ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে ছিল আমার কল্পনায়

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: নাবিলা আহমেদ সেহরিশ

#সে_ছিল_আমার_কল্পনায়

#পর্ব_৬
#লেখিকা_নাবিলা_আহমেদ সেহরিশ
"কী করছিস?" হঠাৎ করেই পিছন থেকে অভ্যুদয়ের কাঁধের ওপর হাত রাখে হামিদ। একপ্রকার চমকে গেল অভ্যুদয়। মন আজ তার অন্যদিকে।
আজ সকালে অ্যালার্মের শব্দে যখন তার ঘুম ভাঙল, তখন মোবাইল নিতেই ওয়াই-ফাই অন করল। কোনো মেসেজের নোটিফিকেশন আসেনি। নিজেকে আর দমিয়ে রাখতে পারল না সে, চলে গেল নওশীনের ইনবক্সে। নওশীন তখনো তার মেসেজ সিন করেনি। কী এমন করে ফেলেছে সে? একটু দুষ্টুমিই তো করেছে। ভালো না লাগলে সরাসরি বলে দিলেই তো হতো, তবে না, তা করল না।
"কী হলো, কথা বলছিস না কেন?"
"কিছু না।"
"ক্যান্টিনে যাবি না?"
"ইচ্ছে করছে না। তুই যা।"
"দুদিন পরপর তোর এত ঢং বের হয় কেন? তুই কি মেয়ে?" রাগান্বিত দৃষ্টিতে হামিদের দিকে তাকাল অভ্যুদয়।
"তুই আমার সামনে থেকে যা।"
"যাচ্ছি যাচ্ছি, তুই কি আমার গার্লফ্রেন্ড যে তোর সামনে বসে থাকব?" হামিদ বেরিয়ে যেতে যেতেই বলল।
একটু আগেই তাদের ক্লাসে টিফিন বিরতি দিয়েছে, সকলে চলে গেছে ক্যান্টিনে অথবা কমন রুমে, তবে অভ্যুদয় যায়নি। হামিদ চলে যেতেই অভ্যুদয় দ্রুত ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করল, ডাটা অন করেই চলে গেল মেসেঞ্জারে। অবাক হলো মুহূর্তেই। ‘ইউ কান্ট রিপ্লাই টু দিস কনভারসেশন’ দেখাচ্ছে ইনবক্সে। তবে কি নওশীন তাকে ব্লক করে দিয়েছে? সামান্য এইটুকু ব্যাপারে? নাকি সে সীমা অতিক্রম করে ফেলেছিল কাল? হঠাৎ করেই মনটা খারাপ হলো তার।
ছোট থেকেই মানুষজনের সাথে খুব কম মিশেছে অভ্যুদয়। নিজের ইচ্ছায় নয়, পরিবারের ইচ্ছায়। স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর সে শুধু নতুন নতুন বই আর নতুন নতুন শিক্ষকদের সাথেই পরিচিত হয়েছে। তার এমন চুপচাপ স্বভাব দেখে যেন কেউই তার বন্ধু হতে চাইল না। এরপর একদিন তার জীবনে আগমন ঘটল হামিদ নামে এক অদ্ভুত প্রাণীর। যাকে তাড়িয়ে দিলেও সে চলে যায় না, তার সাথেই লেগে থাকে। এই একটা লোকই তাকে ভালোবাসে নিঃস্বার্থভাবে। 
তার বয়সী ছেলেদের গার্লফ্রেন্ডের অভাব নেই। হামিদ তো কয়েক মাস পরপরই গার্লফ্রেন্ড পালটায়, কিন্তু সে? সে কারো সাথে কথা বলার সাহসই জুটাতে পারেনি। এই প্রথম কোনো মেয়ের সাথে কথা বলল, বড় আপু ভেবেই দুষ্টুমি করছিল, আর সে কি না দুদিনেই বিরক্ত হয়ে গেল তার প্রতি?
আচ্ছা, তার মধ্যেই কি কোনো সমস্যা? সে কেন সবাইকে খুশি রাখতে পারে না? সে কেন সবার পছন্দের ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারে না? কেন সবাই তাকে চোখে চোখে রাখে না? কেমন হয় সেই অনুভূতি? ভাবনাগুলো যেন আজ হঠাৎ করেই আবারও তাকে ঘিরে ধরেছে। একজন অপরিচিত মেয়েও তার জীবনে প্রভাব ফেলছে।
মোবাইল আবারও ব্যাগের মধ্যে রেখে দিল সে। পাশে থাকা আইসিটি বইটি বের করেই পড়তে শুরু করল। পড়ে যাচ্ছে অনর্গল, তবে মাথায় তার কিছুই ঢুকছে না।
নওশীনের সাথে কথা বলে মনে হয়েছিল কেউ তার সাথে কথা বলাও পছন্দ করতে পারে। কিন্তু হলো তার উল্টো। তবে কি সে কারো সাথে রিলেশনে যাবে? না না, কী সব আবল-তাবল ভাবছে সে! মাথা নাড়ল পরক্ষণেই।
"এই হামিদের সাথে চলাফেরা বন্ধ করতে হবে, ব্যাটা আমার মাথা খেয়ে দিচ্ছে।" নিজে নিজেই বিরবির করল সে। যেন নিজের মনের সুপ্ত অনুভূতির দায় হামিদের ওপর চাপিয়ে দিলেই বাঁচে সে।
দুদিন পর।
আবারও আগের নিয়মে ফিরে গেছে অভ্যুদয়। সাড়ে দশটার পর ঘুম, সকাল ছটায় উঠে পড়া, খাওয়া, কলেজ যাওয়া—এসবই।
রুমের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করল অভ্যুদয়। দরজা লাগিয়ে দিয়েই বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে পড়ল। মাত্রই ডিনার সেরে এসেছে। আজ তার বাবা ইকরামুল চৌধুরী তাকে ভাষণ দিয়েছেন অনেকগুলো, কী জন্য? জানে না সে। এখন আর কোনো কথাই কানে নেয় না সে, এক কান দিয়ে শোনে তো অন্য কান দিয়ে বের করে দেয়। তার শুধু একটাই লক্ষ্য এখন, ভালো রেজাল্ট করতে হবে, এরপর হয় দূরের কোনো ভার্সিটিতে যাবে অথবা বিদেশ চলে যাবে।
"তুই ওই ফারুইক্কার বাচ্চাকে ব্লক করবি।" হামিদের মেসেজ দেখতেই কপালে ভাঁজ পড়ল অভ্যুদয়ের। সে ভালো করেই জানে এখানে ফারজানার কথা বলা হয়েছে।
"কেন?"
"আমি বলেছি তাই। যদি না করস, তাহলে আমি তোকে ব্লক মা'রব।" এ আবার কোন জ্বালায় পড়ল সে!
"তোর বন্ধুকে বলবি আমার নোট খাতা কালকের মধ্যেই ফেরত দিতে, তা না হলে আমি ওর হাড্ডি ভাঙব। আর যদি তুই আমাকে ব্লক দিস, তাহলে আমি আন্টির সাথে কথা বলব। বলব, তুই কলেজে না পড়ে অন্য মেয়ের সাথে টাংকি মা'রস।" মেসেজ এসেছে ফারজানার। দাঁতে দাঁত চাপল অভ্যুদয়। মেজাজটা তার বিগড়ে যাচ্ছে। এই দুটো সারাটা দিন লেগে থাকে একে অপরের সাথে।
"আমি আম্মুকে বলব তোর সাথে টাংকি মা'রি : )" ব্যাস, মেসেজ পাঠিয়েই ব্লক করে দিল ফারজানাকে। এদের এই সাপে-নেউলে সম্পর্কে সে থাকবে না।
"করছিস ব্লক?..." হামিদ পরের মেসেজ আর সেন্ড করতে পারল না। হামিদকেও ব্লক করে দিয়েছে সে।
বিছানা থেকে উঠে বসল অভ্যুদয়। পরনের কালো রঙের টি-শার্ট খুলে পাশেই রাখল। ঘড়িতে মাত্র দশটা। আজ তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বে, সব পড়া কমপ্লিট তার। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে হালকা হালকা, এই সময়ে কাঁথা গায়ে ঘুমানোর মজাটাই আলাদা। শান্তির নিশ্বাস ছাড়ল সে। আরাম করে ঘুমাবে ভাবতেই মুখে উজ্জ্বল হাসি ভেসে উঠল।
"টুং"
 "টুং" মেসেঞ্জারের টুংটাং আওয়াজে বিরক্ত হলো অভ্যুদয়। পরক্ষণেই কপালে ভাঁজ পড়ল। তাকে বিরক্ত করা মানুষ দুটোকে তো ব্লক করেই দিয়েছে, তবে কে মেসেজ দিল তাকে? মোবাইল নিল সে। নোটিফিকেশনে সাদিয়া সুলতানা নামটা দেখতেই চমকাল।
"কী করো পিচ্চি?" নামের পাশেই নওশীনের মেসেজ দেখা গেল।
"ব্লক করে আবার আসছে মেসেজ দিতে!" নিজে নিজেই বিরবির করল অভ্যুদয়। দেখবে না সে মেসেজ। রিপ্লাই-ও করবে না। যখন ইচ্ছা হবে মেসেজ দেবে, আবার যখন ইচ্ছা ব্লক করবে? এমন মানুষ তার একদমই পছন্দ না।
"ফ্রি আছো?" আবারও মেসেজ এল নওশীনের। নোটিফিকেশন থেকে সবটাই দেখছে অভ্যুদয়, তবুও সিন করল না।
"মনটা ভালো নেই একদম। গান শোনাবে একটা?" আবারও মেসেজ এল।
"হাহ, ঠেকা পড়েছে আমার!" কাঁথা গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়ল অভ্যুদয়। সিন করবে না সে মেসেজ। মেসেজ দিতে দিতে ম'রে গেলেও করবে না। বেশি বিরক্ত করলে ব্লক করে দেবে সে নিজেই।
মেসেজ এল না কয়েক মিনিট ধরে। মোবাইল বিছানায়, অভ্যুদয়ের দৃষ্টি ঘূর্ণায়মান ফ্যানের দিকে। ঘুম আসছে না তার। অস্থির লাগছে।
"টুং" শব্দ হলো আবারও। এক প্রকার রাগ হয়েই মোবাইল তুলে নিল সে। মেসেঞ্জারে ঢুকতেই থমকে গেল।
"অভ্যুদয়?" আচ্ছা, কখনো কি কারো কণ্ঠস্বর মোবাইলেও শোনা যায়? তবে কেন তার মনে হচ্ছে নওশীন মৃদুস্বরে তাকে ডাকছে? মেসেজ সিন করল অভ্যুদয়।
"বলো।" রিপ্লাই দিল পরক্ষণেই।
"অনলাইনে থেকেও রিপ্লাই দিচ্ছ না। গার্লফ্রেন্ড হয়ে গেল বুঝি?"
"কেন রিপ্লাই দেব? ব্লক করার সময় আমার কথা মনে ছিল না?"
"ব্লক? কে ব্লক করেছে তোমাকে?"
"তুমি।"
"আমি ব্লক করিনি।"
"আচ্ছা, তুমি ব্লক না করলে মেসেজ করা গেল না কেন? : )"
"আমি তো তোমাকে কিছুই বলিনি, জাস্ট বড় আপু ভেবে দুষ্টুমি করছিলাম।"
"আরে ভাই, আমি তোমাকে ব্লক করিনি তো। আইডি ডি-অ্যাক্টিভেট করেছিলাম।"
"ব্লক করোনি?" দ্বিধাবোধ অভ্যুদয়ের মধ্যে।
"ব্লক কেন করব? ব্লক করার মতো কিছুই করোনি তুমি।" হাঁফ ছাড়ল অভ্যুদয়। মনে হলো বুক থেকে একটা বোঝা নেমে গেছে।
"আইডি ডি-অ্যাক্টিভেট কেন করেছিলে?" কারণ জানতে ইচ্ছা করল অভ্যুদয়ের।
"এমনিতেই।"
"এমনিতেই কেউ আইডি ডি-অ্যাক্টিভেট করে না। এটুকু আমি বুঝি।" নওশীনের রিপ্লাই এল না সঙ্গে সঙ্গে। যেন সে কিছু ভাবছে।
"কেমন আছো?" একটু পর মেসেজ এল নওশীনের।
"ভালো। তুমি?" কথা টেনে নওশীনকে ইতস্তত বোধ করাতে চাইল না সে।
"আছি ভালোই। খাওয়া-দাওয়া হলো?"
"হ্যাঁ। তোমার?"
"হয়েছে।"
"কী করো?"
"শুয়ে আছি, তুমি?"
"আমিও। গার্লফ্রেন্ড কেমন আছে তোমার?"
"আমার গার্লফ্রেন্ড নেই, আপু।"
"তাই নাকি? ইন্টার পড়ুয়া ছেলের গার্লফ্রেন্ড নেই, তাও বিশ্বাস করতে হবে?"
": )"
"বলো, বলো। পিচ্চির গার্লফ্রেন্ড কোন ক্লাসে পড়ে? সেইম ক্লাস নাকি জুনিয়র?"
"আমার কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই। আমি কারো সাথে কথা বলি না। শুধু আমার বন্ধু হামিদ আর মাঝেমধ্যে ফারজানার সাথে বলি।"
"ফারজানা কে?"
"ফ্রেন্ড।"
"ওহো... ফ্রেন্ড নাকি জাস্ট ফ্রেন্ড? সামথিং সামথিং?"
": )"
"এত সেন্টি খাচ্ছ কেন তুমি?"
"তুমি মজা নিচ্ছ, তাই না? আরেকটা কথা, আমার গার্লফ্রেন্ড থাকলে আমি তোমার সাথে কেন কথা বলব?"
"গার্লফ্রেন্ড থাকলে ফ্রেন্ডদের সাথে কথা বলা যাবে না নাকি?"
"না, যাবে না। আমার গার্লফ্রেন্ড হলে আমি কোনো মেয়ের সাথেই কথা বলব না। আমার গার্লফ্রেন্ডই আমার ফ্রেন্ড।"
"আমার সাথেও না?"
"নোপ।"
"আরে বাপরে! এ তো দেখি আলফা মেল! নাক টিপলে দুধ বের হবে, সে আবার আলফা মেল হতে চায়!" নওশীনের মেসেজের সাথে হাসির ইমোজি এল অনেক।
"তুমি কীভাবে জানলে আমার নাক টিপলে দুধ বের হবে? আমাকে দেখেছ তুমি? আমি কিন্তু বয়সে ছোট হলেও দেখতে-শুনতে ছোট নই।" দেখতে কেমন মানে? সে ভালো করেই জানে সে কেমন। অন্যদের মতো তার নিজেকে নিয়ে হীনমন্যতা কাজ করে না। সে ভালো করেই জানে সে একজন সুদর্শন পুরুষ। তার ওপর তার মায়ের শাসন, সময়মতো সব মেনে চলা, খাওয়াদাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ তাকে দেখতে জিম করা ছেলেদের মতো বানিয়ে দিয়েছে।
শোয়া থেকে উঠল অভ্যুদয়। সাইড টেবিলের ল্যাম্প জ্বালাতেই ঘরটা মৃদু আলোয় আলোকিত হলো। মোবাইল হাতে নিয়েই সেলফি ক্যামেরা অন করল সে। কোনো কিছু না ভেবেই ডান হাত উঁচু করল নিজের মাসল দেখাতে। ছবি তুলল মুহূর্তেই। লাইট অফ করে আবারও শুয়ে পড়ল সে। এক সেকেন্ডের জন্যও দ্বিধাবোধ করল না সে, ছবি পাঠিয়ে দিল নওশীনকে। ছবিতে শুধু অভ্যুদয়ের হাত আর কাঁধের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। যেন তার সাথে নওশীনের পরিচয় বহুদিনের। নওশীন মেসেজ সিন করেনি, ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করতে থাকল সে। মেসেজ সিন হলো।
"কার পিক দিলা?"
"কার পিক দিলাম মানে?"
"এটা তুমি নও।"
"ফাইজলামি করো? এই রাতের বেলা আমি অন্য মানুষের ছবি কোথায় পাব?"
"এটা আসলেই তুমি? তুমি এরকম?"
"ইয়েস।"
"আহারে, পিচ্চিটা দেখি বড় হয়ে গেছে!"
"পিচ্চি ডাকবে না। আমি পিচ্চি না।"
"আচ্ছা বুঝলাম আপনি পিচ্চি নন, অনেক বড়। কিন্তু খালি গায়ে আমাকে ছবি পাঠাতে লজ্জা লাগল না আপনার?" বাজ পড়ল অভ্যুদয়ের মাথায়। তাই তো! সে তো খেয়ালই করেনি যে সে একজন মেয়েকে ছবি পাঠাচ্ছে, তাও আবার খালি গায়ে। দ্রুত ছবি ডিলিট করে ফেলতে চাইল সে। পরক্ষণেই কপালে হাত রাখল। তাড়াহুড়ায় সে 'অনলি মি' করে ফেলেছে। এ জন্যই হয়তো বলেছিল, তাড়াহুড়োর কাজ শয়তানের কাজ।
"আই এম সরি, এক্সট্রিমলি সরি আপু। আসলে আমি খেয়ালই করিনি ব্যাপারটা। তোমাকে অস্বস্তিতে ফেলার জন্য সরি।" সত্যি সত্যি খারাপ লাগছে অভ্যুদয়ের। সে তার জীবনে এমন কিছু করবে তা কল্পনাও করেনি। কেনই বা তার মধ্যে ভয় বা দ্বিধা কাজ করল না?
"ইটস ওকে পিচ্চি, এটা তেমন আহামরি কিছুই না।"
"সত্যি তুমি অস্বস্তি বোধ করোনি?"
"উঁহু। বাট তুমি যে মানুষকে খুব তাড়াতাড়ি বিশ্বাস করে ফেলো, তা বুঝলাম।"
"হুম।" রিপ্লাইটা কথায় কথায় দিয়েছে। মানুষকে তাড়াতাড়ি বিশ্বাস করে, তাও আবার সে?
 নওশীনের পক্ষ থেকে আর মেসেজ এল না। অভ্যুদয়ও শুয়ে, অপেক্ষা করছে ঘুমের।
বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। ভালোই লাগছে তার। যদিও আওয়াজ তেমন একটা শোনা যাচ্ছে না, তবুও যা শোনা যাচ্ছে তা কানে মধুর ধ্বনির মতো লাগছে।
"বললে না যে..." নিজে থেকেই মেসেজ দিল অভ্যুদয়। একটু আগেও ঘুম জড়ানো চোখে এখন ঘুম নেই।
"কী?"
"কী জন্য মন খারাপ?"
"এখনো মনে আছে সেই কথা?"
"না থাকার কী আছে? এবার বলো কী জন্য মন খারাপ? বাসা থেকে বিয়ে দিতে চাইছে নাকি?"
"বিয়ের ভেজালে আপাতত আমি বা ফ্যামিলির কেউই যাচ্ছে না। বিয়ের এখনো অনেক দেরি..."
"তোমার কাছে প্রেম মানে ভেজাল, বিয়ে মানে ভেজাল, তাহলে ভালো কোনটা? আর বিয়ে করতে এত দেরি কেন? এমনিতেই তো বুড়ি হয়ে যাচ্ছ।"
"এই যে, আবারও শুরু করলে!" নওশীনের উত্তর দেখতেই হাসল অভ্যুদয়। রাগাতে ভালোই লাগছে তার।
"দেরি কারণ, আমার ইচ্ছা অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেই তবে বিয়ে করার।" আবারও মেসেজ এল নওশীনের।
"তোমার ফ্যামিলি মানবে এত দিন? প্যারা দেয় না?"
"উঁহু।"
"ভালো ফ্যামিলি। এবার বলো মন খারাপ কেন?"
"আছে কিছু পারিবারিক সমস্যা।" হাসি সরল অভ্যুদয়ের মুখ থেকে। আচ্ছা, নওশীনের মা-বাবাও কি তাকে কম ভালোবাসে? সব ভালোবাসা কি তার বড় বোনই পায়?
"ওহ।"
"বাদ দাও সেসব কথা। একটা গান শোনাও।" অভ্যুদয়ের চোখ গিয়ে আটকালো গিটারটার দিকে। এই মুহূর্তে গিটার নামানো মানে যমকে ডাকা।
"আমি গান পারি না।" রিপ্লাই করল অভ্যুদয়।
"লল, এত সুন্দর গিটার বাজাতে পারো, আর গান গাইতে পারো না? আমাকে কী উল্লু পেয়েছ?"
"উল্লু মানে?"
"উল্লু মানে বোকা।"
"ওহ। আসলেই গান পারি না। সুন্দর না কণ্ঠ।"
"সুন্দর লাগবে না। এভাবেই শোনাও।"
"আজ না। আজ গলা ভাঙা, অন্য আরেক দিন শোনাব।"
"ওকে।"
"তো, ঘুমাবে না?" জানতে চাইল অভ্যুদয়। ঘড়ির কাঁটা বারোটা অতিক্রম করে গেছে অনেক আগেই। তবুও আজ তার চোখে ঘুম নেই। কেন যেন মনে হচ্ছে, আজ কথা মাঝপথে রেখে চলে গেলেই আবারও ব্লক খাবে সে।
"আমার ঘুমাতে লেট হবে। তুমি কেন ঘুমাচ্ছ না?" রিপ্লাই এল নওশীনের। নওশীনের এই ব্যাপারটা খুবই ভালো লাগল অভ্যুদয়ের। সে সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই করে। যেন তার ইনবক্স থেকে বেরই হয় না।
"ঘুম আসছে না।"
"কাল কলেজ নেই?"
"আছে।"
"তো ঘুমাও।"
"ঘুম আসছে না।"
"প্রেম করেছ কখনো?" 
"না।"
"বড় হিসেবে একটা উপদেশ দিই, শুনলে জীবনে ভালো থাকবে।"
"কী?" জানতে আগ্রহ প্রকাশ করল অভ্যুদয়।
"কখনো প্রেম করো না।" প্রেম করবে? প্রেম করার সময় কই তার?
"কেন?"
"মনের মানুষ ঠিক না পড়লে জীবন তছনছ হয়ে যাবে।"
"তুমি কি ছ্যাকা খাইছো?" নওশীনের কথাগুলো শুনলে মনে হয় সে ছ্যাকা খেয়ে বেকা হয়ে আছে।
"ছ্যাকা খেতে হয় না। চোখের সামনে অনেক কিছুই দেখি, সেই হিসেবেই বললাম।"
"ওহ।"
"আচ্ছা, আমি একটু পর আসছি। ক্ষুধা লাগছে প্রচুর।"
"এই রাতে?" অভ্যুদয়ের মেসেজ সিন হলো না। তার মানে, নওশীন সত্যি সত্যি চলে গেছে খাবার খেতে।
অভ্যুদয় অপেক্ষমাণ। নওশীনের সাথে কথা শেষ করেই ঘুমাবে। সময় তার মতো গড়িয়ে যাচ্ছে, কিন্তু নওশীনের ফেরার কোনো নামগন্ধও নেই। ঝিমোতে শুরু করেছে অভ্যুদয়। চোখে প্রচুর ঘুম।
"চলে আসলাম। আসলে নুডলস রান্না করে খেয়ে আসলাম, তাই দেরি হয়ে গেল।"
"এই রাতের বেলা ইচ্ছা করে ঝাল ঝাল করে নুডলস খেতে!"
"কই?"
"ঐ পিচ্চি?"
"ঘুমিয়ে গেলে?"
"ওকে। গুড নাইট।"
অভ্যুদয় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ফ্যানের বাতাসে দুলছে তার কোকড়ানো চুলগুলো। এক পাশে রাখা মোবাইলের স্ক্রিনে শো করছে নওশীনের পাঠানো একের পর এক মেসেজ। জ্বলতে থাকা আলো নিভলেও অভ্যুদয়ের জীবনে যেন শুরু হতে লাগল এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
চলবে....
কেমন লাগলো আজকের পর্বটা? ছবিটা বানাতে গিয়ে দেরি হয়ে গেল।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন