ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক মুঠো ভালোবাসা

৪র্থ পর্ব

লেখক: Era Islam
আসসালামু আলাইকুম । আমি ইসরাখ জাহান। শুরু করছি এক মুঠো ভালোবাসা গল্পের ৪র্থ পর্ব।
রুমা খান দৌড়ে গিয়ে তানভীর কে উঠায়।  তিনি তার ছেলে কে এই অবস্থায় দেখে চিৎকার চেঁচামেচি করা শুরু করে।  ইত্তেজা খান জানতে চান তানভীর এর কাছে তাকে কেন মেরেছে আইজান চৌধুরী ।  তানভীর কোনো কথা বলে না।  রুমা খান আবার চিৎকার করে বলতে থাকে আমার ভাইয়ের বাড়িতে এসে আমার ছেলে কে একটা বাইরের মানুষ কিভাবে মেরে যায়।  তানভীর কে একে একে সবাই প্রশ্ন করে কেন মেরেছে  তাকে।  কিন্তু তানভীর কোনো উওর দেয় না৷  তানভীর কে চুপ থাকতে দেখে তানভীর এর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সানায়াকে সবাই জিজ্ঞেস করে কে তাকে মেরেছে আইজান চৌধুরী।  সানায়া মূলত এতো সময় হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো কারন সে জানে কেন তানভীর কে আইজান চৌধুরী মেরেছে৷  কিন্তু সানায়ার পিঠে তানভীর হাত রেখেছে বলে তাকে কেন মারলো আইজান চৌধুরী এটা সে বুঝতে পারছে না৷ ইরা বলে উঠলে কি রে সানায়া কথা বলছিস না কেন কিছু জিজ্ঞেস করেছি তো।  সানায়া কোনো ভাবে বললো আমি জানি না।  বলেই সে রুমের দিক দৌড়ে গেল।  তানভীর ও উওর না দেওয়াতে এই বিষয় নিয়ে কেউ আর কোনো কথা বলে না শুধু রুমা খান আর ছাবিনা খান আইজান চৌধুরীকে বকাবকি করতে থাকে। তাদের মাঝে সায়মন বলে উঠে ফুফপি আইজান স্যার যখন মেরেছে তখন নিশ্চিত কোনো কারন আছে। না যেনে কেন তাকে দোষ দিচ্ছ। তোমার ছেলে ও তো চুপ করে আছে তাহলে নিশ্চিত ওর কোনো দোষ আছে।  এটা বলেই সায়মন রুমে চলে যায়।  এদিকে সানায়া রুমে এসে ভাবতে থাকে তখনে ঘটনা। তানভীর সানায়া কে ডাক দেয় ছবি তোলার জন্য সানায়া যায় প্রথমে ভালো ভাবে সবাই মিলে দু একটা ছবি তোলে পরে তানভীর সানায়ার পাশে দাঁড়িয়ে সানায়ার পিঠে হাত দিতে যায় ছবি তোলার জন্য সানায়া তখন সরে যাওয়ার আগে আইজান চৌধুরী তানভীর এর শার্ট টেনে নিয়ে থাপ্পড় দিতে থাকে।  এক পর্যায়ে তানভীর নিচে পড়ে যায় তখন আইজান চৌধুরী বের হয়ে যায়। দেখতে দেখতে কেটে যায় বেশ কিছু দিন আজ সানায়ার ইন্টার ফাস্ট ইয়ার এর পরীক্ষা শুরু হবে৷  সানায়া ৯ টার ভিতরে খাবার খেয়ে বের হয়ে যায় তার ভাইয়ের সাথে কলেজের উদ্দেশ্যে।  সানায়া বাইক থেকে নেমে দেখতে পায় তার বেস্ট ফেন্ড তিথি দাঁড়িয়ে আছে। সানায়া ডাক দেয় বেবি এদিকে আয়।  সাথে সাথে তিথি ওদের দিকে আসে।  তিথি সায়মনকে দেখে বলে আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া কেমন আছেন। এই মেয়ে ভাইয়া বলছো কাকে।  আপনাকে ভাইয়া। আমি তোমার কোনো জন্মের ভাই।  না মানে।  কি মানে।  আপনি তো সানায়ার ভাই মানে আমার ও ভাই। আমি সানায়ার ভাই তোমার না তুমি কি আমার বোন নাকি ও  তো আমার বোন। সরি ভাইয়া। আবার ভাইয়া। কি বলবো তাহলে?  সায়মন ভাই বলবা।  ঠিক আছে।  হুম।
কিরে ভাইয়া তুমি আমার বান্ধবীর সাথে এমন কেন করছো।  চুপ করো। তিথি কে সানায়া বলে কিরে সব পড়েছিস।  হুম।  চল তাহলে যাই।  হুম চল। বলেই সানায়া সায়মনকে বললো আচ্ছা ভাইয়া তাহলে তুমি যাও আমি ভিতরে যাই। সায়মন আচ্ছা বলে চলে যায়। 
তিথি পরীক্ষা হলে সানায়ার পিছনে বসছে তাই পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে ওরা গল্প করছিলো। সানায়া বললো তিথি এখন তো শাপলা ফুল ফোঁটে। যাবি একদিন শাপলা বিলে। কিভাবে যাবো ভাইয়া তো যেতে দিবে না। কেন তোর ভাইর সমস্যা কি আমরা গেলে জানি না তবে যেতে দিবে না মনে হয়। তোর ভাই তাহলে একটা খাটাশ বলে দেখিছ যেতে দেয় কিনা।  না বললে বলবি তুমি ও চলো।  আচ্ছা।  এতোক্ষণ আইজান চৌধুরী পিছনে দাঁড়িয়ে সব শুনছিল।  সে বললো কোথায় যাবি তোরা। আইজান চৌধুরীর বোন তিথি চৌধুরী।  আর তিথি আর সানায়া বেস্ট ফ্রেন্ড। তিথি বললো না ভাইয়া কিছুনা সানায়া বলছিল শাপলা বিলে যাবে তোমায় নিয়ে।  তাই। কি! বলে উঠলো সানায়া। আমার নামে মিথ্যা কেন বললি তুই। স্যার আমি বলি নাই আপনার কথা।  ওহ  তাই তাহলে কি বলছিলে?  আমি বলেছি আমি ওই আর কি বললাম না কিছু না।  তাড়াতাড়ি বলো? বলেছিলাম আমি আর তিথি শাপলা বিলে যাবো।  ওহ এই ব্যাপার। হুম।  আমাকে কি নিবে তোমাদের সাথে।  তিথি অবাক হয়ে তার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।  সানায়াও বিশ্বাস করতে পারছে না৷  তিথি তার ভাইকে ভয় পায় তাই আর কিছু বলার সাহস তার নাই তাই চুপ করে থাকে।  তিথির তার ভাইকে ভয় পাওয়ার কারন আইজান চৌধুরী রাগী আর চুপচাপ স্বভাবের তিনি কথা কম কাজ বেশি পছন্দ করেন।  আইজান চৌধুরী একটি কলেজের প্রোফেসার এবং পাশাপাশি একটি কোম্পানি ও চালায়৷।তিথিদের নিজস্ব কোম্পানি থাকার পরে ও আইজান চৌধুরী নিজের একটা কোম্পানি দাঁড় করায়।  তিথির বা ইনামুল চৌধুরী বারবার বলেছের তাদের কোম্পানিতে যোগ দিতে কিন্তু আইজান তা শুনেনি।  সে নিজের একটা পরিচয় নিয়ে বাঁচতে চায়।  অবশেষে তিথির বাবা আইজান এর জেদের কাছে হার মানে। তিথির বাবার একটি ছেলে আইজান চৌধুরী সে তাই বলছিল তার কোম্পানি কে দেখাশোনা করবে তখন আইজান জানিয়েছে তিনি দুইবছর পর থেকে বাবা আর নিজের কোম্পানি দেখাশোনা করবে।  তখন কলেজের চাকরি টা করবে না।  আইজান চৌধুরীর এই চাকরিটা নেওয়ার কারন ছিলো সানায়া।  তিনি যখন জানলেন সানায়া এই কলেজে ভর্তি হবে তখন এই কলেজে প্রোফেসার হিসাবে যোগদান করেছিল।  এটা শুধু আইজান চৌধুরী জানে।  এই কথা কেউ জানে না।  কেউ জানেনা সানায়াকে আইজান চৌধুরী ভালোবাসে।  সানায়া বললো স্যার আপনি সত্যি যাবে।  হ্যাঁ যাবো।  আচ্ছা ঠিক আছে। হুম। কবে যাবে জানাবে আমাকে ok । ওদের কথার মাঝে ঘন্টা পড়ে পরীক্ষা শুরু হয়।  পরীক্ষা শেষ হলে তিথি আর সানায়া কলেজের মাঠে এসে বসে সাথে ওদের কিছু বান্ধবী মিম,  নাদিয়া, আয়শা,আজানা।ওরা গল্প করতে থাকে।  ওরা সবাই ওইখানে ফুচকা দেখে ফুচকা খাওয়া শুরু করে।  সাথে পরীক্ষা কার কেমন হলো আলোচনা করে৷ ফুচকা শেষ করে সবাই চলে যায় শুধু সানায়া আর তিথি বসে থাকে।  সানায়া বলে তিথি শাপলা বিলে যে যাবো আমার তো লাল সাদা শাড়ি নেই।  আমার ও তো নেই সানায়া।  তাহলে কি করবি? তিথি বললো চল বেবি একদিন শপিং এ যাই।  না রে আমাকে বাবা যেতে দিবে না শপিং এ।  বললে বলবে সে নিয়ে আসবে।  তাহলে অনলাইনে অর্ডার দেই সানায়া। আচ্ছা এখন দেই কথাটা বললো সানায়া তার বলার শেষ হওয়ার আগে আইজান চৌধুরী বাইক এর হর্ন বাজালো সাথে সাথে তিথি আর সানায়া উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে৷।  আইজান চৌধুরী তিথিকে বলে তিথি বাইকে উঠ বাড়ি চল। তিথি অবাক হয়ে গেল এতোদিন কতবার তিথি উঠতে চেয়েছে এমনি কি তার বাবা মাকে দিয়ে বলছে আইজান চৌধুরী কখনো উঠায়নি আজ হঠাৎ নিজে থেকে বলছে । সানায়াদের বাড়ি গাড়ি ও ইতিমধ্যেই এসে গেছে।  আইজান বলে কিরে যাবি না।  হ্যাঁ যাবো।  তিথি বাইকে উঠলো।  তিথি সানায়াকে বাড়ি চলে যেতে বলে চলে গেল।  সানায়া ও গাড়ি তে উঠে পার্লারের সামনে যেতে বলে।  গাড়িটি পার্লারের বাইরে থামতেই সানায়া ভিতরে গিয়ে ড্রেস গুলো নিয়ে আসে। 

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন