ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে ছিলো অন্যরকম

২৮তম পর্ব

লেখক: পুষ্পিতা মেহরীন তিশা

#সে_ছিলো_অন্যরকম🥀

#পুষ্পিতা_মেহরীন_তিশা

#পর্ব- ২৮ (প্রথমাংশ)

এভাবেই কেটে গেলো আরও দুই মাস।

দুই পরিবােরের মতে শুভ্র আর মোমোর ও একটা ছোট্ট সংসার তৈরী হয়েছে। এই এতোগুলো দিনে তাদের একে-অপরের প্রতি বিশ্বাস-ভরসা তো বেড়েছে, তবে দা-কুমড়ার মতো ঝগড়া করার স্বভাবটা বদলায়নি একটুও। মোমো যে বলেছিলো, বিয়ের পরে সে আর পড়াশোনা করবে না। এখন সে সত্যিই পড়াশোনাটা ছেড়ে দিয়েছে। বর্তমানে তার সারাদিনের কাজ হলো, সাবিলা বেগমের পিছুপিছু ঘোরা আর শুভ্র আসা মাত্রই তার পেছনে লাগা। কখনো বা শুভ্রর আর্দশ স্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করা, আর কখনো বা শুভ্রর পিছে বোমা মারা। আর এভাবেই কাটছে তার দিনকাল!

-

অন্যদিকে, প্রথম বর্ষ শেষ করে হিয়া এখন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। রুদ্র ও এবার চতুর্থ বর্ষে। তাই বর্তমানে সে তার পড়াশোনা নিয়ে খুবই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। যার দরুণ— শুভ্রদের বিয়ে শেষ করে আসার পর থেকে তার আর হিয়ার মাঝে খুব একটা সখ্যতা হয়নি। হিয়া অবশ্য কয়েকবার রুদ্রর সাথে বেরোতে চেয়েছে কিন্তু রুদ্র-ই সময় করে উঠতে পারেনি! কিন্তু আজ....?

.

ভার্সিটি গেইট পেরিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে পা রাখতেই— হঠাৎ রুদ্র বিদ্যুৎ বেগে দৌড়ে এসে হিয়ার কোমর টাকে জরিয়ে নিয়ে, হিয়াকে উঁচু করে গোল গোল ঘুরতে থাকলো। আচমকা তার এমন কাজে হিয়া আঁতকে উঠলো। বুকের ভেতরে যেন ধুকপুকানি শুরু হলো তার।

অন্যদিকে, রুদ্রর যেন খুশির সীমা নেই। সে হাঁসছে। হিয়াকে ঘোরাতে ঘোরাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে উচ্চস্বরে প্রাণ খুলে হাসছে সে। তাকে এমন অদ্ভুত ভাবে হাসতে দেখে হিয়া বেশ অবাক হলো। তার কাছে রুদ্রকে আজ বেশিই প্রাণোচ্ছল লাগছিলো। সে রুদ্রর কাঁধ জরিয়ে ধরে আতঙ্কিত গলায় বলল,,

"রুদ্র! কি করছো? আমাকে নামাও প্লিজ। পড়ে যাবো তো!"

রুদ্র হিয়ার কথায় কোনো খেয়াল দিলো না, দেখে হিয়া আবারো বলল,,

"নামাও প্লিজ! দেখো আশেপাশের সবাই কিভাবে দেখছে আমাদের।"

রুদ্র এবারে থামলো। তবে হিয়াকে নামালো না। হিয়ার চোখে চোখ রেখে আহ্লাদী স্বরে বলল,,

"বউ প্লিজ! চলো না আমরা আজই বিয়ে করে ফেলি!"

বউ শব্দটা শোনা মাত্রই যেন হিয়া থমকে গেলো। তার বুকের ভেতরটায় কেমন অদ্ভুত অনুভূতি অনুভব করলো সে। বিস্মিত হয়ে ঠান্ডা স্বরে রিপিট করলো,,

"বউউ!"

রুদ্র এবার তাকে আলতো করে নিচে নামিয়ে দিলো। কোমরে দু'হাত রেখে মাথা নিচু করে ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলল,,

"ইয়েস, ম্যাম! বউ! আপনি আমার বউ! আমার এক আর একমাত্র বউ আপনি! আর আপনাতেই সীমাবদ্ধ আমি!"

শেষ কথাটা হিয়ার নাক টিপে দিয়ে বলল রুদ্র। আর হিয়া শুধু গোল গোল চোখে দেখলো তাকে। রুদ্রকে আজ অনেক খুশি দেখাচ্ছিলো। তার চোখে-মুখে আনন্দের শেষ ছিলো না।

"আমাদের ভালোবাসাকে একটা সুন্দর আর সামাজিক নাম দেওয়ার সময় এসে গেছে ম্যাম। তো চলুন, আমরা আজ, এখন, এই মুহূর্তেই বিয়ে করে ফেলি।"

রুদ্রর কথার মাঝেই হিয়া চোখ-মুখ কুঁচকে বলে উঠলো, "এ্যাঁ?"

"ইমম! খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না আপনাকে। আমি সবকিছু রেডি করেই রেখেছি। আপনি শুধু যাবেন, বসবেন, আর একটা সাইন করবেন। ব্যাস! আর বাকিটা আমি সামলে নিবো!"

এতো সময়ে রুদ্রর বিহেভিয়ার কে অদ্ভুত লাগলেও, এবার যেন সেটাকে পাগলামি মনে হতে লাগলো হিয়ার। সে নিজের মাথায় হাত দিয়ে বলল,,

"মাথার স্ক্রু কি সব খুলে গেছে? পাগল যে হইছো, বাসায় কি জানে?"

রুদ্র একটানে হিয়াকে কিছুটা কাছে টেনে নিলো। হিয়ার কোমরে একহাত রেখে ফিসফিসিয়ে বলল,,

"আপাতত, আপনি জানলেই চলবে ম্যাম। কজ, আমার পাগলামি গুলো অবশ্যই আপনি অবদি-ই সীমাবদ্ধ থাকবে।"

"তুমি কি সিরিয়াস?"

"নন সিরিয়াসের কি দেখলে?"

হিয়া একবার আশেপাশে তাকালো। চারিদিকে মানুষের সমাগম দেখে সে রুদ্রর হাতটা ধরে তাকে লেক পাড়ের দিকে নিয়ে গেলো। একটা নিরিবিলি জায়গায় যাওয়া মাত্রই সে রুদ্রর হাতটা ছেড়ে কোমরে হাত বেঁধে দাঁড়ালো।

"কি সমস্যা রুদ্র? তখন থেকে কিসব আগাগোড়া হীন কথা-বার্তা বলে যাচ্ছো? সবার সামনে এমন অদ্ভুত পাগলামি করার কারণ কি?"

হিয়ার এমন রাগে হুট করেই শান্ত হয়ে গেলো রুদ্র। চোখে আনন্দ অশ্রু রেখে শান্ত গলায় হিয়ার প্রশ্নের উত্তর দিলো।

"কারণ, তুমি আর সে!"

হিয়া ভ্রু কুঁচকে উতলা হয়ে জিজ্ঞেস করলো,,

"আমি আর সে মানে? আমি আর কে?"

"তুমি আর সে। যার অস্ত্বিত্ব এখন একটু একটু করে তোমার মাঝে বেড়ে চলেছে!"

"কার অস্ত্বিত্ব কার মাঝে বেড়ে চলেছে? এই তোমার মাথায় কি ঝিঁঝি পোকা ঢুকেছে...?"

হিয়া নিজের কথা পুরাপুরি শেষ করার আগেই নিজে থেকে থেমে গেলো। হঠাৎ কিছু একটা স্মরণে আসায় তার মুখটা গোল হয়ে নিঃশ্বাস ভারী হয়ে গেলো। হৃদয়ের স্পন্দন টা যেন হঠাৎ-ই কয়েকগুণ বেড়ে গেলো। হিয়ার মনে হলো তার পায়ের নিচ থেকে মাটিটা যেন সরে যাচ্ছে। হিয়া কয়েক কদম পিছাতে গেলো— তবে তার আগেই রুদ্র একহাঁটু ভেঙে বসে তার কোমর জরিয়ে নিলো।

হিয়ার হাত-পা ক্রমশ অবশ হয়ে আসছিলো। রুদ্র চোখ বন্ধ করে, ধীর গতিতে হিয়ার পেটে কয়েক বার মুখ ঘসলো। এরপরে ঠান্ডা স্বরে বলল,,

"হিয়া তুমি আমাকে কেন বলোনি, যে আমাদের ভালোবাসাকে পূর্ণতা দিতে কেউ একজন আসছে। কেন বলোনি— আমাদের ভালোবাসার সাক্ষী স্বরূপ একটা ছোট্ট প্রাণ! একটা, একটা ছোট্ট অস্ত্বিত্ব তোমার মাঝে বেড়ে উঠছে! তুমি.. তুমি আমার সন্তানের....'

কথাটুকু শেষ করার আগেই রুদ্রর কন্ঠস্বরটা কেমন জানি কেঁপে উঠলো। মনে হলো যেন, তার সব কথাই তার গলায় দলা পাকিয়ে যাচ্ছে। সে ধীর স্বস্তিতে চোখের পলক ফেললো একবার। আর টুপ করে দু'ফোটা নোনা পানি গড়িয়ে পড়লো তার চোয়াল বেয়ে। নিজেকে একটু সামলে সে আবারো হিয়ার পেটে চুমু খেয়ে বলল,,

"আমাকে কেন জানালে না জান? কেন একবার আমার সামনে এসে বললে না, আমার অংশ তোমার মাঝে আছে। কেন আমার অস্তিত্বের কথা আমাকে জানালে না? কেন জান?"

শেষ কথাটা বলার সময় রুদ্র হিয়ার পা দুইটা একটু জোরেই চেপে ধরলো। যার দরুণ, অন্যমনস্ক হিয়া কিছুটা শিউরে উঠলো। পরিস্থিতি সামাল দিতে—

মুখ গোল করে হাত দুইটা স্লো-মোশনে ডাউন করতে করতে কয়েকটা বড়ো বড়ো শ্বাস নিয়ে, নিজেকে সামলে নিলো হিয়া। রুদ্রর মাথায় একহাত রেখে কাঁপা গলায় বলল,,

"আ,আমি,আমি তোমাকে বল,বলতাম তো রুদ্র! আমি, আমি বলতাম তোমাকে সবটা!"

রুদ্র এবারে ঘাড় তুলে তাকালো হিয়ার দিকে। চোখে পানি চিকচিক করছে। কাতর স্বরে বলল,,

"কবে বলতে হিয়া? সে পৃথিবীতে আসার পরে? নাকি তার ঠিক দু'দিন আগে?"

হিয়া কোনো উত্তর দিলো না। শুধু জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট দুইটা ভিজিয়ে নিলো। রুদ্র উঠে দাঁড়িয়ে হিয়ার ছোট্ট মুখটাকে তার দু'হাতের ভেতরে নিয়ে নিলো। ধীর গতিতে একটা চুমু খেলো হিয়ার কপালে। এক আঙুল দিয়ে চোয়ালে স্লাইড করতে করতে তাচ্ছিল্য সুরে বলল,,

"অলরেডি ২২দিন হয়ে গেছে হিয়া। অথচ, তুমি আমাকে এই কথাটা জানানোর প্রয়োজন বোধ করোনি! আচ্ছা, তুমি কি তার আগমন বার্তায় খুশি নও?"

"রুদ্র...?" হিয়ার কণ্ঠটাও এবারে বেশ কাতর শোনালো। রুদ্র ভ্রু কুঁচকে চোখ বড়ো করে তাকালো তার দিকে। হিয়ার চোখেও পানি জমেছে,মুহুর্তেই লাল হয়ে গেছে তার চোখ দুইটা। তাকে এভাবে দেখে রুদ্র বিচলিত কন্ঠে বলল,,,

"আরে,আরে! রিলাক্স জান। আমি আসলে ওইভাবে বলতে চাই নাই। আমি তো জাস্ট মজা করে...! আচ্ছা, তুমি চলো আমার সাথে।"

কথাটা শেষ করেই রুদ্র হিয়ার হাতটা ধরে সামনের দিকে পা বাড়াতেই হিয়া জিজ্ঞেস করলো,,

"কোথায় যাচ্ছি আমরা?"

রুদ্র হাঁটতে হাঁটতেই উত্তর দিলো,,

"তুমি আমার বাচ্চার আম্মু হতে চলেছে হিয়া। অথচ, তুমি এখনো আমার বৈধ বউ নও। ব্যাপারটা, বড্ড বেমানান জান।"

রুদ্রর কথার ইঙ্গিতে হিয়ার আর বুঝতে বাকি রইলো না— রুদ্র তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ মুখ গম্ভীর করে পা থমকে দাঁড়ালো হিয়া। রুদ্র তার হাত ধরে থাকায় হিয়া থেমে যাওয়া মাত্রই রুদ্র কপাল কুঁচকে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকলো।

"দাঁড়িয়ে পড়লে যে?"

হিয়া ঠোঁট উল্টিয়ে কিছুটা করুণ স্বরে বলল,,

"আমার সাথে একটা জায়গায় যাবে রুদ্র?"

রুদ্র হেঁসে জবাব দিলো,,"যাবো। অবশ্যই যাবো।"

এরপরে ঘাড় ঘুরিয়ে হিয়াকে নিয়ে সামনের দিকে আরো দু'পা বাড়িয়ে বলল,,

"তবে সেটা আমাদের বিয়ের পর।"

কথাটা বলার সাথে সাথেই হিয়া আবারো থেমে গেলো। রুদ্র এবারে ঘাড় ঘুরিয়ে তার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ তার হাতটা ছেড়ে দিলো। হালকা হেঁসে কোমরে দু-হাত রেখে হিয়ার আরো কিছুটা কাছে গিয়ে দাড়িয়ে বলল,,

"আমার এমন কেন মনে হয় হিয়া— তুমি আমার সাথে থাকতে চাও, তবে আমাকে বিয়ে করতে চাও না! তুমি আমাকে কন্ট্রোল করতে চাও, কিন্তু তোমার ওপরে আমার কোনো হক রাখতে চাও না! আজকাল বড্ড অদ্ভুত লাগে তোমায়। এমন কেমন মনে হয় বলো তো?"

হিয়া এককথায় কাটা জবাব দিলো,,

"কারণ, এই সবটা তোমার একপাশিক চিন্তা-ধারা, তোমার মনের ভুল এটা!"

"আমার মনে ভুল? উমমম, হ্যাঁ! হয়তো আমার-ই ভুল!"

কথা বলে রুদ্র আবারো হিয়ার হাত ধরে হাঁটতে চাইলো। তবে হিয়াকে সরাতে পারলো না।

"তুমি জেদ দেখাচ্ছো হিয়া।"

"তাহলে মনে করো এটাই তোমাকে দেখানো আমার শেষ জেদ!"

রুদ্র কিছু বলতে চাইলো— তবে তার আগেই হিয়া দৌড়ে এসে রুদ্রর হাত দুইটা নিজের হাতের মাঝে নিয়ে আহ্লাদী স্বরে বলল,,

"প্লিজ! রুদ্র! শুধু একবার আমার সাথে চলো, আমি একজনের সাথে তোমাকে দেখা করাতে চাই। কথা দিচ্ছি, সেখান থেকে ফিরে আসার পর, আমি আর তোমাকে আমার ওপরে কোনো অভিযোগ করার সুযোগ দিবো না। শুধু একবার তার সাথে দেখা করতে চলো। প্লিজ!, প্লিইইইজ!"

রুদ্র কোনো প্রতিউত্তর করলো না। শুধু বিস্মিত চোখে তাকালো হিয়ার দিকে। হিয়াকে আজ তার বড্ড অচেনা মনে হচ্ছে। সে আজ একই সঙ্গে একই স্থানে হিয়ার দুইটা স্বত্তাকে আবিষ্কার করেছে। যার একটা তার ভীষণ চেনা, আর অন্যটা ততোটাই অচেনা।'

-

প্রায় দুপুর নাগাদ হিয়া রুদ্রকে নিয়ে একটা ছোট্ট ভাড়া বাড়ির সামনে গিয়ে পৌঁছালো। বাড়িটা লোক সমাগম শহরের থেকে বেশ অনেকটা দূরে। হিয়া পরপর দু'বার কলিং বেল বাজালো। রুদ্র চারপাশটা বেশ ভালো করে ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখে বলল,,

"এইটা কোন জায়গা হিয়া। আর এরকম একটা নির্জন জায়গায় এই বাড়িতে থাকেই বা কে?"

"আমার খুব কাছের আর খুব প্রিয় একটা মানুষ থাকে এখানে!"

"আমার থেকেও প্রিয়?"

"হয়তো!" অল্প হেঁসে জবাব দিলো হিয়া। আর তাতেই যেন রুদ্রর মুখটা আরো গোমড়া হয়ে গেলো।

.

হঠাৎ ভেতর থেকে একজন মাঝ বয়সের মহিলা এসে দরজাটা খুলে দিলো।

"হিয়া! তুই?"

হিয়া ভেতরে যেতে যেতে উত্তর দিলো, "জ্বি চাচি আমি! কেমন আছো তমি?"

এরপরে রুদ্রর উদ্দেশ্য বলল,, "রুদ্র ভেতরে আসো!"

হিয়ার চাচি রুদ্রর দিকে একবার তাকিয়ে হিয়াকে বলল,,

"ওই আছি কোনোরকম। তা তোর কি অবস্থা? তুই তো আজকাল এদিকে আসা ছেড়েই দিয়েছিস! ভুলে গিয়েছিস আমাদের?"

"আরে না চাচি। তেমন কোনো ব্যাপার না। আসলে, আজকাল ঠিক সময় করে উঠতে পারি না। আচ্ছা, আপু কোথায়? ও কেমন আছে এখন?"

মেয়ের কথা শুনতেই হিয়ার চাচির মুখটা হঠাৎ মলিন হয়ে উঠলো। সে কান্না আঁটলে আফসোসের স্বরে বলল,,

"কি আর অবস্থা! ওর অবস্থা কি আর পরিবর্তন হয় মা। তুই যা না একবার, গিয়ে দেখে আয় ওকে!"

হিয়া 'আচ্ছা' বলে রুদ্রকে নিয়ে সামনের দিকে পা বাড়ালো। তবে হিয়ার চাচির বিহেভিয়ার টা রুদ্রর কাছে বেশ অদ্ভুত লাগলো। মানে হিয়ার সাথে তার বাসাতে একটা ছেলে প্রবেশ করলো, অথচ তিনি একবারও জানতে চাইলেন না 'ছেলেটা কে'! সৌজন্য মুলক কথাটুকু ও তিনি বললেন না। বিষয়টা বেশ অপমানজনক লাগলো রুদ্রর কাছে।

-

কথা বলতে বলতে হিয়া রুদ্র কে নিয়ে একটা রুমে প্রবেশ করলো। রুমটা পুরা অন্ধকারে ঘেরা ছিলো। হিয়া রুমের আলোটা অন করতেই রুদ্র খেয়াল করলো—

রুমটা বেশ গোছানো। বেড থেকে শুরু করে আলমারি পর্যন্ত রুমের প্রতিটা জিনিস দারুণ গোছানো। দেখে মনেই হচ্ছে— এই রুমটাতে কেউ থাকে না তবে রোজ এখানে পরিষ্কার করা হয়। হিয়া রুমে আলমারির দিকে এগোতে এগোতে ডাক ছাড়লো—

"প্রিয়া'পু! প্রিয়া'পু কোথায় তুমি। প্রিয়া আপুউউউ!

আলমারির কাছে যেতেই রুদ্র দেখলো— সাদা থ্রি-পিচ পড়া একটা মেয়ে দুই হাঁটুর মধ্যে মাথা দিয়ে হাত ভাজ করে গুটি-শুটি মেরে বসে আছে। হিয়া তার পাশে গিয়ে বসে তার কাঁধে দু-হাত রেখে সুন্দর করে ডাকলো—

" প্রিয়া'পু! তুমি এখানে এভাবে বসে আছো কেন বলোতো? দেখি তাকাও তো আমার দিকে!"

হিয়া একহাতে আলতো করে মেয়েটার মুখটা উঁচু করলো। ভারী মিষ্টি চেহারা তার। গায়ের রং একেবারে দুধে-আলতা। চুলগুলোও বেশ পরিপাটি, তবে মুখটা বেশ জরাজীর্ণ। চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল। দেখে মনে হচ্ছে, সে একেবারে নিস্তেজ,নাদান একটা বাচ্চা।

"প্রিয়া'পু! দেখো আমি তোমার সাথে দেখা করাতে কাকে এনেছি। ওর নাম রুদ্র। আমার বন্ধু ও। তুমি চিনো ওকে?"

হিয়ার কথায় প্রিয়া বেশ খানিকটা সময় নিয়ে ফ্যালফ্যাল চোখে তাকালো রুদ্রর দিকে। রুদ্রর শরীর টা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো সাথে সাথে। তবুও সে মুখে হাসি রাখার চেষ্টা করলো।

এরপরে হিয়া তাকে বিছানায় এনে বসালো। পরিপাটি মেয়েটাকে আরেকটু পরিপাটি করার চেষ্টা করলো। বেশ অনেকটা সময় তার সাথে গল্প করলো, বার কয়েক তার মুখটা তুলে রুদ্রকে দেখালো। তবে মেয়েটা কোনো রেসপন্স করলো না। কখনো শুধু ফ্যালফ্যাল চোখে তাদের দিকে তাকালো কখনো বা দু'চোখ বেয়ে অশ্রু ঝড়ালো।

-

সকালের সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়েছে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়তো সন্ধ্যা নামবে। নির্জন রাস্তার এক সাইড জুরে ধীর পায়ে হেঁটে চলেছে রুদ্র-হিয়া।

হিয়া কখনো কখনো রাস্তার সাইডে পড়ে থাকা বোতল বা চিপসের প্যাকেট গুলোতে পা দিয়ে দূরে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আর রুদ্র প্যান্টের পকেটে দু-হাত রেখে ঠান্ডা মাথায় কিছু ভেবে চলেছে— আজকের দিনটা কেমন অদ্ভুত কাটলো তার!

সকালটা তো বেশ অন্যরকম আনন্দ আর হাসি দিয়েই শুরু হয়েছিলো। তাহলে, শেষটা কেন এতো গুমোট হলো। তার বুকের ভেতরটা এমন অস্থির অস্থির লাগছে কেন? মনে হচ্ছে যেন, কোনো অজানা ভয় তাকে গ্রাস করছে। বুকের ভেতর সহ চারপাশটা বড্ড খালি খালি লাগছে তার!

"তো মিস্টার! কেমন দেখলে আমার প্রিয় মানুষ আমার প্রিয়া'পু কে?"

হিয়ার কথায় রুদ্র শান্ত চোখে তাকালো তার দিকে। একটু সময় নিয়ে ঠান্ডা গলায় জিজ্ঞেস করলো,,

"ওনি তোমার চাচাতো বোন?"

"হুম! আমার বড়ো চাচ্চুর এক আর একমাত্র কন্যা সে। ছোট থেকেই সবার বেশ আদরের!"

"আমাকে হঠাৎ তার সাথে দেখা করাতে নিয়ে গেলে কেন?"

রুদ্রর এই কথায় হিয়া হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে পড়লো। তার উজ্জ্বল চোখ দুইটা মুহূর্তেই নোনাজলে ভরে উঠলো। রুদ্র পেছন ফিরে তার কাছে যেতেই, সে ঠোঁট ফুলিয়ে শব্দ করে কান্না করে দিলো। রুদ্র বিচলিত হয়ে তাকে বুকে জরিয়ে নিতে নিতে বলল,,

"আরে, আরে তুমি কাঁদছো কেন হিয়া? আমি কান্না করার মতো... আচ্ছা, আমি কি ভুল কিছু বলে ফেলেছি? ভুল হলে ক্ষমা করে দাও প্লিজ!

"আমার আপুটা, আগে এমন ছিলো না জানো! ও আমার মতোই চঞ্চল আর হাসিখুশি ছিলো। পুরা বাড়িকে মাতিয়ে রাখতো ও। কিন্তু, শুধু এক রাতের ব্যবধানে ও রঙিন দুনিয়াটা অন্ধকারে ছেঁয়ে গেলো।"

"একরাতে কি এমন হয়েছিলো তার সাথে?"

হিয়া রুদ্রর বুক থেকে মাথা উঠিয়ে- একহাতে চোখের পানি মুছে, সামনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে বলল,,

"বলবো অন্য কোনো দিন। আজ নয়!"

"আচ্ছা! তাহলে এবার তুমি কান্না থামাও প্লিজ!"

এরপরে আবারো দুজন হাঁটতে শুরু করলো। কিছুক্ষণ বাদে রুদ্র বলল,,

"হিয়া!"

"হুম!"

"যদি কিছু মনে না করো, তাহলে তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি!"

"কি কথা?"

"আচ্ছা, তোমার আপু কি ছোটবেলার থেকেই এমন নাকি এর পেছনে কোনো বিশেষ কারণ?"

"হঠাৎ এমন প্রশ্ন?"

"না এমনি! (একটু থেমে) বলো না!"

"উমম, ছোটবেলা থেকে আপু ঠিকই ছিলো। এই তিন বছর হলো আপু এমন ট্রমায় চলে গেছে! কেন বলো তো?"

"নাাা মানে, তোমার আপুকে না- আমার খুব চেনা চেনা লাগলো। মনে হলো এর আগেও আমি ওনাকে কোথাও দেখেছি। কিন্তু, কোথায় দেখেছি, ঠিক মনে করতে পারছি না!"

রুদ্রর কথায় হিয়া হঠাৎ থেমে দাঁড়ালো। নিচের ঠোঁট অল্প হেসে বলল,,

"তাইলে, আর মনে করার চেষ্টাও কইরো না। সময় হলে আমি নিজেই তোমাকে সবটা মনে করিয়ে দিবো। শুধু শুধু ব্রেইনে চাপ দিয়া লাভ নাই!"

রুদ্র আর কিছু বলল না। কিছুক্ষণ পরে হিয়া নিজেই আবার বলল,,

"রুদ্র! তুমি জানো, আমার আপুর এমন অবস্থার পেছনে কে দায়ী?"

"না।"

"কিন্তু, আমি জানি!"

"কে দায়ী?"

"তুমি!"

হিয়ার এমন চট করে দেওয়া উত্তরে রুদ্র ভড়কে গেলো। থেমে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য গলায় বলল,,

"আমি?"

হিয়া এবারে ফিক করে হেঁসে দিলো। রুদ্রর ডান হাতটা জরিয়ে হাঁটতে শুরু করে বলল,,

"আরে মজা করছিলাম!"

রুদ্র একটা লম্বা শ্বাস ছেড়ে বলল,,

"তাই বলো! নয়তো, আমার তো রূহ টাই বেরিয়ে যাচ্ছিলো!"

"আচ্ছা তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"

"বলো!"

হিয়া থেমে দাঁড়িয়ে কোমরে দু-হাত রেখে একবার গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,,

"আমাদের যে একটা ছোট্ট বাবু আসতে চলেছে! এই খবরটা তোমাকে কে দিয়েছে?"

"রিফাত!"

"রিফাত??"

"হুহ, তুমি যে ডক্টরের কাছে চেক-আপের জন্য গিয়েছিলে সে রিফাতের আম্মু! আজ সকালে কোনো কারণে হয়তো, রিফাত তার আম্মুকে আমাদের ফুলনার ফটো অ্যালবাম দেখাচ্ছিলো। তখন তোমাকে দেখা মাত্রই ওর আম্মুকে ওকে এই কথাটা বলে। আর ও আমাকে!"

"আচ্ছাাাাা! তো এই ব্যাপার!"

"হুম। তবে তোমার একটা কাজে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি জানো!"

"কোন কাজে?"

"এই যে, 'যেখানে আমার সন্তানের মা স্বয়ং উপস্থিত- সেখানে আমাকে তার আগমন বার্তা অন্য কারোর থেকে শুনতে হলো! এটা কি ঠিক হলো বলো?"

"এটা আমার ভুল হয়েছে। তবে আজকে তোমার ব্যবহারে আমিও বেশ হার্ট হয়েছি রুদ্র!" বলেই ঠোঁট ফোলালো হিয়া।

"যাহ বাবা! আমি আবার কি করলাম?"

"আজ সকালে প্রথম দিকে তো তুমি ঠিকই ছিলে। কিন্তু, তোমাকে নিয়ে যখনই আমি লেক পাড়ের কাছে গেলাম। তুমি কেমন জানি সিরিয়াস হয়ে গেলে। আমাকে সন্দেহ করে কি কি না বললে!"

হিয়ার যে তার ওপরে অভিমান হয়েছে। এটা বুঝতে পেরেই রুদ্র বলল,,

"সত্যি বলি?"

"না মিথ্যা বলো!"

রুদ্র জিহবা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলতে শুরু করলো,,

"আসলে, আমার মনে হয়েছিলো তুমি হয়তো আর আমাকে ভালোবাসো না। তোমার জীবনে আমাকে আর চাও না। তাই সেই জায়গা থেকে ডেস্পারেট হয়ে ওভাবে কথাগুলো বলে ফেলেছি!"

"হঠাৎ এমন হওয়ার কারণ?"

"আমাদের বিয়ের কথা উঠলে তুমি সব সময় পিছিয়ে যাও। বিয়েটা না করার জন্য হাজার'টা বাহানা দেখাও। আবার তোমার গর্ভে আমার সন্তান আছে এটা জানার পরও তুমি আমার থেকে লুকিয়েছো। এই সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়েছিলো, তুমি হয়তো আমাকে বিয়ে করতে চাও না। আমাকে...."

"আমি তো সত্যিই তোমাকে বিয়ে করতে চাই না রুদ্র!"

হিয়ার কথায় হাঁটতে থাকা রুদ্রর পা দুইটা হঠাৎ নিজে থেকেই থমকে দাঁড়ালো। ভ্রু দুইটা কুঁচকে উঠে মুখে এক অবিশ্বাসের হাসি ফুটলো। কারণ, হিয়ার কন্ঠে কোনো রসিকতা ছিলো না। কথাটা সে যথেষ্ট সিরিয়াসনেস নিয়েই গম্ভীর স্বরে বলেছিলো। রুদ্র ঘাড় ফিরিয়ে বলল,,

"মানেহ?"

"শেষ দিকে এসে আমার অভিনয়টা বড্ড কাঁচা হয়ে গেছিলো তাই না রুডি বয়?"

হিয়া মশকরা করছে ভেবে রুদ্র আবারো হাসলো। হিয়ার বাহু ধরে তাকে বুকে টেনে নিয়ে বলল,,

"তুমি তো আমার পাক্কা অভিনেত্রী। তোমার অভিনয় কাঁচা হওয়ার চান্সেই নো এন্ট্রি!"

"রুদ্র তুমি জানো, আমি তোমাকে কেন ভালোবেসেছি?"

"কেন ভালোবেসেছো?"

"তোমাকে মারার জন্য!"

রুদ্র এবারে হিয়ার মাথায় একটা চুমু খেয়ে, তাকে বুকের ওপরে থেকে আলগা করে বলল,,

"এখন মজা করার সময় নয় জান। দেখো, আশপাশটা বেশ নির্জন। শুধু গাছপালা ছাড়া কিছুই চোখে পড়ছে না। আমাদের আগে এখান থেকে বেরোনো উচিত!"

"তুমি কি ভয় পাচ্ছো?"

"যার কাঁধের ওপরে, নিজের সন্তান আর নিজের ভালোবাসার দায়িত্ব রয়েছে। তাকে ভয় পেলে চলে না জান!"

হিয়া এবারে হো হো করে হেঁসে উঠলো। তার এই হাসিতে রুদ্র কিছুটা কেঁপে উঠলো। কারণ, তার হাসিরা বেশ অদ্ভুত ছিলো।

"আমার দায়িত্ব তোমাকে নিতে হবে না জান। আর রইলো বাকি ওই ভ্রুণের কথা? ও তো পৃথিবীতেই আসবে না, তাহলে ওর দায়িত্ব তুমি কিভাবে নিবে বলো?"

হিয়ার শেষ কথাটা রুদ্রর একটুও পছন্দ হলো না। এতো সময়ের শান্ত রুদ্রটা হুট করেই যেন চটে গেলো। কন্ঠে রাগ নিয়ে কিছুটা চেঁচিয়ে বলল,,

"Hiya, stop joking around. I can't take this anymore."

রাগের মাথায় কথাটুকু বলার পরই রুদ্র মুখ গোল করে বড়ো বড়ো কয়েকটা শ্বাস ছেড়ে নিজেকে শান্ত করলো। এরপরে হিয়ার কাছে এসে তার মুখে হাত রেখে কপালে একটা চুমু দিয়ে কাতর গলায় বলল,,

"এসব তুমি কি বলছো হিয়া! নিজের অনাগত সন্তানকে নিয়ে কেউ এমন কথা বলে বলো?"

"সন্তান? কিসের সন্তান? ওই ভ্রুণ আমার কোনো সন্তান-টন্তান নয়। ও শুধু আর শুধুমাত্র আমার একটা ভুল 'আমার পাপের ফল'!"

হিয়ার কথাটা বলতে দেরী হলেও, রুদ্রর তার ওপরে চেঁচিয়ে থাপ্পড় তুলতে দেরী হলো না। তবে হাতটা সে হিয়ার চোয়াল অবদি নিয়েই আবারো নিচে নামিয়প নিলো।"

হিয়া তার এমন কাজে হাসতে হাসতে বলল,, "কি হলো মারবে আমাকে? তো মারো না। মারো! হাত নামিয়ে নিলে কেন?"

রুদ্র হিয়ার কথার কেনো জবাব দিলো না। শুধু রাগে ফুঁসতে থাকলো। তার নাকের ডগা থেকে চোখ পুরাটাই রাগে লাল হয়ে গেছে। সে শক্ত হাতে হিয়ার ডানহাতের কব্জিটা চেপে ধরলো। একপা বাড়িয়ে রাগ চেপে বলল,,

"চলো আমার সাথে!"

রুদ্র তাকে নিয়ে সামনে দুই পা এগোনো মাত্রই তাদের সামনে পরপর তিনটা বাইক এসে তাদেরকে ঘিরে ধরলো। রুদ্র বেশ অবাক হয়ে হিয়ার দিকে তাকালো একবার। এরপরে হিয়ার হাতটা আরো শক্ত করে চেপে ধরে, ছেলে তিনটার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল,,

"এরা তো সেই ছেলেগুলো। যারা আগেও একবার হিয়ার পিছু নিয়েছিলো। আর সেখান থেকেই আমাদের ভুল বোঝাবুঝির শুরু হয়েছিলো। গতবার এদের জন্যই তাদের মাঝে দূরত্ব বেড়েছিলো। তবে এবারে রুদ্র আর কোনো দূরত্ব চায় না। এখন সে স্ট্রং!'

" কিরে দুলাভাই! বৌদিরে নিয়ে কই যান?"

কথাটা কানে আসা মাত্রই রুদ্র রাগে চোখ বুজে নেয়। একটু বাদে, দাঁত চেপে ছেলেগুলোর উদ্দেশ্য জিজ্ঞেস করে,,

"কি চাই তোদের?"

ছেলেগুলো হাসতে হাসতে একজন একজন করে বলল,,

"তোর গার্লফ্রেন্ডকে চাই।"

"তুই না বলেছিলি, তোর গার্লফ্রেন্ড কোন বা'ল ছেড়া পুলিশের বোন? তো এবার আমরা ওই বালছেড়া পুলিশের বোনকে নিয়েই বাসর করতে..."

বাকিটা শেষ করার আগেই রুদ্র তার মুখ বরাবর একটা লাথি দেয়। আর মুহূর্তেই সেখানে একটা সিন ক্রিয়েট হয়। বেশ কিছু সময় ধস্তাধস্তির পর, একটু পালানোর সুযোগ পাওয়া মাত্রই রুদ্র হিয়াকে নিয়ে রাস্তার পাশে গাছ-গাছালির মধ্যে দৌড় দেয়।

হিয়া প্রথম দিকে তার সাথে সমান তালে দৌঁড়ালেও কিছুদূর যাওয়ার পর হিয়া থমকে দাঁড়িয়ে যায়। রুদ্র সাথে সাথে ঘাড় ঘুরিয়ে বিচলিত হয়ে বলল,,

"দাঁড়িয়ে পড়লে কেন হিয়া। এখন দাঁড়ানোর সময় নয়। ওরা যেকোনো সময় চলে আসতে পারে। প্লিজ চলো এখান থেকে। একবার লোকালয়ে উঠে গেলে আর কোনো সমস্যা হবে না!"

কথাটা শেষ করে রুদ্র হিয়ার হাত ধরে আবারো দৌড়াতে চাইলো। তবে হিয়া নড়লো না। রুদ্র রাগে বিরক্তিতে পেছন ঘুরে তাকাতেই হিয়া রোবটের মতো করে বলল,,

"আমি বলেছিলাম, আমি তোমাকে মারতে চাই!"

এই সময়ে হিয়ার এমন কথায় রুদ্রর মেজাজ যেন সপ্তম আকাশে পৌঁছালো। সে রাগে গিজগিজ করতে করতে বলল,,

"তোর এসব বা'লের প্যাঁচাল পরে মারিস। একবার নিরাপদ জায়গায় পৌঁছাই তারপর তোর এসব ঢং দেখানোর জন্য অনেক টাইম পাবি!"

তবে রুদ্রর এই কথাগুলো যেন হিয়ার কান পর্যন্ত পৌঁছালো না। সে পূর্বের ন্যায় বলল,,

"আর আমি তোমাকে মারতেই চাই!"

কথাটুকু শেষ করেই হিয়া হেঁচকা টানে রুদ্রকে তার ওপরে এনে ফেললো। আর রুদ্রর পিঠে একহাত রেখে অন্য হাতের ছুরিটা স্বজোরে তার পেটে গেঁথে দিলো।

হিয়ার কাঁধে ঢলে থাকা রুদ্র প্রথমে হয়তো ছুরির আঘাত'টা টের পেলো না। তবে দ্বিতীয় বার হিয়া যখন তার পেটে আবারো ছুরি বসালো- তখন তার গলা দিয়ে একটা চাপা স্বর বেরিয়ে এলো।

স্বপ্নের মতো লাগা ঘটনাটাকে বিশ্বাস করার জন্য, সে যখন-ই নিজের পেটের কাছে বাড়ালো- হিয়া তৃতীয় বারের মতো তাকে আঘাত করলো। আর তার পরই তাকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিলো।

ঠোঁট কামড়ে হাসতে হাসতে বলল,,

"আর আমি তোমাকে মেরেই দিলাম! সত্যিই মেরে দিলাম!"

#চলবে~

আজকের পার্টটা একটু বেশিই নাটকীয়।🙂 পুরাই বোরিং!💔

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন