ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে ছিলো অন্যরকম

৩২তম পর্ব

লেখক: পুষ্পিতা মেহরীন তিশা

#সে_ছিলো_অন্যরকম

#পুষ্পিতা_মেহরীন_তিশা

#পর্ব- ৩০

হাসপাতালের করিডোরে এলোমেলো পায়ে, পেছনে হাত বেঁধে উদ্বিগ্ন হয়ে পায়চারি করছে শুভ্র। আর তাকে চোখের সামনে রেখে তার থেকে কিছুটা দূরে, মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ নিয়ে মাথা নিচু করে বসে আছে সাবিলা বেগম। তার পাশেই অশ্রুভেজা চোখে বসে আছে মোমোর আম্মু আমিনা বেগম। চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে তার। তবে মুখে কোনো শব্দ নেই— আছে শুধু ভয়ের আভাস।

প্রায় ঘন্টা খানেক হয়ে গেলো— ডেলিভারির জন্য মোমোকে কেবিনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো নার্স বা ডাক্তার বাইরে আসার খবর নেই। হিয়া জানে না, এসব কাজে আসলে কতোটা সময় লাগে। তবে এই সময়টুকুই তার কাছে অনেক বেশি মনে হচ্ছে। টেনশনে তার হাতের তালু ঘেমে উঠেছে। শুভ্রর মতো সেও এদিক-ওদিক পায়চারি করছে।

অন্যদিকে, রুদ্র বুকের কাছে দু'হাত বেঁধে ওয়ালে হেলান দিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরে ভেতরে তারও টেনশন হলেও, বাইরে সে নিজেকে পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।

"মোমোকে তো অনেক সময় হলো নিয়ে গেছে আম্মু। এখনো কেন ডাক্তার বাইরে আসছে না বলো তো? আর কতো সময় লাগবে?"

সাবিলা বেগমের পাশে বসে উদ্বিগ্ন গলায় প্রশ্ন করলো শুভ্র। সাবিলা বেগম তার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কিঞ্চিৎ লম্বা করে হাসলেন। শুভ্রর মাথায় হাত রেখে শান্ত গলায় বললেন—

"একটা নবজাতক শিশুকে তার মায়ের গর্ভ ফেড়ে এই পৃথিবীতে আনবে। একটু তো সময় লাগবে, তাই না!"

একটু থেমে তিনি আবার বললেন—

"তুই এতো চিন্তা না করে, একটু শান্ত হয়ে আমার পাশে বস তো দেখি!"

দুশ্চিন্তায় মাখা মুখ আর ভেজা তালু নিয়ে শুভ্র গিয়ে বসলো সাবিলা বেগমের পাশে। এসম হিয়া আমিনা বেগমের কাঁধে হাত রেখে আত্মবিশ্বাসী গলায় বলল—

"শুভ্র ভাইয়া, কাকীমা আপনারা চিন্তা করবেন না— আমাদের মোমোর কিচ্ছু হবে না। ও অনেক স্ট্রং একটা মেয়ে। দেখবেন, ও ঠিক একটা কিউট বেবি নিয়ে সুস্থ আর সবল ভাবে আমাদের মাঝে ফিরে আসবে!"

হিয়ার কথায় আমিনা বেগম আর শুভ্র দুজনেই তার দিকে তাকালো— মুখে একটু হাসি ফোটানোর চেষ্টা করলো। অন্যদিকে, আরেক জোড়া চোখের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি হিয়ার এই হাসিকে খেয়াল করলো।

---

কিছুক্ষণ বাদে— হিয়া যখন কেবিনের দরজার বাইরে থেকে ছোট্ট কাচের ছিদ্র দিয়ে ভেতরটা দেখার চেষ্টা করছিলো, তখনই কেউ একজন তার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে আওড়ালো—

"বললে দরজাটা খুলে দেই? তুমি ভেতরে গিয়ে আরাম করে দেখো। চাইলে ভিডিওও করতে পারো! বাইরে এসে সবাইকে দেখাবে!"

ফিসফিসানি সুরে হিয়া কিছুটা ভড়কে গিয়ে পেছন ফিরতেই দেখলো— রুদ্র দু'হাত পেছনে বেঁধে তার দিকে ঝুঁকে আছে। সে মুখ ঘুরিয়ে নিতেই রুদ্র সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আবার বলল—

"দরজাটার ওপর এমনভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়েছো, ভেঙে গেলে তো জরিমানার টাকা আমাকেই দিতে হবে। শান্ত হয়ে এক জায়গায় বসা যায় না তাই না?"

হিয়া যেন কিছু বলতে নিয়েও মুখের ভেতরেই আটকে নিলো। এমন সময় ভেতর থেকে ডাক্তার বেরিয়ে আসতে দেখেই— সবাই ভিড় জমালো তার সামনে।

ডাক্তার হাসিমুখে জানালেন, "আপনার একজন পুত্র সন্তান হয়েছে মি. শুভ্র! মা এবং বেবি দুজনেই সুস্থ আছেন!"

ডাক্তারের মুখে এমন কথা শুনে সবার চোখে-মুখে আনন্দের বন্যা বয়ে গেলো। একসাথে বলে উঠলো—

"আলহামদুলিল্লাহ!"

---

একটু বাদে সবাই মোমোর কেবিনে প্রবেশ করলো। একজন নার্স বাচ্চাটা কোলে করে শুভ্রর কাছে দিলো। শুভ্র পরম আবেশে তার সন্তান কোলে নিয়ে দু'চোখ ভরে দেখলো তাকে—

বাচ্চাটা তার অর্ধখোলা চোখ মেলার চেষ্টা করছে। মাথাটা আলতো করে নাড়াচ্ছে কখনো কখনো। আবার মুখ থেকে জিহ্বা বের করে আবার ভেতরে নিচ্ছে। কেন জানি বাচ্চার এই এলোমেলো প্রচেষ্টা দেখে শুভ্রর চোখে পানি চলে এলো। একটু শব্দ করে হেসে উঠলো সে। ভাঙা গলায় বলল—

"ছেলে... আমার ছেলে..! কি ছোট্ট একটা শরীর। ছোট্ট ছোট্ট দুইটা হাত, দুইটা পা। একটুখানি একটা নাক, আর চিকন দুইটা লাল ঠোঁট।"

এতোটুকু বলেই শুভ্র আবারো হেসে দিলো। হঠাৎ বাচ্চাটা একটু নড়ে উঠতেই শুভ্র ভয় পেয়ে গেলো। বুকটা শুকিয়ে গেলো। মনে হলো, আরেকটু হলেই বাচ্চাটা কোল থেকে পড়ে যেতো।

এমন সময় পাশ থেকে হিয়া আনন্দিত গলায় বলল—

"শুভ্র ভাইয়া! ওকে একবার আমার কাছে দিন না। দেখতে কতো আদুরে লাগছে ওকে। ইশশ! কি কিউট হয়েছে বেবিটা। একদম ওর মায়ের মতো!"

হিয়া হাত বাড়াতেই শুভ্র বাচ্চাকে দেওয়ার জন্য উদ্যত হলো— তখনই হঠাৎ রুদ্র এসে বাচ্চাকে নিয়ে নিলো। হিয়া আর শুভ্র দুজনেই মুখ ছোট করে তাকালো তার দিকে। রুদ্র বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে শুভ্রকে বলল—

"মোমের তোকে দরকার। একবার ওর পাশে গিয়ে বস!"

শুভ্র লজ্জা হেসে মোমোর পাশে বসতেই রুদ্র হিয়ার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল—

"আমি চাই না— আমার ভাইপো'র শরীরের দ্বিতীয় স্পর্শটা কোনো খু*নীর হোক!"

হিয়ার মুখের মিষ্টি হাসিটা মুহূর্তেই মিলিয়ে গেলো। লজ্জায় মাথা নিচু করে সে রুদ্রর থেকে দুই হাত সরিয়ে নিলো। রুদ্র বাচ্চাকে তার মায়ের কাছে দিয়ে সবার উদ্দেশে বলল—

"আই থিংক, আমাদের শুভ্র আর মোমোকে একটু স্পেস দেওয়া উচিত!"

রুদ্রর কথায় সবাই শুভ্র আর মোমোর দিকে তাকালো। আমিনা বেগম মোমোর মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন—

"তোরা তাহলে একটু কথা বল। আমরা বাইরেই আছি!"

একটু বাদে সবাই কেবিন থেকে বেরিয়ে যেতেই শুভ্র মোমোর এক হাত নিজের দু'হাতের মাঝে নিয়ে বেডে বসলো। ভেতরের কান্না আর খুশি আটকে রাখতে এলোমেলোভাবে মোমোর হাতে কয়েকটা চুমু খেলো। মোমো মিষ্টি হেসে বলল—

"শুভ্র, আমাদের ছেলে...! আমাদের ছেলে! খুব মিষ্টি হয়েছে না ও? একদম ওর বাবার মতো?"

মোমোর কথার মাঝেই শুভ্র চিন্তিত আর গম্ভীর গলায় বললো—

"মোমো তুমি ঠিক আছো তো? কতো রক্ত বেরিয়ে গেছে তোমার? খুব বেশি ব্যথা করছে তাই না? এখনে ব্যথা হচ্ছে কি?"

মোমো মুচকি হেসে শুভ্রর হাতে হাত রেখে বলল—

"না। আপাতত ঠিক আছি। কোথাও ব্যথা করছে না।"

"তাহলে, কি পরে ব্যথা হবে?"

"হ্যাঁ। অবশ কেটে গেলে, তখন একটু যন্ত্রণা হতে পারে।"

শুভ্রর মুখ কুঁচকে গেলো। চিন্তিত হয়ে বলল—

"তাহলে ডাক্তারের সাথে কথা বলি— তোমাকে আরো দুইটা অবশের ইনজেকশন দিতে?"

শুভ্রর কথায় মোমো চমকে উঠে বলল— "কিহহ?"

এমন সময় আমিনা বেগম কেবিনের দরজা ঠেলে ভেতরে এলেন। বাচ্চাটাকে মোমোর কাছে দিতে দিতে বললেন—

"আমার নানু ভাইয়ের মনে হয় ক্ষুধা লেগেছে মোমো। ওকে একটু খাওয়ানোর দরকার এখন!"

---

আজকে তিনদিন হতে চলল— হসপিটাল থেকে বেবি আর মোমোকে বাসায় আনা হয়েছে। এই কয়দিনে যেন তাদের শান্ত নির্জন বাড়িটা বেশ আনন্দঘন হয়ে উঠেছে। নতুন বেবিটাকে নিয়ে সবার মাতামাতির শেষ নেই।

সাবিলা বেগম আর আমিনা বেগম তো পারলে সারাদিনই তাদের ছোট্ট নাতিটাকে ঘিরে রাখেন। একজন যদি বেবির মাথায় হাত বুলিয়ে দেন, তো অন্যজন লালন-সঙ্গীত গেয়ে ওঠেন! আর সারাদিন শেষে যখন ঘুমানোর সময় হয়, তখন সব দায়িত্ব যেন শুভ্রর কাঁধেই এসে পড়ে। বাচ্চার ডায়াপার পাল্টানো থেকে শুরু করে, মাঝরাতে কান্না থামানো— সবটাই শুভ্র নিজে করে। মোমোর যাতে কষ্ট না হয়, সে জন্য সে কখনো মোমোকে ঘুম থেকে তোলে না।

আর হিয়া? সে যেন বেবির দ্বিতীয় 'মা' হয়ে উঠেছে। সকাল থেকে শুরু করে শুভ্র আসার আগ পর্যন্ত হিয়া সবসময় মোমোর পাশে থাকে। বেবিকে খাওয়ানো, তেল মাখানো, ঘুম পাড়ানো— প্রায় সব কাজই সে করে। শুধু গোসল করাতে সাহস পায় না— যদি কানে পানি চলে যায়, সেই ভয়ে!

---

নিজের ঘরে বসে আপনমনে ল্যাপটপে কাজ করছে রুদ্র। এমন সময় তাড়াহুড়ো করে হিয়া তার রুমে প্রবেশ করলো। সোজা পা বাড়ালো ওয়াশরুমের দিকে। এমন সময় পেছন থেকে রুদ্রর গম্ভীর স্বর শুনলো সে—

"আমাকে এক কাপ কফি এনে দাও তো। ব্ল্যাক কফি!"

রুদ্রর কথায় হিয়া থেমে দাঁড়ালো। নিজের শরীরে একবার চোখ বুলিয়ে ঠোঁট উল্টে বলল—

"আমার গায়ে বেবি পিশু করে দিয়েছে। তুমি গিয়ে কফিটা নিয়ে এসো না প্লিজ!"

"দ্রুত ফ্রেশ হয়ে আমার জন্য কফি নিয়ে এসো! তোমার সাথে আমার জরুরি কথা আছে!"

"কি কথা?"

"তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে এসো। তোমার শরীর থেকে গন্ধ আসছে!"

রুদ্রর এমন টিটকিরি শুনে হিয়া বিরক্তিতে মুখ ভেংচি দিলো। তারপর ফ্রেশ হতে চলে গেলো। কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে রুদ্রর জন্য এক কাপ কফি নিয়ে হাজির হলো।

"তোমার কফি!"

হিয়ার কথায় রুদ্র ঘাড় ঘুরিয়ে কফিটা নিলো। হিয়া আবার বলল—

"তুমি কিছু বলে চেয়েছিলে আমাকে!"

রুদ্র একবার কফির কাপে চুমুক দিলো। তারপর স্বাভাবিক স্বরে বলল—

"হুম! প্যাকিং সেরে ফেলো। আমরা কাল-পরশুর মধ্যেই ঢাকা ফিরছি!"

রুদ্রর কথায় হিয়া চোখ মুখ কুঁচকে বলল, "কিহ?"

রুদ্র শান্ত দৃষ্টিতে হিয়ার দিকে তাকাতেই হিয়া বলল—

"রুদ্র, মাত্র সাত দিন হয়েছে আমরা এখানে এসেছি। মোমোর ডেলিভারির একদিন আগেই এসেছি। আর এখনো ওর বেবির নামকরণও হলো না। এর মধ্যেই আমরা আবার ফিরে যাবো?"

রুদ্র কফিতে আরেকবার চুমুক দিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল—

"ওদের বেবির ভালোর জন্যই, আমরা দ্রুত ঢাকা ফিরবো।"

হিয়া হতবাক হয়ে ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলো— "মানে?"

রুদ্র শান্ত হাতে ল্যাপটপ বন্ধ করে সময় নিয়ে বলল—

"মানে, আমি চাই না কোনো নিষ্ঠুর মায়ের খুনী হাতের ছোঁয়া আমার ভাইয়ের সন্তানকে বারবার স্পর্শ করুক!"

হিয়ার মুখটা মুহূর্তেই চুপসে গেলো। উপরের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো সে। তারপর মুখে আনলো কিঞ্চিৎ অবজ্ঞার হাসি।

এমন সময় রুদ্র ল্যাপটপ হাতে উঠে দাঁড়ালো। হিয়ার পাশ কাটিয়ে গিয়ে ল্যাপটপটা রাখলো টেবিলে। পেছন ঘুরতেই দেখলো হিয়া বুকে দু'হাত বেঁধে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ হিয়াকে এতোটা কাছে দেখায় রুদ্র কিছুটা ঘাবড়ে গেলো। এমন সময় হিয়া চোখ পিটপিট করে দুষ্টু হেসে বলল—

"আচ্ছা, ঠিক আছে। স্পর্শ করবো না তোমার ভাইপোকে। এবার থেকে তাকে কোলে নেওয়ার সময় হাতে গ্লাভস পরে নেবো। ওকে??"

হিয়ার এই অনুতপ্ত হীনতা হয়তো রুদ্রর পছন্দ হলো না। সে ভ্রু সটান করে মুখে হালকা হাসি আনলো। যেন রাগটাকে ভেতরে চেপে রাখতে চাইলো।

"অনুতপ্ত হও না। তাই না?"

"একদমই না, মিস্টার!"

রুদ্র রাগ চেপে হেসে অবজ্ঞার সুরে বলল—

"এ জন্যই তো তুমি আমার কিলারহার্ট!"

হিয়া সম্মান জানানোর ভঙ্গিতে হালকা ঝুঁকে জবাব দিলো—

"জ্বি! মিস্টার।"

হিয়ার এই ডোন্ট কেয়ার ভাব হুট করেই যেন রুদ্রর রাগ বাড়িয়ে দিলো। ইচ্ছে করলো ঠাস করে হিয়ার গালে একটা চড় বসাতে। সে ঠোঁট কামড়ে হিয়ার ওপর হাত তুলতে উদ্যত হতেই— হঠাৎ তার ফোনটা বেজে উঠলো—

রুদ্র হাত নামিয়ে সরে যেতেই হিয়া তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে টেবিলে হেলান দিলো। রুদ্র ফোনটা তুলতেই দেখলো লারা কল করেছে। বিরক্তিতে তার কপালে আরো ভাঁজ পড়লো। অন্যসময় হলে হয়তো কলটা ধরতো না। কিন্তু হিয়া সামনে থাকায় সে চাইলেও উপেক্ষা করতে পারলো না।

একটু বাঁকা হেসে রুদ্র ফোনটা হিয়ার দিকে ঘুরিয়ে ধরলো। তারপর প্রেমিকসুলভ গলায় বলল—

"শুধুমাত্র লারার জন্য আজ তুমি ছাড়া পেয়ে গেলে। মেয়েটা নিজের অনুপস্থিতিতেও অন্যের কথা ভেবে চলে!"

রুদ্রর ফোনের স্ক্রিনে লারার নাম দেখা মাত্রই হিয়ার মুখ ভেঙে গেলো। রাগে আর ঘৃণায় মুখটা ছোট হয়ে গেলো। অন্যদিকে, রুদ্র কল রিসিভ করেই রোমান্টিক গলায় বলল—

"কিছুক্ষণ আগেই তো তোর সাথে ভিডিও কলে কথা বললাম, এরই মাঝে আবার কল করলি? প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে মিস করিস নাকি আমায়? নট ব্যাড বেবস!"

লারাকে বলা রুদ্রর এহেন কথায় হিয়ার শরীরটা রাগে রিরি করে উঠলো। সে আর এক মুহূর্তও দাঁড়াতে পারলো না সেখানে। লম্বা পায়ে হেঁটে চলে গেলো বারান্দার দিকে।

অন্যদিকে, রুদ্রর কথায় লারা গলা খাঁকারি দিয়ে কাশি দিলো। মুচকি হেসে বলল—

"বিপদ সংকেত সামনে আছে নাকি?"

#চলবে~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন