#সে_ছিলো_অন্যরকম🌱
#পুষ্পিতা_মেহরীন_তিশা
#পর্ব- ২৩
"কিরে হিয়্যু! তুই ইকা কিয়্যু? মেরা জিজু কাহা গেয়্যু?
মোমোর এমন আজব কথায়, হিয়া চোখ পাকিয়ে তাকালো তার দিকে।দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
"লাথি খেতে না চাইলে, ঠিক করে কথা বল!"
"লাতি? ইতা আবাল তি জিনিচ আপা। ইতা কায় না মাতায় দেয়? ইতার তেস্ট তেমন আপা?"
হিয়া মোমোর হাতটা খপ করে ধরে টান দিয়ে বলল,,
"আয় তুই একটু খেয়ে দেখ। টেস্ট কেমন!"
"ওরে বাবা! না থাক। আমার টেস্ট করা লাগতো না।তুই বল আমার জিজু কই?"
"কোন জিজু?"
"কেন বে? আমার জিজু কয়টা?"
"একটাও না!"
"তাইলে রুদ্র ভাইয়া কে?" থুতনিতে আঙুল দিয়ে চিন্তার স্বরে বলল মোমো। হিয়া গম্ভীর হয়ে কাটা উত্তর দিলো তাতে,,
"কেউ না?"
মোমো কাঁদো কাঁদো মুখ করে হিয়ার দিকে এগিয়ে এলো। তার কাঁধে দু-হাত রেখে ন্যাকা কান্নার স্বরে বলল,,
"কিয়া হুয়া ডার্লিং? তুম এতনা ফিকর মে কিউ হো?"
হিয়া যেন মোমোর এমন কথায় গলে গেলো। দুঃখী দুঃখী মুখ করে বলল,,
"তুই জানিস ওই হারামজাদা কি করেছে?"
"কি করেছে?"
"আমাকে কিস করেছে ওয়?"
হিয়ার কথায় মোমো অবাক হয়ে মুখে হাত দিলো। পরপর কয়েকবার ঘন পলক ফেলে আলতো করে হিয়াকে একটা ধাক্কা দিলো। দুষ্টামি করে বলল,,
"ওয় হোয়! তোর রুডি বয়কে দেখে তো বোঝাই যায় না, সে এতো ফাস্ট? তা কোথায় করলো চুম্মাচুম্মি টা? তেরা দিল মে লাড্ডুা ফুটা! ইয়া ফের..."
"ইয়া ফের লাড্ডুর জায়গায় আন্ডা ফুটা! ওই গাধাটা আমাকে নিজে থেকে কিস করেনি করেছে আহনাফ ভাইয়ের কথায়।"
"মানে?"
এরপরে হিয়া মোমোকে আজ সকালের কাহিনীটা খুলে বলল। সবটা শুনে মোমো ঠোঁটে আঙুল চেপে আস্তে করে বলল,,
"হাসলে কি পাপ হবে হিয়া?"
"না পুণ্য হবে। হাস হাস বেশি করে হাস!" রাগী স্বরে বলল হিয়া। তবে, মোমোর এতে কোনো ফারাক পড়লো না। সে আপনমনে হেঁসে নিলো কিছু সময়। এরপরে হিয়ার কাঁধে হাত রেখে বলল,,
"এভাবে রেগে যাচ্ছিস কেন হিয়া? এভাবে রাগলে চলবে বল? তুই তো জানিস রুদ্র ভাইয়া ওমনই। তুই একটু শিখিয়ে পড়িয়ে নিস তাইলেই দেখবি রোমাঞ্চে মাস্টার্স করে ফেলবে! বেডার আবার মেধাবী আছে!"
হিয়া হতাশ হয়ে বলল,, "অন্য কিছু হলে শেখানো যায় মোমো। কিন্তু, এসব আমি ওকে কিভাবে শেখাবো বল? আফটার অল আমি একটা মেয়ে। লজ্জা বলে কিছু তো আছে আমার মাঝে...!"
"লজ্জা? আর তুই?" মোমো এবারে কন্ঠটা একটু খাদে নামিয়ে বলল,, "I'm sorry to say, এই দুইটা একসাথে যায় না রে!"
হিয়া আড়চোখে তাকিয়ে হাত উঠালো মোমোকে মারতে। তখনই হঠাৎ কোথা থেকে রুদ্র দৌড়ে আসলো তাদের দিকে। তাকে দেখা মাত্রই হিয়া মুখটা গম্ভীর করল পাশ ফিরে দাঁড়ালো। রুদ্র ভ্রু সটান করে মোমোকে সালাম দিলো,,
"আসসালামু আলাইকুম আপু!"
"ওয়ালাইকুমস সালাম ভাইয়া৷ কি অবস্থা আপনার?"
"এইতো আছি মোটামুটি!"
এরপরে মোমো হিয়াকে ইঙ্গিত করে রুদ্র কে ইশারায় জিজ্ঞেস করলো, "কি হয়েছে তার? এভাবে ক্ষেপে আছে কেন?"
রুদ্র ও সরল মনে ইশারায় বোঝালে, "আমি জানি না!"
"গিয়ে কথা বলে দেখুন!"
রুদ্র 'ওকে' বলে হিয়ার সামনে দিকে দাঁড়ালো। তাকে দেখা মাত্র হিয়া আবারো ঘুরে গেলো। রুদ্র আবারো তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। হিয়া বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলো,,
"কি চাই?"
"কিছু না!" দু'পাশে ঘাড় ঘুরিয়ে জবাব দিলো রুদ্র।
"তাহলে, এখানে কেন এসেছো?"
রুদ্র আগে-পিছে না ভেবে চট করে বলে ফেললো,,
"হিয়া মুভি দেখতে যাবে?"
হিয়া ঠোঁট কামড়ে কিছু সময় ভাবলো। এরপরে গম্ভীর স্বরে বলল,,
"আহনাফ শিখিয়ে দিয়েছে?"
"না রিফাত বলে দিয়েছে!" সরল মনে উত্তর দিলো রুদ্র।
তবে, তার উত্তর দিতে দেরী হলেও হিয়ার চটে গিয়ে পেছন থেকে ইট তুলতে দেরী হলো না। তাকে পেছন ফিরে ইটে হাত দিতে দেখেই মোমো দৌড়ে গিয়ে রুদ্রর হাতটা ধরে এক ছুট লাগাতে লাগাতে বলল,,
"রুদ্র ভাই! বাঁচতে চাইলে পালাওওওওও!"
হিয়া ডানহাতে ইটের অংশটা উচু করে, কিড়মিড় করতে করতে বলল,,
"চদুর বান্ডেল তুই দাঁড়া! তোর মুভি আমি তোর প্যান্টের ভেতর ঢুকিয়ে দিবো! শালা ফাউল পোলাপাইন একটা।" এরপরে ইটের অংশ টা ছুঁড়ে দিলো শুণ্যে।
~
এভাবেই কেটে গেলো আরও কিছুদিন। দেখতে দেখতেই হিয়াদের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষাও শেষ হয়ে গেলো। আজ ছিলো তাদের শেষ পরীক্ষা। প্রশ্নটা মোটামুটি সহজই ছিলো, হিয়া আর মোমো পাশাপাশি বসে পরীক্ষা দিয়ে এসেছে।
"উফফ! বাবা। বাঁচা গেলো। অনেক বড়ো একটা প্যারা ঘাড় থেকে নামলো। এবারে আমি কিছুদিন ছুটিয়ে Flirting করবো!"
সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতে উৎফুল্ল কন্ঠে কথাটা বলল মোমো। হিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকে জিজ্ঞেস করলো,,
"তুই আবার কাকে বাঁশ দিতে চলেছিস রে?"
"শুনলাম রুদ্র ভাইয়ার নাকি একটা ছোট ভাই আছে!"
হিয়া হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়লো। মোমোর দিকে ঘুরে তীক্ষ্ণ চোখে মোমোর পা থেকে মাথা অবদি দেখলো। এরপরে জিজ্ঞেস করলো,,
"ওনার ব্যাপারে তুই কিভাবে জানিস?"
"রুদ্র ভাইয়া-ই বলেছে। পিক ও দেখাইছে। বেডা কিউট আছে! বল?"
হিয়া ভ্রু সটান করে সামনে পা বাড়ালো। যেতে যেতে বলল,,
"আইডি নিয়েছিস?"
"ওটার জন্য তো তুই আছিস!"
"ট্রিট কই আমার?"
হিয়ার কথায় মোমো হুট করে দাঁড়িয়ে গেলো। কপালে ভাজ ফেলে কোমরে হাত রেখে বলল,,
"আমাকে ছাড়া তোর থাকতে কষ্ট হবে ভেবে, আমি নিজে থেকে তোর দেবরের সাথে টাংকি মারার চেষ্টা করতাছি। যেখানে ছেলেরা আমার পিছে ঘুরঘুর করে, সেখানে আমি একটা ছেলের পিছে ঘুরার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ওয়ানলি ফর ইউ! আর তুই কিনা আমার কাছে ট্রিট চাস? লজ্জা লাগে না তোর আমার থেকে ট্রিট চাইতে?"
"লজ্জা-শরম বিক্রি করে এক্সামের জন্য কলম কিনছিলাম।"
কথা বলতে বলতেই তারা একসময় নিচে নেমে এলো। তাদেরকে দেখা মাত্রই রুদ্র দৌড়ে গেলো। হিয়ার দিকে পানির বোতল এগিয়ে দিয়ে বলল,,
"এক্সাম কেমন হলো তোমাদের?"
হিয়া পানি খাওয়ার দরুন উত্তর টা দিতে পারলো না। তাই তার হয়ে মোমো-ই বলল,,
"আলহামদুলিল্লাহ! মোটামুটি ভালোই!"
রুদ্র আবারো হিয়ার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,, "প্লাস হবে তো?"
হিয়া পানি খাওয়া শেষ করে, বোতলের মুখ লাগাতে লাগাতে বলল,,
"প্লাস না হলেও স্ক্রু হবে! নো টেনশন!"
হিয়ার কথায় রুদ্র একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। তবে, কোনো প্রতিউত্তর করলো না। কারণ, সে হতাশ! খুবই হতাশ!
~
প্রায় বিকেল নাগাদ... হিয়া রুদ্রর সাথে বের হলো। আজ আর তার বাড়ি ফেরার তাড়া নেই। আগেভাগেই বাসায় বলে এসেছে, সে আজ মোমোর বাসায় থাকবে। অন্যদিকে, মোমোর বাবা-মাও আজ বাসায় নেই। সবদিক হিসেব করেই যেন হিয়ার মনে একটা প্রশান্তি— আজ সে রুদ্রর সাথে যতখুশি সময় কাটাতে পারবে।
রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে আছে রুদ্র-হিয়া। হঠাৎ রুদ্র হাত ইশারা করে একটা রিকশা ডেকে নিলো। দু'জনে মিলে চেপে বসলো রিকশাটাতে। রিকশাওয়ালা টান দিতেই—
হিয়া হঠাৎ রুদ্রর বাম বাহুটা দু’হাতে আঁকড়ে ধরলো। চোখে-মুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি, যেন এই এক জোড়া বাহু তার পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।
"এই না হলে আমার জায়গা!" মৃদু হাসি নিয়ে বললো হিয়া।
এরপরে আলতো হেঁসে রুদ্রর কাঁধে মাথাটা রেখে দিলো। রুদ্র একটু চমকে হিয়াকে দেখলো। তারপর আপনমনে হাসলো। চোখের কোণে একরাশ কোমলতা, ভালোবাসা, আর ভরসা। নিঃশব্দে একহাতে জরিয়ে নিলো হিয়াকে—আলতো, অথচ দৃঢ়তায় ভরা।
বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ চললো তারা। বাতাসে তাদের নিঃশ্বাস মিশে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। হঠাৎ রিকশাওয়ালা পেছনে ফিরে জিজ্ঞেস করলো,
"কই যাবেন মামা?"
হঠাৎ রুদ্র একটু থতমত খেয়ে হাসলো হালকা হেসে হিয়াকে বলল,,
"তুমি বলো! আমরা কোথায় যাবো?"
হিয়া একটু ভেবে বললো,,
"আমাদেরকে এখানেই নামিয়ে দিন মামা!"
"এখানে? এই মাঝ রাস্তায়?" কপাল কুঁচকে বলল রুদ্র।
হিয়া রুদ্রর বাহুতে হালকা চাপ দিয়ে হেঁসে বলল,, "হুম! এখানেই!"
রিকশাওয়ালা রিকশা টা থামাতেই, প্রথমে রুদ্র নামলো এরপরে ডানহাত এগিয়ে দিলো হিয়ার দিকে। রিকশা ভাড়া মিটিয়ে বিদায় করলো রিকশাওয়ালাকে।
রুদ্র কোমরে হাত রেখে, দু'ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলো,,
"এবার?"
চট করে হেঁসে দিলো হিয়া। রুদ্রর কোমরে রাখা হাতটা জরিয়ে নিলো নিজের দু'হাতে। সামনের দিকে পা বাড়াতে বাড়াতে বলল,,
"এবারে আমার সাথে হাঁটতে থাকো। আমি তোমার হাত ধরে অনেক দূরে যেতে চাই!"
বিকেলের সোনালী আলোটা ধীরে ধীরে ঢলে পড়েছে। আকাশের কোণায় জমে উঠেছে হালকা মেঘের আসর, যেন সন্ধ্যার আগে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে।
রুদ্র-হিয়া একে-অপরের হাত ধরে নিঃশব্দে হেঁটে চলেছে। কারো মুখে কোনো কথা নেই, তবে ঠোঁটে তৃপ্তির হাসির অভাব নেই। হঠাৎ পরিচিত একজন ফুচকাওয়ালাকে দেখে হিয়া লাফিয়ে উঠলো,,
"রুডি বয়! ওই দেখো ফুচকার দোকান!"
কথাটা বলার সময় হিয়া রুদ্রর হাতটা এমনভাবে চেপে ধরে চিৎকার দিলো। রুদ্র চমকে উঠে বুকে থুড়থুড়ি দিলো। তবে ততোক্ষণে হিয়া ফুচকার দোকানে।
"মামা! বেশি করে ঝাল দিয়ে মাখিয়ে দুই প্লেট ফুচকা দেন তো!"
"আরে হিয়া মামণি! কতো দিন পর দেখলাম তোমারে।"
"জ্বি! আপনি ভালো আছেন তো মামা!"
ততো সময়ে রুদ্র এসে দাঁড়ালো হিয়ার পাশে। ফুচকাওয়ালা ফুচকা বানাতে বানাতে গাড়ির ফাক দিয়ে তাকালো তাদের দিকে। মুচকি হেঁসে বলল,
"হ আছি ভালোই! তা ওয় কি জামাই বাবাজি নাকি মামণি?" শেষ কথাটা তিনি রুদ্রকে ইঙ্গিত করে বললেন।
তার কথায় হিয়া কিছুটা অপ্রস্তুত হলো। লজ্জা পেয়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল,,
"না মানে... হয়নি এখনো তবে হবে খুব তাড়াতাড়ি!"
লোকটা হাসতে হাসতে বলল,, "হ বুচ্ছি!"
হঠাৎ হিয়া রুদ্রকে ছেড়ে ফুচকাওয়ালার কাছে এগিয়ে গেলো। তার পাশে দাঁড়িয়ে মুখ টিপে হেঁসে ফিসফিস করে বলল,,
"মামা! ওই প্লেট টাতে ঝাল একটু বেশি দিবেন। বুঝেছেন?"
ফুচকাওয়ালা হালকা হেঁসে মাথা ঝাঁকাতেই হিয়া সরে এলো। কিছু সময় পর তিনি দু'প্লেট ফুচকা দিলে, হিয়া একটা রুদ্রর দিকে এগিয়ে দিলো। রুদ্র মলিন মুখে বলল,,
"হিয়া! আমি যদি এটা না খাই, তাহলে কি তুমি রাগ করবে?"
হিয়া চোখ-মুখ কুচকে বলল, "খাবে না কেন?"
"আসলে, আমি তো এগুলো খাই নাই কখনো তাই...."
"খাওনি তো কি হয়েছে। এখন খাবে। নাও ধরো!" বলেই রুদ্রর হাতে একটা প্লেট ধরিয়ে দিলো। রুদ্র করুণ চোখে তাকাতেই হিয়া একটা ফুচকা মুখে পুরে বলল,,
"আরে খাও খাও। আমি তোমার প্লেটে ঝাল কমই দিতে বলেছি। তুমি নিশ্চিতে খাও তো বাপু!"
"বাপু?"
"না বাবু!" বলেই হো হো করে হাসলো হিয়া।
রুদ্র অনেক ভেবে-চিন্তে একটা ফুচকা মুখে দিলো। তবে সেটা শেষ করার আগেই। সে ঝালে, চোখ-মুখ লাল করে ফেললো। ফুচকার প্লেট-টা ভ্যানে রেখেই ঝাল, ঝাল বলে চিৎকার শুরু করলো সে। অলরেডি তার চোখে পানি এসে গেছে। মুখ আর কান লাল হয়ে আছে। মাথাটা যেন তার ভনভন করছে ঝালে।
হিয়া দ্রুত মুখের ফুচকাটা শেষ করে রুদ্রর জন্য পানির বোতল আনলো। রুদ্রর মাথায় ফু দিতে দিতে পানিটা তাকে খাওয়ালো। দেরী সহ্য করতে না পেরে রুদ্র হিয়ার হাত থেকে বোতলটা কেড়ে নিয়ে ঢকঢক করে পুরা বোতলের পানি সাবাড় করে দিলো। কিন্তু, তাতেও যেন কোনো কাজ হলো না। সে আগের মতোই মুখ হা করে গোলগোল শ্বাস ছাড়তে লাগলো। আর চোখ দিয়ে টপাটপ পানি পড়তে থাকলো।
অবশেষে হিয়া তাকে নিয়ে গাছের পাশে একটা বেঞ্চিতে বসালো। দোকান থেকে চিনি এনে দিলো তাকে। কিন্তু, রুদ্রর ঝাল যেন কিছুতেই কমছে না।
"হিয়া! এতো ঝাল কেন? তুমি না বললা, তুমি ঝাল কম দিতে বলছো। তাহলে এতো ঝাল কেন? আমার মাথাটা ঘোরাচ্ছে হিয়া, চোখ-মুখ অন্ধকার হয়ে আসছে।"
হিয়া বুঝলো, তার প্লেটে ঝাল বেশি দিতে বলাটা তার উচিত হয়নি। রুদ্রর অবস্থা তো পুরাই কাহিল। কোনো ভাবেই তাকে শান্ত করা যাচ্ছে না। আর কোনো উপায় না পেয়ে হিয়া হঠাৎ-ই—
রুদ্রর শার্টের কলারটা চেপে ধরে তাকে নিজের খুব কাছে এনে ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়াল। একবার নয় পরপর দু'বার। আর সময়টা যেন সেখানেই থেমে গেলো। রুদ্র শান্ত হয়ে গেলো ধীরে ধীরে। তার মুখ থেকে গরম নিঃশ্বাস তো বের হচ্ছে, তবে তাকে আর অশান্ত উত্তাল লাগছে না।
কিছু সময় পর হিয়া রুদ্রর থেকে দূরত্ব বাড়ালো। তার চোখে চোখ রেখে কোমল স্বরে জিজ্ঞেস করলো,,
"ঝাল কমেছে রুডি বয়?"
রুদ্র নিচের ঠোঁট কামড়ে দুষ্ট হেসে বলল,, "কিছুটা কমেছে। তবে এবার পুরোটা কমানোর ব্যবস্থা করছি!"
কথাটা শেষ করেই রুদ্র হিয়ার মাথার পেছনের চুলগুলো ধরে তার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবালো।
-
রুদ্রর মুখের সামনে একটা ফুচকা ধরে সেটাতে হালকা করে নাড়াতে নাড়াতে হিয়া চোখ বন্ধ করে বারবার বলছে,,
"ঝাল কমেছে রুডি বয়? বলো না কমেছে ঝাল? নাকি..."
হঠাৎ রুদ্র হিয়ার মাথায় একটা গাট্টি দিয়ে বলল,,
"এই হিয়া! তখন থেকে কি বিড়বিড় করে যাচ্ছো? মাথা ঠিক আছে তো তোমার? আর এই ফুচকা-টা এভাবে ধরে রেখেছো কেন? পোকা-ঠোকা পড়েছে নাকি?"
হঠাৎ রুদ্রর গাট্টিতে ঘোর কাটলো হিয়ার। সে থতমত খেয়ে হাতের ফুচকা ফেলে দিলো। জিহবা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে আমতা আমতা করে বলল,,
"এ্যাঁ, কি হয়েছে? তুমি কি কিছু বলছো রুদ্র?"
হিয়ার কথায় রুদ্র যেন গাছ থেকে পড়লো। অবাক হয়ে বলল,,
"যাহ বাব্বাহ! এর আবার হলো কি? এই তুমি কোন দুনিয়ায় ছিলে বলোতো? হুটহাট কোথায় হারিয় যাও তুমি?"
হিয়া তড়িঘড়ি করে উত্তর দিলো, "কই কোথাও না তো!"
পরক্ষণেই কিছু একটা খেয়াল আসতে সে রুদ্র কে প্রশ্ন করলো,, "রুদ্র তোমার ঝাল লাগছে না?"
রুদ্র আড়চোখে তার দিকে তাকাতেই সে বলল,, "না মানে.. ফুচকাতে এতো ঝাল। খেতে অসুবিধা হচ্ছে না তোমার?"
রুদ্র আরও একটা ফুচকা মুখে দিয়ে বলল,,
"কই নাতো! কেন তোমার কি অসুবিধা হচ্ছে? ঝাল লাগছে খুব? আঙ্কেল কে বলবো ঝালটা কমিয়ে দিতে?"
রুদ্রর কথায় হিয়ার মুখটা নিজে থেকেই হা হলো। মানে সে যে তার প্লেটে এতো বেশি করে ঝাল দিলো তাহলে? সে অবাক হয়ে আঙুল দ্বারা পরিমাণ বুঝিয়ে বলল,,
"মানে..মানে তোমার একটুও ঝাল লাগছে না?"
রুদ্র কন্ঠ নিচু করে বলল,, "একটুও না!"
হিয়া ধপ করে সেখানে রাখা বেঞ্চিতে বসে পড়লো। রুদ্র মুখের ফুচকাটা শেষ করে বলল,,
"আসলে কি বলোতো! ছোট বেলায় আম্মু আমাদের কে এতো বেশি করে ঝালের তরকারি খাইয়েছে। যে...."
রুদ্রর কথাটা পুরো হওয়ার আগেই হিয়া স্বজোরে ফুচকার প্লেট-টা বেঞ্চিতে রাখলো। হঠাৎ আওয়াজে রুদ্র কথা থামিয়ে তার দিকে তাকালো। হিয়া রাগে ফুঁসছে, জোরে জোরে শ্বাস ছাড়ছে সে। রুদ্র কিছু বলার আগেই হিয়া উঠে দাড়ালো, দাঁত কিড়মিড় করে বলল,,
"নাটক করো তাই না? তুমি গর্দভ পোলা গরম চা খাইতে পারো না। কিন্তু, এক্সট্রা লেভেলের ঝাল গপ-গপ করে গিলতে পারো তাই না? জাতে মাতাল, তালে ঠিক। নিজেকে উচ্চ লেভেলের ঢঙ্গী ভাবো? যে গরম চা খাইতে পারো না কিন্তু, ঝালে ডোবাবো ফুচকা খেতে পারো। তোমারে সহ তোমার ঢং রে..."
কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গেলো হিয়া। রুদ্রর বুকে স্বজোরে ধাক্কা গটগট করে এগিয়ে গেলো সামনে। আর রুদ্র হতবিহ্বলের মতো দাঁড়িয়ে রইলো সেখানে।
~
নির্জন রাস্তার মাঝ দিয়ে রাগে গিজগিজ করতে করতে,টান পায়ে হেঁটে চলেছে হিয়া। আর অপরাধীর মতো তার পিছু করেছে রুদ্র। যে বেচারা এখনো জানেই না হিয়ার এই হঠাৎ রাগের কারণ কি? কারণ না জেনেই বেচারা হিয়ার রাগ দেখে চলেছে। রুদ্র অবশ্য কয়েক বার জিজ্ঞেস করেছে তার এই রাগের কারণ কি। কিন্তু, প্রতিউত্তরে হিয়া তার দিকে এমন দৃষ্টি নিক্ষেপ করেছে, যে বেচারা আর দুই ঠোঁট আলাদা করার সাহস পায়নি।
সন্ধ্যা নেমেছে বহু আগেই। চারপাশে এখন অন্ধকারও নেমে গেছে। আকাশে আবার মেঘও করেছে। মাঝে মাঝেই শোনা যাচ্ছে মেঘের গর্জন। অর্থাৎ, যে-কোনো সময় বৃষ্টি নামতে পারে। আর এই সময়ে হিয়াকে নিয়ে বাইরে থাকাটা রুদ্রর একটুও সেইফ মনে হচ্ছে না। তার উচিত এখন যেকোনো ভাবে হিয়াকে বুঝিয়ে বাসায় নিয়ে যাওয়া। বাকিসব পরে দেখা যাবে। কিন্তু, রুদ্র এসব করবে কিভাবে?কিভাবে কনভিন্স করবে হিয়াকে?
এসব ভাবতে ভাবতেই রুদ্র হঠাৎ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে গেলো। হিয়া তখন বেশ অনেকটা দূরে চলে গেছে। রুদ্র হঠাৎ পেছনে থেকে চিৎকার দিয়ে ডেকে উঠলো হিয়াকে..
"হিয়া...."
নিজের নাম এতোটা জোরে আর বাতাসে প্রতিধ্বনিত্ব হতে শুনেই চট করে পেছন ফিরে তাকালো হিয়া। দেখলো তার থেকে বেশ অনেকটা দূরে রুদ্র দাঁড়িয়ে। তাকে পেছন ঘুরতে দেখেই রুদ্র বাতাসে দু-হাত মেলে দিয়ে চিৎকার বলে বলল,,
"I Love You Hiya.. I Love You..!"
রুদ্রর মুখ থেকে এমন অপ্রত্যাশিত কথা শুনে হিয়া চমকায় ভীষণ ভাবে। সে বেশ কিছুটা সময় নিয়ে ভাবে রুদ্রর এমন করার কারণ। কিছুটা বোধগম্য হতেই হিয়া মুচকি হাসে। তবে সেটা রুদ্রর আড়ালে। এরপরে রুদ্রর মতোই চিৎকার দিয়ে বলে,,
"তোমার লেবু, তোমার পকেটেই রাখো! ওসবে আমার মন গলবে না। তোমার ন্যাকামিতে আমি আর টলবো না! রুডি বয়!"
কথাটা শেষ করেই হিয়া মুখ বেঁকিয়ে সামনে ফিরে। সে কয়েকপা এগোতেই রুদ্র ছুটে তার সামনে এসে দাঁড়ায়। হঠাৎ হাঁটু ভেঙে দিয়ে বসে পড়ে হিয়ার পায়ের কাছে। হিয়ার দুহাত নিজের হাতের মাঝে নিয়ে, উজ্জ্বল চোখে তাকিয়ে বলতে শুরু করে,,
"আমি অনেক চেষ্টা করেছি এই অনুভূতিটা লুকিয়ে রাখতে, বুকের গভীরে চাপা দিয়ে রাখতে...! কিন্তু যতবার তোমায় দেখি, এই অনুভবটা আবার জেগে ওঠে— আগের থেকেও শক্তভাবে।
তুমি আছো আমার ভাবনায়, আমার স্বপ্নে, প্রতিটি হৃদস্পন্দনে। আমি জানি না ঠিক কখন এটা শুরু হয়েছিল, কিন্তু এখন... এখন তোমাকে ছাড়া একদিনও কল্পনা করতে পারি না!
তুমি আমাকে বদলে দিয়েছো হিয়া…! ভীষণ ভাবে বদলে দিয়েছো আমাকে। আমি আর ফিরে যেতে চাই না, আগের সেই আমিতে। শুধু মিশে যেতে চাই তোমাতে!~"
রুদ্রর এই রুপে হিয়া যতোটা না অবাক হয়েছে, তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি খুশি হয়েছে। অবাক আর খুশিতে মিলে একাকার হয়ে গেছে সে। হিয়া হাসতে চাইলো, খুব করে হাসতে চাইলো সে। কিন্তু, হাসির আওয়াজ যেন তার গলায় দিয়ে বের হলো না। কথাগুলো যেন গলাতেই দলা পাকিয়ে গেলো। দম আঁটকে আসতে লাগলো তার।
"রুদ্র তুমি...তুমি! যেটা বলছো.. মানে? মানে তুমি ভেবে.."
হিয়া কথাটা শেষ করতে না পেরে, চোখ বন্ধ করে মনেমনে বলল,, "উফফফ! আমি কিছু বলতে পারছি না কেন?"
এরপর হঠাৎ-ই চোখ বন্ধ করে একদমে বলল,, "রুদ্র তুমি যেটা বলছো। সেটা ঠিক বলছো তো? সজ্ঞানে ভেবে-চিন্তে বলছো তো?"
হিয়া তখনো চোখ খোলেনি। রুদ্র মুচকি হেঁসে উঠে দাড়ালো। দু'হাতে হিয়ার কোমর ধরে তাকে কাছে টেনে আনলো। হিয়ার তার বন্ধ চোখটা আরো বন্ধ করে নিলো। রুদ্র ঠোঁট কামড়ে হাসলো। এরপরে হিয়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,,
"আমি যা বলছি, তা অবশ্যই প্রকৃতিকে সাক্ষী রেখে, সম্পূর্ণ সজ্ঞানে, স্বমস্তিষ্কে এবং অন্তরের গভীর থেকে আমার অভিমানী কন্যাকে বলছি—অথচ একটুও দ্বিধা বা সংশয় নেই আমার হৃদয়ে!"
হিয়া লজ্জায় চোখ তুলে তাকাবে। কিন্তু তার আগেই তার কপালে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির পানি পড়লো। নিবুনিবু চোখে হিয়া চোখ তুলে তাকাতেই। রুদ্র তার কপালে একটা গভীর চুম্বন রাখলো। আলতো হেঁসে বলল,,
"দেখো! প্রকৃতিও আমাদের সঙ্গ দিচ্ছে!"
রুদ্রর কথাটা বলতে তো দেরী হলো, কিন্তু মাশুল ধারে ভারী বর্ষণ নামাতে প্রকৃতির একটু দেরী হলো না।
"এইরে! প্রকৃতি আমাদের সঙ্গ দিতে গিয়ে মাঠে মেরে দিলো যে!"
এরপরে রুদ্র তড়িঘড়ি করে হিয়ার হাতটা ধরলো। তার দিকে তাকিয়ে দ্রুত গলায় বলল,,
"দৌড়াবে?"
"আমি ভিজতে চাই তোমার সাথে এই নির্জন রাস্তাতে!"
রুদ্র মুখে আবারো এক অমায়িক হাসি ফুটলো। সে হিয়ার হাত ধরে বৃষ্টির মাঝেই দৌড়াতে শুরু করলো। তবে পালাতো নয় ভেজাতে!
-
বৃষ্টির স্নিগ্ধ ছোঁয়ায় ভিজে একসাথে দৌড়ে চলছিল রুদ্র আর হিয়া। তাদের হাসির শব্দ মিশে যাচ্ছিল বৃষ্টির সুরে। হিয়ার এ্যাশ রঙের লম্বা কুর্তিটা বৃষ্টিতে পুরোপুরি ভিজে গায়ের সাথে লেপ্টে গেছে। কোমর পর্যন্ত চুলগুলো ভেজা অবস্থায় পিঠ সহ তার গালের পাশে লেপ্টে আছে, চোখে-মুখে এক অপূর্ব প্রশান্তির ছোঁয়া। রুদ্রর চোখে ফুটে উঠেছে মুগ্ধতা—এক প্রশান্ত ভালোবাসার প্রশ্রয়।
কিন্তু তাদের এই সুন্দর মুহূর্তটুকু টিকে থাকলো না বেশিক্ষণ। হঠাৎ করেই সামনের গলিপথ থেকে কয়েকজন বখাটে ছেলে বেরিয়ে এলো। চোখেমুখে বেহায়াপনার ছাপ, ভেজা রাস্তায় দাঁড়িয়ে তারা চোখ বুলাতে লাগলো হিয়ার দিকে। একজন কটু হাসি দিয়ে বললো,
"এই বাইশে জুনের বৃষ্টিতে তো একেবারে সিনেমার সিন বানাইছেন ভাই-বোন। আপুর তো জামা একদম... অ্যায় হ্যায়..!" বলে দুহাত উচু করে মাথার পেছনে রাখলো।
আরেকজন হেসে উঠলো, "এতো কিউট জুটি! ভাইয়া, একটু ভাগ দিবেন?"
হিয়ার মুখের রঙটা মুহূর্তেই বদলে গেল। একবার রুদ্রর দিকে তাকালো, চোখে একটা চাপা উদ্বেগ। রুদ্রর মুখ কঠিন হয়ে উঠলো— এক মুহূর্ত আগের হাসিমাখা ছেলেটি যেন কোথায় হারিয়ে গেছে।
তার আঙুলের বাঁধন হিয়ার হাতটা আরও শক্ত করে ধরলো। সে একপলক তাকালো বখাটেগুলোর দিকে, তারপর নিচু স্বরে বললো,
"চলো হিয়া।"
হিয়া কিছু বললো না, শুধু মাথা ঝাঁকালো। কিন্তু তারা ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই ছেলেগুলোর একজন আবার মন্তব্য ছুঁড়ে দিলো,
"কী রে ভাই, আমরা শেয়ার চাইছি। আর আপনি একা নিয়ে পালানোর ধান্দা করছেন? ইট'স নট ফেয়ার ব্রো!"
বৃষ্টির ধারা তখন আরও জোরে পড়তে শুরু করেছে। রুদ্র থেমে গেল। ভেজা চোখে সে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল ছেলেগুলোর দিকে, শান্ত স্বরে বলল,,
"দেখুন ভাই! আপনাদের সাথে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। দয়া করে আমাদের যেতে দিন। নয়তো..."
ছেলেগুলো এবার অট্টহাসি হেঁসে বলল,,
"নয়তো কি? মারবে নাকি চেঙ্গিস খান?"
"হুসসস! যেই না চেহারা। নাম রাখছে পেয়ারা!"
রুদ্র চেতলো না তাদের কথায়। বরং শান্ত হয়ে হাসলো। শব্দহীন হাসি। এরপরে শান্ত হয়েই বলল,,
"না মারবো না। শুধু আমার গার্লফ্রেন্ডের ফোনের লোকেশনটা অন করে দিবো। আর তার DCP ভাইয়ের কাছে একটা ইনস্ট্যান্ট নোটিফিকেশন পাঠাবো!"
"ডিসিপি ভাই?"
"হ্যাঁ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি। সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন উনি। তার ছোট বোন যাতে কখনো কোনো ঝামেলায় না পড়ে, সেজন্য ওর ফোনে 'Emergency Geo-Fence Protocol' সেট করে রেখেছেন।"
"Geo-Fence Protocol?"
"মনে করো, ফোনটা একটা ইনভিজিবল ডিজিটাল সীমানার মধ্যে আছে। সে যদি সেই সীমানার বাইরে চলে যায়, বা অস্বাভাবিক কোনো জায়গায় বেশিক্ষণ অবস্থান করে, সঙ্গে সঙ্গে ডিসিপি ভাইয়ের কাছে একটা এনক্রিপ্টেড সিগন্যাল চলে যায়। শুধু তা–ই না—আমার মতো কেউ যদি ওর ফোনের 'Emergency Ping' অপশনটা প্রেস করে, তাও সরাসরি ভাইয়ার সিস্টেমে অ্যালার্ট চলে যায়।"
"মানে তুমি এখন ওর ফোন থেকে ওই অ্যালার্টটা পাঠাবে?"
"ঠিক তাই। এটা একটা Hidden App-এর মাধ্যমে হয়। বাইরের কেউ ধরতেই পারবে না। ফোনটা একবার আনলক হলেই কাজ শেষ। লোকেশন, আশেপাশের অডিও, এমনকি ফোনে থাকা ক্যামেরা দিয়ে লাইভ ফিডও পাঠাতে পারে ওর ভাইয়ের কাছে।"
রুদ্র থামলো তবে ছেলেগুলো আর কোনো উত্তর দিলো না। শুধু একে-অপরের দিকে তাকাতাকি করলো। রুদ্র বুঝলো তার ট্রিকস কাজে দিয়েছে। সে আবার বলল,,
"এই জন্যই বলছি ভাই। আপনাদের সাথে তো আর আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। তাই আপনারা আমাদের কেও শান্তিতে থাকতে দিন। আর নিজেদের প্রাণ নিয়েও বেঁচে থাকুন। পরিবারের সাথে থাকুন!"
রুদ্র এভাবে আরও কিছু কথা বলে ছেলে গুলোর উদ্দেশ্য ড্যামেজ করলো। এবং হিয়াকে নিয়ে সেখান থেকে দ্রুত প্রস্থান করলো।
হিয়ার হাতটা ধরে সে দ্রুত গতিতে পথ চলছে। চলতি পথে হিয়াকে অনেক কিছু বলছে ও। কিন্তু, হিয়া তার কোনো উত্তর ই দিচ্ছে না। সে তো আপমন মনে অন্য কিছু ভাবছে। ডুবে আছে কোনো ভাবনায়। কিন্তু, কি সেই ভাবনা!
রুদ্র হিয়ার হাত ধরে ছেলেগুলোকে ছাড়িয়ে বেশ কিছুটা পথ যেতেই হিয়া হঠাৎ চলতি পথে থমকে দাঁড়ালো। রুদ্র তার হাত ধরে টান দিলেও সে টললো না। রুদ্র, হঠাৎ ভ্রু কুঁচকে দাঁড়িয়ে পড়লো। হিয়ার সামনে এসে, দু'হাতের মাঝে হিয়ার মুখটা নিয়ে চিন্তিত হয়ে বলল,,
"কি হয়েছে হিয়া? তুমি কি ওদের কথায় এভাবে....?"
হিয়া গভীর চোখে তাকালো রুদ্রর দিকে। এই বৃষ্টির মাঝেও হিয়ার চোখের পানি রুদ্রর চোখের আড়াল হলো না। রুদ্র হঠাৎ-ই হিয়াকে ছেড়ে দিয়ে দুহাত পিছিয়ে গেলো। রুদ্রর শ্বাস-প্রশ্বাস গাঢ় হলো। কিছু তো একটা ছিলো, হিয়ার সেই দৃষ্টিতে যা রুদ্রকে আঁতকে দিলো। কিন্তু কি ছিলো?
হিয়া রুদ্রর দিকে তাকালো। গম্ভীর কিন্তু, শান্ত গলায় থেমে প্রশ্ন করলো রুদ্রকে,,
"রুদ্র...! আমার কি নিজের ওপর ঘৃণা করা উচিত?"
হিয়ার কথায় রুদ্র চমকে করে তাকালো তার দিকে। রুদ্রর চোখ দু'টো এই মুহূর্তে লাল হয়ে আছে। অর্থাৎ, তার চোখেও পানি....!
#চলবে~