#এক_মুঠো_অপূর্নতা পর্বঃ৫
#ফাতেমা_তুজ_জোহরা
পরনে কালো স্যুট, যা সাদা চামড়ায় বেশ মানিয়েছে , মাথার চুল গুলো কি সুন্দর ভাবে গোছানো। তাকে দেখতে একদম গ্রিক দেবতার মতো লাগছে।রুশমিতার ছোট শরীরটা থরথর করে কাঁ*পতে লাগলো সামনের মানুষটাকে দেখে। যাকে ছাড়া নিজেকে কল্পনা করতে পারে না। সে মানুষটা তার বোনের সাথে কেমন হেঁসে হেঁসে কথা বলছে। কত আশা করছিলো ছোট মনটা তে ওই মানুষটাকে নিয়ে। একটা ছোট সংসার করবে। যেখানে কেউ তাকে বোবা বলে অবহেলা করবে না। কিন্তু সব ভাবনা ভুল তাকে ভালোবাসেনি মানুষটা। তার সাথে ছলনা করে অন্য মেয়ের পাশে বসে হেঁসে কথা বলছে। রুশমিতা শরী*রের ভার*সাম্য হারিয়ে নিচে ধ*প করে বসে গেল মেয়েটা,চো*খ দিয়ে নোনা পানি গড়িয়ে পড়ছে গালে । তার খুব ক*ষ্ট হচ্ছে ভালোবাসার মানুষের পাশে অন্য মেয়েকে দেখে। সে বুঝতে পারলো না কেন তার সাথে এমন করলো।
ইসরাত চেঁচিয়ে বলল," আম্মু " বলেই রুশমিতাকে দুইহাতে আগলে ধরলো।
রাশেদ অতিথিদের সাথে হেঁসে হেঁসে কথা বলছিলো। কিন্তু ইসরাতের চিৎ*কা*র শুনে পিছনে ঘুরে তাকাতেই তার পৃথিবীটা যেন থম*কে গেল। সব কিছু ছুড়ে ফেলে এগিয়ে এলো ইসরাতের দিকে। রবিন আর রোকেয়া ও ছুটে এলো। ছুটে এলো না ইয়াশ সে একভাবে তাকিয়ে রইলো মেয়েটা দিকে মুখে ক্রু*র হাসি বিদ্যমান। আর রিয়া তো ইয়াশ কে দেখতে ব্যাস্ত। আর আমেনা বেগম দায়সারা ভাবে এগিয়ে এলো রুশমিতার দিকে। না আছে কোন চিন্তার বালাই।
রুশমিতা কা*ন্না*ভেজা চোখে তাকিয়ে আছে সামনের পুরুষটার দিকে। কিন্তু পুরুষটা অন্যত্র মুখ ঘুড়িয়ে নেয় মোবাইলে কথা বলার ভান করে। রুশমিতা তার চোখের সামনে কাল কুঠরী অন্ধকার দেখতে পেল। নিভু নিভু চোখে তাকিয়ে ডান হাতটা পুরুষটার দিকে বাড়িয়ে ঢলে পড়লো ইসরাতের বুকের উপর।
ইসরাত চেঁ*চিয়ে উঠে বলল," আম্মু চোখ খোলো দেখো আম্মু!বলেই কা*ন্না করতে লাগলো ইসরাত বেগম।
রাশেদ রুশমিতার এক হাত ধরে বলল," আম্মা চোখ খুলো দেখো আমি এখানে, আম্মু!
রোকেয়া বেগম রুশমিতার মাথায় হাতবুলিয়ে দিতে দিতে বলল," দাদুভাই চোখ খুলো তোমারা মেজো আব্বু আর আম্মু কান্না করছে উঠো দাদুভাই, " বলেই রোকেয়া বেগম কান্না করতে লাগলো।
রবিন বলল," তাড়াতাড়ি ওকে হা*স*পা*তা*লে নে? সকাল থেকে বমি করে এমনিতেই অবস্থা খারাপ। তার উপরে অজ্ঞান হয়ে গেল । এই রাশেদ রুশকে কোলে নিয়ে বাইরে আয় আমি ড্রাইভারকে বলছি গাড়ি বের করতে?
ইয়াশ অন্যদিকে মুখ ঘুড়িয়ে থাকলে ও সবার কথা তার কান অবধি যাচ্ছে। রুশমিতা যে সকাল থেকে বমি করছে এটাও কর্নগোচর হয়েছে ইয়াশের । ইয়াশের বুকের ভেতরটা ভারি হয়ে গেল। সে ঝট করে মুখ ঘুরিয়ে সামনে তাকাতেই দেখল একপল দেখতে পেল রুশমিতাকে কোলে নিয়ে বাইরে যাচ্ছে। আর সে নি*থর* হয়ে কোলের উপরে পড়ে আছে।
ইয়াশ ধড়ফড়িয়ে উঠে সামনে এগিয়ে যেতে নিলেই রিয়া তার ডান হাতটা ধরে বলল," কোথায় যাচ্ছো? বলেই ইয়াশের দিকে তাকায়।
ইয়াশ তাকে উওর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলো না। এক
ঝটকায় নিজের হাতটা ছাড়িয়ে বাইরে চলে এলো ইয়াশ। রিয়া বুঝতে বাকি নেই যে ইয়াশ রুশমিতার সম্পর্ক অনেক বেশি গভীরে চলে গেছে। রা*গ আর ক্ষো*ভ সেও পিছু পিছু এগিয়ে গেল বাইরে।
*******
ইয়াশ পৌঁছানোর আগেই রুশমিতাকে নিয়ে হা*:স**পা*তা*লেে উদ্দেশ্য সবাই রওনা হয়ে গেছে। ইয়াশ শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলো গাড়িটার দিকে।
তুই তো এটাই চেয়েছিলি ইয়াশ তাহলে কেন এতো বেচাইন হচ্ছে তোর মন …. কথাটা বলল কবির এগিয়ে আসতে আসতে।
ইয়াশ ঝট করে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল কবির দাঁড়িয়ে আছে সটান ভাবে, চোখ মুখে স্পষ্ট ক্রো*ধ বিদ্যমান । ইয়াশ এগিয়ে এসে বলল," কি যা তা বলছিস তুই?
কবির শব্দ করে হেঁসে বলল," আসলে কি বলতো আমার মাথা খা*রা*প হয়ে গেছে তোর মতো প্র*তি*শো*ধ পরায়ণ বন্ধু পেয়ে। তাই যা তা বলছি!
ইয়াশ রুঢ় ভাবে বলল," তোকে তো নতুন ভাবে কিছু বলতে হবে না। তুই তো সব জানিস তাহলে আমাকে ব্লে*ম করছিত কেন?
কবির গম্ভীর গলায় বলল," হ্যাঁ আমি সব জানি, কিন্তু এটাতো জানিনা একজন মেয়ে কেন তার বাবার অ*প*ক*র্মে*র দায়ভার নিবে? কেন তাকে শা**স্তি পেতে হবে বলতো আমায়। এই উত্তর গুলো তোর কাছে আছে তো?
ইয়াশ কবিরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলল," আমার পরিবারকে ধ্বং*সে*র পিছনে ওই মেয়ে মেন কালপ্রিট। না তার জন্ম হতো না আমাদের সাজানো গোছানো পরিবারটা ধ্বং*স হতো?
কবির মুচকি হেঁসে বলল, " তোকে এগুলো যুক্তি কে শিখিয়েছে তোর সৎমা নাকি সো কল্ড গার্লফেন্ড রিয়া?
ইয়াশ তেড়েফুঁড়ে এসে এক ঘু**ষি বসিয়ে দেয় কবিরের মুখ বরাবর। কবির ছিঁ*টকে পড়লো কংক্রিটের রাস্তায়।সে বিশ্বাস করতে পারলো না ইয়াশ তাকে ঘু*ষি মা*র*লো। যে ছেলেটা তাকে বড় ভাইয়ের মতো সম্মান দিয়েছে সে ছেলেটা তার গায়ে হাত দিলো৷ ইয়াশ চেঁ*চিয়ে বলল," আমার মাকে নিয়ে একটাও বাজে কথা বলবি না তুই। তোর কোন অধিকার নেই আমার মামুনিকে সৎমা বলার।
কবির ঠোঁটের র*ক্ত* টুকু মুছে বলল," তোর মতো আমি কাপুরুষ যে অন্যের কথায় উঠবস করবো। কিয়তক্ষন থেমে আবার বলল, " শুনে রাখ ইয়াশ আজকে তুই ওই নিষ্পাপ মেয়েটার সাথে যা করলি তার শা*স্তি তোকে ওই উপরওয়ালা দিবে এটা তোকে আমি বলে রাখলাম। আর আমার সাথে তোর সম্পর্ক এখানেই শেষ। তোর মতো পা*পী*র সাথে থেকে নিজেকে আমি পা*পী বানাতে পারবো না। বলেই সামনে এগিয়ে গিয়ে থেমে আবার বলল," এখনো সময় আছে ইয়াশ নিজের মনের কথা শোন কি বলছে তোর মন। যে মনের কারণে ছুটে এসেছিস মেয়েটাকে দেখতে। যে কারণে তোর মনটা অস্থির হয়ে উঠেছিলো।নাহলে পরে কেঁ**দে কুল পাবি না " এতটুকু বলে সামনে এগিয়ে গেল। কবিরের চোখ দিয়ে অ*শ্রু গড়িয়ে পড়লো গালে। ছেলেটা অ*শ্রু টুকু মুছলো এগিয়ে সামনের দিকে। তার চোখের সামনে ভাসতে লাগলে কলেজে কিভাবে তার আর ইয়াশের দেখা হয়েছে। একসাথে ব্যাডমিন্টন খেলা, একসাথে রাইডে যাওয়া সব কিছু কবিরের চোখে জীবন্ত ভাবে ভেঁসে উঠলো।
ইয়াশ এখনো ফোঁস ফোঁস করছে রা*গে । সে বুঝতে পারলো না কতটা দামি জিনিস তার হাত গলে বাইরে চলে গেল। আর বুঝবে কেমন করে যার ভেতরে অ*হং*কা*র, প্র*তি*শো*ধে*র নেশায় পূর্ন হয়ে আছে সে কেমন করে অন্যজনের ভালোবাসা বুঝবে। তার কাছে সবকিছু ছলনা মনে হচ্ছে এখন। ইয়াশ এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না তার গাড়িতে চড়ে বেরিয়ে গেল কায়সার ভিলা থেকে।, আর পিছনে থেকে রিয়া তাকে অনবরত ডাকতে লাগলো।রিয়া আর ডাকলো না ফোন দিলো ইয়াশের নাম্বারে। ফোনটা বেজেই চলেছে কিন্তু রিসিভ হচ্ছে না। রিয়া এভাবে বারে বারে কল দিতে লাগলো ইয়াশের ফোনে । ইয়াশ ফোন না ধরাই রা*গে হাতের মোবাইল টাকে ছুঁড়ে ফেলল কংক্রিটের রাস্তায়। সাথে ফোনটা চুরমার হয়ে ভেঙে গেল। রিয়া ফোঁ*স ফোঁ*স করতে করতে ভেতরে চলে যায়।
*******
ঢা*কা এ*ভা*র*কে*য়া*র হা*সপা*তা*লে রুশমিতাকে আনানো হয়েছে। কেবিনের বাইরে ইসরাত অঝরে কা*ন্না করছে স্বামীর বুকে আর রাশেদ তার মাথায় হাত বুলিয়ে শান্তনা দিচ্ছে। রবিন তার থেকে কিছুদূরে মাথা নিচু করে বসে আছে। এখানে এসে রেকেয়া বেগম ও রুশমিতার জন্য খুবই চিন্তিত হয়ে পেসার হাই হয়ে যায়। যার কারনে তাকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে আরেকটা কেবিনে রাখা হয়েছে ।
আর রুশমিতার আব্বু সে ঢাকায় নেই জরুরি কাজের জন্য বাইরে গেছে।বাড়িতে থাকলে ও কি আসতো হয়তো না। তার তো খুশি হওয়ার কথা আজকে সে তো সবসময় রুশমিতার খা*রা*প কা*মনা করেই এসেছে।
রবিন ধড়ফড়িয়ে উঠে রুশমিতার কেবিনের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় সেখানে রুশমিতা নি*থ*র হয়ে বে*ডে পড়ে আছে। মুখে অক্সিজেন মা*স্ক, ডানহাতে ক্যা*নু*লা লাগানো হয়েছে। পরনে সেই লাল গাউন বিদ্যমান। রবিনের চোখ দুটো ছ*লছ*ল হয়ে গেল রুশমিতার অবস্থা দেখে। আলগোছে চোখ মুছে রাশেদের উদ্দেশ্য বলল, "রাইয়ান কে জানিয়েছিস রুশের ব্যাপারে?
রাশেদের দমে থাকা রা*গ*টা দপ করে জ্বলে উঠলো মনে রাইয়ানের প্রতি। কিন্তু বড় ভাইয়ের সামনে খারাপ ব্যবহার করার মতো সে ছেলে। তাই শান্ত গলায় বলল, " না!
রবিন কিছুই বলল না। সে জানে রাইয়ান কে বলা না বলা সমান আসবে না ছেলেটা তার মেয়েকে দেখতে।
#চলবে…..