ফন্ট সাইজ:
থিম:
পুতুল বউ

১৪তম পর্ব

লেখক: Binti Fariya islam
পুতুল বউ
পর্ব—১৪
খান বাড়ির সকাল
সকালের নরম রোদে খান বাড়িটা আজও ব্যস্ততায় ভরা।
ডাইনিং টেবিলে সবাই নাস্তা করতে বসেছে। আবদুল হাকিম খান, যাকে জাহিদ আদর করে দাদু মনি বলে ডাকে, টেবিলের এক পাশে বসে পত্রিকা পড়ছিলেন।
জাহিদও কিছুক্ষণ পর নিচে এসে দাদু মনির পাশে বসল।
দাদু মনি পত্রিকা নামিয়ে বললেন,
—“কী রে জাহিদ, আজ এত সকালেই?”
জাহিদ মুচকি হেসে বলল,
—“ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস আছে দাদু মনি।”
—“আগে নাস্তা কর। খালি পেটে আবার বের হবি না।”
জাহিদ হেসে বলল,
—“জি দাদু মনি।”
মিথিলা পাশ থেকে বললেন,
—“এই ছেলেটা ইউনিভার্সিটিতে পড়ে, কিন্তু দাদু মনির সামনে এখনো ছোট্ট বাচ্চা।”
জাহিদ হেসে বলল,
—“আমি দাদু মনির কাছে সবসময় ছোটই থাকব।”
আবদুল হাকিম হেসে তার মাথায় হাত রাখলেন।
—“এটাই তো চাই।” আমার প্রিয় নাতী জারিন অভিযোগ এর সুরে বললো দাদু মনি ভাইয়াই প্রিয় আমরা কেউ প্রিয় নাহ তখন হাকিম খান জারিন কে আদর দিয়ে বলে আমার সব নাতী নাতনী আমার অনেক প্রিয়। 
নাস্তা করতে করতে দাদু মনি হঠাৎ বললেন,
—“পড়াশোনা কেমন চলছে?”
—“ভালো।”
—“আর কোনো ঝামেলা?”
জাহিদ একটু থেমে বলল,
—“না।”
দাদু মনি তার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝলেন, ছেলেটা কিছু একটা লুকাচ্ছে।
কিন্তু আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না।
---
ইউনিভার্সিটির আড্ডা
ক্লাস শেষ হওয়ার পর জাহিদ মাঠের পাশে আবির, নাহিম, রাকিব, সাওন আর সাব্বিরের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিল।
আবির হঠাৎ বলল,
—“ভাই, তোর দিকে তাকিয়ে মেয়েদের অবস্থা তো দিন দিন খারাপ হচ্ছে!”
রাকিব হেসে বলল,
—“সত্যি বলছি, আজকে দুইজন তোকে নিয়ে ঝগড়াই করছিল।”
জাহিদ বিরক্ত হয়ে বলল,
—“তোদের আর কোনো কাজ নেই?”
সাব্বির হেসে বলল,
—“কাজ আছে। কিন্তু তোর প্রেমের কাহিনি নিয়ে আলোচনা করা বেশি জরুরি।”
সাওন বলল,
—“ফারিয়াকে এতদিন পরেও ভুলতে পারলি না?”
জাহিদ এবার চুপ হয়ে গেল।
মনে মনে বললো রক্তে মিশে গেলে কি সেই মানুষ কে ভুলা যায়!
নাহিম মুচকি হেসে বলল,
—“দেখেছিস? নামটা শুনলেই চুপ।”
জাহিদ ধীরে বলল,
—“কিছু মানুষকে চাইলেও ভোলা যায় না।”
বন্ধুরা আর কিছু বলল না।
কিছুক্ষণ পর আবির বলল,
—“আচ্ছা, সিরিয়াস কথা বলি। তুই কি জানিস ফারিয়া এখন কোথায় পড়ে?”
জাহিদ বলল,
—“কুমিল্লায় কলেজে পড়ে।”
—“আর কিছু জানিস?”
—“না।”
সাব্বির বলল,
—“তাহলে খোঁজ নে।”
জাহিদ তাকাল।
—“কেন?”
সাব্বির মুচকি হেসে বলল,
—“কারণ তোর চোখে এখনো ওর জন্য সেই একই অনুভূতি আছে।”
জাহিদ কোনো উত্তর দিল না।
---
কুমিল্লার কলেজ
অন্যদিকে ফারিয়া কলেজের করিডোর দিয়ে বান্ধবীদের সঙ্গে হাঁটছিল।
অনামিকা, নিহা, বৃষ্টি আর তাসপ্রিয়া তাকে ঘিরে গল্প করছিল।
বৃষ্টি হঠাৎ বলল,
—“ফারিয়া, আজকে একটা কথা বলব?”
—“বল।”
—“তুই কি জানিস, আমাদের কলেজের রাফি তোকে অনেকদিন ধরে পছন্দ করে?”
ফারিয়া অবাক হয়ে বলল,
—“রাফি?”
নিহা বলল,
—“হ্যাঁ। অনেকদিন ধরে।”
ফারিয়া মুচকি হেসে বলল,
—“আমি তো জানতামই না।”
তাসপ্রিয়া বলল,
—“আজকে হয়তো বলে ফেলবে।”
ফারিয়া মাথা নাড়িয়ে বলল,
—“এসব নিয়ে আমাকে কিছু বলিস না।”
অনামিকা মজা করে বলল,
—“কেন? তোর তো এখনো কারও সঙ্গে সম্পর্ক নেই।”
ফারিয়া চুপ হয়ে গেল।
তার মনে অজান্তেই একটা মুখ ভেসে উঠল।
জাহিদ।
দুই বছর ধরে দেখা নেই।
তবুও কেন যেন তার মনে সেই মানুষটার জায়গাটা আজও একই রকম রয়ে গেছে।
---
রাফির প্রস্তাব
দুপুরে কলেজ ছুটির সময় ফারিয়া গেটের দিকে যাচ্ছিল।
হঠাৎ রাফি সামনে এসে দাঁড়াল।
—“ফারিয়া, একটু কথা বলব?”
ফারিয়া থেমে বলল,
—“জি, বলুন।”
রাফি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
—“আমি জানি, হঠাৎ বলছি। কিন্তু অনেকদিন ধরে কথাটা বলতে চাইছিলাম।”
ফারিয়া চুপ করে শুনছিল।
রাফি বলল,
—“আমি তোমাকে পছন্দ করি। অনেক বেশি।”
ফারিয়া কিছু বলল না।
—“তুমি চাইলে আমাকে সময় নিতে পারো। কিন্তু আমি চাই, তুমি অন্তত আমাকে একটা সুযোগ দাও।”
ফারিয়া শান্ত গলায় বলল,
—“রাফি, তুমি আমাকে সম্মান করে কথাটা বলেছ, এজন্য ধন্যবাদ।”
রাফির চোখে আশা ফুটে উঠল।
কিন্তু ফারিয়া ধীরে বলল,
—“কিন্তু আমি তোমাকে সেইভাবে কখনো ভাবিনি।”
রাফির মুখটা মলিন হয়ে গেল।
—“তাহলে...?”
—“আমি তোমাকে মিথ্যা আশা দিতে চাই না।”
রাফি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
—“ঠিক আছে। তোমার সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান করি।”
সে চলে গেল।
অনামিকা সঙ্গে সঙ্গে ফারিয়ার কাছে এসে বলল,
—“তুই সত্যিই না করে দিলি?”
ফারিয়া মৃদু হেসে বলল,
—“হ্যাঁ।”
নিহা বলল,
—“কেন?”
ফারিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আস্তে বলল,
—“কারণ আমার মনটা এখনো অন্য কারও কাছে আটকে আছে।”
চার বান্ধবী একসঙ্গে হেসে উঠল।
বৃষ্টি বলল,
—“জাহিদ ভাই!”
ফারিয়া লজ্জায় মুখ নামিয়ে ফেলল।
---
অন্যদিকে রহস্য
সেদিন রাত।
কুমিল্লার বাড়িতে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে।
সালমা একা নিজের ঘরে বসে সায়ানের পুরোনো কিছু কাগজ দেখছিলেন।
হঠাৎ তার চোখ একটা পুরোনো ফাইলের ওপর গিয়ে আটকে গেল।
ফাইলের ওপর লেখা—
“রাশেদ”
সালমার হাত কেঁপে উঠল।
তিনি দ্রুত ফাইলটা বন্ধ করতে গেলেন।
ঠিক তখনই তার ফোনে একটি মেসেজ এলো।
অচেনা নম্বর।
“ফাইলটা এখনো তোমার কাছে আছে?”
সালমার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
আরেকটা মেসেজ এলো—
“সায়ান সত্যিটা লুকিয়ে রাখতে পেরেছিল। তুমি পারবে না।”
সালমা ফোনটা শক্ত করে ধরে রইলেন।
তারপর ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করে বললেন,
—“রাশেদ... তুমি আবার কেন ফিরে এলে?”
কিন্তু তিনি জানতেন না—
এই রহস্য শুধু তার একার নয়।
এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ফারিয়ার জীবন।
আর খুব শিগগিরই সেই রহস্যের ছায়া গিয়ে পড়বে জাহিদের জীবনেও।
চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন