ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে ছিলো অন্যরকম

১৩তম পর্ব

লেখক: পুষ্পিতা মেহরীন তিশা

#সে_ছিলো_অন্যরকম

#পুষ্পিতা_মেহরীন_তিশা

#পর্ব- ১৩

সন্ধ্যা ৭টা বাজে এখন। রুদ্র ব্যালকনিতে বসে ল্যাপটপে কাজ করছে। হিয়া রুমে বসে রুদ্রর ফোন স্ক্রল করছে। মেয়েটার নিজস্ব কোনো স্মার্ট নেই। রুদ্রই রাখতে দেয়নি। দিয়েছে একটা বাটন ফোন, সেটাতে কখনো ব্যালেন্স থাকে না। রুদ্র কখনো তাতে ব্যালেন্স দেয় না। যদি কেউ কল দেয়, কবল তখনই হিয়া কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারে। নয়তো না।

হিয়ার মাঝে মাঝে মনে হয়, যেন সে কলা গাছে গলায় দড়ি দেয়। কিন্তু যদি সত্যি সত্যি ফাঁস এঁটে যায়?

-

নাহ! এখন আর ফোন ঘাঁটতেও ভালো লাগছে না হিয়ার। এর থেকে তো সে, রুদ্রর পেছনে লেগে শান্তি পায়। মনটা চাইছে, এখন তার বরকে একটু জ্বালাতে। যেই ভাবা সেই কাজ। হিয়া নিচে গিয়ে রুদ্র র জন্য এক কাপ কফি বানালো।

"এই নাও তোমার কফি!"

কফির কাপ হিয়া টি-টেবিলের ওপর এতোটা জোরে রাখলো। যে ঠক করে একটা আওয়াজ হলো। যেটাতে রুদ্র ল্যাপটপ থেকে চোখ উঠিয়ে তার দিকে তাকালো একবার। রুদ্রর দৃষ্টি শীতল। হিয়া তাকে মুখ ভেংচি দিলো। এরপর তার সামনের ডিভানে বসে পড়লো।

রুদ্র তাতে কোনো হেলদোল না করে আবার ল্যাপটপে মনোযোগ দিলো। বিষয়টা যেন হিয়ার কাছে অপমানজনক লাগলো। সে রুদ্রর অগোচরে দাঁত কিড়মিড় করে তাকে কয়েকটা গালাগাল দিলো। এরপর গম্ভীর স্বরে বলল,,

"আজকে রাহাদ ভাইয়ার সাথে যে কাজটা হয়েছে, একদম ঠিক হয়নি। লজ্জায় আমার মাথা কাটা গেছে। তুমি ভাইয়াকে একদিন বাসায় দাওয়াত দিয়ো, তাকে ইচ্ছা মতো রান্না করে খাওয়াবো। তাতে যদি মান-সম্মান টা একটু রিকোভারি হয়।"

রুদ্র তাতেও কোনো হেলদোল করলো না। ভাব এমন যেন সে হিয়ার কথাগুলো শুনতেই পায়নি। এটা যেন হিয়ার আরও ইগোতে লাগলো। সে উঠে দাঁড়িয়ে, কোমরে হাত বেধে একটু চিৎকার করে বলল,,

"তুমি কি শুনতে পাচ্ছো? আমার কথা কানে যাচ্ছে তোমার?নাকি কানটা ওই লারার কাছে ফেলে এসেছো?"

রুদ্র এবারেও তার দিকে তাকালো না। ল্যাপটপে আঙুল চালাতে চালাতে শান্ত স্বরে বলল,,

"কোথায় গিয়েছিলে আজ?"

"মানে?" অবাক হয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল হিয়া। যেন সে গাছ থেকে পড়লো।

"বলেছি! আজ অফিসের যাওয়ার আগে কোথায় গেয়েছিলে?"

হিয়া একটা তপ্ত শ্বাস ফেলে, নাকের ঢগা ফুলিয়ে বলল,, "কোথায় যাবো?"

"ক্যাফের ছেলেটা কে ছিলো? আহনাফ?"

রুদ্রর কণ্ঠ এখনো শীতল। সে ল্যাপটপে আঙুল চালাতে চালাতে শান্ত স্বরে কথাগুলো বলছে। ওদিকে, হিয়ার চক্ষু চড়কগাছ হলো। সে গোলগোল করে তাকালো রুদ্রর দিকে। হ্যাঁ, আজ সে রুদ্রর অফিসে যাওয়ার পথে তার একজন পুরনো বন্ধুর সাথে দেখা হয়েছিলো। আর না চাইতেও, হিয়াকে তার সাথে ক্যাফেতে যেতে হয়েছিলো। কিন্তু, এটা রুদ্র কিভাবে জানলো?

"আমি কিছু জিজ্ঞেস করেছি তোমাকে?"

হিয়া আমতা আমতা শুরু করলে, রুদ্র আবারো বললো,,

"ছেলেটা কে ছিলো? আহনাফ? হ্যাঁ বা না তে উত্তর দাও! এক্সট্রা কিছু শুনতে চাচ্ছি না।"

হিয়ার হাত-পা শীতল হয়ে আসছে। রুদ্র এই শান্ত স্বর তাকে আরো বেশি ভয় দিচ্ছে। সে কোনোমতে ভাঙা গলায় বলল,,

"হ্যাঁ! কিন্তু... "

হিয়ার হ্যাঁ টা বলতে দেরী হলেও, তার মুখে কফিটা ছুড়ে মারতে রুদ্রর এক সেকেন্ড ও দেরী হলো না। হিয়ার পুরা কথাটা বলার আগেই, রুদ্র ডিভান থেকে উঠে, হিয়ার মাত্র আনা কফিটা তার মুখে ছুড়ে মারলো। হিয়া খিঁচে চোখ বন্ধ করে নিলো। মনে মনে বলল,,

"ভাগ্যিস কোল্ড কফি এনেছিলাম! নয়তো এতো সময়ে তো আমি অক্কা পেতাম!!

হিয়ার মুখ থেকে কফি ফোঁটা ফোঁটা বেয়ে পড়ছে। সে কোনোমতে চোখ খুলে তাকালো রুদ্রর দিকে। রুদ্রর শরীর কাঁপছে। অতিরিক্ত রেগে গেলে এমন হয় তার সাথে।

"তোমাকে আমি বাসা থেকে বের হতেই নিষেধ করেছিলাম। আর তুমি কিনা সেখানে তোমার পুরনো প্রেমিকের সাথে ক্যাফেতে গিয়েছো? এতো সাহস বেড়েছে তোমার? আমার খেয়ে, আমার পরে, আমার টাকায় তোমার প্রেমিকের সাথে কফি খেতে গেছিলে তুমি? তোমার সাহস দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি আমি!"

হিয়া কোনো জবাব দিলো না। সে শান্ত একেবারে স্বাভাবিক সে। রুদ্র নিজের কপালে হাত দিলো। মুখ গোল করে বড়ো বড়ো কয়েকটা শ্বাস ছাড়লো। এরপরে হিয়ার বাহু চেপে ধরে তাকে ঠেলতে ঠেলতে দেওয়ালের সাথে পিষে ধরলো। রাগী স্বরে পাগলের মতো করে বলতে লাগলো,,

"কেন গেছিলে ওই জাওরার কাছে? বলো কেন গেছিলে? আমার মারার প্লান করতে গিয়েছিলে নাকি? এবারে আমার কোথায় কোথায় ছুরি চালাবি সেই প্লান করতে গিয়েছিলে? কিভাবে মারবে আমার সন্তা...."

আর বললো না রুদ্র থেমে গেলো। দূরে চলে আসলো হিয়ার দিকে। কিন্তু, হিয়া সেখানেই দাড়িয়ে রইল। রুদ্র পরপর কয়েক বার আঘাত করলো ওয়ালে। ডান হাতের উল্টো দিকটা থেঁতলে গেলো তাতে। হালকা রক্ত ও বের হতে শুরু করলো। সে ছুটে গেলো হিয়ার কাছে। ছুলে যাওয়া হাত দিয়ে, হিয়ার চোয়ালটা চেপে ধরলো খুব জোরে। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,

"মুক্তি চাই তোমার? বলো, মুক্তি চাই তোমার আমার থেকে? আমাকে খুন করে ঘর বাঁধবে ওই আহনাফের সাথে? সেই প্লান করতে গেছিলে? পুরনো প্রেম জেগে উঠেছে তোমার ভেতরে? কি হলো কথা বল! কথা বলছো না কেন হিয়া?"

শেষ কথাটা রুদ্র স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক জোরে বলল। আর হিয়াকে ঘুরিয়ে ধাক্কা দিলো। যার ফলে, ওয়ালের সাথে লেগে হিয়ার কপাল কিছুটা কেটে গেলো।

রুদ্র পাগলের মতো গিয়ে ঘরের এক একটা জিনিস ভাঙতে শুরু করলো। হিয়া কিছুই বললো না। সে এখনো স্বাভাবিক। স্বাভাবিক ভাবেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো হিয়া।

আর রুদ্র মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো বেডের ওপর। ভাবতে শুরু করলো, আজকে আহনাফ আর হিয়ার দেখা করার কথাটা।

হিয়ার অগোচরে রুদ্র এই পুরো বাড়িতে কিছু হিডেন ক্যামেরা লাগিয়েছে। যেটার মাধ্যমে সে অফিসে বসে হিয়ার ওপর নজর রাখে। সাধারণত, হিয়া বাসা থেকে বের হয় না কখনো। কিন্তু, আজ যখন হিয়া বাসা থেকে সেজেগুজে বের হলো। ল্যাপটপে সেটা দেখে রুদ্রর কপালে ভাজ পড়লো। সে সাথে সাথে তার একজন লোককে কল করে, হিয়ার ওপর নজর রাখতে বললো।

-

রুদ্রর অফিসে যাওয়ার পথে, হিয়া যখন পানি কিনতে গাড়ি থেকে নামে। তখন দূর থেকে একটা তাকে দেখে ডেকে উঠে। হিয়া হয়তো প্রথমে তার ডাকটা শুনতে পায়নি। কিন্তু, সে যখন পানি নিয়ে গাড়ির সামনে এলো। তখন গাড়ির দরজা খেলার আগেই তার সামনে একটা ছেলে দৌড়ে এলো।

ছেলেটা প্রায় ছয় ফুট লম্বা হবে। গড়ন ফিট খুব আকর্ষণীয়। গায়ের রং হালকা শ্যামলা, গভীর চোখ দুটির মণি একেবারে কালো কুচকুচে। ঘন কালো চুলগুলো এলোমেলোভাবে পড়ে আছে কপালের ওপর। ঠোঁটে হালকা হাসি, যেটাতে গালের একপাশে ছোট্ট একটা টোল পড়েছে। ছেলেটা মিষ্টি হেঁসে হিয়াকে বলল,,

"এই হিয়া! তোমাকে সেই কখন থেকে ডাকছি শুনতে পাওনি নাকি?"

হিয়া যেন ছেলেটাকে দেখে বেশ আশ্চর্য হলো সেই সাথে খুশিও। হিয়া মুখ হা করে, হাত দিয়ে ঢাকলো। উচ্চ হেঁসে বলল,,

"আহনাফ ভাই আপনি? আপনি দেশে কবে এসেছেন? আর ঢাকাতেই বা কবে এলেন?"

"এতো প্রশ্ন একসাথে করলে কোনটার উত্তর আগে দিবো বলো? যাইহোক, তুমি কিন্তু খুব চিকনা হয়ে গেছো হিয়া। আগে কতো গুলুমুলু ছিলে!"

"সে তো আপনিও অনেক হ্যান্ডসাম হয়ে গেছেন আহনাফ ভাই!"

"ওমা! তাই নাকি?" কৌতুক সুরে বলল আহনাফ। হিয়া হেঁসে ফেললো তাতে।

"আচ্ছা হিয়া! তুমি একা?রুদ্র কোথায়? কি খবর তার? সব ঠিক হয়েছে তোমাদের মাঝে? নাকি রুদ্র এখনো তোমাকে দোষারোপ করে?"

হিয়ার মুখটা একটু কাচুমাচু হয়ে গেলো। তাকে আমতা আমতা করতে দেখে আহনাফ বলল,,

"আচ্ছা, চলো আমরা কোথাও বসে কথা বলি! বেশ অনেকদিন পর তোমার সাথে দেখা হলো। একটু কথা তো বলতেই পারি তাই না?"

হিয়া আমতা আমতা করলো। তাকে তো রুদ্রর অফিসে যেতে হবে,,

"আসলে আহনাফ ভাই..."

"আমি কিন্তু, কোনো না শুনতে চাই না হিয়া। খুব বেশি সময় নিবো না তোমার। মাত্র ৫মিনিট দিলেই হবে।"

হিয়া আর কিছু বলতে পারলো না। কাছেপিঠেই একটা ক্যাফেতে গেলো আহনাফের সাথে। সেখানেই কথা বলতে বলতে আহনাফ এক পর্যায়ে হিয়াকে বলল,,

"দেখো হিয়া! জীবনটা এতো সহজ না। বাস্তবতা বড়োই কঠিন! সেদিন তোমার সিদ্ধান্তে আমি তোমাকে ছেড়ে বিদেশে চলে গেছিলাম। কিন্তু, তার মানে এই না। আমি তোমাকে ছেড়ে দিয়েছি। তুমি যদি কখনো মনে করো, এভাবে থাকতে তোমার কষ্ট হচ্ছে, তুমি পারছো না মানিয়ে নিতে! সব ভুলে তুমি জীবনে শান্তি চাও, তাহলে জাস্ট একবার আমাকে বইলো! আমি কথা দিচ্ছি, তুমি জীবন টাকে যেভাবে চাও! আমি তোমার জীবনটা সেভাবে করল দিবো। প্রয়োজনে আমার জান দিয়ে হলেও!!"

হিয়া কেমন করে জানি হেঁসেছিলো আহনাফের কথায়। শান্তস্বরে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেছিলো।

"শান্তি? সেটা তো আমি রুদ্রর মাঝে পাই আহনাফ ভাই! বিশ্বাস করেন, ও যতোই আমাকে অবহেলা, যতোই কষ্ট দিক আমি না কখনো ওর ওপর রাগ করে থাকতে পারি না। ওর মুখটা দেখলেই আমার সুখ লাগে। ওর হাসির কাছে আমার সব কষ্ট ফিকে মনে হয় আহনাফ ভাই। যেখানে, ওকে ছাড়া আমি এক মুহুর্তও খুশি থাকতে পারি না! সেখানে ওকে ছেড়ে বাকি জীবন শান্তিতে কাটাতে চাওয়া তো বিলাসিতা!

" আল্লাহর কাছে দোয়া করি! এমন দিন কখনো না আসুক, যখন রুদ্রকে ছেড়ে আমি অন্য কোথাও শান্তি খুঁজতে চাইবো!"

হিয়া আর দাঁড়ায়নি সেখানে। গটগট করে হেঁটে বেরিৈ গেছিলো। অন্যদিকে আহনাফের চোখটা সজল হয়ে উঠেছিলো।

-

আর এতো সময় তাদের এই সব কান্ড অফিসে বসে ভিডিও কলে দেখছিলো রুদ্র। তার ঠিক করা লোকটা তাকে পাই টু পাই সবটা দেখিয়েছে ভিডিও কলে। হিয়ার সাথে আহনাফের সাথে হিয়াকে এভাবে হেঁসে কথা বলতে দেখেই, রুদ্রর মাথা ব্যাথাটা তখনই বেড়ে গিয়েছিলো।

রুদ্র চাইলে, অফিসেই হিয়ার ওপরে রাগটা ঝাড়তে পারতো। কিন্তু, সে চায়নি অফিসে সবার মাঝে সিনক্রিয়েট করতে, হিয়াকে অপমান করতে। অনেক কষ্টে সে তখন নিজেকে সামলেছিলো, সেই সাথে সামলেছিলো হিয়ার উদ্ভট কর্মকান্ডকে।

-

রুদ্রর ভাবনায় ছেদ পড়লো, যখন ছুঁড়ে আসা একটা কোল্ড কফি তার মুখ থেকে গলা অবদি ভিজিয়ে দিলো। সে চোখ তুলে তাকালো সামনে। সেখানে হিয়া দাড়িয়ে আছে কফি কাপ হাতে।

হিয়া রুদ্রকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই গর্জে উঠে বললো,,

"মিস্টার রুদ্রনীল চৌধুরী! তুমি শুধু আমাকে আহনাফের সাথে ক্যাফেতে বসতে দেখেছো! তাকে হাগ করতে বা কিস করতে দেখোনি! তুমি আমাকে আহনাফের সাথে কথা বলতে দেখেছো, কিন্তু কি কথা বলেছি সেটা শোনোনি! তাহলে কিসের ভিত্তিতে ওই কথাগুলো বললে আমাকে??

হ্যাঁ, আমি মানছি অতীতে আহনাফের সাথে আমার কিছু ছিলো। কিন্তু সেটা এখন শুধুই অতীত। আমি ভুলে গেছি সেসব। তুমি ভুলতে পারো নি, সেটা একান্তই তোমার ব্যাপার। কিন্তু, তোমার সেই একান্ত ব্যাপারের জন্য, তুমি যে কথায় কথায় আমাকে অপমান করবে সেটা কিন্তু আমি নিবো না রুদ্র।

আর তাছাড়া, তুমি ভুলে যাচ্ছো কেন রুদ্র! তুমিও কিন্তু কোনো সাধু পুরুষ নও। আমি যেটা করেছি সেটা বিয়ের আগে করেছি। কিন্তু, তুমি যেটা করছো সেটা? তুমি কি ভেবেছো লারার কথা আমি জানি না? ওই মেয়ে যে তোমাকে হুটহাট টাচ করে, হাগ করে তুমি কি কখনো তার প্রতিবাদ করেছো? উল্টো তার মজা নিয়েছো! তাহলে, কোন অধিকারে তুমি আমাকে অপবাদ দিতে আসো? মানে বিষয়টা এমন হলো না, চালন বলছে সুচ কে তোর পাছায় ছিদ্র কেন? অথচ, চালন নিজেই ভুলে গেছে তার পাছায় ছিদ্রর অভাব নাই! ভুলে যেও না আমি মেহজা...."

হিয়া আর কথাটা শেষ করতে পারলো না। তার আগেই রুদ্র তার মুখে থাকা কোল্ড কফি টুকু, খুব সময় নিয়ে ধীরে ধীরে কুলি করে মারলো হিয়ার মুখে। হিয়া ঠোঁট-চোখ বন্ধ করে নিলো খিঁচে।

"তোমার জ্ঞান শেষ হলে, যাও এখানে থেকে।"

হিয়া দ্রুত ওয়াশরুমে গিয়ে মুখ ধুয়ে আসলো। ততোক্ষণে রুদ্র শুয়ে পড়েছে। হিয়া ছুটে আসলো তার কাছে। কোমরে হাত রেখে বলল,,

"আমার কথাগুলোকে জ্ঞান মনে হলো তোমার?"

"আপাতত, এটা ছাড়া আর কিছুই মনে করতে পারছি না।"

হিয়া কিছু বলার আগে, রুদ্র চোখের ওপর হাতটা আড়াআড়ি ভাবে রেখে বললো,

"লাইটটা অফ করে দিয়ে আসো। ঘুমাবো আমি, ঘুম পাচ্ছে খুব!"

হিয়া গেলো না। গর্জে বলল,,

"এখন কেন ঘুম পাচ্ছে? যেই নিজের দোষ গুলো সামনে আসলো ওমনি ঘুম পেয়ে গেলো তাই না? ভালোই নাটক জানো তুমি?"

"তাহলে মেরিল প্রথম আলো এওয়ার্ড টা দাও আমাকে!"

"তুমি কথা ঘোরাচ্ছ রুদ্র!"

"লারা আমাকে শুধু ওর বন্ধু হিসেবে হাগ দিয়েছে। এছাড়া ওর মনে তেমন কোনো ফিল নাই। আর ওর সাথে নিশ্চয়ই আমার বিয়ে ঠিক হয়নি, আর তুমিও আমাকে ছাদনা তলা থেকে তুলে আনো নাই!"

"তুমি কি ওই লারার মনটা পড়ে দেখেছো নাকি? যে সেখানে কি ফিল আছে আর কি ফিল নেই?"

রুদ্র তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো।

"এখনো তো তোমার মনটাই পড়ে উঠতে পারলাম না। তাহলে অন্যদের টা পড়বো কখন? সময়ের ও তো একটা ব্যাপার আছে নাকি? লাইট টা অফ করো ঘুমাবো আমি!"

"পারবো না!" কাটা উত্তর দিলো হিয়া। রুদ্র কোনো জবাব না দিয়ে নিজেই উঠলো লাইট অফ করতে। তবে তার আগেই হিয়া তার বাহু ধরে তাকে আটকে দিলো,,

"রুদ্র আমি তোমার সাথে কিছু কথা বলতে চাই!"

"কিন্তু, আমি চাই না।" তার বাহু থেকে হিয়ার হাতটা সরাতে সরাতে বলল রুদ্র।

"কেন?" কপাল কুঁচকে বলল হিয়া।

"কারণ, তুমি আমার বউ হোও!"

"মানে? ঠিক বুঝলাম না! তোমার কথাটা!" তাচ্ছিল্য সুরে বলল হিয়া।

"মানে তুমি আমার বউ হোও। সেক্ষেত্রে, আজকে আমি তোমাকে ডিভোর্স দিলে কালকে তুমি আমার জন্য পরনারী হয়ে যাবি। তাহলে, তোমার সাথে এতো গোপন কথা শেয়ার করে আমার লাভ কি? বলা যায় না, দেখা গেলো ডিভোর্সের পর তুমি আমার গোপন কথাগুলোকে পাবলিক করে দিলে!"

হিয়ার চোখটা ছলছল করে উঠলো। সে ঢপ করে বসে পড়লো বিছানায়। অশ্রুচোখে তাকিয়ে, শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করলো,

"তারমানে, তুমি কি আমাকে ডিভোর্স দিতে চাইছো?"

"এখনো ভাবিনি। তোমাকে আমি যে উদ্দেশ্য বিয়ে করেছিলাম, সেটা আমি চরিতার্থ করতে পারছি না। মানে তুমি-ই করতে দিচ্ছো না। তাহলে তোমাকে রেখে আমার লাভ কি বলো? আছে কোনো লাভ?"

হিয়া কিছু সময় চুপ থাকলো। ততোক্ষণে, রুদ্র লাইট অফ করে শুয়ে পড়েছে। হিয়া হুট করেই, হিয়া রুদ্রর চুল ধরে তাকে টেনে উঠালো। অধিকার নিয়ে বললো,,

"লাভ হবে কি লোকসান হবে সেটা আমি বুঝে নিবো। লিসেন, রুদ্র তুমি আমাকে বিয়ে করেছো মানে- তুমি আমার! শুধুই আমার। তোমাকে ছেড়ে যেতে আমি আসিনি। না তো তুমি আমাকে ছেড়ে দিবে, এটা আমি মানবো। আজ প্রথম বার ডিভোর্সের কথা বলেছো তাই কিছু বললাম না। ফারদার এমব কথা বললে, আই Swear, তোমার মাথাটা আমি বডি থেকেই আলাদা করে দিবো।~

#চলবে~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন