ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক মুঠো অপূর্ণতা

৪র্থ পর্ব

লেখক: ফাতেমা তুজ জোহরা

#এক_মুঠো_অপূর্নতা পর্বঃ৪

#ফাতেমা_তুজ_জোহরা 
রুশমিতা হাতের ব্যাগ টাকে আলগোছে রেখে তার ঘরের জানলার কাছে দাঁড়ায়। আজকে ইয়াশের কথা তার খুব মনে পরছে। রুশমিতার চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পরছে,উপরের দন্তপাটির দ্বারা ঠোঁট চেপে ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলো মেয়েটা। আজকে তার মনটা বেজায় অস্থির হয়ে উঠেছে। সে বুঝতে পারছে না কেন এমন হচ্ছে আজ। কিছু একটা মনে পড়ায় হাতের উল্টো পিঠে চোখ মুছে, ব্যাস্ত পায়ে বিছানার দিকে এগিয়ে গিয়ে তোশকের নিচ থেকে একটা বাটন ফোন বের ইয়াশের নাম্বারে কল দেয় এক বুক আশা নিয়ে। পরক্ষণেই তার মুখটা অমবস্যা রাতের মতো আধার হয়ে গেল। ফোনের ওপাশ থেকে বলল আপনার নাম্বারটি এই মুহূর্তে বন্ধ আছে অনুগ্রহ করে পরে কল দিন। রুশমিতা ফোনটা কান থেকে নামিয়ে বিছানায় ধপ করে বসে গেল। এই কথাটা আজ একমাস থেকে শুনেই যাচ্ছে 
এরইমধ্যে রুশমিতা গা টা গুলিয়ে উঠলো, কেমন একটা বমি বমি ভাব। বসে থাকতে পারলো না একদৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে বেসিনের সামনে হড়হড় করে বমি করতে লাগলো রুশমিতা। কিয়তক্ষন বমি করার পর অঞ্জলি ভরে পানি নিয়ে মুখে দেয়, বমি করার কারণে শরীরটা দূর্বল হওয়া ওয়াশরুমের মেঝেতে বসে গেল। এভাবে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর আবার উঠে হরহর করে বমি করতে লাগলো। এমন সময় ইসরাত এসে পেছন থেকে রুশমিতার কাঁধে হাত দিয়ে আগলে ধরলো মেয়েটাকে। রুশমিতা ভরসা পেয়ে গা এলিয়ে দেয় ইসরাতের ওপর। ইসরাত অস্থির কন্ঠে বলল," কি হয়েছে আম্মু, এত বমি করছো কেন " বলেই একহাত দিয়ে রুশমিতার এলোমেলো চুল গুলোকে কপাল থেকে সরিয়ে দিয়ে আস্তে আস্তে ঘরের দিকে নিয়ে গিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে বাইরে দিলো এক দৌড়। 
রুশমিতা নিভু নিভু চোখে একবার ইসরাতের দিকে তাকায়। তার ঠোঁটে ফুটে উঠে এক চিলতে হাসি। রুশমিতা নিজেকে খুব লাকি মনে করে। এই মানুষটার আঁচলের ছায়ায় বড় হওয়ার সৌভাগ্য দান করছে আল্লাহ। 
 ইসরাত কিছু সময় বাদে তাড়াহুড়ো করে দৌড়ে এলো তার পিছু পিছু রাশেদ কায়সার। দুজনের মুখে চিন্তিত ভাব বিদ্যমান। ইসরাত রুশমিতার মাথার পাশে বসে বলল," আম্মু চোখ খুলে আম্মু? রাশেদ আরেকপাশে বসে বলল," আম্মু কি হয়েছে তোমার কেন বমি করছো। চোখ খুলো মা দেখো তোমার মেজো আব্বু এসেছে" বলেই মাথায় হাত বুলাতে লাগলো রাশেদ। রুশমিতা পিট পিট করে চোখ খোলার সাথে সাথে তার চোখের কার্নিশ বেয়ে কয়েকফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো। সাথে মুখে লেগে আছে মুচকি হাসি। কোনমতে হাত দুটো নেড়ে বলল," আমি ঠিক আছি মেজো আব্বু, তুমি চিন্তা করোনা " বলেই হাত দুটো নামিয়ে নেয়। 
রাশেদ মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,"আমি ডাক্তার ডেকে আনতে গেলাম ইসরাত তুমি আমার মায়ের কাছে বসো থাকো " বলেই যেই না উঠতে যাবে তখন রুশমিতা রাশেদের একটা হাত আকড়ে ধরলো। রাশেদ ঘাড় বাঁকিয়ে রুশমিতার দিকে তাকায়। রুশমিতা তার মাথাটাকে ডানে বামে ঘুরিয়ে তাকে ডাক্তারের কাছে যেতে বারণ করলো। 
ইসরাত বলল," কেন ধরছো তোমার মেজো আব্বুর হাত সোনা, যেতে দাও। এমনিতেই তোমার চোখ মুখের যা হাল দেখেই আমার বুকটা কেঁপে উঠছে। তার উপরে বমি করলে। তুমি ছেড়ে দাও হাত।
রুশমিতা হাতটা ছেড়ে দিয়ে হাত নেড়ে বলল," আমার কিছু হয়নি মেজো আম্মু। হয়তো গ্যাসের জন্য এমন হয়েছে তুমি
মেজো আব্বুকে যেতে বারণ করো। 
রাশেদ আবার বলল," তুমি অনেক বমি করেছো আম্মু আমাকে যেতে দাও? 
রুশমিতা আবার ও বারণ করে ইশারায়। রাশেদ কোন উপায় না পেয়ে বিছানায় বসে রুশমিতার চুলে আঙ্গুল গলিয়ে নাড়াতে নাড়াতে ইসরাতের উদ্দেশ্য বলল," তুমি গিয়ে কিছু করে নিয়ে এসো। বমি করে আমার আম্মুর মুখটা শুকিয়ে গেছে।  
কথাটা শোনামাত্র ইসরাত চলে গেল বাইরে। আর রাশেদ চুলে হাত বুলাতে লাগলো। রুশমিতা এক হাত দিয়ে তার মেজো আব্বুর হাতটা আকড়ে ধরে চোখ বন্ধ করে নেয়। 
রুশমিতার কান্ড দেখে রাশেদের ঠোঁটে এক চিলতে হাসি ফুটলো। রুশমিতা ছোট বেলা থেকেই এমন। ছোটতে সে তার আব্বুকে তেমন একটা কাছে পায়নি বা তার আব্বুর তাকে দেখতেই পারতো না কোনো আজানা এক কারণে। তখন রাশেদ আর ইসরাত রুশমিতার দ্বিতীয় বাবা মা হয়ে উঠে। একসাথে খাওয়া দাওয়া, এমনকি রুশমিতাকে নিয়ে ঘুম পাড়তো দুজনে। রাশেদের নিজস্ব একটা বিজনেস আছে তাই রুশমিতাকে ঘুম পাড়িয়ে চুপিচুপি বেরিয়ে যেত। পরে ঘুম ভেঙে আধো আধো বুলিতে মেজো আব্বু কই গেলো বলেই কেঁদে পুরো বাড়ি মাথা তুলতো মেয়েটা।আর তখন রুশমিতা স্পষ্ট কথা বলতে পারতো। এভাবে প্রায় অনেকবার রাশেদ চলে যায়। তখন রুশমিতা বুদ্ধি করে এক হাত দিয়ে তার মেজো আব্বুর হাত আকড়ে ধরে ঘুম পাড়তো। আর রাশেদের একমাত্র ছেলে আছে বলা যায় সে তার নানার বাড়ি ছাড়া কিছুই বুঝে না। বছরের একবার আসে সে দিন গুলো রুশমিতাকে জ্বালিয়ে তার নানার বাড়ি যায়। রাশেদের ছেলের নাম রুদ্র কায়সার রুশমিতার দশবছরের বড়। রুদ্র এখন আমেরিকায় আছে সেখানে পড়াশোনা করছে। একজন হার্ট সার্জন হওয়ার জন্য। 
আর রুশমিতা যখন শুনেছে রুদ্র আমেরিকায় তখন ঘরে এসে ফুল ভলিউমে লুঙ্গি ডান্স গান ছেড়ে নাচ করেছে। তার আনন্দ হওয়ার একটাই কারণ তাকে আর কেউ জ্বালাতে আসবে না। 
ইসরাত একবাটি জুস এনে রাশেদের উদ্দেশ্য বলল," কি হলো তুমি ওকে ঘুম পাড়িয়ে দিলে। বুড়ো হলে তবু ও তোমার আক্কেল জ্ঞান হলো না" বলেই মুখ ঝামটা দেয়। রাশেদ কাঁচুমাচু মুখ করে বসে আছে। বাইরে যতই রাখঢাক করুক না কেন। বউয়ের কাছে সে একদম ভেজা বিড়াল। এমন সময় রুশমিতা পিটপিট করে চোখ খুলে ইসরাতের দিকে তাকায়।রাশেদ বলল," ওই তো আমার আম্মু জেগে আছে?
রুশমিতা ইসরাতের কথাগুলো শুনেছে কিন্তু কিছু বললো না।কোন কিছু বলার মতো শক্তি তার মধ্যে নেই। অন্য সময় হলে তার মেজো আব্বুকে বুড়ো বলার জন্য হাজারটা কথা বলতো। 
ইসরাত এগিয়ে এসে অল্প একটু সুপ খাইয়ে দেয়। রুশমিতা প্রথমে গাইগুই করলে ও পরে লক্ষ্মী বাচ্চার মতো খেয়ে নেয় অল্প করে। ইসরাত বাইরে চলে গেল সন্ধ্যায় রিয়াকে দেখতে আসবে। আর রাশেদ বসে থাকলো রুশমিতার পাশে। 
****
সন্ধ্যা সাতটা পুরো কায়সার ভিলা জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে সাজানো হয়েছে। আর সাজানো কেন হবে না বাড়ির বড় মেয়েকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে বলে কথা। রিয়া নিজেকে সুন্দর করে তোলার জন্য পার্লার থেকে দুজন মেয়ে ডেকে এনে ঘরের ভেতরে সাজগোজ করতে ব্যাস্ত। ইসরাত ড্রয়িং রুমের জিনিস গুলো ভালো করে পর্যবেক্ষন করছে। কোথাও কোন ত্রুটি হলো না তো। আর আমেনা রান্নাঘরের দিকে ব্যাস্ত। এমন সময় রবিন কায়সার এসে বলল," কই গে তোমারা বেরিয়ে এসো পাত্রপক্ষ চলে এসেছে। ইসরাত মাথায় কাপড় টেনে এগিয়ে গেল দরজার দিকে তার পিছু পিছু আমেনা বেগম ও গেল। 
রুশমিতা খাটের ওপরে একটা লাল কালারের গাউন পড়ে বসে আছে। পাশেই রাশেদ চুল আঁচড়ে দিচ্ছে। ঠিকমতো পারছে না তবুও যতটুকু পারা যায়। এরইমধ্যেই ইসরাত কপালে ঘাম মুছতে মুছতে ঘরে প্রবেশ করে বলল," এতো 
দেরি লাগে সেই কখন পাত্রপক্ষ চলে এসেছে? বলেই রাশেদের হাত থেকে চিরুনি কেড়ে নিজেই চুল বাঁধতে লাগলো। রুশমিতা মুখে মুচকি হাসি। 
ইসরাত রুশমিতার কোমড় অবধি চুল গুলোকে আঁচড়ে পিঠে ফেলে বলল,"চলো আম্মু? বলেই রুশমিতার হাত ধরে বাইরে চলে গেল। পিছনে পিছনে রাশেদ চলে গেল। 
নিচে মানুষের কোলাহলে পূর্ন। রুশমিতা অবাক চোখে চারদিকে চোখ ঘুরিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে আর সিঁড়ি বেয়ে নামছে। রুশমিতাকে আজকে পরীর কম লাগছে না। আজকে যেন নিজের বাড়িটাকে নিজেই চিন্তে পারলো না। ইসরাত বলল, " ওইযে ওটা রিয়ার হবু বড় " বলেই তর্জনী আঙ্গুল তুলে দেখায়। রুশমিতা কৌতুহলী দৃষ্টিতে সামনে তাকাতেই তার পুরো দুনিয়া তছনছ হয়ে গেল। সে অবিশ্বাস্য দৃষ্টি ঘুরিয়ে কোনরকমে ইসরাতের দিকে তাকিয়ে হাত নেড়ে বলল,"কোনটা মেজো আম্মু? ইসরাত মুচকি হেঁসে বলল, " রিয়ার পাশে যে ছেলেটা বসে হেঁসে কথা বলছে ওটা। নাম ইয়াশ আরোবিন……..  
#চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন