ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে ছিল আমার কল্পনায়

১৪তম পর্ব

লেখক: নাবিলা আহমেদ সেহরিশ

#সে_ছিল_আমার_কল্পনায়

#পর্ব_১৩
#লেখিকা_নাবিলা_আহমেদ সেহরিশ
“তোমার পুরো নাম কী?”
“নওশীন ইসলাম।”
“মা-বাবা কী করেন?”
“আম্মা হাউজওয়াইফ, আর আব্বা আপাতত কিছু করেন না।”
“তাহলে সংসার চলে কীভাবে তোমাদের?”
“ব্যাপার কী? আজকে আমার বিষয়ে জানার খুব আগ্রহ প্রকাশ পাচ্ছে যে!”
নওশীনের মেসেজটি আসতেই নিজের জিভে কা'মড় মা'রলো অভ্যুদয়। একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছিল সে নওশীনকে। কেন করছে, তা সে নিজেও জানে না।
“এমনিতেই। এতদিন ধরে কথা হচ্ছে, অথচ কেউ কাউকে ভালো করে চিনিই না।”
“ওহ। আব্বা পেনশন পান, সেই টাকা দিয়েই সংসার চলে যায়।” মেসেজটা দেখে কয়েক মিনিট স্থির হয়ে বসে থাকলো অভ্যুদয়। মনের ভেতরে একটা প্রশ্ন অনবরত ঘুরপাক খাচ্ছে, কিন্তু তা আদৌ করা ঠিক হবে কি না বুঝতে পারছে না।
ঘড়ির কাঁটা রাত বারোটা পার করে গেছে অনেক আগেই, তবুও আজ ঘুম নেই অভ্যুদয়ের চোখের পাতায়।
“ঘুমিয়ে পড়লে নাকি?” অভ্যুদয়ের মেসেজ গেল না দেখেই আবার মেসেজ পাঠালো নওশীন। বড় করে একটা শ্বাস ছাড়লো অভ্যুদয়, যেন বুকের ভেতর জমে থাকা দ্বিধাবোধকে একঝটকায় ঝেড়ে ফেলে দিল।
“তাহলে তো মনে হয় তোমাকে বেশিদিন রাখবে না।” মেসেজটা পাঠিয়েই থুম মে'রে বসে থাকলো সে। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ডিসপ্লের দিকে, বুকের ভিতরটা অস্বাভাবিক তোড়জোড়ে ধুকপুক করছে।
“মানে? বুঝলাম না।” অভ্যুদয়ের অস্থিরতা আরও বেড়ে গেল। ভেবেছিল এতক্ষণে উত্তরটা পেয়ে যাবে, কিন্তু না, মেয়েটা তার ইঙ্গিতের মর্ম ধরতে পারলো না।
“মানে তোমাকে বিয়ে দিয়ে দেবে। বেশিদিন আর বাড়িতে রাখবে না—সেটাই বলছি।” মেসেজটা পাঠিয়ে আবার একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো সে। আগে যে অস্থিরতা কাজ করছিল, এখন তা যেন দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
“আরে না, বিয়ের এখনও অনেক দেরি আছে। বড় আপু বাকি আছে এখনও, ভুলে গেলে? আর আমিও এত তাড়াতাড়ি বিয়ে করছি না। আগে পড়াশোনা শেষ করি, তারপর।” নওশীনের পাঠানো মেসেজটায় বারবার চোখ বুলালো অভ্যুদয়। কারণটা তার অজানা, তবে আগের তুলনায় নিশ্বাসটা একটু স্বাভাবিক হয়ে এলো। ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠলো মৃদু হাসির রেখা।
“তাহলে তো ভালোই।”
“হুম। অনেক তো আমাকে নিয়ে জানলে, এবার একটু নিজেরটা বলো।” মেসেজ এলো নওশীনের।
“আমারটা? কী জানতে চাও বলো?”
“তোমার আম্মু-আব্বু কী করেন? তোমার পুরো নাম কী? আর তুমি কখন বিয়ে করবে?”
“আমার পুরো নাম অভ্যুদয় চৌধুরী। আম্মু-আব্বু দুজনেই টিচার। ভাইয়া চট্টগ্রাম থেকে পড়াশোনা করছে।”
“আর বিয়েসাদী?”
“বিয়েসাদী? মজা নিচ্ছো, তাই না?”
“মজা কেন নেবো? তোমার চেয়ে ছোট ছেলেরাও তো বিয়ে করে!”
“তাহলে তো আমিও বলতে পারি, তোমার থেকেও ছোট মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়।”
“*******”
“এখন চুপ কেন, ম্যাডাম? জবাব দাও।”
“কী জবাব দেবো? তোমার সাথে কথায় পারি নাকি?”
“হে হে হে...” অনলাইনে চ্যাটিং হলেও অভ্যুদয়ের ঠোঁটের কোণে সত্যি সত্যিই হাসি ফুটে উঠলো। মনে হচ্ছে নওশীন যেন তার সামনেই বসে আছে, মুখোমুখি বসে গল্প আর হাসিঠাট্টায় মেতে আছে দুজন।
“তা পড়াশোনা কেমন চলছে তোমার?” আবারও মেসেজ এলো নওশীনের।
মেয়েটার এই দিকটাই খুব ভালো লাগে অভ্যুদয়ের। ক্ষণিকের জন্যও মনে হতে দেয় না যে সে কথা বলতে চাইছে না; বরং অভ্যুদয়ের মেসেজ দিতে সামান্য দেরি হলেই নওশীন একের পর এক মেসেজ পাঠাতে থাকে।
“ভালোই। কয়েক দিন আগেই টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট দিল।” রিপ্লাই করলো অভ্যুদয়।
“তাই নাকি? তা রেজাল্ট কী আসলো তোমার?”
“টেনেটুনে পাশ!” দুষ্টুমি করে জবাব দিল অভ্যুদয়।
“ভালো করে পড়াশোনা করো।” সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এলো নওশীনের।
“ভালো করে পড়াশোনা করে কী হবে?”
“নিজের জীবন সহজ হবে। স্বপ্ন পূরণের দিকে একধাপ এগিয়ে যাবে।”
“তাই?”
“হ্যাঁ, তাই।”
“ভালো রেজাল্ট করলে তোমার সাথে দেখা করতে পারবো?” হুট করেই মেসেজটা দিয়ে বসলো অভ্যুদয়। পরক্ষণেই বুঝতে পারলো, কী কাণ্ডটা সে করে ফেলেছে! দ্রুত ডিলিট করতে গেল মেসেজটা। কিন্তু ডিলিট অপশনে আঙুল চেপেও থেমে গেল; নওশীন কী উত্তর দেয়, তা দেখার তীব্র আগ্রহ জাগলো মনে।
“ভালো রেজাল্ট করলে হয়তো দেখা দিতেও পারি।” নওশীনের জবাবে অভ্যুদয়ের মনের ভেতর কৌতুহলের পারদ চড়লো। সে মুহূর্তেই টাইপ করতে লাগলো—
“ঠিক আছে, ভালো রেজাল্ট করেই দেখাবো।”
“শুধু ভালো রেজাল্ট নয়, টপ টেনের মধ্যে থাকলে তবেই দেখতে পাবে।”
“নিজেকে না দেখানোর জন্যই এই কঠিন শর্ত দিলে, তাই না?” হাসতে হাসতেই মেসেজ পাঠালো অভ্যুদয়। টপ টেন? তার তো দৃঢ় বিশ্বাস, এবার সে পুরো ঢাকা বিভাগের মধ্যে প্রথম হবে!
“: / ” নওশীন ইমোজি পাঠাতেই হো হো করে হেসে ফেললো অভ্যুদয়। এই মেয়েকে নিয়ে আর পারা যায় না!
“আই হেট ইউ!” দুষ্টুমির ছলেই লিখলো অভ্যুদয়।
“এন্ড আই লাইক ইউ, কিড!”
“আই এম নট এ কিড।”
“ইউ আর এ কিড! নাবালকদের শিশু বলা হয় না তো কী? : / ”
“কিছুদিন আগেই না আমার জন্মদিন গেল, ভুলে গেলে?”
“ও হ্যাঁ! জন্মদিন বলতেই মনে পড়লো, মোবাইল ঠিক করার পর তোমাকে কতবার মেসেজ করলাম, অথচ অনলাইনে পেলামই না। কী সমস্যা হয়েছিল?” শোয়া থেকে ঝটকা দিয়ে উঠে বসলো অভ্যুদয়। তার কয়েক দিনের জন্য গায়েব হয়ে যাওয়াটাও মেয়েটা খেয়াল করেছে?
“মোবাইল নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।” বানিয়ে মিথ্যেটাই বললো অভ্যুদয়।
“আমার মতো অবস্থা! হায়রে কপাল! তা নতুন মোবাইল কবে নিলে?”
“তুমি যেদিন গান পাঠালে, সেদিন।” রিপ্লাই করলো অভ্যুদয়। বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে জানালার পাশে বসলো সে। বাইরে ঘোর অন্ধকার; প্রগাঢ় এই নিস্তব্ধতা হঠাৎ খুব ভালো লাগতে লাগলো তার।
“তাহলে তার আগের দিন যে কথা বললে, সেটা কীভাবে করলে?”
“ল্যাপটপ দিয়ে।” মেসেজটা 'সিন' হলো না। তবুও ইনবক্স থেকে বের হলো না অভ্যুদয়। চোখ ফেরালো দেয়ালঘড়ির কাঁটার দিকে—রাত প্রায় তিনটে বাজতে চললো! অবাক হয়ে মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকালো সে। এত রাত পর্যন্ত কী করছে সে? 
নওশীনের মেসেজ আসেনি, তার পাঠানো শেষ মেসেজটাও এখনও দেখেনি। বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠা কৌতূহল চাপতে না পেরে দ্রুত ওপরের দিকে স্ক্রোল করতে লাগলো সে। যত ওপরের দিকে যেতে থাকলো, ততই তার বিস্ময়ের সীমা রইলো না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সে স্রেফ নওশীনের সাথে চ্যাট করেই কাটিয়ে দিয়েছে! আর নওশীনও তাই।
এক দীর্ঘশ্বাস ফেললো অভ্যুদয়। বের হয়ে এলো মেসেঞ্জার থেকে। কী হচ্ছে এসব তার সাথে? সেদিনের সেই অদ্ভুত স্বপ্ন, নওশীনের সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা, একা একাই হেসে ওঠা... কোনো কিছুরই যেন কোনো খেই খুঁজে পাচ্ছে না সে।
খোলা আকাশের দিকে তাকালো সে। গুটি কতক তারা জ্বলজ্বল করছে বহুদূরে। আকাশটা মেঘলাও নয়, আবার একদম পরিষ্কারও নয়—ঠিক যেন তার মনের মতোই ঝাপসা, ঘোলাটে।
“নওশীন...” আকাশের দিকে তাকিয়েই আনমনে উচ্চারণ করলো নামটা। একচিলতে শীতল বাতাস ছোঁয়া দিয়ে যেতেই শরীর জুড়ে এক অদ্ভুত শিহরণ খেলে গেল। নিজের অজান্তেই চোখ দুটো বুজে এলো তার।
“বেবি...” গোঙানির মতো মৃদুস্বরে বিড়বিড় করে উঠলো অভ্যুদয়।
“হোয়াট দ্য ফা'ক!” পরমুহূর্তেই এক লাফে পিছিয়ে এলো অভ্যুদয়। ঘন ঘন বড় বড় শ্বাস নিতে লাগলো সে।
“হোয়াট দ্য ফা'ক!” আবারও শুধালো, যেন নিজের ভেতরের এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন সে নিজেই অনুধাবন করতে পারছে না। মেঝেতে পড়ে থাকা মোবাইলটা দ্রুত তুলে নিয়ে সোজা চলে গেল গুগলে। কাঁপা কাঁপা আঙুলে সার্চ করলো—
‘I get p'hysically e'xcited whenever I think about a particular girl. Is it a sign of some illness?’
এসি চলছে রুমের মধ্যে, তবুও দরদর করে ঘামছে সে। এ ধরনের অনুভূতি জীবনে সে আর কখনো অনুভব করেনি। বিরক্তিতে গায়ের টি-শার্টটা এক টানে খুলে ছুঁড়ে ফেললো একপাশে। কেমন একটা ভ্যাবসা গরম লাগছে তার।
একটার পর একটা সার্চ রেজাল্ট দেখে যাচ্ছে অভ্যুদয়, আর যতই পড়ছে ততই অবাক হচ্ছে। মাথার ভেতর চিন্তার ঘূর্ণিপাক আরও জোরসে ঘুরতে লাগলো। কিসব আজগুবি ফলাফল দেখাচ্ছে গুগল!
‘কোনো বিশেষ মেয়ের কথা ভাবলেই শারীরিকভাবে উত্তেজিত হওয়া কোনো অসুখের লক্ষণ নয়; বরং এর অর্থ আপনি সেই মেয়েটির প্রতি মানসিক ও শারীরিকভাবে গভীরভাবে আকৃষ্ট এবং তার জন্য বিশেষ কিছু অনুভব করছেন।’
পর্দায় ফুটে ওঠা লেখাগুলোর দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো অভ্যুদয়, চোখের পলক পড়ছে না তার।
“কিসব ফালতু আজগুবি কথাবার্তা!” বিশ্রী একটা হাসি হেসে বিড়বিড় করতে করতেই গুগল বন্ধ করে দিল অভ্যুদয়। মানুষ ঠিকই বলে, এই গুগল তিলকে তাল বানায়! তা না হলে সে কেন তার চেয়ে বয়সে বড় একটা মেয়ের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করতে যাবে? তাও আবার যাকে কোনোদিন চোখেই দেখেনি!
“ফা'ক ইউ, গুগল!” গায়ের ভেতর উঁকি দেওয়া বিশৃঙ্খলা আর বিরক্তিকে দমাতে পারলো না সে। ভেবেছিল মনের এই হুট করে বদলে যাওয়াটাকে কোনো অসুখ বলে চালিয়ে দিয়ে পার পেয়ে যাবে, কিন্তু এই গুগল তার মাথায় আরও জট পাকিয়ে দিল।
‘টুং’—মেসেঞ্জারের পরিচিত শব্দটা কানে বাজতেই বুঝতে পারলো নওশীনের মেসেজ এসেছে। এক সেকেন্ডও অপেক্ষা করলো না অভ্যুদয়; নওশীনকে অপেক্ষায় রাখার কথা সে ভাবতেই পারে না।
“খুব খিদে পাচ্ছিল, তাই খেয়ে আসলাম।” নওশীনের মেসেজটা দেখেই ঠোঁটের কোণে আলতো হাসি ফুটলো অভ্যুদয়ের। অদ্ভুত মেয়ে তো! রাত বাজে তিনটে, এই অসময়ে কেউ খায়?
“তো সেদিন মোবাইল না থাকলে আমার সাথে কথা বললে কীভাবে?” আবারও মেসেজ দিল নওশীন।
“ল্যাপটপ দিয়ে।” এবার সময় না নিয়ে দ্রুত টাইপ করে পাঠালো অভ্যুদয়। অস্থির পায়ে ঘরের ভেতর পায়চারি করছে সে।
“ল্যাপটপ? তোমার বয়সী ছেলের আবার ল্যাপটপও আছে নাকি?”
“না থাকার কী আছে? দেখবে?” নওশীনের উত্তর দেখার আর অপেক্ষা করলো না অভ্যুদয়।
পায়চারি করতে করতেই সে গিয়ে দাঁড়ালো ঘরের বিশাল আলমারিটার সামনে, যার মাঝখানে বসানো রয়েছে বড় একটা আয়না। পেছন ফিরতেই টেবিলে রাখা ল্যাপটপটা আয়নায় প্রতিফলিত হলো।
চাইলেই অভ্যুদয় শুধু ল্যাপটপের একটা ছবি তুলে পাঠিয়ে দিতে পারতো, কিন্তু সে তা করলো না। যেন নওশীনের সঙ্গে তার সম্পর্কটা বহু পুরোনো; যেন তাদের দুজনের মধ্যে এসব একেবারেই স্বাভাবিক, যেন নওশীন তার কাছে মোটেও কোনো অচেনা কেউ নয়। সে আয়নায় একটা সেলফি তুললো—যার একপাশে দেখা যাচ্ছে তার খালি গায়ের সুগঠিত শরীর, আর অন্যপাশে টেবিলে রাখা ল্যাপটপ। মাথা সামান্য নিচু করে থাকায় মুখটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না, তবে সে মুখ লুকানোর কোনো চেষ্টা করল না। পরনের ট্রাউজারটা নাভির অনেকটাই নিচে নেমে আছে, সেদিকে তার বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই। এক মুহূর্ত কিছু না ভেবেই ছবিটা নওশীনকে পাঠিয়ে দিল সে, সঙ্গে লিখলো—
“নাও, দেখো।”
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মেসেজটা সিন হলো।
“এই বজ্জাত! তোমার কি লজ্জা-শরম বলতে কিছু নেই? একটা মেয়েকে কেউ এভাবে ছবি পাঠায়?”
নওশীনের মেসেজটা দেখেই অভ্যুদয়ের মুখটা গোমড়া হয়ে এলো। নওশীনের কাছ থেকে অন্তত এমন প্রতিক্রিয়া সে আশা করেনি।
“আমাকে দেখার কী দরকার? আমাকে ইগনোর করে ল্যাপটপটা দেখো।” মেজাজটা খিটখিটে হয়ে উঠলো তার। হুট করেই ঘুম পাচ্ছে খুব।
“ইগনোর করবো? এত বড় একটা ছেলেকে কীভাবে ইগনোর করবো? কীভাবে বডি দেখাচ্ছে!” অভ্যুদয় কিছু টাইপ করতে যাবে, তার আগেই কতগুলো কান্নার ইমোজি পাঠালো নওশীন।
ঘন ভ্রু দুটি কুঁচকে এলো অভ্যুদয়ের-
“কী হয়েছে? কান্নার ইমোজি কেন?”
“তোমার হাত!” সাথে আবারও কান্নার ইমোজির বন্যা।
“আমার হাতে কী?”
“তোমার হাতের রগগুলো...” আবারও কান্নার ইমোজি।
পড়েই অভ্যুদয় নিজের অজান্তে নিজের নিচের ঠোঁটটা চেপে ধরলো, ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠলো এক চিলতে প্রশান্তির হাসি। সে ভালো করেই জানে এরকম রগওয়ালা হাতগুলো নওশীনের দুর্বলতা। 
“আয়ায়ায়া... তুমি ছোট হলে কেন? বড় হলে তো তোমাকে পটিয়েই ফেলতাম... আঃ...”
নওশীনের মেসেজটা পড়ে অভ্যুদয়ের বুক যেন খালি হয়ে এলো, নিশ্বাস আটকে এলো মুহূর্তের জন্য। ছাতি ফুলিয়ে ভারী নিশ্বাস ফেললো সে।
আর কোনো দ্বিধা না রেখে লিখে পাঠালো—
“ছোট হওয়াতে কী সমস্যা? বয়সে ছোট হলেও আমি মানুষটা কিন্তু ছোট নই”
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন