কলমে: আহমেদ বাঁধন
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
[১৮তম খণ্ড]
বাঁধনের অনুমতিতে নূরকে তার বাসায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কারণ বাধন হল একটা কাজে বিদেশের বাহিরে যাচ্ছে সাথে। অ্যালবার্ট আর জোসেফ ও তাই নূরকে সুস্থ হওয়াটা আবশ্যক।
— বাড়িতে হঠাৎ একদিন —
নূর যাই হোক তার স্বামী তো সে মানিক বা না মানুক। কাগজে কলমে তো এখন বাঁধন মির্জা তো তার হাজবেন্ড। কিন্তু তার পরিবারের কেউ মানছে না। এরকম মাফিয়া খুনিকে সাথে বিয়ে হয়েছে। তাই জোরপূর্বক ভাবে তার বিয়ে দিবে। নূর এতটাও কষ্ট পাবে না কারণ তার বাবা বা মা যা করবে ভালোর জন্য করবে
মধ্যবিত্ত বাড়ি নূরের জন্য আগের থেকে উন্নত হয়েছে কারণ সে সিআইডি অফিসার। বেতনের দ্বারা বাড়িঘর আগের থেকে সুন্দর হয়েছে। বসার ঘরে বিশাল বৈঠক পাত্র পাত্রীরা নিজেদেরকে আগে থেকেই দেখে নিয়েছে তাই এটা দেখানোর আহমরি কোন ব্যাপার না। মানুষজন তাদের বাড়িতে অনেক কিন্তু নূরের তেমন একটা ভালো লাগছে না এত মানুষের ভিড়ে.) বসে বসে রাগে গুনগুন করছে বাবা মা এমনটা না করলে ও পারতো তারা তো সবই জানে সে বিবাহিত। তবুও তাকে জোরপূর্বক ভাবে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বসার ঘরে বসে আছে নামকরা বিজনেসম্যান এবং তার ছেলে-মেয়ে ছেলের বউ দুলাভাই তারা আরো নানা অনেক জন মানুষ হবে 20 থেকে 25 থেকে 30 জন মানুষে ভরা বাড়ি।
বাঁধন নূরের বিয়েটা ঠিক তার বাবা-মা আর কেউ জানে না। জানলে হয়তো কারো সাহস থাকতো না বাঁধন মির্জার ওয়াইফ কে বিয়ে করে। তাই বিয়ের দিন তারিখ সব ঠিক করা হচ্ছে যদি জানতো মানুষ বা বাঁধন নূরের বিয়ের কথা তাহলে বিয়ে দেওয়ার সাহস কেউ পেত না তাই গোপনে রাখতে চাচ্ছে তার বাবা-মা গোপনে কাম সারতে চাচ্ছে নুরের বাবা আপন বাবা না রিফাতুল জিদান মির্জা আর মা তাসলিমা রাবেয়া বেগম তারা বিয়েটা দিয়ে দিতে চাচ্ছে কোন গন্ডগোল ছাড়া আর হওয়ার আগে। পাত্র মাশাল্লাহ পাত্রের নাম হল শফিকুর রহমান আসিফ। তার সাথে বিয়েটা আরো অনেক আগেই ঠিক করা হয়েছিল বাট। কোন পারিবারিক ঝামেলার কারণে বিয়েটা হতে পারেনি। আবার আসিফ দেশের বাইরে থাকে তাই আসতে একটু ঝামেলা হচ্ছিল।
সরাসরি তো এখনো সে আসতে পারে নি শুধু তার কাজিন বাবা-মা দুলাভাই-বোন তারাই আসছে সে বিদেশে ভিডিও কলে আছে। সেখান থেকে তার আংটি বদল হতে পারে সেটাই তারা চাচ্ছিল। কথা হচ্ছিল আসিফ যে কদিন পর বিদেশে থেকে ফিরে আসে না সেই পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া হবে না। সে আসার পর বিয়েটা দেওয়া হবে পারিবারিকভাবে সবার সম্মতিতে আপাতত আংটি বদল হবে। হঠাৎ পাত্রের বিজনেসম্যান বাবা সে আশ্বস্ত করে দিল যাতে কোন সমস্যা হবে না নূরকে। কিন্তু নূরের ওই দিনের পর থেকে হাসপাতালে পর থেকে কেমন জানি হালকা টান অনুভূতি হচ্ছে বাঁধনের প্রতি এটা বুঝাবে কাকে তার বান্ধবী আছে রিয়া সেও তো আসেনি এখনো। তাই মন হালকা খারাপ কিন্তু চোখে পানি নেই। এটা বাঁধন কিভাবে জানবে যদি জেনে যায় পুরো বাংলাদেশ তো ধ্বংস করতে দু পার ভাববে না এটা নিয়েও তো টেনশন হচ্ছে নূরের। বাঁধনকে নিয়েই তো যত জ্বালা সে তো আগুনের গোলা কোন সময় রেগে যায় তার ঠিক ঠিকানা নেই কি থেকে কি হবে এটাও বুঝতে পারছে না নূর কিভাবে বাধনকে আসক্ত করবে সে জানালে তো সমস্যা হয়ে যাবে এটার ভয়ে ছিল। হঠাৎ করে সেই বিজনেসম্যান লোকটি নূরের আঙ্গুলটা ধরে আংটি পরিয়ে দিল এটা দেখে তো নূর হালকা মন খারাপ হলো। সে চায় না প্রতারণা করতে বাধনের সাথে কিন্তু এখন তো বিয়ে হয়নি এখন অনেক বাকি। আর হয় সে একজন সিআইডি অফিসার এত সহজে তো সে এত তাড়াতাড়ি ভুলতে পারে না আর ঝামেলা মিটাতে হবে কোন একটা কিছু করতে হবে।
বাঁধনের সাথে বিয়ে না দেওয়ার অনেক ধারণা আছে, যেমন সে একজন মাফিয়া পুরো দেশকে পুরো দুনিয়াকে কন্ট্রোল করতে পারে, আবার সে যে কোন মেয়ের সাথে খারাপ কাজ করলে নেই তার কোন প্রমাণ আছে নাকি আবার তার নামে দুনিয়া কাঁপে তার রাগ উঠলে কাউকে মারতে দুই সেকেন্ড ভাববে না তাই সমস্যা তাদের আবার খুনি পাপী মার্ডার কত মায়েদের জীবন ধ্বংস করেছে এটাও ধারণার বাইরে। তাই তারা চায় না এরকম বাজে মাফিয়ার সাথে তার মেয়ের জীবনটা ধ্বংস করে দিক আর যাই হোক তারা তো বাবা-মা তার। নূরের একটা বান্ধবী সেও মোটামুটি সুন্দর যার নাম টিয়া। সে অবশ্য রিলেশনে আছে তার হাতে ফোন যাতে আসিফকে দেখা যাচ্ছে। ধরে তার প্রতি কোন ইন্টারেস্ট নেই তার শুধু ভয় হয় বাধনকে নিয়ে। তার বান্ধবী ফোনটা নিয়ে দূরে দিকে ঘোরালো দেখা না সত্ত্বেও বাবা মার জোর জবরদস্তি দেখতে হচ্ছে। না হলে তার কোন ইচ্ছেই নেই তাকে দেখার.,, আসিফ ছেলেটা দেখতে মাশাল্লাহ স্টাইলিশ চুল ফর্সা গাল ক্লান্ত মেশানো গাল লাল টুকটুকে ঠোঁট এক কথায় চেহারা যেরকম হওয়ার কথা। সে যে বিবাহিত এটা শুধু তার বাবা-মা আর বাঁধনের লোকেরা জানে এছাড়া কেউ জানে না। যদি জানাজানি হত তাহলে পুরো বিশ্ব ভয়ে তার সামনে দিয়ে যেতে পারত না কোন চোর ডাকাত থেকে নিয়ে বড় বাসটানো তার বউয়ের দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারতো না। তাই সে টেনশনে ছিল বাঁধন ফেরার পরে কি হবে...!!!