়ে! সেদিন সত্যি বলছি, আমার খুব ভালো লেগেছিল। মনে হয়েছিল, আপনি বুঝি আমাকেই প্রপোজ করছেন! বিশ্বাস করুন, আমার মনের ভেতর তখন অজস্র প্রজাপতি ডানা মেলছিল। আমি তো ভেবেই নিয়েছিলাম আপনার ওই প্রপোজালটা একসেপ্ট করে নেব! কিন্তু আপনি যেভাবে হুট করে ভাব নিয়ে চলে গেলেন, আমার সেদিনের সেই ছোট্ট মনটা ভেঙে দিয়েছিলেন। ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম সেদিন!
তবে যাই হোক, পুরনো কথা আর বাড়িয়ে লাভ নেই। গত এক মাস ধরে আপনি যেভাবে আমাকে আপনার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে বাধ্য করেছেন—কবি সাহেব, আমি বড্ড বেশি জড়িয়ে যাচ্ছি আপনার এই মায়ায়! আমি ঠিক জানি না আপনি আমাকে সত্যিই ভালোবাসেন কি না, কিন্তু আপনার ওই দুই চোখে আমি মাঝে মাঝে আমার জন্য একটা অদ্ভুত ভালোবাসা দেখতে পাই।
আচ্ছা, আপনি কি কখনো খেয়াল করেছেন? যখনই আমি দূর থেকে আপনাকে দেখি, আমার বুকের ভেতরটা ধুপধুপ করে কেপে ওঠে! আপনি কি সেই শব্দ দূর থেকে শুনতে পান? হয়তো পান না...
আচ্ছা কবি সাহেব, আপনি আমাকে কী দেখে পছন্দ করলেন, সেটা কিন্তু চিঠির উত্তরে অবশ্যই লিখবেন, ঠিক আছে? আমি আপনার উত্তরের অপেক্ষায় থাকব। আপনি কি সত্যিই আমাকে ভালোবাসেন? নাকি এই পুরো একটা মাস ধরে আমার সাথে শুধুই লুকোচুরি খেলছিলেন?
আর হ্যাঁ কবি সাহেব! আপনাকে যখনই দেখি না কেন, আপনার ওই গালের তিলটা আমার ভীষন ভালো লাগে! ওই খোঁচা খোঁচা হালকা দাড়ির মাঝে ছোট্ট একটা কালো কুচকুচে তিল... সত্যি বলছি,,,,,,,,,,,,,,,,,, তওবা তওবা! আপনি তো আমার কাছে পরপুরুষ, শরীয়তের দিক থেকে আপনাকে এভাবে নজর দেওয়া উচিত নয়। তবুও নিজের অজান্তে আমি আপনার দিকে বারবার তাকিয়ে ফেলি। মাফ করবেন আমাকে! আমি তো আপনাকে নিজের একজন শুদ্ধ পুরুষ হিসেবেই হৃদয়ে জায়গা দিতে চাই।
এখন আপনার কাছে আমার একটাই সোজা সাপ্টা প্রশ্ন—আপনি যদি সত্যিই আমাকে ভালোবেসে থাকেন, তবে তা আমাকে পরিষ্কার করে জানাবেন। আর যদি না ভালোবেসেন, সেটাও মুখ ফুটে বলে দেবেন। তাহলে আমি আর এই বাড়াবাড়ির পথে এগোব না। আপনি আমাকে সাফ জানিয়ে দেবেন, যেন আমি আপনার এই মায়ায় আর না জড়িয়ে পড়ি!
ইতি—
আপনার কাজললতা।
ও হ্যাঁ! কাজললতার নামটা আমি কীভাবে জানলাম, সেটা নিয়ে নিশ্চয়ই ভাবছেন? সেদিন আপনি কবিতার ছলে না বুঝেই আমাকে ‘কাজললতা’ বলে ডেকে ফেলেছিলেন। আপনার মুখের সেই ডাকটা আমার এত বেশি ভালো লেগেছিল যে আমি মনে মনে ভেবে নিয়েছিলাম—হয়তো আপনি একদিন সত্যিই আমাকে আপনার এই জীবনের ‘কাজললতা’ বানিয়ে নেবেন! এ ছাড়া আর কোনো কারণ নেই।
খুব ভালো থাকবেন আর আমার চিঠির উত্তরটা কিন্তু খুব দ্রুত অবশ্যই দেবেন। আমি ভীষণ অপেক্ষায় রইলাম!"
চিঠিটার শেষ লাইনটা পড়ার পর ইমনের চোখ দুটো চকচক করে উঠল। তার মনের সমস্ত ক্লান্তি, ভয় আর দ্বিধা নিমেষে কর্পূরের মতো উড়ে গেল।
রাফসান তখন হাঁ হয়ে ইমনের দিকে তাকিয়ে বলল, "মাইরি বলছি দোস্ত! তোর এই কাজললতা তো আস্ত একটা ফায়ার লঙ্কা! যা কড়া ভাষায় লিখেছে না! এখন জলদি কবি সাহেব, একটা দারুণ রোমান্টিক লাভ লেটার লিখে পাঠিয়ে দে, নতুবা তোর এই প্রেম চিরতরে ফসকে যাবে!"
সজল ফিক করে হেসে বলল, "আর শোন, চিঠির উত্তরে ওই গালের তিলের কথাটার প্রশংসা করতে ভুলিস না যেন! কবি মানুষ, একটু ছন্দ মিলিয়ে লিখে দিস!"
ইমন তখন চিঠিটা নিজের বুকের কাছে চেপে ধরে আনমনে হাসছে। তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে জান্নাতুলের সেই রাগী অথচ মায়াবী মুখখানা। মফস্বল শহরের এই মিষ্টি রোদে, বন্ধুদের এই হাসাহাসির মাঝেই ইমন তার জীবনের সবচেয়ে দামি ও কাঙ্ক্ষিত এক চিঠির উত্তর লেখার কথা মনে মনে ভাবতে শুরু করল।
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন