ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক মুঠো ভালোবাসা

৩য় পর্ব

লেখক: Era Islam
আসসালামু আলাইকুম। আমি ইসরাখ জাহান। 
শুরু করছি এক মুঠো ভালোবাসা গল্পের ৩য় পর্ব
লেখিকা - ইরা ইসলাম। 
গল্প চলমান। 
সানায়া আইজান চৌধুরীর কথা অনুযায়ী পার্লারের ভিতরে গিয়ে বসে।  তার বাড়ি যাওয়া জরুরি কিন্তু আইজান স্যার বসতে বলে চলে গেছে ৬ মিনিট হয়ে গেছে। এখন ও আসছেনা।  সানায়া যে চলে যাবে তা ও পারছে না কারন আইজান স্যার এর কথার সে অবাধ্য হতে পারবে না।  ৯ মিনিট শেষ হয়ে যখন ১০ মিনিট এ সেকেন্ড কাটা ঘুরতে শুরু করলো তখন আইজান চৌধুরী বাইক থামায় পার্লারের সামনে।  সানায়া বাইক এর শব্দ পেয়ে বাইরে এসে দেখে আইজান চৌধুরী অনেক গুলো ব্যাগ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।  সানাায়া প্রথমে বুঝতে পারলো না তার হাতে কি।  সে জিজ্ঞেস করার আগেই আইজান চৌধুরী বললো এই নাও এখানে আকাশী কালার কিচু ড্রেস আছে সেটা ভালো লাগে সেটা পড়।  আমি তো জানি না কোন ডিজাইন তোমার পছন্দ তাই আকাশী কালার যত ড্রেস পেয়েছি তা সব কিনে নিয়ে এসেছি। সানায়া হা করে তাকি আছে ব্যাগ গুলোর দিকে।  সেটা মূলত বুঝতে পারছে না এখন ড্রেস গুলো কেন স্যার তাকে দিচ্ছে।  আর এতো গুলোই বা কেন।  তাহলে কি স্যার বাড়ির সবার জন্য কিনছে।  না তা কেন হবে স্যার তো জানে সানায়া সবার জন্য কালকে ড্রেস কিনছে। চিন্তা ভাবনার মাঝে আইজান চৌধুরী ডাক দিয়ে বললো এইখান থেকে একটা ড্রেস পড়ো আসো শাড়ি চেঞ্জ করে।  হা!
কি কিছু বলছি তো?  
কিন্তু কেন স্যার 
কি কেন? 
শাড়ি চেঞ্জ করে হঠাৎ শাড়ি পড়বো কেন স্যার?
আমি বলছি তাই।
হুম
বলে সানায়া দাঁড়িয়ে থাকে।  
এই মেয়ে কথা কানে যায় না।  কিছু বলছি তো। 
হুম। সানায়া ব্যাগ নিয়ে ভিরতে চলে যওয়ার জন্য পা বাড়ায়। সে স্যারের কথার অবাদ্ধ হতে পারবে না তাই।  
এই শুনো।
এই  শুনো কথাটা শুনে সানায়ার শরীল বেয়ে শীতল ঠান্ডা বাতাস বয়ে যায়। কারন এই ভাবে আইজান চৌধুরী তাকে কখনো ডাক দেয়নি।  
কিছু বলছি।  জি স্যার বলেন। 
ড্রেস চেঞ্জ করো শুধু মেকাআপ যেমন আছে তেমনি থাকে যেন।  ৫ মিনিট এর ভিতরে আসো।  অপেক্ষা করছি।হুম।  বলেই সানায়া ভিতরে চলে যায়। সানায়ার কেমন পাগল পাগল লাগছে নিজেকে।  আজ যেন তার সব স্বপ্নের মতো লাগছে৷ আইজান স্যার তাকে ড্রেস কিনে দিয়েছে।  তার সাথে বাইকে সে এসেছে আবার আইজান চৌধুরী তার জন্য অপেক্ষা করছে। সব এই স্বপ্ন মনে হয়।  ভিতরে গিয়ে সানায়া ব্যাগ থেকে ড্রেস বের করে দেখে ৮০ টা ড্রেস আছে।  সানায়া ভেবে পায় না এতো ড্রেস কোথা থেকে আনলো এই টুকু সময়ের ভিতরে স্যার৷  কিন্তু দেরি হয়ে যাবে বলে ভাবনা চিন্তা বাদ  দিয়ে ড্রেস গুলোর ভিতর থেকে আকাশী একটা গাউন পড়ে সাদা উড়না নিয়ে তাড়াতাড়ি চেঞ্জ করে।  সানায়াকে গাউন টা বেশ মানিয়েছে। পার্লারের মেয়াটা সানায়াকে বলে বাহ ম্যাডাম আপনার পছন্দ তো বেশ সুন্দর।  অপূর্ব লাগছে ড্রেস টা আপনার গায়ে।  সত্যি ম্যাডাম আপনার হাসবেন্ড এর পছন্দ অনেক সুন্দর। কথাটা৷ শুনতে এই সানায়া লজ্জায় লাল হয়ে যায়।  আইজান চৌধুরী কে আর হাসবেন্ড ভাবসে তার মানে তার সাথে তাকে দেখতে ভালে লাগে হয়তো। সানায়া এতো গুলো ব্যাগ নিয়ে বাইকে বসে যেতে পারবে না বলে ও ব্যাগ গুলো পার্লারে রেখে বের হয়।  আবারো আইজান চৌধুরী তাকে দেখে তাকিয়ে থাকে আর মনে মনে বলে উঠে আসমানের পরী আমার রানী আমার ভালোবাসার গোলাপের পাপড়ি।  সানায়া স্পষ্ট সব শুনতে না পেলে ও শুনতে পায় আসমানের পরী।  শুনে সে সাথে সাথে লজ্জায় লাল হয়ে চিবুক নামিয়ে ফেলে। চিবুক নিচে রেখে বলে দেরি হয়ে যাচ্ছে চলেন স্যার।  আইজান চৌধুরী হঠাৎ ধরা পড়ে যাওয়ার মতো করে বলে তুমি তো দেরি করছো আমি তো... তো যেতেই চাই চলে..চলো। বলেই বাইকে স্টাট দেয়। বাইক চলছে নিজ গতিতে।  সানায়া তার মাকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করেছে সে কোথাশ তা মা বলছে ১০ মিনিট এর ভিতর সে বের হবে।  সানায়াা আচ্ছা বলে কল কেটে দিছে।  সানায়ার মনে একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরছে কেন তাকে আইজান স্যার এতো গুলো ড্রেস কিনে দিলো আর কেন শাড়ি চেঞ্জ করালো।  সে আর পেটে কথা চেপে না রাখতে পেরে বললো স্যার একটা কথা বলবো। হুম।  বলেই আইজান চৌধুরী বাইক জোরে টান দিলো।  সাথে সাথে সানায়ার শরীর আইজান চৌধুরীর শরীরের সাথে লাগলো।  আইজান চৌধুরীর শরীর এর কড়া পারফিউম এর ঘ্রাণে আর শরীর সাথে সানায়ার শরীর লাগতেই সে কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আইজান চৌধুরী বলে বললে না কি যেন বলবে।  সানায়া কি বলবে তার মুখ থেকে কথা বেরচ্ছে না। কোনো ভাবে বললো না কি.... কিছু না। আইজান চৌধুরী মনে মনে বললো পাখি জানি তুমি কি বলবে।  আমি তোমাকে কাউকে দেখতে দিবো না বাঝে নজরে।  আমি সব সময় তোমাকে প্রটেক করবো। আমি চাই না আমি ছাড়া তোনার সৌন্দর্যে অন্য কেউ মুগ্ধ হোক। আর আমি এটা ও জানি তুমি ভাবছো আমি ১০ মিনিটে এতো গুলো ড্রে কই পেলাম।  পাখি শুনো আমি শুনো পাখি ১০ বছরের তোমার জন্য ৮০ টা শাড়ি আর ৪০ টা শাড়ি টাকা জমিয়েছিলাম। প্রতিটা চাড়ি আর ড্রেস অনুযায়ী টাকা জমাতাম।  তোমার পছন্দের কালার জানি না বলে কিনতে পারিনি।  দুবছর আগে যখন জানতে পারি তুমি আকাশী কালার পছন্দ করো তখন এই কিনে রেখেছিলাম। আজ তাই এতো তাড়াতাড়ি এনি দিতে পেরেছি পাখি।  তাও এই ভাবে তোমাকে দেওয়া হলো ড্রেস গুলো।  ভাবতে ও পারিনি পাখি তোমাকে এতো তাড়াতাড়ি দেওয়ার সুযোগ পাবো। আমি তোমাকে সারাজীবন আমার করে রাখতে চাই my white diamond. ভাবেতে ভাতবে আইজান চৌধুরীর বাইক এসে থামে খান বাড়ি সামনে।  সানায়া আর আইজান চৌধুরী ভিতরে যায়।  আইজান চৌধুরী দেখে পারপেল আর আকাশী কালার বেলুন দিয়ে সারা বাড়ি সাজানো হয়েছে৷  সানায়ার বাবা আইজান চৌধুরী সাথে কিছুক্ষন কথা বলে।  এর ভিতরে বাইরে থেকে হর্ন বাজে।  সবাই বুঝতে পারে ইরা খান চলে এসেছে।  সানায়ার কথা অনুযায়ী ইত্তেজা খান বাইরে গিয়ে ইরা খান এর চোখ বেঁধে ভিতরে নিয়ে আসে।  সানায়া গিয়ে চোখ খুলো দেয় তার মায়ের। সবাই একসাথে  Happy Birthday বলে ওঠে৷।  ইত্তেজা খান সাথে সাথে হাঁটু গেরে বসে ইরা খান এর সামনে ফুল এর তোরা দিয়ে প্রপোজ করে৷  ইরা খান অবাক হয়ে যায় সব কিছু দেখে৷  এবার বুঝতে পারে সে তাকে সানায়া কেন মামা বাড়ি নিয়ে গিয়েছে৷ তবে ইরা খান ভাবতে ও পারেনি খান পরিবারে জন্মদিন উৎযাপন করা হচ্ছে তাও আবার তার। কারন ইত্তেজা খান এর বাবা  ইকবাল খান জন্মদিন পালন করা পছন্দ করতো না তাই আর কখনো কারো জন্মদিন পালন হয়নি।  তাই এইবাড়ি কেউ এই জন্মদিন নিয়ে আগ্রহ দেখাইনি। হয়তো অনেকের এই নিজের জন্মদিন মনে নেই।  এই যেমন ইরা খান এর ও নিজের জন্মদিন এর কথা মনে ছিল না।  ইরা খান এর জন্মদিন উপলক্ষে আজ খান পরিবারে আছে সবাই।  যেমন - ইরা খান, ইত্তেজা খান। সানায়ার দাদা ইকবাল খান দাদি হালিমা বেগম।  সানায়ার নানা আরাফ তালুকদার নানি হেনা তালুকদার।  সানায়ার দুই ফুফু। রুমা খান আর ছোট ফুফু ছাবিনা খান। তাদের জামাই শাসসুল সিকদার ও সুমন হাওলাদার।  সানায়ার বড় ফুফুর ছেলে তানভীর সিকদার আর তার ছোট বোন রেহানা সিকদার।  আর ছোট ফুফুর মেয়ে স্নেহা হাওলাদার।  সানায়ার মামা আয়ান তালুকদার আর মামি নাজমা তালুকদার।  যারা লন্ডনে থাকেন।  সানায়ার বিশেষ অনুরোধে তারা দেশে এসেছে। তাদের দুই ছেলে সিয়াম আর সাফআন। যারা লন্ডনে আছে। আর সানায়ার বড় চাচা আলী আকবার খান ও তার চাচি সায়রা খান।  তার একটি মেয়ে শ্রেয়া খান যার লন্ডনে বিয়ে হয়েছে।  আর সানায়ার ছোট চাচা আবু বকর খান যার একটি মেয়ে সবার ছোট মাএ ৮ বছর বয়সী সে। তার নাম চিত্রা। সবাই ডাকে আদর করে চেরি বলে। আর সানায়ার ভাই সায়মন।   সবাই আনন্দ করছিল। হঠাৎ ঠাস! শব্দে সবাই থেমে যায় দেখে তানভীর গালে হাত দিয়ে নিচে পড়ে আছে আর আইজান চৌধুরী হাতের  কাচের গ্লাস ফ্লোরে ফেলে চলে যাচ্ছে। চোখ দুটি রাগে লাল হয়ে গেছে। কেউ বুঝতে পারলো না বিষয় টা।  সবাই অবাক হয়ে রইলো। 
চলবে,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন