ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে ছিলো অন্যরকম

২২তম পর্ব

লেখক: পুষ্পিতা মেহরীন তিশা

#সে_ছিলো_অন্যরকম🥀

#পুষ্পিতা_মেহরীন_তিশা

#পর্ব- ২২

বিকাল নাগাদ...পার্কের এক কোণায় গোল হয়ে জোট বেঁধে বসে আছে, রুদ্র, মোমো, আহনাফ সহ তাদের আরো কিছু বন্ধু-বান্ধব। সবাই একে-অন্যের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। হাসাহাসি করছে। শুধু রুদ্র-ই মুখটা মলিন করে রেখেছে। আড়চোখে বারবার আহনাফের দিকে তাকাচ্ছে। যে এই মুহুর্তে বারবার কাউকে কলে ট্রাই করছে। হয়তো হিয়াকেই কল করছে সে।

বিষয়টা বুঝতেই রুদ্র মুখ কালো করে মোমোকে জিজ্ঞেস করলো,,

"মোমো আপু! হিয়া কখন আসবে? আর কতো সময় ওয়েট করবো আমরা?"

"হু'মম! এতো সময় তো চলে আসার কথা। এতো কেন লেট হচ্ছে আমিও বুঝতে পারছি না!"

পাশে থেকে সৌরভ একটু দুষ্টামি করে বলল,,

"দেখ, তোর বান্ধবীর হয়তো অটো হয়ে গেছে। বদনা রাখার টাইম পাচ্ছে না। তাই পার্কেও আসতে পারছে না।"

সৌরভের এমন কথায় ছোট-খাটো একটা হাসির রোল পড়লো সেখানে। তবে মোমো জ্বলে উঠলো তেলে-বেগুনে। চেতে গিয়ে বলল,,

"তুমি শালা চুপ করো। নয়তো তোমার ওই লুঙ্গির নিচে আমি ইদুর ছেড়ে দৌড় দিবো।"

"লুঙ্গি পরেছি বলে অপমান করলি নাকি? ভুলে যাস না, তোদের পাকনামির কারণেই আমি প্যান্ট পরার টাইম পায়নি।"

মোমো মুখ ভেংচি দিলো। আর এভাবেই ছোটো-খাটো একটা ঝগড়া শুরু করলো। তবে এসবে পাত্তা দিলো না রুদ্র। সে তো নিজের খেয়ালে ডুবে ভাবছে—

'হিয়া তো বলেছিলে তাকে কোনো সারপ্রাইজ দিবে। তাহলে, এখানে আহনাফ কে ডাকলো কেন? আর এতো মানুষই বা কেন আসলো? আচ্ছা হিয়া কি তার আর আহনাফের নতুন সম্পর্কের জন্য এখানে সবাইকে ডেকেছে? সে কি এখানে আহনাফকে......'

নাহ আর কিছু ভাবতে পারলো না রুদ্র। চোখ বন্ধ করে মাথা ঝাড়া দিলো। দ্রুত পায়ে উঠে দাড়ালো বসা থেকে। তাকে এভাবে উঠতে দেখে সবার দৃষ্টি গেলো তার দিকে। মোমো বলে উঠলো,,

"কি হলো রুদ্র ভাইয়া! আপনি এভাবে উঠে পড়লেন যে। কোনো সমস্যা?"

"আ...আমার আসলে কিছু দরকারী কাজের কথা মনে পড়লো আপু। আই থিংক আমাকে এবার যেতে হবে!"

আহনাফ : আরে চলে যাবে মানে! কিন্তু, হিয়া তো এখনো আসিনি!"

"হিয়ার জন্য তো আপনি আছেন আহনাফ ভাই! আমি বরং যাই!"

পাশ থেকে কেউ কেউ রুদ্র কে ডেকে উঠলো। তবে সে তাদের কথায় সাড়া না দিয়ে, যাওয়ার জন্য পেছন ঘুরলো। আর সামনে তাকাতেই থমকে গেলো—

তার থেকে একহাত দূরে। হাতে এক গুচ্ছ তুলিপ ফুল নিয়ে এক হাঁটু ভেঙে হিয়া বসে আছে। পরণে, পিংক রঙের একটা গোলাপি ফ্লেয়ার ড্রেস। কোমর অবদি চুলগুলো এক সাইডে ছেড়ে রাখা। যেটা এই মুহূর্তে তার চোখে-মুখে আচঁড়ে পড়ছে। মুখে হালকা প্রসাধনী আর চোখে গাঢ় কাজল টানা। মুখে সেই চিরচেনা মায়াবী হাসি।

সে একহাতে তুলিপ গুলো এগিয়ে দিলো রুদ্রর দিকে। ঠোঁটের কোণে হাসি রেখে, কোমল কন্ঠে বলল,,

~`তোমার একটি মাত্র হাসি— আর আমি রোজ তোমাকে নতুন করে ভালোবাসি!~

~`তোমার একটি মাত্র চিরচেনা মুখ— আর আমি তাতেই খুঁজি পৃথিবীর সকল সুখ!~

~`আর তোমার হাতে হাত রেখেই যেতে চাই বহুদূর... 'Will you be my BoyFriend. Rudi boy?'

রুদ্র চোখ বড়ো বড়ো করে থমকালো। অবাক হয়ে পিছিয়ে গেলো কয়েকপা। হাত-পা অবশ হয়ে আসছে তার, যেন দাড়িয়ে থাকাটাই দায়! জোরে জোরে শ্বাস-প্রশ্বাস নিলো সে। নিশ্বাস যেন আঁটকে আসছে তার।

অন্য দিকে বাকিরা ফোনের ক্যামেরা অন করে ভিডিও করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। হিয়ার প্রপোজাল শেষে উচ্চ হেঁসে হাতে তালি দিলো সবাই। রুদ্রকে সাহস দিলো কিছু বলার জন্য।

রুদ্র সময় নিয়ে শান্ত হলো। কয়েকটা ঢোল গিলে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,,

"হিয়া... তুত..তুমি? কিন্তু, কিন্তু আহনাফ ভাই...?"

রুদ্রর কথায় আহনাফ এগিয়ে এলো। রুদ্রর কাঁধে হাত রেখে মলিন স্বরে বলল,,

"ও আমাকে রিফিউজ করেছে। তোমাকে পাওয়ার জন্য। ওর মনে শুধু রুদ্রর অস্তিত্ব আছে! আহনাফ কোথাও নেই!"

রুদ্র ছলছল চোখে তাকালো আহনাফের দিকে। কয়েক সেকেন্ড পর পা বাড়ালো সামনের দিকে। হিয়ার একেবারে সামনে এসে দাঁড়ালো। হিয়া তখনো হাঁটু গেড়ে বসা, মুখে মিষ্টি হাসি।

'Will you be my Forever?'

রুদ্র চোখের পানি ছাড়লো না। ঠোঁট কামড়ে ধরে রাখলো। যেন আবেগ লুকানোর মিথ্যা চেষ্টা। কাঁপা গলায় বলল,,

"সবটা কেমন কল্পনা কল্পনা লাগছে!"

"কল্পনা থেকে বের হয়ে আসুন! আর আমার প্রোপোজাল একসেপ্ট করুন! মিস্টার.. "

রুদ্র কাঁপা হাতে হিয়ার থেকে তুলিপ গুলো নিলো। সময় নিয়ে হিয়াও উঠে দাঁড়ালো। রুদ্র কিছু সময় ফুলগুলোতে হাত বোলালো। হিয়া ঠোঁট উল্টিয়ে বলল,,

"ফুল ভালো লেগেছে..ফুলের মালিক কে নয়?"

রুদ্র হাসলো। বেশ অনেক হাসলো। তবে শব্দহীন। এরপরে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,,

"তো..তোমাকে একটু..একটু ছুঁয়ে দেখি?"

রুদ্রর কথায় হিয়া নিচের ঠোঁট কামড়ে লাজুক হাসলো। দৃষ্টি নামিয়ে হালকা হেঁসে বলল,,

"আমি কি নিষেধ করেছি?"

রুদ্র আবারো ঠোঁট প্রসারিত করে হাসলো। সঙ্গে সঙ্গে চোখের পানি গাল গড়িয়ে পড়লো। ছোট্ট একটা শব্দ হলো তার হাসিতে। সে সময় নিয়ে আস্তে করে ডান হাতটা উঠালো। আশে পাশে যে এতো মানুষ আছে, সেদিকে যেন এই মুহুর্তে রুদ্রর কোনো খেয়াল নেই।

সে কাঁপা হাতটা রাখলো হিয়ার ডান চোয়ালে। হিয়া আবেশে চোখটা বন্ধ করে নিলো। মনের ভেতর কেমন এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরী হলো তার। মনে হচ্ছে যেন এখনই দমটা আঁটকে আসবে। চোখ বন্ধ অবস্থায় একটা লম্বা একটা শ্বাস নিলো হিয়া। খেয়াল করে দেখলো, নিজের বুকের ধুকপুকানি সে নিজেই শুনতে পাচ্ছে। তলপেটে যেন তার প্রজাপতি নিত্য করছে। কি অদ্ভুত শিহরণ হচ্ছে তার। এই শিহরণের নাম কি?

হিয়া নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলো,,

"আচ্ছা, প্রিয় মানুষের প্রথম ছোঁয়ায় কি সবারই এমন বেহাল দশা হয়?"

তবে ভেতর থেকে উত্তর আসার আগেই হিয়া চট করে চোখ খুললো। এতো সময়ের হওয়া শিহরণ গুলো যেন ছুটে পালালো। এক ঝটকায় রুদ্রর হাতটা চোয়াল থেকে সরিয়ে দিলো সে। হাত মুষ্টি করে দাঁত চেপে জোরে শ্বাস ছাড়লো সে। রুদ্রর দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে, হালকা শাসনের সুরে বলল,,

"এভাবে কেউ ছুঁয়ে দেখে? ইডিয়ট!"

হিয়ার এমন ব্যবহারে রুদ্র যেন গাছ থেকে পড়লো। থতমত মুখে চেয়ে রইলো হিয়ার দিকে। বোকা সুরে জিজ্ঞেস করলো,,

"তাত..তাহলে..?

হিয়া ঠোঁট কামড়ে ফিক করে হেঁসে দিলো। এক ঝটকায় রুদ্রকে নিজের খুব কাছে টেনে নিলো। থুতনিতে টুপ করে একটা চুমু দিয়ে, দু'হাতে জড়িয়ে ধরলো রুদ্রকে। রুদ্রর বুকে মাথা গুঁজতে গুঁজতে ফিসফিসিয়ে বলল,

"এভাবে ছুঁয়ে দেখতে হয়!"

হিয়ার কাণ্ডে রুদ্রর মুখটা হা হয়ে গেলো। সে অবাক তো হলো, তবে অবাকত্ব টা প্রকাশ করার সময় পেলো না। তার আগেই....

হিয়ার বন্ধু-বান্ধব গুলো, যারা এই মুহুর্তে মুখে হাত দিয়ে মুখটা ঢেকে রেখেছে। তারা আঙুলের ফাকা দিয়ে চোখ বের করে বলল,,

"ভাই! আমরা তো আছি। আমাদের কে একটু মান্যি কর!"

"এভাবে ডেকে এনে লজ্জা না দিলেও পারতি হিয়া!"

"তুই বুঝিয়ে দিলি, আমরা নিরামিষ সিঙ্গেল আর তুই হলি টাটকা ইলিশের মিঙ্গেল!"

তাদের কথায় লজ্জা পেয়ে হিয়া রুদ্রর বুকে মুখ লুকাবে কি। রুদ্রই হিয়ার ওড়নার নিচে মুখ লুকালো। হিয়া তার বন্ধুদের কিছু বলার জন্য মুখ খুললো ঠিকই তবে সেই মুখটা আর বন্ধ করতে পারলো না। সে যেন অবাক হতেও ভুলে গেলো। কিছু সময় পর নিজের কপালে থাপ্পড় দিলো সে। রাগে ফুসতে ফুসতে বলল,,

"একটা মানুষ ঠিক কোন লেভেলের গর্দভ হলে, গার্লফ্রেন্ড কে আগলা করে নিজের মুখ ওড়নায় ঢাকে।"

হিয়ার সাথে তার বন্ধুগুলোও অবাক হলো রুদ্রর কাজে। তবে কেউ হাসালো না। হিয়া কোমরে হাত রেখে গম্ভীর কিন্তু শান্ত স্বরে বলল,,

"রুদ্র তোমার লজ্জা লাগছে? তুমি লজ্জা পেয়েছো ওদের কথায়?"

রুদ্র একটা ঢোক গিলে উপর-নীচ মাথা নাড়লো। হিয়া রাগে গিজগিজ করে কয়েকটা শ্বাস ছাড়লো। এরপর গটগট করে হেঁটে গেলো তার বন্ধু দের সামনে। জিহবা দিয়ে ডান গাল ঠেলে সৌরভের উদ্দেশ্য বলল,,

"ভেতরে কিছু আছে?"

"মানে?" সৌরভ ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো। হিয়া কোমরে একহাত রেখে পূর্বের ন্যায় শক্ত হয়ে বলল,,

"বলেছি! লুঙ্গির নিচে কিছু আছে? নাকি শুধু ওটা পরেই চলে এসেছিস?"

সৌরভ মুখ কুঁচকালো। কিছু বলার আগেই পাশ থেকে জয় বলল,,

"আরে আছে আছে। ওর লুঙ্গির নিচে সব সময় একটা হাফপ্যা..."

জয় তার কথা শেষ করার আগেই, কোনো রকম পূর্বাভাস ছাড়াই হিয়া সৌরভের পরণের লুঙ্গিটাকে একটানে খুলে নিলো। সৌরভ ছোটো-খাটো একটা চিৎকার দিয়ে হাত দিয়ে ইজ্জত ঢাকলো। আশেপাশে সবাই চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো তার দিকে।

হিয়া সৌরভের লুঙ্গিটাকে এনে রুদ্রর মাথার ওপর দিয়ে ফেলে দিলো। রুদ্রকে চেপে ধরে বসিয়ে দিলো ঘাসের ওপর। এরপর লুঙ্গিটা দিয়ে ভালো করে রুদ্রর মুখটা ঢেকে দিয়ে বলল,,

"নে আড়াল করে দিলাম তোর লজ্জাকে। বস্ত্র হরণ করেছিলাম তোর- লুঙ্গি দিয়ে ঢেকে দিলাম তোর ইজ্জত! এবার এভাবেই এখানে বসে থাক। মুখ আড়াল করে!"

হিয়া আর মুহুর্তেও দাঁড়ালো না সেখানে। মোমোর হাতটা ধরে গটগট করে হেঁটে চলল সামনে। অন্য দিকে রুদ্র তার হা হওয়া মুখটা বন্ধ করে তাকালো সৌরভের দিকে। যাকে হাফপ্যান্ট পড়া অবস্থায় দেখে বাকিরা হেঁসে লুটোপুটি খাচ্ছে। সৌরভ বিরক্ত গলায় রুদ্র কে বলল,,

"কিরে! দুলাবাঈ লুঙ্গিটা কি দিবেন? নাকি গফ বলেছে বলে ওটা মাথায় নিয়েই ঘুরবেন?"

-

সেদিন রাতে রুদ্র-হিয়া কারোরই আর ঘুম হলো না। রুদ্র ঘুমাতে পারলো না, হিয়ার দেওয়া স্পর্শে! আর হিয়া ঘুমাতে পারলো না, রুদ্রর করা বোকামিতে। রুদ্র যেখানে হিয়ার প্রেম-স্পর্শ-চতুরতা ভেবে রাত কাটালো। হিয়া সেখানে রুদ্রর বোকামি-অবুঝতা আর সরলতার কথা ভেবে বিরক্তিতে মুখ কুঁচকালো।

হিয়া বিরক্ত হলো নিজের ওপর। সে কি নিজে থেকে একটু বেশিই করে ফেলেছে? পরক্ষনেই ভাবলো, বেশি কোথায় করলো সে?

-রুদ্র-ই সেই যে তার চোয়ালে তার রেখেছিলো, এরপরে সেখান থেকে হাতটা আর নাড়ালোই না। না-তে স্লাইড করছে আর না-তো কিছু বলছে। তাই তো হিয়া বিরক্ত হয়ে নিজেই তাকে হাগ দিলো। আর তাতেই যতো বিপত্তি বাঁধলো।

-

পরেরদিন....

হিয়া লাইব্রেরিতে কিছু বই সংগ্রহ করতে এসেছে। আর রুদ্র বোকার মতো তার পিছে পিছে ঘুরছে। বারবার সরি বলছে কিন্তু হিয়া কোনো রেসপন্স না করে নিজের কাজ করে যাচ্ছে। ঘুরে ঘুরে দেখছে তাকের বইগুলো। আর রুদ্র ঘুরছে তার পিছু পিছু।

"হিয়া আমার কথাটা তো শোনো। আমি সরি বলছি তো!"

"বিশ্বাস করো এটাই প্রথম আর এটাই শেষ বোকামি হবে। এরপর থেকে আমি আর কখনো এমন করবো না।"

"তুমি বললে, আমি কান ধরে উঠবস করছি দেখো। হিয়া একটা বার তাকাও না প্লিইইইইজ..!"

হিয়া তবুও কোনো রেসপন্স করলো না। ভাব এমন, যেন কেউ নেই এখানে। কোনো কথাই তার কানে আসছে না। রুদ্র এবারে একটু বিরক্ত হলো। একটু চেতে বলল,,

"এমন করছো কেন বলোতো? তুমি তো জানো, আমি বোকা। এসবে আমি অভ্যস্ত নই আমি! তাহলে, তুমি হঠাৎ সবার মাঝে জড়িয়ে ধরলে লজ্জা পাবো না তো কি করবো বলো? আমি কি আগে কখনো কাউকে জড়িয়ে ধরেছি...."

রুদ্রর কথা শেষ হওয়ার আগেই হিয়া ঘুরে দাঁড়ালো তার দিকে। হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে অভিমানী স্বরে বলল,,

"আর আমি এসবে খুউউব অভ্যস্ত! আমার সকাল শুরুই হয় ছেলেদের হাগ দিয়ে! এর আগে তো আমার ৩০৭টা বয়ফ্রেন্ড ছিলো জানো..? ২০৭জনকে আমি প্রপোজ করেছি.. ১০৫জনকে আমি নিজে থেকে হাগ করেছি! আর ৫৯ জনকে আমি কিস......"

হিয়া পুরো কথাটা বলার আগেই, রুদ্র হিয়ার ডান বাহু চেপে ধরে, তাকের সাথে লাগিয়ে দিলো। হিয়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই─ হিয়ার ঠোঁটে ঠোঁট ছুইয়ে দিলো।

নিস্তব্ধ হিয়ার চোখ দু'টো যেন কোটর ছেড়ে বের হয়ে আসতে চাইলো। মুখটা হা হয়ে বইটা আলতো ভাবে নিচে পড়ে গেলো। হিয়ার হৃৎস্পন্দন টাও যেন থেমে গেলো। পুরোপুরি পাথর মনে হলো তাকে।

কয়েক সেকেন্ড ওভাবেই থাকলো রুদ্র। এরপরে মুচকি হেঁসে ধীরে তার মুখটা হিয়ার কানের কাছে নিয়ে ফিসফিস করে বলল,,

"আ'ম সরি জান! এবারের মতো ক্ষমা করে দাও। নেক্সট টাইম আর এমন বোকামি করবো না। তোমার কসম!"

হিয়া আগের মতোই ফ্রিজ হয়ে রইলো। রুদ্র আলতো ভাবে হিয়ার চোয়ালে ঠোঁট ছোঁয়াল। হিয়া যেন অনেক সময় পর এবার দম ছাড়লো। হাসফাস করতে করতে বলল,,

"পা..পানি..পানি খাবো আমি। পানি...!"

রুদ্র চট করে ছেড়ে দিলো তাকে। ঘাবড়ে গিয়ে বলল,,

"তুমি পানি খাবে? আমি এক্ষুণি নিয়ে আসছি। একটু অপেক্ষা করো, আমি যাবো আর আসবো!"

-

কিছু সময় পর রুদ্র পানি আনলে, হিয়া লাইব্রেরি টেবিলের চেয়ারে বসে, আরাম করে পানিটা পান করলো। চুপচাপ কিছু একটা ভাবলো। রুদ্র ভয় নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,,

"হিয়া তুমি ঠিক আছো তো?"

হিয়া কোনো উত্তর দিলো না। অদ্ভুত চোখে তাকালো রুদ্রর দিকে। রুদ্র আবারো বলল,,

"কোনো সমস্যা হচ্ছে? ঠিক আছো তুমি?"

হিয়া যেন রুদ্রর কথা কানেই তুললো না। শান্ত চোখে জিজ্ঞেস করলো,,

"কি ছিলো ওটা..?"

"কোনটা?" ভ্রু কুঁচকে বলল রুদ্র।

"আমি রিপিট করবো?"

রুদ্র একটু ভাবলো। খেয়াল আসতেই জিহ্বা কামড়ে মাথা চুলকে বলল,,

"ওহ! কিসের কথা বলছো?"

হিয়া আরও এক ঢোক পানি খেয়ে নিলো। শান্ত স্বরে বলল,, "হুম!"

"আ..আমি সরি! ওটা আসলে আহনাফ ভাই শিখিয়ে দিয়েছিলো!"

রুদ্রর কথায় হিয়া যেন চেতে উঠলো। পানির গ্লাসটা একটু জোরে টেবিলের ওপর রাখলো। কপাল কুঁচকে হালকা চিল্লিয়ে বলল,,

"মানে?"

"আ..আসলে! কাল তুমি ওভাবে পার্ক থেকে চলে আসার পর। আহনাফ ভাই আমাকে অনেক সময় বুঝিয়েছিলো। আর বলেছিলো, যদি তুমি খুব বেশি রেগে যাও। আমাকে বকা দাও! তাহলে, আমি যেন তোমাকে কিস করে দেই। তুমি শান্ত হয়ে যাবে! আর দেখো সেটাই হলো। আহনাফ ভাইয়ের বুদ্ধি কাজে আসলো।"

"তারমানে, তোমার নিজের ভেতরে কোনো রোমাঞ্চ নেই। তুমি অন্যের রোমাঞ্চ ধার করে এনে আমাকে শান্ত করছো? আহনাফ না থাকলে, তোমার মেশিন অচল?"

দাঁত চেপে কথা গুলো বলল হিয়া। আর রুদ্র মুখ হা করে তাকালো তার দিকে। হিয়া টেবিল থেকে একটা বই তুলে ছুড়ে দিলো রুদ্রর মুখে। গটগট করে বেরিয়ে যেতে যেতে বলল,,

"দূরে গিয়ে মুড়ি খা শালা! প্রেম-পিরিতি তোর দ্বারা হবে না!"

#চলবে~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন