কলমে: আহমেদ বাঁধন
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
[১৭তম খণ্ড] ক
~~~~~~~~~~~~~ ভোরবেলা ~~~~~~~~~~~~~~
'' সকাল ভোর হয়েছে সবে মাত্র রাতের দিকে ডাক্তার বলে গিয়েছিল। তার বেশি সমস্যা হয়নি শুধু একটু অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। আর মাথায় বেশি চাপ দিতে মানা করেছে স্মৃতিশক্তি নাকি ফিরে আসছে আগের অনেক কিছু মনে এসেছে। তাই সারারাত নূরের বেডের পাশে বসে আছে বাধন চোখে এক ফোটাও ঘুম নেই। সেই ভোরের মাঝে সারারাত জেগে আছে আর তার সকল লোককে লাগিয়ে দিয়েছে পুরো দুনিয়া যাতে কেউ ঘুমায় না তার বউ জাগ্রত না হওয়া পর্যন্ত। এরকম কঠিন জবাব আর বাঁধনের কথা অমান্য করা মানে নিজের মৃত্যুকে নিজেই আমন্ত্রণ করা সবাই সেটা হাড়ে হাড়ে জানে। তাই পুরো দুনিয়ার মানুষের মধ্যে অধিকাংশ মানুষেরই চোখে ঘুম নেই লাইভ টেলিকাস্ট হয়েছিল রাতে বাধনের অর্ডারে। অ্যালবার্ট আর জোসেফ পুরো দুনিয়া জানিয়ে দিয়েছে...!!
· হাসপাতালে বেডে শুয়ে আছে নূর হাতে স্যালাইন দেওয়া পাশে বাঁধন মির্জা বসে আছে চোখ লাল হয়ে গিয়েছে। নুর হালকা চোখ খোলার চেষ্টা করল সে চোখ খুলে দেখলো পরিস্থিতিটা কি রকম। সে দেখল তার পাশে বসে আছে বাঁধন আছে বাধন মির্জা।
— জান এখন একটু সুস্থ লাগছে..??
— জি...!!
— এমনটা কি করে হলো আর তুমি সেখানে রক্ত মাখা অবস্থায় পড়ে গেলেই কিভাবে কুইক নাও আমাকে বল...!!
— আসলে আমি আসলে আমি....
— 'বল'
— আমি আমার চুলগুলো ঠিক করছিলাম হঠাৎ করে" কি থেকে কি হয়ে গেল আমার মাথা ঘুরাতে লাগলো চিনচিন করে তারপর হঠাৎ পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে কিসের সাথে জানি মাথায় আঘাত লাগলো তারপর আমার কিছুই মনে নেই...,,
— এখন রেস্ট নাও শুয়ে শুয়ে -- যা লাগবে আমাকে বলবে..,,
— আচ্ছা...!,,
বাঁধনে ডাক দিল অ্যালবার্টের আর জোসেফ কে শান্ত মেজাজি —
— দুনিয়াতে জানিয়ে দে আমার নূর চোখ খুলেছে... "" এখন তারা ঘুমাতে পারবে রেডি নাও """
তার কথাই সায় দিয়ে আলবাট মাথা সম্বন্ধ দিয়ে বলল :-
— জি ভাই.. ""
আর জোসেফ তুই এইদিকে আয় -
— এখন আমার নূর আগে থেকে একটু সুস্থ হয়েছে.. "" তাই এই উপলক্ষে পুরো দুনিয়ার মানুষকে "" আমার তরফ থেকে' তাদের সবাইকে এক লাখ টাকা করে দিবি... ""
— ওকে ভাই...!!
বাধন আবার নূরের পাশে এসে বসলো শান্ত মেজাজ আরেকটু রোমান্টিক ভাব আর স্বভাব চরিত্র থেকে একটু শান্ত থাকার চেষ্টা করল বাঁধন। কারণ সবার সাথে জোর চললেও বউয়ের সামনে কিছুই না সে। সেটা সে নিজেও মানে। সে নুরের সামনে তাকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলো পা থেকে নিয়ে মাথা পর্যন্ত তারপর ভাবল।
—:- এত সুন্দর ইদুরের বাচ্চা কিন্তু রাগ তো পুরো লাভার সমান.... তুই একদিন জানবি আমার রহস্যময় জীবন সম্পর্কে নূর আর আমি তোর কি হয় সম্পর্কে তাও জানবে। সেদিন হয়তো তুই আমাকে আরো বেশি ঘৃণা করবি.. "" তাতে আমার কোন প্রবলেম নেই প্রবলেম একটাই তুই আমার থেকে হাজার ছাড়ার চেষ্টা করলেও তুই ছাড় পাবি না "'
— বাঁধন মির্জা কখনো কারোর খাওয়া জিনিস নেয় না "" সে যা নাই সেটাই পবিত্র... সেটা যদি অপবিত্র হয়ে যায় তাহলে বাধঁন মির্জার ছুরে ফেলে দিতে এক সেকেন্ডও লাগবে না।।
বাধন এই কথাগুলো মনের কানে যায়নি কারণ লোক এখনো শুয়ে আছে ঘুমে তাই এসব কথা শুনতে পারেনি সে নয়তো কোন একটা কাহিনী হয়তো হতে পারতো...
— বিকালের দিকে —
ডাক্তার আসলো নূরের কেবিনে। নূর তখন ঘুমিয়ে ছিল আর বাধন তার চোখ লাল সে বসে আছে,। ডক্টর কে দেখিয়ে হালকা মাথা নাড়লো ডক্টর বুঝে গেল।
— স্যার.... " একটা কথা ছিল যদি রাগ না করেন তাহলে বলব আর কি...//
বাঁধনে চোখ লাল কিন্তু সেখানে ভয় নেই আছে শুধু আফসোস আর রাগ আর অভিমান সে ঘুরে তাকালো ডক্টরের দিকে আর আরেকটু ভাব নিয়ন্ত্রণ করে নিজেকে সামলিয়ে বলল :
— ইয়েস...!! সম্মতি দিয়ে বাঁধন বলল
— IED....!! হয়েছে.... "" ডক্টর ভয় নিয়ে বলল
— এটার দ্বারা কি হয়... ""
— স্যার... "" অতিরিক্ত চাপ মাথায় বা ব্রেনের সমস্যা হলে আচমকার রেগে ওঠে...'" আবার স্মৃতিশক্তি সমস্যা হয় তাই যত সম্ভব তাকে প্রেসার কম দেওয়া ভালো।
— ওটা কোন প্রবলেম না এমনিতেই তার মাথার তার ছিরা রাগ করে আমার উপর মাঝেমাঝে ওটা বড় ব্যাপার না এখন তুই যেতে পারিস... ""!
— জি স্যার..."""
বাঁধন আবার ইশারা করে ডক্টর কে ডাক দিল :
— আমার ওয়াইফ কে কখন নিয়ে যেতে পারবো
— আপনি চাইলে এখনি... ""
— ওকে
ডাক্তার আর কোন কথা না বলে সেখান থেকে চুপচাপ চলে গেল বেশি কথা বলা মানে নিজের মরণকে ডেকে আনা। বাঁধন কল করলো এলবার্ট আর জোসেফকে --
_ এখনি আমার প্রাইভেট জেট বের কর আমার কলিজা কে নিয়ে যাব এখন রাইট নাউ...--
— জি ভাই... ""
বাঁধন আর দেরি না করে নূরকে কোলে করে নিল এমন ভাবে। যাতে নূরের ঘুম না ভাঙ্গে আস্তে আস্তে করে নিয়ে যেতে লাগলো বাইরে যেতে। প্রাইভেট জেট নিচে নামছে তাকে কোলে করে নিয়ে প্রাইভেট উঠলো ---
প্রাইভেট জেট চলতে শুরু করল আকাশের পথে সাথে ছিল অ্যালবার্ট আর জোসেফ সামনের কনারে পিছনে বইসা বাঁধন নূরকে নিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে ডাক্তার সময় থাকতে নূরকে ইনজেকশন দিয়েছিল। তাই সে এখনও শুয়ে আছে আর বাঁধন তার ভালোবাসা কি ইঁদুরের বাচ্চা কে জাগায় নাই চলতে থাকলো নূর প্যালেসের দিকে কেরানীগঞ্জ ।