#সে_ছিলো_অন্যরকম❣️
#পুষ্পিতা_মেহরীন_তিশা
#পর্ব- ২৭ (শুভ্র-মোমো বিয়ে স্পেশাল)
দুইদিন পর....
সন্ধ্যাবেলা সবাই যখন বসার ঘরে নাস্তা করতে করতে আড্ডা দিচ্ছে। হিয়া তখন ফোন হাতে ড্রয়িং রুমের এপাশ থেকে ওপাশ করছে। বারবার কাউকে কল করছে আর মুখে কিছু বিরবির করছে। বিষয়টা রুদ্র খেয়াল করতেই বসা থেকে উঠে হিয়ার কাছে গেলো।
পায়চারি করতে করতে হিয়া হঠাৎ পেছন ফেরায় রুদ্রর বুকে একটা ধাক্কা খেলো। বিরক্তিতে চোখ-মুখ কুঁচকে ওপরের দিকে তাকিয়ে বলল,,
"উফফফ! তুমি।"
"কি হয়েছে ম্যাম? আপনাকে এতো টেন্স্ট লাগছে কেন?"
"দেখো না। সেই কখন থেকে মোমোকে কল করছি। রিং হচ্ছে কিন্তু, ফোন তুলছে না।"
"হয়তো ফোন সাইলেন্ট করা আছে।"
"তুমি একবার শুভ্র ভাইয়াকে কল করে দেখবে প্লিজ!"
রুদ্র "আচ্ছা।" বলে কল লাগালো শুভ্রকে। তবে পরপর কয়েকবার রিং হওয়ার পরও শুভ্র তুললো না। হিয়ার বিরক্তি টা এবার টেনশনে রুপ নিলো। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামের দেখা দিয়েছে তার। সে ধপ করে গিয়ে বসলো সোফাতে। ফোনটা একপাশে ছুঁড়ে দিয়ে মাথা নিচু করে দু'হাতে চুল আঁকড়ে ধরলো।
তাকে এতোটা ডিস্টার্ব দেখে রুদ্র এসে বসলো তার পাশে। কাঁধে হাত দিয়ে বলল,,
"তুমি এতো প্যানিক করছো কেন হিয়া। হয়তো ওরা বাড়ির কাছেই চলে এসেছে তাই কল ধরছে না অথবা......"
"অথবা..?"
রুদ্র গলা খাঁকারি দিয়ে হিয়ার দিকে চাইলো। হিয়া পরপর দু'বার ভ্রু নাচাতেই— রুদ্র ঘাড় নিচু করে মাথা চুলকাতে চুলকাতে ফিসফিস করে বলল,,
"অথবা, অন্যকিছু করছে। যেখানে ডিস্টার্ব চাইছে না।"
"কেন? তোমার ভাই ও কি তোমার মতো কন্ট্রোল-লেস নাকি?"
হিয়ার এমন কাটা কথায় রুদ্রর দুষ্টামি ভরা মুখটা মুহূর্তেই চুপসে গেলো। সে হিয়ার থেকে দূরে সরে এসে সোফায় দু'হাত মেলে দিলো৷ হিয়া আড়চোখে তার দিকে তাকাতেই সে হিয়াকে মুখ ভেংচি দিলো।
এমন সময় সাবিলা বেগম তাদের জন্য চা আর পকোড়া নিয়ে হাজির হলেন। হিয়া আর রুদ্রকে এমন গোমড়া মুখ করে বসে থাকতে দেখে- তিনি নাস্তা গুলো টি-টেবিলের ওপর রাখতে রাখতে বললেন—
"কি নিয়ে কথা বলছিস তোরা? মুখটা এমন প্যাঁচার মতো করে রেখেছিস কেন?"
হিয়া বা রুদ্র কেউ কোনো কথা বলার আগেই পাশ থেকে সৌরভ পকোড়া খেতে খেতে বলল,,
"আর বলবেন না আন্টি! আপনার হবু বউমার চার মাসের ল্যাদা বাচ্চা। যে কিনা রোজ রাতে বদনায় ফিডার না খেয়ে ঘুমাতে পারে না। তাকে আজ সাতদিন যাবৎ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর সেটা নিয়েই আপনার টুনা-টুনির মাঝে লেগেছে দাঙ্গা।"
সৌরভের কথায় হিয়া চোখ পাকিয়ে তাকালো তার দিকে। সাবিলা বেগম সামনে থাকায় কিছু বলতে পারলো না। আর সেই সুযোগে রুদ্র সহ সবাই মিটিমিটি হাসলো তাকে দেখে। সাবিলা বেগম ও অল্প হেঁসে প্রশ্ন করলেন,
"কি হয়েছে রে হিয়া। কার কথা বলছে এরা?"
সাবিলা বেগমের এমন আদুরে প্রশ্নে হিয়া যেন কিছুটা আহ্লাদী হলো। ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,,
"দেখুন না আন্টি। দুপুরের পরে তো আমরা সবাই একসাথে ঘুরতে বের হয়েছিলাম। আমরা চারজন সেই কখন ফিরে এসেছি। কিন্তু, শুভ্র ভাইয়া আর মোমো আর এখনো ফিরছে না। মোমোকে বারবার কল করছি কিন্তু রিসিভ করছে না। তাহলে, আপনিই বলুন ওদের জন্য টেনশন হবে না?"
হিয়ার কথায় সাবিলা বেগমের ভ্রু দুইটা কুঁচকে আসলো। সে শান্ত চোখে রুদ্রর দিকে চেয়ে বলল,,
"শুভ্রনীল কে কল করেছিস?"
"ফোন তুলছে না।"
"আর তুই এখনো এখানে বসে রয়েছিস? যদি ওদের কোনো আপদ-বিপদ তখন?" সাবিলা বেগমের কন্ঠ কিছুটা গম্ভীর শোনালো।
"ওর আবার কি বিপদ হবে। এখানকার সব কিছুই তো ওর নখদর্পনে। তাছাড়া, শুভ্র তো আর ছোট বাচ্চা না আম্মু।"
রুদ্রর কথায় সাবিলা বেগমের মুখ আরো কিছুটা গম্ভীর হলো। তিনি কন্ঠে কাঠিন্যতা এনে বললেন,,
"যখন রাস্তাঘাটে তোমাকে মানুষ ট্রল করতো। তখন তুমিও ছোট ছিলে না রুদ্রনীল। দু'দিন চতুর হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শিখো না।"
সাবিলা বেগমের কথায় এক মুহূর্ত সবাই থমকে গেলো। হিয়া, রিফাত, সৌরভ একে অপরের দিকে তাকাতাকি করলো। হিয়া বুঝলো, সাবিলা বেগমকে যতোটা সহজ-সরল মনে হয় তিনি আসলে ততোটা সহজ-সরল নয়। প্রয়োজনে তিনি বেশ কঠিন হতে পারেন।
এরপরে হিয়া একবার রুদ্রর দিকেও তাকালো, তবে ততো সময়ে রুদ্র বাইকের চাবি নিয়ে সামনে পা বাড়িয়েছে। বাইরে যাওয়ার জন্য সদর দরজা'টা খুলতেই রুদ্র থমকে গেলো। চোখ দুইটা যেন তার কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাইলো। চোখে-মুখে বিস্ময় নিয়ে হালকা গলা উঁচিয়ে বলল,,
"তুই?? তোদের এই অবস্থা কেন?"
রুদ্রর এমন বিচলিত কন্ঠ শুনে ড্রয়িং রুম থেকে হিয়া, রিফাত আর সৌরভ দৌড়ে এলো দরজার কাছে। সামনে তাকানোর পর তাদের চোখগুলোও যেন কপালে উঠলো।
-
দরজার এপাশে নব বরবধূ সাজে ঠায় দাঁড়িয়ে শুভ্র আর মোমো। মোমোর পরণে দুপুরের সেই খয়েরী রঙের লং কুর্তা থাকলেও মাথায় রয়েছে লাল টুকটুকে বিয়ের ওড়না। গলায় ঝুলে রয়েছে একগুচ্ছ গোলাপ আর গাধা ফুলের সমন্বয়ে তৈরী মালা। একইভাবে শুভ্রর গলায়ও ঝুলছে অন্য একটা মালা।
তাদেরকে এভাবে দেখে সবাই যেন অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছালো। হিয়া একছুটে মোমোর কাছে গেলো। মোমের কাঁধ ঝাঁকিয়ে উদ্বিগ্ন কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
"তোর এই অবস্থা কেন মোমো? কি হয়েছে তোর সাথে? তুই এভাবে সেজে আছিস কেন? কি হয়েছে তোর?"
"বিয়ে হয়েছে!" নির্লিপ্ত উত্তর দিলো মোমো।
তার কথায় সবাই যেন আরো একটা ঝটকা খেলো। বিস্ময়ে সবার মুখ হা হয়ে গেলো। অন্যদিকে, হিয়া রেগে তাকে ছেড়ে দিলো। একটু চেতে বলল,,
"বিয়ে হয়েছে মানে? বিয়ে কি হাতের মোয়া? চাইলাম আর পেয়ে গেলাম?"
সৌরভ : কিসব বাজে বকছিস। বলা নেই কওয়া নেই। এভাবে বিয়ে হয় নাকি?"
মোমো নাকের ভেতরে আঙুল দিয়ে নাক পরিষ্কার করতে করতে নির্লিপ্ত কন্ঠে জবাব দিলো,,
"কট খেয়ে বিয়ে করতে গেলে— কাউকে বলা-কওয়া লাগে নারে। শুধু আল্লাহ রাজি-খুশি থাকলেই হয়।"
এবারে যেন সবাই একসাথে বলে উঠলো,
"কট খেয়ে বিয়ে করতে গেলে। মানেহ..?"
-
প্রায় ২০ মিনিট পর......
ড্রয়িং রুমে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সবাই। সবার চোখে-মুখে চাপা উদ্বেগ, এক ধরণের অজানা ভয়। আর সব থেকে বেশি ভয় হিয়ার চোখে। তবে ভয় বা সংকোচের লেশমাত্র নেই মোমোর মাঝে। সে নিশ্চিতে সোফার ওপরে পা তুলে পুতুল হয়ে বসে আছে। যেন সে মাত্রই পৃথিবীতে এসেছে।
অন্যদিকে, শুভ্র মাথায় হাত দিয়ে ফ্লোরে বসে আছে। চিন্তার শেষ নেই তার। বাকিরা সবাই চুপচাপ। হঠাৎ সবার নিরাবতা ভেঙে হিয়া শান্ত গলায় শুভ্রকে জিজ্ঞেস করলো,,
"শুভ্র ভাইয়া। আপনাদেরকে মাঝে ঠিক কি হয়েছে। একটু পরিষ্কার করে বলবেন। প্লিজ!"
এতো সময় পর শুভ্র এই প্রথম দুই ঠোঁট ফাঁকা করলো। বিরক্তি কন্ঠে বলল,,
"সেটা আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছেন? আপনার বান্ধবীকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন না প্লিজ।"
রুদ্র এবারে চাপা বিরক্তিটা নিজের ভেতরে হজম করে, গম্ভীর গলায় বলল,,
"দেখছিস তো, ও কিছু বলছে না। তখন থেকে হেয়ালি করে চলেছে। তাহলে, এবার তুই অন্তত ক্লিয়ার করে বল সবটা।"
"হ্যাঁ। হেয়ালি তো করবেই। হেয়ালি করবে না? মেঘ না চাইতেই জল পেয়ে গেছে তো। তাই, এতো হেয়ালিপনা আসছে। অসভ্য, বদমাশ, ছ্যাচড়া মেয়ে একটা।"
শুভ্রর কথায় নাকের ডগা ফুলিয়ে তেজে সোফা থেকে উঠে আসলো মোমো। শুভ্রর মুখোমুখি হয়ে বলল,,
"এই দেখুন! একদম আমাকে গালি দিয়ে কথা বলবেন না। বলে দিলাম। আমি কি করেছি। হ্যাঁ? যে আমাকে এভাবে বলছেন। সামান্য একটা গান-ই তো গেয়েছি। আর তাতেই ওরা আমাদেরকে এভাকে কট দিয়ে দিবে। আমি কি বুঝতে পেরেছি?'
সামান্য থেমে মোমো আবার বলল,,
"আই থিংক, এদের এসব পাকনামির জন্য মানুষ এদেরকে গ্রামের গাইয়া-ভুত বলে। আসলে মানুষ ঠিকই বলে।"
মোমোর কথাটা শুভ্রর গায়ে বেশ লাগলো। সে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,,
"দেখো মেয়ে। একদম আমাদের গ্রামের মানুষদের গাইয়া-ভুত বলে অপমান করবে না। বলে দিলাম।"
"বলব। একশো বার বলবো। হাজার বার বার বলবো। আপনারা গাইয়া-ভুত, আপনারাই গাইয়া ভুত।"
শুভ্র রাগে মোমোর বাহু ধরে তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলো। আঙুল তুলে কিছু বলতে নিলো। তবে তার আগেই হিয়া দু'কানে হাত চেপে স্বজোরে চিল্লিয়ে বলল,,
"আপনাদের চুলা-চুলি শেষ হলে, আমাদের প্রশ্ন গুলোর উত্তর দিবেন প্লিইইইইজ!"
হিয়ার এক চিৎকারেই সবাই ঠান্ডা হয়ে গেলো। উত্তাপ্ত পরিবেশ টা মুহূর্তেই মিইয়ে গেলো। একটু বাদে মোমো সবটা বলার জন্য মুখ খুললো। কিন্তু, রুদ্র হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিলো। ঠান্ডা গলায় শুভ্রর উদ্দেশ্য বলল,,,
"তুই বল সবটা। শুরু থেকে শেষ কোথাও যেন কিছু বাদ না যায়।"
শুভ্র জিহবা দিয়ে ঠোঁট ভিজালো। এরপরে ছোটখাটো একটা গলা খাঁকারি দিয়ে বলতে শুরু করলো,,
"আমরা ছ'জন তো বাইকে করে ঘুরছিলাম। ফেরার সময় আবার তোমাদের দুইটা বাইক আগে উঠে যায়। আর এই মেয়ের ছ্যাঁচড়ামিতে আমি পড়ে যাই শেষে। তখন এই মেয়েকে গালি করতে করতে আমি দ্রুত বাইক টানার চেষ্টা করছি। তখন আবার এনি আবার পেছন টেনে ধরে বললেন,,
" শুভ্র! শুভ্র! ওই দেখো— মাঝ আকাশে বন্দুকের মাথা দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে।"
ওনার কথায় আমি চরম লেভেলের একটা টাস্কি খেলাম। দ্রুত ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালাম সেদিকে, দেখি ইটভাটার চিমনি দিয়ে ধোঁয়া উঠছে একটানা। আমি খানিকটা হেঁসে বললাম,,
"আরে গাঁধী! ওটা মাঝ-আকাশে বন্দুকের মাথা না। ওটা হলো চিমনি। যেটাকে দেখতে অনেকটা লম্বা পাইপ বা টাওয়ারের মতো। আর ওটার ভেতরে ইট পোড়ানোর সময় ওটার মাথা দিয়ে এমন ধোঁয়া বের হয়।"
তখন ম্যাডাম বুঝতে পারলেন যে ওটাকে ইটভাটার চিমনি বলা হয়। তিনি নাকি ছোট-বড়ো বেলা অবদি ওটার নাম অনেক শুনেছেন। পিকও দেখেছেন। কিন্তু, সরাসরি কখনো দেখা হয়নি। তাই, তিনি জেদ ধরলেন তাকে ওটা দেখিয়ে আনতে হবে।
আমি তাকে নিয়ে যেতে রাজি না হলে, তিনি আমাকে— মাঝ-রাস্তায় জরিয়ে ধরে আমার ইজ্জত লুটে নেওয়ার ভয় দেখালেন। অবশেষে, আমি নত স্বীকার করে তাকে নিয়ে গেলাম ভাঁটার ভেতরে।
সেখানে গিয়ে তিনি ইট-বালি, কাদা-ফরমা ইত্যাদি জিনিসগুলো এমনভাবে নেঁচে-নেঁচে ধরছিলেন যেন ওসব তিনি বাবার জন্মে দেখেন নাই। আবার তার এমন নাচ দেখে কিছু মানুষ তার দিকে এমন তাকাচ্ছিলো যেন তারা- তাদের বাবার জন্মে মেয়ে মানুষ দেখে নাই।
এরই মাঝে আমি হাজার বার ওনাকে বলেছি বাসায় ব্যাক করার জন্য। কিন্তু, কে শোনো কার কথা। ওরকম রত্ন ছেড়ে সে আমার সাথে বাসায় ফিরবে না। অবশেষে, তাকে নিয়ে গেলাম চিমনির কাছে। সেখানে তিনি এঁকিয়ে-বেঁকিয়ে বেশ কয়কটা পিক তুললেন। ততো সময়ে সন্ধ্যা নেমে গেছে।
আমি আবারো তাকে বাড়ি ফেরার জন্য বললাম,, কিন্তু, আমার কথা তো তার বা*লের সমান। তাই তিনি কাউয়া কাদের কন্ঠে গাইতে শুরু করলেন—
"সোনা রে..! সোনা রে..! কাছে আয় না রে..! ছোট্ট একটা ক্লিক করে.. সেলফি লে.. না রে..! সোনা রে.. সোনা রে..!"
বিশ্বাস করো ভাইয়া তার এই গান শুনে, আমার মনেহয় শুধু তার পা টা ধরতে বাকি ছিলো। যে,
"বইন.. তোর ভার্জিনি-টির কসম লাগে তুই এখানে এমন গান গাইস না। জায়গাটা ভালো না।"
সে তো আবার আমার খুব বাধ্য বইন...! তাই আমার কথায় সে গানটা ছেড়ে দিলো। আর আগের থেকে চারগুণ গলার স্বর বাড়িয়ে গাইতে শুরু করলো,,
"আয় না করি.. ফষ্টি-নষ্ঠি.. দেখতে নোনতা, খেতে মিষ্টি! ও সোনা। ও সোনা।"
আর এর কিছুক্ষণ পরেই সেখানকার লোকজন এসে ওনাকে মিষ্টি খাইয়ে দিয়ে গেলো। উমহু! শুধু ওনাকে না ভাইয়া। সাথে আমাকেও খাওয়ালো। এক্কেরে কালা কুচকুচে মিষ্টি খায়াইলো আমারে।
মুক্তার মালা ধরে-বেধে একটা বান্দরের গলায় পড়িয়ে দিলো গো ভাইয়া.......!
শেষ কথাটা মাথায় হাত দিয়ে, ন্যাকা সুরে, কেঁদে বলতে বলতে শুভ্র ধপাস করে সোফায় বসে পড়লো। আর তার কন্ঠে নাটকীয়তার সুরে পুরো ঘটনাটা শুনে উপস্থিত সবাই মাথায় হাত দিয়ে, মুখ হা করে, ধপ ধপ করে পরপর ফ্লোরে গড়িয়ে পড়লো।
চোয়ালে মুখে হাত দিয়ে সৌরভ মরা মরা গলায় বলল,, 'রিফাততত..!'
"হ, ভাই।"
"আমার আসলে কি রিয়াকশন করা উচিত বলতো? মুই হাসমু না কানমু? মুই হতাশ হমু না ডিজে সং ছাইরা লুঙ্গি ডান্স দিমু? মুই আসলে কিতা করমু ক তো ভাই!!"
"তুমি এক ট্যাঙ্কি পানির মধ্যে চুবিয়ে মরো ভাই। সাথে আমার জন্য এক বদনা পানি রাইখা দিও। আমি তাতেই দেহ ত্যাগ করবো।"
কিছু সময় পর রুদ্র শীতল কন্ঠে বলল,,
"হিয়া তুমি কিছু বলো!"
সোফার ওপরে, কপালে এক হাত ঠেকিয়ে বসে ছিলো হিয়া। রুদ্রর কথায় চোখ তুলে তাকালো সে। একেবার মিইয়ে যাওয়া গলায় বলল,,
"আমি আসলে বুঝতাছি না, আমার কি বলা উচিত।"
এরপরে মোমোর দিকে তাকিয়ে বলল,, "আমি কি বলব মোমো?"
এতো সময়ে ঠোঁট ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মোমো এবার ধপ করে হিয়ার পাশে হাঁটু ভেঙে বসে পড়লো। তড়িঘড়ি গলায় জোর দিয়ে বলল,,
"বিশ্বাস কর হিয়া। আমি ওই গাইয়া ভুত গুলোকে অনেক বার বোঝানোর চেষ্টা করেছি— যে আমি আর শুভ্রবাবু শুধুমাত্র বন্ধু। এছাড়া, আর কোনো সম্পর্ক আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু, ওই ভুত গুলো বুঝলো নারে। উল্টা ওরা আরো অনেক কথা বলল—
বলল, আমরা নাকি ফষ্টিনষ্টি করতে ওদের ওখানে গেছি। আমরা শহুরে মেয়ে-ছেলেরা নাকি ভেবেছি— ওদের ওখানে গিয়ে ফষ্টিনষ্টি করলে, কেউ কিছু বুঝতে পারবে না। আমরা শহুরে দেখে তারা আমাদের ভয় পাবে। কিন্তু, তারা তো এখন আর ভীতু নেই। তারা এখন সাহসী। আর সেই বা-লপাকা সাহসের জোরেই তারা ধরে বেঁধে আমাদের হাঙ্গা করাই দিছে....."
কথাগুলো বলেই মোমো মিথ্যা কান্নার সুর জুড়ে দিয়ে বলল,,
"নয়তো বিশ্বাস কর! আমি শুভ্রবাবুরে এইভাবে বিয়ে করতে চাইনি... আমার স্বাদের বাসর....'
হঠাৎ বাসরের কথা মাথায় আসতেই মোমো তাড়াতাড়ি চোখ মুছে নিলো। (যদিও তার চোখে কেনোই পানি ছিলো না।) এরপরে দ্রুত গলায় বলল,,
"হিয়া জানিস? ওই ভুতগুলো না আমাদের বাসর টা-ও ঠিকমতো করতে দিতে চায়নি রে। ওরা বলেছিলো, আজকের রাতটা ওদের ওই ঝুপড়িতে কাটিয়ে দিতে। কিন্তু, আমি রাজি হয়নি। আমার বিয়ের প্রথম রাত আমি ওই ঝুপড়িতে কেন কাটাবো বল?
ওই ঝুপড়িতে সারারাত মশার কামড় খাবো নাকি প্রেমালাপ করবো বল তো? এইজন্য, আমি দক্ষযজ্ঞ বাঁধিয়ে, ওদেরকে ভুলভাল বুঝিয়ে শুভ্রসোনাকে নিয়ে পালিয়ে এসেছি। হুহ.."
শুভ্রর সাথে বাসর নিয়ে মোমোর এতো আগ্রহ দেখে শুভ্রসহ সবাই মারাত্মক অবাক হলো। শুভ তো মোমোকে 'নির্লজ্জ মেয়ে' মেয়ে তকমাটা দিয়েই দিলো। আর সৌরভ তো বিস্ময় নিয়ে বলেই ফেলল,,
"ভাই! একটু দেখে-শুনে কথা বল। যার সাথে বাসর করার জন্য তুই এতো লাফাচ্ছিস তার বড়ো ভাইও কিন্তু এখানে উপস্থিত।"
মোমো ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল,,
"ভাসুর হওয়ার আগে সে আমার দুলাভাই হয়। আর দুলাভাই মানে হাফ জামাই!"
রুদ্র চোখ গোলগোল করে চাইলো মোমোর দিকে। মুখ হা করে বিরবির করে বলল,, "আসতাগফিরুল্লাহ!"
অন্যদিকে, সৌরভ চট জলদি মোমোর জবাব দিলো,,
"আর ভাসুর মানে হাফ শশুর!"
মোমো দাঁত কিড়মিড় করে বলল, "তোর মুখে ফুল চন্দন পড়ুক শালা।"
"আর তোর মুখে বোমা!"
তাদের এসব খুটিনাটি ঝগড়ার মাঝে হিয়া গম্ভীর গলায় হঠাৎ প্রশ্ন করলো,,
"তা এতো কিছু যখন হলো, তুই আমাদের কল করলি না কেন মোমো?"
মোমো আবারো ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো হিয়ার দিকে। গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,,
"হিয়া রে.. আমি তো বারবার, হাজার বার চেয়েছিলাম তোরে কল করতে৷ কিন্তু ওই মাইনকার পুতেরা আমারে কল করতে দেয়নি রে। ফোন দুইটা কাইড়া নিয়া গেম খেলতেছিলো ওরা। চারবার হ্যাং করছে ওরা আমার ফোনরে..! আমি বারবার ফোন চাইছি, কিন্তু ওরা ফোনগুলো দেয়নি। আমি...."
মোমো আর কিছু বলার আগেই থেকে শুভ্র মাথায় হাত দিয়ে চিল্লিয়ে উঠলো,
"সব মিথ্যা কথা হিয়াপু! সব মিথ্যা কথা। ওই লোকগুলো না বরং এই মোমোর বাচ্চাই আমাকে আপনাদেরকে কল করতে দেয়নি!"
মোমো কপালে ভাজ ফেলে বলল,,
"এসব আপনি কি বলছেন শুভ্রবাবু? আমি ওই লোকগুলোর সামনে কেঁন্দে কেঁন্দে ফোন চেয়েছি। আর আপনি কিনা বলছেন, আমি কল করতে চাইনি! এই আপনি বুকে হাত দিয়ে বলুন তো.. আমি হিয়া আর রুদ্র ভাইয়াকে কল করতে চাইনি?"
"হ্যাঁ। চেয়েছো। তবে পরিস্থিতিকে আগে লাথি মেরে বাউন্ডারির বাইরে বের করেছো। এরপরে হাতে ফোন চেয়েছো।"
সৌরভ : "এখানেও গন্ডগোল করে রেখেছিস চুন্নীর বাচ্চা।"
হিয়া : "ফোন নিয়ে আবার কি করেছে ও?"
শুভ্র : সন্ধ্যা নাগাদ আপনি যখন বারবার ওর ফোনে কল দিচ্ছিলেন, তখন ও বলল,,
"উফফফ! এই খবিশ হিয়ার বাচ্চাটা অনেক জ্বালাচ্ছে। বারবার কল করে আমার গান গাওয়ার মুডটাই নষ্ট করে দিচ্ছে!"
হিয়া এবারে চোখ রাঙিয়ে তাকালো মোমোর দিকে। মোমো একটা শুষ্ক ঢোক গিলে নিলো তাতে। শুভ আবার বলল,,
ও ফোনটা সাইলেন্ট করছে দেখে আমি আমার ফোনটা বের করলাম। যেন ভাইয়াকে সবটা জানাতে পারি, আর ওকে নিয়ে বাসায় ফিরতে পারি। কিন্তু, রিং হওয়ার আগেই আপনার বান্ধবী আমার হাত থেকে ফোনটা ছো মেরে কেড়ে নিয়ে বলল,,
"এই ফোনটা বড্ড ডিস্টার্ব করছে আমাদের কাজে। তাই না সোনা! চলো এটাকে সুইচ অফ করে বালুর মধ্যে ফেলে দেই।"
আর আপনার বান্ধবীর ওই দুইটা গান আর লাস্টে 'আমাদের কাজে ফোনটা ডিস্টার্ব করছে' কথাটা। সব মিলিয়ে দু'য়ে দু'য়ে যোগ করেই তো লোক গুলো আমাদের কে কট দিলো। শুধু তাই না হিয়াপু তুমি জানো....?
লোকগুলো আমাদের কে বিয়ে দেওয়ার আগে বলেছিলো- আমাদের পরিবারে কল করবে বা পুলিশে দিবে। আর আমি তাতে একপায়ে রাজি ছিলাম। যে পুলিশের কাছে গেলেও অতন্ত, এই বেয়াদপ মেয়েটাকে আমার বিয়ে করতে হবে না। কিন্তু, আপনার বান্ধবী এখানেও ব্যাগড়া দিলো। লাস্টে এসে এমন ঢং করলো, যেন আমরা সত্যিই ওখানে 'ইয়ে..ইয়ে..' করতে গেছিলাম।
শুভ্রর কথাটা শেষ হতেই হিয়া এমন রাগী চোখে দাঁত সিটকিয়ে তাকালো তার দিকে। তাতে মোমো করুণ কন্ঠে বলল,,
"আমার না.. অনেক দিনের ইচ্ছে ছিলো 'কট খেয়ে একটা পিওর বিয়ে' করার। মানে দেখ! এমনিতেও বিয়ে তো আমি তোর দেবর কেই করতাম.. তাই 'কট' খেয়ে করি আর ধুমধাম করে করি। তাতে কি যায় আসে বল?"
কেন জানি এই মুহূর্তে মোমোর এমন কথা শুনে কেউ না হেঁসে থাকতে পারলো না। রুদ্র মুখে হাত দিয়ে মিটমিটিয়ে হাসলেও রিফাত আর সৌরভ জোরেই হাসলো। হিয়াও অল্প হাসলো। তারপর আবার বলল,,
"বাসায় কিভাবে ম্যানেজ করবি? ভেবেছিস একবারও?"
"তার জন্য তো তুই আছিস! বাবু!" বলেই একটা ফ্লায়িং কিস ছুড়ে দিলো হিয়ার দিকে।
-
এতো সময়ে সিঁড়ি রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে বসার ঘরের সবার কথাই শুনছিলেন সাবিলা বেগম। কিন্তু, কথাবার্তার এ পর্যায়ে তিনি সবার মাঝে এগিয়ে আসলেন। শান্ত স্বরে ডাকলেন...
"রুদ্রনীল..!"
হঠাৎ সভার মাঝে সাবিলা বেগমকে দেখে সবাই হকচকিয়ে গেলো। মোমো তো ভয়ে একসের হলো। কেউ জানে না, সাবিলা বেগম ঠিক কতোটা শুনেছেন। আর এই বিষয়টাকে তিনি কিভাবে নিবেন? মোমোকে কি তিনি খুব বাজে মেয়ে ভাববেন? এমনিতেই হিয়া কিছুক্ষণ আগে সাবিলা বেগমের যে দৃঢ়তা দেখেছে। তাতে তার পরাণটাও ধুকপুক করছে।
কিন্তু, সবাইকে অবাক করে দিয়ে সাবিলা বেগম মোমোর কাছে গিয়ে তার কাঁধ ধরে তুলল। চোখে-মুখে হাত বুলিয়ে এনে হাতে চুমু খেয়ে মিষ্টি হেঁসে বললেন,,
"রুদ্রনীল! ঢাকায় মোমোদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করো। ছোট মেয়ে হিসেবে মোমোকে আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।"
সাবিলা বেগমের কথায় সবাই কিছু সময় থমকে থাকলো। এরপরে হুট করেই সবাই হাসলো। সবাই বেশ খুশি হয়েছে এই সিদ্ধান্তে। আর মোমো? সে তো লজ্জায় মাথা নিচু করে ঠোঁট কামড়ে হাসছে।
সাবিলা বেগম এবার হিয়ার কাছে এগিয়ে গেলেন। হিয়া মিষ্টি হেঁসে আন্টি বলে উঠে দাঁড়ালো। সাবিলা বেগম হিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,,
"মোমো তো বুদ্ধি করে আমার ছোট মেয়ে হয়েই গেলো হিয়া। তাহলে, তুই কবে আমার বড়ো হয়ে আসছিস?"
সাবিলা বেগমের এমন কথায় হিয়া কিছুটা ইতস্তত বোধ করলো। অন্য দিকে রুদ্র লজ্জায় দাঁত দিয়ে নখ কাটতে কাটতে বিরবির করলো,,
"এখন তোমাকে কিভাবে বলি আম্মু, সে তো বড়ো মেয়ে হওয়ার আগেই। তোমার ছেলের বাচ্চার মা হওয়ার মিশনে নেমেছে!"
সাবিলা বেগম হিয়াকে আবার বললেন,,
"ঢাকা যাওয়ার পর, মোমো আর শুভ্রর বিয়ের পাশাপাশি আমি যদি তোর আর রুদ্রর বিয়ের প্রস্তাবটাও তোর বাবার কাছে রাখি। তাহলে, তোর কোনো সমস্যা হবে না তো হিয়া।"
হিয়ার লজ্জায় মাথা নিচু করে চোখ বুজলো। এখন কি বলবে সে? নিজের বিয়ের কথা নিজেই বলবে? তাও আবার হবু শাশুড়ীকে?
"দেখ! ছোট হয়ে শুভ্রর বিয়ে তো হয়েই গেলো। তাহলে, বড় ছেলে রুদ্রর বিয়েটা কিভাবে ফেলে রাখি বল? আমি চাই, তোদের চার-চার আট'টা হাত একই দিনে জোড়া দিতে। মোমোর সিদ্ধান্ত তো পেয়েই গেলাম। এখন তোর কোনো অসুবিধা নেই তো?"
হিয়া মুচকি হেঁসে বিয়ের জন্য 'হ্যাঁ' বলে দিতে নিলো। কিন্তু, পরমুহূর্তেই কিছু একটা মাথায় আসতে তার মুখের হাসি আর লজ্জা যেন কোথাও উধাও হয়ে গেলো। চোখ দুইটা হঠাৎই লাল হয়ে গেলো। আর কর্কশ গলায় বলে উঠলো,,
"অসম্ভব!"
হিয়ার কন্ঠটা হঠাৎ কেমন জানি ভয়ংকর শোনালো। এতো সময়ের সেই মধুর কন্ঠের থেকে একেবারে আলাদা। সবাই অবাক হয়ে চোখ-মুখ কুঁচকে তাকালো তার দিকে। সাবিলা বেগমের কপালেও ভাজ পড়লো। হিয়ার এমন ব্যাবহারে। বিষয়টা হিয়া বুঝতে পেরেই তৎক্ষণাৎ কথা ঘোরালো।
"আ..আসলে আন্টি! আমি তো মাত্র সেকেন্ড ইয়ারে উঠেছি। এখনই যদি বিয়ে করে এখানে চলে আসি। তাহলে, তে পড়াশোনা টা বন্ধ হয়ে যাবে তাই না?"
মোমো : এটা কোনো কথা হলো হিয়া। রুদ্র ভাইয়া ও তো পড়াশোনার জন্য ঢাকা থাকে। তুই ও থাকবি ওখানে। এতে আবার বিয়ে না করার কি হলো?"
সৌরভ : এটা আবার কোনো লজিক হলো হিয়া?
সাবিলা বেগমও তাতে সায় মেলিয়ে বললেন, "হ্যাঁ! সেটাই তো।"
হিয়া আবারো আমতা আমতা করে বলল,,
"আ.. আসলে, আমি এ ব্যাপারে আব্বুকে এখনো কিছু বলি নাই তো। হুট করে তোমরা গেলে আব্বু সেটাকে কিভাবে নিবে না নিবে৷ আব্বু তো এখনো রুদ্রর ব্যাপারে জানে না কিছু। সে চায় আমাকে ব্যাংকার বানাতে। তো আব্বুকে বোঝাতে আমার একটু সময় লাগতো আরকি!"
কন্ঠটা একটু উৎফুল্ল করে বলল,,
"তাই বলছিলাম আন্টি, তুমি বরং মোমে আর শুভ্র ভাইয়ার বিয়েটা এখন দিয়ে দাও। আগে ওদের বিয়েতে উরাধুরা ডান্স করি, তারপর নাহয় আমার বিয়ে নিয়ে কান্নাকাটি করবো।"
সাবিলা বেগম হিয়ার মাথায় আবারে হাত বুলিয়ে বললেন,
"আচ্ছা। ঠিক আছে। তুই যেটা ভালো মনে করিস।"
মোমো হুট করে আলসেমি ছাড়তে ছাড়তে বলে উঠলো,,
"হ্যাঁ, হ্যাঁ, তুই বরং পড়াশোনা করে ব্যাংকার হ। আমি তে ঠিক করেই নিয়েছি, 'বিয়ের পরে আর পড়বো না, জামাই ছেড়ে দূরে থাকবে না!"
এরপরে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে চোখ টিপটিপ করে বলল,, "আমি ভালো বলেছি না সোনা?"
শুভ্র তাকে একটা মুখ ভেংচি দিলো। এরপরে কান্না সুরে সাবিলা বেগমকে বলল,,
"আম্মু! তুমি কিন্তু, জোর করে মুক্তার মালাটা বান্দরের গলায় ঝুলাচ্ছো!"
"তাহলে তুমি নিশ্চিত থাকো! মুক্তাগুলো অবশ্যই উলুবনে ছড়ানো ছিলো!"
সাবিলা বেগম স্থান ত্যাগ করলেন। আর তিনি যেতেই সেখানে হাসির রোল পড়লো। অন্যদিকে, শুভ্রর মুখটা চুপসে গেলো।
-
রাত প্রায় একটার দিকে... হিয়া জগে নেওয়ার জন্য সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগলো হাতে তার ফোনের ফ্লাশ জ্বালানো। তবে বসার ঘরে নেমে আসতেই সে সোফার ওপরে একটা অবয়ব দেখতে পেলো। অন্ধকার থাকার কারণে, সে পুরাপুরি লোকটাকে চিনলো না। তবে না চিনলেও হিয়া তাকে ভয় পেলো না। লোকটাকে দেখার জন্য হিয়া ফোনের ফ্লাশ সেদিকে ধরলো তার মধ্যেই হঠাৎ রুদ্র ড্রয়িং রুমের আলো জ্বালিয়ে দিলো।
তাকে দেখে হিয়া বুকে থুথু দিয়ে একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো। রুদ্র কিছু বললো না। হিয়া জগে পানি ঢালতে ঢালতে বলল,,
"তুমি! এতো রাতে এখানে কেন?"
রুদ্র বেশ কিছু সময় পর। সোফাতে বসেই উত্তর দিলো,,
"ঘুম আসছিলো না।"
"এতো রাত জাগা ঠিক না মিস্টার! যান গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন!"
কথাটা শেষ করে হিয়া দাঁড়ালো না। সে সামনের দিকে পা বাড়াতেই রুদ্র থামিয়ে দিলো তাকে।
"হিয়া..!"
হিয়া পেছন ঘুরলো। রুদ্র উঠে তার সামনে এসে দাঁড়াতেই হিয়া বলল,,
"কিছু বলবে?"
"হুমমম!"
"তো বলো!"
রুদ্র একটু আমতা আমতা করে বলল,,
"উমমম! হিয়া তুমি কি আমাকে বিয়ে করতে চাও না?"
হিয়া ফিক করে একটু হাসলো। ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,, "তোমার এমন কেন মনে হলো?"
"না। এমনিই। বলো, তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাও না আমাকে?"
"ভালো যখন তোমাকেই বেসেছি— তখন বিয়েটাও অবশ্যই তোমাকে করবো।"
হিয়ার কথায় রুদ্রর মুখে এক তৃপ্তির হাসি ফুটলো। এতো সময়ের দুশ্চিন্তা গুলো কোথাও যেন পালালো। তবে সে কিছু বলার আগেই হিয়া আবার বলল,,
"আমার শুধু একটু সময়ের প্রয়োজন রুদ্র!"
"সমস্যা নাই! যতো খুশি সময় নাও— তবে দিনশেষে আমার-ই হও!"
#চলবে~