ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে ছিলো অন্যরকম

১২তম পর্ব

লেখক: পুষ্পিতা মেহরীন তিশা

#সে_ছিলো_অন্যরকম

#পুষ্পিতা_মেহরীন_তিশা

#পর্ব- ১২

"দেখুন তো এই চুলটা আপনার কিনা?"

লারা আশ্চর্যজনক ভাবে তাকালো হিয়ার দিকে। ভ্রু কুঁচকে হিয়ার হাত থেকে চুলটা নিলো। হিয়া আবারো বলল,,

"যদিও আমি হান্ড্রেড পারসেন্ট সিওর এটা আপনারই চুল। তবুও যদি আপনার সন্দেহ হয়, তো আপনি চাইলে আমি এটার ডিএনএ টেস্ট করাতে পারি।"

লারা এবারে আরও বেশি অবাক হলো। সব কিছু যেন তার মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। সে কিছুতেই খুঁজে পেলো না, এই চুলের রহস্য। সে মুখে একটা বোকা হাসি নিয়ে, চোখ ছোট করে হিয়াকে জিজ্ঞেস করলো,,

"আমি কিন্তু আপনার কথা একেবারেই বুঝতে পারছি না। মিস সরি মিসেস হিয়া। এই সামান্য একটা চুল নিয়ে আপনি..."

লারা তার কথা শেষ করতে পারলো না। তার আগেই হিয়া হাত উঁচু করে তাকে থামিয়ে দিলো। গম্ভীর স্বরে বলল,,

"উমহু! চুলটা মোটেই সামান্য নয়। বিশেষ করে আমার কাছে তো নয়-ই।"

"আমি কিন্তু, সত্যিই আপনার কথা কিছু বুঝতে পারছি না।"

"আপনাকে বোঝানোর জন্যই তো আমি এসেছি।" হিয়ার মুখে সেই অমায়িক হাসি।

হিয়া এগিয়ে গেলো লারার কাছে। "কিছু মনে করবেন না প্লিজ!" কথাটা বলেই সে টুপ করে লারা মাথা থেকে কয়েকটা চুল তুলে নিলো। লারা "আউচ!" জাতীয় শব্দ করলে। হিয়া "সরি"বলে নিলো।

এরপর আগের চুলটাও লারার হাত থেকে নিয়ে মাত্র উঠানো চুলের সাথে মিশিয়ে ধরলো।

" কোনো পার্থক্য বুঝতে পারছেন? মনে হচ্ছে না চুলগুলো একটা মাথার।"

"আপনি কি বোঝাতে চাইছেন, আপনার আনা চুলটা আমার-ই?" সন্দেহভাজক কন্ঠে বলল লারা।

"জ্বি, একদম!" মুখে হাসি হিয়ার।

"কিন্তু কেন?"

"বলছি। কিন্তু তার আগে বলুন, আপনি কি মেনে নিচ্ছেন চুলটা আপনারই!"

"দেখুন। একই রকমের দেখতে চুল অনেকের মাথায়ই থাকে। আজ-কাল অনেকেই চুলে এমন কালার করে। তাহলে, আমি সিওর হয়ে কিভাবে বলবো যে চুলটা আমার-ই?"

হিয়া ভ্রু উঁচিয়ে চোখ লম্বা করলো। বুকে হাত বেঁধে বলল,,

"কথায় লজিক আছে। কিন্তু, আপনি জানতে চাইবেন না, আমার আনা ওই লাল চুলটা আমি কোথায় পেয়েছি!"

লারাও যেন এবার কিছুটা সিরিয়াস হলো। সে একটু দৃঢ় কন্ঠে বলল,,

"নিশ্চয়ই কোনো ডাস্টবিনে পাননি!"

হিয়া হেঁসে দিলো। গা দোলানো হাসি। মুখের ওপর থেকে মাছি উড়ানোর মতো করে হাত নাড়িয়ে বলল,,

"আরেহ! দূর! ডাস্টবিনে পেলে আমি ওটা নিয়ে এতদূর আসতাম নাকি? আমার কি আর কোনো কাজ নাই নাকি?

"তাহলে কোথায় পেয়েছেন?"

"পেয়েছি আমার স্বামীর শার্ট থেকে। তাই তো এতদূর আসা।"

কথাটা হিয়া গম্ভীর সুরে বলল। লারার ভ্রু আবারো কুঁচকে গেলো। সে হয়তো কিছুটা ক্ষিপ্ত হলো। বুঝতে পারলো হয়তো হিয়ার ইঙ্গিত। সে একটু ক্ষিপ্ত স্বরে বলল,,

"কি বলতে চাইছেন আপনি?"

হিয়া চেয়ারে বসলো পায়ের ওপর পা তুলে। এরপর গম্ভীর স্বরে আরাম করে বলতে শুরু করলো।

"আজ থেকে ঠিক ১৮দিন আগে, রুদ্রর পরণে সেদিন সাদা শার্ট ছিলো। তো ও যখন অফিস থেকে বাসায় গেলো। আমি ওর শার্ট খুলতে গিয়ে, ওর শার্টে অন্য পারফিউমের গন্ধ পেলাম। সত্যি বলতে, আমার একটু সন্দেহ হয়েছিলো। ওকে জিজ্ঞেস করায় ও বলল, রাহাদ ভাইয়া ওকে হাগ দিয়েছিলো। কিন্তু, বিশ্বাস করুন! ওর কথাটা না আমার বিশ্বাস করতে পারলাম না। তাই বসে গেলাম, ওকে চেক করতে। ওর শার্ট টা ভালো করে খুঁটিয়ে খুটিয়ে দেখতে লাগলাম। আর হঠাৎই....

হিয়ার কন্ঠটা এই সময়ে এমন হলো, যেন মাত্রই গল্পে টুয়িস্ট আসলো। সে চেয়ার ছেড়ে লারা সামনে গেলো। চুলটা লারার মুখে ওপর ধরে বলল,,

" আমি ওর শার্টে এই চুলটা পেলাম।" হিয়া হাসলো। তবে সেটা রাগের হাসি।

"আপনি কি আমাকে...."

হিয়া থামিয়ে দিলো তাকে। তার দিকে তাকিয়ে, উচ্চ হেঁসে বলল,,

"আরে! দাঁড়ান! আমার কথা তো এখনো শেষ ই হয়নি। পুরোটা শুনুন আগে। তারপর নাহয় আপনি বলবেন, আমি শুনবো।"

"ওকে ক্যারি অন!"

হিয়া আবারো বলল,,

"তো এরপর আজকে যখন আমি এখানে এই অফিসে এলাম। তখন আপনার সাথে আমার দেখা হলো। আর দুর্ভাগ্যবশত! (একটু থামলো হিয়া)

"সেই সেইম পারফিউমের ঘ্রাণ আমি আপনার থেকে পেলাম। আর সেইম চুলও পেলাম। যদিও আপনি এখনো, স্বীকার করেননি চুলটা আপনার।"

হিয়ার মুখে হাসি এখনো খেলা করছে। তবে সেই হাসিটা যে অবজ্ঞা আর ক্রোধের তা বুঝতে আর লারার দেরী হলো না। হিয়ার কথায়, লারা যতোটা না অবাক হয়েছে তার থেকেও বেশি অপমানিত হয়েছে। মুখটা ছোট হয়ে গেছে তার। তাকে চুপ থাকতে দেখে হিয়া আবার বলল,,

"এবার বলুন! আপনি কি তখন কি বলতে চাইছিলেন?"

"আপনি কি আমাকে অপমান করছেন!" লারার কন্ঠ রাগী।

"আপনি কি অপমানিত বোধ করছেন?

"বুদ্ধিমতীদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট!"

"তাহলে, আমি বলবো আপনার ধারণাই ঠিক। কারণ, যে মেয়েরা পরপুরুষের গায়ে ঢলে পড়ে। পুরুষ দেখলেই উপচে পড়ে, হিয়া আর যাই করুক, তাদেরকে সম্মান পাওয়ার যোগ্য মনে করে না।"

লারা তার ডেস্কের ওপর হাত থাবা দিলো। রাগী গলায় একটু চিৎকার দিয়ে বলল,,

"মিসেস হিয়া..."

"আওয়াজ নিচে মিস লারা। ভুলে যাবেন না, আপনি কার সাথে কথা বলছেন। চরিত্রহীন মেয়ের মুখে চিৎকার মানায় না।" গর্জে উঠে বলল হিয়া।

লারা কোনো জবাব দিলো না। ক্ষিপ্ত চোখে চাইলো হিয়ার দিকে। যেন চোখ দিয়েই তাকে খেয়ে নিবে।

"শুনুন মিস লারা। আমি আমার রুদ্রকে খুব ভালো করেই চিনি। ও কে?কেমন?কি করতে পারে কি পারে না, এই সবটা আমি খুব ভালো করে জানি। ইনফ্যাক্ট, আমি মনে করি, রুদ্রকে আমি রুদ্রর থেকেও বেশি ভালো চিনি। কিন্তু,,

হিয়ার গর্জে ওঠা কন্ঠ কিছুটা শীতল হলো। গম্ভীর হয়ে বলল,

" কিন্তু, আমি আপনাকে চিনি না। আর আমাকে বাধ্য করবেন না আপনাকে চিনতে। নয়তো, এই হিয়া আপনার আপনিকেই অচেনা করে দিবে। মাইন্ডেড!"

কথাটা শেষ করেই হিয়া বেরোতে নিলো। তবে তার আগেই লারা বলে উঠলো,,

"ঠান্ডা মাথায় বাঁশ দিতে আপনি খুব এক্সপার্ট তাই না? মিসেস মেহেজাবিন চৌধুরী?"

হিয়া ঘুরে তাকালো। হালকা হেঁসে শান্ত ভাবে জবাব দিলো।

"প্রশ্নটা যখন আমার স্বামীর! তখন এই হিয়া আরও অনেক কিছুতেই খুব এক্সপার্ট। তাকে ঘাঁটাতে আসবেন না। নয়তো, নিজেই ঘেঁটে যাবেন।"

হিয়া বেরিয়ে গেলো। আর সে যাওয়া মাত্রই লারা ডেস্কের একসাইড থেকে ঠেলে সবটা ফেলে দিলো। রাগে চিৎকার দিলো একটা।

---

চেয়ারে পেছন ফিরে বসে আছে রুদ্র। ঘূর্ণনযোগ্য চেয়ারে পিঠ হেলান দিয়ে, চোখ বন্ধ করে রেখেছে সে। মাথাব্যাথাটা এখনো কমেনি তার। মুখটা থমথমে আছে। ক্লান্তিতে ছেয়ে গেছে মুখটা।

হঠাৎ-ই তার কপালে কোনো কোমল হাতের স্পর্শ পেলো সে। বিরক্তিতে মুখটা কুঁচকে গেলো। একটু দম নিয়ে বিরক্ত গলায় বলল,,

"আরে ভাই! বলেছি তো আমার মাথা টিপে দেওয়া লাগবে না। তাও কেন বারবার এসে মাথাায় হাত লাগাস? বা...."

রুদ্র আর কিছু বলতে পারলো না। তার আগেই কপালের দুপাশে চিমটি দেওয়া ব্যাথা অনুভব করলো। কোমল হাত দু'টো যেন হিংস্র রুপ নিয়েছে। রুদ্র চোখ খুলে তাকাতেই ভ্যাবাচ্যাকা খেলো সে। তার দিকে রাগী মুখ তাকিয়ে আছে হিয়া। ভ্র'টা একটু উঁচিয়ে প্রশ্ন করলো হিয়া "হুমমম?"

"ব্যাথা পাচ্ছি। হাত সরাও!"

"আমি না থাকলে, আর কোন মেয়ে এসে তোমার কপালে হাত দেয়?"

"আর কে আসবে?কেউ আসে না।"

"কেউ আসে না? তাহলে, মেজাজ টা কাকে দেখালে?"

"তুমি না চলে গিয়েছিলে? তাহলে আবার আসলে কেন?" স্বাভাবিক ভাবেই বলল রুদ্র।

"ওরে রে! আমি আসাতে তোমার পরকীয়াতে ব্যাঘাত ঘটলো তাই না? রোমাঞ্চে বা হাত ঢুকালাম আমি?" রুদ্রর সামনে চেয়ারে বসতে বসতে বলল হিয়া।

রুদ্র কপালে হাত রেখে, স্বাভাবিক ভাবে বলল,,

"ফালতু কথা না বলে, মাথাটা টিপে দাও। খুব যন্ত্রণা হচ্ছে।"

"আহারে! ওনি পর নারীর চিন্তায় মাথা ব্যাথা বানাবেন, আর আমি নাকি সেই ব্যাথাতে ম্যাসেজ করবো। বলি পাগলা কুত্তায় কামড়াইছে আমারে??"

রুদ্র হাত নামিয়ে তাকালো হিয়ার দিকে। হতাশ হয়ে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো একটা।

"এখনো তো আমিই কামড়ে পারলাম না, এর আগেই কুত্তায় কামড়ে দিলো? ইট'স নট ফেয়ার হিয়া।"

হিয়া কিছু বললো না। মুখ ভেংচি দিলো একটা।রুদ্র আবার বললো,,

"মাথাটা ম্যাসেজ করে দাও!"

"উঠো!"

রুদ্র অবাক হয়ে তাকালো। "উঠবো মানে?"

হিয়া কোনো উত্তর দিলো না। রুদ্রর হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো ওয়াশরুমে। রুদ্রকে দাড় করিয়ে দু'হাতে Kiehl’s Facial Fuel জেলটা লাগিয়ে নিলো।

"তুমি আবার কবে থেকে ছেলেদের জেল ইউজ করা শুরু করলে?" একটু অবাক হয়ে বলল রুদ্র।

"আজ, এখন, এই মুহুর্ত থেকে।" দাঁত চেপে বলল হিয়া।

অতঃপর রুদ্রকে আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই, হাত দুইটা লেপ্টে দিলো তার মুখে,, রুদ্রর কপালটা ভালো করে ঘষতে থাকলো। যেন লারার ওপরের রাগটা সে রুদ্রর কপালে মেটাচ্ছে।

"হিয়ার বাচ্চা! কি করছো এসব? মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার?"

"মাথাটা এখনো খারাপ হয়নি বলেই, শুধু কপালটা ধুয়েমুছে দিচ্ছি। খারাপ হলে তো তোকেই ধুয়ে দিতাম।"

হিয়ার হাতের চাপ আরও জোর হলো। রুদ্রর পুরা মুখটা এখন জেলের ফেনায় ঢেকে গেছে। কিন্তু হিয়ার রাগ যেন কিছুতেই কমছে না।

"হিয়া আমার মাথাটা এমনিতেই ব্যাথা হচ্ছে, তারওপর তুমি? এখানে একটা থাপ্পড় দিলে তোমার ভালো লাগবে তো? বদমাশ মেয়ে?"

"ব্যাথা আমি বাড়াচ্ছি তো! আবার আমিই কমিয়ে দিবো। ডোন্ট করিং ওরি বাবু!"

-

বেশ অনেকটা সময় পর হিয়া রুদ্রকে নিয়ে বের হলো। তাকে ধরে সোফাতে বসালো। এরপর নিজেও তার পাশে বসলো। রুদ্রর মাথা ব্যাথাটা এবার খুব বেড়েছে। সে সোফাতে মাথা এলিয়ে দিলো। হিয়া তার মাথায় হাত দিতেই সে গর্জে উঠে বলল,,

"এই ছেমরি! দূরে যা আমার থেকে। তোর ম্যাসাজের কাঠে ইংলিশ। যা সর এনতে।"

"হ্যাঁ, আমি সরে যাই। আর তুই ওই ফারাকে নিয়ে আয়। ওর কোলে মাথা রাখিস ও খুব সুন্দর করে টিপে দিবে তোর মাথা। আমার তো ইচ্ছে হচ্ছে এখন তোর গলাটাই টিপে দেই। বেদ্দব পোলা!" দাঁত কিড়মিড় করে বলল হিয়া।

রুদ্র উঠে বসলো। ভ্রু কুঁচকে বলল,,

"এক মিনিট! এক মিনিট! এর মধ্যে আবার লারা আসলো কিভাবে?"

"দেখো রুদ্র! একদম বোকা বোকা ভাব করবে না। এমনিতেই মাথাটা গরম আছে।"

রুদ্র আর কিছু বলতে পারলো না। তার আগেই রাহাদ তার কেবিনে ঢুকতে ঢুকতে বলল,,

"কিরে ভাই! লাঞ্চ ব্রেক তো হয়ে গেলো। যাবি না..."

রাহাদ কথা শেষ করতেই দেখলো। রুদ্রর ডেস্কের ওপর ইয়া বড়ো একটা লাঞ্চ বক্স! সে দৌড়ে গিয়ে বক্সটা ধরলো। উচ্ছসিত হয়ে বলল,,

"আরে ব্যাসস! তাই তো বলি। বেডা এখনো বের হয় না কেন! এখন দেখি সে বউ, লাঞ্চ দুইটাই নিয়ে আরাম করে বসে আছে।"

হিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,, "তা ভাবি। আমাদের ভাগ হবে তো?"

হিয়া আমতা আমতা করে কিছু বলতে নিলো, কিন্তু তার আগেই রাহাদ আবার বলল,,

"আরে দূর! আমিই বা আপনাকে জিজ্ঞেস কেন করছি। এতো বড়ো বক্স যখন, তখন আমার জন্যও এনেছেন নিশ্চয়ই। ভালোই হলো, বেশ অনেক দিন পর আপনার হাতের রান্না খাবো।"

রুদ্র সোফায় মাথা এলিয়ে ছিলো। হিয়া তার হাতে কয়েকটা চিমটি দিলো।

"কি সমস্যা?" বিরক্ত হয়ে বলল রুদ্র।

হিয়া তার দিকে তাকিয়ে অপরাধীর মতো মুখ করলো। ইশারায় কান ধরার ইঙ্গিত বুঝালো। শুষ্ক ঢোক গিলে নিলো কয়েকটা।

রুদ্র বুঝতে পারলো নিশ্চিত ওই লাঞ্চ বক্সের মাঝে কোনো ঘাবলা আছে। সে দ্রুত উঠে গিয়ে রাহাদের কাধে হাত রেখে ডাকলো,,

"রাহাদ.."

"আরে তোকে দিবো সব আমি একা খাবো না।"

রুদ্র কিছু বলতে নিয়েও থেমে গেলো। ঠোঁট কামড়ে একটা শয়তানি হাসি দিয়ে বলল,,

"আরে নাহ! তোর ভাবি তোর জন্য কষ্ট করে রান্না করেছে। তুই একাই খাস। আমাকে দিতে হবে না। আমার আজ উপোস!"

হিয়া হা করে তাকালো রুদ্রর দিকে। লোকটা সব বুঝেও আটকালো না কেন? তারমানে, সে হিয়াকে ফাঁসাতে চাইছে! মনে মনে গালাগাল করলো রুদ্রকে। সাথে নিজেকেও বলল,,

"হিয়ারে হিয়া! তুই তো আজ গেলি, সাথে তোর মান সম্মান ও গেলো!"

মনে মনে চিৎকার করে কাঁদলো হিয়া। অন্য দিকে তার দিকে তাকিয়ে মাথার নিচে দু'হাত রেখে মুচকি হেঁসে চলেছে রুদ্র। যা হিয়ার রাগকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রাহাদ ছয় বাটি বিশিষ্ট বক্সটা খুলল। কিন্তু, খুলেই তার চক্ষু চড়কগাছ হলো। পেটের ভেতর এতো সময় যে ইদুর দৌড়াচ্ছিলো তা যেন আবার ঘুমিয়ে পড়লো।

রাহাদ পরপর সব গুলো বাটি চেক করলো। যার প্রথমটাতে ছিলো, দুইটা আলু, দ্বিতীয় টায়, দুইটা শুঁকনো মরিচ, তৃতীয় টায় দুইটা পেয়াজ, চতুর্থ টায় দুইটা কাঁচা ডিম। রাহাদ পরপর বক্স গুলো খুলল, আর একবার রুদ্রর দিকে তো আারেক বার হিয়ার দিকে তাকালো।

রুদ্র তো হেঁসে লুটোপুটি খাচ্ছে। আর হিয়া মুখ কাচুমাচু করে বসে আছে। মাঝে মাঝে রাহাদের সামনে লজ্জা পাওয়ার মতো করে মাথা নিচু করছে।

পঞ্চম বক্সটা খুলতেই রাহাদ লাফিয়ে দূরে সরে গেলো। সেটা ভর্তি ছিলো কিছু তেলাপোকায়। যার প্রত্যেকটার হাত পা, ডানা ভাঙা। তার শুধু কিলবিল করছিলো বক্সটার ভেতরে।

রুদ্রর হাসি আরও বাড়লো। রাহাদ মুখ ছোট করে তাকালো হিয়ার দিকে, যে এখন হাত জোর করে তাকিয়ে আছে রাহাদের দিকে।

"আগে বললেই তো পারতেন ভাবি, এটা আপনার ওগোর জন্য ইশপেশাল খাবার। তাহলে আর আমি লোভ দিতাম না। এখন তো আপনি আমার খাওয়াটাও হারাম করে দিলেন ভাবী।

"সরি ভাইয়া!" হিয়ার মুখটা একেবারেই কাচুমাচু। যেন এখনই লজ্জায় কান্না করে দিবে সে।

#চলবে~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন