#সে_ছিলো_অন্যরকম
#পুষ্পিতা_মেহরীন_তিশা
#পর্ব- ২৯ (প্রথমাংশ)
২৯দিন পর...
রাত ৮টা নাগাদ নিজের টিউশনি শেষ করে বাসায় চলেছে হিয়া। আহনাফও আছে তার সাথে। আজকাল রাত-বিরাতে কোথাও বেরোলে অথবা টিউশনি শেষে বাসায় ফিরতে হলে আহনাফ সেইফটির সাথে হিয়াকে তার বাসায় পৌঁছে যায়। আর আজও তার ব্যতিক্রম নয়। ব্যস্ত শহরের শান্ত গলির ভেতর দিয়ে নিরিবিলি রাস্তায় তারা হেঁটে চলেছে।
"হিয়া!"
"হুম!"
"তোমার কোনো ফিলিংস হচ্ছে না?"
"কিসের জন্য?"
"এই যে, আর মাত্র দু'দিন পর আমাদের বিয়ে। তারপর একটা নতুন বাড়ি, একটা নতুন সংসার, কিছু নতুন মানুষ—তাদের সাথে মানিয়ে নেওয়া। ইত্যাদি, ইত্যাদি। এসব কিছু নিয়ে তোমার টেনশন হচ্ছে না?"
"টেনশন কিসের আহনাফ ভাই! আমাদের তো শুধু কলমাটা হবে। তুলে তো আর নিয়ে যাচ্ছেন না। যখন তুলে নিয়ে যাবেন, তখন নাহয় দু'ফোটা চোখের জল ফেলে দেবো! হবে না?"
হিয়ার এমন কথায় আহনাফ হঠাৎ থেমে দাঁড়ালো। মুহূর্তেই হিয়ার হাত দুইটা নিজের হাতে নিয়ে শান্ত তবে কিছুটা গম্ভীর স্বরে বলল,
"হিয়া! আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি। সেই ছোটবেলা থেকেই।"
"আমিও আপনাকে হেব্বি পালোবাসি আহনাফ ভাই। তবে বড়োবেলা থেকেই!"
দুষ্টামির সুরে কথাটা বলল হিয়া। আর তাতেই আহনাফ অল্প হাসার চেষ্টা করলো। হিয়ার দু'হাতের ওপর স্লাইড করতে করতে পূর্বের ন্যায় বলল,
"কিন্তু, আমার ভয় হয়... কোথাও আবার তোমার মনে রুদ—"
আহনাফ তার কথা শেষ করার আগেই হিয়ার হাসি মিলিয়ে গেলো। ভ্রু কুঁচকে ঠোঁট শক্ত হয়ে উঠলো তার। মুহূর্তেই সে আহনাফের হাত ছাড়িয়ে চোয়াল শক্ত করে বলল,
"আহনাফ ভাই, প্লিজ! আমি ওর ব্যাপারে আর কোনো কথা বলতে চাই না। ওর নাম আর কখনো আমার সামনে উচ্চারণ করবেন না। আমি ওকে ভুলে থাকতে চাই!"
"কিন্তু, ও তোমার..."
"Let the past remain the past. I want to think about my future. And my future is you! My Ahnaf Vai."
কথাটা শেষ করে হিয়া তাকালো আহনাফের দিকে। আহনাফ চোখ কুঁচকে ঠোঁট ফুলিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে। তাকে এভাবে দেখে হিয়াও একটু চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করলো,
"কি হয়েছে আহনাফ ভাই?"
আহনাফ কিছুটা অভিমানী গলায় উত্তর দিলো,
"আর মাত্র দু'দিন পর আমাদের বিয়ে। অথচ, তুমি এখনো আমাকে ভাই ডাকছো? হিয়া—আমি তোমার বাচ্চার বাবা হতে চাই, মামা নয়!"
'বাচ্চার বাবা' কথাটা শোনা মাত্রই হিয়া ভড়কে উঠলো। বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠলো তার। তবে নিজের এই অস্থিরতা বেশিক্ষণ টিকতে দিলো না। নিজেকে সামলে মুহূর্তেই ফিক করে হেঁসে দিলো। এরপরে হেয়ালি সুরে বলল,
"V-তে 'বালোপাসি', A-তে 'আপনাকে', I-তে 'মুই'!"
হিয়ার কথায় আহনাফ চোখ বড়ো করে বিস্মিত হয়ে তাকালো তার দিকে। হিয়া পরপর ভ্রু নাচাতেই আহনাফ হতাশ হয়ে বলল,
"তোমার লজিক দেখে আমি শিহরিত, হিয়া!"
"তাইলে, একটা কম্বল এনে দেই? পেঁচিয়ে শুয়ে থাকবেন রাস্তায়, শিহরণ পালাবে মাটির তলায়!"
এরপর দু’জন একসাথে হেসে উঠলো। কথা বলতে বলতে তারা একেবারে হিয়াদের বাসার সামনে চলে এসেছে। হিয়া একবার বাসার দিকে চোখ বুলিয়ে আহনাফের উদ্দেশে হাসিমুখে বলল,
"এবার তাহলে, আমি যাই। আহনাফ ভাই!"
আহনাফ ‘হুম’ বলে মাথা নাড়াতেই হিয়া হাসতে হাসতে সামনের দিকে পা বাড়ালো। তবে হিয়া কয়েক পা এগোতেই আহনাফ শীতল কণ্ঠে ডেকে উঠলো,
"হিয়া!"
হিয়া ‘হুম’ বলে ঘাড় ঘোরাতেই আহনাফ এগিয়ে এসে তার মুখে হাত রাখলো। চোখে চাপা অস্থিরতা, কণ্ঠে গাম্ভীর্য—মনে হচ্ছিলো কিছু বলবে। কিন্তু, পরমুহূর্তেই কথা বদলে নিলো। শ্বাস ছেড়ে অল্প হাসি দিয়ে বলল,
"সাবধানে যেও। আর ফ্রি হয়ে কল করো। আমি অপেক্ষা করবো তোমার!"
হিয়া মাথা দুলিয়ে বলল, "ওকে!"
আহনাফ হিয়ার মুখে আলতো ছোঁয়া দিয়ে বলল, "লাভ ইউ!"
কথাটা বলেই বাসার পথে পা বাড়ালো সে। হিয়া কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো তার পেছনে। সে দূরে চলে যেতেই হিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘুরে দাঁড়ালো।
এমন সময় কেউ পেছন থেকে তার কাঁধে হাত রাখলো। আহনাফ ভেবেই হিয়া চোখ বন্ধ করে শ্বাস ছাড়লো।
"আহনাফ ভাই! আবার কি—"
কথাটা শেষ করার আগেই সে ঘুরে দাঁড়ালো। কিন্তু মুখ ফেরাতেই জমে গেলো। নিঃশ্বাস গলার কাছে আটকে এলো, কয়েক কদম পিছিয়ে গেলো ভয়ে। চোখ এমনভাবে বড়ো হয়ে উঠলো যেন কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে। শুষ্ক গলায় ফিসফিস করে বলল,
"রু... রুদ... রুদ্র...!"
তার থেকে মাত্র এক হাত দূরে দাঁড়িয়ে রুদ্র—কালো হুডির দু’পকেটে হাত গুঁজে, সোজা হয়ে। ঠোঁট নড়ছে ধীরে, যেন চিবুচ্ছে কিছু। চোখে অদ্ভুত স্থিরতা, ঠাণ্ডা দৃষ্টি হিয়ার ওপর গেঁথে আছে। পাঁচ সেকেন্ডের মতো মাথা থেকে পা অবধি তাকিয়ে থেকে সে স্বাভাবিক গলায় বলল,
"Where is my baby? Killer-heart ."
---
ঘড়ির কাঁটা রাত প্রায় নয়টা ছুঁইছুঁই। হিয়ার রুমের মৃদু আলোয় সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে পায়ের ওপর পা তুলে বসে আছে রুদ্র। তার মুখে যেন একরকম অনড় স্থিরতা, কিন্তু সেই স্থিরতার আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়ঙ্কর কিছু অচেনা ভাব। তার ঠিক পাশেই সিম্পল বধূবেশে বসে আছে হিয়া। সাদা-লাল শাড়ি, মাথায় পাতলা ওড়না, কিন্তু সাজগোজে কোনো উজ্জ্বলতা নেই—চোখ-মুখে শুধু তীব্র রাগ আর ক্ষোভ। কোলের ওপর রাখা হাত দুটো বারবার কচলাচ্ছে সে, যেন ভিতরে জমে থাকা চিৎকার আর কান্না আটকে রাখতে লড়াই করছে।
রুদ্র-হিয়ার ঠিক সামনে কাঠের চেয়ারে বসে আছেন একজন কাজী সাহেব—গম্ভীর মুখে কাগজপত্র সাজিয়ে নিচ্ছেন। তার ডানদিকে সোফায় বসে আছে রিফাত আর তার ছোট ভাই রাহাদ। রাহাদের উরুর ওপর বসে আছে হিয়ার ৯বছরের ছোট ভাই জিসান—ক্ষুদ্র শরীরটা যেন আতঙ্কে আরও গুটিয়ে গেছে। জিসানের দুই হাত শক্ত করে আঁকড়ে আছে রাহাদের জামা, চোখে অদ্ভুত ভয়, আর ঠোঁট কাঁপছে থরথর করে।
তাদের থেকে খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে আছেন হিয়ার আব্বু। স্থির দৃষ্টি এখনো আটকে আছে ছোট ছেলে জিসানের মুখে, যেন তিনি এই মুহূর্তে চারপাশের সব শব্দ-ছবি ভুলে গেছেন। সেই দৃষ্টিতে মিশে আছে অসহায়তা, ভয় আর অদ্ভুত এক শূন্যতা। চারপাশে এক পিনপতন নীরবতা।
ঘরের মধ্যে সেই দমবন্ধ করা নিরবতা হঠাৎ ভেঙে গেলো। সোফায় গা এলিয়ে বসে থাকা রুদ্র চোখ বন্ধ করে সেন্টারফ্রুট চিবিয়ে দুষ্টামি ভরা হুংকার দিলো—
"তাড়াতাড়ি কবুলটা বলে দাও, কিলারহার্ট। রাত যত বাড়ছে, আবেগ ততই জোর পাচ্ছে। আই ওয়ান্ট টু বাসর উইথ ইউ।"
রুদ্রর কথায় হিয়ার শরীরটা যেন ছাই হয়ে ওঠে, রক্তের ভিতর আগুন জ্বলে উঠল। দাঁত কেপে কেপে সে বলল—
"অসভ্য, বদমাশ, লুইচ্চা, লম্পট মানুষ একটা! আমি মরে গেলেও তোমাকে বিয়ে করবো না।"
রুদ্র হঠাৎ সোফা থেকে মাথা তুলে সামনের দিকে একটু ঝুঁকে বসলো। ডান চোখ টিপ দিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল—
"লুচ্চামির বেশ কিছু প্রকারভেদ হয় জান। আজ তোমাকে সেই প্রকারভেদগুলো শেখানোর ইচ্ছে খুব জোরে করছে।"
এতটুকু বলেই আবার গা এলিয়ে সোফাতে শুয়ে পড়ল রুদ্র। তার কণ্ঠ তখন আরও জোরে—
"তাড়াতাড়ি কবুলটা বলো তো, কিলারহার্ট। আজ তোমার জন্য একটা ছোটখাটো ক্লাস বাকি আছে।"
হিয়া গর্জে উঠল, কিছুটা চেঁচিয়ে—
"বলেছি, আমি তোমাকে বিয়ে করবো না! নিজের মায়ের খুনীকে আমি জীবনেও বিয়ে করবো না।"
রুদ্র মাথা তুলে ভ্রু দুইটা সটান করল। মুখ থেকে সেন্টারফ্রুটটা পাশের দিকে ফেলে দিয়ে ঠাণ্ডা গলায় বলল—
"আমি যদি আমার সন্তানের খুনীকে বিয়ে করতে পারি, তাহলে তুমি কেন তোমার মায়ের খুনীকে বিয়ে করতে পারবে না?"
একটু থেমে সে হিয়ার ছোট ভাই জিসানের দিকে ইশারা করে বলল—
"তাড়াতাড়ি কবুলটা বলো। না হলে, মায়ের পর এবার ভাইকেও হারাবে। আর তোমার যে বাপ—"
রুদ্র হিয়ার আব্বুকে সরাসরি একবার তীক্ষ্ণ চোখে দেখে বলল—
"সাত চড়েও কথা বলবে বলে মনে হয় না। তাই বুদ্ধিমতীর মতো কাজ করো, তাড়াতাড়ি কবুল বলো আর আমার গলায় ঝুলে পড়ো। কথা দিচ্ছি, সারাজীবন ঝুলিয়েই রাখবো, কখনো স্থায়ী হতে দিবো না।"
শেষ কথাটা বলার সময় আবার হিয়াকে ঠোঁটে ছাপানো হাসির সঙ্গে চোখ টিপ দিলো রুদ্র। এরপরে শান্ত স্বরে হাত ইশারায় জিসান কে তার কাছে ডাকলো।
"এদিকে এসো তো শালাবাবু। তোমার সাথে একটু পরিচিত হই। তোমার আপু বা আব্বু তো আর পরিচয় করাবে না। তাই আমি নিজে থেকেই পরিচিত হচ্ছি। এসো এদিকে এসো।"
রুদ্রর শান্ত ডাকে জিসানের গলাটা যেন ভয়ে শুকিয়ে গেলো। সে যেতে না চাইলে, রাহাদ তাকে এনে রুদ্রর উরুর ওপরে বসিয়ে দিলো। ভয়ে আরো গুটিয়ে গেলো সে। হিয়া তাকে আশ্বাস দিয়ে তার হাতটা ধরতেই রুদ্র ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলল,,
"খুব ভালোবাসো না তোমার ভাইকে?"
হিয়া ঘৃণা ভরা চোখে তার দিকে তাকাতেই রুদ্র আবার বলল,,
"হুম! তোমার নিজের ভাই তো। ভালোবাসার-ই কথা। আচ্ছা, ওর জীবনও তোমার হাতে। সেটা জানো তো?"
এরপরে হিয়ার কানে ফিসফিসিয়ে বলল,,
"এই ছোট্ট ছেলেটাকে বাঁচাতে চাইলে,তাড়াতাড়ি আমাকে কবুল করো! নয়তো আমার যে অবস্থা করেছিলে, সেইম অবস্থা তোমার ভাইয়েরও করবো!"
রুদ্র হাসিমুখে হিয়াকে ইশারা করলো, হিয়া রাহাদের দিকে তাকাতেই দেখলো- রাহাদের একটা স্প্রে আর একটা ধারালো চাকু। যেটা সে নিজের পেছনে লুকিয়ে রেখেছে।
মুহূর্তেই হিয়ার বুকের ভেতর একটা মোচড় দিয়ে উঠলো। সে একবার তার ছোট ভাইয়ের দিকে তাকালো আর সাথে সাথেই যেন একটা ভাঙন অনুভব করল, নিজের ছোট ভাইয়ের চোখে থাকা অসহায়তাটা স্পষ্ট দেখল। সে পরপর তার বাবার চোখের দিকে তাকালো- আর মুহুর্তেই তার বাবা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। মনে মনে হয়তো বলতে চাইলো-
"আমি প্রথম থেকেই বলেছিলাম হিয়া- এই খেলা খেলিস না। আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কখনো কারো মৃত্যু হয়না। মানুষ তো অছিলা মাত্র!"
সবটা পর্যবেক্ষণ করে হিয়া একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। আর সেই অমোঘ ভয় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চেয়ে, এক গভীর শ্বাস নিয়ে কণ্ঠ নরম করে বলল—
"আমি... আমি কবুল করছি।"
মুহূর্তেই হিয়ার বাবা তার চোখ দুইটা বন্ধ করে নিলো। আর রিফাত, রাহাদ হাত উঠিয়ে শুকরিয়া আদায় করলো। রুদ্র তার ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলল,
"দ্যাট'স মাই কিলারহার্ট! নিজের আপনজনকে আগলে রাখি, আর অন্যের আপনজনকে এবোর্শন করিয়ে ফেলি!"
হঠাৎ একফোঁটা পানি বের হলো রুদ্রর চোখ থেকে, তবে সেটা গড়িয়ে পড়ার আগেই রুদ্র এক আঙুলে সেটা মুছে নিলো। এরপরে দুষ্টামি ভরা গলায় কাজীর উদ্দেশ্য বলল,,
"আবার প্রথম থেকে শুরু করুন কাজী চাচা। এবারে পাবেন বিয়ের আসল মজা!"
-
সবকিছুর শেষে বিয়ে পড়িয়ে রাত প্রায় সাড়ে নয়টার দিকে কাজী সাহেব চলে গেলেন। পুরা রুম জুড়ে তখন আবারো নিস্তব্ধতা। মাঝে মাঝে শুধু শোনা যাচ্ছে, হিয়ার ফুপিয়ে উঠার আওয়াজ।
রিফাত : "রুদ্র এবার তাহলে আমরা যাই? আমাদের কাজ তো শেষ।"
রুদ্র সোফা থেকে উঠে রিফাতের কাঁধে হাত রেখে বলল,,
"শুধু তোরা একা কেন যাবি রে! সাথে করে আমার এই বুইরা শশুর আর পিচ্চি শালাবাবু টাকেও নিয়ে যা। এখন আমাদের পার্সোনাল টাইম স্পেন্ড এর সময়। সেখানে মেয়ে-জামাইয়ের রোমাঞ্চে তারা ব্যাগড়া দিবে বিষয়টা ভালো দেখায় না। নিয়ে যা ওনাদের!"
কথাটা শেষ করে রুদ্র ঘাড় ঘুরে তাকাতেই- হিয়ার আব্বু তার সামনে এসে দাঁড়ালেন। বয়সটা খুব বেশি না এই ৫০-৫১ হবে। তবে মুখে লম্বা লাল দাঁড়ি আর পরণে পাঞ্জাবির কারণে বয়সটা তার একটু বেশিই লাগে। দাঁড়ির আড়ালের তার মুখের অবয়ব টা ঠিক বোঝা গেলো না। তবে ঠোঁটে লেগে থাকা উপহাসের হাসিটা চিনতে রুদ্রর ভুল হলো না। তিনি গম্ভীর আর সতর্ক গলায় বললেন,,
"বাবা হিসেবে আমি ব্যর্থ হতে পারি- নিজের সন্তানকে সঠিক শিক্ষা দিতে পারিনি। তবে মানুষ হিসেবে আমি ব্যর্থ নই। একটু সম্মান পাওয়ার যোগ্যতা আমিও রাখি!' এসো জিসান!"
হাসিমুখে কথাটা বলেই তিনি জিসানের হাত ধরে রুম ত্যাগ করলেন। আর তার যাওয়ার পানে বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইলো রুদ্র, রিফাত,রাহাদ। রুদ্রর মনে হলো- 'লোকটা হয়তো তার মেয়ের এই কর্মে শামিল ছিলো না!'
রাহাদ : 'তাই কি এই পুরোটা সময় সে একটা কথাও বলল না?'
হঠাৎ রুদ্র তার মাথাটা ঝাড়া দিয়ে উঠলো। আর তড়িঘড়ি করে বলল,,
"সে সব নিয়ে কাল সকালে ভাববো। আপাতত, আমি বাসর করবো। চল বেরো এখান থেকে। কাবাব মে হাড্ডি নেহী চাহিয়ে মুঝে!"
এসব কিছু বলতে বলতেই রুদ্র ঢেলে তাদেরকে বের করে দিলো। এরপরে দরজার ছিটকিনি টা আঁটকে, বাঁকা হেঁসে হিয়ার দিকে এগোতে লাগলো। রুদ্র এই চলনের ওপর হিয়ার নজর পড়তেই তার ভেতরটা যেন শুকিয়ে গেলো ভয়ে। শুষ্ক ঢোক গিলতে গিলতে সে নিজেকে আরো গুটিয়ে নিলো সোফার এক কোণে।
রুদ্র ধীর পায়ে তার এগিয়ে এসে- তার দিকে তাকিয়ে ভ্রু সটান করে বাঁকা হাসলো। হিয়া আরেকটু পেছতে চাইলেই- রুদ্র তার একহাত টেনে তাকে সোফা থেকে উঠিয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। হিয়ার দমটা যেন বন্ধ হয়ে আসতে লাগলো। রুদ্রর পরবর্তী চাল আঁচ করতে পেরেই সে ছাড়া পেতে চাইলো।
রুদ্র আরো শক্তহাতে হিয়ার কোমরটা জড়িয়ে নিলো। অন্যহাতে হিয়ার মুখে স্লাইড করতে করতে মুখ দিয়ে বার কয়েক 'চ' জাতীয় শব্দ উচ্চারণ করলো। এরপরে শীতল স্বরে বলল,,
"খুউউউব! চেয়েছিলে না- আমাকে জমের দুয়ারে পাঠিয়ে আমার সন্তানকে শেষ করে! আহনাফের সাথে সুখের সংসার গড়বে? মাঝখানে আমি ফিরে এসে সবটা এলোমেলো করে দিলাম তাই না কিলারহার্ট?"
হিয়া ভয়ে ভয়ে কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে চাইলো- তবে তার আগেই রুদ্র এক ধাক্কায় তাকে সোফাতে ফেলে দিলো। আর নিজে একলাফে সোফাতে শুয়ে মাথাটা রাখলো হিয়ার কোলে। মিইয়ে যাওয়া গলায় নিজেকে ডিফেন্স করার মতো করে বলতে চাইলো-
#চলবে~