ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে ছিলো অন্যরকম

১১তম পর্ব

লেখক: পুষ্পিতা মেহরীন তিশা

#সে_ছিলো_অন্যরকম

#পুষ্পিতা_মেহরীন_তিশা

#পর্ব- ১১

রাত প্রায় দুইটা। বিছানায় বেঘোরে ঘুমাচ্ছে রুদ্র। কিন্তু ঘুম নেই হিয়ার চোখে। বারবার শুধু এপাশ-ওপাশ করছে মেয়েটা। মাথায় তার হাজারো চিন্তা কিলবিল করছে। ঘুম যেন কিছুতেই ধরা দিতে চাইছে না। বারবার মনে হচ্ছে। রুদ্রর শার্টে চুল, পারফিউমের ফ্লেভার, এসব কিছুই কি কাকতালীয় নাকি সিরিয়াস কিছু? এই সবটা কি তার মনের ভুল? নাকি এ ব্যাপারে তার সিরিয়াস হওয়া দরকার?

হ্যাঁ, এটা ঠিক তাদের মাঝে বর্তমান সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়। কিন্তু, তারমানে এই নয় যে, রুদ্র তাকে ধোঁকা দিবে। হিয়া জানে, রুদ্র হিয়াকে হিয়ার থেকেও বেশি ভালোবাসে। হয়তো সে হিয়ার ওপর এখন রাগ করে আছে, কিন্তু তাই বলে হিয়াকে ধোঁকা দিবে? নাহ এটা অসম্ভব! কিন্তু, ওই চুল? নাহ আর ভাবতে পারছে না হিয়া। বুকের ভেতরটা কেমন জানি মোচড় দিয়ে উঠছে।

বিছানা থেকে উঠলো হিয়া। ঢকঢক করে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিলো। নিজের মনেই বললো সে,

"আচ্ছা এমনও তো হতে পারে। চুলটা হয়তো অন্য কোনো ভাবে ওর শার্টে লেগেছে। সব সময় যে জড়িয়ে ধরলে বা গায়ে পড়লেই শার্টে চুল জড়াবে এমন তো কোনো কথা নেই, তাই না? আর তেমন কিছু হলে তো, আরও আগেই আমার চোখে পড়তো।"

পর মুহুর্তে আবারো চোখ ছোট করে, সন্দেহ নিয়ে বলল হিয়া,

"হতে তো পারে, এর আগে শার্ট ভালো করে ঝেড়ে আসতো। কালকে ঝাড়তে ভুলে গেছে।"

কথাটা বলেই একটা হেঁচকি তুলল সে। চোখ বড়ে বড়ো করে ফের তাকালো রুদ্রর দিকে। কিন্তু, মুহুর্তেই যেন মাথার ভেতর থেকে সব দুশ্চিন্তা বেরিয়ে, অন্যরকম শিহরণ জাগলো তার। আনমনে, হাসি ফুটলো ঠোঁটের কোণে।

"লোকটা পা দুইটা ছড়িয়ে দিয়ে, চিৎ হয়ে ঘুমাচ্ছে। কোলবালিশটা পা থেকে বুক অবদি আড়াআড়ি ভাবে রেখেছে। সেটাকে এমন ভাবে জড়িয়ে ধরেছে। যেন সেটা বালিশ নয় তার বউ।"

শেষ কথাটা ভেবেই, হেঁসে দিলো হিয়া।

রুদ্রর বুকে লোমার অভাব নেই। অন্যদের তুলনায় তার বুকে লোমার পরিমান টা যেন একটু বেশিই বলে মনে হয় হিয়ার। রুদ্রর বুকের বাম পাশের কাটা চিহ্ন। যেখানে ছোট্ট ছোট্ট অক্ষরে হিয়ার নামটা লেখা। এটা সে ভার্সিটিতে পড়া কালীন সময়েই করেছিলো। হিয়া কতোবার বারণ করেছিলো, কিন্তু কে শোনো কার কথা।

হিয়ার খুব ইচ্ছে হয়, ওই বুকে মুখ লুকাতে। ওই প্রশস্ত বক্ষস্থলে মাথা রেখে নিশ্চিতে ঘুমাতে। কিন্তু মানুষের সব ইচ্ছে কি আর পুরণ হয়? এমনটা নয় হিয়া কখনো ওই বুকে আশ্রয় পায়নি, কখনো মুখ লুকাইনি সেখানে। বরং সে অনেক বার ওই লোমশ বুকে মাথা গুজেছে, মুখ লুকিয়েছে হাজার বার। কিন্তু সেটা বিয়ের আগে। বিয়ের পরে ওই বুকে তার আশ্রয় হয়নি একটি বারও।

রুদ্রর মুখের দিকে তাকিয়ে ব্যাথাতুর একটা হাসি দিলো হিয়া। আনমনে বলল,,

"আমাদের ভাগ্যটা কতো নিষ্ঠুর তাই না রুদ্র? দেখো না, তখন ভালোবাসা ছিলো কিন্তু বৈধতা ছিলো না। আর এখন? এখন বৈধতা আছে কিন্তু সেই ভালোবাসা টা-ই নেই।"

-

সেদিনের পর কেটে গেলো আরও কয়েকটা দিন। এরপরে হিয়া আর রুদ্রর মাঝে তেমন সন্দেহ জনক কিছু দেখেনি। রুদ্র অফিস থেকে আসার পর, সে রোজ নিয়ম করে ২০মিনিট সময় নিয়ে রুদ্রকে চেক করে। তবে ফলাফল শূন্য।

রোজকার মতো আজকে সকালেও রুদ্র ব্রেকফা্স্ট করে অফিসের উদ্দেশ্য বেরেলো। তবে আজ আর হিয়া তার পেছনে লাগলো না। শুধু তার কাজ গুলো করে গেলো মুখ বুজে। কোনো রকম বাড়তি কথাই সে বলল না। রুদ্র অবশ্য কয়েকবার জিজ্ঞেস করছিলো তাকে মৌন ভুতে ধরেছে কিনা। কিন্তু হিয়া তাতেও চুপ ছিলো।

-

রুদ্র : "রাহাদ। কালকে তোকে যে কাজগুলো দিয়েছিলাম সেগুলো শেষ করেছিস?"

রাহাদ : "হুম। এইযে সেই ফাইলগুলো। এখন শুধু তুই একবার দেখে নিলেই হবে।"

রুদ্র : "আচ্ছা, ওগুলো রেখে যা। আমি পরে দেখে নিবো।"

রাহাদ "ওকে!" বলে চলে যেতেই সাফাত নামের একজন আবারো রুদ্রর কেবিনে আসলে।

"স্যার, এই ফাইলগুলোতে আপনার সাইন প্রয়োজন।"

রুদ্র তার দিকে না তাকিয়েই কপালে আঙুল চালাতে চালাতে বলল,,

"ওগুলো রেখে যাও। আমি পরে সাইন করে দিবো।"

সাফাত : "ওকে স্যার।" সাফাত চলে যেতে নিয়েই আবারো ফিরে আসলো।

"স্যার।"

"কিছু বলবে?"

"স্যার আপনি কি অসুস্থ? আপনাকে আজ কেমন যেন লাগছে।"

"না তেমন কেনো ব্যাপার নাহ। শুধু মাথাটা একটু ধরেছে।"

"আমি কি কফি পাঠাবো স্যার?"

"না প্রয়োজন নেই। তুমি যাও, কাজে মন দাও।"

সাফাত চলে গেলো। রুদ্র ডেস্কের ওপর মাথাটা রেখে দিলো। মাথাটা খুব ধরেছে তার। চোখটাও কেমন জানি জ্বালা করছে। জ্বর-টর আসবে নাকি কে জানে।

"ভেতরে আসবো?"

দরজার ওপার থেকে আওয়াজ শুনে ঘাড় তুললো রুদ্র। দেখলো লারা দাড়িয়ে আছে। পুনরায় মাথা রাখতে রাখতে বলল,,

"আয়।"

লারার হাতে কিছু ফাইল। সে ভেতরে এসে কিছু বলার আগেই রুদ্র ডেস্কের ওপর মাথা রেখেই বলল,,

"ওগুলো রেখে যা, পরে দেখে নিবো। এখন জ্বালাস না। যা এখান থেকে।"

লারা রুদ্রর এমন কথায় একটু অবাক হলো। স্বাভাবিক ভাবেই বলল,,

"কি হয়েছে তোর? তোর কি শরীর খারাপ করছে?"

রুদ্র কোনো উত্তর দিলো না। লারা ফাইল গুলো রেখে রুদ্রর দিকে এগিয়ে গেলো। রুদ্রর মুখটা হাত দিয়ে তুলল,

"দেখি তাকা আমার দিকে। চোখ দু'টো তো লাল হয়ে আছে। মুখটাও শুকনো লাগছে। কি হয়েছে তোর?"

রুদ্রর লারার হাতটা সরিয়ে দিতে দিতে বলল,,

"আরে কিছু না। যাতো এখান থেকে।"

"কি কিছু না, দেখে মনে হচ্ছে তুই কোনো হসপিটালের রোগী। আর তুই বলছিস কিছু না?"

"আরে তেমন কিছু না। মাথাটা একটু ধরেছে শুধু। একটু পরেই ঠিক হয়ে যাবে। তুই যা গিয়ে কাজ কর।"

লারা রুদ্রর পিছনে গিয়ে, তার মাথাটা ধরে চেয়ার এলিয়ে দিলে। মাথাটা টিপে দিতে দিতে বলল,,

"মাথাটা ধরেছে কি করে? রাতে ঘুমাস না নাকি? চুরি করতে যাস রাতে?"

"আরে লাগবে না। তুই যা গিয়ে তোর কাজ কর না।" লারার হাতটা মাথা থেকে সরিয়ে দিতে দিতে, বিরক্ত গলায় বলল রুদ্র।

"পাঁচ মিনিট কাজ না করলে, তোর কোম্পানির তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।"

রুদ্র আর কথা বাড়ালো না। এই মুহুর্তে তার কাছে ভালো কথাগুলোও যেন বিষের মতো লাগছে। হঠাৎ একটা স্টাফ এসে বলল,,

"স্যার আপনার সাথে একটা মেয়ে দেখা করতে এসেছে।"

লারা ভ্রু কুচকে বললো, মেয়ে?

এরপর স্টাফের উদ্দেশ্য রুদ্র কিছু বলার আগেই লারা বলল,, "তাকে গিয়ে বলো, এখন স্যার বিজি আছে দেখা করতে পারবে না। পরে আসতে বলো তাকে।"

"স্যার মেয়েটা বলল, সে মিসেস রুদ্রনীল চৌধুরী। আপনার ওয়াইফ।"

কথাটা শোনার পরই রুদ্রর কাশি এসে গেলো। তার সব মাথা ব্যাথা যেন ছুটি নিয়েছে। সে চটজলদি উঠে দাঁড়ালো। লারাকে বলল,,

"তাড়াতাড়ি আমার কেবিন থেকে বের হ। দ্রুত যা শালি।"

"রুদ্র তুই ম্যারিড?"

"চারটা বাচ্চাও আছে আমার। এখন যা এখান থেকে। নয়তো আমি চলে যাবো দুনিয়া থেকে।"

লারা টা যেন অবাক হওয়ার সময় টুকুও পেলো না। তার আগেই রুদ্র তাকে ঠেলেঠুলে বাইরে পাঠাতে চাইলো। কিন্তু, বের হবার আগেই লারা হিয়ার মুখোমুখি হয়ে গেলো।

দরজার থেকে বের হবার সময় একে-অপরের মুখোমুখি হলো তারা। দুজনেই দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকলো প্রায় ৫-৭ সেকেন্ড। লারা শার্ট-প্যান্ট পরা। গলায় ঝুলছে কোম্পানির ব্যাজ।কোমরের একটু ওপর অবদি কোকড়া চুলগুলো ছেড়ে দেওয়া। মুখে কোনে কোনো হাসি নেই তার, আছে একরাশ বিরক্তি।

অন্যদিকে, হিয়ার পরণে একটা কালো সিল্কের শাড়ি। চুলগুলো স্বাভাবিক ভাবেই ছেড়ে দেওয়া। কানে কালো ডায়মন্ডের দু'টো টপ ইয়ারিং। গলায় একটা চেইন যার কালো লকেটের ভেতর "RN" লেখা। একহাতে একটা কালো ফিতার ঘড়ি আর একটা রিং। হিয়ার চেহরাটা অনেক মিষ্টি, চোখ দুইটা টানা টানা। লারা কিছু সময় তাকিয়ে দেখলো তাকে। অতঃপর প্রস্থান করলো। লারা চলে যেতেই হিয়া ভেতরে ঢুকলো।

"তু..তুমি এই সময়ে এখানে কেন এসেছো?"

"মেয়েটা কে?" রুদ্রর কথায় পাত্তা না দিয়ে স্বাভাবিক হয়ে বলল হিয়া।

"কোম্পানির চিফ অপারেটিং অফিসার।"

হিয়া ভ্রু সটান করলো। রুদ্রর দিকে একবার তাকিয়ে, তার পুরা কেবিন টা ঘুরে ঘুরে দেখতে দেখতে বলল,,

"তোমার সস্তা অফিসারের চুল গুলো কিন্তু খুব সুন্দর তাই না? কি সুন্দর লাল লাল চুল, আমার তো সেই লেগেছে। ভাবছি আমিও ওমন চুল বানাবো। ভালে হবে না?"

হিয়ার কথায় রুদ্রর কাশি উঠলো। তারমানে, হিয়া সেদিনের কথা এখনো ভুলেনি। এখনো সেই চুল নিয়ে পড়ে আছে।

"ইশশ! তোমার জন্য খাবার এনেছি, কিন্তু পানিটা আনতেই ভুলে গেছি যাহ! যদি জানতাম তুমি এভাবে ভীষম খাবে, তাহলে সাথে পানিটাও সাথে করে আনতাম গো।"

হিয়া এই প্রথমই রুদ্রর অফিসে এসেছে। তাদের বিয়ের প্রায় এক বছর হতে চলল, কিন্তু এর মাঝে এই কয়দিনই হিয়া চঞ্চল হয়েছে। এর আগে তো সে সব সময়ই চুপচাপ থাকতো। বাইরে বের হওয়া তার জন্য নিষিদ্ধ ছিলো। যদিও সেটা এখনো বহাল আছে। তবুও হিয়া আজ সাহস করে এসেছে।

"কেন এসেছো এখানে?"

হিয়া রুদ্রর কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। তার নাকে এক আঙুল দিয়ে টোকা দিয়ে, নাক কুঁচকে বলল,

"তোমার সাথে রোমাঞ্চ করতে!"

রুদ্র কিছু বলতে যাবে তার আগেই হিয়া আবারো বলল,, "উপসস! সরি, সেই চুলের মালিকের খোঁজ করতে।"

বলেই চোখ টিপ দিলো হিয়া। রুদ্র তাকে শাসাতে নিয়েছিলো, তবে হিয়ার কথা শুনে কিছুটা দমে গেলো সে। কিছু সময় চুপ থেকে বলল,,

"বাসা থেকে বের হয়েছো কেন? তোমার সাহস কিন্তু দিনদিন বেড়েই চলেছে। কার পারমিশন নিয়ে বের হয়েছো তুমি?"

"এই কেবিন টা তোমার? ইশ! আমি এখানে আসতে অনেক দেরী করে ফেলেছি তাই না?

" আমি কিছু জিজ্ঞেস করেছি তোমাকে!" রুদ্রর স্বর একটু গম্ভীর হলো।

"তোমার কেবিনটা এতো বড়ো আর সুন্দর! জানো দেখে মনেই হচ্ছে না, এটা কোনো ম্যানেজিং ডিরেক্টরের কেবিন। মনে হচ্ছে যেন এটাই সিইও-এর কেবিন।"

হিয়া কিছু সময় থামলো। তারপর আবার বলল,,

"আমি রাহাদ ভাইয়ার কেবিনেও গিয়েছিলাম জানো! তার কেবিনটা তোমার মতো এতো পরিপাটি,সুন্দর, বড়ো কোনোটাই না। আমার মনে হলো, ম্যানেজিং ডিরেক্টরদের কেবিন হয়তো ওমনই হয় তাই না?"

"তুমি অনেক বেশি বুঝে ফেলছো।" রুদ্রর স্বর আরও গম্ভীর হলো।

"বিষয়টা যখন তোমার, তখন বেশি তো আমাকে বুঝতেই হবে তাই না।" রুদ্রর চুলে হাত বোলাতে বোলাতে কথাটা বলল হিয়া।

"আচ্ছা, তুমি তাহলে থাকো। আমি বাসায় যাই। কেমন?" রুদ্রর কপালে একটা চুমু রেখে কথাটা বলল সে।

রুদ্র একটু অবাক হয়ে বলল, "এখনই চলে যাবে?"

"থাকতে বলছো? থাকলে, কি এই সোফায় আমার সাথে বাসর করবে?"

সোফার ওপর বসতে বসতে ভ্রু কুঁচকে, শয়তানি হাসি দিয়ে কথাটা বলল হিয়া। তার বলতে দেরী হলেও, তার দিকে রুদ্রর রাগী দৃষ্টিতে তাকাতে দেরী হলো না। হিয়া হেঁসে দিলো রুদ্রর তাকানোতে। উঠতে উঠতে বলল,,

"এই জন্যই তো থাকবো না। আচ্ছা, আমি গেলাম তাহলে খাবারটা খেয়ে নিও। একা খেয়ো না আবার, তোমার ওই লাল চুল ওয়ালা এমপ্লয়ি কে সাথে নিয়ে খেও কেমন!"

হিয়া আর দাঁড়ালো না। বেরিয়ে গেলো কেবিন থেকে। সে যেতেই রুদ্র চেয়ারে মাথা এলিয়ে দিলো। আপনমনে বলল,,

"হিয়া কি সব বুঝে গেলো?"

-

"আসতে পারি?"

নিজের কেবিনে বসে ডেস্কের ওপর হাত রেখে,, আঙুল ঘুরাচ্ছিলো লারা। হঠাৎ কারো কন্ঠ শুনে সামনে তাকায় সে। কুঁচকে থাকা ভ্রু দুইটা আপনা আপনি সটান হলো। না চাইতেও, মুখে একটা ছোট্ট হাসি ফুটলো। উঠে দাড়িয়ে বলল,,

"আরেহ! মিস হিয়া যে প্লিজ কাম।"

হিয়া ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে, মুখে হালকা হাসি রেখে বলল, "মিসেস হবে! মিসেস মেহেজাবিণ চৌধুরী হিয়া। ওরুপে, মিসেস রুদ্রনীল চৌধুরী।"

লারা কিছু বলল না। পরপর দু'বার মাথা ঝাকালো। হিয়া মুখে হাসি নিয়ে আবার বলল,,

"আমাকে বসতে বলবেন না?"

লারা একটু অপ্রস্তুত হলো। হেঁসে বলল,,

"ওহ! সিওর। বসুন না প্লিজ। আপনার জন্য চা কফি কিছু আনাই?"

"নিজের হাতে বানিয়ে খাওয়াবেন নাকি?"

লারা ভ্রু কুচকে বলল, হুহ?"

"কিছু না। আচ্ছা জিজ্ঞেস করবেন না আমি এখানে কেন এসেছি?" হিয়ার মুখে হাসি লেগেই আছে।

"আপনার হাসবেন্ডের অফিস। আপনার হাসবেন্ড এখানে থাকে। আপনি যে কোন সময় আসতে পারেন। আমি কেন জিজ্ঞেস করবো?"

"হ্যাঁ, সে তো আমি আসতেই পারি। কিন্তু, আমি হঠাৎ আপনার কেবিনেই কেন আসলাম? সেটা জিজ্ঞেস করবেন না?"

লারা তাকালো হিয়ার দিকে। মেয়েটার মুখের হাসি যেন সরছেই না। কি মিষ্টি সেই হাসি। চোখে মুখে আত্মবিশ্বাস। এক অন্যরকম দীপ্তি ছড়াচ্ছে। লারা তাকিয়ে থাকলো তার দিকে। হিয়া আবার বলল,,

"এভাবে তাকাবেন না। অপ্রস্তুত হয়ে যাই।"

"সরি।" হালকা হেঁসে জবাব দিলো লারা।

"হুম। জিজ্ঞেস করুন আমি কেন আপনার কাছে এসেছি?"

লারা আরও একটু অবাক হলো। মানে মেয়েটা তাকে কিছু বলতে চায়৷ কিন্ত, সে সেটা নিজে থেকে বলবে না। তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তবেই সে বলবে। এ কেমন আত্মসম্মান। বিষয়টা লারাকে ভাবলো।

"বলুন কেন এসেছেন আমার কাছে?"

হিয়া হাসলে। মুচকি হাসলো। এরপর পার্স ব্যাগ থেকে একটা ছোট্ট কাঁচের কৌটা বের করতে করতে বলল,,

"কারণ, আপনার একটা জিনিস আমার কাছে আছে।"

লারা অবাক হলো। "আমার জিনিস? তাও আবার আপনার কাছে? কিন্তু, আপনার সাথে তো আমার আজই দেখা। তাহলে?"

"রিলাক্স। এক সাথে এতোগুলো প্রশ্ন করলে কোনটার উত্তর আগে দিবো বলুন?"

লারা হয়তো লজ্জা পেলো। হিয়া সেই কৌটা থেকে একটা ছোট্ট লম্বা চুল বের করলো, দু'আঙুলে চুলটা তুলে লারার সামনে ধরলো। ঠোঁটের কোণে হাসি রেখে জিজ্ঞেস করলো,

"দেখুন তো এই চুলটা আপনার কিনা?"

#চলবে~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন