ফন্ট সাইজ:
থিম:
কাজল্লাতার মেঘ

৮ম পর্ব

লেখক: Rahmatunnesa

কাজললতার মেঘ ☁️ উপন্যাস 

লেখিকা: রহমাতুন্নেছা 
পর্ব ৮
ফাল্গুনের সোনালী রোদের ঝিলিক তখন পুরো মফস্বল শহরটাকে এক মায়াবী চাদরে মুড়ে রেখেছে। বাতাসের প্রতিটি কণায় যেন লুকিয়ে আছে কোনো না বলা ভালোবাসার সুবাস। জান্নাতুল ইমনের সে চিঠিতে ইমনের ৩ বছরের অপেক্ষার কথা জেনে নিজের অজান্তেই এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। মনের ভেতর একটা মিষ্টি অনুভূতির সুর বেজে চললেও মুখের ওপর তার সেই চিরচেনা অভিমানী আর রাগী ভাবটা একটুও কমেনি। কেন বা কমবে তিন বছর ধরে তাকে পছন্দ করে অথচ একদিনও জানানোর প্রয়োজন মনে করলো না, আর সে যদি চিঠি না দিতো, তাহলে হয়তো কখনোই কবি সাহেব তাকে জানাতেও না, যে আমাকে ভালবাসে তাহলে কি রাগ করা স্বাভাবিক নয়, অবশ্যই রাগ করা আমার ফরজ হয়ে গেছে,
জান্নাত মনে মনে ফন্দি আঁটছিল—এই কবি সাহেবকে একটু ভালোমতোই কাবু করতে হবে! এত সহজে কি আর মন গলানো যায়?
স্কুল ছুটির পর চিরাচরিত সেই পরিচিত রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় জান্নাতুলের বুকটা যেন দুমড়ে-মুচড়ে উঠছিল। আজ তার পরনে সেই পরিচিত বোরখা কালো এবং নেকআপ, আর চোখে সেই চেনা কাজল। 
বান্ধবীরা—রিয়া, মিম আর প্রিয়া—তার পাশেই হাঁটছিল এবং নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে নানা রকম দুষ্টুমি ভরা হাসাহাসি করছিল। প্রিয়া কনুই দিয়ে জান্নাতুলের গায়ে গুঁতো মেরে ফিসফিস করে বলল,
 "কিরে জানু! কাল তো কবি সাহেবের চিঠির নিচে বেশ সুন্দর করে উত্তর লিখে দিলি! অথচ চিঠিটা কবি সাহেব কে দিলি না,, আজ কি তবে আমাদের কবি সাহেবের কপালে কোনো নতুন সুখবর আছে, নাকি আজকেও তাকে একটু ভালোমতো সাইজ করবি?"
জান্নাতুল চোখ পাকিয়ে প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, "চুপ করবি তোরা! সারাক্ষণ খালি ফাজলামো মাথায় ঘোরে! আমি তো জাস্ট এমনিই লিখেছি, তার সাথে ভাব দেখানোর কোনো শখ আমার নেই!"
 মুখে যতই এসব কথা বলুক না কেন, জান্নাতুলের মনের ভেতর তখন লাজুক এক ঝিলিক বয়ে যাচ্ছিল।
ঠিক তখনই একটু সামনে এগোতেই দেখা গেল সেই চিরচেনা বটতলার চাতালটার পাশে দাঁড়িয়ে আছে ইমন! তবে আজকের ইমনের সেই আগের মতো উদ্ধত বা অহংকারী ভাবটা আর নেই। তার জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে এক ভীষণ রকমের নার্ভাস, কাঁপতে থাকা এক প্রেমিক পুরুষ। পরনে একটা হালকা নীল রঙের শার্ট, চুলগুলো আগের মতোই কপালে কিছুটা ওপরে ছড়ানো, আর চোখের মধ্যে উপচে পড়ছে একরাশ ব্যাকুলতা। ইমনের চার বন্ধু—রাফসান, সজল, ফাহিম আর তুষার—একটু দূরে নিরাপদ দূরত্বে একটা গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে মুখ টিপে টিপে হাসছে আর ইমনের দিকে তাকিয়ে নানা রকম ইশারা করে তাকে সাহস জোগানোর চেষ্টা করছে।
ইমন দূর থেকেই জান্নাতুলকে আসতে দেখে নিজের অজান্তেই প্যান্টের পকেটে হাত দুটো ঢুকিয়ে দিল, কিন্তু পরমুহূর্তেই টের পেল তার হাত দুটো থরথর করে কাঁপছে। 
সে ভাবল, 
"আজ যদি কাজললতা আমার চিঠিটা ফিরিয়ে দেয়, বা আগের মতো ধমক দিয়ে চলে যায়, তবে আমার এই কবি-প্রাণের অপমৃত্যু ঘটতে বেশি সময় লাগবে না!"
জান্নাতুল যখন ইমনের ঠিক কাছাকাছি এসে পৌঁছাল, তখন তার বান্ধবীরা বেশ চালাকি করে দুপা পিছিয়ে গেল। রিয়া মুচকি হেসে বলল, 
"তোরা তোরা একটু কথা বল, আমরা ওই গাছের তলায় দাঁড়াচ্ছি!"
 বলেই তারা বেশ কিছুটা দূরে সরে গিয়ে এমন এক দূরত্ব বজায় রাখল যে ইমন ও জান্নাতুল একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়াতে পারে, বন্ধুরা বেশ ভালোমতো তাদের রোমান্টিক থ্রিলার সিনটা উপভোগ করতে পারে, তাদের যাতে ভালো করে দেখতে পারে এমন জায়গায় গিয়ে তারা লুকিয়ে রইলো।
ইমন ভয়ে ভয়ে জান্নাতুলের সামনে এসে দাঁড়াল। তার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। সে ঢোক গিলে কোনোমতে আমতা আমতা করে বলল, "ক... কাজললতা... মানে জান্নাতুল... তুমি কি আমার চিঠির সেই কথাটা পড়েছ?"
জান্নাতুল নিজের মুখের ওপর একটা কঠিন বিরক্তির আবরণ টেনে দুই হাত বুকে ক্রস করে দাঁড়িয়ে পড়ল। সে একটু চোখ ছোট করে ইমনের দিকে তাকিয়ে বেশ তাচ্ছিল্যের সুরে বলল,
 "চিঠি তো আমি পড়েছি, কবি সাহেব! কিন্তু আপনার এই আস্পর্ধাটা আসলো কোথায় থেকে বলুন তো?৩ বছর ধরে আপনি আমাকে গোপনে ফলো করেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে আজেবাজে কবিতা শোনান, আর আমাকে হুট করে ‘কাজললতা’ নামে ডাকতে শুরু করেন! আপনার কি কোনো মায়াদয়া নেই? একটা সাধারণ মেয়ের জীবন নিয়ে এভাবে খেলা করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?"
জান্নাতুলের মুখে এমন কড়া কথা শুনে ইমনের তো জান উড়ে যাওয়ার উপক্রম!
 সে তাড়াতাড়ি দুই হাত জোড় করার ভঙ্গিতে কেঁদে ফেলার সুরে বলে উঠল, 
"খোদার কসম, কাজললতা!
 তোমাকে আমি একটুও বিরক্ত করার জন্য এসব করিনি! 
বিশ্বাস করো,৩ বছর ধরে তোমাকে ভালোবাসার অপরাধে আমি প্রতিদিন নিজেকে পুড়িয়েছি।
 আমার এই ছোট জীবনে তোমার ওই এক পলক হাসি ছাড়া পাওয়ার মতো আর কিচ্ছু ছিল না! তুমি আমাকে যা খুশি বকো,
 রাগ করো,
 জুতোপেটা করো—সব মাথা পেতে নেব, কিন্তু প্লিজ মুখ ফিরিয়ে নিও না!
 আমি তোমাকে তিন বছর ধরে ভালোবাসি অথচ আমি তোমাকে জানাইনি যদি তুমি বিরক্ত হও,
 যদি তুমি আমাকে ছেড়ে দাও, 
আমি চেয়েছিলাম আমি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে তারপরে তোমাকে আমার নিজের করে নেব, এর আগে যদি তোমাকে জানাই, আর যদি তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাও"
আমি এখনো তোমাকে জানাতাম না শুধু আমার বন্ধুদের জন্যই তোমাকে জানাতে বাধ্য হয়েছি, 
আমি তোমাকে বিরক্ত করতে চাইনি, আমি কোনো হারাম পথে তোমাকে চাইনি, 
আমি তোমাকে হালাল ভাবে নিজের করতে চেয়েছি, 
কিন্তু আমার বন্ধুরা বলল তুমি যদি তার আগে অন্য কাউকে,
 ভালোবেসে ফেলো সেই জন্যই আমি তোমার সামনে এসেছি নাহলে আমি এখনো তোমার সামনে আসতাম না, 
তুমি প্লিজ আমাকে ছেড়ে যেও না,
ইমনের এমন কাতর আকুতি দেখে জান্নাতুলের ভেতরে তখন আনন্দের জোয়ার বইতে শুরু করেছে। সে বাইরে মুখ শক্ত করে রাখলেও মনের ভেতর তখন লাজে রাঙা হয়ে উঠছে। সে একটু অভিমানের সুরে মাথাটা ঘুরিয়ে নিয়ে বলল, 
"বাহ! বেশ তো! নিজের মতো করে একটা নাম দিয়ে দিলেন—‘কাজললতা’। তা মিস্টার ইমন মোড়ল মহাশয়, আমাকে আপনি কেন এই নামে ডাকেন, একটু খুলে বলবেন কি? আমার কি কোনো নিজস্ব নাম ছিল না? আপনাকে আমার নাম আপনার পছন্দ হয় নাই"কোনটা বলুন তো,,,,?
কবি সাহেব ব্যস্ত হয়ে বললেন, না না, তোমার নামটা অনেক সুন্দর আমি তো ভালোবেসে তোমাকে কাজললতা বলে ডাকি,
ও আচ্ছা তাই তা বলুন তো এই কাজল লতা নামে কেন ডাকেন আর তো কত সুন্দর সুন্দর নাম আছে কিন্তু কেন এই নামেই ডাকেন, কি হলো বলুন,
ইমন একটি ভোগ গিললো, চোখ বন্ধ করে ফেললো, ইমনের নিঃশ্বাস ভারী হয়ে গেল, তার বুকের ভিতর ডুব ডুব আওয়াজ হল, ঠোট দুটি কাঁপছে তার, বলা শুরু করল সে,
চোখের কোণের নিখুঁত ছোঁয়া আর মনের গভীরে জড়িয়ে থাকা এক নাম—কাজললতা। যাকে ভালোবাসার ডায়েরিতে শুধু নাম হিসেবে নয়, বরং এক ফালি স্নিগ্ধতা হিসেবে লিখে রাখা যায়।
তোমার চোখের কালো কাজলে যেমন পুরো পৃথিবী হারিয়ে ফেলা যায়, তেমনি এই হৃদয়ের প্রতিটি পাতায় লতার মতো জড়িয়ে আছ শুধু তুমি। ঝিরিঝিরি বাতাসে যেমন লতা নিজের ছন্দে দুলতে থাকে, তেমনি আমার ভাবনা জুড়ে শুধু তোমারী আলতো উপস্থিতি। কেউ হয়তো তোমাকে শুধু একটি নাম বলে ডাকবে, কিন্তু আমার কাছে তুমি এক নামহীন অনুভূতি, যা হৃদয়ের সবচেয়ে সুন্দর কোণে পরম যত্নে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।
ক্লান্ত দুপুরে কিংবা শ্রাবণের মিষ্টি সন্ধ্যায়, তোমার এই নামটিই আমার কাছে সবচেয়ে মধুর সুর। যদি কখনো পৃথিবীর সব আলো নিভেও যায়, তবে তোমার চোখের ওই কাজলছায়া আর মনের ভেতরের এই লতা হয়ে জড়িয়ে থাকা ভালোবাসাই আমার পথ দেখাবে। সারাজীবন এভাবেই এই নামের মায়ায় ডুবে থাকতে ইচ্ছে করে।
জান্নাতুল তো মুগ্ধ হয়েই ইমনের দিকে তাকিয়ে রইল, তার কবি সাহেবের মনে তার জন্য এত ভালোবাসা, জান্নাতুল তো ঘরের মধ্যেই চলে গেছে,
 ইমন আস্তে আস্তে চোখ খুলল কাজল লতার সেই কাজল চোখের চোখ পরলো, তার কাজল লতার দুই চোখে মুগ্ধ চাহনি, তার বুকটা যেন কেমন হয়ে গেল, একদৃষ্টিতে তারা দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে, কাজল লতার সেই গভীর কালো দুইচোখ, আর ইমনের শান্ত শিষ্ট দুই ভালোবাসা যুক্ত চোখ একে অপরের সাথে যেন মিশে যাচ্ছে আহা! কি সুন্দর মুহূর্ত,
এত ভালবাসেন আমায় , ছেড়ে যাবেন না তো কখনো কবি সাহেব, 
জান্নাতুলের এই কথাই ইমনের হুশ ফিরে আসলো,ইমনের চোখে মুখে তখন এক অদ্ভুত আলো খেলে গেল। সে বুঝতে পারল, কাজললতার মনে তার জন্য ভালোবাসার বরফ গলতে শুরু করেছে। একটু সাহস সঞ্চয় করে ইমন তার পকেট থেকে ছোট্ট একটা বাঁধানো ডায়েরি বের করে পাতার পর পাতা উল্টাতে লাগল। তারপর হঠাৎ করেই সে একটু সামনে এগিয়ে এসে বেশ গম্ভীর, অথচ অত্যন্ত মায়াবী ও রোমান্টিক সুরে এক ফালি কবিতা আবৃত্তি করে শোনাল—
"মেঘের দেশে রোদ নামে যখন তোমার ওই চোখের কোণে,
হারিয়ে যাই আমি তখন অচিনপুরের কোনো গোপনে।
শত ফাগুন এসেও যেন ফুরিয়ে যায় পলক ফেলে,
কাজললতার মায়া জড়িয়ে থাকে আমার অবুঝ মেলে।
ঝিরিঝিরি বাতাসে যখন উড়তে থাকে তোমার চুল,
আমার এই শূন্য বুকে ফোটে হাজার বুনো ফুল।
বলো প্রিয়া, এই হূদয়টা কি শুধুই তোমার দেবো মেলে,
নাকি আমায় ভাসিয়ে দেবে ওই চোখের ওই কাজলে?"
ইমনের মুখে এই তাৎক্ষণিক বানিয়ে বলা গভীর রোমান্টিক কবিতাটা শোনার পর জান্নাতুলের বুকের ভেতরটা আস্ত একটা সুনামি বয়ে গেল। তার পা দুটো যেন আর ঠিকমতো মাটিতে টিকছিল না। সে আর নিজের ভেতরের আবেগ লুকিয়ে রাখতে পারল না। চোখের পলক ফেলে সে নিচের দিকে তাকিয়ে মৃদুস্বরে বলে উঠল, 
"কবিতা লেখার হাত তো আপনার বেশ ভালোই, কবি সাহেব! কিন্তু এভাবে চব্বিশ ঘণ্টা একটা মেয়ের পেছনে ঘুরে তাকে কাবু করার বুদ্ধি আপনাকে কে দিয়েছে? ওই আপনার ওই বাঁদর চার বন্ধু বুঝি?"
ইমন এক চিলতে মুচকি হাসি দিয়ে মাথা চুলকে বলল, "ওদের কথা আর বলো না! ওরা তো সারাদিন আমাকে শুধু খোঁচায়। তবে হ্যাঁ, একটা সত্যি কথা কি জানো কাজললতা? তোমাকে যখনই আমি প্রথম ওই ইস্কুলের গেটে দেখেছিলাম, আমার মনে হয়েছিল—আমার বিগত ২০ বছরের সমস্ত দীর্ঘশ্বাস, সমস্ত কষ্ট আর সমস্ত না বলা কবিতা যেন একটা মূর্ত প্রতীক হয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তোমার ওই চোখের কাজল শুধু তোমার চোখের সৌন্দর্য বাড়ায়নি, ওটা আমার পুরো কবি-মনটাকে চোরের মতো চুরি করে নিয়ে গেছে!"
একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধুরা তখন এই দৃশ্য দেখে নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে মহা আনন্দ করছে। রাফসান সজলের পিঠে থাপ্পড় মেরে ফিসফিস করে বলল, "দেখছিস কান্ড! আমাদের কবি সাহেব তো পুরা হিরো হয়ে গেছে! যেভাবে কবিতা শুনিয়ে পটল তুলছে, আমার তো নিজেই ইমনের ওপর ক্রাশ খেয়ে যাওয়ার দশা হয়েছে!"
সজল দাঁত কেলিয়ে বলল, "আরে রাখ তোর ক্রাশ! দেখিস না একটু পরে আমাদের দুই পাখি কীভাবে এক ডালে এসে বসে!"
ওদিকে জান্নাতুল আর ইমনের মাঝখানে তখন বেশ সুন্দর একটা রোমান্টিক দূরত্ব বজায় রয়েছে। চারপাশের মিষ্টি রোদ, গাছেদের পাতার ফিসফিসানি আর বসন্তের উদাস হাওয়া তাদের চারপাশের পরিবেশটাকে এক সুপ্ত ঘোরে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
জান্নাতুল একটু লজ্জা ভেঙে ইমনের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে খুব নরম গলায় বলল, "আচ্ছা কবি সাহেব, একটা শর্ত আছে কিন্তু।"
ইমন দারুণ উৎসাহ নিয়ে বলে উঠল, "কী শর্ত? এক পায়ে রাজি আছি আমি! বলো, কী করতে হবে?"
জান্নাতুল একটু বাঁকা হেসে বলল, "শর্ত হলো—আজ থেকে আর কোনো ফাজলামো বা লুকিয়ে লুকিয়ে ধাক্কা খাওয়ার নাটক চলবে না। আর আমাকে ওই 'কাজললতা' নামে শুধু আপনি একাই ডাকবেন, অন্য কেউ যেন কখনো এই নামে ডাকার সাহস না পায়! পারবেন তো?"
ইমন এক মুহূর্ত দেরি না করে বুক ফুলিয়ে দৃঢ়তার সাথে বলে উঠল, "শুধু আজ থেকে কেন, আমার জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই ‘কাজললতা’ নামটা শুধু আমার ডায়েরিতে আর আমার এই হৃদয়ের প্রতিটা পাতায় খোদাই করা থাকবে! পৃথিবীর কারো সাধ্য নেই তোমার এই নামের ওপর অধিকার কাড়ে!"
ইমনের এই আত্মবিশ্বাসী ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কথাগুলো শোনার পর জান্নাতুল আর নিজের মুখের সেই কঠিন ভাবটা ধরে রাখতে পারল না। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক ফালি লাজুক, স্বর্গীয় হাসি। সে নিচু গলায় বলল, 
"ঠিক আছে, তবে তাই হোক! কিন্তু মনে রাখবেন, যদি কখনো অবহেলা করেন, তাহলে কিন্তু আর এই কাজললতাকে পাবেন না!"
ইমন আনন্দে আত্মহারা হয়ে পকেট থেকে একটা ছোট্ট লাল রঙের কাগজের গোলাপ ফুল বের করে জান্নাতুলের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, "কসম করে বলছি কাজললতা, আমার এই জীবনে তোমাকে অবহেলা করার সাধ্য আমার নেই! তুমি আমার জীবনের প্রথম এবং শেষ কবিতা।"
বান্ধবীরা দূর থেকে হাততালি দিয়ে ইশারা করতেই জান্নাতুল লজ্জায় লাল হয়ে মাথা নিচু করে ফেলল। তারপর দ্রুত পায়ে ইমনের কাছ থেকে চিঠি আর সেই কাগজের ফুলটি নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বান্ধবীদের দিকে দৌড়ে চলে গেল। ইমন তখনো অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল তার সেই চলে যাওয়া কাজললতার দিকে—যেখানে ফাল্গুনের মিষ্টি রোদে মিশে আছে তাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও পবিত্র একটি প্রেমের সূচনা।
চারপাশের সেই স্নিগ্ধ প্রকৃতি যেন তখন ফিসফিস করে বলে উঠছিল—
"কবি আর তার কাজললতার প্রেমের মেঘে আজ সত্যিই এক নতুন বসন্ত নেমেছে।"
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন